Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Dwijendra Rachanabali Vol. 1"

See other formats




1] 


৯ ৪৯৯ বে ৩ 


প্রকাশকের নিবেদন 


দ্বিজেন্দ্রলাল রায় আপন সৃজনপ্রাতিভায় স্বতন্ত্র এবং ভাস্বর। মাত্র পণ্চাশ বংসরের 
জীবদ্দশার মধ্যে বাঙলা সাঁহত্য-ভাণ্ডারে দ্বিজেন্দ্রলালের সাহত্যকীর্ত অপ্রতুলও নহে। 

্জেন্দ্লাল একাধারে কাব, নাট্যকার, সমালোচক এবং সাহত্যিক। স্বদেশ ভাব- 
ধারায় তানি উদ্বুদ্ধ। "দ্বজেন্দ্র জল্মশতবর্ষে (১৯৫৫) দ্বজেন্দ্র-চর্চা ব্যাপক প্রসার লাভ 
কারয়াছে এবং ভরঙ্সা করি, ইহা উত্তরোত্তর বাঁদ্ধলাভ কাঁরবে। 'দ্বিজেন্দ্রলালের ইংরৌজ 
কাঁবতার বই 1,705 ০0 170 ব্যতীত আরো বাত্শাট পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছল। 
দ্িজেন্দ্র-চ্চার সহায়তাকল্পে আমরা তাহার সমগ্র রচনাবলী দুই খণ্ডে প্রকাশ করিবার 
ব্যবস্থা কারয়াছ। এতদব্যতীত, সামীয়ক পর্র-পান্রকায় তাঁহার যে রচনাবলা বাঁক্ষপ্ত ছল, 
তাহাও যতদূর সম্ভব সংগ্রহ কারয়া দুইটি খন্ডেই সাল্নীবম্ট করা হইতেছে। 'দ্বিজেন্দ্ 
রচনাবলীর 'দ্বতীয় খণ্ডটি যথাসম্ভব সত্বর প্রকাশিত হইবে। 

রচনাবলীর খণ্ড দুইটি সম্পাদনার জন্য এবং দ্বিজেন্দ্ুলালের জীবনী ও সাহত্য- 
সাধনা আলোচনার জন্য কাঁলকাতা 'বশ্বাবদ্যালয়ের বাঙলা সাহত্যের অধ্যাপক ডক্টর 
রথীন্দ্রনাথ রায়ের নিকট আমরা কৃতজ্ঞ। 'দ্বজেন্দ্রলালের প্রাতাচন্রাট বঙ্গীয়-সাহত্য- 
পাঁরষদের সৌজন্যে প্রাপ্ত এবং শ্রীশোরান্দ্রকুমার ঘোষ মহাশয়ের সৌজন্যে দ্বিজেন্দ্রলালের 
হস্তালাপটি পাওয়া গিয়াছে। 

পাঠক-সাধারণের 'নকট আমাদের এই প্রচেষ্টা সমাদর লাভ কাঁরলে শ্রম সার্থক জ্ঞান 
কারব। ৃ 


২রা জানুয়ারি, ১৯৫২ 


ছ্বিতীয় মদ্রণ 


দ্বজেন্দ্র রচনাবলীর প্রথম খণ্ড অল্পকালের মধ্যে নিঃশোষত হওয়ায় পাঠক-সাধারণের 
প্রাত আমরা আন্তাঁরক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কাঁর। 


ড্র রথীন্দ্রনাথ রায় 'সাহিত্য-সাধনা অংশে কিছু নৃতন আলোচনা সংযোজন 
করিয়াছেন। . 


খরা মে, ১৯৫৫ 





ভুমিক 


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাব দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এক 'বাশম্ট স্থানের অধিকারাঁ। 
সংগীতে-কাব্যে-নাটকে-প্রহসনে তিনি বাংলা সাহত্যকে সমদ্ধ করেছেন। বর্তমান বংসরে 
বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের বাইরে বহয্স্থানে তাঁর জল্মশতবর্ষপূর্তর জয়ন্তী উৎসব পালিত 
হচ্ছে। 'দ্বিজেন্দ্ুলালের সাহিত্যিক প্রাতভা পূনার্বচারের সুযোগ উপাস্থিত হয়েছে। 
রবীন্দ্রনাথ এক সময় 'দ্বজেন্দ্রলালের 'মন্দ্র কাব্যের সমালোচনায় বলোহলেন : “ইহা 
নৃতনতায় ঝলমল করিতেছে এবং এই কাব্যে যে ক্ষমতা প্রকাশ পাইয়াছে, তাহা অবলণলা- 
৬৮টি 
রবীন্দ্রনাথের এই মন্তব্যই 'দ্বিজেন্দরপ্রীতিভার স্বর্পলক্ষণকে উদ্ভাঁসত করে 
'সাহত্য সংসদ' দ্বজেন্দ্রলালের সমগ্র রচনাকে দু'খণ্ডে প্রকাশ করার 
করেছেন। দুটি খণ্ডেই 'তনাট করে বিভাগ থাকবে : (১) নাটক ও প্রহসন, (২) কাঁবতা 
ও গান এবং (৩) গদ্যরচনা। যতদূর সম্ভব এখানে কালগত পারম্পর্য রক্ষা করা হয়েছে 
বানান বিষয়ে যথাসম্ভব মূলের বানানই অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম খণ্ডের ভূমিকা 
র জীবনকথা ও এই খণ্ডের অন্তভূন্তি রচনাবলীর আলোচনা করা 
হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকায় এ খন্ডের অন্তভূক্তি রচনাবলীর আলোচনা থাকবে। 
তাছাড়া উত্ত ভূমিকায় দ্বিজেন্দ্রলালের ছন্দ ও কাব্যরশীতি, দ্বিজেন্দ্রসংগীত এবং 'দ্বিজেন্দ্র- 
লাল ও বাংলা রঙ্গমণ্ড সম্পর্কে কিছ আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। 

র মৃত্যুর পর তাঁর অন্তরক্গ বন্ধ ও গুগ্রাহী কা দেবকুমার রায়চৌধুরা 
তাঁর একখান তথ্যসমদ্ধ পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখেন। আর একখান সধাক্ষপ্ত জীবনধ 
লেখেন নবকৃষ্ণ ঘোষ। উপাদান সম্পর্কে দ্যাট গ্রন্থই মূল্যবান। এই দুঁট গ্রল্থ থেকে 
বহু উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান লেখকের পদ্বজেন্দ্লাল: কাব ও নাট্যকার 
্ন্থটিও ভূমিকা রচনায় সাহায্য করেছে। এ ছাড়া বাভন্ন পর-পত্রিকা থেকে অনেক 
প্রবন্ধের সাহাযা গ্রহণ করা হয়েছে। 

এই গ্রল্থ সম্পাদনায় উৎসাহত করেছেন আমার পূজনীয় শিক্ষাগুরু কাঁলকাতা 
রামতন লাহড়শ অধ্যাপক ডক্টর শশিভৃষণ দাশগ্‌স্ত মহোদয়। গ্রল্থাটর 
পারিরাগনা জাগার যার রানার দিপাদি রছেন রা লামার রগ জানাই 
দ্বজেন্দ্লালের সমগ্র রচনা সংগ্রহ করার ও পূনর্মদদ্রণের প্রয়োজন ছিল। কারণ তাঁর অনেক 
রচনাই এখন দশ্প্রাপ্য। সাঁহত্য সংসদের পক্ষে শ্রীষ্যন্ত মহেন্দ্রনাথ দত্ত 'দ্বিজেন্দ্র রচনাবলী 
প্রকাশের সবীবধ সুযোগ-সাবিধা দিয়ে আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহ ও সাহায্য দান 
করেছেন। বর্তমান সংস্করণকে সমম্ঠু রূপদানের জন্য তাঁর এই আন্তারকতাকে কতজ্ঞ- 
চিত্তে স্মরণ কার। সাহত্য সংসদের শ্রীষূস্ত গোলোকেন্দ; ঘোষের সহানুভূতি ও 
লি ১৯৬০ কপ ৬৯ 
শ্রীমান সনৎকুমার মিত্রের সাহায্য ব্তখত এই দুরূহ কার্য সম্পাদন করা আমার পক্ষে 
সম্ভব ছিল না। শ্রীযুক্ত গুপ্ত তথ্য ও উপদেশ 'দয়ে সাহায্য করেছেন। তাঁদের প্রত্যেককে 
আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। 


৮ই িসেম্বর, ১৯৫৫ ৰ 
বাংলা সাহতা 'বভাগ রখশচ্দুনাথ রায় 
ফাঁলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 


পাষাণী 

তন্লাবাই 

রাণা প্রতাপপাসংহ 
দূর্গাদাস 
সাজাহান 


প্রহসন 


সমাজাবিদ্রাট ও কল্ক অবতার 
বিরহ 
প্রায়শ্চিত্ত 


কাঁবতা ও গান 


আর্যধযগাথা (১ম) 
আর্ধযগাথা (২য়) 
আষাটে 
হাঁসর গান 
গরদয-রচলা 
একঘরে রঃ 
কাঁলদাস ও ভবভাতি :... .. 


কাঁড় 


১৩৯ 
৪১-- ৭৯০ 
৯১--৯৬০ 

১৬১--২৩৪ 
২৩৫--২৯৩ 
২৯৫--৩৫০ 


৩৫১--৩৯৩ 
৩৯৫--৪৩২ 
৪৩৩--৪৬১ 


৪৬৩--৪৮৭ 
৪৮৯--&২৬ 
৫২৭--৫৬৬ 
৫৬৭--৬০১ 


৬০৩--৬৮১ 


'৬১৩--৬৮১ 


৬৯১--৭১২ 


দশ 


প্রমুখ উনাবংশ শতাব্দীর চিন্তানায়কদের সঙ্গে তাঁর বন্ধৃত্ব ছিল। কাঁর্তিকেয়চন্দ্রের বাসভবনে 
তখনকার কালের জ্ঞান গুণীরা সমবেত হতেন । দীনবন্ধু মিত্র তাঁর 'সুরধূনী'কাব্যে জলাঙ্গণী 
নদীর মুখ দিয়ে বাঁলয়েছেন : 

কাতিকেয়চন্দ্র রায় অমাত্য প্রধান, 

সুন্দর, সুশীল, শান্ত, বদান্য, বিদ্বান; 

সুলালত স্বরে গীত 'কবা গান তানি, রে 

ইচ্ছা করে শুন হয়ে উজানবাহনী। 

কার্তকেয়চন্দ্র বাংলা, ফারাঁস ও ইংরোৌজ সাহিত্যে অভিজ্ঞ ছিলেন। সংস্কৃত পক্ষতীশ 

বংশাবলশী চারত'-এর আদর্শে পক্ষতীশ বংশাবলী চাঁরত' নামে তান কৃষ্ণনগর রাজবংশের একাঁট 
প্রামাণিক ইতিহাস লিখেছিলেন। তাঁর 'আত্মজনবনচারত' বাংলা সাহত্যের আত্মচারত রচনার 
আঁদপবেরি একাঁট উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ । এই দুটি গ্রন্থেই তৎকালীন বাংলার সামাঁজক হীতহাসের 
প্রচুর উপাদান পাওয়া যায়। শক্ষতীশ বংশাবলশ চরিত' প্রসঙ্চে হন্দু পোট্রয়ট' যথার্থই 
িলখোছলেন : 


৬/10) 075 £1911985 20210010106 13901008. 720507019. 101 1৬1009, 005 

11515 01 0101 09% 117৮6 1001 700 00 0015 [1100 [01006000611 70021001017 11) 0015 

011500100.. . . ৬/০ 1091] 13900. 771010602 0217010018 [২০৮ 925 2. [91010551 10 0015 

11105101010 10010 10065155010 0610. 1015 610 21710191176 00 0170 0081 106 1795 

11206 076 1950 056 01 006 000101701010155 ড/10 1015 10108 00116001017 10) 0106 

০0 076 17050 21701017020 01501050015150 191711165 01 13010291 2001060. 705 

01010010195 01 076 1২809175০01 ৭৭০০৪ 0017 20. 11001091900 09000100190 09 

076 10150017% ০0£ 9617891 9100 00 50072 19710100191 70211905 ০% 0061£ 10150019 

06/ 010৬ 20000 01 1121). (17200 7/7709/, 0০/0৮527, 4, 1875) 

১৮২৫ সালে তিনি গীতমঞ্জরী' নামক একখানি স্বরচিত গণীতিসংগ্রহও প্রকাশ করেন। এ 
সম্পর্কে তিনি তরি 'আত্মজীবনচারত'-এ বলেছেন : 


প্রথমে আম কেবল ভালবাসাব গীত রচনা করিয়াছিলাম, পরে আত্মীয় [বিশেষের প্রীত্যর্থ 
রামচরিত, কুষ্ণলীলা প্রীত পৌরাণক প্রসগ্গ অবলম্বন কাঁরয়া মাতৃম্নেহ, অপত্যস্নেহ, দাম্পত্য- 
প্রণয়, ভ্রাতৃস্নেহ ইত্যাঁদ কয়েক বিষয়ে কাঁতপয় গশত রচনা করি। তাহার পর খধতু-বিশেষে 
গাইবার জন্য বসন্ত, বর্ষা, হোরর ও শুভকর্মোপলক্ষে গাইবার 'না্মাত্ত বিবাহ, পুন্রলাভ, জন্ম- 
তিথি বিষয়ের কতকগুলি গণত 'হন্দশ-গানের আদর্শে প্রস্তুত কাঁর। আত্মজশবন-চাত, নূতন 
সং ৫১৩7 )), পৃঃ ১৮৮-৮৯) 


চারঘ্রের আভিজাত্য, তেজাস্বিতা, বদ্যানুরাগ, সংগশতানরাগ প্রভাতি গুণ দ্বিজেন্দ্রলাল 
উত্তরাধিকারসূত্রেই পেয়োছলেন। ধপতার চাঁরন্রের আদর্শেই 'দ্বজেন্দ্রলাল দগাদাস চারন্রাট 
রচনা করেন। '“দুর্গাদাস' নাটকের উৎসর্গপন্ে তান লিখেছিলেন : “যাঁহার দেবচারন্র সম্মুখে 
রাখিয়া আমি এই দুর্গাদাস-চাঁরত্র অগ্কন করিয়াছ, সেই চিরআরাধ্য 'পতদেব কার্তকেয়চন্দ্ 
রায় দেবশর্মার চরণকমলে এই ভান্ত-পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করিলাম ।” 

দ্বজেন্দ্রলালের মাতামহকুল শান্তিপুরের অদ্বৈতাচার্ধের বংশ। তাঁর মায়ের নাম ছিল 
প্রস্বময়ী দেবী। তান ছিলেন অদ্বৈত প্রভুর অধস্তন নবম বা দশম পূরুষের কন্যা । স্বামী- 
উরি জাভিভাভা উর রে তে ভি আদিল লা জারির 
করেছেন। দ্বিজেন্দ্লালের বিলাত অবস্থান কালেই তাঁর পিতৃ-মাতৃ-বিয়োগ ঘটে! 
-. ৰালাকাল ও ছাত্র-জশবন £ 'দ্বিজেন্দ্ূলালের শৈশব ও বাল্যকাল কৃষ্ণনগরেই আতবাহত হয়। 
শৈশবে ও বাল্যকালে তান একাধিকবার মৃত্যুর হাত থেকে অব্যাহাতি পেয়োছলেন। একবার 
শৈশবে ধান্রীর কোল থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মকরূপে আহত হন, আর একবার ঢেশকর উপর 


এগার 


থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেন। বাল্যকালে দুরারোগ্য ম্যালোরিয়া জহরে আক্লান্ত হয়ে 
বায় পাঁরবর্তনের জন্য মাতা ও কনিষ্ঠতা ভাঁগননীর সঙ্গে মাতুলালয় 'গয়োছলেন। ডান্তারের। 
তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আশ্চযভাবে সেবার 'তাঁন রক্ষা পান। স্বরাঁচিত 
জশীবনচারতের মধ্যে তিনি এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। 

পারবারিক পাঁরবেশ দ্িবজেন্দ্র-প্রাতিভা ঠবকাশের সহায়ক হয়োছল। কাঁ্তিকেয়চন্দ্রের সাত 
পুলের মধ্যে দ্বিজেন্দ্ুলাল ছিলেন সবকনিম্ঠ। "দ্বজেন্দ্রলালের অগ্রজেরা সকলেই ছিলেন কৃতাঁবদ্য। 
তাঁর তৃতীয় অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রলাল রায় এমৃ-এ, বি-এল এবং ষণ্ঠ অগ্রজ হরেন্দ্রলাল রায় বি-এল, 
সাঁহাত্যিক হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। জ্ঞানেন্দ্লাল এক সময় 'বঙ্গবাসা” পান্রকার সম্পাদকীয় 
িবভাগে ছিলেন, তাঁর সম্পাঁদত “পতাকা' পাঁত্রকাও এক সময় জনাপ্রয়তা অজ্ন করোছিল। এই 
সাপ্তাঁহক পান্রকাতেই "দ্বজেল্দ্ুলালের শবলাতের পর্ন" ধারাবাহকভাবে প্রকাঁশত হয়োছল। 
জ্ঞানেন্দ্ুলাল ও হরেন্দ্রলাল এক সময়ে “নবপ্রভা” নামক একটি পাত্রকাণও সম্পাদনা করেন। 
দ্বিজেন্দ্লালের 'বিড়দা” রাজেন্দ্রলাল রায় মেহেরপুর আদালতের পেশকার 1ছলেন। ইংরোজ 
সাহত্যে তাঁর ছিল অসামান্য আঁধকার। দিজেন্দলাল লখেছেন : 


তানি এই আত অশ্পকালের মধ্যে আমাকে এমাঁন আশ্চর্য কৌশলে ও শবাচন্র নৈপুণ্য 
সহকারে ইংরাজি ভাষায় সূদক্ষ ও আঁভজ্ঞ কারযা তুলিলেন যে, সেই গোড়ার দঢ়াভাত্তর উপর 
প্রাতচ্ঠত থাঁকয়াই আম আত অনাযাসে, ানতান্ত অসুস্থ শবীর লইয়া এবং তেমন মনো- 
যোগের সাহত অধায়ন কাঁরতে পারিয়াও, পরে এমৃএ পরীক্ষায় তবু যা হোক একটু সম্মান 


লাভ কাঁরতে সমর্থ হইয়াছলাম। 
(ম্বিজেন্দ্ুলাল : দেবকুমার রায়চৌধ্রী, পৃ ৭০) 


রর রানু রা গ্তাগ্ন ওপর ক 
বলাবাহূল্য, পারিবারক জীবনের এই ধিদণ্ধ পাঁরবেশ ও কৃতাবদ্য অগ্রজদের উৎসাহবাকা ও 
সস্নেহ আনুক্ল্য দ্বজেন্দ্রলালের মনোজীবন রচনায় সহায়ক হয়োছল। 

সেকালে কৃষ্ণনগরে একটি সমদ্ধ সাংস্কীতিক পাঁরবেশ ছিল । এই পাঁরবেশের অন্যতম কেন্দ্র 
ছিলেন দ্বিজেন্দ্রলালের 'পতা দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র রায়। কার্তিকেয়চন্দ্র তাঁর আত্মজীবনীর 
মধ্যে এই পাঁরবেশের বর্ণনা করেছেন। মার্গসংগীতের অনূকূল পাঁরবেশের মধ্যে 'দ্বিজেন্দ্রলালের 
মনোজশীবন গড়ে উঠেছিল। সেকালের কৃষ্ণনগরের এই সাংগশীতিক পাঁরবেশের বর্ণনা করতে 
গিয়ে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন : “..দ্িবজেন্দ্রলালের পিতা কার্তক দেওয়ানের মুখে অনেক গান 
শূনেছি। তান ছিলেন আত সৃকণ্ঠ ও সংগীত-বদ্যায় সাঁশাক্ষত। তান বোধ হয় বাংলা 
হন্দী দু-ভাষায়ই গান গাইতেন, কিন্তু কি যে গাইতেন আমার মনে নেই। 

'দ্বিজেন্দ্লালও গাইয়ে বলে পাঁরচিত ছিলেন। তান সভা-সাঁমাতিতে গান গাইতেন ছোকরা 
বয়সেই। বোধ হয় কণ্ঠসংগীত তাঁর ?পতার কাছে শিক্ষা করোছলেন। আরও দু-চারজনের মুখে 
অতি মিষ্ট গান শুনেছি, তাঁদের নামও মনে আছে।"- আত্মকথা, জ্যৈষ্ঠ, ১৩৫৩ : প্রমথ 
চোধ্মরশ, পু. ৩০) 

দ্বিজেন্দ্রলাল মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দে তনি কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে প্রবেশিকা 
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দশ টাকার বাঁন্ত লাভ করেন। ম্যালেরিয়া রোগে জীর্ণশীর্ণ হওয়া সত্তেও 
তাঁর এই কাঁতিত্ব 'নঃসন্দেহে প্রশংসনীয় । 'দ্বিজেন্দ্লালের ছাত্রজীবন সম্পর্কে তাঁর জশীবনশকার 
দেবকূমার রায়চোৌধুরী বলেছেন : 

তংকালে 'দ্িবজেন্দ্রলালের ততঈয অগ্রজ শ্রীয্ত্র জ্বানেন্দ্রলাল রায় মহাশয় এঁ বিদ্যালয়ে প্রথম 

শ্রেণীতে ইংরাঁজ সাহতোর শিক্ষক 'ছিলেন। সে বৎসর উন্ত বিদ্যালয়ের প্রবোঁশকা পরপক্ষার্থ-* 

গণের 'টেস্ট” (1550) বা বাছাই" পরীক্ষায় খ্যাত অধ্যাপক রো সাহেব ইংরাজ কাহত্যের 

পরীক্ষক 'নযূন্ত হন। যথাকালে পবীক্ষার্থগণের কাগজগুঁলে দেখা শেষ হইলে, 'বো সাহেব 

জ্ঞানেন্দ্রবাবূকে বললেন _এ ক্লাশে দ্বিজেন্দ্রলাল কোন ছান্রাটর নাম, আমাকে একবার দেখাইয়া 

দিন।” জ্ঞানেন্্রবাবু তাঁহার ভ্রাতাকে দেখাইয়া দিলে দলে, রো সাহেব দ্বিজেন্দ্লালের সমক্ষেই 


বার 


বাললেন,_“আম অত্যন্ত আহ্াদের সঙ্গে জানাইতোছি যে, 'দ্বজেন্দ্ুলাল এবার যের্প পরণক্ষা 
দিয়াছেন, তাহা যে-কোনও ইংরাজ ছাত্রের পক্ষেও পরমগৌরবের হইত। 
-_ (শ্বিজেন্দ্রলাল, পৃ পৃ ৬৯) 


ছাত্রজীবনে ?তনি প্রায়ই ম্যালেরিয়ায় ভূগতেন, তাই ীব-এ পরাক্ষা পর্য্ত তান আশানুরূপ 
কাতিত্ব দেখাতে পরেন 'ন। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে এফএ ও হুগলী কলেজ থেকে তান 'বি-এ 
পাশ করেন। ১৮৮৪ খ্রাস্টাব্দে প্রোসডেন্সী কলেজ থেকে ইংরোজতে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রথম স্থান 
আধকার করে এমৃ-এ পরাক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এমৃ-এ পরাঁক্ষার বছর 'তাঁন আবার ম্যালোরয়ায় 
পু ভি উড সার আশুতোষ চৌধুরীর জ্যেন্তা 
ভাঁগনণ প্রসন্নময়শ দেবী ত র সঙ্গে গিয়োছলেন। সেখানে মনীষী রাজনারায়ণ বসুর সপ্পো 
58817768578 
এই সময়ে পূজ্যপাদ রাজনারায়ণবাবূর সঙ্গে তাহার প্রথম আলাপ।...আমই সেখানে 
ম্বিজুকে প্রথম আলাপ করাইয়া দিই॥ তাহার পর 'তাঁন সতত বিজুর কাছে আসতেন, 
গান-গল্প-আলোচনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়া যাইত স্নানাহারের কথা মনে থাঁকিত না।...দ্বিজু 
'প্রয়দর্শন ও গোৌরবর্ণ ছিল, গানে সুকণ্ঠ এবং সেই গান আবার 'াীজেই রচনা করিত। কাজেই 
রাজনারায়ণবাবু তাহার 'নজগুণে তাহাকে বড়ই স্নেহ কারতেন। আমরা তখন দৃই ভাই-বোনে 
'মলিয়া একসঙ্গে বাঁসয়া ইংরাঁজ কাঁবতা পাঁড়তাম, আর শেলস, বায়রন, কীটস হইতে অনুবাদ 


1 
(প্বোন্ত গ্রল্থ, প্‌ ৭৩-৭৪) 
পাঠ্যাবস্থাতেই দ্বিজেন্দ্রলালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আর্ধগাথা” [প্রথম ভাগ] প্রকাশিত হয় 
(১৮৮২)। 


বিলাত-প্রবাস £ এমৃ-এ পাশ করার পর দ্বিজেন্দ্রলাল বায়ু পাঁরবর্তনের জন্য ছাপরা জেলার 
রেভেলগঞ্জ মুখার্জ সেমিনারীতে শিক্ষকের কাজ গ্রহণ করেন। তাঁর চতুর্থ অগ্রজ নরেন্দ্রলাল রায় 
সেখানে হেড্মাস্টারের কাজ করতেন। দু'মাস পরে গভন“মেন্ট তাঁকে জানালেন যে, তান যাঁদ 
কাঁষাবদ্যা শক্ষার জন্য বলাত যেতে ইচ্ছুক হন তো, সরকার তাঁকে নিজ ব্যয়ে বিলাত পাঠাতে 
রাজ আছেন। দ্বিজেন্দ্রলাল পিতা-মাতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বিলাত-যান্তা করেন (এাপ্রল, 
১৮৮৪)। বিলাত-প্রবাসকালে তান পবলাতের পন্ন' জ্ঞানেম্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলাল-সম্পাঁদত 
সাপ্তাহক “পতাকা” পন্রিকায় ধারাবাহকভাবে প্রকাশ করেন। এই পন্নাবলীতে 'দ্বিজেন্দ্রলালের 
মননশীলতা, বশ্লেষণশাস্ত, পর্যবেক্ষণদক্ষতা ও স্বাজাত্যানুভূঁতর পাঁরচয় পাওয়া যায়। 
্বিজেন্দ্রলালের বন্ধৃভাগ্য ছিল। 'িলাত-প্রবাসের জশবনেও তার ব্যাতক্রম হয়ান। গবচারপাত 
সার আশুতোষ চৌধুরী, ব্যারস্টার ব্যোমকেশ চক্রবতণ ব্যারস্টার সতোন্দ্রপ্রসম্ম সিংহ 
পেরবতর্ঁকালে লর্ড সিংহ), জেলা-জজ লোকেন্দ্রনাথ পালিত, পরব্তাঁ কালের বঙ্গবাস* 
কলেজের অধ্যক্ষ গারশচন্দ্র বস প্রমূখ গুণণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বজেন্দ্রলালের ঘাঁনচ্ঠতা হয়। 
দ্বজেন্দ্ূলালের বিলাত-প্রবাসকালের দুটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য । প্রথমাঁট, গবালাতি সংগণত 
গশক্ষা, 'দ্বিতীয়াট, ইংরোজ কাব্যের প্রকাশ । সাঁসটার কলেজে দ্বিজেন্দ্রলালের সহাধ্যায়খ 
বঙ্গবাসী কলেজের ভূতপূর্ব অধ্যক্ষ গিরিশচন্দ্র বসু মহাশয় বলেছেন : 
তারপর সেখানে অশ্পাঁদনের মধোই জানিতে পারিলাম,_দ্বিজ একজন 12101)10 
(কোরক) কাঁব- ইতিপূর্বে “আযগাথা” বিয়া স্বদেশের কাঁবজগতে প্রবেশ লাভ কাঁরযা 
আসিয়াছেন। গধতবাদোও যে তাঁহার বিশেষ অনুরাগ তাহাও শগপ্রই প্রকাশ পাইল। একদিন 
কথায় জুধায গাপচ্ছলে তানি বাঁললেন- যাহার কাছে তানি গান শিখতে আরম্ভ 
প্লে রমণশীট তাঁহার নাক সুরের সংস্কার ও ভরাট গলার চচ্ঠা করার জন্য তাঁহাকে বহুবার 
[বিশেষ অনুরোধ করিয়াছেন সেই অনুরোধের পরিণামে, পরে যে কি ফল ফাঁলিয়াছিল, আজ 
বঞ্গবাসশ কাহারও অজ্ঞাত নাই। 
(পেরোন্ত গ্রন্থ, প্‌ ১৬৮) 


তের 


দ্বজেন্দ্ুলালের বলাত-প্রবাসের আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল "11105 9£ [গণ 
নামক ইংরোঁজ কাব্যের প্রকাশ । এই কাব্য সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল বলেছেন : 


[বলাতে শিয়া ইংরাজিতে কাঁবতা 'লাখতে আরম্ভ কার এবং সেই কাঁবর্তীগাল একনিত 
করিয়া স্যার এ আনল্ডকে উৎসর্গ কারবার অনুমতি চাঁহ এবং তৎংসঙ্চে কাঁবতাগৃঁলর 
পান্ডঁলাপ । তান কাঁবতা প্রকাশ সম্বন্ধে আমাকে উৎসাহত কাঁরয়া পনর লেখেন ও 

* সে কাঁবতাগাঁল তাঁহাকে উৎসর্গ কারবার অনূমাতি সাগ্রহে দান করেন। তখন সেই কবিতা- 
গুঁলকে 1.1105 0£ 100 আখ্যা দিয়া প্রকাশ কাঁর। 
(আমার নাট্যজশীৰনের আরম্ভ : নাট্যমান্দর, শ্রাবণ ১৩১৭) 


দবিলাত প্রবাসকালে তান সেখানকার বিখ্যাত রঙ্গালয়ে প্রায়ই আভনয় দর্শন করতেন। 
সেখানকার প্রীসদ্ধ অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের আভনয় দেখে, রঙ্গালয় ও আঁভনয় সম্পর্কে 
তাঁর আভজ্ঞতা হয়। উত্তরকালে এই সমস্ত আঁভজ্ঞতা তাঁর কাজে লেগোছিল। 


কর্মজশবন ও সামাঁজক উৎপীড়ন £ দীর্ঘ 'তিনবছর পর দবজেন্দ্রলাল স্বদেশে প্রত্যাবর্তন 
করলেন। বিদেশে যাত্রার প্রাকালে পিতৃদেব তাঁকে সামাঁজক অস্বীবধার কথা বলোছলেন। 
প্রত্যাবর্তনের পর বাইরে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কাত সামাঁজক অনচ্ঠানাদতে স্বজনবন্দ 
সতর্কতার সঙ্গে তাঁকে এাঁড়য়ে চলতে লাগলেন । এতে স্বাভাবিকভাবেই তান আহত হলেন। 
কেউ কেউ নাক তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতেও পরামর্শ 'দিয়েছিলেন। বলাবাহুল্য দ্বিজেন্দ্লা্স 
ঘণাভরে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করোঁছলেন। সামাজিক উৎপণড়ন ও নির্মম আচরণ দ্বিজেন্দ্রলালের 
সংবেদনশীল তরুণ মনে তব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ট করোছল। সেই প্রাতাক্রয়ার বাঁহুজবালময় রূপ 
'একঘরে' পুস্তিকায় (১৮৮৯) আত্মপ্রকাশ করেছে। তৎকালশন “সমাজ-সংরক্ষক'দের প্রাত অব্যর্থ- 
লক্ষ্য 'বিষবাণ বাত হলেও খণ্ডকালের সামাজক উত্তেজনার মধ্যেই এর আবেদন সশমাবদ্ধ। 
সামায়ক উত্তেজনায় ক্রোধান্ধ হয়ে তান ভাষা ও ভাবগত সংযম পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। 
দ্বজেন্দ্রলাল নিজেই বলেছেন : “ইহার ভাষা ঠাট্রার ভাষা নহে । ইহার ভাষা অন্যায়ক্ষুব্ধ 
তরবারর বিদ্রোহী ঝনংকার, ইহার ভাষা পদদাঁলিত ভুজঙগমের ক্রম্ধদংশন, ইহার ভাষা আশ্নি- 
দাহের জবালা।”- (একঘরে) 

দ্বজেন্দ্রলাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সরকারশ কার্যে যোগদান করেন (২৫ ডিসেম্বর, 
১৮৮ড)। ছোটলাটের সঙ্গে দেখা করে স্বাধীনচেতা দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর সঙ্গে যেভাবে কথাবার্তা 
বলোছলেন, তাতে সাহেব খুশী হতে পারেন নি। ফলে ভাল চাকার তাঁর অদ্টে জোটে নি। 
জরিপ-জমাবন্দীর কাজ শেখার জন্য প্রায় তিনমাস তান মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে ছিলেন। চাকার- 
জীবনে উপরওয়ালাদের সঙ্গে একাধিকবার তাঁকে প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে উপাস্থত হতে হয়। একবার 
বর্ধমান-রাজের সূজামাটা পরগণায় তাঁকে সেটেলমেন্ট অফিসার করে পাঠানো হয়। উত্ত 
পরগণার প্রজারা সরকারী লোকদের হাতে নানাভাবে উৎপশীড়ত হাচ্ছল। 'দিবজেন্দ্লাল 
অত্যাচাঁরত প্রজাদের প্রাতি সহানুভূতিশীল হয়ে এর প্রাতকারের চেম্টা করেন। বলাবাহুল্য 
বর্ধমান মহারাজার কর্মচারী ছোটলাট সাহেবের কাছে 'দ্বজেন্দ্রলালের বিরুদ্ধে আভিযোগ করেন। 
প্রকৃত অবস্থা অবগত হওয়ার জন্য তাঁর উপরওয়ালা 'ডিরেক্টার সাহেব ঘটনাস্থলে উপাস্থত হয়ে 
দ্বজেন্দ্রলালের স্বপক্ষেই মৃত দেন। কিন্তু ছোটলাট তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে নানাভাবে তাঁর 
বিরুদ্ধাচরণ করেন। 'দ্বজেন্দ্লাল এ সম্পর্কে নিজেই িলখেছেন : 


এই সময় স্যার চাস এিএট- বঙ্গদেশের লেপ্টনান্ট-গবর্নর ছিলেন। তান উন্তরুপ বিদ্রাঃ” 
দোঁখয়া, উত্ত বিষয়ে তদন্ত কাঁরতে স্বয়ং মেদিনীপুরে আসেন ও কাগজপত্র দোখরী আমাকে 
অযথা ভর্ংসনা করেন। আমি আমার মত সমর্থন করিয়া বঙ্গদেশণয় সেটেলমেন্ট আইন বিষয়ে 
তাঁহার অনাভিজ্ঞতা বৃঝাইয়া দিই ।.. এই উত্তর শুনিয়া ছোটলাট আমার পূর্ব ইতিহাস জানিতে 
চাহেন ও তাহা অবগত হইয়া কাঁলকাতায় গিয়া 'ভাঁবধ্যতে সেটেলমেন্ট আঁফসারাঁদগের কর্তব্য ৪ 


চোদ্দ 


বিষয়ে এক দীর্ঘ মন্তব্য লেখেন এবং তাহাই আইনে এসেটেল্মেণ্ট ম্যানুয়েলে'র নোটের ভিতর) 
ঢূকাইয়া দেন, এবং ফকিছাদন পরে আমার প্রমোশন বন্ধ করেন। 
স্বেরাচত জশীবনশ : জল্মভূমি, কার্তক, ১৩০৪) 


দ্বজেন্দ্রলালের কর্মজীবন কোনোদিনই সুখের হয় নি। উপরওয়ালাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর মনের 
মধ্যে যে তিন্ততার সাঁন্ট হয়োছল, তার পাঁরচয় তাঁর বহু রচনার মধ্যে পাওয়া যায়। তান এক 
সময়ে চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়োছলেন। দাস্যবৃত্ত ও তোষামোদকে তান অন্তরের সঙ্গে খণা 
করতেন। তাই কর্মজীবনে তাঁর পক্ষে উন্নাতি করা সম্ভব হয়ান। ১৮৯৪ খ্রীস্টাব্দের আগস্ট মাস 
থেকে প্রায় ৭1৮ বংসর তিনি আবগারী বিভাগের প্রথম পারদর্শকের কাজ করোছিলেন। ১৮৯৮ 
শ্রীস্টাব্দের মার্ মাস থেকে প্রায় আড়াই বছর 'তাঁন “ল্যান্ড রেকর্ডস ও এগ্রকালচারে"র সহকারী 
িরেক্টারের পদেও আঁধান্ঠত ছিলেন। 


বিবাহ ও পাঁরবারক জশবন £ জ্ত্ী-বিয়োগ £ ১২৯৪ সালের বৈশাখ মাসে (১৮৮৭) 
দবজেন্দ্রলালের সঙ্গে সংপ্রাসদ্ধ হোঁমওপ্যাঁথক ডাক্তার প্রতাপচন্দ্র মজঈদারের জ্যেন্ঠা কন্যা 
সুরবালা দেবীর বিবাহ হয়। সৃরবালা দেবা 'দ্বজেন্দ্র-কাঁবমানসের উপর অসাধারণ প্রভাব বস্তার 
ডে [দ্বজেন্দ্রলালের 'বিবাহ-প্রসঙ্গেও একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । জ্ঞানেন্দ্রলাল 

রে ভা 

দিলেন। কিন্তু বিবাহের পূর্বে কৃফনগরের কোন এক প্রবল পক্ষ, যাহারা এ বিবাহে যোগ দিবেন 

তাঁহাদগকে সমাজচ্যুত কারবার চেম্টা কারবেন, এই সংবাদ পাইয়া তাঁহারা সহসা চলিয়া গেলেন। 

যাহা হউক, বিবাহ হইয়া গেলে আমরা ভ্রাতাগণ 'দ্বজু ও নবোঢ়া বধূকে সঙ্গে কারয়া কৃষ্ণনগরে 

লইয়া আসিলাম; দ্বিজেন্দ্রের এই বাহে আমরা যোগ দেওয়া সত্তেও কেহ আমাঁদগের শবরৃদ্ধে 

দাঁড়াইলেন না। কিন্তু প্রকাশ্যভাবে দ্বিজেন্দ্রের সাহত তখন কেহ চাঁলতে স্বীকৃত হইলেন না। 

নেব্যভারত : শ্রাবণ, ১৩২০) 

বিলাত থেকে ফিরে আসার পর 'দ্বজেন্দ্রলালের বিরুদ্ধে যে সামাজিক প্রাতাক্রয়া তীব্র হয়ে 
উঠেছিল, বিবাহ-ব্যাপারে তাই চূড়ান্ত শর্ষে আরোহণ করোছিল। 

'দিবজেন্দ্লালের বিবাহত জাবন অত্যন্ত সুখেই কেটেছিল। রূপবতী ও গুণবতা স্ত্রীর 
স্পর্শে তাঁর সাংসারিক জাঁবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। 'দ্বজেন্দ্রজীবনশীকার উল্লেখ করেছেন যে, 
তাঁর সাণ্চিত অর্থ থেকেই দ্বিজেন্দ্রলাল “সুর-ধাম” 'নর্মাণ করেন। ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দের ২২শে 
জানুয়ারী 'দলশপকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন, ১৮৯৮ খ্রীস্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ 
করেন কন্যা মায়াদেবী। 'দ্বজেন্দ্রলালের মৃত্যুর প্রায় তিন বছর পরে রাম্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ 
বন্দ্যোপাধ্যায়ের পত্র ভবশঙগ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কন্যার বিবাহ হয় (২৭ মার্চ, ১৯১৬)। 
্বিজেন্দ্ুলালের -সাহাত্যক জীবনের উপর তাঁর পত্নীর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্মূলক : 


সামাঁঞজক অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে তানি যেমন 'একঘরে' নকশার ভিতর 'দিয়ে তার 
যোগ্য প্রত্যুত্তর 1দয়োছলেন, 'তেমাঁন অন্যাদকে নব-পারণীতা পত্ণীকে ছিরে তাঁর হদয়োচ্ছৰাস 
গখীত-কাঁবতার স্ফাঁটক-পাত্রে স্বর্ণ-মাদরার মত বহহল ও উজ্জল হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। কাব 
ধদবজেন্দ্রলালের মানস-জবনে এই দঁট ধারা লক্ষ্য করা যায়। একাঁদকে আত্মমূণ্ধ প্রেম-বিহবল 
স্বনাতুর কাবাচিন্ত, আর একাঁদকে সামাজক অসম্গাঁততে ক্ষৃব্খ সামাঁজক মানূষ। কখনও-কখনও 
এই দীট বিরুদ্ধ ধারা একত্রিত হয়ে কাতার ভাব ও রূপের ক্ষেত্রে বাঁচতমুখী জটিলতার সৃচ্টি 
করেছে! অবশ্য এই দূ ধারাই কাঁবর স্বভাবগত বোশন্ট্য। পত্রী সুরবালার প্রেম ও দাম্পত্য-রস 
ও অপর কোটিতে সামাঁজক নির্যাতন-_এই দু ব্যাপার একন্রিত হয়ে কাঁবমানসের এই স্বরুপ- 
ধর্দকে তীব্রতর ও ত্বরান্বিত করেছে।.. 'দ্বজেন্দুলালের দ্বিতীয় কাব্গ্রন্থ আর্ধগাথা ্বিতণয় 
ভাগ) ১৮১৩ খ্রীস্টাব্দে প্রকাঁশত হয়। এই কাব্যের সহজ ও অকৃতিম উচ্ছ্বাস প্বিজেন্দ্রলালের 

প্রেমস্বপন ও সুখ-মাধূর্যময় দাম্পত্য-জীবনকেই কাব্যমনণ্ডিত করে তুলেছে। 
(দ্বজেন্দূলাল : কাঁৰ ও নাট্যকার, রথণল্দ্রনাথ রায়, প্‌ ১৫) 


পনর 


ষোল বছরের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় দাম্পত্যজীবন 'দ্বজেন্দ্রলালের মনোজীবনকে সমদ্ধ করে 
তুলেছিল। প্রহসন, ব্যঙ্গ-কাবিতা, হাঁসির গান, কাব্যনাট্য, রোমান্টিক গশীতকাঁবতা প্রভাতি "বাঁচন্ত্ 
সৃষ্টির প্রাচুর্যে কবিজীবন তখন পৃর্ণোচ্ছৰীসত। সাষ্টসাফল্যের এই চরম মূহূর্তেই এলো 
নিদারুণ আঘাত । একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করে সূরবালা দেবীর মততযু হল (২৯ নভেম্বর, 
১৯০৩)। দ্বিজেন্দ্রলাল তখন সরকারী কাজের জন্য মফঃস্বলে গিয়ৌছলেন। তারযোগে সংবাদ 
পেলেন যে স্ত্রী মরণাপন্না, কন্তু দুর্ভাগ্যবশত "তান তাঁকে জশীবত দেখতে পারেন '[ন। 
স্তীবয়োগের এই মর্মান্তিক আঘাত থেকে দ্বজেন্দ্রলালের কয়েকটি শ্রেন্ঠ কাঁবতা জন্মলাভ 
করেছে। তাঁর স্ত্রীবয়োগ ও বাৎসল্যরসের কাবতাগ্ঁল বাংলা সাহত্যে স্থায়ী আসন লাভ 
করেছে। আন্তারক ও গভীর মর্মবেদনায় কাবতাগাঁল হদয়স্পশর : 


এই ত ছিল দেবীমৃর্তি; আলাপ, বিলাপ, হাস্য, রোদন, 
, কার্ছল ত কাছে, 

কোথায় গেল 2 'ফারযে দাও হে বিশবপাঁতি! দাবী কাছ, 

বল কোথায় আছে ? 
এই যে ছল, গেল কোথায় 2 দেখা হবে আবার, !কম্বা 

এ চির-বিচ্ছেদ ? 
আম পার্লাম না ক; তবে তৃমি করে দাও হে প্রভু 

এ রহস্য ভেদ । 

(অল্টাদশ চিত্র, আলেখ্য) 


পূর্শিমা-মিলন ও ইভনিং ক্লাৰ £ 'দ্বজেন্দ্লাল অত্যন্ত বন্ধূবংসল ও মজাঁলশ মানুষ 
ছিলেন। অনেক জ্ঞানী, গুণী, সংগীতজ্ঞ ও সাহত্যরাসক ত'র বাড়তে যাতায়াত করতেন। 
স্লীবয়োগের পর থেকে বন্ধুবান্ধবদের সাহচর্ষে ও নানা আলোচনায় দুঃসহ ব্যথা ভুলে থাকতে 
চাইতেন। ১৯০৫ শ্রীস্টাব্দে তান প্টীর্ণমানীমলন' নামে এক সম্মেলনের প্রাতষ্ঠা করেন। এই 
সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও আঁভপ্রায় সম্পর্কে তিনি একখান চাঠতে জানয়েছেন : 
এক নূতন খেয়াল মাথায় আঁসয়াছে।.. আমি অর্থাৎ আমরা) ইচ্ছা কারযাছ, প্রাত 
পূর্ণিমায় দেশশুদ্ধ সাহত্যসেবী ও সাহত্যানূরাগদের একত্র করিয়া, এক-এক স্থানে এক- 
একবাব প্রাত “পীর্ণমা' উপলক্ষে শমলন' কবা যাইবে। নাম হইবে “পার্ণমাীমলন'। ইহাতে 
কাঁলকাতাস্থ সমৃদয় সাহাত্যকদের মধ্যে অবারিতভাবে মেলা-মেশা, ভাব-ীবাঁনময়, প্রসীতবর্ধন ও 
'পারিচয়াদ হইবে; আর তাহার সঙ্গে সেখানে ধেখানে যেমন হইবে) গৃহস্বামীর প্রবাত্ত ও 
সামর্থাযান্সারে, অহ্প ?কছ জলযোগ__এই ধর যেমন চা, সরবত প্রভৃতি ও চুরুট তামাকের 
(সগারেটেরও!) ব্যবস্থা থাকিবে। 
€দেবকুমার রায়চৌধুরশর কাছে লাখত পত্র, দ্বিজেন্দ্রলাল : দেবকুমার রায়চৌধুরী, . 
পৃ ৪১০-১১) 
দ্বজেন্দ্রলালের &নং সুকিয়া স্ট্রগটের বাসভবনে (১৩১৯১ খ্রীস্টাব্দের দোল-পাৃর্ণমার 
সায়াহে) পার্ণমা-মিলন'-এর প্রথম আঁধবেশন বসে। পীর্নমা-ীমলন' প্রায় দু'বছর ধরে 
নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়োছিল। দ্বিজেন্দ্রলাল খুলনায় বদাঁল হওয়ার পর এই আঁধবেশন ক্রমশ 
অনিয়মিত হয়ে পড়ল, শেষে একেবারে বন্ধই হয়ে গেল। “পৃর্ণিমা-মিলন' স্বজ্পায় হলেও 
তৎকালীন 'শাক্ষত ও সংস্কাতিসেবী বাঙালির একাট তীর্থক্ষেত্রে পারণত হয়োছল। "পীর্ণমা- 
মিলন'কে কেন্দ্রে করে বাংলা সাহত্যের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে । 'দ্বজেন্দ্রলাল ছাড়া 
আরো অনেকের বাঁড়তে পখর্ণমা-মিলনের আঁধবেশন হয়েছে । তার মধ্যে দ্বিজেন্দ্রলালের বাল্য- 
বন্ধু লালিতচন্দ্র মিত্র নোট্যকার দীনবন্ধু মিন্রের পনর), ডান্তার কৈলাসচন্দ্র বসু গুপ্ুন্যাসিক 
দামোদর মুখোপাধ্যায়, 'রসরাজ' - অমৃতলাল বসু, সারদাচরণ মিত্র, অধ্যক্ষ িরশচন্দ্র বসু, 
শ্যালক ডান্তার 'িতেন্দ্রনাথ মজুমদার, ব্যোমকেশ মুস্তাফা, হণরেন্দ্রনাথ দত্ত, কাব 
প্রমথনাথ রায়চৌধুরী, প্রাচ্যাবদ্যামহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বস্ন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। 


৭০ 


যোল 


পৃর্ণিমা-মলনের প্রথম আঁধবেশনে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং উপাঁস্থত হয়ে তাঁর স্বরচিত গান গেয়ে 
সকলকে মুগ্ধ করেন৷ লালতচন্দ্র মিত্রের বাঁড়তে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আঁধবেশনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর 
রবীন্দ্রনাথের 'পুরাতন ভূত্য' কবিতাটি আবাত্ত করেন। ডান্তার কৈলাস বসুর বাড়তে অনুষ্ঠিত 
তৃতীয় আধবেশনে পার্ণিমা-মিলনের জন্যই দ্বিজেন্দ্রলাল “এটা নয় ফলার ভোজের নিমন্ত্রণ গানাট 
রচনা করেন। এ আঁধবেশনে নাট্যাচার্য গগাঁরশচন্দ্র মেঘনাদবধ কাব্য থেকে সীতা ও সরমার 
কথোপকথন অংশটি আবাঁত্ত করে শোনান। ষণ্ঠ আঁধবেশনে বিচারপাত সারদাচরণ মিন্রের 
বাড়তে কান্তকবি রজনীকান্ত সেন স্বরচিত গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন। এ আঁধবেশনেই 
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুরোধে 'দ্বজেন্দ্রলাল “সাধে নক বাবা বাঁল” গানাঁট গেয়োছলেন। 
দ্বিজেন্দ্রলালের জাঁবনীকার দেবকুমার রায়চৌধুরীর বাড়তে অনুষ্ঠিত একটি আঁধবেশনে 
দ্বিজেন্দ্রলাল স্বরচিত ইংরোজ হাঁসর গান গেয়োছলেন। পার্ণমা-মিলনের দোললীলা উপলক্ষে 
একবার আচার্য রামেন্দ্রসূন্দর 'ন্রবেদী মহাশয়ের “শুভ্রকেশ লালে লাল” হয়ে উঠেছিল। 

দবজেন্দ্রলাল 'ইভানং ক্লাব'-এর সঙ্গেও ঘনিষ্ঞভাবে যুক্ত ছিলেন । 'কালিকাতা ইভানং ক্লাব'-এর 
দু'জন উৎসাহী সভ্য--হাঁরদাস চট্টোপাধ্যায়ের (বখ্যাত পুস্তক ব্যবসায় গরুদাস চট্টোপাধ্যায় 
মহাশয়ের পূত্র) ও প্রমথনাথ ভট্রাচার্যের বিশেষ অনুরোধে দ্বিজেন্দ্রলাল এই সংস্থার সভাপাঁত 
হতে রাজ হলেন। দ্বিজেন্দ্রলালের সভাপাতিত্বে ইভাঁনং ক্লাবের শ্রীবৃদ্ধি হয়োছল। ক্ষীরোদপ্রসাদ 
বিদ্যাবনোদের 'নন্দকুমার”, বাঁঙকমচন্দ্রের পবষবক্ষ', দ্বিজেন্দ্রলালের চন্দ্রগুপ্ত' নাটক এই ক্লাবের 
সভ্যরা প্রকাশ্য রঙ্গমণ্টে আভিনয় করোছলেন। তাঁরা 'কালকাতা সংগীত-সমাজে'র সারস্বত 
সম্মেলন উপলক্ষে 'কমলাকান্তের জবানবন্দী” ও 'দিবজেন্দ্রলালের “সীতা” নাট্যকাব্যের ণক্যদংশ 
দক্ষতার সঙ্গে” অভিনয় করোছিলেন। “সীতা নাটকের আভনয়ে 'দ্বজেন্দ্রলাল নিজে বাল্মশীকর 
ভাঁমিকায় আভনয় করেছিলেন । 

ইভনিং ক্লাব আগে ছিল কর্নওয়ালিশ স্ট্রীটে, ক্রমে 'দ্বজেন্দ্রলালের নবানার্মত গৃহ 'সুরধাম'- 
এর নিচের তলায় স্থানান্তারত হল। "চন্দ্রগুপ্ত' থেকে 'বঙ্গনারী* পর্যন্ত তাঁর শেষাঁদকের নাটক- 
গুলি এইখানে বসেই লেখা হয়োছল। 'দ্বজেন্দ্রলালের মৃত্যুর পর "ইভনিং ক্লাব* উঠে যায়। 


বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও দেশাত্মবোধ £ শৈশব থেকেই 'দ্িবজেন্দ্রলালের মনে দেশপ্রেমের বীজ 
অগ্কারত হয়োছল। 'আর্যগাথা, [ প্রথম ভাগের ] কবিতাগ্ীলর একাঁট অংশ দেশপ্রেম-সম্পীকতি 
কবিতা । পরবতর্ঁ কালের রচনায় এই ভাব আরো পারস্ফুট হয়েছিল। ১৯০৫ গ্রীস্টাব্দের 
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁর দেশপ্রেমের দীপ্ত শতাঁশখায় উদ্ভাঁসত হয়ে ওঠে। এই 
সময়ের একাঁট ঘটনার কথা দেবকুমার রায়চৌধুরী উল্লেখ করেছেন : 


সোৌদন ১৬ই অক্টোবর, ৩০এ আ'্বন, বাঙ্গালীর সেই চিরস্মরণীয় 'অরন্ধন' ও “বাখট- 
বন্ধনের পৃণ্যাহ | সোঁদন সকাল বেলায়__৯॥* কি দশটা বাঁজযাছে এমন সময়ে-_“কুল্তলশনের” 
*হেমমোহন বসু (এইচ বোস) মহাশয় হঠাৎ দিবজেল্ললালের কাছে আঁসযা 'ব্যস্ত-সমস্ত'-ভাবে 
তাঁহাকে বাঁললেন_“আজ সকালে গোল দণীঘতেও একটা প্রকাণ্ড সভা হবে। সেখানকার জন্য 
একটা গান লিখে দিন। এখনই চাই-_ছাপতে হবে।” বস্‌ মহাশযকে দয়া, দ্বিজেন্দ্রলাল 
তদ্দস্ডেই আমার সম্মুখে বাঁসয়া অনাধক দশ-পোনের ীমাঁনটের মধ্যে একটি আশ্চর্যরকমের 
উৎকৃষ্ট আগনগর্ভ গান__ঠিক যেন খেলার ছলে রচনা কাঁরয়া ফোললেন, এবং তৎক্ষণাৎ ইহা 
ককুন্তলণন' প্রেসে পাঠাইয়া দেওয়া হইল। অপরাহ্ু কালে 'দ্বজেন্দ্রলাল স্বয়ং একটি দলের নায়ক 
হইয়া, বাগবাজার পশুপাতি বাবুর সুবিশাল গৃহ-প্রাঙ্গণে গমন করিলেন; এবং সেই সাম্মালত, 
্রমন্ত' জন-সমূদ্রের মধ্যে স্বরাচিত সঙ্গণীতসুধার সঞ্জীববনী ম্োভোধারা প্রবাহত কাঁরয়া দিলেন। 
€প্‌বো্ত গ্রষ্থ, প্‌ ৩৯৯) 


্বদেশশ আন্দোলনের সেই উত্তপ্ত মৃহূর্তে দ্বিজেন্দ্রলালের জাতীয় সংগত ও গ্রীতহাসক 
নাটক জাতখয় জীবনের অবরুদ্ধ বেদনাকে মূর্ত করে তুলোছল। বাংলা সাহিত্যের মধ্যে এই ভাব 
নবচেতনায় প্রদগপ্ত হয়ে উঠোছিল : 


সতর 


50106 016 005 0121025 ০01 105/1050018 121 0২০৮ 1660060. 0১৪ 72010091 
501710 £0. ৪.:20050 1001905105 007901061 200 00616 3 10101) 2) 11010108106 
[0৬0 01 5111252 1) 1300291 10) /1010]) 0006 01 00061 01 1013 01155 ৪3 100 
3550. ৬1960 [19551006001 006 50856 00656 019195 160 00 [9010191 63 
01061070600 50 10010) 50১ 000 005 00৬10170610 00001) 10 2000 590901553 
5017 ০0 00610. 106 10901091021 50155 ০0101750550 11176 006 7০119 0১০ 
[)/1150019. 1.9] 107, [২210100171820) 15015, 521919106৮1 (00090190191, 
1৬01. 48. 10, 960 200 006 1906 [২2)9101 791000 ১2 50009 01) 006 1)6910 01 0) 
[601015 25 2. 21710705 17211, 25721020102 000 01 10 2. 50010072180 2. 00100110-50201 
25 1090 17551 19621 10005/10 01710901) 008 1905 060001165 0£ 1১61 10110091 
5216000. 

(1:19 2100. 10011009501 0. ২. 109$-1056 50010 0£ 05915 5616 63001655101) : 
[1100)৬/15 (500910018 ০9. ০০ 41-42) 


রবীল্দ্ূনাথ ও দ্বিজেন্দ্রলাল £ 'দ্বজেন্দ্ূলালের জীবনের শেষ অধ্যায়ের মধ্যে সবচেয়ে 
তাৎপর্যমূলক ঘটনা হল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর মতাঁবরোধ। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সাহাত্যিক 
বিতর্ক ও মতানৈক্য এই শতাব্দীর প্রথম দশকের বাংলা সাহত্যের একাঁট উল্লেখযোগ্য ঘটনা। 
রবীন্দ্র-জীবননকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছেন : “দ্বজেন্দ্রলালের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে 
মতান্তর তাহা কেবলমান্র ব্যান্তগত জীবনের ঘটনা-সংক্রান্ত নয়, ইহার মধ্যে বাংলা সাঁহত্যের 
শেষ মনোবাঁত্ত রুচবোধের হীতিহাস জাঁড়ত রাঁহয়াছে।” রেবাীন্দ্র-জীবনন, "দ্বিতীয় খন্ড, 
পৃ. ২৭৭) উনাঁবংশ শতাব্দীর শেষাঁদক থেকেই সাহত্যে রবীন্দ্রানুগ ধারার সঙ্গে রবীন্দ্রাবরোধী 
একটি ধারা সংস্পম্ট হয়ে উঠাছল। রবান্দ্রবিরোধী দলের প্রধান পাত্রকা ছিল দুটি--সুরেশচন্দু 
সমাজপাঁত সম্পাঁদত 'সাহত্য' ও সাপ্তাহক 'বঙ্গবাসণ" পাত্রকা । কিন্তু দ্বজেন্দ্রলালের নেতৃত্বেই 
রবীন্দ্রীবরোধশ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ: করোছল। 

অথচ এক সময় 'দিবজেন্দ্রলাল যখন সাহত্যক্ষেত্নে অপারচিত 'ছলেন, তখন তাঁকে বৃহত্তর 
সাঁহত্ক্ষেত্রে রবশন্দ্রনাথই পাঁরাচিত করার দাঁয়ত্ব নিয়োছলেন। 'দ্বজেন্দ্রলালের 'আর্ধগাথা, 
(দ্বিতীয় ভাগ) “আষাঢ় ও 'মন্দ্র' কাব্যকে রবীন্দ্রনাথ আভনান্দিত করেন। 'দ্বজেন্দ্ূলালও তাঁর 
ধবরহ" প্রহসন রবীন্দ্রনাথের নামে উৎসর্গ করেন। প্রহসনটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাঁড়তে 
আঅভনীতও . হয়ৌোছল। সাহত্য-সম্পাদক সরেশচন্দ্র সমাজপাঁত বলেছেন : “সে সময়ে 
[দ্বিজেন্দ্রলাল ও রবীন্দ্রনাথ-উভয়েই একান্ত পরস্পরের গুণমুদ্ধ হয়ে পড়াছিলেন। দুই বন্ধুর 
মধ্যে ঘানম্ঠতা এই অবস্থায় খুবই প্রগাট হয়ে উঠোছল ।” (দ্বিজেন্দ্রলাল : দেবকৃমার রায়চৌধুরা, 
প্‌. ২৬২)। কিন্তু দিবজেন্দ্রলালের জনীপ্রয় গরীতহাঁসক নাটক সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ নীরব ছিলেন। 
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকৃমার মুখোপাধ্যায় মনে করেন, এই নীরবতা "দবজেন্দ্রলালের মনঃপৃত 
হয়ান (রবান্দ্র-জীবনপ, "দ্বিতীয় খণ্ড, প্‌ ২৮২)। 

কিস্তু দৃষ্টভাঙ্গির পার্থক্যই রবান্দ্র-দ্বিজেন্দ্র বিরোধের মূল কারণ । “রবীন্দ্রনাথের আত্মভাব- 
মুগ্ধ কল্পচারণা, সংকেত-ব্যপ্নার আলোছায়া ও সুগভীর অধ্যাত্মদৃস্টি দ্িবজেন্দ্রলালের সমর্থন 
পায় 'ন; কারণ কাঁবমানসের দিক থেকে 'তাঁন 'ছিলেন ভিন্ন মার্গের পাঁথক।” ১৩১১ সালে 
প্রকাঁশত 'বঙ্গভাষার লেখক' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যে আত্মজীবনী প্রকাঁশত হয়, তাকে কেন্দ্র করে 
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দ্বিজেন্দ্লালের বিরোধ তীব্রতর আকার ধারণ করে। রবান্দ্রনাথের বিরুদ্ধে 
দিবজেন্দ্রলালের আভযোগ ছিল দু : প্রথমত, রবশন্দ্রকাব্য দ্বিজেন্দ্রলালের মতে অস্পষ্ট, 
1দবতসয়ত, দিজেন্দরলাল রবান্দ্কাবোর বিরুদ্ধে দুনর্পীতর আভিযোগ করোছিলেন। বছর দুই* 
দই কার মধ প্রকাশ্য বিরোধ বন ছিল। ইতিমধ্যে [দ্বজেন্দ্লাল রবীন্দ্রনাথের গেক্ার এক 

প্রশংস সমালোচনা প্রকাশ করেন (বাণী, কার্তক ১৩১৭)। তাতে অনেকেই এই বিরোধ 
রা আশা করোছলেন। অবশ্য “সমর্থকদের মধ্যে তখনও মসাীযুদ্ধ চলছিল। ঘটনাটি 


আঠার 


চরমে উঠল 'ম্বজেন্দ্রলালের 'আনন্দ-বিদায়, প্যারাঁড রচনার পর থেকে । এই প্যারাঁডতে তান 
রবীন্দ্রনাথকে অশোভনভাবে আক্রমণ করোছিলেন। 

রবীন্দ্রনাথকে কশাঘাত করার স্বপক্ষে 'দিবজেন্দ্ুলাল যতই যাান্ত দেখান না কেন, রঙ্গালয়ের 
দর্শকেরা কেউ সোঁদন এই ব্যান্তগত আক্মণকে স্বীকার করে নিতে পারেন নি। দ্বিজেন্দ্লালের 
মনেও একটি প্রতিক্রিয়ার সৃন্টি হয়োছল। মৃত্যুর পূর্বে তানি ভারতবর্ষ পান্রকায় যে ভাঁবষ্যদবাণণ 
করেছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়োছিল : “আমাদের শাসনকতারা যাঁদ বঙ্গসাহত্যের 
আদর জানিতেন, তাহা হইলে বিদ্যাসাগর, বাঁঙকমচন্দ্রু ও মাইকেল 76618 পাইতেন ও 
রবীন্দ্রনাথ 0181 উপাঁধতে ভূত হইতেন।” (সূচনা : ভারতবর্ষ, আষাঢ় , ১৩২০)। 
1দ্বজেন্দ্রলালের মৃত্যুর প্রায় ছ'মাস পরেই রবীন্দ্রনাথ নোবেল প্রাইজ পেয়োছলেন। ৃ 

শেষজশীবন ও, মৃত্যু 8 ১৯১২ খ্রীস্টাব্দের ২৯শে জান্‌য়ার "দবজেন্দ্রলাল বাঁকুড়ায় বদাল 
হন। সেখানে তন মাস কাজ করার পর তিনি বদাল হন মুঙ্গেরে। বাঁকুড়া থেকে মুুঙ্গের যান্রাকালে 
কলকাতায় এসে 'তিন সন্ব্যাস রোগে আক্রান্ত হন। মোঁডক্যাল কলেজের "প্রন্সিপ্যাল ক্যালভার্টের 
চিকিৎসাধীন হয়ে তিনি এই দুরারোগ্য ব্যাঁধর জন্য এক বছর ছুটি 'িনতে বাধ্য হন। চাকুরির 
উপর তিনি কোনো দিনই সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাছাড়া দেহও ব্লমশ অপটু হয়ে আসাছল। 
১৯১৩ গ্রীস্টাব্দের ২২শে মার্চ তান অবসর গ্রহণ করেন । স্বাধীনচেতা ও তৈজস্বী দবজেন্দ্র- 
লালের চাকুরির জীবন সখের হয়ান, স্ত্রীবয়োগের পরে এই বেদনা চরমে উঠোছিল। 
দবজেন্দ্রলালের শেষজীবনের মানীসক অবস্থা একখান িাঠিতে ফুটে উঠেছে : 


জীবনপথে যতই অগ্রসর হ্যচ্ছ, চারাদক থেকে. শুধু ওদাস্য ও অবসাদ যেন আমায় ঘিরে 
ফেলছে। সংসার অসার' আগে দবচাবে ও অন্যমানে বাফতাম এখন রাত পদে হাড়ে হাড়ে 
বুঝছি। আপন মনের 'দিকে চেয়ে দোখ, সেখানে এ সংসারের উপরে আবামশ্র বিতৃষকা ছাড়া আর 
তো কিছুই খশুজে পাই না। আসান্ত বা ভোগাঁলপ্সার এখন আর [তিলার্ধ নাই। তবে, কেন__ 

গকসের জন্য এই পুঞ্জভূত বিড়ম্বনা নিরন্তর ভোগ করে মার? 
€গয়া থেকে দেৰকুমারকে লাখত চিঠি, ১৩ জানুয়ার, ১৯০৭) 


অবসর গ্রহণ করার কিছুকাল আগে 'দিবজেন্দ্রলাল একটি প্রথম শ্রেণীর সাঁচত্র মাঁসক পান্রকা 
প্রকাশ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় আযান্ড সম্স পাত্রকাট' প্রকাশ করার 
ভার নিলেন। দ্বিজেন্দ্রলালকে সহায়তা করার জন্য সহকারী সম্পাদক 'নযুন্ত হলেন পাণ্ডিত 
অমূল্যচরণ 'বদ্যাভূষণ। প্রথম সংখ্যার জন্য (আষাঢ়, ১৩২০) “সূচনা অংশ লিখোছলেন, তাছাড়া 
এঁ সংখ্যায় প্রকাশযোগ্য রচনাগুীলও নর্বাচন করোছলেন। 'কল্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় “ভারতবর্ষ 
প্রকাশের পূবেই তান সন্ব্যাস রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলেন (৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৩২০, শানবার 
অপরাহ্‌ পঁচি ঘাঁটকা)। রোগাক্রান্ত হওয়ার পর মান্র সাড়ে চার ঘণ্টা পরে “শুক্লা দ্বাদশীর 
চন্দ্রকরোজ্জহল রান্র সাড়ে নয় ঘাঁটকায়” “সূরধামে” তাঁর মৃত্যু হয়। 


সোদন শাঁনবার--পূর্ব হইতেই কথা ছিল যে, সৌঁদন দ্বিজেন্দ্র ও প্রসাদদাসবাবু, রান্তরে 
ক্ষণরোদপ্রসাদ বদ্যাবনোদ মহাশয়ের রচিত '্ভগঙ্ম” নাটকের অভিনয় দোখতে থিয়েটারে 
যাইবেন।.. 1827811৮58585559585 
প্রসাদদাসবাবূকে বিদায় দিয়া দ্বিজেন্দ্র তাঁহার "শসংহলাবজয়' নাটকের পাণ্ডুলাপ সংশোধন 


আৃপয়া, 8০587 58755585 ১৮৮৬ 
পরেই তাঁহারা শ্নতে পাইলেন, দ্বজেন্দ্রু ভগ্ন ও জাঁড়তস্বরে 15০" বাঁলয়া ডাকিলেন। সেই 
গবকৃত ক ্ঠস্বর শুনিয়া তাঁহারা 'দ্বারতপদে আসিয়া দেখেন, ধদ্বজেন্দ্রু অচৈতন্য হইয়া গিয়াছেন। 


উনিশ 


শ্কংসা আরম্ভ হইল। ক্রমে দ্বজেন্দ্রের বন্ধৃ-বান্ধব, আত্মধয়-স্বজন, তাঁহার *বশুর সপ্রাসম্ধ 
হোমিওপ্যাথিক ডান্তার প্রতাপচন্দ্র মজুমদার মহাশয় সপনত্র ডোন্তার শ্রীযুন্ত জিতেন্দ্রনাথ 
মজৃমদার) আসলেন। 'চাঁকৎসার ভ্রুটি হইল না, কিন্তু গদ্বজেন্দ্ের আর জ্কান হইল না। তান 
একবার মান্র স্ট: বলিয়া জাঁড়তস্বরে তাঁহার প্রাণাধিক পত্র গ্রীমান দিলীপকুমারকে ডাকিয়া- 
গিলেন- সেই তাঁহার ইহজীবনের শেষ কথা; তাঁহার বিলপ্ত সংজ্ঞাও আর 'ফাঁরয়া 'আইসে নাই। 

(ক্রিজেন্দুলাল : নবকৃষ্ণ ঘোষ, প্‌ ৩৬১) 


মৃত্যুর পরে ঃ 'দ্বজেন্দ্রলালের এই আকাঁস্মক মৃত্যুসংবাদ শবদ্যদবেগে চারাদকে ছাঁড়য়ে 
পড়ে। বঙ্গীয় সাহত্য পাঁরষদের উদ্যোগে যে শোকসভা অনাষ্ঠত হয়োছল (৪ঠা শ্রাবণ, ১৩২০) 
তার বিপুল জনসমাবেশ থেকেই দ্বিজেন্দ্রলালের জনাপ্রয়তার প্রমাণ পাওয়া গিয়োছল। 
পারষদের কার্যাববরণণী (১৩২০) থেকে জানা যায় : “অপরাহ ৩টা হইতেই লোক-সমাগম 
আরম্ভ হয়। প্রায় ৪টার সময় পাঁরষদের বিরাট সভাস্থল লোকে পাঁরপূর্ণ হইয়া যায়। 'বাঁভন্ন 
তলের তিনটি পৃথক আঁধবেশনেও শবরাট জনসঙ্বের স্থান-সংকুলান অসম্ভব হওয়ায় নিকটস্থ 
পরেশনাথের বাগানে সভা কারবার প্রস্তাব হইল।...কয়েক 'মাঁনটের মধ্যেই পরেশনাথের বিস্তীর্ণ 
প্রাঙ্গণ পূর্ণ হইয়া গেল। তিন সহস্রেরও উপর লোকসমাগম হইয়াছিল। পাঁরষদের গৃহ-প্রবেশ 
উপলক্ষেওড এত 'লোকসমাগম হয় নাই।” একজন প্রত্যক্ষদর্শর বিবরণ থেকে. জানা যায় : “সেই 
জনতার বন্যা দৌখয়া স্বগাঁয় সাহিত্যিক শৈলেশচন্দ্র মজুমদার (বঙ্গদর্শন নবপর্যায়ের 
সম্পাদক) বন্ধুবর আমাকে বিয়াছলেন,_'আর সভার দরকার কি? এই ত হয়ে গেল! আর 
1 চান? সত্যই সেই বিপুল জনসঙ্ঘ দর্শন কাঁরয়া দদ্বজেন্দ্রলালের গুণগ্রাহীদের মন, সেই 
[বষাদ বেদনার সময়েও এক অপূর্ব আনন্দে পূর্ণ হইয়াছিল ।” (দ্বিজেন্দ্রলাল :নবকৃষণ ঘোষ, 
পৃ. ৩৬৬)। বঙ্গীয় সাহিত্য পাঁরষৎ সভায় সভাপাতিত্ব করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
মহাশয়। ১৩২০ সালের ৯ই শ্রাবণ রাসাঁবহারী ঘোষের সভপাতিত্বে টাউন হলে আর একাঁট 
স্মৃতিসভা অনুচ্ঠিত হয়। 'দ্বজেন্দ্রস্মৃতি ভান্ডারের সংগৃহীত অর্থে কালকাতা বিশ্বাবদ্যালয়ে 
একাট পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সমসামায়ক বহু পর্র-পান্রকায় ্বজেন্দ্লালের 
সাঁহত্য-প্রীতিভা ও ব্যান্তজীবনের কিছু ছু আলোচনা প্রকাশত হয়োছল। সেই সময়কার 
পত্র-পান্রকায় 'দ্বজেন্দ্রলালের প্রশাস্তমূলক কয়েকটি কাঁবতাও প্রকাশিত হয়। টাউন হলের 
দ্মৃতিসভায় লালতন্দ্র মিত্র-রচিত যে গান গাওয়া হয়, তা 'গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা” হলেও সকলকে 
মুগ্ধ করে : 
যাঁদও তোমার নিত্য বিরহে, নেহার কেবল আঁধার ঘোর, 
কেটে যাবে মেঘ তোমার গাঁরমা, মোহের রজনী কারবে ভোর। 
আমরা পৃজিব প্রাতিমা তোমার- মানুষ আমরা নাঁহত মেষ, 
জ্যোতি তোমার, ধর্ম তোমার, সাধনা তোমার ব্যাঁপবে দেশ। 
(ভারতবর্ষ, শ্রাৰ ১৩২০) 


১1 ্ 
০ 


দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 2 সাহিত্য-সাধন৷ 


নাটক ও প্রহসন 


ভূমিকা : দ্বিজেন্দ্রলাল কাব ও গণীতকার হিসাবেই সাহাত্যিক জীবন শুরু করেন, কল্তু 
নাট্যকার হিসাবে তাঁর জনাপ্রয়তা অসামান্য। বাংলা নাটকের মধ্যে তান উন্নত রুচির একাঁট 
পাঁরমণ্ডল রচনা করেছিলেন। কবি-সমালোচক মোহতলাল মজুমদার যথার্থই বলেছেন : । 


.. শেদবজেন্দ্রলাল ভাবকে কেবল রসচর্চার বিষয় না কাঁরয়া-__ভাবের জাীবনোদ্যম-সুূলভ রূপ 
দেখাইবার জন্য, অতঃপর নাটক-রচনায় মনোনিবেশ কারলেন এবং তাহার দ্বারা রগ্গমণ্ের 
নাট্যাদর্শ_তাহার একাঁদকের দুনাীতি-মধূর লঘু-লাস্যের স্রোত এবং অপর "দকে সেই 
জশবনাবেগবাঁজত মধ্যযৃগীয় ভান্তাবহহলতা ও পাপপুণ্য-সংস্কারের তামাসক আদর্শ-_ সংশোধন 
কাঁরতে অগ্রসর হইলেন। নাট্যাশজ্পের আদর্শ উন্নত ও রূচি মাজত কাঁরয়া এবং নাটক রচনার 
কাব্যসঞ্গত কারুকলার দ্বারা শিক্ষিত-সমাজকে নাট্যানূরাগণ করিয়া, তিনি সেই যুগের অবোধ 
ভাবাতিরেককে পৌরুষ ও মন্ষ্যত্বসাধনার পথে প্রোরত কারবার যে চেষ্টা কারয়াছলেন-_জাতির 
প্রাণে যে উৎসাহ সঞ্চার কারয়াছিলেন, তাহার কথা আমরা জানি। 

(সাহিত্য-বিতান : দ্বিতীয় সং, ১৩৫৬ প্‌ ৯০) 
নাট্যসাহিত্য ও আঁভনয় সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল নিজেই উল্লেখ করেছেন : 

[িলাতে যাইবার পূর্বে আম 'হেমলতা' নাটক ও ন্নীলদর্পণ' নাটকের আঁভনয় দোখয়াছিলাম 
মানত, আর কৃষ্ণনগরের এক শৌখাীন অভিনেতৃদল কর্তক আঁভনীত 'সধবার একাদশণ' ও গ্রল্থকার' 
নামক একখান প্রহসনের আভনয় দৌখ, আর 4১001507-এর 04০ এবং 317915596216-এর 
1%17%1 04/-এর আংাঁশক আঁভনয় দেখি। সেই সময় হইতেই আঁভনয় ব্যাপারটিতে আমার 
আসান্ত হয়। বলাতে যাইয়া বহু রঙ্গমণ্টে বহু আঁভনয় দোঁখ এবং ক্রমেই আঁভনয় ব্যাপারাট 
আমার কাছে প্রিয়তর হইয়া উঠে। 

[বিলাত হইতে ফিরিয়া আঁসয়া আম কাঁলকাতার রঙ্গমণ্সমূহে আঁভনয় দেখি এবং সেই 
সময়েই বঙ্গভাষায় লাখত নাটকগুলির সহিত আমার পাঁরচয় হয়। 

(আমার নাট্য-জীবনের আরম্ভ : নাট্যমান্দির, শ্রাবণ, ১৯৩১৭) 
_ নাট্যকার দ্বিজেন্দ্লালের সর্বপ্রথম পারচয় ঘটে প্রহসনের মাধ্যমে । তাঁর সর্বপ্রথম প্রহসন 
'কল্ক-অবতার' প্রকাশিত হয় ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে। ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১৯০২ খ্রীস্টাব্দ 
পযন্ত কালকে প্রধানত দ্বিজেন্দ্রলালের প্রহসন রচনার কাল বলা যায়। এ সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল 
লিখেছেন : 

প্রথমতঃ প্রহসনগূলির আভনয় দোঁখয়া সেগুঁলর স্বাভাবিকতায় ও সৌন্দর্যে মোহত 
হইতাম বটে, কিন্তু সেগুলির অশ্লগলতা ও কুরুচি দোঁখয়া বাঁথত হই। এ সময়ে 'কাঁহক-অবতার, 
-একথানি প্রহসন গদ্যে-পদ্যে রচনা করিয়া ছাপাই। পরে আমার পূর্বরচিত কতকগুলি হাঁসির 
গান একতে গাঁথয়া ণবরহ' নাটক রচনা কার? তংপরে উত্তর্‌প ্ত্যহস্পর্শ রচনা কার এবং 
উহাও স্টারে অভিনীত হয়। পরে প্পরায়াশ্চত্ত' রচনা কার এবং সেখান ক্লাসকে আভনত হয়। 

(আমার নাট্য-জীবনের আরম্ভ : নাট্যমান্দর, শ্রাবণ, ১৩১৭) 


সমজ-বিদ্রাট ও কাঁলক-আ্ববতার (৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৫) : ্বজেন্দুলালের প্রথম প্রহসন 
, 'কল্ক-অ্ববতার'। নাট্যকার নামাটর সঙ্গে 'সমাজ-বিদ্রাট' যুত্ত করে বার্ণত বিষয়কে আরো স্পচ্ট 
: করে তুলেছেন। 'একঘরে' নকশায় বার্ণত সমাজবিদ্দপের তাঁরতা এখানেও আছে। নক শাটিতে 
বযা্তগর্ত বিদ্বেষ তীশব্রতর, ক্ষেত্র সংকীণর্ণ, কিন্তু প্রহসনটির ক্ষেত্র অনেক বোঁশ বিস্তৃত। 
'একঘরে' নিন্দিত হয়েছিল, কিন্তু 'কিলিক-অবতার” আঁভনান্দিতই হয়োছল। নবকৃষণ ঘোষ তাঁর 
, ঁদ্বজেন্দ্ললাল' গ্রন্থে (পৃ'৬৮) লিখেছেন : “একঘরে পাঠ করিয়া কাঁবর 'হন্দসমাজভুন্ত 


একি? 


আত্মীয়রাও অসন্তোষ প্রকাশ কাঁরয়াছিলেন। কিন্তু 'কজিক-অবতার, পাঠ করিয়া রক্ষণশখল 
সমাজের নেতা 'বঙ্গবাসন'ও লিখিয়াছিলেন-“এরূপ পুস্তক বঙ্গভাষায় আর হয় নাই।” 
প্রহসনখানিতে নব্যাহন্দ,, ব্রাহ্ম, পাণ্ডিত ও িবলাত-ফেরত-_এই পাঁচাটি সম্প্রদায়ের উপর 

বিদ্রুপের শরজাল বার্ধত হয়েছে। যখন এই পাঁচটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ ও বিতর্ক চূডান্ত 
হয়ে উঠেছে, তখন রহ্গার অনুরোধে বিষ কাঁলকরূপে অবতীর্ণ হলেন। কজ্কির এই মধ্যস্থতায় 
ধিবকদমান সম্প্রদায়গ্ীলর মগ্ন্যে মিলন স্থাঁপত হল। কাঁল্কদেব তাঁদের 'দলেন বিশ্বাস, প্রেম 
ও মনয্যত্বের মন্ম : 

কাঁদন সমাজ একঘরের ভয়ে টি'কে থাকে 

[বশবাস, প্রেম, মনুষ্যত্বই সমাজটাকে রাখে। 

'কলিক-অবতার' স্বর্গ ও মর্ত্য, দেবতা ও মানুষ-প্রভীতি আপাতাঁবরোধী 'বাঁচন্র উপকরণে 
রাঁচত হয়েছে। দেবলোক ও মানবলোক এখানে একই সমাজভন্ত। 'বদ্রুপাত্মক রচনার এই 
পদ্ধাত অবশ্য নূতন নয়। 'দ্বজেন্দ্রলাল এই নাটকের ভূমিকায় অবশ্য এর কোঁফিয়ং "দিয়াছেন : 

স্থানে স্থানে দেব-দেবী লইয়া একটু আধটু রহস্য আছে। তাহা ব্যঙ্গ কারবার আভপ্রায় 
নহে। গ্রল্থখানির দেখান উদ্দেশ্য, সমাজ-বিদ্রাট। তাহা দেখাইতে গেলেই দেবদেবী বিষয়ক 
একটু একটু কথার অবতারণা অপারহার্য। কারণ, হিন্দুসমাজ ধর্মের সাহত এত দৃঢ় সংশ্লিষ্ট 
যে, একের কথা বাঁলতে গেলে অন্যের কথা আনবার্যরূপে আসিয়া পড়ে। আর তাহা না হইলেও, 
বাঁজকমবাবু ও দীনবন্ধুবাবুর লেখনণপ্রসৃত দেবদেবীবিষষক রহস্যে যখন কাহাকেও কখন 
আপাতত কারতে শোনা যায় নাই এবং যখন “ছিঃ মা কালী তামাসাও বোঝ না” এরুপ রহস্য 
আবাল্র-বৃন্ধ-বাঁণতা সকলকেই উপভোগ কাঁরতে দেখা যায়, তখন এ দীনের দুই স্থলে আত 
সামান্য রহস্যগঃঠুলিতে কাহারও আপাতত 'প্রকাশ করা 'রাগের কথা ।, আত বিশুদ্ধ 'হন্দুও 


জগন্মাতাকে "পাষাণ", শ্যামকে 'লম্পট' বলেন, অথচ পাও করেন। ইহার সাঁহত তুলনা কাঁরয়া 
পাঠক মহাশয় দেখবেন, এ নাটকের রহস্যগুল দি নিরীহ 


এই কৌঁফয়ৎ ছাড়া নাট্যকার আরো বলেছেন যে, তান এখানে কোনো ব্যান্ত বা সম্প্রদায়কে 
আঘাত করেন নি-সমাজের সব্শ্রেণীর দোষব্রাটকেই তান উদ্ঘাঁটত করেছেন। লেখকের এ 
কোফয়ৎ মিথ্যা নয়। কারণ বিদ্রুপের তীব্রতা যতই থাক না কেন, বিদ্রুপের ক্ষেন্র প্রশস্ততর 
হওয়ার জন্য উপভোগ্য হয়েছে । চরিন্রগাঁল পূর্ণতর নয় “স্কেচণ্ধমণ। রাজার কুলপুরোহত 
বিদ্যানীধর পাঁরকজ্পনাঁট সবচেয়ে সার্থক হয়েছে। এই “সুরাঁসক' পাঁণ্ডতাঁট সহজেই দৃষ্টি 
আকর্ষণ করে। 

“কলিক-অবতার, প্রহসন হিসাবে উচ্চশ্রেণীর নয়। সংলাপ দুর্বল, চরিন্ও সব সময় 
আনবার্য নয়। 'দ্বজেন্দ্রলালের অন্যান্য প্রহসনের মত “কল্ক-অবতার”-এরও প্রধান এশবর্য এর 
হাঁসর গানগদীল। সংগঁতাংশ বাদ দিলে প্রহসনাঁট নিতান্ত বশেষত্ববার্জত। হাসির গান 
রচাঁয়তা দ্বজেন্দ্রলালেরই আর একাঁদক তাঁর প্রহসন। সংলাপধৈচিত্র্, চারন্র ও ঘটনার উদ্ভট 
সমাবেশ থেকে তাঁর হাস্যরস উদ্ভূত হয় নি-স্বতঃস্ফূর্ত হাসর গানই তাঁর প্রহসনগ্ীলতে 
প্রাসগ্টার করেছে। প্রথম আঁভনয়, "দ্বিতীয় আভনয়-_প্রকৃতপক্ষে দুটি অঙ্কের স্থান আঁধকার 
করেছে ।. আলেচ্য প্রহসনে সাঁত্যকারের কোনো আঁবাচ্ছন্ন কাহনী নেই। অবশ্য প্রহসনের 
কাহনশভাগ আঁকাংকরই হয়ে থাকে, 'কল্তু তার মধ্যেও একাঁট বাঁধন থাকা উীচত। 
'কাঁজক-অবতার'কে কয়েকটি "বাচ্ছন্ন কৌতুকচিন্রের সমম্টি বলা যায়, শচন্রগীল ঘনবদ্ধ হয়ে 
একটি আঁববাচ্ছল্ন গাঁতবেগের সৃম্টি করোন। ফলে প্রহসনাটর গাঁতিবেগ (৪00০) মাঝে মাঝে 
আকাঁম্মকভাবে 'ছন্ন হয়েছে। সরব ও উচ্চকণ্ঠ হাঁসি খণ্ড-খণ্ড দৃশ্যের মধ্যে যে তরঙ্গের সৃন্টি 
করেছে তা বিচ্ছিন্ন চিত্র 'হসাবেই উপভোগ্য হয়েছে। সৃতরাং 'কাঁক-অবতার-কৈ পূর্ণাঙ্গ গু 
'বাচ্ছত্ধ কতকগুলি প্রহসন না বলে কতকগুীল কৌতুকচিন্রের সমস্টি বলাই আঁধকগুব সঙ্গত। 
'কার্-অবতার'-এর সর্বশেষ সমবেত সংগণতাঁটর মধ্য দিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালের জীবনদর্শনই 
উদঘাটিত হয়েছে : 


বাইশ 


ছেড়ে রেষারোষ কর মেশামেশি, 
ছেড়ে ঢাকাঢাকি কর মাখামাখি, 
আর সবাইকে বল “বাঃ, 
নইলে জীবনটা কছু নাঃ। 
'কাঁজ্ক-অবতার' প্রহসনের আর একাট বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য। প্রচালত 'বাধ আঁতক্রম করে 
ছন্দের ক্ষেত্রে যে আভনবত্ব তিনি আনতে চেয়োছলেন, তার সর্বপ্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় “কাঁলক- 
অবতার, প্রহসনটির প্রস্তাবনায়। এখানে লেখকের বন্তব্য ও বন্তব্যের রীত দুই-ই লক্ষণীয় : 


গদ্য কি পদ্য় আগে বেশ চোদ্দয় 

চেনা যেত, কি প্রকাবে হোল আবার অদ্য এ 2 
বোল্লকাম, বেয়াদাব, বেআকোল সদ্য এ; 

“এখন পদের মান্াবোধ কি কানের উপর বিশ্বাস 2 
হয়ত বলতে পারেন কেউ বা ফেলে দীর্ঘ নিশবাস। 
এর উত্তর “ছন্দ স্থানে স্থানে মন্দ 

হোতে পারে, বিডি াভারিক রী ॥ 
থাকলেই বা একটুখানি বোল্পকামর গন্ধ। 


লারা লা লে তারি জার এক আভনব কাব্যরীতি 
আ'বিন্কার করেছেন। পরবতর্ঁ কালের রচনায় এই রীতির পারিণত রূপ লক্ষ্য করা যায়। 


[বিরহ (১৮১৯৭) : 'দবজেন্দ্রলালের দ্বিতীয় প্রহসন “বরহ”। এই প্রহসনাঁট উৎসর্গ করেছেন 
রবীন্দ্রনাথকে । উৎসর্গপন্রে তিনি হাস্যরস ও প্রহসনের স্বরৃপধর্ম সম্পর্কে মূল্যবান আলোচনা 
করেছেন : 

কাঁববর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

মহোদয় করকমলেষু। 

বন্ধৃবর ! 

আপানি আমার রহস্যগণীতির পক্ষপাতী । তাই রহস্যগীতিপূর্ণ এই নাটিকাখাঁন আপনার 
করে আর্পতি হইল। 

সব বিষয়ের দুট দিক আছে ।-_একাঁটি গম্ভীর, অপরটি লঘু । বিরহেরও তাহা আছে। 
আপাঁন ও আপনার পূব্বিতর্ঁ কবিগণ 'বরহবেদনা্লূত বিরহের কবুণগাথা গাঁহয়াছেন। 
আঁম-“মন্দঃ কাবযশঃ প্রাথী” হইয়া বিরহের রহস্যের ঠদকটা জাগাইয়া তুলিবার চেস্টা কাঁরয়াছ 
মাত্। আপনাদের 'বরহ-বেদনাকে ব্যঙ্গ বা উপহাস করা আমাব উদ্দেশ্য নহে। 

আমাদের দেশে এবং অন্যত্র অনেকে হাস্যরসের উদ্দীপনাকে অযথা ৮৯পলতা বিবেচনা করেন। 
পিল্তু তাহাতে বন্তব্য এই যে, হাস্য দুইপ্রকারে উৎপাদন করা যাইতে পারে। এক, সত্যকে প্রভূত 
পাঁরমাণে 'বকৃত কারয়া, আর এক, প্রকৃতিগত অসামঞ্জস্য বর্ণনা কারয়া। যেমন এক, কোন 
ছাঁবতে আঁঙ্কত ব্যান্তর নাঁসকা উল্টাইয়া আঁকা, আব এক, তাহাকে একট; আঁধকমান্রায দীর্ঘ 
করিয়া আঁকা। একটি অপ্রাকৃত-অপরাট প্রাকৃত বৈষম্য। স্নায়্‌ বিশেষেব উত্তেজনার দ্বারা 
হাস্যরসের সণ্টার করা ও চিমাঁট কাটিয়া কর্‌ণরসের উদ্দীপনা করা একই শ্রেণীর ! হাঃ হাঃ হাঃ 
বা মুখভঙ্গণ কাঁরয়া হাসানর নাম ভাঁড়াম, রা আন বারা তে তই 
কারুণ্যের উদ্রেক করার নাম ন্যাকামি। তাই বলিয়া রহস্যমা্ই ভাঁড়াম বা করুণ গান- মাত্রই 
ন্যাকাঁম নহে। স্থানাবশেষে উভয়ই উচ্চ সুকুমার কলার 'বাভন্ন অঙ্গমান্র। আমার এই গ্রন্থের 

উদ্দেশ্-_অল্পায়তনের মধ্যে বরহের প্রকৃত হাস্যকর অংশটুকু দেখানো । তাহাতে আপনার ও 

আপনার ন্যায় সহদয় ব্যান্তর চক্ষে যৎসামান্য পরিমাণেও কৃতকার্য হইলে আমার শ্রম সফল 

বিবেচনা করিব অলমাতিবস্তরেণ। 
শ্রীদ্বিজেন্দ্রলাল রায় 


'কঞ্ফি-অবস্ধার' চিনীস্রার নানু রা রর রানি ন্রিী সা ০০৬৬ “বশদ্দ্ধ 
প্রহসন" এর মূল রস ীবদুপ (52016) নয়, কৌতুক (40) | আখ্যায়কাবন্যাসকে এখানে 
ঘোরালো ও জটিল করে তোলা হয়েছে । মূল কাহনীর সঙ্গে একাঁট উপকাঁহনী যোগ করে 


তেইশ 


লেখক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে একটি জটিলাবর্তের সাঁন্ট করেছেন। প্রহ সনট হাস্যরস সংলাপ ও 
চারত্ত থেকে উৎসারিত হয় গন, ঘটনার ঘোরপ্যাচি ও উদ্ভটত্বই হাস্যরসের সাঁষ্ট করেছে। প্রৌঢু 
গোঁবন্দ “মুখোপাধ্যায় ও তাঁর তৃতীয় পক্ষের কুরৃপা স্ত্রী নর্মলার কৌতুককর দাম্পত্য কলহ 
দিয়ে কাহনীর সূত্রপাত করা হয়েছে। স্ত্রীর অনুপাঁস্থাতিতে বরহের জবালায় গোঁবন্দর খাওয়া 
বেড়ে গেল, ক্রমশ তান স্থুলকায় হতে লাগলেন। রূপসী শালকার জন্য ফটো তোলার 
আগ্রহের মধ্যে স্থলব্যাদ্ধ গোঁবন্দ-চারন্রের কৌতুককর অসং্গাঁত হাস্যরসের সাণ্ট করেছে। 
ইন্দুভূষণ ও চপলার ষড়্যল্্ই কাহিনীর মধ্যে গৃতিসণ্থার করেছে। ইন্দুভূষণ-প্রোরত ফটোতে 
নির্মলার চেয়ারের ঠক পিছনে তার ঘাড়ে হাত দিয়ে স্ত্রীর বন্ধু শরং হালদার-বেশী গোলাপশর 
ছাব গোঁবন্দকে সান্দগ্ধ করে তুলেছে। ভূত্য রামকান্তকে নিজের পুনার্ববাহের মিথ্যা খবর "দিয়ে 
গোবিন্দ সুকেশিলে কাজ হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু স্থুলব্দ্ধ রামকান্ত ভাগীরথীর ঘাটে 
গোলাপীর কাছে প্রণয়ানবেদন করতে গিয়ে মনিবের কৌশলের কথা সব বলে 'দয়েছে। 
গোলাপীর কাছে ,চপলা ব্যাপারটা জানতে পেরে, পৃরুষবেশ ধরে সে গোঁবন্দকে এমন করেই 
ঠাঁকয়েছে যে, এক প্রক্ল হাস্যাবেগের মধ্যে কাহিনীর মিলন-মধূর উপসংহার ঘটেছে। 

নাট্যকার ভূমিকায় বলেছেন যে তান এখানে "বরহের হাস্যকর অংশটুকু" দেখাবেন। কিন্তু 
[তান তাঁর এই প্রাতশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন নি। নাটকের প্রথম দিকে দ্‌-তিনাট দৃশ্যে 
[বিরহের হাস্যকর অসঙ্গাতর কথা থাকলেও সমগ্র প্রহসনের পক্ষে উন্ত অংশ নিতান্তই গৌণ হয়ে 
পড়েছে । স্ত্রীচারত্র সম্পর্কে গোঁবন্দের মনে অমূলক সন্দেহ থেকে আরম্ভ করে হদয়নাথ 
'চোৌধুরী-বেশে চপলার আঁবর্ভাব পর্যন্ত ঘটনার মধ্যে বিরহের কোনো হাস্যজনক অংশ দেখানো 
হয় নি। জাটল ঘটনাবৃত্ত রচনা করতেই প্রহসনরচয়িতার যেন সমস্ত শান্ত 'নঃশোষত হয়েছে__ 
তাঁর আসল উদ্দেশ্য চাপা পড়েছে । দ্বিতীয়ত, রামকান্ত-গোলাপশর কাহনী প্রয়োজনাতারন্ত- 
রূপে প্রাধান্য লাভ করেছে, ফলে নাট্যকারের আসল উদ্দেশ্য অনেকখান চাপা পড়েছে। 
নাটাকারের আভপ্রায়কে গৌণ করে প্রহসনের শেষাঁদকে উপকাহনীর বোচন্রই ৰৃন্ট আকর্ষণ 
করে। এইদিক থেকে বিচার করলে শবরহ* নামকরণ -য্যান্তযুন্ত হয়েছে বলে মনে হয় না। 
গোলাপী চরিত্রাটর মধ্যেও অসঙ্গাত আছে-চাযার মেয়ে বলে তাকে চেনা যায় না। বোকায়িতে- 
চালাকতে মেশানো রামকান্তের চারন্রাট ভালো ফুটেছে । প্রহসনাঁটর দশ্যসংস্থানের মধ্যে বোঁচন্রয 
আছে-কৃষ্নগরে গোঁবন্দের বাঁড়, হাঁসখাঁলতে চণর্ঁ নদীর একাট নিভৃত ঘাট, হুগলশীর একটি 
ঘাটের সমীপবতর্ঁ পানের দোকান, হুগলনীর নীলাম্বর চট্রোপাধ্যায়ের বাঁড়র অন্তঃপুর প্রভীতি 
চারাট দৃশ্যান্তর আছে। গ্লটকে জাঁটল করার জনাই দশ্যবৈচিন্রের অবতারণা করা হয়েছে। 
অন্তঃপ্ারকাদের তাস খেলা দশ্যাঁট সম্ভবত 'একেই কি বলে সভ্যতা'-র অনূর্প দৃশ্যটির কথা 
মনে করিয়ে দেয়। প্রহসনটিতে গানগুলিই কৌতৃকরস জাঁমযে তুলেছে । এস এস বধূ এস'"-র 
নার হার পারা সান রয়ে মানার রে রা ভিরাজে। শবরহ' প্রহসনাট 
'রোমান্টক কমোড'র লক্ষণাক্লান্ত। 


প্রায়শ্চিত্ত (১৯ জানয়ারি, ১৯০২) : 'প্রায়শ্ত্ত' 'বহ্‌ৎ আচ্ছা” নামে ক্লাসক থিয়েটারে 
আভনীত হয়। আলেচ্য প্রহসনাট সমাজাঁবদ্রুপমূলক। তিনি প্রহসনাটি উৎসর্গ করেছেন 
বাল্যবন্ধু যোগেশচন্দ্র চৌধুরীকে । উৎসর্গপন্লে তিনি লিখেছেন : “বলাতফের্তা সমাজে 
যে অর্থলোলুপতা, কৃত্রমতা ও 'বলাসতা প্রবেশ কাঁরয়াছে_তাহা তোমাকে স্পর্শ করে 
নাই।” বিলাতফেরত সমাজের 'অর্থলোলুপতা, কীব্রমতা ও বিলাসতা'র চন্র আঁকাই প্রহসনাঁটর 
উদ্দেশ্য । প্রহসনাটর মধ্যে তিনটি কাঁহনী গ্রাথত হয়েছে : সস্ত্রীক নব্যাহন্দুদের কাহনা,* 
ইন্দুমতী সরোঁজনী ও গিনোদাবহারীর কাহনশ ও চম্পট সাহেবের কাঁহনণী। ি্লাতফেরত 
; সম্প্রদায়ের আচার আচরণের আ'তশয্য, নব্যাহন্দুদের স্ত্ীশক্ষা দেওয়ার উৎকট প্রচেষ্টা ও 
শাক্ষতা মাহলাদের ক্ষার নামে কৃশিক্ষাকে এখানে বাজ্গ করা হয়েছে। 


চব্বিশ 


বিলাতফেরত চম্পাঁট ও নব্যাহন্দদের উৎকট সাহোঁবয়ানার সঙ্গে ইন্দুমতীর 'ববাহ- 
ব্যাপারাঁটকে যুস্ত করে কাহনণীর মধ্যে জটিলতার স্াচ্ট করা হয়েছে। অর্থালপ্স;, হীনচারন্র 
ও ব্যর্থ ব্যারিস্টার চম্পাঁটকে ও ধনী বিধবা ইন্দুমতাঁর উৎকট রোমাল্পগ্রস্ততাকে সমভাবেই ব্যঙ্গ 
করা হয়েছে। 'বনোদাবহারী ও সরোজনীর ষড়্যল্লই চম্পট ও ইন্দুমতশকে শিক্ষা 'দয়াছে। 
একাঁদকে যেমন উগ্র সাহেবিয়ানার পাঁরণাম দেখানো হয়েছে, তেমান অন্যাদকে নব্যাহন্দদের ও 
তাঁদের স্ত্রীদের মতেরও পাঁরবর্তন ঘটেছে। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় যে, চম্পাট একেবারে "খাঁটি 
গন্দূতে পাঁরণত হয়েছে-তার হাতে এক হশুকো। তকর্পণানন তাকে গোময় ভক্ষণ করে 
প্রায়শ্চিত্ত করার নিদেশ 'দচ্ছেন। নাটকের শেষাঁদকে পাঁরবার্তত চম্পাটর মুখ 'দয়ে লেখক 
বাঁলয়েছেন : “দেখাঁছ যে 'বালাঁত চালের চেয়ে বাঙ্গালীর পক্ষে দেশী চালই বহুৎ আচ্ছা । 
বাঙ্গালীর বাও্গালীয়ানাই বহুৎ আচ্ছা ।” কন্তু চম্পাঁটর এই পাঁরবর্তনকে নিতান্ত আকাস্মক 
মনে হয়। দ্বিতীয় অগ্ক ষ্ঠ দৃশ্যে চম্পাট যখন ইন্দুমতাঁকে পাঁরত্যাগ করেছে, তখন তার 
কথার মধ্যে আর যে পারিচয়ই থাকুক না কেন, মনেপ্রাণে বাঙাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই 
দেখা যায় নি। চম্পাটর এই পাঁরবর্তনকে কার্যকারণসম্মত করে তুর্ললে উপসংহার আরো 
সঙ্গত হত। দ্বিতীয়ত, প্রেম ও বিবাহসম্পাঁকতি মাত্রাঁতীরন্ত রোমান্সকে কটাক্ষ করা হয়েছে। 
চম্পাঁট বলেছে : “আমি দু'বার বয়ে করোছ-_একবার প্রেমের জন্যে, আর একবার টাকার জন্যে, 
দু'বার ১কেছি। ].0921011 দাঁড়াচ্ছে যে বিয়ে করাটাই 105150106.” রোমান্সরোগগ্রস্তা নায়কা 
ইন্দুমতাঁর উৎকট প্রেমোল্মাদনাকেও পারহাস করা হয়েছে । ইন্দুমতীর উৎকট আচরণ ও উন্তি 
প্রবল হাস্যবেগ সণ্ণার করে : “চম্পাঁট! চম্পটি! চম্পটি! [মূখ ঢাঁকয়া ]-আহা কি মধুর 
নাম। চেহারার উপযুত্ত নামই বটে।...আর গলার আওয়াজ ঠিক যেন একেবারে চাট জুতো । 
আর নাক। আঃ কি নাক।- চম্পট হে, তোমার পোষাক ভালো, নাম ভালো, গলার স্বর ভালো 
-কিন্তু সবচেয়ে ভালো তোমার নাকটা।” 

শিক্ষিতা রোমান্সগ্রস্তা নাঁয়কা চাঁরত্রের কৌতুককর অসঙ্গাত বর্ণনা বাংলা নাটকে সর্বপ্রথম 
জ্যোতীরন্দ্রনাথের প্রহসনেই লক্ষ্য করা যায়। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তাঁর 'অলীকবাবু, (১৮৭৭) 
প্রহসনের হেমাঁঞ্গনী চরিত্রে সর্বপ্রথম এইজাতীয় চরিত্র একেছিলেন। পরবতর্ট কালে অমৃতলাল 
বসু তাঁর একাধিক প্রহসনে স্তীশক্ষা ও স্ত্রী-স্বাধীনতা সম্পর্কে কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ত্র ও 
চাঁরত্র একেছেন। তবে অমৃতলালের প্রহসনে. বিদ্রুপের ঝাঁজ অনেক বোঁশ। "দ্বিতীয় অগ্কের 
ষ্ঠ দৃশ্যের শেষে “ইন্দুমতাঁর গান গাহতে গাহিতে প্রস্থান" নিতান্ত অর্থহন হয়ে 
পড়েছে। কারণ ঠিক তার আগেই সে চম্পটির কাছ থেকে রূটুভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, এ 
সময় তার পক্ষে গান গাওয়ার মত মানাসক অবস্থা থাকা সম্ভব নয়। 

প্রায়শ্চিত্ত প্রহসনের ভূমিকা পড়ে মনে হয়, নিজের এই সৃষ্টি সম্পকে নাট্যকারের একাঁট 
উচ্চধারণা ছিল। তিনি দ্বিতীয় সংস্করণের 'ভূমিকা*য় লিখেছেন : 

প্রায়শ্চন্ত পুস্তকখানির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশত হইল। ক্লাসক 'থয়েটারের কর্তৃপক্ষগণ 

পৃস্তকখাঁনকে আঁভনয়ের পক্ষে আত দীর্ঘ বিবেচনা করিয়া আঁভনয়কালে প্রথম সংস্করণের 

কতক অংশ বজর্ন করেন। দ্বিতীয় সংস্করণে আমও উন্ত অংশগুলি পাঁরত্যাগ কাঁরয়াছি। 

একট নূতন গশতও এই নূতন সংস্করণে প্রকটিত হইল। তাহা আঁভনয়কালে গীত হয় না। 

অনেকে এই পুস্তকখানিকে প্রহসনর্পে আঁভাহত করেন। আমার বিবেচনায় সোঁট একাল্ত 

ভ্রম। হাস্যবহূল নাটক মান্তই যাঁদ প্রহসন হইত, তাহা হইলে 7৮011616-এর 001767/গলিও 

প্রহসন। আম এই গ্রন্থে িলাতফের্তা সম্প্রদায়ের নিকৃষ্ট শ্রেণীর একাট ছাঁব 'দবার চেস্টা 

কাঁরয়াছ। তাহা আঁতরাঞ্জত নহে। সেই ছাবর 120:210আ1ণট আতরাঁঞ্জত বটে। কিন্তু 

মৃলকেন্দ্রয় ছবিটি ব্যান্তগত না হইলেও প্রকৃত বাঁলয়া আমি 'িশবাস করি। এ পুস্তকখাঁন 

স্বিদ্বজ্জনসমাজে সমধিক আদর পাইয়াছে। তাহার 'নামত্ত আদম উত্ত সমাজের নিকট কৃতজ্ঞ। 

লেখকের এই উীন্ত থেকে মনে হয় যে তাঁর মতে প্প্রায়শ্চত্ত প্রহসন নয়, কমোড । শুধু 
» তাই নয়, তান পাঁথবার শ্রেষ্ঠ কমোড রচাঁয়তা মোলিয়েরের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন। "কিন্তু 


পর্শচশ 


মোলিয়েরের প্রহসনগ্াীলকে 'হাস্যবহুল নাটক" বললে তাঁর প্রাতভার প্রাত আবচারই করা হবে। 
তাঁর 'জীবনবোধের সার্বভৌম গভীরতা, রচনাগুলিকে তথাকাঁথত লঘুরসের প্রহসনেই পাঁরণত 
করোনি, উচ্চাঙ্গের কমোডতে পারণত করেছে । সোলিয়েরের কমেডি সম্পর্কে যথার্থই বলা 
হয়েছে : 


[015 0010)019212015610 585 10 2009100009৩ 01090 1910109] 66005 71010) 911 
0০ £100100111755 ভ/10) 10119110. 300 008 001)600 15 2. 41600010 1005117655$, 
1791021 5520 091) 02260, 0608056, 10 210 25 11) 1166, 19051006105 50 
[70০11199515 21510 00 06215. ১ .07176 20000100050 50126 200 20 006 01515152] 
2150. 66102] 01010 1১101) 1195 2 006 1001 01 1)017791) 00150000715 1৮০11- 
616 201716560. [76 0095 17016 0091) 169500 11665; 18 100610160 15 1019061) 
51171091005. ]0 15 0050 10802055 16 2%090050 0015 1216 556102 11010 1715 
01) 5080] 2170 01017 1015 6510005 ০৫ 002 0110 90900 17107) 0080 1015 2162 
0017060165 216 110100191- 

[11091127815 007292225 (13511702175 হীরা [0160 1১ 7. 00 0150 

৬০1. 1, 10000000102, 7092855 2011-50171] 


বলা বাহুল্য, 'দ্বজেন্দ্রলালের প্রায়শ্চন্ত' সম্পর্কে এ বিচার প্রযোজ্য নয়। মোলয়েরের 
আদর্শে উদ্বুদ্ধ হলেও, আসলে এটি উচ্চতর কমোঁড নয়, প্রহসনই। অবশ্য হাসর গানগাঁলর 
আবেদন যথার্থই উপ্নাভোগ্য। দ্বজেন্দ্রলালের প্রহসনগুির মধ্যে প্রায়শ্চত্ত-ই সবচেয়ে নাট্যগণ- 
সমূদ্ধ। 


পাষাণশ ৫২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০০) : প্রহসন বাদ "দলে 'দ্বজেন্দ্রলালের সর্বপ্রথম নাটক 
“পাষাণী"। "তান নাটক রচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন : 
যে কারণে আম প্রহসন 'লাখতে প্রবৃত্ত হইয়াঁছলাম তাহার অনূর্প 'কারপে আম 
নাটক 'লাখতে প্রবৃত্ত হইয়াছলাম। বাগ্গালা ভাষায় নাট্যসাহত্যের স্বাভাঁবকতা ও আখ্যান- 
বস্তুগঠনে অসাধারণ নৈপৃণ্য দোঁখতাম, তাহাতে কাঁবত্বের অভাব বোধ হইত॥ আমার 
কাব্যশান্ত (যাহা িছ্‌ ছিল) আম আমার প্রকটিত কাঁরতে প্রবৃত্ত হইলাম। 
আমার নাট্য-জশবনের আরম্ভ : নাট্যমাচ্দির, শ্রাবণ, ১৩১৭) 
'পাষাণখ'-কে নাট্যকার 'গণশীত-নাঁটকা' আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু পাষাণশ'কে গণীতিনাট্য না বলে 
কাব্যনাট্য আখ্যা দিলে আঁধকতর সঙ্গত হত। নাটকখাণন উৎসর্গ করেছেন লোকেন্দ্রনাথ পাঁলত 
আই-ীস-এস-কে। পুরাণকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলাল যে তিনখানি নাটক লিখেছিলেন, সেগীলর মধ্যে 
একাট নূতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি গারশচন্দ্র-অনুসৃত ভান্তভাব ও 
আধ্যাত্িকতাকে অনুসরণ করেন নি। যান্তনিষ্ঞ বুদ্ধিবাদশী দৃ্টিভাঙ্গর সাহায্যে তিনি পুরাণ- 
কাহনণকে ব্যাখ্যা করোছলেন। তিনি পুরাণকে ব্যাখ্যা ও গবশেলষণ করে এর অলৌকিক আবরণ 
উন্মোচিত করেছেন। তাই তাঁর পরাণাশ্রয়ী নাটকগীলতে দেবদেবীর অলৌকিক .জীবনাচরণের 
কথা নেই, আছে নরনারণীর বাস্তবজবনের মানবায় ছন্-সংঘাতের কাঁহনণ। 1দ্বজেন্দ্রলালের 
হাতে উনাবংশ শতাব্দীর বুদ্ধিবাদশ ও সংস্কারমুত্ত “পুরাণের নব-রূপায়ণ, পদ্ধতিটি চরম রূপ 
লাভ করেছিল। ্‌ 
বলাবাহুল্য পুরাণকে বিকৃত করার অপরাধে নীতিবাগীশ মহলে দ্বিজেন্দ্রলালের "পাষাণ? 
ও “সীতা, নাটকের বিরুদ্ধে আভযোগ করা হয়। 'মন্দ্র কাব্যের ভূমিকায় তান বরুদ্ধবাদী 
সমালোচকদের প্রাত এ প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা প্রাণধানযোগ্য : ৬ 
কোন এক পাশ্কার সম্পাদক মংপ্রণশত “পাষাণশ” নাটকের সমালোচনায় কাঁহয়র্িছলেন যে, 
আম নাটকে রামায়ণের আখ্যান অন্‌সরণ কার নাই-_যেহেতু, অহল্যাকে স্বেচ্ছায় ব্যাভচাঁরণীরূপে 
গচা্রত কাঁরয়াছ, বি কে বরিরা উর লিনা ইযাছিরেন। 
তাঁহার বাজ্মশীকির রামায়ণখাঁন উল্টাইয়া দোখবার অবকাশ হয় নাই। তাহা বাদ হইত, তাহ 


ছাব্বশ 


হইলে 'তাঁন দোঁখতেন যে, .বাল্মীকর অহল্যা শুদ্ধ ইন্দ্রকে ইন্দ্র বাঁলয়া চানতে পাঁরয়াছলেন 
তাহা নহে; দেবরাজ [রূপ তাহা জানবার জন্য কৌতৃহলপরবশ হইয়া (“দেবরাজকুতুহলাৎ) 
কামরতা হইয়াছিলেন।...আ'ম শুদ্ধ আধ্নক দায়ত্বশূন্য সমালোচনার উদাহরণস্বরূপ উন্ত 
বষহোর উল্লেখ কারলাম। 
নাট্যকার তাঁর স্বপক্ষে যাঁন্ত দলেও তান যে রামায়ণ-কাহনী সম্পূর্ণ অনুসরণ করেন নি, 
এ কথা অস্বীকার করা যায় না। নার্টকে গৌতম বিশ্বামন্রের সঙ্গে যখন প্রবাস-যান্রা করেছেন -সেই 
সময় অহল্যা ইন্দ্রের সঙ্গে ব্যাভচারে ?ীলপ্ত হয়েছেন। নাটকে 'বশ্বামন্ত্র চারন্রটি অনাবশ্যক প্রাধান্য 
লাভ করেছে। নাটকের শেষাংশে নাট্যকার ানজস্ব কম্পনার উপরেই বোশ নির্ভর করেছেন। 
গৌতমের আভসম্পাত ববরণাঁট নাট্যকার মোটেই গ্রহণ করেনাঁন। রামায়ণে বার্ণত আছে, যে, 
গৌতম ইন্দ্র ও অহল্যার বৃত্তান্ত অবগত হয়ে তাঁদের দূজনকেই আভিসম্পাত দিলেন। খাঁষশাপে 
ইন্দ্র শবফল, হলেন এবং অহল্যা পনরাহারা” ও 'ভস্মশায়নণ' হলেন রোমায়ণ। বালকাণ্ড, 
অণ্টত্বারংশ সর্গ : ২৭-৩০ সংখ্যক শ্লোক)। পরে রামলক্ষমণ মাথলাগমনকালে যখন 
গৌতমাশ্রমে উপাঁস্থত হলেন, তখন অহল্যার মান্ত ঘটল। রামলক্ষমণ অহল্যার পাদবন্দন। 
করলেন, অহল্যাও “সমাহতচিন্তে তাঁদের সংবর্ধনা করে পাদ্য অর্থ দিয়ে আতথ্য করলেন। 
গৌতম অহল্যার সঙ্গে পুনার্মীলত হলেন। 

দ্বিজেন্দ্রলাল কাহনীটিকে যতদর সম্ভব বাস্তবধমর্ঁ ও মনস্তত্বসম্মত করার চেস্টা করেছেন। 
আভশাপ বৃত্তান্তাটি তান পুরাণানুযায়ী বর্ণনা করেন ি-_সম্ভবত; তাঁর কাছে এই ব্যাপারটি 
অবাস্তব ও অস্বাভাঁবক মনে হয়েছে। নাটকে গৌতমের আশ্রম প্রত্যাগমনের সংবাদ পেয়েই ইন্দ্র 
ও অহল্যা স্থানান্তরে যাত্রা করেছে। কৈলাস পরবতৈর নন [শখরে ইন্দ্র ও অহল্যার সুখ- 
সম্তোগ, ইন্দ্রের আসীন্ততে ভাটা পড়া, অহল্যাকে পারত্যাগকালে অহল্যার ইন্দ্রকে ছুরকাঘাত, 
আহত ইন্দ্রকে গৌতম ও চিরঞ্তশবের শহশ্রষা, পাঁত-পত্রীবরাহত আশ্রমে মনোবিকারগ্রস্ত। 
অহল্যার প্রত্যাবর্তন প্রভীত কাহনী রামায়ণ অনুমোদত নয়। 

'পাষাণী" নাটক রচনা করতে 'গয়ে দ্বজেন্দ্রলাল রামায়ণ-কাহনীর যে পারবর্তন করে- 
ছিলেন, তাতে তাঁর মনোজীবন ও বিশিষ্ট দৃম্টিভাঙ্গর পারচয় পাওয়া যায়। সামাজিক অপরাধ 
ও পাপ সম্পর্কে তান নৃতন ব্যাখ্যা দয়েছেন। অহল্যার ব্যাভচারকে তান অস্বীকার করেন নি, 
[কল্তু নৌতিক প্রাতাবধানের মধ্য দিয়ে শাস্ত-সংস্কারকেও তান প্রাধান্য দেনান। অহল্যার 
প্রায়শ্চস্ত-বধানকে ?তাঁন তাঁর মনোজীবনের ঘাত-প্রাতিঘাত ও অস্তদ্ব্-জজারত অর্ধোল্মাদনার 
ভিতর 'দয়ে প্রকাশ করেছেন । গৌতমের পাঁবন্র ভালবাসা ও ইন্দ্রের কামল্‌ব্ধতা-_এই দুয়ের মধ্যে 
কোনো দ্বন্ই দেখা দেয় নি। এমনীক, ইন্দ্রের নিষ্ঠুর প্রত্যাখ্যানের পরেও স্বামীর প্রেম তাঁর কাছে 
বড় হয়ে দেখা দেয় নি, তার চেয়ে অনেক বোঁশ তীর হয়ে উঠেছে প্রোমকের প্রত্যাখ্যানজানত 
নৈরাশ্যপশীড়ত হৃদয়ের প্রাতীক্রয়া। প্রত্যাখ্যাতা অহল্যার হৃদয়দ্বন্দেরর মধ্যে গৌতমের প্রীত 
আকর্ষণাঁটকে ফুটিয়ে তুলতে পারলে নাটকায় উদ্দেশ্য সার্থকতর হয়ে উঠতে পারত। 

গৌতম-অহল্যা-ইন্দ্রের কাহননীর মধ্যে নাট্যকারের রোমান্টিক দৃম্টিভাঙ্গই জয়য্ন্ত হয়েছে। 
নাট্যকার অহল্যার যৌবনবেদনার ছাবাটকে সহানুভূতির সঙ্গে একেছেন। তাঁর অতৃ্ত যৌবন- 
বেদনার একটি সঙ্গত কারণ দেখানো হয়েছে । বৃদ্ধ গৌতমের জ্ঞানীপপাসু আত্মমগ্ন "চিত্ত অহল্যার 
মনকে কোনাঁদন পাঁরতৃ্ত করতে পারোন। মাধুরীর কাছে তান যে মন্তব্য করেছেন তা 
প্রণধানযোগ্য : 

তান জ্ঞানী, তানি শাস্তবিশারদ, তান 
ধার্মক। মাধুরী! গকন্তু রমণণীহৃদয় 
তাঁর প্রার্থ নহে সাঁখ। থাক কাজ নাই 
গনম্ফল গবলাপে আর। বাঝাঁব না তুই। 
অথবা কি ফল অনূতাপে 2 [সুদীর্ঘ নিঃশবাস ] 
অহল্যার পদস্থলনকে নাট্যকার কোন আকস্মিক ব্যাপার করে তোলেন নি, অহল্যার অতৃপ্ত 


সাতাশ 


ঘোঁৰনবেদনা ও তাঁর ভোগাফাঙক্ষান্স একাটি মনস্তত্বসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু ?দবতায় অক 
দ্বিতীয় দৃশ্যে ইন্দ্রের প্রথম সাক্ষাৎকারেই অহল্যা বলেছেন : “আম তব দাসণ, তুমি মোর 
প্রাণেশ্বর ।” এখানে অহল্যার মনে কোনো ছ্বন্ব-সংঘাত মুহূর্তের জন্যও উাঁদত হয় নি। মদন ও 
রাতর আঁবভব ঘাঁটয়ে অহল্যার মনে" তাদের প্রভাবকে দেখালেও, এই অংশাঁট আকাঁস্মকতা 
থেকে মুস্ত হতে পারে নি। 
অহল্যাকে নাট্যকার প্রণয়মুগ্থা নারী হিসাবেই সাঁন্ট করেছেন। যুগযুগান্তরের সংস্কারকে 
আতক্রম করে তান নারী-পুরুষের িষামৃতময় স্বৌরণশ প্রেমকেই চূড়ান্ত করে তুলেছেন। 
নাট্যকারের সংস্কারমনন্ত 'নিভর্ঁক দৃম্টিভাঁঙ্গই এখানে প্রাধান্য লাভ করেছে। তান অহল্যকে 
“দেবী” বা 'তপাস্বনী” করতে চান ন-াতান নারী, এইাটই তাঁর শ্রেম্ত পারিচয়। ইন্দ্রের কাছে 
পরিচয়দানকালে অহল্যা বলেছেন : 
মিথ্যা কথা বাঁলয়াছি, আম শুদ্ধ নার+, 
কোন নাম নাহ মোর। 
'দ্বজেন্দ্রলালের এই নাটৈ তাঁর বাধাবন্ধনহশন রোমাণ্টক কাঁবস্বপ্নই জয়যূত্ত হয়েছে । বলাবাহূল্য 
পুরাণের প্রচালত নশীত-নদেশ অস্বীকার করার জন্য এ নাটকের অনেক বিবৃদ্ধ সমালোচনা 
হয়েছিল। এমনাক কাবর জাবতকালে কোনো সাধারণ রঙ্গমণ্ে নাটকাঁট আঁভনীত হয় নন : 
একবার আ্টার 'থয়েটারে নাটকাখাঁনি আভিনয় করাইবার প্রস্তাব হয়। উত্ত থয়েটারে 
তৎকালীন অধ্যক্ষ নাট্যাচার্য শ্রীযুন্ত অমৃতলাল বসু মহাশয় বলেন যে, এ নাটকেব পান্রপান্রীদের 
নাম পাঁববর্তন করিয়া কাল্পানক নাম দিলে তান এ নাঁটকা আঁভনয় কাঁরতে পারেন- নতুবা 
নহে ।.. দ্বজেন্দ্রলাল অমৃতবাবুব কথামত নাটিকাব পান্রপান্রীদের নাম বদলাইয়া দিতে সম্মত 
হয়েন নাই। কাবির জীবিতকালে এ নাটকাখান কোন সাধারণ রগ্গমণ্টে আভনশত হয় নাই। 
কেবল একবার রাণাঘাটের পালচৌধুরী মহাশয়দের উদ্যোগে স্থানীয় [72 010 কর্তৃক 
উহা আঁভনত হয়। রাণাঘাটে আঁভনয়স্থল্লে দ্বিজেন্দ্র উপাঁস্থত ঘছলেন। 
(ছ্বিজেন্দ্ূলাল : নবকৃষ্ণ ঘোষ, প্‌ ১০০) 
'পাষাণী'র কোন কোন অংশে উচ্চাঙ্গের কাবত্ব-শান্তর পারচয় থাকলেও, নাটক হিসাবে এর 
। দ্ুরবলিতা অস্বীকার করা যায় না। গভীর 'িশশথে সদ্যোজাগ্রত পত্র শতানন্দকে কামমোহতা 
জননীর নিষ্ঠুর হত্যা -প্রচেষটা, আত্মগ্রানিতে বক্ষে ছারকাঘাতের সংকল্প, ইন্দ্রকে ছাঁরকাঘাতের 
৷ রোমাণরুর ঘটনা- প্রভাতি উত্তেজষ্* দশ্যগ্ল নিত বাঁহরাশ্রয়ী ও আকস্মিক। 'ক্তু চিরঞ্জীব- 
| মধুরীর উকিল যূক্ত হয়ে নাটকখানির মর্যাদা বাঁদ্ধ করেছে। দস্যু চিরঞ্জীব মহার্ষ 
গোতমের প্রভাবে দস্যবৃত্তি ত্যাগ করে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে, শমাঁথলার বারাঙ্গনা মাধূরীও 
(গোতমের সান্নিধ্যে এসে পাঁরবার্ততা হয়েছে। নিচ্কাম প্রেমসাধনা, পাঁতিব্ত্য ও সেবারুতই 
মাধুরীর কাছে সবচেয়ে বড় সত্য। িরঞ্জীব চাঁরন্নের আপাত-রাঁসকতার অন্তরালে একাঁট গভীর 
দিক আছে। “এই নাটকে পৌরাঁণক ভাবাদর্শ নেই সত্য, কিন্তু নাট্যকারের সামাঁজক আদর্শ 
পাঁরস্ফুট হয়েছে। পরপুর্ষাসন্তা ব্যাভচারণী নারশও ক্ষমার অযোগ্যা নয়, এমন কি 
বারাঙ্গনাকেও সমাজ সহানুভূতির সঙ্গে গ্রহণ করলে তার মধো আদর্শ পত্বীর সন্ধান পনওয়া যায়। 
এই জাতীয় সামাজিক ভাবাদর্শ "পাষাণ, নাটকের মূল বস্তব্য। সৃতরাং রামায়ণ-কাহনধীর 


তারাবাই €২২ সেশ্টেম্বর, ১৯০৩) : দ্বিজেন্দ্রলালের সর্বপ্রথম ইতিহাসাশ্রত নাটক 
'তারাবাই'। এই নাটকথানি 'তাঁন “মাননীয় শ্রীযুক্ত রাজেন্দ্রন্দ্র শাস্ত্র মহোদয়ের করকমলে" 
উৎসর্গ করেন। নাট্যকার ভূমিকায় লিখেছেন : 


এই নাটকের উপাদান টড: প্রণশত রাজস্থান হইতে গৃহীত হইল। পৃথবীরাজ ও তারার 
কাহনশ এখনও রাজস্থানে চারণকাঁব দ্বারা রাজপুতদিগের মনোরঞ্জনার্থে গণত হইয়া থাকে। 
“10600 0067 25561201516 20 00666950260 ৪. 025 52010 0৫10 2 50100 ৩৩101128 








আটাশ 


গা91550 07৩ 01196 10 006 051206 00 101216 095 182 01: 2 ৪. 00] ০01 
7050110712) 06 0215 0£ 19110)৬1 £501060 1১] 0)৩ 12105 10 006 10181650062 
005 021) 61010." 
রিসিভ রউি রা 
হয় নাই। - 
আঁম যাঁদও নাটকের মূল বৃত্তান্ত “রাজস্থান” হইতে লইয়াছ, তথাপি অপ্রধান ঘটনা সম্বচ্ধে 
স্থানে স্থানে ইতিহাসের সাহত এই নাটকের অনৈক্য লাক্ষত হইবে। এ'অনৈক্য আঁম মারাত্মক 
গববেচনা কার না। কারণ নাটক ইতিহাস নহে । কোন কোন সমালোচক এইরূপ অনৈক্য লইয়া 
অনেক কাল ও কাগজ খরচ করেন দেখিয়া এ কথা'ট বলা দরকার হইল। 
গ্রন্থখানি ছাপাইতে ছাপাইতে দেখিলাম যে, লিখিত নাটকের কলেবর উচিত সীমা আঁতক্রম 
কাঁরয়াছে। তজ্জন্য মাদ্ুত পস্তক হইতে সঙ্গ সংক্রান্ত দুইটি দৃশ্য বাদ দিতে বাধ্য হইলাম 
এর্‌্প করায় বর্তমান নাটকের 'তিতীয় অঞ্কের ছ্বিতীয় দৃশ্যাট অবান্তর হইয়া পাঁড়য়াছে। 
পাঠকবর্গের নিকট অনুরোধ যে, তাঁহারা যেন উত্ত দৃশ্যটি (এবং চতুর্থ দৃশ্যে 'তা বটেই ত') 
গণতটি পুস্তক হইতে বাদ দেন। 
নাট্যরচনার কতকগুীল 'বাঁশম্ট শিজ্পরীতি আছে। ইতিহাসকে নাটকে পাঁরণত করতে হলে 
তাই কোনো কোনো স্থলে কিছু কল্পনার সাহায্যও নিতে হয়। 'কম্তু নাট্যকারের এই উদ্ভাবনী 
শান্ত যাঁদ মান্রাতরিন্তরূপে সুলভ রোমান্স ও চমৎকারত্ব সৃম্টির জন্য ব্যবহৃত হয়, তা হলে 
তা ক্ষমতার অপব্যয় ছাড়া আর কিছুই নয়। 'তারাবাই” নাটকের আখ্যায়কাবন্যাস 'শাথল। 
টড বার্ণত সংক্ষিপ্ত ঘটনাকে (47715 ০1 2122৮” (0/412 1111) : 44772152774 
417/27%2/225 ০1 132145/%4% (7৮০4 1) পণ্চমাঞ্ক নাটকে রূপ দিতে গিয়ে বহু অপ্রয়োজনীয় 
ঘটনা ও অবান্তর চাঁরত্রের সংযোজন করতে হয়েছে। তার ফলে পৃথবীরাজ ও তারাবাইয়ের 
কাহনশী 'কিন্িৎ আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে । পৃথবীরাজ ও তারাবাইয়ের রোমাণ্টক কাঁহনীই এই 
নাটক রচনায় নাট্যকারকে প্রেরণা দিয়েছিল। কিন্তু নাটকে পৃথহীরাজ কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠতে 
পারেন নি--বিশেষ একটি চরিত্রের একাঁধনায়কত্বের অভাবে নাটকটি কেন্দ্রশন্য ও 'বাক্ষপ্ত- 
কলেবর। শুধু “সঙ্গ-সংক্রান্ত দুইটি দৃশ্য”-ই নয়, একাধক সং্গাঁতিহশন দৃশ্য সংযোজত হয়ে 
শুধু নাটকের কলেবরবাঁদ্ধই করেছে। '» 
পৃথবীরাজের চারঘ্রের উপর লক্ষ্য রেখেই নাটক লেখা হয়েছে, কিন্তু এই চারন্র কোথায়ও 
স্পম্টভাবে ফুটে উঠতে পারে নি। পৃথবীরাজের কতকগাল রোমাণ্কর কার্যকলাপ ও 
দৃঃসাহাঁসক আভযানের বর্ণনা আছে, কিন্তু এর মধ্য দয়ে কোনো চারন্র বিকশিত হয়নি। 
পৃথবীরাজের চেয়ে তারাবাইয়ের চরিত্র ভালো ফুটেছে। তার চরিত্রে রাজপৃতরমণীসূলভ যে 
শৌর্য ও দ্‌ঢ়ুতার পাঁরচয় আছে, তা দ্বিজেন্দ্রলালের এীতহাঁসক নাটকে বার্ণত অনুরূপ চারল্রের 
কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পুরুষবেশে তারাবাইয়ের শকারযাত্রা তার ব্যান্তত্বভাস্বর চারন্রাটকেই 
বৌশষ্ট্যমশ্ডিত করেছে । তারার প্রেমের মধ্যেও সেই বাঁলচ্তাই আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা 
চরিত্রের পাঁরকল্পনা সম্পূর্ণ ইতিহাসান্মোঁদত। তারাবাইয়ের কোনো কোনো উীন্ততে 
রবীন্দ্রনাথের চিন্রাঙ্গদার ডীন্তর ছায়াপাত ঘটেছে : 
আম নাহ 'বদ্যং ি জ্যোচনা ক স্গশত 
আম মান্র তারা ।-_দোষ আছে গণ আছে। 
তারার প্রতি পৃথবীরাজের অমলেক সন্দেহ, ভাগনীপতি প্রভুরাওকে অপমান করা, প্রভু- 
রাওয়ের ষড়যন্ত্রের সাফল্য, পৃথবীরাজের মৃত্যু ও তারাবাইয়ের আত্মহত্যা প্রভাতি কাহনী 
কোনো নাটকীয় গাঁতধর্মের আনবার্য পাঁরণাত নয়। কাঁহনশীটর মধ্যে নিয়াতর নিষ্ঠুর 
সংকেতই প্রাধান্য লাভ করেছে । 
“তরাবাই' নাটকের মধ্যে সূর্যমল ও তাঁর পত্নী তমসার চাঁরন্রাট সবচেয়ে দরণ্ট আকর্ষণ 
করে। সূযমল চরিত্রটির মধ্যে রাজ্যলিপ্সার সঙ্গে বাংল্য ও ভ্রাতৃপ্রেমের এক তাঁর দ্বন্দ 
পরিস্ফুট হয়েছে। কারণ সূর্যমল যাঁদও ভ্রাতুষ্পতত্রদের প্রাত স্নেহপরায়ণ, তবু মেবারের রাণা 


উনান্রশ 


হওয়ার উচ্চাকাৎক্ষা তাঁকে ভ্রাতুস্পুত্রদের 'বরুল্দ শত্রধারণ করতে বিচালত করোন। তাঁর 
চারত্রে সদগুণের অভাব ছিল না। তবু তাঁর মনের গহনে ছিল এক সপ্ত উচ্চাকাত্ক্ষা। পত্রী 
তমসার প্ররোচনা সূর্যমলের উচ্চাকা্ন:-ক্* তীব্রতর করেছে। সূর্ধমল-তমসা-কাহনশী 
শেকাপীয়রের ম্যাকবেথ নাটকের অনুকরণে ২পারকা'পত হয়েছে। কিন্তু নিতান্ত বাঁহরাশ্রয়ী 
অনুকরণ ছাড়া নাট্যকার কোনো বিষয়েই শেক্সপীয়রের সমকক্ষতা দাঁব করতে পারেন না। 
ম্যাকবেথ বা লেডা ম্যাকবেথ, কোনো চারত্রেরই সমূক্নীত বা এশ্বর্য রক্ষা করা দ্বিজেন্দ্লালের 
পক্ষে সম্ভব হয় নি। সূর্যমল দুূর্বলচিত্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত, তমসার পাঁরকর্তন আকাস্মিক ও আঁত- 
নাটকীয় । তার ব্যাভচার-কাঁহনশ পাঁরকল্পনায় নাটকের ফোনো গৌরববৃদ্ধি ইয়ান, বরং সুলভ 
চমক সৃন্ট করেছে। শৃরতানের আলস্যাপ্রয় চরিত্র ও সপ্ার্ষদ প্রভূরাওয়ের নিম্নশ্রেণীর বিলাস 
ও কৌতুকের চিত্র নিতান্ত 'বশেষত্বহীন। যমুনা রন্তমাংসের মানবী নয়। 

“তারাবাই" 'দিবজেন্দ্রলালের প্রথম এতিহাঁসক নাটক হলেও, পরবতর্ঁ কালের এীতহাসক 
নাটকগ্লির সঙ্গে এর কোনো তুলনা হয় না। পরবতাঁঁ কালের এীতিহাঁসক নাটকগীলতে যে 
ভাবগাম্ভীর্য আদর্শবাদ ও দেশপ্রেমের জলন্ত মাহমার ছাব পাওয়া যায়, 'তারাবাই” নাটকে 
তা অনূর্পাস্থত। কিস্তু 'তারাবাই” নাট্যকারের অপাঁরণত রচনা হলেও, এই নাটকেই তান সর্ব- 
প্রথম রাজপুতনার গৌরবদণপ্ত ইাতিহাসের মধ্যে প্রবেশ করেছেন। এই নাটকেই তাঁর টড্‌ 
রাঁসকতার দীক্ষা ঘটেছে। 
পারেন নি। তান লিখেছেন : 


প্রথমে 910806506816-এর অনুকরণে 7319৮ 15-এ নাটক ধলাঁখতে আরম্ভ কারি। 
'তারাবাই' প্রকাঁশত হইবার পরে স্বগণণয় কব নবখনচন্দ্রু সেনকে তাঁহার অনুরোধে এক কাঁপ 
পাঠাই। তান পাঁড়য়া, এই মত প্রকাশ করেন যে এ নৃতন ধরণের অমিত্রাক্ষর-_মাইকেলের 
ছন্দোমাধূরী ইহাতে নাই,এ আমল্রাক্ষর চাঁলবে না। সেই সঙ্গে স্বগর্থয় মাইকেল মধ্স্‌দনের 

দৈববাণী মনে হইল-_যে অমিত্রাক্ষরে নাটক এখন চাঁলতে পারে না। 
(আমার নাট্যজশবনের আরম্ভ : নাট্য-মন্দির, শ্রাবণ, ১৩১৭) 


রাণা প্রতাপাঁসংহ ৮৮ মে, ১৯০৫) : নাট্যকার "দ্বজেন্দ্লালের খ্যাঁতি ও জনাঁপ্রয়তা প্রধানত 
তাঁর এতহাসিক নাটকগালর উপরেই 'নর্ভরশশল। অবশ্য 'তারাবাই' নাট্যকাব্যাটর মধ্যেই 
সর্বপ্রথম তাঁর এীতিহাঁসক নাটকরচনার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু তখনো 'তাঁন তাঁর নিজস্ব 
শৈলী আঁবচ্কার করতে পারেন নি। তবু টডের কাঁহনগ তাঁকে এমন এক জগতের সন্ধান 
দিষেছিল, যা তাঁর মনোজাীবনের পক্ষে সম্পূর্ণ অনুকূল হয়োছল। পরবতর্ঁ ীতহাসিক 
বাটকগনীলতে 1তাঁন কাব্যসংলাপ সম্পূর্ণ বজনন করে কাব্যধমী গদ্যসংলাপ ব্যবহার করেছেন। 

দ্বজেন্দ্লালের জনাঁপ্রয় ধ্ীতহাঁসক নাটকগৃলির মূলে যুগজীবনের প্রভাবও অনেকখান 
কাযকরশ হযোছল। স্বদেশী আন্দোলনের উন্মাদনায় বাঙালণ চিত্তের যে আঁভনব জাগরণ 
হয়েছিল, দ্বিজেন্দ্রলাল তাকে তাঁর এীতিহাঁসক নাটকের মধ্যে রূপ দেওয়ার চেম্টা করেছেন। 
অতীতকে তাঁন যুগজশবনের সমস্যার সঙ্গে সমন্বিত করে নৃতন ধরনের প্রীতহঁসক নাটক 
পাঁরবেশন করেছেন। দ্বিজেন্দ্রলাল ইতিহাসকে জশবন্ত করে তুলতে পারতেন। প্রাতহাঁসক 
উপাদান 'নয়ে যখন নাট্যকার, নাটক রচনা করেন, তখন ইতিহাসকে শূধূ তথ্যপঞ্জশ হিসাবে 
গ্রহণ না করে, তাকে মানব-জশবনরহস্যে মশ্ডিত করে তোলেন। দ্বিজেন্দ্রলাল অতণত ইতিহাসের 
চীরব্রগ্ালর মধ্যে তীব্র অল্তর্বন্দব সাম্ট করেছেন। উনাবংশ শতাব্দীর শেষাধ্‌ থেকেই 
ধ্রতহাঁসক নাটক রাঁচিত হয়েছে, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে যে সমস্ত এ্রাত্হাঁসক 
নাটক রচিত হয়োছিল, তাদের ভাবাদর্শ ছিল স্বতন্ত। এই যুগের ধ্রাতহাঁসক নাটকর্গ-লিতে 
জাতীয় আকাক্ক্ষার স্বরূপ স্পম্টতর রূপ লাভ করোছল। ' 

স্িজেন্দ্লালের ধ্রীতহাঁসক নাটক সম্পর্কে আর একটি প্রসঙ্গও স্মরণীয়। বাংলা নাটকে 


[তশ 


দীর্ঘকাল শেক্সপীয়রের নাট্যরীতকে অনুসরণ করার চেস্টা চলেছে। মধূক্সদন, দীনবন্ধু, 
জ্োতরিন্দ্রনাথ প্রমুখ পৃববিতর্ঁ নাট্যকারেরাও পাশ্চাত্ত নাট্যরীতি অনুশীলন করেছেন। 
'গাঁরশচন্দ্রও শেক্সপীয়রের দ্বারা প্রভাবত হয়োছলেন। কন্তু 1দ্বজেন্দ্রলালের নাটকেই পাশ্চাত্য 
রীতি সবচেয়ে বোঁশ সাক্রিয় হয়েছে । নাটকীয় গাঁতবেগ, চীরন্রসাঁষ্ট, অন্তদ্বন্বি রূপায়ণ, প্রাঁজক 
রস-সান্ট প্রভাত বিষয়ে 'তিনি পাশ্চাত্তয নাটকের দ্বারা গভনরতাবে প্রভাঁবত হয়েছেন। শেষ- 
জীবনের এতকাল নাটকগুলিতে তান শেক্সপীয়রের আধকতর সমীপবতী? হয়োছলেন। 
প্রতাপাঁসংহ' নাটক থেকেই এই যুগের সূত্রপাত ঘটেছে। 

প্রতাপাসংহ' উৎসর্গ করেছেন নাাকার দীনবন্ধ; িন্রকে। নাট্যকার উৎসর্গপত্রে লিখেছেন : 
“বঙ্গভূমির উজ্জবল রক্ত, বঙ্গনাটা-সাহত্যের গুরু, রাঁসক, উদার ও ভাবুক চিরস্মরণীয় জ্ব্শয় 
দীনবন্ধ: মির রায় বাহাদুরের স্মাতিস্তপ্তোপার এই প্রশীতিমাল্য সভীন্ত সম্মানে আত হইল।” 
প্রতাপাঁসংহ' নটকের আখ্যায়কাও দ্বিজেন্দ্রলাল টড থেকে নিয়েছেন। নাটকের মূল কাঠামোটিতে 
এীতহাসিক বিশুদ্ধির অভাব নেই। রাজ্যন্রস্ট রাণা প্রতাপের চিতোর উদ্ধারের কঠোর সংকল্প 
থেকে তাঁর মত্তু পর্যন্ত প্রায় পণচশ বছরের কাঁহনী এই নাটকে বার্ঁত হবেছে। 'প্রতাপাঁসংহ' 
নাটক প্রসঙ্গে জ্যোতারন্দ্রনাথের 'অশ্রুমতী' (১৮৭৯) নাটকের কথা মনে পড়া অস্বাভাঁবক নয়। 
দ্িবজেন্দ্জশীবনীকার নবকৃষ্ণ ঘোষ ালখেছেন : 

এই প্রতাপচরি লইয়াই বঙ্গবাণশর অক্লান্ত সেবক সাহতারথশ স্বীয় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর 

«“অশ্রুমত+” নাটক বচনা কবেন। নটকৃলেশবর 'অধেন্দিশেখব মু্তফীব ভাষায় আমরা বাঁলতে 

পারি, অশ্রমতী নাটকে জ্যোতীবন্দ্রবাবু প্রতাপ চাঁরত্র “জবালাইযা” দিয়া গযাছেন, তাহার পরে 

অপর কাহারও সেই চাঁরন্র লইযা নাটক 'লাখয়া খ্যাত অর্জন করা সহজসাধ্য নহে। কিন্তু 

'দিবজেন্দ্রলালের নাট্যপ্রাতিভা সেই পাঁরচিত চারন্রকেও নৃতন কাঁরয়া আঁকয়াছে। (দ্বিজেন্দ্রলাল, 

পু ১৪০) 
গিন্তু জ্যোতীরন্দ্রনাথের নাটকখাঁনর সঙ্জো 1দ্বজেন্দ্রলালের নাটকের কোনো তুলনাই হয় না। 
প্রথমত, প্রতাপাঁসংহ' নাটকের পটভাীমকা বিস্তিততর; দ্বিতীয়ত, জ্যোতরিন্দ্রনাথের নাটকে 
ইতিহাসের চেয়ে কম্পনার স্থান অনেক বোঁশ; কিল্তু দ্বিজেন্দ্রলাল বিশ্বস্তভাবে ইতিহাসের 
আনবে নাভী পাটি রাতে জানলা 
সমৃদ্ধতর। তবে একথাও সত্য যে, প্রতাপাসংহ চরিত্র তেমন পাঁরস্ফ;১ হতে পারোন। দেশপ্রেম ও 
আদর্শবাদের আঁতিশয্য চারন্রটির মানবসত্ত্ীকে আচ্ছন্ন করেছে। এতিহাঁসক প্রতাপাসংহের 
অন্তরালে মানুষ প্রতাপাঁসংহের ব্যান্তচারন্র নাটকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠোন। 

শন্তাসংহের চরিত্র অঙ্কনে নাট্যকার সর্বপ্রথম জঁটল চারব্রসাঁন্টর 'দকে প্রবণতা দেখিয়েছেন 
শল্তাসংহ এতিহাঁসক চারন্র হলেও নাট্যকার নিজস্ব দাঁম্টর সাহায্যে চাঁরন্রাটর রূপান্তর 
ঘঁটিয়েছেন। তিনি যাান্তবাদী, এমনাক যাল্তর দ্বারা তিনি দেশের প্রাতি আনুগত্য ও কর্তব্যকেও 
অস্বীকার করতে চান : “জল্মভূমি? আম তার কে? সে আমার কে? আম এখানে 
জন্মেছি বলেই তার প্রাতি আমার কর্তব্য নাই। আম এখানে না জন্মে সমূদ্র-বক্ষে বা বযেমপথে 
জন্মাতে পার্তাম! (১1১) শন্তাসংহ উন্নতহৃদয় বীর, নিভীঁক, স্পন্টবাদী ও উদ্ধত; তান 
বিদ্বান ও দার্শীনক। তাঁর দর্শন নাস্তিকতার দর্শন । প্রচালত সমাজ ও ধর্মের শাসনকে 1তাঁন 
অস্বীকার করেছেন, এমনাঁক প্রেমের মত সুকোমল হৃদয়বাত্তকেও তানি যাান্তবাদশী মনের দ্বারা 
বিশ্লেষণ করতে ছাড়েন নি- নারী সম্পর্কে তাঁর ধারণাও সংশয়বাদী দাশশনকের ধারণা : “এই 
ত নারী। নেহাৎ অসার! নেহাৎ কদাচার! আমরা লালসায় মান্ত তাকে সুন্দর দৌখ। শুদ্ধ নারী 
,কেন, মনূষ্যই কি জঘন্য জানোয়ার” (৪1১)। দৌলতউন্নিসার প্রেম ও প্রতাপাঁসংহের দেশপ্রেমের 
আদর্শ শ্ুস্তীসংহের জীবনে নৃতন পথের নিদেশ 'দিয়েছিল। তাঁর জশবন ও মৃত্যু দুয়ের মধ্যেই 
বৈচিন্র্য আছে। প্রবল ঘৃর্ণিবায়ূর মত তাঁর জীবনানৃযায়শ আকাঁস্মক মত্যুদশ্যও পারিকাষ্পত 
হয়েছে। এই এীতহাসিক চরন্রটকে নিয়ে নাট্যকার তাঁর কতকগাঁল বিশিষ্ট চিল্তাকেই রূপ 


একান্রশ 


শন্তাসংহের চাঁরন্র ছাড়াও আরো একাঁধক চাঁরন্রে নাট্যকার সমাজ, ধর্ম প্রেম, মনষ্যত্ব প্রভীতি 
সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ধারণার পাঁরিচয় 'দিয়েছেন। ইরা, মেহেরডীন্নসা ও দৌলতউীন্নসা- এই 
[তনাট কাম্পাঁনক নারা-চারন্র দ্বজেল্দ্রলালের মতবাদের বাহন। ইরা রক্তমাংসের নারী-চরব্ন 
নয়, নাট্যকারের এক বাঁশম্ট ভাবাদশের প্রতীক । ইহার কাছে দেশপ্রেমের চেয়েও মনুষ্যত্ব, 
পরোপকারবৃত্তি ও বিশ্বপ্রেম অনেক বড়। তাই তার কণ্ঠে ধবানত হয়েছে : “না বাবা, এ পাঁথবীই 
একাঁদন স্বর্গ হবে। যোদন এ বিশ্বময় কেবল পরোপকার, প্রশীতি, ভান্ত [বিরাজ কর্বে, যোদন 
অসাম প্রেমের জ্যোতি নিাখিলময় ছাঁড়য়ে পড়বে, যোঁদন স্বার্থত্যাগেই স্বার্থলাভ হবে সেই 
স্বর্গ ।” ইরা চরিন্রাট পরবতর্শ নাটক 'মেবার-পতন'-এর মানসী চারন্রের পূর্বাভাস । দৌলতডীশ্নসা 
চরিন্নের মধ্যে প্রেমের বিশববিজাঁয়নী মাহমা উদ্ভাঁসত হয়েছে । মেহেরউান্নসাকে প্রথম দৃম্টিতে 
চণ্চলা ও প্রগল্‌ভা মনে হতে পারে, 1কল্তু তার চারন্রের মধ্য দয়েও নাট্যকার তাঁর জের কথাই 
বলেছেন । শস্তাসংহ ও দৌলতডীল্নসার 'ববাহ ব্যাপারকে সে তার সংকীর্ণীচন্ত পিতাকে যান্ত 
দিয়ে বোঝাতে চেস্টা কূরেছে। ধর্ম ও সমাজের চেয়ে যে মানুষ বড়, এই হল তার বন্তব্য : “ধর্ম 
এক! ঈশবর এক! নীতি এক! মানুষ স্বার্থপরতায়, অহংকারে, লালসায়, বিদ্বেষে তাকে বিকৃত 
করেছে।. 'মানৃষ এক; পাঁথবীর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় 'ভন্ব ভন্ন মানুষ জল্মেছে বলে তারা ভিন্ন 
ভন্ব নয়।” মানাঁসংহ চরিত্র সাষ্টতে নাট্যকার ইীতহাসকে সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করলেও তার 
মূখ দিয়ে নাট্যকার 'হন্দু-সমাজের অনুদারতা ও সংকীর্ণতার কথা বলেছেন। 

যোশশ চারন্ের মধ্যে রাজপুত রমণীর আভিজাত্যবোধ, তেজাস্বতা ও চাঁরান্রক দূঢ়তা 
বলিষ্ঠ রেখায় আঙ্কিত হয়েছে । পৃথবীরাজের বিলাসাঁপ্রয় কাঁবাঁচত্তকে যোশধই তার সংকল্প- 
কঠোর চরিত্রের দ্বারা উদ্বোধিত করেছে । যোশী নামাটিই শুধু কাজ্পনিক, 'কন্তু তার চরিব্ররূপ 
ও বেদনাময় পাঁরণাত সম্পূর্ণরূপেই উড থেকে গৃহীত। শক্তীসংহের 'ববাহ ব্যাপারাটকে 
আকবরের মত প্রতাপাঁসংহও সুনজরে দেখতে পারেন 'ি। প্রতাপাঁসংহের মত দেশপ্রোমিকও যে 
বংশমর্যাদার সংকীর্ণতার উধের্ব উঠতে পারেন নি, নাট্যকার তা স্পম্ট করে তুলেছেন। আকবর 
গুণগ্রাহী, রাজনোৌতক অন্তর্দৃস্টিসম্পন্ন ও হীন্দ্রয়পরায়ণ। "দ্বিজেন্দ্রলাল নাটকের ভূমিকায় আকবর 
চারত্র সম্পর্কে কৈফিয়ৎ দিয়েছেন : “অনেকে ভাববেন যে এ গ্রন্থে আম সম্রাট আকবরের চারত্র 
মূল হইতে অন্যায়রূপে বিকৃত করিয়াছ। তাহা কার নাই, আকবরের চারত্ আম এঁর্‌পই 
বাঝয়াছ। স্বগীয় বাঁঞ্কমবাবুও এর্পই বৃঝিয়াছলেন।” টউডের কাঁহনশতেও আকবরের 
হীন্দ্রয়লালসার কাহিনী আছে_ যোশশীর বেদনাময় পাঁরণাঁতর জন্য আকবরের হীন্দ্রয়লালসাই 
দায়ী। দিবজেন্দ্লালের আকবর প্রবীণ রাজনশীতিজ্ঞ, €িন্তু “রপুর অধীন হইলে 'তাঁন জঘন্য 
কার্য কারতে পারিতেন।” : 

প্রতাপাঁসংহ” নাটকে কয়েকাঁট গুরুতর অসঙ্গাত আছে। মেহেরভীল্বসা ও দৌলতউীন্নসা 
চরিতদ্বয়ে এই অসঙ্গাত সবচেয়ে উৎকটর্‌পে আত্মপ্রকাশ করেছে। হল্দিঘাটের যুদ্ধের সংকটময় 
মনহর্তে মোগল বাদশাহের অন্তঃপৃতরিকার পক্ষে শম্তাসংহের শাবরে প্রবেশ করে আববাহিত 
প্রো পুরুষের কাছে অবাধে প্রেম নিবেদন করা যেমন অবাস্তব, তেমান অসঙ্গত। কার্যকারণ 
সম্পকশিন্য সুলভ লঘু কৌতুক ও রোমান্সের সঙ্গে এই আদর্শদশপ্ত নাটকখানির কোনো আঁত্মক 
সম্পক নেই। মেহেরউন্নিসার সঙ্গে আকবরের কথোপকথন যে স্তরে শিয়ে পেশচেছে, তাতে 
তাকে পতাপূত্রীর সংলাপ বলে মনে হয় না। পিতার সঙ্গে কন্যার এই জাতশয় কথোপকথন 
নিতাস্ত অসঙ্গত ও র্াচাবগাহ্ত। পিতার সঙ্গে তাঁর মতাবরোধ ও প্রতাপাঁসংহের গারগৃহায় 
আশ্রয় অননসম্ধান অর্থহীন ও উৎকট। সম্ভবত, নাট্যকার মেহেরউী্নসার প্রেমের ভিতর 'দয়ে 
'নিত্কাম ভালবাসা'র নিগ্‌় তত্ব ফোটাতে চেয়েছিলেন, কিল্তু নাটকে কোথায়ও তা ফুটে, উঠতে 
পারে নি। ইরা কাব দ্বিজেন্দ্রলালের সৃষ্টি-_নাটকীয় চরন্র হিসাবে তার অনেক ভ্রাট আছে। 
ছিবজেন্দ্লালের অনেক নাটকের মত 'প্রতাপাঁসংহ' নাটকে আঁতনাটকণয়তা থাকলেও দুই-একটি 
ক্ষেত্র ছাড়া খুব বোশ উৎকট হয়ে ওঠে নি। নাটকখানি আধকাংশ ক্ষেত্রে দশর্ঘসংলাপযুস্ত ও 


বাশ 


বিবতিধরী হয়েছে । নাটকীয় অন্তর্থন্ব ও গাতধর্মের তেমন তীব্রতা নেই। এীতিহাঁসকষ নাটক 
রচনায় তান নূতন পথ দোৌঁখয়েছেন বটে, কন্তু তখনো তান ইতিহাসকে জীবনরহস্যে মান্ডিত 
করতে পারেন 'নি। 


দূগ্গাদাস ৫৫ নভেম্বর, ১৯০৬) : 'প্রতাপাঁসংহ" নাটকের পরেই টডের 'রাজস্থান' কাহনশীর 
মারবাড়ের ইতিহাস, অবলম্বন করে 'দূগগাদাস' নাটক রাঁচিত হয়। পকন্তু পূর্ববতর্ঁ নাটকের 
তুলনায় এই নাটকে এীতিহাঁসক 'ব*বস্ততা অনেক কম। আঁতীঁরস্ত ঘটনার ভিড়ে ও অনাবশ্যক 
দৃশ্য-সংযোজনে নাটকখানর কেন্দ্রীয় এঁক্য বহুধা-বাচ্ছন্ন। তার ফলে নাটকের মূল আঁভপ্রায়টি 
অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিধাগ্রস্ত ও গৌণ হয়ে পড়েছে । নাটকাঁটর মধ্যে প্রায় ভ্রিশ বছরের কাহনী।বার্ণত 
হয়েছে। আজত সিংহের জল্ম থেকে ১৬৭৯) ওরংজীবের মত্যুকাল (১৭০৭) এবং তারও 
িছুকাল পর পর্যন্ত নাটকীয় ঘটনার বস্তাত। ওরংজাীবের রাজত্বকালের শেষার্ধ নানাকারণে 
ভারত ইতিহাসের এক সংঘাত-জটল অধ্যায়। এই ঘটনাপ্রধান এীতিহাঁসক কালকে নাট্যকার 
অপেক্ষাকৃত বিস্ততভাবেই রূপাঁয়ত করার চেম্টা করেছেন! কিন্তু এই ঘটনাবহুল এীতহাসক 
ষুগকে কোনো একখান নাটকে রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। নাট্যকার মোগল, মেবার, মারবাড়, মারাঠা 
-এই চারটি কেন্দ্রের উপরেই সমভাবে দৃষ্টি রাখার চেষ্টা করেছেন। এর ফলে কেন্দ্রগত এঁক্য 
রাক্ষত হওয়া কোনোক্রমেই সম্ভব হয়ান। এক্ষেত্রে এতিহাঁসক ঘটনার মধ্যেও নির্বাচনের 
প্রয়োজন ছল, কিন্তু মৃখ্য-গৌণ ঘটনা-নার্বশেষে নাটকে স্থান দেওয়ার চেস্টা করেছেন। আকবরের 
কাহনীকে, জয়াসংহ-কমলা-সরস্বতাঁর ঘটনাকে, শম্ভূজীর আখ্যায়কাকে নাটকে প্রয়োজনাতি- 
রিন্ত স্থান দেওয়া হয়েছে । বিশেষত, রানা জয়াসংহের পারবারিক ঘটনার সঙ্গে ইতিহাসের বা 
নাটকের বিন্দুমান্ত সংযোগ পর্যন্ত নেই। প্রতাপাঁসংহ নাটকে নাট্যকার একটি বিশেষ কেন্দ্রেই 
তাঁর দৃম্টি নিবদ্ধ রেখেছিলেন, 'কন্তু দৃর্গাদাস নাটকে নাট্যকারের দৃষ্টি সপ্তদশ শতাব্দীর 
ঝাটকা-বিক্ষৃত্ধ ভারত ইতিহাসের প্রবল বাত্যায় 'বাক্ষপ্ত হয়ে পড়েছে। 

নাট্যকার দুর্গাদাস চাঁরন্রকে নায়ক ও কেন্দ্রীয় চারন্রের মর্যাদা দিতে চেয়েছেন। কিন্তু 
নাটকের প্রথম থেকে শেষ পযন্ত দূর্গাদাসের উপাস্থাতি সত্তেও কোথাও তান তেমন পাঁরস্ফুট 
হন নি। এর কারণ দুটি : প্রথমত, আতারন্ত ঘটনা ও অনাবশ্যক চাঁরনের ভিড়; দ্বিতীয়ত 
দুর্গাদাস চাঁরন্রে আদর্শবাদের আতিশয্য। অসাধারণ বাঁদ্ধচাতুর্য, বীরত্ব, আত্মত্যাগ, আভিজাত্য- 
বোধ, প্রভুভান্ত, আঁশ্রতবাৎসল্য, কর্তব্যবোধ, সুমহান দেশপ্রেম প্রভীতির দ্বারা তান এই রাঠোর 
বীরের চরিত্রকে ভূষিত করেছেন। এই সর্বগুণান্বিত চাঁরল্রাটর মধ্যে মতের মানুষকে খ*জে 
পাওয়া যায় না। 'দ্বজেন্দ্র-জীবনকার নবকৃষ ঘোষ মহাশয় লিখেছেন : “দ্বজেন্দ্রলালের 'দ্গা- 
দাস” নাটক পাঠ করিয়া তাঁহার বন্ধু মনস্বী *লোকেন্দ্রনাথ পালিত আই-স-এস মহাশয় বলেন 
যে, দুর্গাদাস চরিত্র "[3010916 ০01 00911065” হইয়াছে, যাঁদ গণের সঙ্চো 6৪10855-এর 
উল্লেখ থাঁকিত, তাহা হইলে চাঁন আরও ফুিত।” (েদবজেন্দ্রলাল, পৃঃ ১৫৩-১৫৪)। নাটক- 
খানি নাট্যকার তাঁর পিতাকে উৎসর্গ করে লিখেছেন : “যাহার দেবচারল্র সম্মুখে রাঁখয়া আম 
এই দুর্গাদাস-চরিত্র আত্কত করিয়াছি, সেই চিরারাধ্য িতৃদেব “কার্তিকেয়চন্দ্র রায় দেবশর্মার 
চরণকমলে এই ভাঁন্ত-প্‌ষ্পাঞ্জীল অর্পণ কাঁরলাম।” নাট্যকার 'ভামকা'্ম নাটকাঁটকে ট্রাজোড 
বলতে চেয়েছেন : “ইহার '্রাজোঁডপ্তব িরজীবনের উপাসনার িষ্ফলতায়, আজল্ম সাধনার 
আঁপিদ্ধতায়, প্রাকীতিক নিয়মের 'বরুদ্ধে ব্যান্তগত চেম্টার পরাজয়ে । ইহার ন্ট্রাজোডস্ব এ এক 
কথায়_+ব্যর্থ হয়েছে__পার্লাম না এ জাতিকে টেনে তুলতে । কিন্তু দুর্গাদাসের মত 'নিম্কলঞ্ক 
চরিত্রের পক্ষে প্রীজেডি ঘটা সম্ভব নয় । "০6500 10191761559 1)610,কে এরিস্টটল ট্রাজেডির 
নায়কের তাঁলকা থেকে বাদ দিয়েছেন। দ্রাজোঁডর নায়কচারতে একটি 1১810005191 9010 
থাকা প্রয়োজন । "দ্বিতীয়ত, দুর্গাদাস চীরত্রের মধ্যে তেমন কোনো অন্তদ্বন্থের অবকাশ নেই 
তাঁর জশবনের পাঁরণাঁত বাইরের ঘটনার দ্বারাই নিয়ান্মিত হয়েছে__এ পাঁরণাতি কোনো গভশর 


তোন্রশ 


অন্তর্ধন্দেবর স্বাভাবিক পাঁরণাম নয়। তৃতীয়ত, ণচরজীধনের উপাসনার নিম্ফলতা, "আজন্ম 
সাধনার আঁসদ্ধতা”, কিংবা প্রাকৃতিক নিয়মের বিরূদ্ধে ব্যান্তগত প্রচেস্টার পরাজয়" এর 
কোনোটিই দর্গাদাস চারত্রে পারস্ফুট হয় নি। একমান্র শেষদৃশ্যে দূর্গাদাসের ভাবনার অবকাশ 
এসেছে, কিন্তু তা দ্রাজেডির সমূচ্চতা লাভ করে 'নি। 

ওরংজীব পরধর্মদ্বেষী, ইসলামধর্মের সংরক্ষক; রাজনোতক কটবৃদ্ধিরও তাঁর অভাব ছিল 
না। * তবে পরবতর্শ কালে “সাজাহান নাটকে আঁধকতর দক্ষতার সঙ্গে ওরংজশবের চারশ আঁকা 
হয়েছে। ওরংজীব সম্পর্কে তিনি ভূমিকায় লিখেছেন : “ুরংজশীবকে আম পিশাচর্পে কল্পনা 
কার নাই-_ষেরূপ টড্‌ ও অর্ম কারয়াছেন। আম তাঁহাকে সরল ধার্মক মুসলমানরূপে কল্পনা 


কাঁরয়াছ। তাঁহার অত্যাচার অত্যাধিক গোঁড়ামির ফল। ইসলাম ধর্ম প্রচারের দঢ়-সঞ্কল্পপ্রসৃত।” 


ওরংজীবের শেষজীবনের বিষাদময় পাঁরাস্থাতি নাট্যকার খাঁনকটা ফুটিয়ে তুলেছেন। নিজের 
কতকগুলি ভ্রান্ত নীতির জন্য বিশাল সাম্রাজ্যের চারাঁদকে ফাটল সস্টি হয়োছল। পূত্র আকবর 
বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। মেবার ও মারবাড়ের সাম্মালত শাক্তর কাছে তান পর্যৃদন্ত ও শান্ত- 
মান দূর্খাদাস ও দিলশীর খাঁর দ্বারা উপ্পোক্ষত হয়েছেন। মারাঠা শা্তও সমাটের বিরুদ্ধে অস্ত- 
ধারণ করেছিল। নাটকে ওঁরংজীব ক্ষমতাঁপ্রয়। গুলনেয়ারের হাতের একটি ব্রশড়নকে পাঁরণত 
হয়েছেন। 

নাট্যকার গুলনেয়ার চারত্রাটকে জীবন্ত করে তোলার চেস্টা করেছেন। কিন্তু গুলনেয়ার 
এীতহাঁসক নাম নয়। গুলনেয়ার সম্ভবত কামবক্সমাতা উীদপুরীমহল। উীদপুরী সম্পর্কে 
মোগলযুগের শ্রেম্ঠ এীতিহাঁসক আচার্য যদুনাথ সরকার মন্তব্য করেছেন "4 10৬7 81)1779] 
01০ ০ 1710061  তিনি উঁদপুরী সম্পর্কে আরো বলেছেন : “8156 15081050 1061 
01791105 2104 11070700000 001 070 12107019101 011 1015 09800) 200. 145 0006 09111006 
061715 019 22.” (4 5০7 12£/019 ০1 442/7/822%, 792০ 14) যশোবন্ত সিংহের 
বিধবা রানীর পূর্বকৃত এক অপরাধের জন্য প্রাতীহংসা গ্রহণে অসমর্থ হয়ে কারাগারে দুর্গাদাসের 
প্রত প্রণয় 'নবেদন যেমন অনৌতহাঁসক তেমাঁন অসঙ্গত। দুর্গাদাসকে দর্শনমান্রেই তাঁর 
প্রেমে পড়া মনোঁবজ্ঞানের দিক থেকেও সম্পূর্ণ অসম্ভব। প্রণয়শকে প্রেম নিবেদন করতে এসে 
এই কামাতুরা সম্রাজ্ঞীর সঙ্গী হয়েছে কামবক্স, যে তাঁরই গর্ভজাত পূত্র। িতামহশী গুলনেয়ার 
ও পৌন্রী রাঁজয়া পরস্পরের ব্যর্থ প্রেমাকাজ্ক্ষা 'নয়ে যে আলোচনা করেছেন, তা নিতান্তই 
দাঁণ্টকটু হয়েছে। রাঁজয়া চারন্লের কোনো নাটকীয় সার্থকতা নেই। কাঁহনশীর গঠনশোথল্য 
অবান্তর দৃশ্য ও চারন্র-সংযোজন নাটকের স্বাভাবিক গাঁতিধর্মকে ব্যাহত করেছে। 

'দুগগাদাস' নাটকেও নাট্যকারের . নিজস্ব চিন্তা প্রাধান্য লাভ করেছে। 'হন্দু-মসলমানের 
মিলনবাণীকে 'তাঁন রূপ 'দিতে চেয়েছেন। প্রভুভন্ত কাশেম ও 'দিলশর খাঁর চারন্রের মাধ্যমে 
লেখক তাঁর এই তর্তুটিকে রূপ 'দয়েছেন। 'দলশর খাঁ বলেছেন : “হিন্দু-মুসলমান একবার 
কুমাঁরকা পর্য্ত এমন এক সাগ্রাজ্য স্থাঁপত হবে, যা সংসারে কেহ কখনও দেখে নাই।” বলা- 
বাহ্‌ল্য এ কথা মোগল-সেনাপতি 'দলণর খাঁয়ের নয়, এ কথা স্বদেশী আন্দোলনের বাংলাদেশে 
'হন্দঃ-মুসলমান মৈত্রধর একাঁট উদার আকাঙ্ক্ষা মান্র। 

নাটকখাঁন প্রকাশিত হওয়ার পর নাট্যকারের ভাগ্যে নিন্দা ও প্রশংসা দুইই জুটোছিল। 

নব্যভারত" (চৈন্ন, ১৩১৩) 'িখোঁছলেন : 

.সব্ধই রুচিমাঁজতি, ভাবাবিশ্ধ, লাপচাতুর্য সুন্দর, কাবত্ব অসাধারণ-_-পাঁড়বার সময় মনে 
হয় যেন ধম্রম্থ পাঁড়তোছ; মনে হয় যেন আত্মত্যাগ মল্তের এক জবন্ত ইতিহাস পাঁড়তেছি; 
মনে হয় যেন স্বদেশভান্তর' এক উজ্জল কাহিনী পাঁড়তোছ।...পৃস্তকখানির কি ফ্বত্ব, কি 
স্বদেশপ্রাণতা, কি নিঃস্বার্থতা, কি পাঁবন্ূতা, ১ ক ক্ষমা-_এ সকলের যেন আদর্শ। যাহা 


চাই তাহা পাইয়াছ। বাস্তাবক বাঁলতোছ--দ্বিজেন্দ্রলাল এই. একখান পৃস্তক 'লাখয়া অমরত্ব 
লাভ করিয়াছেন। 


চৌন্রিশ 


জনৈক সমালোচক, এই নাটকে মুসলমানদের খর্ব করে হিন্দুদের বড় করা হয়েছে, এই 
আভযোগও করেছেন। নাট্যকার ভূমিকায় এর জবাব দিয়েছেন। 


মেবার-পতন (২৭ ডিসেম্বর, ১৯০৮) : 'প্রতাপাঁসংহ' নাটকে যার সূত্রপাত, 'মেবার-পতন' 
নাটকে তারই পাঁরসমাপ্তি ঘটেছে। ঘটনার দিক থেকে মেবার-পতন'-কে 'প্রতাপাঁসংহ' নাটকের 
পাঁরশিষ্ট বলা যায়। কিন্তু দু'খানি নাটকের আস্বাদন স্বতন্ত্র । 'প্রতাপাঁসংহ' নাটকে চারন্র- 
গুলির মাধ্যমে নাট্যকারের আদর্শবাদ ধনত হয়েছে বটে, 'কন্তু ইতিহাসকে আঁতক্রম করে 
নাট্যকারের উদ্দেশ্য প্রাধান্য লাভ করে নি। অপরপক্ষে 'মেবার-পতন" নাটকে নাট্যকারের উদ্দেশ্য 
প্রণোদত প্রচারধার্মতাই মৃখ্যস্থান আঁধকার করেছে। নাট্যকার গ্রল্থখানি উৎসর্গ করেছেন 
মধূস্‌দনকে : “যিনি মহাকাব্যে, খস্ডকাব্যে ও গশীতকাব্যে বঙ্গসাহত্যে যুগান্তর আনিয়া "দয়া 
গিয়াছেন; 'যাঁন ভাবে, ছন্দে, উপমায়, চারন্রা্কনে দঈনা বঙ্গভাষাকে অপূর্ব অলঙ্কারে অলঙ্কৃত 
কাঁরয়া 'গয়াছেন; "যান বিদ্যাবত্তায়, প্রাতিভায়, মনীষায় বঙ্গসন্তানের মুখ উজ্জবল কারয়া 
ণগয়াছেন; সেই আমিতপ্রভাব, অক্ষয়কশীর্ত অমর- “মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাকাঁবর উদ্দেশ্যে 
এই ক্ষুদ্র গ্রন্থখানি গ্রন্থকার কর্তৃক উৎসগকৃত হইল ।” 

নাট্যকার নাটকের ভূমিকায় এর মূল বন্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন : 


মদ্রুচত অন্যান্য নাটক হইতে এই নাটকের পার্থক্য লাক্ষত হইবে । আমার অন্যান্য মাটকে 
চ'রন্রাঙ্কন ভিন্ন অন্য কোন উদ্দেশ্য 'ছল না। পাষাণঁতে আম আদর্শ ব্রাঙ্ণ-চারন্, রানা 


এই নাটকে আম একটি মহানশীত লইয়া বাঁসয়াছ; সে নীত িশ্বপ্রেম। কল্যাণ, সত্যবত ও 
মানসী এই তনাঁট চাঁরন্র যথাক্রমে দাম্পত্য প্রেম, জাতীয় প্রেম, এবং 'বিশবপ্রেমের মার্তরূপে 
কা্পত হইয়াছে। এই নাটকে ইহাই কশীর্তত হইয়াছে যে বিশ্বপ্রশীতই সর্বাপেক্ষা গরায়সধ। 
আম হইতে যতদূর প্রেমকে ব্যাপ্ত করা যায় ততই সে ঈশবরের কাছে যায়। ঈশ্বরে লীন হইলে 
সে প্রেম পরিপূর্ণতা লাভ করে। সেই এঁশ প্রেম এখানে দেখানো হয় নাই-_নাটকান্তরে তাহা 
দেখাইবার ইচ্চা রাহল। অতএব এই আমার প্রথম উদ্দেশ্যমূলক নাটক। 


'মেবার-পতন”-এর পটভূমিকা এক সূর্ধকরোজ্জবল গৌরবদীপ্ত জীবনের অপরাহ্ুক বেদনার 
ছায়ায় ভরে উঠেছে। 'প্রতাপাঁসংহ' নাটকে ষে এীতহাঁসক যৃগজীবনের চিত্র স্পষ্টোজ্জহল হয়ে 
উঠেছে, এখানে তা অনেকখানি বর্ণাবরল। মেবারপতনের দূর্যোগঘন পটভূঁমিকা, অস্তগমনোল্মুখ 
স্বাধীনতাসূর্ের শেষ রশ্মি নাট্যকার নিজের ভাবসত্যের দ্বারা মণ্ডিত করেছেন। প্রতাপাঁসংহের 
কীর্তিভাস্বর জীবনের সংগ্রামশীল অধ্যায়ের মধ্যে জাতীয় জীবনে যে দূর্বার প্রাণাবেগ সন্টারত 
হয়োছল, অমর সংহের সময় তা ভাটায় পাঁরণত হয়েছে: রণক্লান্ত জাত দীর্ঘ সতেরো বছরের 
যুদ্ধীবমুখ জীবন আতবাহত করার পর নশ্চন্ত আলস্যে তার সেই দূজয় প্রাণশান্ত হারিয়ে 
ফেলেছে । মোগল আক্রমণে রাজস্থানের ভাগ্যাকাশ ঘনঘটাচ্ছন্ন, স্বয়ং রানা যৃদ্ধাবমুখ । গোবিল্দ- 
[সিংহের উৎসাহব্যঞ্ক বাণী, চারণণব্রতধারণশ সত্যবতশীর অতীত মাহমার গান, অজয়াসংহের 
আত্মোৎসর্গ প্রভৃতি ঘটনা সেই ঘনঘটাচ্ছন্ন আকাশে শবদ্যদ্দীপ্ততে বলাসত হয়েছে। 
পতনোল্মুখ্ মেবারের আঁন্তম অধ্যায়াটকে নাট্যকার হদয়বেদনার গাঢ় রসে আঁভাঁষন্ত করেছেন। 
গোবিন্দীসংহ বলেছেন : “আমার এই ক্ষীণদৃস্টির সম্মুখে একটা ধূমায়মান মহত্বকে আকাশে 
মিলিয়ে যেতে দেখেছি। সব 'গিয়েছে। আর কি আছে জয়াসংহ? এখন আছে সেই মাহমার 
শেষরশিমা। এখন দেখাঁছি একটা 'ম্রয়মাণ গৌরব মত্যুশয্যায় শুয়ে আমাদের পানে 'নম্ফষল করুণ 
নেন্রে, £বাসরোধের অপেক্ষায় মাত আছে।” 

ণকস্তু এতহাসিক অংশাঁট ছাড়াও নাটকের আর একাঁট দক আছে। 'বশবমৈরীশীর মহামল্্ 
নাটকাটর বিষাদমল্থর পরিণাঁতকে নূতন আশা-আকাঙ্ক্ষার মল্পে স্পন্দিত করে তুলেছে । মহাবং 


পণ়্নিশ 


খায়ের সঙ্গে যুদ্ধে মেবারের পতন, অজয়াঁসংহের মৃত্যু, পাঁরবার্তিতাঁচত্ত সগরাঁসংহের মৃত্যুবরণ, 
পূত্রশোকে অর্ধোল্মাদ গোঁবন্দীসংহের শোচনীয় পাঁরণাম প্রীত ঘটনা নাটকের মধ্যে এক 
মত্যু-পাশ্ডুর ছায়া সণ্টারিত করেছে। 'কল্তু নাট্যকারের আদর্শবাদ এই পতনের মধ্যেও নূতন 
করে বাঁচার মন্ত্র আবিচ্কার করেছে। নাটকের শেষে মানসণর উীন্ত ও চারণীদের গানের মধ্যে 
নাট্যকারের জীবনদর্শনই ঘোষিত হয়েছে : 
কসের শোক কারস ভাই আবার তোরা মানৃষ হ”। 
গিয়েছে দেশ দুঃখ নাই-_আবার তোরা মানুষ হ'॥ 

কল্যাণী, সত্যবতাী ও মানসী- এই তিনটি চরিত্রকে নাট্যকার 'তনাট নপীতির প্রতীক 'হসাবে 
রূপ দিয়েছেন। বিশিষ্ট ভাবাদর্শের প্রতীক হওয়ার জন্য তিনাঁট নারশচরন্রের কোনো চাঁরন্রেই 
পূর্ণতর মানব সত্তা প্রকাশিত হয় নি। িনাট চাঁরঘ্রের মধ্যে মানসণ চাঁরত্ই সবচেয়ে অবাস্তব। 
অজয়াঁসংহের সঙ্গে তার সম্পর্কটি স্পম্ট হয়ে উঠতে পারে 'নি। এই একাঁটমান্ত্র সম্পর্কের সূন্ত 
ধরেই মানসী চাঁরন্র খমনকটা বাস্তব হয়ে উঠতে পারত। একমাত্র পণ্সমা্ক "দ্বিতীয় দৃশ্যে 
মানসীর স্বগতোক্ত থেকে অজয় সম্পর্কে মানসশর প্রেমচেতনার একটি সস্পন্ট পাঁরচয় পাওয়া 
যায় : “নিষ্ঠুর 'আমি! কখন মুখ ফুটে বলিনি। যখন ষোঁদন আমার কণামান্র অনূকম্পার 
ভিখারী হয়ে আমার মুখপানে দীন নয়নে চেয়োছল-লআমার শৃদ্ধ একাঁট সকরুণ দ্াস্টপাতের 
| জন্য পিপাসায় ফেটে মরে যাচ্ছল, তব; আমার মুখ ফোটোনি। তাই আমার অজয় আঁভমান করে 
চলে গিয়েছে । আমার সেই গর্ব চূর্ণ করে, পদতলে দলিত করে চলে গিয়েছে। অজয় আজ যে 
৷ তোমার পায়ে আছড়ে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে; আজ যে হৃদয় চিরে দেখাতে ইচ্ছে হচ্ছে ।”--অজয় 
(জীবিত থাকতে মানসীর কন্ঠে আদর্শবাদ ও প্লেটোনিক প্রেমের বাণী ধ্বানত হয়েছে। মান্র 
| একটি সংলাপেই মানসী মানবীতে পাঁরণত হয়েছে। 'প্রতাপাঁসংহ" নাটকের ইরা চাঁরন্লে নাট্যকার 
(যে তত্ব প্রাতপন্ন করার চেষ্টা করেছেন, মানস চাঁরত্রে তারই পূর্ণতর রূপ উদ্ভাঁসত হয়েছে। 

দ্বিজেন্দ্রলালের স্বদেশপ্রেমের গান ও এীতিহাঁসক নাটক স্বদেশী আন্দোলনের উদ্দীপনাকে 
| শিল্পর্প দিলেও এই আন্দোলনের অন্তরন্নিহত ব্লুটি সম্পর্কেও তান সচেতন 'ছলেন। তাই 
| উচ্ছনাসসর্বস্ব সংকীর্ণ দেশপ্রেমকে তানি মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে মনে করেন নি। 
(২বা মে ১৯০৬ খ্রীস্টাব্দে তান কাঁদ থেকে দেবকুমার রায়চৌধুরীকে গলখোঁছলেন : 

আম জান, বিশ্বাস কার, বেশ যেন দেখতে পাচ্ছ_যে যাই বল্‌ক, যতই কেন আমাদের নগণ্য 

ও হেয় ভেবে উপেক্ষা করুক না কেন_ আমরা আবার জাগব, উঠব, মানুষ হব।...আম দেশ, 

চিনি না, বিদ্বেষ মান না; আম চাই শুধু বীর্যবল- প্রক্ষচর্য; চাই শুধু সত্যানম্ঠা; চাই শুধু 

আসল, খাঁটি, ধ্রুব ও নিটোল ধর্মবল, আর এঁ এক কথায় মনুষ্যত্ব । 
তাই জাতীয়তার চেয়ে তান মনষ্যত্বকে অনেক বড় করে দেখেছেন। কল্যাণীর দাম্পত্যপ্রেম ও 
সত্যবতাঁর দেশপ্রেম মানসীর বিশ্বপ্রেমের মল্তে দীক্ষিত হয়েছে। মানসী কল্যাণীকে বলেছে : 
"তোমার প্রেমকে মনৃষ্যত্বে ব্যাপ্ত কর। সান্তনা পাবে। বিশ্বপ্রেম প্রাতিদান চায় না; যোগ্য অযোগ্য 
বিচার করে না। সে সেবা করেই সুখী।” মানসশ সত্যবতীকেও বলেছে : “যেমন স্বার্থ চাইতে 
জাতীয়্ব বড়, তেমাঁন জাতীয়ত্বের চেয়ে মন্ষ্যত্ব বড়। জাতীয়ত্ব যাঁদ মন্য্যত্থের বিরোধ” হয়, 
.. মন্ষ্যত্বের মহাসমদ্রে জাতীয়ত্ব বিলীন হয়ে যাক! দেশের স্বাধীনতা ডুবে যাক_ এ জাতি 
| আবার মানুষ হোঁক।” মানসণ চাঁরন্রাটির উপর নবানচন্দ্রের কুরুক্ষেত্র কাব্যের সনভদ্রা চাঁররের 
(প্রভাব আছে। মানস চাঁরত্র পারকল্পনায় স্কুটারির হাসপাতালে আর্তসেবাপরায়ণা ফ্লোরেন্স 
|নাইটিঙ্গেলের প্রভাব থাকাও বাচত্র নয়। নারী চারন্লের মধ্যে একমান্ত রাঁক্বিণীর চাঁরত্রই 
| বাস্তবসম্মত । র্ীক্মণীর চারন্রে স্বামী-কন্যা নিয়ে বব্রত বাঙালী গাঁহণীর চারন্রই আত্মীপ্রকাশ 
([করেছে। তার সঙ্গে নাট্যবার্ণত আদর্শবাদের কোনো যোগ নেই। তাই তার এই স্বজ্পা়ত 
ভমিকাটিতে একটি আন্তাঁরকতার স্পর্শ পাওয়া যায়। 

অমরসিংহের চরিত্রের মধ্যে উদ্যম ও দূঢ়তার অভাব আছে, প্রবল প্রাতপক্ষের সঙ্গে যুম্ধ 





ছন্রিশ 


করে 1তাঁন দেশের শান্ত নম্ট করতে চান না। তাঁর চাঁরন্রে পূর্বাপর:একাট বষণ্রতা ও নশ্চেস্টতা 
লক্ষণণঁয়। আসন্ন সংকটকালে দেশের দুঃখ-দুর্ভাগ্য চোখের সম্মৃখে দেখেও তাঁর মনে কোনো 
তীব্র প্রাতকারবাসনা জাগে না-যেন তানি ভাগ্যচক্র ও বিরুদ্ধ পাঁরবেশের কাছে স্বেচ্ছায় পরাজয় 
বরণ করে 'নিয়েছেন। রানার চারন্র পাঁরকল্পনায় নাট্যকার সম্পূর্ণরূপে টডের অনুসরণ করেছেন, 
কিন্তু চরিত্রাটকে নাটকীয় রসমাপণ্ডিত করতে পারেনান । 'মেবার-পতন, নাটকের পূরুষ চাঁরন্রগুলির 
মধ্যে মহাবৎ খাঁ ও গোবিন্দাসংহ চারন্রের মধ্যে কিছু বৌশস্ট্য আছে। মহাবং খাঁর চাঁরত্রের মধ্যেও 
নাট্যকারের সমাজচিন্তাই প্রাধান্য লাভ করেছে । মহাবৎ খাঁর স্বদেশদ্রোহতাকে মেবার-পতনের 
অন্যতম কারণ 'হসাবে 'নর্দেশ করা হলেও এর আর একট 'দককেও অস্বীকার করা যায় না। 
মহাবৎ 'হন্দু সমাজের অনুদারতা ও সংকীর্ণাচত্ততার তীব্র সমালোচনা করেছেন। 'িলাত- 
প্রত্যাগত “একঘরে' দ্বিজেন্দ্রলালের মানাঁসিক প্রবণতাগ্ঁলই এখানে তত্বরূপ ধারণ করেছে। 

পুরুষ চারত্রের মধ্যে গোবন্দাীসংহ সবচেয়ে দাস্ট আকর্ষণ করে । গোঁবন্দাসংহ হলাঁদঘাটের 
বর, প্রতাপাঁসংহের প্রয়তম সহচর, মেবারের বীরযুগ ও কুলগৌরবের শ্রেচ্ত প্রাতানাধ। কুল- 
গৌরব ও দেশপ্রোমকতার জন্য তান পূত্রকন্যাকেও পাঁরত্যাগ করতে কুঁশ্ঠিত হন নি 
গোবিন্দাসংহ যথার্থই 1950 0£ 06 7010905. অমরাসংহ চরিঘ্রাট নাটকের প্রথম থেকে শেষ 
পর্যন্ত বিস্তৃত, কিস্তু ব্যক্তিবোশিষ্ট্য ও ওজ্জবল্যে গোবন্দীসংহ চারন্রাট সবচেয়ে লক্ষণীয়। পত্র- 
হারা গোঁবিন্দাসংহের উন্মাদনা শাজাহান চরিত্রের পূর্বাভাস বলে মনে হয়। ছাবওয়ালীর দৃশ্যে 
বাঁৎ্কমচন্দ্রের 'রাজাসংহ” উপন্যাসের ও কল্যাণশর উদ্ধার দশ্যাটতে “আনন্দমগ'-এর প্রভাব আছে। 

'মেবার-পতন' নাটকের মধ্যে উদ্দেশ্য প্রবল হয়ে নাট্যাশঙ্পকে দুর করেছে। নাটকাঁটর 
গাঁতিধর্ম কোথাও তেমন সাঁক্রয় নয়, নাটকের কাহনী-বন্যাসও তেমন ঘনবদ্ধ নয়। চারন্রগুলির 
ব্যক্তিবৈশিস্ট্য ছাপয়ে নাট্যকারের প্রচারপ্রবণতাই প্রাধান্য লাভ করেছে। শেক্সপীয়রের হ্যামলেট 
চারন্রের ডীন্ততে অনেক গভীর দার্শানক জজ্ঞাসা আছে, কিন্তু সে জিজ্ঞাসা চাঁরত্রাটরই আবচ্ছেদ্য 
অংশ। শেক্সপীয়রের ব্যান্তগত মতামতের কোনো স্বতন্ত্র আস্তত্ব নেই। কিন্তু মেবার-পতন নাটকের 
চরিব্রগুলকে নাট্যকারের নিজস্ব মতামত সম্পূর্ণভাবে আচ্ছন্ন করেছে। এই নাটকে প্রকৃতপক্ষে 
কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্ন নেই। অমরাসংহ কর্মকুণ্ঠ ও 'নাক্কয়। আপাতদৃষ্টিতে তিনি ইতিহাস 
অংশের নায়ক হলেও তাঁর কোনো সচেতন কর্মপ্রয়াস নেই। দার্শাীনক অংশের নায়কা মানসী 
মানবী নন, অশরশীরশ আহইীভয়া। 'মেবার-পতন' নাটকের সংগীত-সংস্থাপন-কৌশল প্রশংসনীয় । 
'মেবার-পাহাড়', ভেঙে গেছে মোর স্বপ্নের ঘোর" প্রভাতি সংগীত নাটকাঁটর গৌরব বৃদ্ধি করেছে। 

“মেবার-পতন” নাটকে মেবারের পতন আখ্যায়িকাঁট কেন্দ্রীয় ঘটনা সন্দেহ নেই। নাট্যকার 
পতনোন্মুখ মেবারের মাহমোজ্জব্ল চিত্র রচনা করেছেন। কিন্তু এইটিই নাটকের শেষ কথা নয়। 
প্রতাপাসংহ' নাটকে দেশপ্রেমের যে আদর্শ রৃপায়ত হয়েছে, তা বৃহত্তর ভাবাদর্শের সঙ্গে 
সমান্বিত হয় 'ন। শন্তাসংহের 'ববাহ-ব্যাপারে প্রতাপাঁসংহের অনুদারতা থেকেই তা প্রমাঁণত 
হয়েছে। 'মেবার-পতন' নাটকে দেশপ্রেম, বশ্বমৈত্রী ও কল্যাণের 1স্নগ্ধ আলোকে উদ্ভাঁসত। 
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের উত্তেজিত মুহূর্তে বাংলাদেশে দেশপ্রেমের বন্যা এসোছিল। কিন্তু সেই 
দেশপ্রেমের প্রবল ও প্রচণ্ড আবেগ অনেক সময় বৃহত্তর কল্যাণের পারপল্থী হয়ে উঠোছিল। 
দবজেন্দ্রলাল এই আত্মঘাতী ও সংকীর্ণ দেশপ্রেম থেকে ষে কতখান সরে এস্োছলেন, তার 
সর্বোস্তম প্রমাণ 'মেবার-পতন” নাটক। এই নাটকে তাঁর মানস পাঁরবর্তনের সুর পারস্ফট হয়েছে। 
এ সম্পর্কে কবিপুত্ত দিলশপকুমার রায়ের মন্তব্যাট বিশেষভাবে প্রাণধানযোগ্য : 


[16 19517) 1201)01. 3০0 020012117 7 001105/50. 10010780617 00 [957 0১10 00210855 
41) 1015 1116 ত/£00 9590 59170907200. 16521210006. ] 06890. 0০ £65০16 1013 
78001501500, 00০, 005 1150 015 01 আ10 10841009205 10110 00005 17 006 
5/201651)1 025 71781) 1) ক্/1006 18010010 01517)025 015 ৪061 21)00761. হত 
ড/95 2. 1১066 900 2. 17091) 016 01005021012 -2৩া0াধুযাতে 060929তাভোত ৮0 06 95, 
25 ৪1) 840$50, 10181 56015101%5. 60 135 011001)870101900 80700519166, 10 25 


সাইন্নিশ 


07010 006 176709$ 0£ 161075911 90780901910 2190. 116 09081) 15 0000981901৪ 
০0100951017) 6 51)0410 25910 10৫80. 80 18 00956 095 ০ 0০০% 10011109.00 
[90010901507 ৪ 15100 52102 2:00 50 796150296৭. 00156169 019 10 23 009 
79178062 101 211 076 65115 001 0651) 23 13617 0০. 7০ 1000 1960061 100দ. 0 
10 006 7150 9051) 01 00118001001 80016506006 /6 1790 ৪11 06০] 1১6116€৫ 
17 0) £051১] ০01 1180010921157) (10101) 091706১5561 54006, 00 50010 109010100 
* 005/1 1010 1651 10611 10] 006 [19056 01 2 10109210017 1068558) 2170. 1794 
10011060 10) 10906] 06 ০৮610071176 00161). 170৬7 €৪99য) 215, [0 21916 ৪1 
0000615 25 06 16510951001 ০01 10101 10125006 001 101501550 51105 ! 
[৮95 20 0015 1010) 0720 10%/1050019192]1 £15%7 310061017 2104 00911 5101 
০0 18010901510. 10 25 20+0)15 0011010 79110001115 1166 0040 100 ড/1006 1744 
90 11224. 4100 10 95 01010 0001) 0090 ১ 1015 0621 2017717015১ 015001:6 
0720 [02001010151 45 2. 109156 0105. 
[11711518015 ্ব0০০০, 7256 ৬]]]-]15: 779// 91 71221 ] 
দ্বিজেন্দ্রলালের মনোজীবনের পাঁরবর্তনের দিক থেকে নাটকটি মূল্যবান। নাটকটিতে নাটকের 
চেয়ে তত্ব বড় হয়ে উঠেছে। 'মেবার-পতন" নাটক সম্পর্কে সমালোচক শশাগ্কমোহন সেনের 
মন্তব্য উল্লেখযোগ্য : 
এই কাব্যের 'মেবার পাহাড়” হইতে আরম্ভ কাঁরয়া "আবার তোরা মানুষ হ" বাঁলয়া _পাঁরশেষের 
মধ্যে এমন একটি হদযোচ্ছবাস এবং এ উচ্ছ্বাসের পাকে পাকে এমন অপরূপ আলোক, মধুর 
তরঙ্গভঙ্গ এবং সমগ্র 'শল্প-সমাধানের মধ্যে এমন একাঁট সমার্জত দীপ্ত আছে যে, ভারতীয 
জাতীয় ব্যাঁধ এবং উহার প্রতখকার নিরূপণ আছে যে, সকল 'দিক 'ববেচনা কাঁরিলে, উহাকে 
তাঁহার এই যুগের সর্বগৃণ-ঘনীভূত "শ্রেষ্ঠ প্রকাশ" বাঁলয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখ কাঁরতে পারা যায় 
আমাদের জাতীয় জীবন-সাধনার চিরস্থায়ী সাহত্য-ভাণ্ডারে উহার স্থান নির্দেশ কাঁরতে ইচ্ছা 
হয়। বেঞ্গবাণশ, পৃঃ ১৫১) 


সাজাহান (৮ জাগস্ট, ১৯০৯) £ দ্বজেন্দ্লালের এীতিহাসিক নাটকগাঁলর মধ্যে 'সাজাহান' 
নাটকের শ্রেষ্ঠত্ব প্রায় সর্ববাদসম্নত। মণ্টসাফল্য ও জনাপ্রয়তার দিক থেকেও বাংলা নাটকের 
ইীতহাসে এই নাটকটি অসামান্য মর্যাদা লাভ করেছে । নাটকখানি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পুণ্য- 
স্মাতিতে উৎসর্গ করা হয়েছে। মোগল যুগকে অবলম্বন করে দ্বিজেন্দ্রলাল যে পাঁচখান নাটক 
(প্রতাপাঁসংহ, দুর্গাদাস, মেবার-মতন, নূরজাহান, সাজাহান) রচনা করেন, তাতে ভারত- 
হীতহাসের কিণ্টিদিধিক শতবর্ষের ইতিহাস রৃপায়িত হয়েছে। এই পাঁচখানি নাটককেও 
প্রকৃতিধর্মের দিক থেকে দুই শ্রেণীতে ভাগ. করা যায়। প্রথম তিনখানি নাটকে আদর্শবাদের 
প্রাধান্য তাতে রাজপুত ইতিহাসের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। পরের দুখাঁন নাটকে মোগলসম্রাট 
জাহাঙ্গীর, ও সাজাহানের রাজত্বকালের ঘটনার উপর জোর 'দয়ে তাঁদের পাঁরবারক জীবনের 
জাঁটলতাকেই রূপ দেওয়া হয়েছে। এই ধারা লক্ষ্য করলেই দেখা যায় ষে, তান ক্লুনিক্যাল নাটক" 
থেকে ধারে ধীরে 'এীতহাসিক দ্রীজোড'র গভীরে প্রবেশ করেছেন। প্রথম 'তিনখানি নাটকে যেমন 
তান আদর্শবাদের জ্যোতিলোকে প্রবেশ করেছেন, তেমাঁন শেষ দুখখানি নাটকে প্রবেশ করেছেন 
অন্তর্বন্ববহূল জাঁটল জাবনের মর্মমূলে। 'নূরজাহান, নাটকের ট্রাজোঁডর মধ্যে তীব্রতা ও 
জাঁটলতা অনেক বোশ। অপরূপক্ষে 'সাজাহান' নাটকে দ্রাজোডর ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি লক্ষণীয় । 

'সাজাহান" নাটকে নাট্যকার ইতহাসকে আঁধকতর বিশ্বস্ততার সঙ্গে অনুসরণ করেছেন। 
সাজাহান নাটকের আরম্ভ হয়েছে ১৬৫৮ খ্রীস্টাব্দের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়। দৈহিক 
অসস্থতার জন্য তার কিছুদিন আগে সাজাহান 'দল্লশ থেকে আগ্রা আসেন । নভেম্বরের মাঝামাঝি 
সময়ে সাজাহান অনেকটা সংস্ব হয়ে উঠোছলেন। এই সময়ের রাজনোতিক অবস্থাও নাটকে 
যথাযথভাবে 'বধৃত হয়েছে । “সাজাহান' নাটকের প্রথম দৃশ্যেই তংকালশীন রাজনোতিক পটভূমিকা 
[বেই বার্ণত হয়েছে। “সাজাহান' নাটকের প্রথমেই দারা সাজাহানকে বলেছেন £ 


আটীন্রিশ 


“সুজা বঙ্গদেশে বিদ্রোহ করেছে বটে, িল্তু সে এখনও সম্রাট নাম নেয় দন। কিন্তু মোরাদ গুজে 
সম্রাট নাম নিয়ে বসেছে, আর দাক্ষণাত্য থেকে ওরংজশব তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ।” এ সম্পর্কে 
এ যুগের শ্রেন্ত এীতহাসিক যদুনাথ সরকার বলেছেন £ 


8 005 1014016 01 ব05500121 91091) 09109 190 150059150 50010161705 
001১2 0010 0 10719012100 1090515 71010) 120 10100610120 1600 (0) 1010. 

১9001 20515/8105 2002119 2121101106 06৬৮5 2111550 11010) 05901910. 111215 
14015 190 010ড1060 1)1105616 01) 50) 10602101061, 2170 101107760 210 211191705 
ড/10) 4১018102200. 044 5/07% £226/079 9] 44472222179 5017. 0. 54] 


গসংহাসনের উত্তরাধকার 'নয়ে যে সমস্ত ঘটনা ও যৃদ্ধবিগ্রহ ঘটেছে, তার একাঁট জীবন্ত চিত্র এই 
নাটকে পাওয়া যায়। সুজার বিরুদ্ধে জয়াসংহ ও সোলেমানের যুদ্ধ ও ওরংজীব-মোয়াদের 
বিরুদ্ধে যশোবন্ত সংহ ও কাশিম খাঁর যুদ্ধ এবং তার ফলাফল সম্পূর্ণভাবে ইাতিহাসসম্মত। 
দারা, সুজা ও মোরাদের শোচনীয় পারণাতও ইতিহাস-অনুমোঁদত । নাটকের পুরুষ চাঁরন্রের 
মধ্যে দিলদার কাল্পাঁনক চাঁরব্র হলেও একেবারে সত্যবাঁজজতি এ কথা বলা য়ায় না। দারার মৃত্যুর 
পূর্বে ওরংজীব যে গোপন বৈঠক করোছিলেন তাতে দানেশমন্দ খাঁন দারার প্রাণাভক্ষা চেয়েছিল £ 
71070 55201172  4019172290 10610 2 70115205 005011090101 101 1015 
10117150515 21000 109712815 0905. 1091)15101021701517017 (921001615 08000) 
71525050101 1715 1166, 1000 51091502117810) 1৬019017770 417011) 717917) 132107001 
117217, 2100 002 17911100555 13210519210912. 11010 0106 1)91210 02107910060. 1015 0620) 

101 0)6 £০০0 0£ 00100101) 2100 50805. [পৃর্বোস্ত গ্রস্থ, পৃ ৭৮-৭৯] 


নাটকের শেষ দৃশ্যে সাজাহান ওরংজশীবকে ক্ষমা করেছেন_এ ঘটনা অনোতিহাঁসক নয় £ 
[10111075076 155 095 ০01 ১1791) 19109171591 170220125 1090 00100716160 1015 005 
16561)0700100 2100 172 1790 20125 5121760, 9.660911779170 191251005 151095215১৪. [১210017 
00 4১111905221 191 076 10085 106 1090 00106 00 1715 99061. (পর্োন্ত গ্রল্থ, 
পূ ১৯৯৩--১১৪)। নারশচরিত্রের মধ্যে মহামায়া ও পয়ারা কাঁজপত চাঁরল্র হলেও সম্পূর্ণ 
ইতিহাসাবরোধী বলা যায় না। মহামায়া চাঁরত্রে রাজপুতরমণীসুলভ দ় ব্যান্তত্ব ও শোর্যের 
দীপ্তি প্রকাঁশত হয়েছে। সুজার নৃত্যগীতপ্রবণ লঘু চরিত্রাট সম্মুখে রেখেই তিনি সংগাঁতীপ্রয়া 
সুরাঁসক পিয়ারা চরিন্রটির পরিকল্পনা করেছেন । ঘটনা-বন্যাস, চারন্রপৃন্ট, পাঁরবেশ-রচনা ও 
নাটকীয় ফলশ্র:ুতি--সমস্ত দিক থেকে বিচার করলে “সাজাহান' নাটকের এীতিহাসিক যাথার্থয 
অস্বীকার করা যায় না। 
তবু নাটক ও ইতিহাস এক বস্তু নয়। ইতিহাসের তথারপকে নাটাকার মানবীয় ঘাত- 
প্রীতঘাতের সাহায্যে জীবন্ত করে তোলেন। শেক্সপীয়র স্লুটাকের সৃবিখ্যাত “জীবনী, গ্রন্থ 
অথবা হলিনসেডের 'কাহনামালা-কে নৃতন করে প্রাণরসসমূদ্ধ করেছিলেন। সাজাহানের 
রাজত্বের শেষাঁদকে সংহাসনের উত্তরাধিকারের ব্যাপার নিয়ে তাঁর পন্রচতুষ্টয়ের মধ্যে যে বিরোধ 
ও রাজনোতক ষড়যন্তের পৃষ্ট হয়োছল, তাকে নাট্যকার একাধিক চারন্রের ক্রিয়া-প্রাঁতাক্রিয়ার 
অঙ্গীভূত করে তাকে জাবন্ত করে তুলেছেন। তাই মেঘাচ্ছন্ন রাজনোতিক আকাশে চারন্রগাল 
বদুযতের মত স্ফুটোজ্জবল হয়ে উঠেছে । “সাজাহান” নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল ইতিহাস ও মানব- 
জীবনকে সমন্বয় করেছেন। 'রাজাঁসংহ” আলোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ যে মন্তব্য করেছেন 
তা এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য £ 
সাধারণ ইতিহাসের একটা গৌরব আছে। কন্তু স্বতল্ল মানবজীবনের মাঁহমাও তদপেক্ষা ন্যন 
ঞ নহে, ইতিহাসের উচ্চচূ্ড় রথ চাঁলয়াছে, 'বাস্মত হইয়া দেখো, সমবেত হইয়া মাতিয়া উঠ, 
[কিস্তু সেই রথচক্রতলে যাঁদ একটি মানবহৃদয় 'পম্ট হইয়া ক্রন্দন কারয়া মাঁরয়া যায় তবে তাহার 
পথে মর্মান্তিক আতর্ধিহনিও, রথের চূড়া যে-গগনতল স্পর্শ কারতে স্পর্ধা করিতেছে সেই গগন- 


পথে উচ্ছ্বাসত হইয়া উঠে, হয়তো সেই রথচ্‌ড়া ছাড়াইয়া চাঁলয়া যায়। 
[রাজাঁসংহ, আধ্মনিক সাছিত্য ] 


উনচাল্লশ 


'সাজাহান” নাটকের নামকরণের যাথার্থ্য 'নয়ে বিতকেঁর সাঁন্ট হয়েছে । নাটকটি যে একখানি 
ট্রাজেডি এ বিষয়ে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ নেই, 'কিস্তু কার ট্রাজেডি এবং কি জাতীয় ট্রাজেডি 
_ প্রধানত এই দট প্রশ্ন নিয়ে নানা বিতকের সৃস্টি হয়েছে। 'প্রধান চাঁরন্র”, কেন্দ্রীয় চারন্র, ও 
নায়ক-_এই তিনটি শব্দকে স্থল ও সাধারণভাবে প্রয়োগ করার ফলেই নানা মতানৈক্যের সৃষ্ট 
হয়েছে। নাট্যকার যে চাঁরন্র অবলম্বন করে তার মূল আঁভপ্রায়াট রূপাঁয়ত করার চেস্টা করেন, 
[তানই হচ্ছেন নায়ক। নাট্যকারের আভপ্রায় ও নাটকের প্রাতপাদ্য বিষয় তাঁকে ঘরে পল্লবিত 
হয়ে থাকে, তিনি নাটকের কেন্দ্রীয় চারন্তও বটেন। সতরাং নাটকের নায়ক ও কেন্দ্রীয় চাঁরন্ প্রায় 
একার্থবোধক। 'কল্তু নাটকের মধ্যে এমন এক বা একাধিক চারন্র থাকতে পারে, যিনি বা যাঁরা 
ওজ্জবল্যে ও চাঁরাত্রক 'বাঁশষ্টতায় নায়কচারন্রের চেয়ে অনেক বোৌশ চিত্তাকর্ষক। কিন্তু 
'উজ্জ্লতম চরিন্র'ই যে নাটকের নায়ক চরিত্র হবে এর কোনো সঙ্গত কারণ নেই। এইজন্য “প্রধান 
চার", ল্দরলতম টার ও সর্বাপেক্ষা 'কিয়াশীল চার নারক বা কেন্দ্রীয় চরম নাও হতে 
পারেন। 

তা নাটকাঁটর স্বরূপ 
ন্ণয় করতে হলে এই মতবাদগনীলর সতর্ক আলোচনার প্রয়োজন। দ্বিজেন্্ুলালের জশবনশীলেখক 
নবকৃণ ঘোষ দারার মৃত্যুর উপরেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন £ 

দারার মত্যুই সাজাহান নাটকের চরম ট্রাজোড- চূড়ান্ত ঘটনা । দারার জশবনাবসানের সাহত 

নাটকের শেষ যবনিকা পাতিত হওয়া উচিত ছল । সাজাহান বিদ্রোহের পূর্বে যে অবস্থায় 

ছিলেন, সেই অবস্থাতেই আশ্রার দুর্গপ্রাসাদে ভোগসুখে রাঁহলেন। দারাই ?সংহাসন ও জীবন 
দুইই হারাইলেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁহার ভাগ্যবিপর্যয়ের উপরই নাটকের 'ভাত্ত স্থাঁপত এবং তাঁহার 
মৃত্যু-ঘটনায় মন এরূপ অবসাদগ্রস্ত হয় যে, নাট্যকারের প্রভূত গুণপনা সত্তেও পরবতা দৃশ্য- 

গুলিতে অবাহত হইবার আর ধৈর্য থাকে না। [ সাহিত্য, মাঘ, চৈন্ত ১৯৩১৭] 
সমালোচকের মতে দারার ভাগ্যবিপর্যই “সাজাহান” নাটকের চরম ত্রীজোড। কিন্তু 'সাজাহান 
আগ্রার দুর্গপ্রাসাদে ভোগসুখে রাহলেন।' এই মন্তব্য যেমন অসঙ্গত তেমাঁন অনোতহাঁসক। 
সাজ্গাহানের বান্দিদশা সম্পর্কে আচার্য যদুনাথ সরকার বলেছেন £ 

0017 0706 06109171016 01 1৬119217017 5410210) 0)5 2010010) 70170917090 1১6- 

0810.811 10. ৪11 290 0062160 5191) 91190. দ710) £6০90 10915110555 8170 068160. 


16 59206011065 21109৬5ণ 10 10 196 5621 0091 105 06950 91091) 7910910) 95 ৪. 
10156191010 517৮0... - 


7179 0011651010061005 ৪066. 511 18179017200. 1015 75010 102091776 10- 
[01619101% 191001. 480 1950 006 010 1000910) 0০৬60 10 006 105%109116 ৪0 
111 2 00110 0080 01155 15616 00 51901, 105 55956ণ0 00 00171319110. 

[44 5/০07%/ 11/1/079 ০1 44%157229, 10: 110-1117 
নাটকের পূর্বাপর লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ভাগ্যাবপর্যয় আসলে সাজাহানের। রোগগ্রস্ত 
স্থাবরপ্রায় সাজাহানের শেষজীবনে ভাগ্যাবপর্যয়ের ষে নির্মম ঘটনাবলী ইাতিহাস-পাঠককে 
বেদনায় আভভত করে, দারার ভাগ্যাবপর্যয় ও শোচনীয় পাঁরণাঁত তার মধ্যে অন্যতম । নাট্যকার 
দারার ভাগ্যাবপর্যয় ও তাঁর মৃত্যুদশ্যকে চূড়ান্তরূপে শোকাবহ করে তুলেছেন সন্দেহ নেই। 
কিন্তু দারার দূর্ভাগ্য বৃদ্ধ সাজাহানের ট্রাীজেডকেই গভগরতর ও বিস্তৃততর করে তুলেছে 
দারার পারণাঁতর মধ্যে কোনো অন্তর্থন্বসম্ভূত বেদনা নেই-_তাঁর চাঁরন্রে দ্রাজোডর নায়কোঁচিত 
কোনো ঘাত-প্রাতঘাত নেই। 

"সমালোচক দারার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই নাটকের যবাঁনকাপতন প্রত্যাশা করেছেন। 'কন্তু 
দারার মৃত্যু হয়েছে চতুর্থ অঞ্কের শেষ দৃশ্যে। তারপরেও আর একট অন্ত আছে। প্রধানত 
দারার মৃত্যু স্নেহপ্রবণ ভাগ্যহত সাজাহানকে অর্ধোল্মাদ করে তুলেছে। পঞ্চম অঙ্ক তৃতশয়প্দশ্যে 
পারার মৃত্যুসংবাদ শুনে সাজাহানের চিন্তাবকারের একাঁট চমতকার ছাঁব আঁকা হয়েছে। দারার 
মৃত্যু পর্যন্তও সাজাহানের মানাঁসক অবস্থা তেমনভাবে বিপর্যস্ত হয়ান__কিল্তু দারার মত্যুর 


হ 


চাল্লশ 


পর সাজাহান তাঁর মানাঁসক ভারসাম্যও হাঁরয়ে ফেলেছেন। দারার মৃত্যুর পরেও এই জাতীয় 
দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা ছল ।...পণ্মাঙ্কের যে দুটি দৃশ্যে সাজাহানের ভূমিকা আছে (৫1৩, 
&।৬) তাদের নাটকীয় প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য । সাজাহানের অন্তজীর্বনের ক্িয়া- 
প্রাতিক্রিয়ার পাঁরণাম এই দুটি দৃশ্যে সংস্পন্ট হয়ে উচেছে। দ্রাজোড সাজাহানেরই, দারার 
মর্মাস্তক পাঁরণাম তাকে স্ফুটতর করেছে মান্র। দারার পাঁরণাম 'প্যাথথাটক”, কিচ্ত্‌ 'ট্রীজক' নয়”। 

“ডঃ স্বকুমার সেন মহাশয়ও 'সাজাহান' নামকরণের সার্থকতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ 
করেছেন ও জাহানারা নামকরণের পক্ষে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন £ 

সাজাহানের ভূমিকা নাক্কয় সাক্ষীর ভূমিকা । দ্রীজেডর দক 'য়াও সাজাহান নামকরণের খুব 

সার্থকতা আছে বলিয়া বোধ হয় না। জাহানারা সেক্ষা সফট ও বািষ্ঠ ভুমিকা নাটকটির 

নাম জাহানারা হইলে বোধ হয় ঠিক হইত। [বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (দ্বিতীয় খণ্ড, 

১৩৫০) পৃ ৩৯০।] 

ডাঃ সেনের বন্তব্য খুব স্পন্ট নয়, তবু তাঁর মূল আঁভপ্রায়াট অনুসরণ করতে অস্হাবধা 
হয় না। স্ফুট' ও 'বালষ্ঠ' ভূমিকা হিসাবেই [তাঁন 'জাহানারা, নাট সমর্থন করেছেন 
'সাজাহান' নাটকে ব্যান্তত্বের বাঁলজ্তায়, 'নিভাঁকতায়, সেবাপরায়ণতায় জাহানারা চীরন্রাট দৃষ্টি 
আকর্ষণ করে। কিন্তু জাহানারা কেন্দরয় চিত্র ও নায়কা নন। তা ছাড়া নাটকাট জাহানারার 
সুখ-দূুর্ভাগ্যকে কেন্দ্র করেও রাঁচত হয়ান।...শুধু 'স্ফুট' ও “বাঁলচ্ঠ' চরিত্র 'হসাবেই জাহানারার 
দাঁব স্বীকার করা সঙ্গত নয়।” 

অধ্যাপক আঅজতকুমার ঘোষ মহাশয় সাজাহান চাঁরত্র সম্পাক্ত ডাঃ সৈনের মন্তব্যকে 
সমর্থন করে, ওরংজীবকে সাজাহান নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও নায়কের মর্যাদা দিতে চেয়েছেন £ 


সাজাহানের নামে নামকরণ হইলেও, সাজাহান এই নাটকের সর্বাপেক্ষা প্রধান ও প্রভাবশালণ 
চারত্র নহেন।...প্রকৃতপক্ষে যান কাহনীর মধ্যপ্থলে বিরাজ কাঁরয়া সমস্ত চরিনকে নিয়ামত ও 


নিয়ামত করিতেছেন, তান ওরংজীব। 
[বাংলা নাটকের ইতিহাস, ভৃতশীয় সং, প্‌ ২৭৩] 


ডক্টর ঘোষের মতে সাজাহান চরিত্রটি চলমান ঘটনার নিরুপায় দ্রস্টা, শান্তিমান স্রম্টা নহেন।” তাঁর 
মতে ওরংজনীবই সবচেয়ে ক্রিয়াশীল চরিত্র এবং 'তাঁনই সমস্ত ঘটনাকে নিয়ল্লণ করেছেন। 1কন্তু 
একাট প্রশ্ন স্বাভাঁবকভাবেই মনে হয়-'সাজাহান* নাটকে নাট্যকারের আঁভিপ্রায়াটি ওরংজীব 
কতখাঁন পূরণ করেছেন ? নাটকটি যে ট্রাজেডি এ 'ীবষয় কোনো মতানৈক্য নেই। নাটকাটকে 
যাঁদ ট্রাজোড আখ্যায় চাহ্ত করা যায়, তা হলে সমালোচকের মতানুযায়শ ওরংজীবকে সেই 
ট্রাজেডিরসের মূলাধার বলতে হয়। সমালোচক তাঁর স্বপক্ষে দু যান্ত দয়েছেন £ 
সাজাহান, দারা, সুজা, মোরাদ, সোলেমান, মহম্মদ-এতগদীল লোকের করুণ ট্রাজোঁড কেবল 
একাঁটমান্র লোকের জনা ঘাঁটয়াছে। অথচ নাট্যকার তাঁহাকে একেবারে নিদ্বন্দ হৃদয়হীন পশাচ 
কারয়াও অগ্কন করেন নাই ।...ুরংজীবের সক্ষয্ শাঁণত বৃদ্ধি বারবার জয়লাভ কাঁরয়াছে বটে, 
কিন্তু তাঁহার সর্বশেষ জয় হইয়াছে হৃদয়বাত্তর করুণ আবেদনে, এই বিষয়াট লক্ষ্য কারবার 
যোগ্য। [পৃরোস্ত গ্রল্থ ২৭৩-৪] 
“ওরংজীব চরিত্রে কোনো করুণরসাত্মক আবেদন নেই, যতটুকু অন্তর্ঘন্ঘ ও ববেকবাদ্ধর সংগ্রাম 
আছে, তা দ্রীজেডির নায়কের পক্ষে যথেষ্ট নয়। উরংজীবের শাঠ্য ও হন রাজনোতিক চক্রাস্তজালের 
মধ্যেও নাট্যকার বিবেকের দংশন দৌখয়েছেন। 'কন্তু এই চিত্রগাঁল সংক্ষিপ্ত ও ক্ষণস্থায়শ। হত্যাকে 
বিচার নাম দিয়ে ওরংজীধ নিজের দোষ ক্ষালন করার চেম্টা করেছেন । দারার মৃত্যুদণ্ডাজ্জা দৃশ্যের 
পূর্বে উরংজীবের এই জাতীয় দ্বল্ঘের বিশেষ কোনো পারচয় নেই। মোটকথা, গুরংজীব চারে 
ন্ব আছে বটে, কিন্তু সে দ্বন্ব এতই সংক্ষিপ্ত ও ক্ষণদ্থায়ী যে তা দ্রাজোঁডর নায়কের উপয্যস্ত নয়। 
এমন কি দারার মৃত্যুও যে তাঁর মনে খুব গভীর প্রাতীক্রয়ার সৃষ্টি করোছিল, এ কথাও বলা যায় 
না। সর্বশেষ দৃশ্যে ওরংজীবের অনুশোচনার ত্র আছে বটে, কিন্তু তা ওরংজীবের সংলাপের 


একচলিশ 


চেয়ে, সাজাহানের স্নেহদুরল উীন্তর মাধ্যমেই প্রধানত প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং ওরংজশব 
চারত্রের “হৃদয়বাঁত্তর করুণ আবেদন” যেমন তাঁর চিত্রের স্বাভাবিক পাঁরণাম নয়, তেমান 
যতটুকু আছে, তাও সাজাহানেরই পূত্রস্নেহদুর্বল মনের আনিবার্ধ প্রাতফলনের ফলেই সম্ভব 
হয়েছে। তা ছাড়া, কাহনীর মধ্যে প্রথম গাঁতিসন্টার করেছেন সাজাহান, ওরংজীব নন। নিরুপায় 
হয়েই অগত্যা সাজাহান তাঁর বিদ্রোহী পূত্রদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করোছলেন। এর ফলে যে 
চালের সংষ্টি হল, ওঁরংজীব তাঁর কার্ধক্রমের দ্বারা তাকেই আরো দ্রুত করে তুলেছেন। 
নাটকের প্রথমেই সম্রাট সাজাহান ও 'পতা সাজাহানের দ্বৈতসত্তা প্রকাঁশত হয়েছে । পরবর্তী 
কালে এই দুটি সন্তাই িরমমভাবে আহত হয়েছে এবং যান আঘাত হেনেছেন, তিনি তারই পত্র 
ওরংজীব। সাজাহানের এই অসহায়চিত্তের বেদনাময় আভব্যান্তকে অবলম্বন করেই নাটকখাঁন 
রচিত হয়েছে । সৃতরাং ট্রাজেডির নায়ক রংজীব নন, সাজাহান ।” 
[ রথশন্দ্রনাথ রায়ের ধম্বজেন্দ্রলাল : কাব ও নাট্যকার" গ্রন্থের ৩১৭--৩২০ থেকে উদ্ধৃত ] 
[কন্তু সাজাহানের ট্রাজোড সম্পকেও কয়েকাট মৌলক প্রশ্ন থাকে ঃ প্রথমত, সাজাহান 
প্রথম থেকে শেষ পযন্ত পনাক্কুয় সাক্ষণ", তাঁর চারন্রে 'ক্রয়াশশলতার অভাব। "দ্বিতীয়ত, ট্রাজেডির 
নায়কের পতনের জন্য দায় তাঁর চরিত্রের অন্তান্নীহত দূর্বলতা । সাজাহান তাঁর দুর্ভাগ্যের জন্য 
কতখানি দায়ী, এ প্র্ন মনে জাগতে পারে । তৃতীয়ত, নাটকের শেষে পরম স্নেহে সাজাহান তাঁর 
অপরাধী পুঘকে ক্ষমা করেছেন। সুতরাং সাজাহানের ট্রাজোঁড় কোথায়; এই প্রশ্নগহীলর 
মীমাংসা করতে হলে সাজাহানের গ্রাজোডর দু-একাঁট মৌলিক 'জজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হয়। 
্রাজোডর মধ্যে নানা বৈচিত্র্য ও শ্রেণীবিভাগ আছে । শেক্সপায়রের চারখাণন শ্রেষ্ঠ ট্রাজোডর 
(হ্যামলেট, ওথেলো, 'কং লীয়র, ম্যাকবেথ) মধ্যেও রূপগত তথা স্বরূপগত পার্থক্য কম নয়। 
উচ্চতর ত্রাজোঁডর মধ্যে জীবনেরই পরম রহস্য উদ্ভাঁসত হয়। তাই বহীবাঁচন্র জীবনের মত 
দ্রাজোডও শবাচত্র হতে বাধ্য। প্রীসদ্ধ সমালোচক ব্রাডলে শেক্সপীয়রের ধকং লীয়র' নাটকের 
সমালোচনার প্রথমেই স্বরূপবোচন্ত্য প্রসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন £ 
[7176 15541 01 77210150, 00)6110 01720000]) 15 117 100 09261 01 01৮6 
11109, 01761) 006 071025010101)5 15 15201)60, 0706 10210 71856] 19 076 10610 11) 
10180751176 10 01. 1715 1071001 62100655, ৪1101, %/:002-40105 00100110065 21195 
0005 6190]. 10 15 001021156 10) 151178 ].521. ৯৮170 002 00180110510) 
011155১0706 01৭ 10 1005 1০1 ৪ 1900 1711৩ 0650. 73255155. ৬/০ 179৬০ 1902 
12221061711) 1000 0101% 25 "2. 10721117016 5101050 2211050 0721) 5110101175”, 001 


2110051 71001] 25 2. 53061611721] 20 21] ৪3 210 26121. 
[ 5/442116229% 11725%9 (1941), 7885 280] 


ম্যাকবেথ, হ্যামলেট জাতীয় চারন্রের সঙ্গে লীয়র চাঁরন্রের পার্থক্য আছে। তাঁর পাঁরণামের 
জনা নিজের বার্ধক্য ও ভ্রান্তমূলক কার্যকলাপ দায়ী হলেও, আপাতদ্ঁজ্টতে তান 'নাঁক্ুয়-_ 
একটাল পর একটা দুঃখভোগ তান করেই চলেছেন। “ণকং লীয়র নাটকের সঙ্গে 'সাজাহান' 
নাটকের অনেক পার্থক্য আছে, কিন্তু ট্রাজেডি পাঁরকজ্পনার দিক থেকে ছ্জেন্দ্রলাল এই নাটকে 
0925৭ 0£ 50:81105 বলা যায়। দ্বিতীয়ত, সাজাহান 178551৪ চিত্র, কিন্ত বাহ্য 
নিক্কিয়তা সত্তেও সাজাহান চাঁরত্রে অন্তদ্্বন্বের অভাব নেই-_তা ছাড়া, দুর্বলতা তাঁর ট্রাজোডকে 
সক্রিয় করে তুলেছে । ব্দরণ-_ 
[ব০ 20616 50261102501 1771500100176) 100 50021170020 0706৩ 100 5191175 
11 2৩৪1 281 00 091080) 98০00, 2100 10. 50206 992156 £10£7 0৩ 88০00 


০ 9009191 15 08£10 0006০৫7১100] ০৫ 4£584£91 10 102) 136.. 
[ 0০12 1,22249% 2০9৮9 (1922) 7882 815 4& তে ৪15এ):] 


৪ বি টনক 


'বয়াল্লশ 


সাজাহানের স্নেহদৌর্বল্য, অন্যাদকে সম্রাট সাজাহানের কর্তব্যানম্ঠা-এই দুয়ের সংঘাত 
সাজাহানের চিত্তে যে দ্বন্দের সূম্টি করেছে, তাই দিয়েই নাটকের সূত্রপাত হয়েছে। স্নেহাধক্য 
সত্তেও সন্তান অবাধ্য ও দুর্বিনীত। জাহানারার 'বক্ষৃব্ধ উন্তিতে ও দারার সময়োচত অনুরোধে 
পিতা সাজাহানের মধ্যে সম্মাট সাজাহান জেগে উঠেছেন £ “তবে তাই হোক! তারা জানুক যে 
সাজাহান শুধু পিতা নয়-_সাজাহান সম্রাট ।" সাজাহান একই সঙ্গে পিতৃসন্তা ও সম্রাটসত্তা রক্ষার 
জন্য যে চেম্টা করেছেন, তার মধ্যেই ছিল এক মারাত্মক ঘ্লুট। সাজাহান স্নেহ 'দিয়ে তার "উদ্ধত 
বিজয়ী পুত্রকে বশীভূত করতে চেয়োছলেন। কিন্তু তাঁর পতৃসন্তা ও সম্রাটসত্তা দুইই 
ওরংজীবের কাছ থেকে 'নরমম আঘাত পেয়েছে । আগ্রাদুর্গের পতনের জন্য 1010091) 9:221)00" 
ওরংজীব যেমন দায়শ, তেমান দায়ী '8261907 ০0% 006 50611” অর্থাৎ সাজাহান। সাজাহান 
নিজেই স্বীকার করেছেন : “সব দোষ আমার । আম স্নহবশে ওরংজীব পন্লে যা চেয়োছল সব 
[দয়েছিলাম। ওঃ, আম এ স্বপ্নেও ভাবাঁন।” 

সাজাহানের এই ব্যান্তগত দাঁয়ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তাঁর অপাঁরমেয় স্নেহই 
বুদ্ধিভ্রংশের কারণ হয়েছে । আগ্রা দুগগেরি অভ্যন্তরে বন্দী সাজাহান একটির পর একাঁট আঘাতে, 
জজরত হয়ে উঠেছেন। তাঁর অন্তজাঁবনের অসহায় আর্ত্ধান নাটকখানর আবহাওয়াকে 
অশ্রুগম্ভীর করে তুলেছে । সাজাহান চরিত্র বাইরের দক থেকে 'নাঁছক্ুয় বলে মনে হয়, কিন্তু 
চারন্রের অন্তঃস্থলে 'ক্রিয়া-প্রাতিক্রিয়ার অভাব নেই। নাটকের শেষে সাজাহান ওরংজীবকে মার্জনা 
করেছেন। এই নাটকের শেষে সাজাহানের মৃত্যু হয়ান, এমন ক স্পম্টত কোনো বিপাত্তজনক 
সমাধান হয় নি। কিন্তু তার জন্য সাজাহান চাঁরব্রের ট্রাজক-ব্যঞগ্না বন্দুমান্র ক্ষ হয় ন। 
একদিকে দারা, সুজা ও মোরাদের পিতা সাজাহান পূত্রবিয়োগের বেদনায় অধীর, অন্যাদকে সেই 
পূুত্রধাতশ ওরংজীবের প্রাত তাঁর 'পতৃহদয়ের অপার মমতা । ওরংজীবও যে তাঁর পাত্র! সম্ভান- 
বাংসল্যর মধ্যে এই ভেদ সৃম্টি করে নাট্যকার সাজ্জাহানের দ্বিধা-বিভন্ত আত্মার আত্মক্ষয়কারী 
চিত্র একেছেন। শেষ দৃশ্যে ওরংজশীবকে মানা করার সময় সাজাহানের এই বিভন্ত বাৎসল্য- 
বৃত্তর সক্ষম ব্যঞ্জনাট লক্ষণীয় 8 “না, আমি আর সম্রাট হয়ে বসতে চাই না। আমার সন্ধ্যা 
ঘাঁনয়ে এসেছে-_-এ সাম্রাজ্য তৃমি ভোগ কর পুত্র! এ মাঁণমূস্তার মুকুট তোমার ।--আর মানা । 
ওরংজীব-ওরংজীব! না, সে সব মনে করব না! ওরংজীব!-তোমার সব অপরাধ ক্ষমা 
করলাম ।"-এই দৃশ্যে ওরংজীবের প্রাতি কোনো সহানুভূতি জাগে না। কিন্ত 'ওরংজীবকে 
ক্ষমা করার মধ্য দিয়ে পিতা সাজাহানের দ্রাজোডই 'নাঁবড়তর হয়ে উঠেছে। সাজাহানের এই 
স্বল্পায়ত উীন্তাট তাঁর অন্তজাঁবনের রহস্যকেই উদ্ঘাঁটত করেছে। 

ওরংজশীব চরিন্রাট "দ্বজেন্দ্রলালের এক অসামান্য সন্টি। আপাতাবরোধ ভাববাত্তর সমন্বয়ে 
চরিত্রট জাঁটল হয়ে উঠেছে। সংহাসনের জন্য যে কোনো প্রকার দুজ্কর্ম করতে তাঁর বাধে না, 
কিন্তু প্রয়োজন হলে বা বেগাঁতিক দেখলে মব্ধা বা খোদার দোহাই দিতে তান বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত 
হন না। এমন ক জাহানার তীর আক্রমণে যখন সমস্ত পাঁরবেশ ওরংজীবের বিরুদ্ধে, তখনো 
[তিনি বাক্চাতুর্য, উপাস্থতব্াদ্ধি ও কপট আভনয়ের দ্বারা এই সংকটময় পাঁরাঁস্থাঁতি আতিক্রম 
করেছেন। গুরংজীব রাজনোতিক কৃটকৌশলে 'সদ্ধ, যে কোনো িবরুদ্ধ পাঁরবেশকে আয়ত্তে 
" আনার জন্য বাঁদ্ধর তাঁর অভাব হত না। নাট্যকার ওরংজীব চাঁরত্রের মধ্যে দ্বন্দের সন্টার 
করেছেন। দারার মততুদণ্ডাজ্ঞা দেওয়ার সময় তাঁর চাঁরব্রদ্বন্থ পাঁরস্ফুট হয়েছে। পণ্তমাঞ্ক 
পণ্চম দৃশ্যে ওরংজশীবের পাপাচরণ প্রাতিক্রিয়ার একটি সধাক্ষপ্ত ছাঁব আছে-_“দারার ছিন্ন শির,” 
**সুজার রক্তান্ত দেহ” ও “মোরাদের কবন্ধ” ওরংজীবের সামনে ছায়াছাবর মত ভেসে উঠেছে। 
কিন্তু এন্র প্রাতক্লিয়াধমরঁ উত্তপ্ত চিন্তার আলোড়ন বিস্তীতিতে. ও গভাঁরতায় দ্রাজোঁডর নায়ক- 
সুলভ মর্যাদা পায়নি। এই দৃশ্যাট ম্যাকবেথের ছায়াছবি, বা ব্যাত্কোর প্রেতাত্মাদর্শন কিংবা 
হ্যামলেটের পিতার প্রেতাত্মাদর্শন দৃশ্যের মত গভশরার্থদ্যোতক নয়। 
* . সাজাহানের চার পুত্রের চরিত্রের বািভল্লতা ও বৈশিষ্ট্য সুস্পম্টভাবেই ফুটে উঠেছে। দারা 


তেতাল্লশ 


অপেক্ষাকৃত 'বিদ্তৃতভাবে রূপায়িত হয়েছে। দারা পতৃভন্ত সন্তান, সন্তানবৎসল 'পতা ও পত্ী- 
প্রোমক স্বামী । দর্শন-উপাঁনষদে তাঁর পাশ্ডিত্য থাকলেও জীবনযুদ্ধে তান তেমন পারদর্শ 
ছিলেন না।.তাঁর দুর্ভাগ্য ও মৃত্যুদৃশ্য বেদনার সণ্টার করে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু শোকাবহ ও 
করুণরসাত্মক হলেও দ্রাঁজক হয়ে 'উঠতে পারোন, তবে সেই করুণ সংবেদন সাজদহানের 
ট্রাজেডিকে বিশদ করায় সাহায্য করেছে। 'সাজাহান' নাটকে জাহানারার চাঁরন্রাট আঁগ্নরেখায় 
আঁন্কত। সাজাহানের আতীরস্ত স্নেহদৌর্বল্যের পাশে জাহানারা যেন তাঁর চাঁরান্রক দৃঢ়তার 
দ্বারা একটি ভারসাম্যের সৃম্ট করেছেন। তিনি স্পষ্টই বলেছেন £ “পূন্র কি কেবল 'পতার 
স্নেহেরই আধকারী? পুত্রকে পিতার শাসনও করতে হবে।” জাহানারাই সাজাহানের কর্তব্য- 
পরায়ণ সম্রাসত্তাকে উদ্বোধিত করেছেন । বন্দী পতার ম্ীন্তর জন্য তান ওঁরংজীবকে অনুনয় 
করেন নি, তিনি প্রকাশ্য দরবারে তাঁকে শ্লেষতীক্ষ] বাক্যবাণে জজর্শারত করেছেন । জাহানারা 
বীরাঙ্গনা- প্রত্যক্ষ রাজনশীতর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক আছে কিন্তু এর জন্য তাঁর নারীসুলভ 
স্নেহমমতা বিন্দুমাত্র সংকুচিত হয় ন। রুগ্ন পিতার রোগশয্যায় 'তনি কল্যাণময়ী মাতার মতই 
তাঁকে সেবা করেছেন, মাঝে মাঝে দুর্বলাচত্ত 'পতাকে স্নেহশাসনও করেছেন। 

সাজাহান” নাটকের দিলদার আর একটি উল্লেখযোগ্য চারন্র। 'দলদার প্রথমে ছিলেন 
মোরাদের বদৃষক। পরবতর্ঁ কালে 'তাঁন ওরংজীবের সভাসদের পদে উন্নীত হয়ৌছলেন। 
নাটকের শেষাঁদকে দিলদার ওরংজীবকে তাঁর প্রকৃত পাঁরচয় 'দিয়েছেন। তান এঁশয়ার 'বজ্ঞতম 
সুধী মি মহম্মদ নিয়ামত খাঁ হাজশ। রাজনৈতিক আঁভজ্ঞতা লাভের জন্য তান 'পাঁরবারক 
বগ্রহের আবর্তের মধ্যে, জাঁড়ত হয়ে পড়েছিলেন। এীতহাঁসক নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল রাজা! 
বাদশাহের অপদার্থ সভাসদ, ভাঁড়জাতীয় চারন্রের স্থুল রাসকতার দ্বারা হাস্যরসসাষ্টর চেস্টা 
করেছেন। এই 'বশেষত্ববাঁজত চাঁরন্রগুলিও যাত্রার গবদৃষক শ্রেণীর চাঁরন্রেরই এক একাঁট উন্নত 
সংস্করণমান্র। দিলদার চাঁরন্রাটি এর একমান্র ব্যাতিক্রম । 

[দিলদারকে একটি “সারয়ো-কামক' চারত্র বলা যায়। “এশিয়ার বিজ্ঞতম সুধী" বদৃষকের 
ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন। দিলদারের ব্যঙ্গের আড়ালে আছে এক গভীর সত্যদৃন্টি। ?দলদারের 
হাস্যরসাত্মক সংলাপের মৃধ্যে আছে বাকচাতুর্য (1), সুকাঠন শ্লেষবাক্য (47) 
ও বিদ্রুপাত্বক মনোভাঙ্গ (58015) স্থূল হাস্যরস ও আতরাঞ্জত ভাঁড়াম 'দলদার চারন্রে 
অনুপাস্থত। দিলদার তাঁর নানা ডীন্তর মধ্য 'দয়ে নানাপ্রকার আভাসে ইঙ্গিতে তৎকালীন 
আবর্তসংকুল রাজনৈতিক জাবনেরই বিচিন্ন ভাষ্য রচনা করেছেন। 'নর্বোধ মোরাদকে তাঁন 
নানাভাবে সচেতন করার চেস্টা করেছেন, কিন্তু মূর্খ মোরাদ কোনোঁদনই তা বুঝতে পারে 'ন। 
দিলদার বলেছেন £ “আম মুখে মোরাদের িদূষক। আম হাস্যপারহাস করতে যাই, সে 
ব্যজ্গের ধৃম হয়ে ওঠে। মূর্ তা বুঝতে পারে না। আমার উীন্ত অসংলশ্ন মনে করে হাসে" 
ওরংজীবের সভাসদ হয়েও দিলদার ওঁরংজীবকেও তীক্ষম ব্যঙ্গোন্ত ও সমালোচনা করতেও 
ছাড়েন নি। দারার মৃত্যুদৃশ্যে দিলদারের ছদ্ম-আবরণ অপসারত হয়েছে_এক মুহূর্তে “এক 
করুণাকাতর মত্যুভয়হশন অনাসন্ত সন্্যাসীর মৃর্তি আত্মপ্রকাশ করেছে। পাপ. ওরংজীবের 
বিবেক জাগিয়ে দিয়েছেন দিলদার-_বিদায়-মূহূর্তে ভারত-ঈশবর ওরংজীবের এশবর্যকে পদাঘাত 
করতেও তাঁর বাধে নি। “সাজাহান' নাটকের দিলদার [বদৃষক, সভাসদ, অনাসন্ত দ্ুষ্টা, ওরংজীব 
চারন্নের তীক্ষ72 সমালোচক ও করুণাকাতর হৃদয়বান দার্শানক। কোনো কোনো সমালোচক 
দিলদার চাঁরঘ্রের উপর ণকং 'িয়র' নাটকের “ফুল চরিত্রের প্রভাব আছে বলে মনে করেছেন। 
“ফুল রাজা লশয়রকে তারি কন্যাদের সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করোছলেন; ওঁরংজীব সম্পর্কে 
মোরাদকে 'দলদার সতর্ক করেছিলেন। স্বরৃপত, দুটি চরিত্রের মধ্যে কোনো তুলনাস্ঈ হতে 
পারে না। ফুল” িলয়রের প্রাজোঁডর আঁবচ্ছেদ্য অঞ্গ। ব্রাডলে বলেছেন : [10921006006 
088০৫ 71070001711, 200 00. 11819151070 10. 000 1500056 10107 ০০1৭ 5011 
10 18211001007, 85035 17910700006 ৪. 70100016 ০০1৭ 1১৩ 5150115 1£ ০2 ০ 


চুয়াল্লশ 


006 ০010115 7616 230020120. 1 5/%/251)22752% 77225%9 (1941 )১ 7856 211] 
সাজাহানের ট্রাজোডর সঙ্গে দলদারের কোনো যোগ নেই । তাছাড়া, 'দলদার চাঁরন্রাট ক্রমশ তার 
রহস্যময় দ্বৈতব্যন্তিত্ব হারয়ে ফেলেছে-কমিক' উপাদান ধশরে ধীরে শূন্যতায় মালয়ে গিয়ে 
একটি ণসারিয়াস' চারন্রেই পারণত হয়েছে । এই চাঁরত্র রচনায় নাট্যকার 'বাশস্ট শান্তর পারচয় 
'দয়েছেন। 


কবিতা ও গান 


আর্ধযগাথা (১ম ভাগ) & মার্চ ১৮৮২ আর্ধগাথা (১ম ভাগ) 'দ্বজেন্দুলালের সবপ্রথন্ধ 
গ্রন্থ । এই গ্রল্থ সম্পর্কে কাব বলেছেন : 


আমার 'বশেষ আসান্ত 'িল। আমার তা একজন সাবখ্যাত গায়ক 'ছলেন। প্রত্যষে উঠিয়া 
তান যখন ভৈ*রো, আশোয়ার ইত্যাঁদর সুর ভাঁজতেন, আমি অন্তরালে থাঁকয়া শু'নিতাম। 
শৈশব হইতেই আম গান ও কাঁবঅ রচনা কাঁরতাম। “আর্যগাথা”য় [১ম ভাগ, ইং ১৮৮২] 
প্রকাঁশত নক্ষঘ্রবিষয়ক গঈতাঁট আমি দ্বাদশ বর্ষে রচনা কাঁরি।...১২ বংসর হইতে ১৭ বৎসর 
পর্য্ত রচিত আমার গীতগ্ল ক্রমে 'আরগাথা নামক গ্রন্থের আকারে প্রকাঁশত হয়। তখন 
কাঁবতাও 'লাঁখতাম। 'িল্তু তখন কোন কাঁবতা প্রকাঁশত হয় নাই। কেবল “দেবঘরে সন্ধ্যা" 
নামক মতপ্রণীত একাঁটি কাঁবতা 'নবভারতে” [ইং ১৮৮৩] প্রকাশিত হয়। 
[ নাট্টযমান্দর, শ্রাবণ ১৩১৭ ] 
নিতান্ত অল্পবয়স থেকেই যে, 'দ্বজেন্দ্রলালের কাবপ্রাতভা ও গশীতিকার-প্রাতভার 'বকাশ 
ঘটোছল, এই গ্রল্থখাঁন তার প্রমাণ। 'আর্ধগাথা'র ভীমকায় কাব দুটি মূল্যবান ানদেশ দয়েছেন। 
“'আযগাথা'র সাংগতিক মূল্য সম্পর্কে কবি বলেছেন : 
'আর্যগাথা'র সকল গসতগুঁল কাতার ছন্দোবন্ধেই প্রায় রচিত হইয়াছে। ধকন্তু ইহার প্রাত 
গীতই সম্পূর্ণ শাস্ততঃ সরে গেয়। সঙ্গীত স্বরে, কবিতা ভাষায়, একথা সম্পূর্ণ সত্য। কিন্তু 
আমরা গাইবার সময় প্রায়ই ভাষা ও স্বর মিলিত কাঁর। আম যাঁদ গীতগ্বল প্রাতি পাকের 
'নকট গাইয়া বেড়াইতে পারতাম, তাহা হইলে গীতের সৌন্দর্য, অসৌন্দর্য স্বরের উপরই আঁধক 
ধনর্ভর কাঁরত। কিন্তু গীতগ্ণল শ্রুত অপেক্ষা আঁধক পঠিত হইবে। সেজন্য ইহাদের ভাষায় ও 
ছন্দোবন্ধে এত দাঁন্ট বোধ হয় আপাঁত্তকর হইবে না। যাহা হউক, ইহার জন্য গীতগুলি 
গাইবার ফিছু প্রাতবন্ধক হইবে না। 

“আর্ধগাথা'র ভিন্ন ভিন্ন গীতে, মধ্যে মধ্যে বিরোধশ ভাব থাকতে পারে। কিন্তু ইহা স্মরণ 
থাকা কর্তব্য যে, 'আর্যগাথা” কাব্য নহে। ইহা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মনের সমুদ্ভূত ভাবরাজ ভাষায় 
সংগ্রহ। 
দ্বিতীয়ত, ভামিকায় কাব তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তুও নিশি করেছেন : 
যাহারা একমান্র মনুষ্য-প্রেম-গশীতকেই গীত মনে করেন, 'আর্ধগাথা” তাঁহাদিগের জন্য রচিত 
হয় নাই, এবং তাঁহাঁদগের আদর প্রত্যাশা করে না। যাঁদ কেহ প্রকৃতির অপার্থব সৌন্দর্য ও 
লাবণ্যে কখন কখন বিমুশ্ধ হইয়া থাকেন, যাঁদ কেহ প্রকাতিকে দেখতে দৌঁখতে কখন কখন 
প্রকৃতি-বচাঁয়তার অনন্ত মাহমায় স্তব্ধ হইয়া থাকেন, যাঁদ কেহ শোক-জরা-সংকুল জগতে 
দুঃখাবসন্ন হইয়া কখন কখন নশরবে অশ্রবার 'বসর্জন করেন, যাঁদ কাহার অধঃপাঁতিতা হতভাগনশ 
দুঃখনী মাতৃভূমির নামত্ত নৈর্রপ্রান্ত কখন "সন্ত হইয়া থাকে, 'আর্ধগাথা' তাঁহারই আদর চাহে। 

'আধণগাথা'র গান ও কবিতাগুলিকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় : কে) প্রকৃতীবিষয়ক 
কাঁবতা প্রেকাতি-পূজা), খে) ঈশ্বরবিষয়ক কবিতা (ঈশ্বর-স্তুতি), গে) বেদনানুভূতির কাঁবিতা 
(বিষাদ্দোচ্ছৰাস) ও €ঘ) দেশপ্রেমমূলক কবিতা (আর্ধবীণা)। “দ্বিজেন্দ্রলালের প্রথম কাব্যে জীবন 
সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, থাকা সম্ভব ছিল না-এ যেন একাটি অস্পন্ট নীহারকার জগৎ। 
তাই “নক্ষত্র” 'আকাশ"', 'জ্যোৎস্নাস্নাত গগনে মেঘখন্ড”, 'মেঘ', 'কাননকূসৃম' প্রভাতি নিয়ে আপন 
মনের একাঁট কাব্যজগৎ গড়ে তুলেছেন। কাব তখনো মানবজগতের মধ্যে প্রবেশ করেন 'ন। 


পণ়তাল্লশ 


প্রকীতির কাঁবতা হিসাবেও এদের কোনো স্বতন্ত্র রূপ নেই-একাঁট অস্পস্ট ছায়া-গোধ্লর 
রাজ্য-_কাঁবর অপরিস্ফুট মানসলোকের ও ছায়াময় আঁস্তত্বের স্বপ্নসহচর মান্ল।” 

প্রকাত-পৃূজা” অংশের কোনো কোনো কাঁবতায় বহারশলালের কাব্যের অস্পষ্ট প্রাতধবান 
থাকলেও 'বহারীলালের কাঁবতার ধ্যানানাবস্টতা ও নিজনন মনের স্বাক্ষর এখানে অনুপাঁস্থত। 
কবির অন্তরের বেদনা ও বিষপ্নতা প্রকৃতির দর্পণে প্রাতফাঁলিত হয়েছে। প্রকীতুর প্রাত সুগভীর 
আকর্ষণ কাঁবাঁচত্ের ভাব-ভাঁমকে স্নেহ-প্রীতি, বেদনা ও এঁক্যানুভূাঁতর 'বাচত্র বর্ষণে আঁভীসন্ত 
করেছে। পবষাদোচ্ছরাস' অংশাঁটিতে কবিমনের 'বষপ্নতা আরো পাঁরস্ফুট হয়েছে। 'ঈশবরস্তোর' 
কাবতাগুচ্ছের কোনো আধ্যাত্বক গভীরতা নেই, সুলভ নাঁতিকাবতায় পাঁরণত হয়েছে। 
“আর্যবীণা” অংশের সহিন্রিশাঁট গানে দেশপ্রেমের উদ্বোধন করা হয়েছে । পরবতর্ঁ কালে জাতীয় 
ভাবোদ্দীপক এাঁতিহাঁসক নাটকে ও দেশপ্রেমমূলক খ্যাত সংগীতগীলতে 'তাঁন যে আদর্শ- 
বাদের কথা বলেছেন, গানগাাঁল তারই প্রাথামক পদক্ষেপ । দ্বজেন্দ্রলালের প্রথম কাব্য সম্পর্কে 
বলা হয়েছে: 


শদ্বজেন্দ্রলালের প্রথম কাব্যগ্রন্থেই পাশাপাশ দু'টি মনের অস্পস্ট ছায়া 'বদামান। একাঁটি হল তাঁর 
বাহর্মুখী গশীতিধমর্ঁ কাঁবাঁচত্, আর একাঁট হল তাঁর সামাজক মন-যে মন দেশের অধঃপতনের 
কথা ভেবে বেদনাতুর হয়, যে মন জাতীয় জীবনের জড়ত্বকে পাণ্চজন্য ধর্যানতে উদ্বোধিত করতে 
চায়। অবশ্য প্রথম কাব্যে অনুভবের চেয়ে ভাবাঁতরেকের প্রাবল্য অনেক বোশ। 'বহারখলাল 
ও হেমচন্দ্র দুজনার প্রভাবই পাশাপাশি চলেছে, সমদদ্রসম্পাকতি কাবতায় বায়রনেরও প্রভাব 
আছে, "আর্ধবীণা' অংশে মূরের “আইারশ মেলোডজ'-এরও দু'একটি গানের প্রাতিধ্যানি পাওয়া 
যায়। কাঁব দ্বিজেন্দ্রলাল এখনো তারি প্রাতিভার স্বক্ষে্র খুজে পান নি।...“আর্যগাথা পূর্ণশান্তর 
কাব্য নয়, কাব্যকোতূহল মান্র...এর বোশ এ কাব্য আব কিছু দাঁব করে না। 
[ স্বিজেচ্দ্রলাল : কাব ও নাট্যকার, পৃ ৯৩-৯৪, রথশন্দ্রনাথ রায় ] 
আর্ধগাথা €২য় ভাগ) ২০ ফেব্রুআঁর ১৮৯৩: 'আর্যগাথা” প্রেথম ভাগ) ও দ্বিতীয় ভাগের 
মধ্যে দশ বছরেরও বেশি ব্যবধান। এই দশ বছরের মধ্যে দ্বিজেন্দ্রলালের মনোজীবনের গভীর 
পাঁরবর্তন ঘটেছে । কাব ভূঁমকায় লিখেছেন : 
দশ বংসরে আমার জীবনে যুগান্তর হইয়াছে-কাহার না হয়ঃ আজ আম আর পাঠাধ্যায়শ, 
অনু, জগতের দূরস্থ-পারিদর্শক 'বাস্মত বালক নাই।__ 
আজ যেন রে প্রাণের মতন কাহারে বেসোঁছ ভাল; 
উঠেছে আজ নৃতন বাতাস, ফুটেছে আজ নৃতন আলো। 
মলয়ানিলসম্পৃন্ত, প্রেমোদ্ভাঁসত আমার হৃদয়কুর্জে তাই এই কৃতজ্ঞ অস্ফুট কুহুধৰনি। 
এই দশ বৎসর বঙ্গভাষাও কত অমূল্য রত্কে অলংকৃত হইয়াছে। যখন আর্যগাথা প্রথম ভাগ 
প্রকাঁশত হয়, তখন বঙ্গভাষায় আঁধক নৃতন সংগশত গ্রল্থ ছিল না। তাই বুঝ সে আদর 
পাইয়াছল। আজ দেশে গণতের ছড়াছাঁড়। এই বিচিত্র উজ্জবল নাট্যমান্দরে, শত প্রাণোন্মাদী 


গণতধবানির, শত কোমল বেণুবীণাঝংকারের ভিতর, আজ এই পূরাণ' সুর কি কেহ শ্নতে 
চাহিবে ? 


“আর্য গাথা" প্রথম ভাগে বেদনার চেয়ে বিলাস ছিল বোঁশ, সাধের চেয়ে সাধ্য ছিল অনেক কম। 
তখন কাঁব ছিলেন অনাভিজ্ঞ, জগতের “দুরস্থ-পাঁরদর্শক' মাত্র। 'কল্তু দশ বছর পরে কাব ত্রিশ 
বছরের 'বুবাহত যুবক। প্রকীতির ছায়াচ্ছন্ন জগতে তান আর বিচরণ করেন না, তানি মানব- 
লোকে প্রবেশ করেছেন। 'আধগাথা" দ্বিতীয় ভাগের কাঁবতাগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য এর স্বতঃ- 
স্ফূর্ত ও অকৃত্রিম গীতিধার্মতা। দ্বিজেন্দ্রলালের মানসলোকে যে রোমান্টিক সৌন্দর্যানূভূঁতি 
ছিল, তাই 'ববাহ-পরবতাঁ জীবনে সৌন্দর্য ও প্রেমের 'নাঁবড় উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে। 'আর্ধগাথা' 
দ্বিতীয় ভাগ কাব্যের মূল উৎস নারীপ্রেম_ পত্ষী সূরবালা দেবশই এই কাব্যের সৌন্দর্য ও 
প্রেমানুডীতির কেন্দ্রস্বরুপিণী। 'আর্ধগাথা”র কয়েকটি কবিতায় গশীতিধার্মতার চূড়ান্ত পাঁরচয় 
পাওয়া যায়। এক তন্দ্রাতুর *সুখালস্যময় অনুভব কাবিতা ও গানগ্ীলর উপরে এক সুক্ষ সুরের 
বাতাবরণ সাঁষ্ট করেছে। কবির স্বঙ্নাবহহল মনের এমন সৃরধমর্শ ও আত্মতন্ময় প্রকাশ তাঁর 


ছেচাল্লশ 


পরবতর্শ কাব্যগঁলর মধ্যেও দুলভ। বিশ্বপ্রকাতিও প্রেমের রসে সঞ্জশীবত হয়ে উঠেছে। আবার 
প্রকৃতির প্রসাধন-বোচিন্র্যে কাব তাঁর প্রেয়সীকে নূতন আভরণে সাঁজয়ে তুলেছেন। “রন্তমাংসের 
মানবী ও বাসনালক্ষমী-_দুজনকেই কাব একই হদয়াবেগের দ্বারা আরাঁত করার চেস্টা করেছেন। 
ণকন্তু সব সময় যেন “সরুমোটা” দুটি তার এক হয়ে ওঠে নি। রন্তমাংসের মানবীসন্তা যখন 
জ্যোতর্ময়ী সোন্দর্যলক্ষমীতে পাঁরণত হয়েছে, তান কাবমনের 'লরিকপ্রবণতার সর্বোস্তম 
প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু যেখানে গৃহিণী সুরবালার মানবাসন্তাই কাঁবদৃষ্টিতে বড় হয়ে উঠেছে, 
সেখানে কাব্যসৌন্দর্য খাণ্ডিত হয়েছে। 'িরিকের মৃদু-মূর্ঘনাও অন্তার্হত হয়েছে।” 

'আর্যগাথা' 'দবতীয় ভাগের সমালোচনায় (সাধনা, অগ্রহায়ণ, ১৩০১) রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য 
িবশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তান তাঁর আলোচনায় প্রথমে ণবশুদ্ধ কাব্য” ও পবশুদ্ধ সংগীত'-এর 
মধ্যে সম্পর্ক 'নর্ণয় করেছেন : 

বিশুদ্ধ কাব্য ও বিশুদ্ধ সংগীত স্ব স্ব আঁধকারের মধ্যে স্বতন্ুভাবে উৎকর্ষ লাভ কাঁরয়া 
থাকে, কিন্ত 'বদ্যাদেবগণের মহল পৃথক হইলেও তাঁহারা কখনো কখনো একত্র মায়া থাকেন । 
সংগীতে ও কাব্যে মধ্যে মধ্যে সেরূপ মিলন দেখা যায়। তখন উভয়েই পরস্পরের জন্য আপনাকে 
কথাণ্টৎ সংকুচিত কাঁরয়া লন, কাব্যে আপন 'বাঁচন্র অলংকার পারত্যাগ কাঁরয়া 'নিরাঁতিশয় স্বচ্ছতা 

ও সরলতা অবলম্বন করেন, সংগীতও আপন তালসূরের উদ্দামললাভগ্গকে সংবরণ কাঁরয়া 

সখ্যভাবে কাব্যের সাহচর্য করিয়া থাকেন। 

হিন্দুস্থানে বিশুদ্ধ সংগণত প্রাবল্য লাভ কাঁরয়াছে, 'কল্তু বঙ্গদেশে কাব্য ও সংগীতের 
সামমলন ঘঁটিষাছে। গানের যে-একটি স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য, একটি স্বাধীন পাঁরণাত তাহা এ-দেশে 
স্থান পায় নাই। কাবাকে অন্তরের মধ্যে ভালো কারয়া ধবাঁনত করিয়া তুঁলিবার জনাই এ-দেশে 
সংগশতের অবতারণা হইয়াছল। কাঁবকঙ্কণ চণ্ডী, অন্নদামঞ্গল প্রভাতি বড়ো বড়ো কাব্যও সুর- 
সহকারে সর্বসাধারণের নিকট পঠিত হইত । বৈষব কাঁবাঁদগের গানগীলও কাব্য--কেবল চাঁরাঁদকে 
উঁড়য়া ছড়াইয়া পাঁড়বার জন্য সরগুল তাহাদের ডানাস্বরূপ হইয়াছল। কবিরা যে কাব্য রচনা 
কাঁরয়াছেন সুর তাহাই ঘোষণা কারতেছে মাত্র। 
'আর্ধগাথা”-র রচনাগ্ীলকে লেখক দহশ্রেণীতে ভাগ করেছেন : “ইহার মধ্যে কতকগাাল গান 
আছে যাহা সুখপাঠ্য নহে, যাহার ছন্দ ও ভাবাবন্যাস সুরতালের অপেক্ষা রাখে, সেগল সাহত্য 
সমালোচনার আঁধকারবাহর্ভত। আর কতকগীল গান আছে যাহা কাব্য হসাবে অনেকটা সম্পূর্ণ 
_যাহা পাঠমান্রেই হৃদয়ে ভাবের উদ্রেক ও সৌন্দর্যের সণ্টার করে।” রবীন্দ্রনাথ 'দ্বজেন্দ্রকাব্য 
থেকে উদ্ধীত-সহযোগে তাঁর বন্তব্যকে প্রমাণ করেছেন। যে সমস্ত কাঁবতায় গশীতিরসের আস্বাদন 
ব্যাহত হয়েছে, সেখানে কাব্যরশীত ও ভাষা অনেক সময় অন্তরায়ের সাঁন্ট করেছে। “যে সমস্ত 
কাঁবতায় প্রচালত ছন্দোবাঁধ ও মসৃণ সুকুমার বাণভাঁঙ্গকে কাঁবতার ভাষায় পারণত করা হয়েছে 
সেখানে গাঁতিধর্মের ললিত লশলাস্পন্দন স্বতঃস্ফৃর্ত হয়ে ওঠার পথে কোনো বাধা ঘটে 'ন-_ 
সেখানে অজ্প-বিস্তর সংকেত-ব্যঞ্জনাও আছে । 'কন্তু যেখানে কবিতার মধ্যে গদ্যাত্মক কাব্যরীতি, 
সংলাপাত্মক ভঙ্গি ও যাান্তর ভাষা এসে পড়েছে, সেখানে কাঁবতার স্বচ্ছন্দ লীরকপ্রবাহ উপল- 
বন্ধুর কাব্যভূমিতে নানাভাবে প্রাতহত হয়ে একাঁট তীক্ষণগ্র তির্যকর্প লাভ করেছে।” কিন্তু 
[বিশুদ্ধ 'লারক 'হসাবে 'আর্ধগাথা'র কয়েকাঁট কাঁবতার কাব্যমূল্য অনস্বীকার্য । 

'আর্যগাথা' কাব্যের অন্তঃপ্রকৃতি গীতিধমর্ঁ হলেও কখনো কখনো য্যৃস্তপ্রধান গদ্যাত্বক 
ভাষা দ্বিজেন্দ্ললালের কবিশান্তকে আর এক পথে নিয়ন্দিত করেছে । তবু শুদ্ধ লারক ও 
প্রেমগাথা হসাবে বিচার করলে “'আর্ধগাথা'র শিজ্পমূল্য অনস্বীকার্য। এই কাব্যে এমন 
কয়েকাট কাঁবতা আছে যাদের 'দ্বজেন্দ্রসাহত্যের শ্রেষ্ঠ প্রেমগশীতিকা বলা যায়। উচ্ছ্বাসত 
প্রণয়াবেগ, চিরন্তন প্রেমরহস্যের গভীর উপলাব্ধ এই প্রণয়সংগতগনলর উল্লেখযোগ্য বৌশষ্ট্য। 
পরবতাঁকালে এর অনেকগ্যল গান তানি নাটকে ব্যবহার করেছেন। প্রকৃতি ও প্রেমের যুগল- 
মূর্তি উদ্ভাসত হয়ে উঠেছে একটি বিখ্যাত গানে : 

আয়রে বসন্ত তোর ও 
করণ-মাথা পাখা তুলে। 


সাতচাল্লশ 


নিয়ে আয় তোর কোকিল পাঁখর 
গানের পাতা গানের ফুলে! 

শুধু পূর্বরাগের হদয়োচ্ছবাসই নয়, অতাত প্রেমের স্মৃতি ও বেদনানুভূতিও প্রকাঁশত হয়েছে : 
আর একবার ভালবাস 

বাসতে যেমন আগের দিনে; 
ঘুমন্ত প্রাণের ব্যথা 

আবার জাগছে প্রাণে। 
যৌবন-বেদনার লশলার্পই নয়, প্রেমের স্বরূপ উপলাষ্ধও এই কাব্যের প্রেমগণীতিতে ঝংকৃত 
হয়েছে : 


তোমার হদয়খাঁন আমার এ হদয়ে আনি 
রাখ না কেনই যত কাছে, 
যুগল হৃদয় মাঝে ক যেন বিরহ বাজে, 
' ক যেন অভাবই রাঁহয়াছে। 

শনাবড় 'মলনের মধ্যেও সুগভীর গবরহের অনুভূতি জেগে থাকে । এ যেন বৈষব কাঁব বার্ণত 
সেই “দহ কোরে দণুহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাঁবয়া।' কাঁবতাটর শেষাংশে কাব ব্যান্তহদয়ের 
আকাত্ক্ষাকে এক অসাম ও শাশবত প্রেমের ব্যঞ্জনার সঙ্গে মিশিয়ে বিশ*বব্যাপক করে তুলেছেন। 

“আর্ধগাথা” (দ্বিতীয় ভাগ) কাব্যের প্রথমাংশে (কুহু) যেমন মৌলিক কাঁবতাগুঁল সংকালিত 
হয়েছে, তেমনি এই কাব্যের 'দ্বিতীয়াংশে (পিউ) কাব কয়েকটি “আত প্রীসদ্ধ ইংরাঁজ স্কচ ও 
আইরিশ সংগীতের অনুবাদ” করেছেন। 'বলাতপ্রবাসকালে দ্িবজেন্দ্রলাল 'বলাত গানের চর্চা 
করেছিলেন। 'বদেশী গানের অনুবাদেও 'দিবজেন্দ্রপ্রাতভার মৌিকতা পাঁরস্ফুট হয়েছে। 
কাঁহনীমূলক গাথা, কবিতা, প্রেম ও লৌকিক জাঁবনাশ্রয়শ কবিতা, দেশপ্রেমের কাঁবিতা প্রভাত 
বিচিত্রবিষয়ক কবিতা এখানে স্থান পেয়েছে। গ্রাম্য গাথাগ্ঁলতে স্থাঁনক ও আণ্ঠালক পাঁরবেশ 
পরিবর্তন করে বাংলাদেশের গ্রামজশীবনের সহজ কাঁহনীতে পাঁরণত করা হয়েছে। 44%14 
19/07% ০1%9, 12176 4 1৭9442%5) ০4/151 172112%2) 177097%/ )09% %9 779 179//9 
11/02/2575 777% 9৮ 17727 প্রভাতি গানের অনুবাদে 'দ্বজেন্দ্রলালের কৃতিত্বের পারচয় পাওয়া যায়। 

অবশ্য অনুবাদগুলির মধ্যে কোনো ব্রুট নেই একথা বলা যায় না। 0%42” /2৫ £722% 
£/0০94 £726-র মত সুবিখ্যাত গানের অনুবাদে আড়ম্টতা আছে-_গানাঁটর অন্তার্নীহত 'লার- 
[সিজম্‌ তাই পাঁরস্ফুট হতে পারে নি। 73076, 52996 1109-ও খুব রসোত্তীর্ণ অনুবাদ 
নয়, আড়্টতা আছে। 1512 77%/4%%£4-ও খুব ভালো অনাদিত হয়ান- প্রকাশরীতর মধ্যেও 
গদ্যাত্মবক ভাঁঞ্গ প্রবল হয়ে উঠেছে। . এই অনুবাদ-সংগণীতগদীলর ভাষা রবীন্দ্রনাথের মনঃপৃত 
হয়নি। তবে একথা ঠিক যে অনুবাদ সংগীতগুির মধ্যে অনুবাদক ও গাঁতিকার 'দ্বিজেন্দুলালের 
পাঁরচয় পাওয়া যায়। 


আধাড়ে (ডিসেম্বর ১৮৯৯) : “আষাটে” দ্বিজেন্দ্রলালের সর্বপ্রথম ব্যত্গবিদ্রুপাত্মক কাব্য 
হলেও একে আকাঁস্মক বলা যায় না। গীতধার্মতার অন্তরালে 'দ্বিজেন্দ্রমানসে যে শৈলবম্ধূর 
কঙ্করময় একটি অংশ ছিল, 'আর্ধগাথা'র মাঝে মাঝে তার উত্র আত্মপ্রকাশ ঘটেছে- সেখানে 
গান নেই, আছে সংলাপাত্বক গদ্য, আছে যান্ততর্কের বিশ্লেষণ ভাষা । 'আষাট়ে” কাব্য 
সম্পর্কে আর একটি কথাও মনে রাখার প্রয়োজন। "আষাঢ়ে, প্রকাশের আগে 'হাঁসর গান'-এর 
কয়েকাঁট গানও লেখা হয়োছল। সেই গানগ্ীল অবলম্বন করে 'আষাটে, প্রকাশের আগেই 
[তান দখা প্রহসন লিখোছলেন--কল্কি-অবতার” ১৮১৯৫) ও পবরহ? (১৮৯৭)। সুতরাং 
দ্বিজেন্দ্রলালের মানসলোক বিদ্রুপাত্মক রচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েই ছিল। £আষাছে' 
কাব্যকে তাই 'ছ্বজেন্দ্রপ্রাতভার পক্ষে আকাঁস্মক বলা যায় না। 


আটচল্লিশ 


'আষাটে” কাব্যের বিষয়বস্তু শু কাব্যরীতির সংকেত এর 'ভূমিকা'র মধ্যেই নিহত আছে : 


“আযাট়ের গল্পগল প্রায় সবই ইতিপূর্বে সাধনা, সাহত্য ও প্রদীপে বাহির হইয়াছিল। অদ্য 
সেই 'বাচ্ছন্ন কাঁবতাগুঁল একন্সে প্রকাশিত হইল। 

এ কিতাগুঁলর ভাষা অতীব অসংযত ও ছন্দোবন্ধ অতীব 'শাথিল। ইহাকে সাঁমল গদ্য 
নামেই আভহিত করা সঞ্গত। কিন্তু, যেরূপ বিষয়, সেইরূপ ভাষা হওয়া বিধেয় মনে করি। 
হারনাথের শবশরবাড়ীশ যাত্রা কারতে মেঘনাদবধের দুন্দুভি র ভাষা ব্যবহার কাঁরলে 
চাঁলবে কেন 2 

'আষাটে'-র গল্পগাঁল একজাতীয় নয়; এদের মধ্যেও 'বাভন্ন পর্যায় আছে। “কেরাণন” কবিতায় 
বিড়ম্বনা ও রুক্ষ বাস্তবের ছবি একেছেন। এই ছন্দোহীন রোমান্স-বাঁজত 

জীবনের প্রাতাট অসংগাঁত হাস্যজ্যোতিতে উদ্ভাঁসত হয়েছে । 'অদলবদল” কাঁবতার কৌতুকরস 
সাঁন্ট হয়েছে ঘটনাসংস্থানের কৌতুককর অসংগাত থেকে । 'হ'রিনাথের *বশুরবাঁড় যাত্রা” 
গল্পাটতে নবাঁববাহত হারিনাথের *বশূরবাঁড় যাত্রার কৌতুককর কাঁহনী বার্ণত হয়েছে। 
উপন্যাস পড়ে হারনাথের মনে যে রোমান্স-রসের উদ্রেক হয়ৌছল, তা ,বাস্তবের রড আঘাতে 
চূর্ণ হয়েছে। দাঁড়র কাঁহনশ যুন্ত করে কাব এই কাঁহনীকে উপভোগ্য করে তুলেছেন। 
রাজা নবকৃষ্ণ রায়ের সমস্যা, কাঁবতাঁটর মূল রসকেন্দ্র দ্বধাগ্রস্ত। গল্পাঁটর প্রথমাংশের সঙ্গে 
দিবতীয়াংশের কোনো গভীর সংযোগ নেই। বিচ্ছিন্ন ব্যগ্গাঁচত্র হিসেবে এর মূল্য থাকলেও 
ব্যঙ্গল্পের সংহত রূপের অভাব আছে । “কর্ণীবমর্দন কাঁহনণ' 'দ্বিজেন্দ্রলালের একটি অপূর্ব 
সৃঁষ্টি। কাবতাঁটর ছন্দের সঙ্গে বিষয়ের অসঙ্গাঁত হাস্যরসকে ফুটিয়ে তুলেছেন। 

'আষাটে' কাব্যটির মধ্যে বিশৃদ্ধ কৌতুকরস ছাড়া সামাঁজক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও আছে। 'শ্রীহার 
গোস্বামী” বাঙ্গালী মাহমা”, ভিট্টপল্লীতে সভা” 'নিসীরাম পালের বন্তৃতা” 'কলিযূগ', শিকদেব 
প্রভীত কাঁবতার মূলরস স্যাটায়ার। এডেপুটি-কাহনণ' ও “বাগ্গালশ মাহমা'তেও 'বদ্ূপ আছে, 
কিন্তু বিদ্রুপের চেয়ে সেখানে কৌতুকই বড় হয়ে উঠেছে। 

এই কাব্য সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল একাঁট ইংরোজ ব্যৎগকাব্যের কাছে ধণস্বীকার করেছেন ঃ 
“বিলাত হইতে ফিরিয়া আঁসয়া বাগ্গালা ভাষায় হাস্যরসাত্মক কবিতার অভাব পূরণ কারবার 
আভপ্রায়ে [1/29109১/ [.5550৭5-এর অনুকরণে কতকগ্ীল হাস্যরসাত্মক বাঙ্গালা কাঁবতা 
[লাখয়া “আষাটে” নামে প্রকাশ কার।” [আমার নাট্যজীবনের আরম্ভ, নাট্যমান্দর, শ্রাবণ 
১৩১৭ ]। রেভারেন্ড রিচার্ড হ্যারিস বারহাম (১৭৮৮-১৮৪৫) রাঁচত 'ইনগোল্ডসাঁব 'িজেন্ডস্‌, 
উনাঁবংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে (১৮৪০) ইংরোজ সাহত্যের ব্যঙ্গাবদ্রপাত্রক কাঁবতার মধ্যে একটি 
শবাশস্ট স্থান আঁধকার করোছল। 'কন্তু “আযাট়ে'-র সঙ্গে ইংরোজ কাব্যখানর কোনো আত্মিক 
সম্পর্ক নেই। কিন্তু দুটি 'বষয়ে ইনগোল্ডসাঁবর সঙ্গে 'দ্বিজেন্দ্রলালের মিল আছে। ইনগোল্ডসাঁব 
সামাঁজক অসঙগাঁত দূর করতে চেয়েছিলেন_-তবে অন্যভাবে 

77120 06 00176 11010 00791 1)91005) 50176 01 0)5 1,222745 110151)0 10015 
6511 17256 110001160 006 0179156 06 11165616006; 090 17%209//%) 15 006 
৮7011 01 2. 012101960, 129960060 ৪190 0171150191)-1)6210 016171091), 1052 001) 
000061 2 006 600 ০01 1715 116 53 0) 1015 [0110956 510010 102 1500210156৫ 
101 191 10 2521) 1)010690 2006201 10001221990 21101 2109 11019050016 11 
21) 955 046 5016170160 000 200. 0171651. 

[117 11020195195 1.651005. 10166. 107 10100109619 2120. 00 73085. 11000- 
00001010, 72952 0] 
ইনগোল্ডসাঁব প্রাসদ্ধ গাথা ও কাঁহনশকে লঘুভাঁঙ্গতে বলেছেন। ইনগোল্ডসাবর £00121-এর 
অনুসর্ণে দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর কোনো কোনো কাঁবতার শেষে মর্মার্থ যোগ করেছেন। 
দ্বজেন্দ্রলালের রচনার টেকাঁনক সর্বত্র সমানভাবে সার্থক না হলেও তার 'শোষণশান্ত'র 
অসামান্যতাকে অস্বীকার করা যায় না। গুরুগম্ভীর তংসম শব্দ থেকে চলাঁত ভাষা, 


উনপন্ঠাশ 


আণুলিক ভাষা, এমন কি কল্যাং, পর্যন্ত কাব ব্যবহার করেছেন। তা ছাড়া ইংরোজ, 
হন্দী, আরবি-ফারাঁস, সংস্কৃত নানাজাতীয় শব্দের 'বাঁচত মিশ্রণে তান এই কাঁহনীগুলি 
রচনা করেছেন, ছন্দের ছাঁচের মধ্যে ঢেলে সবগুলিকে 'মাঁলয়ে নেওয়ার চেম্টা করেছেন। 
এ 'িবষয়েও তিনি ইনগোলসবিরও অনুসরণ করেছেন। বারহামের কাহনী সম্পর্কে বলা 
হয়েছে: 
710) 132117910 006 10911095010 11010117615 09106011015 1080116 21519020101). 
7100, 15689061911 056৭ ৪ 10998 107606, 069121760 601 1790100721)0920 
[78170956 : ১৪০ €ড61 50১ 1015 56155 1795 21) 05010) 5000090). 1,691 19120, 
001161)0 519176, 00090801005 10 6001 01 250 191009265, 2130 01502009101 7১:01১61 
107217)5, 211 01010 10000 1015 5001110 19906. (0000951010911% 106 50155 006 
[01010161) 105 59110010852 01420 096 6100 01 0) 11176. 


[11)5 11772019517 1,2221505 : 701650 10/70101) 11819610210] 007 13025, 
[170040001010. 722. 200] ১0৬] 


বলাবাহুল্য এর অনেকগুলি বৈশিম্ট্যই 'আষাটে' কাব্যের কাব্যরশীতিতে প্রকাশিত হয়েছে। 

[দবজেন্দুলালের “আষাঢে" কাব্য প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথ এই কাব্যের এক সমালোচনা লেখেন 
(ভারতী, অগ্রহায়ণ ১৩০৫) এই সমালোচনায় রবীন্দ্রনাথ 'দ্বজেন্দ্র-প্রাতভার মৌলকত্ব ও 
বৌশন্টোর প্রাতি যে আলোকপাত করেছেন, তা িবশেষভাবে প্রাণধানযোগ্য : 


প্রাতভার প্রথম উদ্দাম চেষ্টা, আরম্ভেই একটা নূতন পথের দিকে ধাবিত হয়, তাহার পর 
পারণাত সহকারে পুরাতন বন্ধনের মধ্যে ধরা দিয়া আপন মর্মগত নৃতনত্বকে বাঁহঃস্থত 
পুরাতনের উপর দ্বিগণতর উজ্জ্বল আকারে পাঁরস্ফুট কাঁরয়া তুলে । “আধাট়েশর গ্রল্থকর্তা 
যতগুলি কাঁবতা লিখিয়াছেন, সকলের মধ্যে তাঁহার প্রাতিভার স্বকায়ত্ব প্রকাশ পাইতেছে, 'কিল্তু 
যে কবিতাগুঁল তান ছন্দের পুরাতন ছাঁচের মধ্যে ঢাঁলিয়াছেন, তাহাদের মধ্যে নৃতনত্বের 
উজ্জবলতা ও পূরাতনের স্থাঁয়ত্ব উভয়ই একন্র সম্মালত হইয়াছে। আমাদের 'বশ*বাস কবিও 
তাঁহার অন্তরের মধ্যে উপলাব্ধ কাঁরয়াছেন এবং তাঁহার হাসাসষ্টির নহাারকা রুমে ছন্দোবন্ধে 
ঘনগভূত হইয়া বঙ্গসাহত্যে হাস্যলোকের প্রব নক্ষত্রপুঞ্জ রচনা কাঁরবে। 


প্রবন্ধাটর উপসংহারে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন : 


তাছাড়া সামায়ক পন্রে মধ্যে মধ্যে “আষাঢ়” রচয়িতার এমন সকল কবিতা বাহর হইয়াছে 
যাহাতে হাস্য এবং অশ্ররেখা, কৌতুক এবং কল্পনা, উপরিতলের ফেনপঞ্জ এবং 'নম্নতলের 
গভীরতা একত্র প্রকাশ পাইয়াছে। তাহাই তাঁহার কাবত্বের যথার্থ পাঁরচয়। 'তনি যে সকল 
বাঙাঁলকে হাসাইবার জন্য আসেন নাই সেই সঙ্গে তাহাঁদগকে যে ভাবাইবেন এবং মাতাইবেন 
এমন আশ্বাস দয়াছেন। ৃ 


হাঁসর গান (১৮ জুলাই ১৯০০) £ 'হাঁসর গান' পুস্তকাকারে পরবর্তাঁ কালে প্রকাশিত 
হলেও এর অনেকগুলি "আষাট়ে' প্রকাশের অনেক আগেই রচিত হয়েছিল। “হাঁসর গান”এর 
জনাপ্রয়তা ও গ্রল্থাকারে প্রকাশ সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রলাল বলেছেন : 
ণিববাহান্তে অনেকগুলি প্রেমের গান রচনা করিয়া আর্ধগাথা 'দ্বিতখয় ভাগ নাম 'দিয়া ছাপাই 
এবং কতকগুলি হাঁসর গানও রচনা কার। এই হাসির গানগুললি অবিলম্বে অনেকের প্রিয় হয় 
এবং কার্ধোপলক্ষে কোন নগরে যাইলেই এসকল গান আমার স্বয়ং গাঁহয়া শুনাইতে হইত। 
সেগীল এককে গ্রল্থাকারে বহাঁদন পরে প্রকাশিত হয়। 
“আষাট়ে'র হাস্যরস অপেক্ষা এই গ্রন্থের হাস্যরস পাঁরণত ও স্বতঃস্ফূর্ত। এই দুই হাস্যরসাত্মক 
কাব্যের তুলনা করলে বলা চলে-__ 
'আবাড়ে' বিদ্ুুপ-কৌতুকের প্রথম জলোচ্ছবাস- প্রথম বর্ষার আকশ্গিক যৌবন-সন্টারেরু একাঁটি 
প্রগল্ভ ও দুর্বনীত আবেগ, তাই অসম পদক্ষেপের স্খলনচিহৃও সেখানে অনুপাঁষ্থত নয়।. 
'হাঁসর গান কাবির (বান বয়সের সংগণত-সংকলন-_ীবষয়-বোঁচন্ন্যে ও রসবোঁচ্রে রচাঁয়তার 
অনন্যসাধারণ শান্তমত্তার পাঁরচয় বহন করে। ছ্হাঁসর গান'-এর কোনো কোনো রচনায় যৌবনের 


পণ্চাশ 


উচ্ছলতার সঙ্গে প্রোৌত্বের স্থিরদৃষ্টর সমন্বয় ঘটেছে। তাই “হাসির গান হাঁসির গান হয়েও 
যেন আরো-কছ্‌-হ্াঁস ও অশ্রু যেন এক এক সময় সম্পূর্ণ এক হয়ে যায়। 
[ ম্বিজেন্দ্ুলাল : কাঁৰ ও নাট্যকার, রথণন্দ্রনাথ রায়, পৃ. ১২১] 


তান্সান্‌-বিক্রমাঁদত্য সংবাদ”, 'রাম-বনবাস”, 'দুরবাসা', 'কালোর্প', 'কৃফ্-রাধকা-সংবাদ" 
প্রভৃতি গানে দ্বিজেন্দ্রলাল সূকৌশলে কালগত' অসংগাঁত সষ্টি করেছেন। ইাতহাস-পুরাণ 
সম্পর্কে যাঁর স্বজ্পতম জ্ঞানও 'তানও পড়তে পড়তে হাস্যকর অসংগাঁতর সঙ্গে বহুবার ধাক্কা 
খাবেন। 'দ্বজেন্দ্রলাল উৎকট-মধুর, লঘু-গুরু, সম্ভব-অসম্ভব, আপাত-বিপরীত রসগীলকে 
একই পান্রে পারবেশন করেছেন। 

কতকগুলি গানে সামাজিক ও রাজনোৌতিক জীবনের অসংগাঁতিকে কশাঘাত করা হয়েছে। 
২০609147060 171000905, "বলাতফের্তা, চম্পটির দল, 'নতুন কিছু করো, 'নবকুলকামনণ," 
'বদলে গেল মতটা" প্রভৃতি কাবতায় ও গানে দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর সমকালীন দেশরালের ব্ুঁট- 
বচ্যুতিকে চোখে আঙুল 'দয়ে দৌখয়ে দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে পাঁচকাঁড় বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাঁট 
মন্তব্য উল্লেখযোগ্য : 


যখন দ্বিজেন্দ্রলাল বিলাত হইতে এদেশে 'ফারয়া আসেন তখন বাঙ্গালায় ভাবস্থাবিরতা 
ঘটয়াছল। 'ন্যাকাম'র প্রভাব চারিদিকে বেশ ফুটিয়া উঠিয়াছিল। সেই সময়ে দ্বিজেন্দ্রলাল 
িলাতের 17011770001 বা ব্যঙ্গের এদেশে আমদানি কাঁরয়া, দেশীয় শ্লেষের মাদকতা উহাতে 
গমশাইয়া ধিলাতী ঢঙের সরে হাসির গানের প্রচার কারলেন। দবজেদ্দ্রলালের হাঁসর গান 
বাঙ্গালশ সমাজে একটা ভাবাঁবগ্লব ঘটাইয়াছল। 
[সাহত্য, আষাঢ় ১৩২০] 
[াবলাত ফেরত সমাজের অসংগাঁতির ছবিগুলি কাব ইংরেজি-বাংলার "খুঁড়ি ভাষার সাঁন্ট করে 
সুন্দরভাবে ফাঁটয়েছেন। সামাঁজক 'উলট-পুরাণ' সম্পর্কে চমৎকার একাঁট মন্তব্য--“বিলাত- 
ফের্তা টানছে হক্কা, [সিগারেট খাচ্ছে ভশ্চার্য।” একট উপমার বিদ্যচ্চমকে বৃদ্ধ ভণ্ড ধর্ম- 
ধহজীর' মনের গোপন অন্তঃপুূর আলোকিত হয়েছে--"ভবনদীর পারে গিয়ে বিড়াল বসেছেন 
আঁহকে।” 'নবকুলকামনী'দের আচরণগত অসংগাতিও বাঙ্গকবির তীক্ষণ পর্যবেক্ষণে ফুটে 
উঠেছে। 'ভঈরুতাঁট আধ্যাত্ক, আর কুড়োমিটা ধর্ম-এই মন্ত যারা সার করেছে, তাদের 
নবীর্যতাকে তিনি করেছেন 'নর্মম পাঁরহাস! ধর্মধএজশী ভন্ডদের যখন তান ব্যঙ্গ করে 
বলেন-_-“আর মুরগী খাইনা, কেন না পাই না, হয় যাঁদ বনা খরল্চই”-তখন স্পম্টবাদী কাবর 
এই শ্লেষোন্ততে হাস্যবেগ সংবরণ করা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে । শৌখীন ও বাকসর্ব্ব দেশসেবক, 
ধর্মধবজী ভণ্ড. ফাঁকবাজ,. ধাস্পাবাজ, উংকট ভাবপ্রবণ, প্রাচীন পন্থী ও নবীন পল্থী, নারী ও 
পুরুষ নির্বিশেষে সকলেরই মুখোশ তিনি খুলে 'দিয়েছেন। আত্মম্ভর কাব (কাব), অলস 
কর্মহীন অপদার্থ (ক করি), ধর্মের মুখোশপরা প্রতারক (গীতা) প্রভাতি সম্প্রদায়কে তিনি 
বিদ্রপ করেছেন। দ্বজেন্দ্রলালের এই শ্রেণীর কবিতাগুলি মলিয়েরের নাটক ও প্রহসনগুলিকে 
স্মরণ করিয়ে দেয়। 
দ্বিজেন্দ্রলাল প্যারডি রচনাতেও সদ্ধহস্ত 'ছলেন। গভশরভাবের অনেক বিখ্যাত গান ও 
কাঁবতা অবলম্বন করে তান প্যারাড রচনা করেছেন। “হাঁসির গান'-এর এস এস বধু এস” 
কবিতাট একাঁট 'বখ্যাত বৈষব কবিতার ব্যাঙ্গানুকীতি। “আমরা ও তোমরা ও “তোমরা ও 
আমরা” কবিতা দু"ট রবীন্দ্রনাথের “তোমরা ও আমরা' (সোনার তর) কাঁবতার সার্থক 
প্যারডি। * 
কৃতকগ্ীল হাঁসর গান প্রেম, পরিণয় ও নরনারীর রোমান্সকে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে। 
প্রেমসম্পকিতি রোমান্টিক ধারণা ও ভাবপ্রণতাকে নিয়ে তান রঙ্গ ও ব্যঙ্গ দুই-ই করেছেন। 
প্রেমের তথাকাঁথত রঙধন আবরণ ভেদ করে তিনি এক গদ্যাত্বক বাস্তব অসংগতিও নিজে 
দোঁখিয়েছেন। বিয়ের পর যাকে উবর্শীর মত মনে হয়োছিল, ধীরে ধীরে মোহপাশ 'ছন্ন হওয়ার 


একামে 


ফলে কিভাবে রোমান্সের স্বর্গলোক থেকে পতন হল তারও কৌতুককর 'ববরণ 'দয়েছেন 
কাব: 
দেখলাম পরে প্রিয়ার সঙ্গে হলে আরো পাঁরচয়, 
উর্বশশীর ন্যায় মোটেই 'প্রয়ার উড়ে যাবার গাঁতক নয়; 
বরং শেষে মাথার রতন লেপ্টে রইলেন আঠার মতন, 
বিফল চেস্টা বাকল যতন, স্বর্গ হতে হল পতন-_ 
রচোছলাম যাহারে 
ভাবলাম বাহা বাহারে । 
কিন্তু নির্মম ব্যত্গবিদ্রুপই 'দ্বিজেন্দ্রলালের হাঁসর গানের মূলসূর নয়, কারণ 'দ্বিজেন্দ্রলালের 
মধ্যে একটি সহানভূতিপ্রবণ আবেগময় কাঁবচিন্ত ছিল। তাঁর হাস্যরস সক্ষম কলাকৌশলের 
উপরে নির্ভরশীল নয়, তাঁর হাঁস স্প্ট, উজ্জবল ও সশব্দ। জীবনের সত্য, নষ্ঠুরতম 
করূণতম সত্য, তাঁর হাঁসির মধ্যে যখন উদ্ভাঁসত হয়, তখন তারই আলোকে আমাদের মুখচ্ছবির 
বিবর্ণতা ধরা পড়ে, তখন হাসতে গিয়ে নিজেরই হাঁসির শব্দে অন্তরাত্মা কেদে ওঠে । জগৎ, 
'পাথবা” “সংসার' প্রীতি কবিতায় ব্যগ্গরস বা হাস্যরসের ছদ্ম-আবরণের মধ্য দিয়ে কাঁবর জগৎ 
ও জীবনের কতকগুলি সত্যানৃভূতির অদ্রান্ত পাঁরচয় পাওয়া যায়। 'যেমনাটি চাই তেমন হয় না" 
_জীবনে এর চেয়ে সত্য আর ফি আছে? 'দ্বজেন্দ্রলালের হাস্যরসের বহু উপকরণই স্থূল, 
িম্তু সেই দৈন্ান্দন জশীবনের স্থূল উপকরণগ্ণীলকেই [তানি উন্নত শি্পমর্যাদা দিয়েছেন, 
এইখানেই তাঁর .কাতিত্ব। “হাঁসর গান” বাংলা সাহত্যে একাঁট 'বাঁশস্ট সাঁম্ট। এই ক্লাঁসক 
গ্ন্থাট সম্পর্কে একজন সমালোচকের মন্তব্য উল্লেখযোগ্য : 
...ভণ্ডামি ও বোকাঁমির পিছনে রাঁহয়াছে চিরন্তন মানবাত্মা, সে আত্মা শিশুর মত অসহায় ও 
সরল, একটু কৃত্রিম বা খাঁটি আনন্দ, সৌন্দর্য, উল্লাস 'দিয়া খেলাঘর সাজাইতে সর্বদাই ব্যস্ত। 
এই খেলাঘর 'বধাতার 'নম্ঠুর আঘাতে ভাঁঙয়া যাইতেছে, সেইজন্য মানৃষের. চরল্তন রুন্দন। 
এই ক্ুন্দনের রোল হাঁসির গানে'র প্রাত মূছ্নায় ও ঝগকারে ধ্বানত হইতেছে। 
[দ্বিজেন্দ্রলালের হাসির গান : অমল্যধন মৃখোপাধ্যায়। জীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রফল্গ পাল 
7৫৭57 


গদ্য রচলা 


ভূমিকা £ সুরকার, কাব ও নাট্যকার হিসাবেই দ্বিজেন্দ্রলাল বাংলা সাহত্যে স্থায়ী আসন লাভ 
করেছেন। কিন্তু কাঁবতা, গান ও নাটক ছাড়াও তিনি পত্রসাহত্য, রসরচনা ও সাহত্যাবষয়ক 
প্রব্ধাঁদ িখোঁছলেন। কাঁবতা, গান ও নাটকের তুলনায় 'বাঁচন্র শ্রেণীর গদ্যরচনাবলণ পারাধতে 
ও সাঁহাত্যিক মূল্য-বচারে আঁকাঁণ্ৎকর সন্দেহ নেই। কন্তু দ্বজেন্দ্রমানস ও 'দ্বজেন্দ্রসাহত্য 
বিচারের পক্ষে এই জাতীয় রচনার মূল্য নিতান্ত কম নয়। 


একঘরে €২ জান;য়ারি, ১৮৮৯) বিলাতযান্রা ও বিবাহ অবলম্বন করে দ্বজেন্দ্রলালকে যে 
সামাঁজক প্রাতকূলতা সহ্য করতে হয়োছিল, তাতে বিক্ষুব্ধ হয়ে তান এই নক্শাখাঁন রচনা 
করেছিলেন। তান প্রাচীনপল্থী 'হন্দসমাজের নেতৃবৃন্দকে তীব্র ভাষায় আব্লমণ করোছলেন। 
এই রচনায় তাঁর ক্ষুব্ধ আঁভমান সমস্ত সংযমের বাঁধ অতিক্রম করেছিল। কিন্তু স্বর্ণকুমারী 
দেবী-সম্পাদত “ভারতী ও বালক' (ভাদ্র ১২৯৭) পান্রকায় পুস্তিকা প্রশংঁসত হয়েছিল : 
পূর্বে শ্যানয়াছিলাম, লেখক এই পুস্তকে হিন্দু" সমাজকে অযথা আকরুমণ করিয়াছেন, 
বইখানি পাঁড়য়া আমাদের সে ভুল ভাঞ্গিল। ইহাতে "হন্দ্‌ সমাজের প্রীত কঠোর বাকচ-প্রয়োগ 
আছে সত্য, 05750551515 
সমাজের শোচনণয় অবস্থায় লেখক মর্মপশীড়ত হইয়াই এরূপ 'লাখয়াছেন, তাঁহার ইচ্ছা গাঁল 
দেওয়া নহে, তাঁহার ইচ্ছা সমাজের চক্ষু্দান। তবে বইখানিতে বেশ একটু খাঁটি হাস্যরস আছে ৃ 


বাহাম 


এবং কলমের জোরও বেশ একটু দোঁখতে পাওয়া যায়__ ইহার প্রধান কারণ 'তাঁন সত্য কথা 
। 


কালিদাস ও ভবভূতি ৫১০ আগস্ট, ১৯১৫): “কালিদাস ও ভবভূতি” ১৩১৭-১৮ সালে 
'সাহত্য, পাঁতকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশত হয়। লেখকের মৃত্যুর পর গ্রল্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
কাঁবপূত্র দলীপকুমার রায় এই গ্রন্থের ণনবেদন'-এ বলেছেন : 


স্বগীয়ি পিতৃদেব মাসিক পর্র-্সাঁহত্যে “কাঁলদাস ও ভবভাঁতি”*-অর্থাৎ 'আঁভজ্ঞান- 
শকুন্তল, ও সারতে পালটা বিদহতভারে লিনা িরাছেন এঁ সমালোচনা স্বতন্ত্র 
পুস্তকাকারে প্রকাশ করিবার ইচ্ছা তাঁহার ছিল এবং সেইজন্য 'ভিম্ন ভিন্ন বারে প্রকাশত স্বতন্ 
অংশগুলি তানি একত্র করিয়া রাঁখয়াছলেন। তাঁহার সেই ইচ্ছা পূর্ণ কারবার জন্য এই 
পুস্তক প্রকাশ কারলাম। 


কালিদাস ও ভবভূতি' দ্বজেন্দ্লালের পাঁরণত মানসের রচনা । এই দুই কাঁবপ্রাতভার বৈশিষ্ট্য 
খনর্ণয় করতে গয়ে তানি নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। তাঁর এই প্রাসাঙ্গক আলোচনা- 
গুলিও মনাঁস্বতার পারচয় দেয়। কালিদাস ও ভবভাীঁতি সংস্কৃত সাহত্যের ষূগলরত্ব! স্বভাবতই 
এই দুই কাঁবর প্রাতভা সমালোচকদের 'বস্ময়ামাশ্রত শ্রদ্ধা আকর্ষণ করেছে। 'দ্বজেন্দ্রলালের 
আগে অনেকেই নানাদক থেকে এদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সমালোচনার চেয়ে 
ধিদ্তৃততর ও পূর্ণাঙ্গ এই গ্রন্থে তান কাঁলদাসের শকুন্তলা ও ভবভাঁতির উত্তরচারত অবলম্বন 
করে উভয়ের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। আখ্যাঁয়কা-বিন্যাস, চাঁরন্রাচন্রণ, নাটকত্ব, 
কাব্যসৌন্দর্য, রসবৌ চন্র্য, ভাষা-ছন্দ-অলংকার আতপ্রাকৃত সাল্নবেশ প্রভাতি নানাদক থেকে তিনি 
নাটক দুটির বিচার করেছেন। 

প্রথম পাঁরচ্ছেদে লেখক আখ্যায়কা বিশ্লেষণ করেছেন। সমালোচকের মতে গান্ধর্ববিবাহ, 
আঁভজ্ঞান ও দূর্বাশার আভশাপবৃত্তান্তের দ্বারা কালিদাস দুজ্মন্তকে কলঙ্কের হাত থেকে 


মুস্ত করেছেন। ভবভাতিও সতানর্বাসন ও শ.দুকহ ত্যাব্যাপারে বামচন্দ্রকে যতদর সম্ভব দোষ- 
মুন্ত করার চেম্টা করেছেন। সীতানির্বাসন ব্যাপারে প্রজানুরপ্রনরূপ কর্তব্যকেই দায়শ করা 


হয়েছে। ভবভাতির রামচন্দ্র কপা করে তরবারির দ্বারা শূদ্রককে শাপমুন্ত করেছেন। সমালোচকের 
মতে এর প্রধান কারণ হল, অলংকারশাস্ত্ের নিদেশ মেনে চলা । তান এখানে শেক্সপীয়রের 
শায়ক চারন্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এ কথাও ভেবে দেখতে হবে যে, ইংরোজ নাটক ও 
সংস্কৃত দৃশ্যকাব্য ঠিক একবস্তু নয়। "দ্বিজেন্দ্রলাল শকুন্তলার মিলনান্ত পাঁরণাতি সমর্থন 
করলেও উত্তরচরিতের রাম ও সীতার মিলনকে সমর্থন করতে পারেন ন। 

কালিদাস ও ভবভূতি গ্রন্থের 'নাটকত্ব' অংশাঁট সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ৷ এই অংশে দ্বিজেন্দুলাল 
সংক্ষেপে নট্যতত্তের কতকগুলি মুলসূত্র আলোচনা করেছেন। ঘটনার এঁক্য. ঘটনার সার্থকতা, 
অল্তদ্বন্দব, কাবত্ব, চারিন্রাচন্রণ, স্বাভাবিকতা প্রভাতি কয়েকাঁট 'বষয়ের উপর আলোকপাত 
করেছেন। তাঁর মতে ঘটনার এঁক্য, চরিত্রসান্ট ও অন্তার্বরোধ চিন্রণে শকুলন্তলাই শ্রেচ্ঠ। সংস্কৃত 
নাটক বিচারে দ্বিজেন্দ্রলাল পাশ্চাত্তা নাট্যবিচার পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু দুদ্মন্ত চাঁরন্ু 
বিচারে যে অন্তার্বরোধের কথা উল্লেখ করেছেন, তা পাশ্চাত্ত নাট্যসূত্রানূষায়ন প্রথম শ্রেণীর 
অন্তদ্বন্দিব নয়। 

চতৃর্থ পাঁরচ্ছেদে 'দ্বজেন্দ্লাল কাঁবত্ব সম্পরকে আলোচনা করেছেন। কাঁলদাস ও ভবভাতির 
নারীসৌন্দর্য বর্ণনার পার্থক্য নিদেশি করতে গিয়ে দ্বিজেন্দ্রলাল সূক্ষরসবোধ ও পর্যবেক্ষণ- 
দক্ষতার পারিচয় 'দয়েছেন-_“কালিদাসের রুপবর্ণনা আলোক বটে, ধন্ত প্রদীপের রনতবর্ 
আলোক । ভবভূঁতির রূপবর্ণনা শূভ্র বিদ্যুতের জ্যোতিঃ।” হাস্যরসের রীতনশীত সম্পর্কেও 
1দ্বজেন্দ্লাল বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। হাস্যরসের মধ্যে তন প্রধানত 'তনাট শ্রেণীর কথা 
বললছেন- ব্যঙ্গ. পারহাস ও হিউমার 


গতপান 


বাংলা সমালোচনা সাঁহত্যের ইতিহাসে 'দ্বিজেন্দ্রলালের “কালিদাস ও ভবভাতি, একাঁট 
মূল্যবান সংযোজন। উনাবংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে সংস্কৃত সাহত্য সমালোচনার যে নৃতন- 
ধারা, নূতন বিচারপদ্ধাত গড়ে উঠেছিল, 'দ্বজেন্দ্রলালের সমালোচনা গ্রন্থটি তার মধ্যে উল্লেখ- 
যোগ্য স্থানের অধিকারী। রবীন্দ্রনাথের প্রান সাহত্য, প্রেথম প্রকাশ ১৩১৪) প্রকাশের 
পর থেকে অনেকেই জ্ঞাতসারে বা অজ্জাতসারে কবিকৃত বিচার ও ব্যাখ্যার দ্বারা 
হয়েছে ধিন্তু দ্বিজেন্দ্রলাল নিয়েছেন সম্পূর্ণ অন্যপথ। গ্রল্থাটর শেষাঁদকে তান চন্দ্রনাথ 
বসুর 'শকুল্তলাতত্্” ১২৮৮) ও সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের শকুন্তলা সম্পারতি আলোচনার প্রাতি 
কটাক্ষ করেছেন : ৃ্‌ 
আমার শিক্ষা, বুদ্ধি ও ধারণা অনুসারে উভয় নাটকের দোষগুণ বিচার কারয়াছি। কোনও 
নাটকের আধ্যাত্মিক অর্থ বাঁহর কাঁর নাই। আঁভজ্ঞান-শকুন্তল নাটকের আধ্যাত্ক ব্যাখ্যাও 
নানা ব্যান্ত করিয়াছেন। কেহ বাঁলয়াছেন যে, দুজ্মন্ত ও শকুন্তলা আর কেহই নহে, পুরুষ ও 
পির এই নাটকে দেখান হইয়াছে, প্রেমে কাম মিলন সম্পাদন 
পারে না, তপস্যা তাহা সাধন করে। যে কেহ ইচ্ছা কারলে এই দুইখান নাটকের শতপন্ঠা- 
ব্যাঁপনী আধ্যাত্মক ব্যাখ্যা 'লাখতে পারেন।...আম এইরূপ কদ্টকমপিত আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার 


রা নাহ, এবং আংশিক সাদৃশ্যকে আধ্যাত্মক বা আধভৌতিক কোনও ব্যাখ্যা 
না। 


[সংসদ সং, পু ৬৮৮] 
্বিজেন্্লালের শিল্পীমানসের মধ্যে একটি প্রোজ্জবলবুদ্ধি যক্তিনিষ্ঠ মন ছিল, তান 
কোনো আধ্যাঁত্মক ব্যাখ্যা আরোপ করতে চান নি। "দ্বজেন্দ্রলালের সমালোচনা পদ্ধাঁতি বস্তনিষ্ঠ 
ও বিশ্লেষণ প্রধান- সেখানে বস্তৃবিশ্লেষণই প্রাধান্য লাভ করেছে, লেখকের 'মনের মাধুরী" 
প্রধান হয়ে ওঠে নি। যান্তীনষ্ঠ বিশ্লেষণ ও মৌলিক চিন্তার সৃস্পম্টতায় 'দ্বজেন্দ্রলালের এই 
সমালোচনা গ্রল্থাটর মূল্য অস্বীকার করা যায় না। 


প.্তকাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলশী £ 'বাঁভল্ল পন্র-পাত্রকায় 'দ্বজেন্দ্রলালের ছু ছু 
রচনা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেগ্ীল কোনো গ্রল্থে সান্নবৌশত হয়ানি। দ্বিজেন্দ্ 
রচনাবলী প্রথম খণ্ডের মধ্যে এরুপ আটটি রচনা অন্তর্ভুন্ত হয়েছে। 'দ্বজেন্দ্রলালের স্বরচিত 
জীবন 'জল্মভূঁম' পান্রকায় (কার্তক, ১৩০৪) প্রকাশিত হয়। এই সংাক্ষপ্ত জীবনী থেকে 
দ্বজেন্দ্রজীবনের দু'একটি মূল্যবান উপকরণ পাওয়া যায়। 'আমার নাট্যজীবনের আরম্ভ 
(নাট্যমন্দির, শ্রাবণ ১৩১৭) প্রবন্ধ 'দ্বিজেন্দ্রলালের সাহাত্যিক জীবনের প্রচুর তথ্যে সমদ্ধ। 
'অভিনেতার কর্তব্য, নোট্যমান্দর, ভাদ্র, ১৩১৭) প্রবন্ধে নাট্যকার 'দিবজেন্দ্রলালের আভনয়- 
সম্পাকৃত নিরেশনা মৃল্যবান। 'কাব্যেনীত, সোহত্য, জ্যৈষ্ঠ ১৩১৬) প্রবন্ধাটর এীতহাসিক 
মূল্য অসামান্য। এই প্রবন্ধে 'দ্বজেন্দুলাল রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে দুনাতর আঁভযোগ আনেন। 
প্রেমের সংগত থেকে উদাহরণ নিয়ে তিনি তাঁর বন্তব্য প্রমাণ করার চেম্টা করেছেন। 
এই প্রবন্ধেই িতনি পচন্রা্গাদা” কাব্যের বিরুদ্ধে অশলশলতার আভযোগ করেন। এই প্রবন্ধকে 
অবলম্বন করে সাঁহাত্যিক তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। 'প্রয়নাথ সেনের পচন্রাঙ্গদা” সোহত্য, 
কার্তক ১৩১৬), সররেন্দ্রনাথ মজূমদারের কাব্যে সমালোচনা” (সাহিত্য, শ্রাবণ ১৩১৬), 
ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের পঁচন্রাঙ্গদার আধ্যাঁত্মক ব্যাখ্যা” সোঁহত্য, অগ্রহায়ণ ১৩১৬) এই 
বাদ-প্রাতবাদকে মুখরোচক করে তুলোছল। 


৮ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) 
বাংলা সাহতা বিভাগ 
কাঁলকাতা বিশ্বাবদ্যালয় ) 


পাষাণণী 


প্র্ষ-চারল 


মহার্ধ গৌঁতম। রাজার্য জনক। ব্রক্ষার্ধ 'িশ্বাঁমত। মহারাজ দশরথ। শতানদ্দ . গৌঁতমের 
পূত)। চিরঞ্জীব (গৌতমের শিষ্য)। ইন্দ্র। মদন। শ্রীরাম। শ্রীলক্ষমণ। বাশত্ঠ। বসল্ত। 
অন্যান্য দেবতাগণ, তাপস বালকগণ, যোশিগণ, পুরবাঁসগণ, পুরোহিতগণ, ভূতা, দূত ইত্যাদ। 


স্মী-চরিল্র 


অহল্যা দেব (শগোৌতমের স্শ)। শচশ 


(ইন্দ্রের স্ত্)। রাঁতি মেদনের স্ত্শ)। মাধুরী 


(গৌতমের শিষ্যা ও চিরঞ্জীরের স্মী)। অন্যান্য দেবীগণ, তাপস বালকাগণ ও 
. পৃরবাঁসনীগণ ইত্যাঁদ। 
প্রথম অঙ্ক ম্বতীয় দৃশ্য 
স্থান_তপোবনাভ্যন্তরস্থ বন্য-বীথশ। কাল- প্রভাত। 
059 পারব্রজমান তাপস বালকবালকাগণ 


স্থান__রাজার্ধ জনকের প্রাসাদ কক্ষ । কাল-_প্রভাত। 
জনক ও বিশ্বামন্র কক্ষ দয়া চলিয়া 
যাইতোছলেন 


বশবামিনত্ত। রাজার্য জনক! এই ত্রাক্ষণত্ব ? এত 
করে দর্পণ বিপ্র জাত এই সম্পদের ? 
হেলায়, ইঞ্গিতে, আম তুচ্ছ তপস্যায় 
লভিয়াছি তাহা; সম হেলায় তাহারে 
বিনা ক্ষোভে অনায়াসে পথের কন্্মে 
ছুড়ে ফেলে দিতে পারি। 

জনক। বিশবামন্র খাষ 
কারও না অহঙ্কার! লাভিয়াছ যাঁদ 
ব্রা্মণত্ব তুমি, তাহা বিপ্রের বিনয়ে 
আপনার গুণে নহে! জাঁনও তথাঁপ,_ 
যাঁদও ব্রাহ্মণ তৃমি, তোমার আসন 
ব্রাহ্মণের বহু নিম্নে। 

বিশবামিগ্র। প্রমাণ ? 

জনক। “প্রমাণ ?” 
যাও খাষ এক দন গোঁতম-আশ্রমে 
নদীর অপর পারে; পাইবে প্রমাণ ! 

বিশ্বামিত। মহর্ষি গৌতম ? পত্রধ অহল্যা যাহার 
আনন্দ্যসুন্দরশী! গৃহশী তাঁহার আসন 
আমার উপরে ? 

জনক। 
দোখও চাক্ষুষ । 

বিশ্বামিন। সত্য? উত্তম! দোখব। 


বহু উর্ধে বম্ধুবর! 


তাপস বালকবালিকাঁদগের গখত 


বনের তাপস মোরা থাক বন ভবনে, 
কান্তারে, প্রান্তরে, শ্যামপাদ্পত উপবনে। 
প্রভাতে কোকিল পাখণ, 'কুজজবন মাঝে থাক" 
জাগায় মোদের ঢাল? স্বরসধা শ্রবণে। 
মধ্যাহে' তরুর ছায় বোসে থাকি, চাহিয়া, 
নদশ বহে' যায় কুলুরবে গাহিয়া; 
সায়াহ্ছে প্রকৃতি আসি, অধরে মধুর হাঁসি" 
শুনান অমর মৃদ্মন্দ পবনে। 
চিরঞ্জীবের প্রবেশ 


চরঞ্জীব। এখানে কে আছস্‌? 

তাপস বালকবালকাগণ। এই যে আমরা। 

চরঞ্জীব। হঃ, তোরা ত ভারি লোক! 
যা 

তাপস বালকবালিকাগণ যাইতে উদ্যত 

চির্জীব। আচ্ছা দাঁড়া, তোদের 'দয়েই 
হবে। আরে শোন শোনূ। 

তাপস বালকবালকাগণ। কি ? 

চিরঞ্জীব। ওরে কি করি বলতে পাঁরস্‌ ? 
একটা বড় ধোকায় পাঁড়ছি। 

১ম তাপস বালক। কি ধোকা মহাশয় ? 

চিরঞ্জীব । ধোক্কাটা হচ্ছে এই যে, ধপাস্‌ 
কোরে পড়ে, কি পোড়ে ধপাস করে ?* 

২য় তাপস বালক। এ তত ভার ধোক্কার 
কথা বটে। 


৩য় তাপস বালক। তা মহার্ধকে জিজ্ঞাসা 
করেন না কেন? 

শচরঞ্জশীব। করোছলাম। 

৩য় তাপস বালক। মহার্ধ কি বলেন? 

িরঞ্জীব। মহার্ষ িছুই বলেন না। 

২য় তাপস বালক । আর আপান ? 

চিরঞশব। আমারো এ মত। 

৪ তাপস বালক । তবে আর মীমাংসা 
হবে কি কোরে 2 

চিরঞ্রীব। এ ত গোল। দর্শন শাস্বের 
কোন ব্যাপারেই মশমাংসা হয় না। ওরে তোরা 
একটা দর্শন শাস্তের কথা শুনার ? 

তাপস বালকগণ। শদীন। 


চিবঞ্জীবের গীত 


বাহবা দুনিযা কি মজাদার রাঙণ। 
শদনের পবে বান্তর আসে, রেতের পরে দিন ॥ 
গ্রীত্মকালে বেজায গরম শীতকালেতে ঠান্ডা; 
একের পিঠে দুইযে বারো, দুই আর একে তিন। 
হাতির উপব হাওদা আবার ঘোড়ার উপর 'জিন। 


২য় তাপস বালক । বাঃ এ ত ভার দর্শন- 
শাস্ল দেখাছ' 

[চরঞ্জীব। কেমন! কথাগুলো ঠিক কি না। 

তাপস বালকগণ। খুব ঠিক, খুব ঠিক। 

চিরঞ্জশব। আঁম ভেবে ভেবে বের করোছ। 

২য় তাপস বালক। বলেন কি মশয়? . 


মহার্ধ 'বিশবামিন্রের প্রবেশ 


বিশবামন্র [চিরঞ্রীবকে] এই কি ম্হার্ষ 
গোৌতমের তপোবন ? 

চিরঞ্জশীব। [িশ্বামত্রের আপাদমস্তক 
নিরীক্ষণ করিয়া।] কি রকম বোধ হয়? 

[বশবামন্র। এট কি মহার্ষর আশ্রম 2 

চরঞ্জীব। নয় ত ক ওটা তাঁড়র দোকান 
বোলে বোধ হচ্ছে? 

বিশ্বামন্র। একটু সোজা ভাষায় উত্তর 
দিলেই বা। 

চরঞ্জশব। "নাই বা দলাম। 

শিবশরামন্র। মহার্ধ কোথায়? 

চিরঞ্শব। কেন সে খোঁজে তোমার 
প্রয়োজন কি বাপু। 


চরঞ্জীব। না, তান বাঘ শণকার কর্তে 
বৌরয়েছেন। 

বিশবামিন্র। তুমি ত ভার মুখর! কে 
তুমি? ৃ 

[চরঞ্জনব। তুমিই বা কে? 

[ব*বামিন্র। আম মহার্য বিশবামন্র। 

চরঞ্জীব। আমি- অর চিরঞ্জীব শম্্মা। ) 

শবশবামনত্। অশর্শ কি রকম ? 

শচরঞ্জব। এই অর্শ হয়েছে । তার বেশী 
এখনো হয় নি। কিন্তু অর্শটা যেরূপ আঁধক 
মাত্রায় দাঁড়য়েছে, তাত মহার্ধ হবার বড় 
গবলম্ব নাই। 

বিশ্বামত্র। কি? আমার সঙ্গে পাঁরহাস 2 

চিরঞ্রশব। নাঃ, পারহাস কর্ণার সম্পক্া 
এখনো হয় 'ন। 

বশবামিত্র। দেখো! আমাকে দেখছো ? 

চরঞ্জীব। তা দেখছ বৈ কি। 

[বশ্বামিত্র। কি রকম দেখছো ? 

চরঞ্জশব। একবারে নবকার্তকি! শরীরাটি 
বর্তৃলাকার! মস্তকাট লম্বার চেয়ে চওড়ায় 
বেশী! মুখের রং দাঁড়র সঙ্গে টর্র 'দিয়ে 
চলেছে। 

শবশ্বামত্র। দেখো! 
ক্রোধের উদয় হচ্ছে! 

চিরঞ্জশীব। তা নিজের এ রকম কেচ্ছা 
শুনে, ক্রোধের উদয় না হোয়ে কি প্রেমের উদয় 
হবে? 

বিশ্বামিত্র। আভশাপ দিয়ে তোমাকে ভস্ম 
কোরে দেবো না কি? 

চিরঞ্জসব। মুস্ট্যাঘাত দ্বারা তোমাকে 
তুলো ধূনে দেবো না কি? 


আমার মনে কমে 


বিশবামিন্র। নাঃ, ভস্ম কোরেই দিতে 
হোল দেখুছি। হর হর হর হর হর। 
পাঁরক্মণ 


চিরঞ্জীব। রাম রাম রাম রাম রাম 
বিপরীত দিকে পরিক্রমণ 
বিশ্বামন্র। রাম নাম কচ্ছিস্‌ যে? 
চিরঞ্জীব। রাম নাম কল্পে, শাঁনাছ ভূতের 
ভয় থাকে না। 
বিশবামিত। আম কি ভূত নামাচ্ছি 


পাযাণশ ৩ 


চরঞ্জখব। নয় ত কি বিয়ের মল্ত 


পড়াছস্‌? 
[বশ্বামন। তুই আত অব্বাচীন। যঃ 
গলে ধাকা দিলেন 
চিরঞ্শব। বটে! তবে আয় না দোখি। 
1ববাম্কে প্রহার আরম্ভ 


গোৌতমের প্রবেশ 


গৌতম। এ কি চিরঞজীবঃ এ কি? 

চিরঞ্জীব। [অপ্রস্তুত ভাবে] যা এই 
মহর্ষর সঙ্গে একটু কুস্তি কাঁচ্ছলাম। 

গৌতম। [বিশবামিত্কে ] আপাঁন কে? 

[বশ্বামিনত্র। আম মহার্য বিশবামনর। 

চরঞীব। শুনলেন মশয়? মহার্ধর এ 
রকম চেহারা হয়? আজকাল সবাই মহার্ঘ ? 

বিশ্বামন্। আপনি কি গৌতম খাঁষ ? 

গৌতম। ভৃত্যের নাম গৌতম। 

চিরঞ্জীব। এপাঁ“ভূত্য” কি? 

গৌতম। চিরঞজীর! এর পদধূলি লও, 
ইন একজন আত তেজ্বস্বী মহার্ধ। 

চরঞ্জীব। এপা1-তাই নিয়েই ত ও"র 
সঙ্গে আমার ঝগড়া। 

গৌতম। ইনি আপনার তেজোবলে মহার্ধ। 
আমি এ+র কাছে কণটাণুকখট। তুমি এ*র প্রাত 
অত্যন্ত রড ব্যবহার করেছো। নতজানু হোয়ে 


চিরঞ্জীব। বলেন কি? [বিশবামিন্রের ঘাড়ে 
হাত 'দয়া কৌতৃহলে তাঁহার আপাদ মস্তক 
নিরীক্ষণ কাঁরয়া 'িশ্বামন্রকে' সম্নেহে দু 'তিন 
চাপড় দিয়া] মাশয় কিছু মনে ক্রেন না। 
[ প্রস্থান। 
গৌতম। [বিশ্বামত্কে] মহার্ধ! হান 
আমার 'শষ্য। এ+র ধৃষ্টতা মার্জনা কর্বেন। 
এর বিষয়ে পরে বল্‌ব। আপাততঃ দয়া 
কোরে আমার আশ্রমে চলুন। জান না কোন্‌ 
758455555% 
হল। 
বিশ্বামিন। [স্বগতঃ] এত বিনয়খ? 
প্রকাশ্যে] চলুন। 
| _ [নিক্ষাল্ত। 


তৃতীয় দৃশ্য 
স্থান মহর্ধি গৌতমের তপোবন। কাল- মধ্যাহ। 
দ্রাম্মানা অহল্যা 
অহল্যার গীত 
8588 
৬ 
1স্নস্ধ মন্দ পবনে, 
মজ কুঞ্জ ভবনে, 
ক গান গাইছে পাঁপয়া। 
প্রভাত কনক মাঁহমোজ্জবল 


শান্ত সুনীল গগন, 
চরণে নিলশন মধুর ধরণী 
িরণমৃস্ধ মগন, 

পক ব্যথা উঠিছে জাগি রে 
হৃদয় কাহার লাগি' রে, 
উঠিছে কাঁপয়া কাঁপিয়া। 


মাধুরীর প্রবেশ 


অহল্যা। এসৌছস্‌ এতক্ষণে? ধন্য তোর 
পৃজা! স্তব্ধ দ্বপ্রহর দিবা। আয় লো মাধূরি 
বাস গিয়া সুশীতিল বটবৃক্ষতলে ! 

মাধুরী। চল, দোঁব। 

অহল্যা। আবার ও র সম্বোধন! 
“দোব 2” আম গুরুপত্বী বটে। শিষ্যা তুই 
তথাপি আমার তুই চির প্রিয় সখা; 
আয় সাঁখ, দুই দশ্ড নিস্তব্ধ নিভৃতে 
কাঁহব প্রাণের কথা আজ উচ্ছ্বাসয়া 
ছাঁপয়া হদয়-পান্র যাইতেছে মোর 
নিরুদ্ধ প্রাণের ব্যথা । তাই ডাঁকয়াছ! 
বোস্‌ এইখানে । শোন [ উপবেশন।] 

মাধুরী । বল 'প্রয়সাঁথ! [ উপবেশন।] 

অহল্যা। বালব। অপেক্ষা কর্‌। কম্বা কি 
বালব সকাল জানিস্‌ তুই-_ 

মাধূরী। কিছুই জানি না। 

অহল্যা। তবে শোন্‌। মনে আছে, বিবাহ আমার 
হইয়াছে কত দন ? 

মাধুরী । পণ্ঞবর্য হবে! 

অহল্যা। সত্য। সাঁখ আজ সেই বৈশাখী 

পূর্ণিমা। 

তখন ছিলাম দর্শবাঁয়া বাঁলকা, 
আজ আম পণ্টদশবষাঁয়া যুবতী )* 
মনে পড়ে সেই দিন! বাঁক নাই যবে 
মধ্্ম 'বিবাহের। ভাবতাম সঙ্গোপনে, : 


আজ 
কত 
আহা 
আজ 
ঘন 
মার 
আজ 
তার 
আজ 


মম 
যেন 


৪ দ্বিজেল্দ্ু রচনাবলশ 


সার্থক হইবে জল্ম পণ্য-পারিণয়ে । 
এত দিনে বাঁঝয়াছ ভ্রম। 

মাধুরী । ভ্রম' ভ্রম! 
সার্থক নহে ক জল্ম তোমার সুভগে 
যার ধর্মপ্রাণ শব শম্ভু সম পাতি 
নহে তার জীবন সার্থক 2 

অহল্যা। দেখ চেয়ে-_ 
শুদ্ধ, চেয়ে দেখু সাঁখ, এ রুপ, মাধুর। 
শুদ্ধ, চেয়ে দেখ গলে এই পুষ্পমালা; 
হয় নি কি অধোমুখী এ বক্ষ পরশে 
লজ্জায়? নিশ্চয়, শুদ্ধ. মন্দার ব্রততী 
যোগ্য হইবার ভূষা এ মৃণাল ভুজে! 


দেখ, বোড়য়াছে মোরে এ কৌশেয় বেশ 
কত না আগ্রহে! 

মাধুরী । দেখিতোছ। 

অহল্যা। ব্যর্থ নহে 


এ রূপ, এ যৌবন, জীবন জগৎ 
নীরস বিস্বাদ নহে? কভু ভাব মনে, 
ছিলাম না সুীখনী ক কোমার জীবনে 
এর চেয়েঃ আপনারি ছিলাম সাঙ্গনী ; 
পরাইতে নিজগলে গাঁথতাম হার। 
তুষিতে আপন চিত্ত গাঁহতাম গীত। 
মঞ্জু কুঞ্জে, নির্ঝরের শ্যাম উপকূলে; 
বেড়াতাম কুড়াইয়া পুষ্প রাশি রাঁশ। 
দোঁখতাম দেবী-মার্ত স্বচ্ছ সরোবরে 
উপক মার। আসলে বসন্ত কুহাঁরয়া 
নাহ শিহারত দেহ। মনের উল্লাসে 
তুলিতাম চম্পকের কিশোর মুকুলে 
নিম্প্রভ যেন সে মোর অগ্গল পরশে । 
প্রচন্ড 'নিদাঘে ঘুরি ঘনবনচ্ছায়ে 
কত সুখে খাইতাম বনফল পাড়? । 
ভর্ণাসতেন পিতা মোরে- “এত মধুরাশ 
গৃহভরা, কোথা যাস কুড়াইতে ফলে 2” 
উড়াইত কৃষ্ণকেশ বর্ধার শীকর- 
স্নিগ্ধ মন্দ বায়ু; মৃস্ধা চাহিতাম তাহে 
ফিরাইয়া বক আখ; চাহতাম পরে 
কৃফমেঘে, দোৌখতাম শুধু সে ধৃসর। 
-মধুর শৈশব কাল! [দীর্ঘ 'নিঃশবাস। ] 
মাধূরখ। . এ কি চিন্তা সাঁথ! 
মহার্য গৌতম-পক্ষী তুমি ভাগ্যবতী 
যে গৌতম ধর্মে, জ্ঞানে, বিদ্যায়, ভবে, 


তত উদ্ধের্ব অন্য নর হতে, উদ্ধের্ব যত 
নন্ষতত খদ্যোত হ'তে। 
অহল্যা। বাঁলতে পার না, 
[তান জ্ঞানী, তিনি শাস্ীবশারদ, তানি 
ধাম্মক মাধুরি! কিন্তু রমণীহদয় 
তাঁর প্রার্থঁ নহে সাঁখ। থাক্‌ কাজ নাই 
নিম্ফষল বিলাপে আর । ব্ীঝাঁব না তৃই। 
অথবা ক ফল অনুতাপে 2 [সুদীর্ঘ 
[নঃশবাস ॥ 
নাহ জানি 
কেন আজ হৃদয় কাতর; কেন আজ 
ডাঁকিয়াছ তোরে আমি শুনাতে প্রাণের 
নাহত বেদনা । থাক্‌।_দেখলো মাধাঁর 
শুকায়ে গিয়াছে এই যাঁথকার হার, 
নব হার দে না গাঁথ'। দে না ভালো কোরে 
বাঁধ এ দাঁক্ষণ করে ব্রততী-বশয়,_- 
যেতেছে খু'লিয়া। 
মাধুরী । এস আরো কাছে এস' 
কেন দোব এত বেশভৃষা? অভূষিতা 
তুমি 'প্রয় সাঁখ সব চেয়ে মুগ্ধকরণী 
জানো না কি তাহা? পঙ্মপন্রে কোন্‌ মূ 
রঞ্জে বর্ণ তুলকায় ? বিদ্যুৎ আলোকে 


কে দেখায় বাতি দয়া 2 
অহল্যা। [দীর্ঘানঃশবাসসহ] হায় "প্রয়সাথ ! 
শতানন্দের প্রবেশ 


শতানন্দ। মা! মা! 
অহল্যা। কি বংস? 
শতানন্দ। দাদা আমাকে মেরেছে । দিদি, 
দাদা আমাকে কেবল মারে কেন 2 

মাধূরী। দাদা ভার দুস্ট;। তুম তার 
কাছে যেও না। 

অহল্যা। তুই বুঝ দুজ্টামি কারাছাল ? 
শতানন্দ। না। আম বল্লাম দাদা সন্দেশ 
খাবি? অমনি দাদা ঠাস কোরে আমাকে চড় 
মাল্লে। 
অহল্যা। 
শিখুছিসূ। 
মাধুরী । কোন্‌ জায়গায় "মেরেছে 2 এস 
ফ* দিয়ে দি। 

শতানন্দ। এই জায়গায় মেরেছে, এই 
জায়গায় মেরেছে, এই জায়গায় মেরেছে 


[সহাস্যে] বেশ মিথ্যে কথা 


পাষাণগ & 





[এইরুপ বলিয়া বহু স্থান নিদ্দেশ করিল।] 
মাধুরী। এস হাত ব্দালয়ে 'দাচ্ছ। 
[ কথাবৎ কার্য । ] 


গীত 


আপন মনে কি ষে বলে, আপন মনে ?ক যে গায়। 
আপন মনে হেসে হেসে, ঢোলে ঢোলে চোলে 
যায় ॥ 
হাঁসতে তার মাঁণিক ছড়ায়, অশ্রহতে তার মুন্তা 
গড়ায়, 
নয়নকোণে অশ্রুকণা দেখলে কি আর থাকা যায়। 
আদর কোরে সোহাগ ভরে বুকের 'পরে নিই গো 
তায়॥ 


শতানন্দ। মা, বাবা "কোথায় ? 

অহল্যা। আমি জান না। তিনি কোথায় 
জাঁনস মাধৃর ? 

মাধুরী । তান মহার্ধ ব*বামিন্রকে তপো- 
বন দেখাতে নিয়ে বোরয়েছেন। 

শতানন্দ। এ 'বিশ্বামন্র কে মা? 

অহল্যা। ও তোর বাবার মত একজন খাঁষ। 

শতানন্দ। কিন্তু তার গায়ে এত লোম 


অহল্যা। জানি না কি পাপে তোর 
মলেছে মাধুরি 
এ হেন পাশব স্বামী । 


মাধুরণী। নন্দা কারও না, 
পায়ে ধার, আম তারে ভালবাসি। . 

অহল্যা। সখ! 
জবালাস্‌ নে। তারে ভালো বাসিস? 


ক গুণে? 
মাধুরি জানি না তুই স্বেচ্ছায় কিরূপে 
করোছিস্‌ বিবাহ তাহারে 2 

মাধরী। মহার্ধর 


আদেশে; স্বেচ্ছায় নহে । কারিতে সাধনা 
'নিম্কাম বিবাহধন্্ম। কহিলেন তানি 
“বিবাহ বিলাস নহে; প্রেম লিপ্সা নহে। 
পাঁতপত্ণী পণ্যদ্রব্য নহে; বাঁছবার, 
মূল্য দিয়া ক্রয় কারবার বন্তু নহে। 
[বাহ কর্তব্য। প্রেম নিম্কাম সাধনা ।” 
অহল্যা। মিথ্যা কথা মিথ্যা কথা! 
| ছায় বিড়ম্বনা 


ভালবাসা সাধনার বস্তু? নিয়ামত 
আদেশে 2 কৃপের মত খনন করিয়া 
তুলিতে হয় কি তারে? না মাধৃরি, প্রেম 
গোরক উৎসের মত পাষাণ ভোঁদয়া 
আপাঁন 'নঃসৃত হয়! [সদীর্ঘ [নঃ*বাস ] 
চল গৃহে যাই। 
[নিক্কান্ত। 
চতুর্থ দৃশ্য 
স্থান_গৌতমের আশ্রমের বাঁহর্ভাগ। 
কাল- মধ্যাহণ। 
বিশ্বামিত্ ও চিরঞ্জীব আসান 
বশ্বামত। বড়ই কোতুককর তোমার কাহিনী । 
চিরঞ্জশীব। বড়ই কৌতুককর! ভাবলাম, ধাঁষ 
আসতেছে জনকের প্রাসাদ হইতে, 
ধুব, কিছু হস্তে আছে। পরে ধাঁষ যবে 
গান্র হ'তে খুঁল পট উত্তরীয়খানি, 
রাজার্ধর উপহৃত স্বর্ণ কমণ্ডল,, 
বস্তু দুটি দিল 'নিঃসক্কোচে, হাস্যমুখে 
ভূমিপ্ঠশায়শ নিঃসহায় শব্ুকরে_ 
অবাক মহার্ধ আম অবাক্‌ বিস্ময়ে! 
বিশবামন্র। কাহার আঘাতে তুমি পাঁড়লে 


ভূতলে ? 
চিরঞ্জশব। রাজ-প্রহরীর। মহার্ষর পিছে ছে 
আঁসতোছিল সে ভৃত্য গোপনে, অজ্ঞাতে! 
না জানিত খাঁষ তাহা, আমিও তাহাকে 
লক্ষ্য কার নাই। পরে যবে মহার্ষর 
গলদেশ ধাঁরয়াছি সবলে, অমাঁন 
প্রহরীর কষাঘাতে স্খালত চরণে 
আম ত 'পপাত'! ভৃত্য আসিয়া বাঁসল 
পৃষ্ঠোপাঁর যেন অশ্বাসনে। পরিশেষে 
মহার্ধ দয়ার্রকণ্ঠে কহিল তাহারে 
“ছেড়ে দাও; মস্ত কর দস্যরে প্রহরাঁ।” 
ছাঁড়য়া দল সে। ধাঁষ উল্মুস্ত কাঁরয়া 
পট উত্তরীয়, আর স্বর্ণ কমণ্ডলু, 
দিল অনায়াসে মম হস্তে সেই ক্ষণে। 
কাঁহল গৌতম পরে “দস্য আরো যাঁদ 
থাঁকিত আমার, আরো 'দিভম। দুর্লভ 
স্বর্ণ, কন্তু সুথ আত সূলভ সহজ। 
তাহা যাঁদ চাও 'দব প্রচুর। আঁসগ 
আমার আশ্রমে বন্ধ” সে গণ্গদস্বরে 
অপারকরুণাস্নপ্ধপ্রেমার্দরুভাষায় 


দ্বজেন্দ্রু রচনাবলী 


মানিলাম পরাজয় । সেই দিন হোতে 
মহার্যর শষ্য আম। এমান 'নব্রোধ 
বানাইয়া দিল খাঁষ। সেই দন হোতে 
নজ্জরব হইয়া আছ আম তপোবনে 
শশতে ভুজত্গের মত। তথাপি কখন, 
হৃদয়ে জাগিয়া উঠে অসতর্কা ক্ষণে, 
সে পাপ প্রবাত্ত। ইচ্ছা করে সঙ্গোপনে, 
মহার্ধর গলাঁশরা রুদ্ধ কার তারে 
পাঠাই শমনালয়ে, যাঁদও তাহাতে 
বন্দুমাত্র লাভ নাই, যেহেতু গৌতম 
একান্ত দরিদ্র, ধাঁষ! আত নিঃসম্বল। 
শীবশ্বামত্। আর ওই যূবতীটি। উনি কে 
1চরঞ্জশীব। মাধুরী? 
তাহার কাহিনশ সত্য, কি বালব খাঁষ! 
বিষম কৌতুককর। শুনিবেন ? 
বিশ্বামন্র। শাঁন। 
চিরজপব। মিলার সব্বশ্রেম্ত ছিল বারাঙ্গনা 
এ নার; একদা কুহাকনী ক কুক্ষণে, 
কুচক্রীর চক্রান্তে পাঁড়য়া মহার্র 
রোধিল সরলবর্জ রূপের প্রভায়, 
কলকণ্টে, শদদ্রহাস্যে, সুবাস নিঃশ্বাসে । 
নিষ্ফল প্রয়াস।--নারা পাঁড়য়া ধাঁষর 
হম্ম্ময অলঙ্কার, শত সহত্ত্র প্রণয়ী, 
হইল খাঁষর শিষ্যা। শেষে এক দিন, 
আম যে কুতসিং ভশম্ম বীঁভংস আকার, 
আমারে মাধুরী আসি করিল বরণ. 


দক জান ?ক মনে কার।” মহার্ধ! সে দিন, 


সমস্ত দিবস ধাঁর ক্লমাগত আমি 
করিলাম অট্রহাস্য-মালয়াছে ভালো,_ 
চৌর পত্রী বারাঞ্গনা। সেই দন হ'তে, 
মাধুরী আমার পত্রী, আম তার স্বামী। 
বিশ্বামিত্ন। গোতমের বিবাহের পূর্যে 


এ ঘটনা ? 
চিরঞ্জীব। তার বহুপূর্রবে ।-খাষবর! 
এই দিকে 
আসছেন সস্ত্ক গোতম। 
বিশ্বামিত। স্্রত্য বটে। 


«৭ গৌতম ও অহল্যার প্রবেশ 


গৌঁতিম। মহর্ষি চরণসেধা করিতে এসোছি 
আজ্ঞা কর! 


বিশ্বামন্র। অন্য কিছু চাহ না গৌতম! 
বড়ই নিস্তব্ধ, শান্ত, পাবিন্র, সন্দর, 
আশ্রম তোমার! ণিল্তু একান্ত নজ্জন। 
চরাঁদন ভালো লাগে বন্ধুবর ? 
গোতম। 
আজল্ম মধুর এই নিজ্জন আশ্রম, 
মাশ্রত আমার এই জীবনের সনে। 
জানো না মহার্ষ প্রাত বক্ষে, প্রাত পথে, 
প্রাতি শিলাখণ্ডে, কত 'নাহত কাঁহনশী। । 
বশ্বাঁমত্র। ভালো নাহি লাগে পুরী, 
প্রাসাদ, তোরণ, 
রথ, গজ, বাজ", পণ্য বাঁথকা স্ন্দর ? 
গৌতম। না সখে- তাহার চেয়ে ভাল লাগে 
শ্যাম প্রান্তর, মঞ্জুল বন. 'বহঙ্গ, নির্ঝর । 


লাগো। 


বিশবামত্র। [অহল্যার প্রাত] তোমারো কি 


তাই দেবি ? 
অহল্যা। ভর্তার ইচ্ছায় 
ভার্ধার সম্মাত। 
বিশবামিত্র। সত্য! আম ভালবাস 


আশ্রম হইতে কভু প্রাসাদে বসাঁত। 
জশবন বৌঁচন্র্য বিনা একান্ত নীরস। 
গোঁতম। তোমার সকাল প্রভু অসাধ্য সাধনা । 
কখন নিরত দর্ঘ তপস্যায়। কু 
মাশ জনম্রোতে সাধো পরাহতব্রত 
সে তপস্যাবলে! আর আম আত্মপর 
কার স্বীয় সঃখাঁচন্তা। ক আর বাঁলব 
কত শিখলাম বধু তোমার নিকটে । 
ধন্য বিশবামিত্ন তব তপস্যা মহিমা! 
চিরঞ্শব। ধন্য বটে! কে জাঁনিত ঘন 
লোমাবৃত 
এ কৃষণচম্রমের নীচে এত বড় ধাঁষ? 
বিশবামিত্র। [গৌতমকে] একান্ত দারিদ্র তুমি ? 
গোতম। একান্ত দরিদ্র। 
বিশবামি। জানো রাজা দশরথে 2 
গোৌতিম। শুনিয়াছি নাম। 
[বিশ্বামনর। তাঁহার প্রাসাদে মম নিত্য 
গাতবিধি-_ 
আমার সাঁহত চল সে অযোধ্যাধামে। 
গৌতম। কেন? 
বিশ্বামিন্র। দিব রতরাশি। 
গোতম। রত্ব? কি কারব? 


িশবামিত্। নিতান্ত নির্বোধ তৃমি! 
ধন রত "দয়া 
দু্লভ স:স্বাদ খাদ্য, মহার্ঘভূষণ, 
রম্য উপবন, হম্ম্য, কাম্য বারাঞ্গনা 
ক্রয় করা যায়। 

গৌতম । তাহা চাহিনা। নিজ্জনে 
সামান্য আয়াসলব্ধ বন্য ফল মূলে 
পারপনস্ট হয় দেহ। পারধান কার 
আজন বজ্কল যাহা পাই। অনুপমা 
সুকুমারী সাধহী পত্রী অহল্যা। জীবনে 
কিছুরি অভাব নাই। ধন রত্বরাশি 
[ক কাঁরব আম? 

বশ্বামিত। [স্বগত] “এত নিডাডিানন 
অথবা অতুলর্‌পলাবণ্যা সুন্দরী 
বাছিয়া লয়েছে, তাই এত উদাসীন 
বাহ্য সম্পান্তর -প্রাতি? কি অভাব তার 
যার গৃহে হেন পত্বী? 

[চরঞ্জশব। তাকাইছে দেখ 
প্রভূপত্বী পানে; যেন এক্ষাণ ইহাকে 
ভক্ষণ কারতে ইচ্ছা,_ও ব্যাদান "দয়া 
প্রেরণ কারতে তারে সন্দেশের মত 
[বিপুল উদর গর্তে । 

বিশবামিত্র। [অহল্যাকে] চাহ না বান্ধবি 
স্বর্ণ অলগকার, মাঁণ মূন্তা, সাজাইতে 
ও সৃগোৌর বরবপঃ কাণ্চন বলয় 
খঁচত হীরকে? স্বর্ণ মুকুট ললাটে ? 
রজত নুপুর ? মণি খাঁচত কেয়ূর 2 
মৃন্তাহার শুজ্রকণ্ঠে 2 

চিরঞীব। ক্ষমা কর খাঁষ, 
কেন মিথ্যা রোপিতেছ কলহঅজ্কুর 
অপ্রাপ্য মহার্ঘ রত্ন গহনার, হেন 
সুদশর্ঘ তালকা! 

গৌতম। চল যাই বন্ধুবর 
আশ্রম ভিতরে। তপ্ত ভীঁড়তেছে ধূঁল। 

বিশ্বামিত্র। হাঁ মহর্ষি, চল .[ অহল্যাকে] চল 

বান্ধাব। উত্তম! 
[স্বগত] পরাক্ষা করিতে হবে এ পক্ষী 


বিয়োগ, 
সাঁহত সক্ষম কি না গোঁতম। 
 চিরজ্জধব। [ পশ্চাৎ যাইতে যাইতে ] হঃ চল 


চিরঞ্জীব অনাহৃত।- এত বড় খাষ 
এ কৃ চম্মের নীচে?- আশ্চর্য্য! অদ্ভূত! 
[প্রস্থান। 


পণ্তম দৃশ্য 


স্থান__তপোবনের প্রান্তভাগ। কাল- মধ্যাহন। 
তাপস বালকদ্বয় 

১ম তাপস বালক। এ 'বশ্বামন্র খাঁষটা 
শুনছি ভার তেজস্বশ। 

য় তাপস বালক। কি রকম? 

১ম তাপস বালক। ও ছিল একটা ক্ষল্রিয় 
রাজা । তপোবলে ব্রহ্গার্ধত্ব লাভ করেছে। 

২য় তাপস বালক। রেখে দাও তোমার 
ব্রন্ষার্ধত্ব। ওকে দেখে ত আমার ভান্ত হয় না। 

১ম তাপস বালক। আমাদের না হোক, 
আমাদের মহার্য ত এর গ্‌ণে মুগ্ধ! ইনি 
শুনৃছি 'বিশ্বামন্রের তপোবলের কথা শুনে 
তপস্যার জন্য প্রবাসে যাচ্ছেন। 

২য় তাপস বালক। সাঁত্য না কি? 


অপর এক তাপস বালকের প্রবেশ 


৩য় তাপস বালক । ওহে চিরঞ্জশবের ভার 
মজা হয়েছে। | 

২য় তাপস বালক। ক রকম? 

৩য় তাপস বালক। কি একটা খেয়ে 
আবোল তাবোল বকছে । এঁ যে এই 'দকেই 
আসছে। ৃ 


চিরঞ্জশীবের প্রবেশ 


চিরঞ্জীব । বাঃ বাঃ বিশ্বামত্র ধাঁষর পেটে 
এত গুণ! ছি সোমরসই বানিয়েছে বাবা! 
আমাদের মহার্যটা নেহাইৎ মুর্খ! 

১ম তাপস বালক। সে কি মশয়? 

চিরঞ্জীব। আরে ভাই, বিশ্বামিনত্র সোমরস 
বাঁনয়ে তাকে দলে, তবু বেটা খেলে না। আরে 
সোমরসই যাঁদ না খাব ত মহার্ষ হ'তে গোল 
কেন? ওরে আম বিশ্বামন্রের শিষ্য হব। 

২য় তাপস বালক। বলেন কি ঠাকুর? 

চিরঞজীব। হাঁ_হব! তবে একটা কথা বে, 
ধাঁষটা দর্শন শাস্ম জানে না। এ দর্শন 
শাস্্টার ওপর আমার ভার ঝোঁক। 

৩য় তাপস। বটে! 


৮ 'দিবজেন্দ্র রচনাবলশ 


এ পপ শশী 


টিজার ওরে, একটা দর্শন শাস্তের কথা 


গশত। 


ভুচর খেচর এবং জলচর, 
হন 
বায় আন মা বিফ মহষ্বর। 


তাহ দানে টি ভাবে 
গানে, 
কিন্তু তার মানে, কি হোল কে জানে 
ঘোরে জগৎ চরকার সমান, মদ্য খেলেই সদ্য প্রমাণ, 
এইটে নিয়ে কেন সবাই ভেবে মরে ভয়ঙ্কর । 
চতুর্থ তাপস বালকের প্রবেশ 
৪র্থ তাপস। এ কি চিরঞ্জীব ঠাকুর, এ 
রকম যে? ূ 
১ম তাপস। চিরঞ্জীব ঠাকুর একট; রঙে 
আছেন। 
২য় তাপস। গর অঙ্গভঙ্গণ যাঁদ এতক্ষণ 
দেখতে! 
৩য় তাপস। আর যে গান গাইলেন! 
চিরঞ্জশীব। তোরা ভারি গোল কচ্ছিস্‌। 
তাকিয়ে দেখু! 
৩য় তাপস। কি দেখবো মহাশয় 2 
শচরঞ্জীব। দেখ-আঁম সশরীরে স্বর্গে 
উঠাছ। 'বিশ্বামত্র খাঁষ বল্লে যে “এই সোমরস 
পান 'কল্ে সশরীরে স্বর্গে যাওয়া যায়- একটু 
খাবে চিরঞ্জীব 2” আম বল্লাম “কৈ দাও দোখি; 
কিন্তু বিশ্বামিত্র খাঁষ, তোমার আমার স্বর্গে 
যেতে হলে সশরীরে না গিয়ে পথে শরনরটা 
বদলে গেলে লাভ ভিন্ন লোকসান নেই; এ 
চেহারায় স্বর্গে গিয়ে যে কোন সাীবধা হবে তা 
ত বোধ হয় না;”_ বোলে ত খেলাম। যেই 
খাওয়া, সেই মাইরি ভাই-চেগ্টা পাঁথবী গোল 
দিলে, পাতালটা পর সেজে নাচতে লাগলো, 
আর আমি সশরীরে স্বর্গে উঠতে লাগ্‌লাম। 
২য় তাপস। বটে! তা হ'লে অবস্থাটা 
সঞ্গিন বলতে হবে। 
[চরঞ্জশব। সাঁঙ্গন নয় দাদা রাঁউন। বাঁল- 
হারি সোমরস! দেখছিস তোরা ? 
৩য় তাপস। কি দেখবো ম"শয় ? 


চরঞ্জশব। [মাঁদরা পান্র দেখাইয়া] কি 
রূপ!_কি স্বচ্ছ! কি তরল! কি সফেন! 
মার মার! ওরে তোরা একটু একটু খাব? 

১ম তাপস। আজ্ঞে না। 

চিরঞ্জীব। একটু দেখনা চেকে। ইতে কটু 
[িস্ত অম্ল মধুর কষায় সব রকম রসই আছে। 

২য় তাপস। না ম'শয়। 

চরঞ্জশীব। খোঁতিস যাঁদ বেশ কাত্তস্‌। 

৩য় তাপস। না ঠাকুর। 


৪র্ঘ তাপস বালক। তৃঁম ওটুকু খেয়ে 


ফেল। দোঁখ ক রকম ঢং বদলায়। 
চিরঞ্জীব । হঃ। বেটারা মনে মনে হাসু 
ছিস্‌ বোধ হচ্ছে। 
তাপস বালকাঁদগের হাস্য 
চরঞ্জব। এই যে প্রকাশ্যেই হেসে ফেল্লি। 
চরঞ্জশবের গীত 
আঁম বুঝ সং? 
তোমরা যে সব হাসৃছো দেখে 
আমার বেজায় নতুন ঢং। 
ভাবছো আমার টলছে পা? 
_ঁমথ্যে কথা- মোটেই না।_ 
(শুধু) ফেলছি চরণ নতুন ধরণ, 
বাহর 


(কোচ্ছে মাথা ভোর্‌-র ভোঁ) 
তোমরা যত হাসৃছো তত হচ্ছি আম রেগে টং । 
উগ্রভাবাপন্ন 

১ম তাপস বালক । মাল্লে রে 
. ২য় তাপস বালক । খেলে বুঝি-- 
৩য় তাপস বালক । পালা পালা 
৪ তাপস বালক । ওরে বাবারে_- 
[ তাপস বালকাদগের পলায়ন? 


চিরঞ্জশব। যা বেটারা নরকে পোচে থাকাঁব। 


পুনরায় গীত 
ফেলেছি চরণ নতুন ধরণ, বাহর কচ্ছি রং বেরং। 
মাধুরীর প্রবেশ 
মাধুরী । এ ক প্রভু? 
চরঞ্জীব। [হতাশ ভাবে] যাঃ_ নেশা 


ছুটে গেল! আর সশরণীরে স্বর্গে যাওয়া হোল 
না। তুই এ সময় এল কেন? 


1 


মাধুরী। মদ খেয়েছো ? 


গচরঞ্জশব। মদ ক রে? সোমরস- স্বয়ং 
[বিশ্বামন্রের তৈরি। 

মাধুরী । স্বয়ং বিশবকম্্মার তোর হলেও 
ও মদ। 


চিরঞ্জশব। আচ্ছা না হয় মদ-হোলেই বা 
মদ। 

মাধূরী। ছিঃ মদ খেয়ো না প্রভু। মহার্ষ 
গৌতম ত খান না। 

গরঞ্জব। মহার্ধয গৌতম একটা ভগ্ড, 
ষণ্ড, গণ্ডমূর্খ। আম এখন তাকে পেলে বেশ 
দ্ঘা দিয়ে দি! আর তাকে যখন পাওয়া যাচ্ছে 
না তখন তার বদলে এই তোকেই [প্রহার ] 
দুগ্বাদ। [প্রহার।] 

মাধুরী । আর না, আর না, তোমার পায়ে 
পাঁড়। 

বশ্বামিন্রের প্রবেশ 


[বশ্বামন্র। চিরজীব! ছঃ! 

চরঞ্জীব। “ছিঃ” কি? 

ণবশ্বামিত্ত। লঙ্জার কথা! 

চরঞ্জশীব। ক “লজ্জার কথা 2” 
শবশবামন্র। নিজের স্তীকে মাচ্চ। 
চিরঞ্জশব। নিজের স্ত্রীকে মার্ক না ত'কি 
পরের স্ত্রীকে মার্ভে হবে? 
চিনি স্লীলোকের গায়ে হাত? ছিঃ 
1 

চরঞজীব। এ স্ত্রীলোক নয় এ পুরুষের 


[িরঞ্জশব। সে খোঁজে তোমার দরকার কি ? 
দেখ বশ্বামিতন খাঁষ, তুম ব্রহ্ধার্যই হও আর 
দেবার্ষই হও, যাঁদ এ রকম বেমক্কা রকম পাঁত- 
পত্নীর মধ্যে এসে তাদের ন্যাধ্য দাম্পত্যকলহে 
বাধা দাও ত এই- দেখছো 


একখস্ড ভগ্ন বৃক্ষশাখা কুড়াইয়া জইয়া ঘুরাইতে 
গল ও সঙ্গে সঙ্চো হুক্কার কাঁরতে লাগিল । 


গৌতমের প্রবেশ 


গোতম। এ কি 'চরঞ্জীব? 
' চিরজীব। ঘ্াঁ, গ্াঁতাই ত-_ 


গৌতম। মাধৃরি কাঁদছো যে? 
রি ভিজিরি ক হত জাত 


জা িলানিকা লিকার তির 
আপাঁনই ত আমাকে সেধে সেধে খাওয়ালেন। 
আম কোনমতেই খাবো না_তা ক্রমাগত-_ 
“চরঞ্জব খাব 2 চিরঞ্জীব খাব 2” আঁম.কত- 
ক্ষণ টিকে থাকবো? রন্তমাংসের শরীর ত! 
শব*্বামিত্র। আম পরখ কাঁচ্ছলাম তোমার 
মনের বল কতদূর 
রঞজজশব। কেন? জার হস 
আপনার ঘুম হাচ্ছিল না? 
গৌতম। চিরঞ্জশব! শপথ কর যে আর 
কখন মাঁদরা সেবন কর্রধে না। 
চিরঞ্জীব । এ্যাঁ স্বয়ং বশ্বামণত্ যখন 
খান-_ 
গৌতম। মহার্ধ বিশ্বীমন্রের যা শোভা 
পায় তোমার তা পায় না। আবজ্জনা আশ্দর 
গায়ে লাগে না, কিল্তু তাতে জল পণ্চিকল হয়। 
শপথ কর এ কাজ আর কর্রে না। 
গচরজজীব। এ্যাঁ_ তা বেশ_ তবে তাই। 
[প্রস্থান। 
গোতম। মাধূরি আমি প্রবাসে চল্লাম। 
তোমার গুরুপত্বীকে দেখো। 
মাধুরী । আম প্রাণপণে তাঁর সেবা কর্্ব। 
কবে ফির্বেন? 
গোঁতম। ঠিক নাই। সম্ভবতঃ বর্ধকাল 
পরে। আমি এখন তোমার গুরুপত্ণীর কাছে 
[বিদায় নিয়ে আঁসি। [বিশ্রামন্রকে ] বচ্ধূবর, 
প্রস্তৃত হন, আম শশঘ্ব আসাছ! 
[সকলের 'ভিল্বাদকে প্রস্থান। 


হষ্ঠ দৃশ্য 
স্থান_তপোবনের প্রান্তভাগ। কাল-_প্রভাত। 
অহল্যা এ 
অহলঙ্যার গশত 
হীরা কি আঁধারে জলে, হিস কি ফল ফোটে 


অবহেলা অনাদরে প্রেম লো শ্কারে যায় ঘর 


১০ 1দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


গুণশর পরশ বিনা গানে কি শিহরে কাঁণা? 
কৃহরে কোকিল 'ি লো, বিনা সে মলয় বায়? 
নিরাশা, বিয়োগ, ভয়, প্রেমের মরণ, নয়, 
বাঁচে না শুধু সে ঘৃণা অবহেলা যাতনায়। 


গোৌঁতমের প্রবেশ 


গোৌতিম। অহল্যা ! 
অহল্যা। [চমকিয়া] কে? এ কি প্রভু! 
এ বেশে এখানে? 
গৌতম। আঁসিয়াছ 'প্রয়তমে বিদায় লইতে। 
অহল্যা। বিদায় লইতে? বটে_ বুঝোছি। 
উত্তম।-_তবু, কোথা যাইতেছ ? 
গোৌতম। সদর প্রবাসে । 
অহল্যা। কেন? 
গোতম। তপস্যায় রত রাহব প্রেয়াস। 


অহল্যা। তপস্যা? কাহার; কেন আলয়ে 
বাঁসয়া হয় না তপস্যা ১ 
গোতম। শত সহত্রব্ধনে 


মায়ায় জাঁড়ত, নিত্য সংসার চিন্তায় 
জক্জঁরত গৃহাশ্রমে,_তাই "প্রয়তমে 
একাকী নিম্নে দূরে_পশে না যেখানে 
মনৃষ্যের কন্ঠধান-_ নিস্তব্ধ নিভৃতে 


কারব তপস্যা চর্যযা। 

অহল্যা। যাও। 

গৌতম। দাও ধপ্রয়ে 
বিদায় প্রসন্ন মনে! 

অহল্যা। শুনি, কার কাছে-_ 
আমারে রাঁখয়া যাবে ? 

গোৌতম। সতশ সাধ্য রহে 
পাঁতস্মৃতি ধ্যান কাঁর'। 

অহল্যা। প্রভূ, ধ্যান করি' 


মিটে না আকাঙ্ক্ষা । হায় মিটে কি পিপাসা 
পুজ্করের চিন্রপটে! হা নিম্মম জাতি! 
কাঠন পুরুষ! নিত্য, বিয়োগে, মিলনে, 
আমরা করিব ধ্যান তোমাদের স্মৃতি: 
তোমরা যখন ইচ্ছা আসবে যাইবে 
স্বাধীন তরঙ্গসম সহিফু-সৈকতে। 
কেন আসো । ধ্যান কার রমণীর রূপ 


পারো না থাঁকতে দূরে 2 জশর্ণ দেহ যবে, 


বার্ধক্যের শেষ দশা, বাছয়া তথাপি 
কেন লও পল্লাবিত তরু ক্রোড় হ'তে 
স্ফুটন্ত কুসৃম কলি ?-_সে নাচে, সে হাসে, 
সে বার্ষ্ধত হয় মাতৃস্তন্যরস পানে। 


দোঁখয়াই নাহ সখী হও স্বার্থপর 

কি হেতু? 
গৌতম। অহল্যা! শবপ্র আঁম। 

রাহব কি প্রেয়সপীর অণুল ধারয়া 

'বিপ্রের কর্তব্য ভুলি? ূ 
অহল্যা। [উঠিয়া] যাঁদ না থাকিবে, 

বিবাহ কারলে কেন? বাঁধিলে আমার 

কৈশোর, তোমার শীর্ণ বার্ধক্যের সনে 

দেখ চাহ এই মুখ পানে-_ এই নব 

উীদ্ভন্ন যৌবন, এই উচ্ছৰাসত রুপ, 

অতৃপ্ত আকাত্ক্ষা, এই উদ্বেল হৃদয়; 

দোঁখছ ?_ বাধলে কেন নব সুকোমল 

কুসৃমিত পল্লপবিত শ্যামল বল্পরণী 

নরস বিশুচ্ক বৃক্ষকান্ডে? [কুন্দন] 


1চরঞ্জীবের প্রবেশ 


চিরঞ্জীব। [স্বগত] ঠিক তাই-_ 
যাহা ভাঁবয়াছি। জান ঘটাবে শবভ্রাট 
ওই লোমাবৃত ধাঁষ। [প্রকাশ্যে ] 
মহার্ধ! দাঁড়ায়ে 
অপেক্ষায়_ প্রস্তৃত। 
গৌতম। প্রেয়সী তবে যাই। 
অহল্যা। তম যাও, তুম থাকো- একই কথা 
প্রভূ 
অহল্যার। তোমার হৃদয়ে নাই স্নেহ! 
তোমার অধরে নাই সুধা! তপস্যার__ 
শুক কর্তব্যের জন্য তোমার জীবন; 
আমার জাবন চাহে সম্ভোগ । তোমার 
জীবনের ব্লত পণ্য সঞ্চয়; আমার 
কার্য্য ব্যয়। ভন্নরূপ গাঁত দুজনার 
ভিন্ন দিকে। এ জখবনে হইব না মোরা 
কু সাম্মীলত। যাও। বাড়বে না তাহে 
আমাদের জীবনের গভশর 'বিচ্ছেদ। 
গৌতম। [স্বগত] সত্য কথা! ঘুচিল না এ 
বিচ্ছেদ প্রিয়ে। 


চরাঁদন 


[ নিজ্কান্ত। 
অহল্যা। এত রূপ! এ পূর্ণ যৌবন! সব বৃথা ? 
ধরিয়া রাখতে তবু পাঁরাল না হায় 
এ ্ণ স্থাবর মূঢ় গৌতমে?_ হা ধক! 

চলিয়া গেল সে দূ চরণে? চািয়া 
শবজ্কনেত্ে। যেন গাঢ় অনুকম্পাভরে 


পাষাণশ ১১ 


মোর পানে? হা রমাঁণ! কাঁরস্‌ না তুই 
দুৰ্ধল নিম্ফষল এই রূপের গৌরব। 
[প্রস্থান। 
সপ্ত দ্য 
. স্থান_ নন্দন ভবন। কাল- প্রভাত ।' 
সপাঁরচরবর্গ 


অপ্সরাদিগের নৃত্য গত 
আমরা- এমনিই এসে ভেসে যাই। 
আমরা গানের মতন, হাঁসির মতন, 
কুসুমগন্ধ রাশির মতন, 
হাওয়ার মতন, নেশার মতন, ঢেউর মতন, এসে যাই। 
আমরা অরুণ কনক 'কিরণে চাঁড়য়া নাম, 
আমরা-সাম্ধ্য রাবর করণে অস্তগামী, 
আমরা--শরত ইন্দ্র ধনুর বরণে, 
বিলিভ চিত চান ভিসির হেলা 
আমরা-_স্নিপ্ধ, কান্ত, সুপ্তিশাল্তি ভরা, 
আমরা- আসি বটে তবু কাহারে দিই না ধরা, 
আমরা- শ্যামলে, গগনের নীলে, 
৪১৮ / ৮০৮4৯৬৭ 
স্বপ্লরাজ্য হতে এসে ভেসে, স্বপ্নরাজ্য দেশে বাই। 
[প্রম্থান। 
ইন্্। এই ছোকরা! 
চন্দ্ু। দেবরাজ! 
ইন্দ্। আর এক পেয়ালা । 
চন্দ্র। [আর এক পূর্ণ পানর ইন্দ্রকে 
[দিলেন।] 
ইন্দ্। পবন! 
পবন। দেবেন্দ্র! 
ইন্দ্র। আচ্ছা স্বর্গমর্ত পাতালে ত তোমার 
অবাঁরত গাত। 
পবন। আজ্ঞে! 
ইন্দ্র। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা কার 
উত্তর কর্তে পার্বে? 
পবন। আজ্ঞে, যাঁদ পার ত পার্্ব। 
ইন্দ্র। আচ্ছা বেশ। বল দোঁখ স্বর্গের 
মত রাজা, ইন্দ্রের মত রাজা, শচশর মত নার", 
আর সুধার মত মদ, কোন জায়গায় দেখেছো 
ক নাঃ 
পবন। আজ্ঞে নাঃ। 
ইন্দ্র। তুমি ত টকাশ কোরে বোলে ফেল্লে 
আজ্ঞে নাঃ। ভালো কোরে শুনেছো? 
১) পবন। শুনাছি বৈ কি? 
ইন্দ্র। দিকসের মত ?ক বল্লাম বল দোঁখ? 


পবন। [স্বগতঃ] ম্বীস্কলে ফেললে 
দেখৃছ। [প্রকাশ্যে?_ এ এই-স্বগ্গের মত 
নারী, সধার মত রাজা, ইন্দ্রের মত রাজ্য, 
আর শচশর মত মদ। 

ইন্দ্র। দুর তোমার স্মরণশান্ত খুব প্রথর 
বোলে বোধ হচ্ছে না। 

পবন। আজ্ঞে নাঃ। 

ইন্দ্র। না, তোমার মান্রাটা একটু বেশশ 
হয়েছে, আর খেয়ো না [ সুরাপান্র সরাইলেন ] 
বরুণ! 

বরুণ। বজ্জুপাণি! 

ইন্দ্র। এ প্রশ্নের উত্তর কর্তে পারো? 
বরণ। না প্রভু। 

ইন্দ্র। তুমি যে শুন্বার আগেই হাল 
ছেড়ে 'দিলে। বৈশ্বানর! 

বৈশ্বানর। জামূতবাহন! 

ইন্দ্র। বাল, একটা প্রশ্ন কার 2 
বৈশবানর। আজ্ঞে নাই বা কল্লেন! 

ইন্দ্। রাঁব! 

রাঁব। আমি এখনো উঠান দেবরাজ! 
ইন্দ্র। তাও ত বটে এখন যে রাত্তর। 
চম্ু! 

চন্দ্র। এই যে 
ধারলেন। ] 

ইন্দ্র। বেশ তোর ছোকরা!_দেখ পবন! 
বুঝছো না কথাটা? উব্বশী মেনকা রচ্ভা 
নেহাইৎ পুরোখো হয়ে দাঁড়াঙ্ছে। 

পবন। নেহাইৎ। 

ইন্দ্র। একটা বেশ যুতসৈ নারীর নাম 
কর্তে পারো, যাতে জীবনে একট? বোচিন্র হয়? 
পবন। পার; কিন্তু সে সব গেরোস্ত 
ঘরের মেয়ে। 

ইন্দ্র। হোক গেরোসত ঘরের_সূর্পা 
হলেই হলো। 

পবন। তা যাঁদ বলেন, আর স্বর্গ ছেড়ে 
মর্ভে নামতে রাজ থাকেন, তা হল্গে' একাঁটি 
লই নস কান জল 
ইন্দ্র। কে সে? 

পবন। গলায় মহা্ধ গতর সর 
অহল্যাদেবশ। 

বরুণ। বড় শন্ত জারগা। দাঁত বসে না। 


[ সমধাপান্ন  সম্মূখে 


১২ 1দবজেন্দ্র রচনাবলী 
ইন্দ্র। [সান্দগ্ধভাবে ঘাড় নাড়তে ইন্দ্র। যথার্থ সতীর সতীত্বনাশ কর্তে 


লাগিলেন ]1 

পবন। কিল্তু সে বিষয়ে একটা স্বাবধা 
আছে। 

ইন্দ্র। কি রকম? 

পবন। মহার্ধ প্রবাসে । 

ইন্দ্র। বটে বটে ?-তবে ত কেল্লা ফতে।_ 
ওরে কেউ মদনকে ডেকে নিয়ে আয় ত'- 
পবন, তুমিই একবার যাও না! 

পবন। যে আজ্জে। 

| প্রস্থান। 

ইন্দ্র। চন্দ্র, ঢালো না ভাই !--এ প্রস্তাবটা 
মন্দ নয়।_কি বল বৈশ্বানর ?--এই, অপ্সরা- 
দের আর একবার ডাকো না কেউ! 

বরুণ। এই আঁমই ডেকে আনৃছি। 


[প্রস্থান। 
ইন্দ্র। বৈশ্বানর! 
বৈশ্বানর। আজ্জে ! 
ইন্দ্র। তুমি যে ভাঁর গম্ভীর হোয়ে রৈলে 2 
বৈশবানর। এ্াঁ তাক জানেন- আমার 
স্বভাবই এঁ রকম। 
ইন্দ্। সাত্যি না 'কি?-এঁ যে মদন 
আসূছে। 


মদনের প্রবেশ 


মদন। প্রণাম হই দেবরাজ ! 

ইন্দ্র। এই যে এয়েছো-বে'চে থাকো। 

মদন। আজ্ঞে হাঁ। বেচে থাকবার আমার 
গোড়াগ্ড় সম্পূর্ণই মতলব ছিল; কিন্তু 
দেবরাজ তাতে বড় অবসর দচ্ছেন না। 

ইন্দ্র। কেন? 

মদন। এই 'দবারান্রই লোকের সব্র্বনাশে 
ফিরাছ। 

ইন্দ্র। কি সব্বনাশ? 

মদন। এই, অমুকের স্ত্রী বের কোরে 
বার বিয়ে দেওয়া। 

ইন্দ্র। সে সব ত আত সহজ 'শকার। 
বিধবা বালিকার সব্বনাশ করা, 'দবচারণধকে 
সব ত আমিও পার্তাম। 

মদন। আর ক কর্তে বলেন? 


পারো ? 

মদন। না সেটা মহাশয়ের একচেটে। 

ইন্দ্র। তামাসা রাখো । এ কার্য্যটা কর্ত্বার 
জন্য তোমাকে ডাকহাছ। 

মদন। তা আম আগেই আন্দাজ কারাছি। 
এখন জিজ্ঞাসা কার ভাগ্যবতশীট কে? 

ইন্দ্র। [জনাল্তিকে] মহার্ধ গৌতম-রমণন 
অহল্যা। 

মদন । বড় শক্ত জায়গা। 

ইন্দ্। নৈলে আম ক শ্তোমাকে ফলার 
খাবার নিমন্ত্রণে ডেকে পাঁঠইছ 2 শোন-_ 
একটা স্বাবধা আছে। 

মদন। ক সাবিধা 2 

ইন্দ্র। মহার্ধ এখন প্রবাসে । 

মদন। তবে ভস্ম না হয়েই কার্ধ্য উদ্ধার 
কর্তে পার্্ব পার্ব বোধ হচ্ছে যেন' কিন্তু, 
শকল্তু একটা কথা স্মরণ রাখবেন। 

ইন্দ্র। কি? 

মদন । গীত 

যে পড়ে প্রেমোর ফাঁদে, 
(একাদন) সে জন কাঁদেই কাঁদে । 
প্রথমে দুদন ভার হাঁসি, 

পরে গম্ভীরভাবে কাঁশ, 
শেষে গলে টান লাগে ফাঁসি 
(রকম) ভার গোলযোগ বাঁধে। 

প্রথম আরাম চুলকে 


ইন্দ্র। তা পরে যা হবার হবে। এখনকার 
কাজ ত এখন কর। 

মদন। তথাস্তু। 

ইন্দ্র। চল্দ্র।__ 

চন্দ্র সুরে*বর! 

ইন্দ্র। আর এক পেয়ালা। 


অপ্সরাদিগের প্রবেশ 


ইন্দ্র। এয়েছ বাছারা! একটা যৃতসৈ রকম 
ধর দোৌখ। দেখ এমন একটা গান গাইবে 


পাষাশী ১৩ 


যাতে মনে বেশ স্ফৃর্ত হয়। গাও বেহাগ- 
আর নাচো তেওট্‌। 


অপ্সরাদগের নৃত্যগীত 


ঢুলাও চামর বসল্ত সণ সুগন্ধ চণ্ঠল পবনে, 
বাজো মৃদণ্গ 
মূরাল নন্দন ভবনে; 
গাও িকম্পিত কারি' 'দগল্ত 
বিমুগ্ধ অপ্সরা রমণী, ' 
নৃত্য কর মদমন্ত, * 
মল্মধ হৃদয়ে বধ শর অমান। 


দ্বতশয় অঙ্ক 
প্রথম দৃশ্য 


স্থান_অহল্যার কুটীর। কাল- সায়াহু। 
একাঁকনী অহল্যা আসশনা 
অহল্যা। 'কি ঘোর বরষা! গাঢ় আচ্ছন্ন আকাশ 
ধূসর জলদজালে। আবিরল নামে 
জলধারা। পারব্যাপ্ত আকাশ মোঁদন'ী 
এক আঁবশ্রান্ত জলপ্রপাতঝওকারে । 
_এস বর্ধা, শীকরশনতলবায়্‌স্বনে, 
সূকুমারী! সশ্যামল কর, স্ন্ধ কর, 
নিদাঘাবশুক্ক তপ্ত বসুধা, সূন্দার। 


গীত 


বরষা আইল ওই ঘন ঘোর মেঘে 
দর্শ দক 'তামরে আঁধারি। 

বেদনা আর হৃদয় আবেগে 
রাখিতে নাহ পার। 

চমকে চপলা, চিত চমকে, সঘন-ঘন 

গরজনে কাঁপে হিয়া সাথি রে-_ 

ঝর ঝর আবিরল ঝরে জল ধারা, 


রতির প্রবেশ 
অহল্যা। কে তুমি? 
রাত। আতাঁথ। 
অহল্যা। ভুস্ত কিম্বা উপবাসী? 
রাত। উপবাসী নাহ, পিপাঁসত। 
অহল্যা। পিপাঁসত 2 
বর্ষার অশ্রান্তবাজ্টপ্রপাতে স্লাবিত 
প্রান্তর কান্তার অরণ্যানশ__আর তুমি 
তুম িপাঁসত ?এ কি রূঢ় পাঁরহাস ? 
রাঁত। পাঁরহাস নহে। সত্য। পুচ্কর সাঁরৎ 
স্নগ্ধজলপর্ণ; 'কল্তু তাহে চাতকের 
এ ক 'পপাসা? 
এ কি পাঁরহাস ছাড়”, 
751 
রাত। দেখিয়াছ কতু 
আপনার রুপরাশ মূকুরে 'বাদ্বিত? 
অহল্যা। দৌখয়াছি।_আপাততঃ ক চাহ 
সুন্দার? 
রাঁত। চাঁহয়া থাকব শুধু ওই মুখপানে 
তাপস! 
অহল্যা। রমণী তুমি 
রাঁত। ণকবা যায় আসে? 
গশ্বের সম্পান্ত রূপ-বিশ্বের 'বস্ময়। 
অহল্যা। গক নাম তোমার ? 


রাত। রাত। 
অহল্যা। নিবাস ? 
রাঁতি। গরাদবে। 


যাইতোঁছলাম আম এই পথ "দয়া 
শমাথলায় কোন প্রয়োজনে-অকস্মাং 
নামিল অশ্রান্ত জলধারা; নিরুপায় 
আশ্রম বাহরে তাই 'ননলাম আশ্রয়। 
দোঁখলাম তব ম্ার্ত সহসা, অমাঁন 
রাহলাম গিন্নার্পত, নিস্পন্দ 'বস্ময়ে। 
ক তোমার নাম সাখ! 

অহল্যা। অহল্যা তাপসণ। 

রাঁত। বড় ভাগ্যবতী আম; স্বর্গে শ্রীনয়াঁছ 
অহল্যার নাম।- নামে আবার বরষা। 
ণদবে স্থান দয়া কার আজি এ আশ্রমে ? 

অহল্যা। কৃতার্থ হইব। আম প্রোষিতভর্তৃকা: 
অভ্যাগত তুঁমি,_এত সৌভাগ্য আর্মার। 
আশ্রম ভিতরে চল। 

রাঁত। চল 'প্রয়সাখ! 


১৪ ধদ্বজেন্দ্র রচনাবলী 


দ্বিতীয় দৃশ্য 


স্থান গৌতমের তপোবন পথ। কাল- সন্ধ্যা। 
মদন ও বসন্ত 
মদনের গীত | 

ফুলমালা গলে পার, ফুলরেণু গায়ে মাঁখ, 
ফূলসাজ পার কেশে, ফুল বেশে তনু ঢাকি। 
ফুলধনু ধার করে, হান হদে ফুলশরে, 
ফুলবাসে ছেয়ে আসে অলস অবশ আীথ। 
ফুল খেলা, ফুল বধু, পান কার ফুলমধ, 
ফুলদল'পরে শুয়ে, ফুলপানে চেয়ে থাক। 
মদন। কি ভাবৃছ বসন্ত ? 

বসন্ত। ভাবাছ প্রভু, এত মিছে কথাও 
কৈতে পারেন! 

মদন। কি মিছা কথা সখে! 

বসন্ত। অন্ততঃ ভেতরের কথাগুলো সব 
চেপে গেলেন। 

মদন। ক প্রকার? 

বসন্ত। এই মূখে বেশ বোলে গেলেন 
“ফুলে নব তনু ঢাকি” কিন্তু তার নীচে ত 
দেখাছ মহাশয়ের খাসা মখমলের পোষাক। 
মদন। শুদ্ধ ফুলে ক তনু ঢাকে সখে, 
না শীত কাটে? 

বসন্ত। আমিও ত তাই বলৃছিলাম। তা 
যদ হতো ত লোকে তূলোর চাষ তুলে 'দয়ে 
ফুলের চাষ কর্তো। 

মদন। আচ্ছা তার পরে? আর কি মিছা 
কথা 2 

বসন্ত। তারপরে “ফুলধন7”। ফলের ধন 
তৈরি করতে পারে এ সাধ্য বিশ্বকরম্মারও নাই। 
প্ছেনে একথানি বাকার চাই। 

মদন। আচ্ছা আর কিঃ 

বসন্ত। আর “ফুল খেলা”। ফুল নিরে 
খেলা করা আবাশ্য এমন কিছু শল্ত নয়, 
যাঁদও মহাশয়কে বোধ হয় আমি ডাপ্ডাগুলি 
খেলতে দেখেছি। 

মদন। সে ছেলেবেলায়। 

বসন্ত। তবে যে কেবল ফুলমধু পান 
কোরে এঁ বাস্তবিক বর্তুলাকার শরাঁরটি এ 
ভাবে পরিপুজ্ছ হচ্ছে না, এটা আমি শপথ 
কোরে ম্বল্তে পারি। 

মদন। ওহে-বোঝ না 

বসন্ত। আর ফুলের পানে চেয়ে থাকা 


ছাড়া পূৃথবীতে আমাদের ন্যা় আপনার 
আরো দু চারটে কাজ কর্তে হয়। 

মদন। ওহে ওগুলো কাবতা। তুমি বুঝি 
কাব্যকলা বোঝ নাঃ 

বসন্ত। আজ্ঞে না। কাব্যকলা পাঁড়নি, 
[কিন্তু মর্তমান কলা খেয়েছি। আর শপথ 
কোরে বলতে পার যে, ভালো পাকা মর্তমান 
কলার কাছে কাব্যকলা ক চিন্রকলা কোন 
কলাই লাগেন না। 

মদন। এ সমস্ত কাঁবতা-এ যে শিকার 
আসছে । তোমার কোকিল, মলয় সব তৈরি 


বসন্ত। সব প্রস্তুত-দেখবেন 2 [অদৃরে 
কোকিল ডাকল।] 
মদন । বাঃ বাঃ! এ কোকলের আওয়াজে 


যাঁদ অহল্যাদেবী না ধরা পড়েন ত তাঁর 
শরীর ইস্ট সুরাঁক দিয়ে তৈরী করা। পাখী 
বটে। চল এখন অন্তরালে যাই। 

[ উভয়ের প্রস্থান। 


যাইতে যাইতে মদনের গীত 

আছে একটা ভারি কালো পাখা, 

ও তার আছ দুটো কালো পাখা। 
কবিরা তারে কোকিল বলে, 

আর ফাগুন চৈতে তর বদ অভ্যেস ডাকা' 
তার ডাক শুনে প্রাণ হা হৃতাস করে, 
বিরাহনীরা সব আছড়ে পড়ে, 
প্রাণকান্ত বিনে সে পাখীর স্বরে 

তাদের জীবনটা ঠেকে বড় ফাঁকা ফাঁকা। 
ও সে পাখশ বড় সব্বনেশে 
গোল বাধায় ফাগুন চচতে এসে; 
ভাগ্যিস নয় সে পাখী বারোমেসে;_ 

নইলে মুস্কিল হোত বেচে থাকা। 


[ প্রস্থান। 
অহল্যা ও রতির প্রবেশ 

রৃতি। হায় সাঁখ, এত রূপ, এ ভরা যৌবন, 
এ বসন্তকালে!_ শুদ্ধ একবার, সাঁখ, 
জীবনে, যৌবন আসে; আর সে যৌবন 
চরাঁদন "নাহ থাকে। 

অহল্যা। বাঝ, সব বুঝি, 
কিন্তু কি করিব? আমি অভাগিনশ অতি! 

রতি। মণির আদর রত্নবাণক বিনা ফি 
বুঝে শাখামৃগ 2 রতে দিও না ছড়ায়ে 
অরণ্যে। সার্থক কর এ রূপ যৌবন। 
চিরাদন রাহবে না। তবে 'আঁস সাঁখ। 


পাধাণণ ১৫ 


বড় ভাগ্যবতী আমি পাইলাম দেখা 
পথে হেন অস্সরাসম্ভব রূপরাশি। 


[প্রস্থান। 
অহল্যা। আহা! কি মধুর! [উপবেশন] 
মঞ্জুরিত নবশ্যাম 


নিকু্জ; গুঞ্জরে ভূঙ্গ; রাঁঞ্জত সুন্দর 
পল্লাবত বন্যবীথশী সন্ধ্যার গিরণে। 
সুদূরে তঁটনী বহে ঘন তরুচ্ছায়ে 
অর্্ধাবগুণ্ঠনবতাঁ, ক্ষিপ্র পদক্ষেপে 
বন্ধূরকান্তার 'দিয়া। স্তব্ধ অরণ্যানী।_ 
শুধু দূর আম্রবনে লালত উচ্ছৰাসে 
কৃহরে কোকিল এক, কার বকীম্পত, . 
পুঁ্পত অটবী। অসে মল্থর 'হল্লোলে 
বসন্ত সমশীর; চাহে নিস্পন্দ "বিস্ময়ে, 
কুরঙ্গ শাবক এক গ্রীবা বক্র কার' 
স্তব্ধ অটবীর পানে। সবার উপরে 
এক গাড় নীলাকাশ িস্পন্দ, 'নম্্মল, 
সদ্যোমেঘমস্ত, নত চুম্বিতে ধরার 
সুখাঁস্মত 'বম্বাধর- রাঁস্তম লঙ্জায়। 
কে বালবে এ বরষা! কে বলিবে ছিল 
কল্য সমাচ্ছল্ন কার ও নীল আকাশ 
প্রাবটের ঘন ঘটা? বসন্ত বরষা 
মধুর মিশ্রণে যেন রাঁচয়াছে এক 
অপূর্ব সৌন্দর্যযরাজ্য;_আহা কি মধুর! 
এত মুস্ধকর চিত্র দোথি নাই আমি 
বহাদন। এত স্নিগ্ধ বহে নাই বাঁঝ 
বহ্যাদন শীতল সমীর। ডাকে নাই 
কৌকল কখন এত অধশর আগ্রহে । 
গীত [ও 

আজ মোর প্রাণ ?ক চায়। 

জাগে এ হৃদয় আজ 'ক আকুল বাসনায় ॥ 


আঁজ এ অধশর প্রাণে কেন প্রবোধ না মানে, 
কোন টানে, কার পানে ভেসে যায়। 


উঠে চাঁদ! মার মরি! বন অন্তরালে 
পূর্ণ জ্যোৎস্না! একাদকে শান্ত গাঁরমায় 
সূর্য্য হয়ে অস্তামত, অপর আকাশে 

উঠে চন্দ্র স্নশ্ধ হাস্যে। লয়েছে উভয়ে 
বিভাগ করিয়া যেন 'দগন্তবিতত 


[শাথল স্বপ্নের মত।--ওই-_-ও কে- গায়! 


সঙ্জিত তরণশতে আরুঢ়া অপ্সরাদিগের গাঁহতে 
প্রবেশ ও প্রস্থান 
পাপ্রত 
বেলা বয়ে যায়। 
ছোট মোদের পানসী তরি সর্দোতে কে যাব আয়। 
দোলে হার, বকুল যুথা '1দয়ে গাথা সে; 
রেশাম পাল উড়ছে মধুর মধুর বাতাসে; 
হেল্ছে তাঁর দুল্‌ছে তাঁর, ভেসে যাচ্ছে দাঁরয়ায়। 
যাত্রী সব নূতন প্রোমক নূতন প্রেমে ভোর,_ 
মুখে সব হাঁসর রেখা, চোখে নেশার ঘোর; 
বাঁশীর ধ্বনি হাসির ধবনি উঠছে ছুটে ফোয়ারায়। 
পশ্চিমে জ্বলছে আকাশ সাঁঝের তপনে; 
পূর্বে এ বুন্ছে চন্দ্র প্রেমের স্বপনে) 
কচ্ছে নদী কুলুধ্বান বচ্ছে মৃদু মধুর বায়। 
অহল্যা। একি অপার্থব গীত? পুলকে 
আবেশে 
রোমাণ্ঠিত হয় তনু। হৃদয়ে জাগয়া 
উঠে গক বাসনা; আর রাখতে না পাঁর 
বাঁধয়া প্রবাহ ।-হায় বুঝোঁছ আমার 
বিফল যৌবন, এই নারীজল্ম বৃথা। 
বেলা গেল; যাই তবে শৃন্যগৃহে ফির! 
[ গমনোদ্যত। 
_কে যায় সুগৌর যুবা, শিরে জটাভার, 
বন্যপথ "দুয়া *লথ চরণাঁবক্ষেপে 2 
কে এ? কভু দৌখ নাই। সুঠাম সুন্দর 
দীর্ঘ দেহ; প্রসারিত বক্ষ; পারাহত 
আঁজন; চরণভঞ্গ লঘু; কন্তু তার 
মৃখখাঁন সব্্বশ্রেম্ঠ,ভাসে দেহ'পরে 
প্রস্ফুটিত পদ্মসম, শৈবাল বোন্টত 
কোমল মৃণাল বৃত্তে । কে এ ? ডেকে দেখি 
কে পাল্থ? 


তাপসবেশে ইন্দ্রের প্রবেশ 


ইন্দ্র। ডাকিলে মোরে, কে তুমি তাপাঁস? 

অহল্যা। বাল, কোথা যাবে? 

ইন্দ্র। মাথলায়। কত দূর 
মাথলা নগরী? মোরে দয়া কোরে দোব 
পথ বোলে দাও যাঁদ। 

অহল্যা। পাল্থ, বহু দূর 
সে স্থান দূর্গম। সম্ধ্যা আগত। তাপস! 
মদীয় আশ্রমে যাপ নিশঈথ। প্রভাঙে 
যাইও সেথায় কল্য। | 


ইন্দ্র। কে তুমি? 


১৯৬ দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


_অহল্যা। তাপসণ। লোমহর্ষণ ব্যাপার! কি কার? কার পরামর্শ 
ইন্দ্র। নাম? নেই? একবার তপোবনান্তরে যাব না কি? 
অহল্যা। অহল্যা।-না সখে' | না! অন্য তাপসদের কাছে এ কুৎসা এখন 


মিথ্যা কথা বাঁলয়াছ, আম শৃদ্ধ নারী ; ভেঙ্গে কাজ নেই। দোখ যাঁদ আমরাই এর 
কোন নাম নাহি মোর। না সখে, কি নাম : কোন প্রাতীবধান কর্তে পাঁর। স্বামীর স্চে 
যেতোছি ভূঁলিয়া। নাম? জাঁনও সন্ন্যাসী পরামর্শ করা যাক্‌! এ যে উনি যাচ্ছেন। 


শুদ্ধ সন্ন্যাসনী আঁম। প্রভূ একবার এাদকে এস! 
ইন্দ্র। সত্য কোরে বল, 

খুলে বল; প্রহেলিকা বাঁঝ না, কে তুমি? ছি রিরতরের ৃ 
অহল্যা। সত্য বালব 'ক প্রিয় 2 হাঁ, সত্য বাঁলব, চিরঞ্জশশব। ক রে ডাকছিস না ক? 

আমার আশ্রমে চল। মাধূরী। হাঁ একটা কথা আছে। 
ইন্দ্র। না, না, যাইব না। চিরঞ্জীব। কথাটা কি খুব দরকারী ? 
অহল্যা। হাঁ যাইবে তুম! মুখে স্পম্ট ব্যস্ত মাধুরী । ভার দরকারী । 

তাহা। চিরপ্রশব। তবে এখাঁন বোলে ফেল্‌। 


কপট! আশ্রমে চল। [অস্ফুটস্বরে ]। সত্য আঁমও একটা ভারী দরকারী কাজে যাঁচ্ছ। 
বালতেছি, আমি তব দাসী, তুমি মোর মাধুরী । প্রভুপত্নী কোথায় ? 


প্রাণে*বর। চিরঞ্জীব। আশ্রমে । 
[উভয়ে নিষ্কান্ত। মাধুরী । কি কচ্ছেন? 
মদন ও রতির পুনঃ প্রবেশ ও নত্য গতি চরঞ্জব। ক আর কব্বেন 2 চোখ 


রগড়াচ্ছেন। সেই পুরোণো গল্প । 
উভয়ে। এম 
উভয়ে । এমাঁন কোরে আমরা মজাই কুল। মাধুরী । - পুরোণো 


এ ভুবনে আমরাই যত আঁনন্টেরই মূল। 
* মদন। আম বুকে হান পদ্পশর; চিরঞ্জীব। বুড়োবুড়ীর গল্প। জানিস 


রাত। আমি আনি বক্ষে বক্ষ, অধরে অধর; নে বুঝি ;তবে শোন্‌। 

মদন। বিছায়ে দ' পাতার শয়ন; তি 

রাঁত। ছড়ায়ে 'দ' ফৃল। 

মদন। প্রেমের *বাসে দিইছি সুবাস, প্রেমের  বুড়োবুড়ী দুজনাতে মনের মিলে সুখে থাকৃত। 


ভাষে গান; বূড়ী ছিল বেজায় বৈষব বুড়ো ছিল ভারি শান্ত। 
রাত। অধর কোণে দিইছি মধু, নয়ন কোণে বাণ; হ'ত যখন ঝগড়া ঝাঁট, হণ্ত প্রায়ই লাঠালাতি; 


মদন। আম কার সৃষ্ট স্বর্গলোক; ব্যাপার দেখে ছদটোছহাট 

রাতি। আম কার বৃন্টি সুধা_মিলন-সম্ভোগ; পাড়ার লোকে গপাীলশ ডাকৃত। 
মদন। উড়ায়ে দি আঁচলখাঁনি; হঠাৎ একাঁদন “দুত্তর” বোলে, 

রাঁতি। এলায়ে 'দ' চুল। কোথায় বুড়ো গেল চলে; 


মদন। দেবতা জানে আমার প্রতাপ, মানৃষ 'কবা | বুড়ী তখন বুড়োর জন্যে কল্পে চক্ষু; লবপান্ত। 
শেষে বছর খাঁনক পরে বুড়ো ফিরে এলে ঘরে, 


ছার; 
রৃতি। আম কিন্তু ষোলকলা পূর্ণ কার তা'র; বুড়ী তখন রেধে বেড়ে 
মদন। আম কেবল রটাই প্রেমের জয়; তারে ভার খুী রাখৃত। 
রাতি। আম শুধু প্রেমের বিপদ ঘটাই ভুবনময়; ঝগড়া ঝাঁট গেল থেমে; 
উভয়ে। আমাদেরই সৃম্টি করা 'বাধির বিষম ভুল । দত প্রেমে, 
[নিক্কান্ত। ণ 
গয় দশ্য নান 
র ব্ঞ্জাব। আচ্ছা মাধুরী! আম 
স্থান-.-চিরঞ্জীবের আশ্রমের বাঁহর্ভাগ। ভার ধেক্কায় প'ড়োছি। তি 
চি মাধ্রী। ক ধোকা ; 
মাধধরার দ্ুদতপদসপ্গারে প্রবেশ চিরপ্ীব। ধোল্কা হচ্ছে এই, তুই কি 


মাধুরী। কি আশ্চর্য্য! কি অন্যায়! কি আমাকে ভালবাসিস-? 


পাষাণ ১৭ 


মাধুরী । হাঁ, বাঁস। 
চিরঞ্শীব। হ$ দেখে তাই বোধ হয় বটে। 
মাধুরী । তবে আর ধোক্কা কি? 

চিরঞ্জীব । এ ত ধোক্কা।_আচ্ছা খুব 
ভালবাসি 2 

মাধূরধ। খুব বাস। 

চিরঞ্শব। আগ [কল্তু তোকে কিচ্ছু 
ভালোবাসিনে। 

মাধূরশ। একদিন বাসবে। 

[চরঞ্জীব। উহ বোধ হয় না। [ সান্দদ্ধ- 
58 
ভালোবাসতে 

মাধুরী । কেন? আম জাতিতে গণিকা 
বোলে 2 

চিরঞ্জীব। না তুই জাতিতে স্ীলোক 
বোলে ।- তুই অসার, আঁকিণ্িৎকর যৎসামান্য 
স্তীলোক। আমার মতন একটা প্রকাণ্ড 
জানোয়ার তোর মত একটা ক্ষুদ্র মেয়ে মানুষকে 
ভালোবাসতে পারে না। 

মাধুরী । তোমার যেমন ইচ্ছা। তুম 
আমায় ভালোবাসো না বাসো, আম চরাঁদন 
তোমায় ভালবাস্‌বো। 

চিরঞ্জশীব। এ তস্ত্রীলোকের দোষ । বেজায় 
নাছোড়্বন্দ্‌। 

মাধুরী । আচ্ছা সে কথা যাক প্রভুপত্রীর 
আশ্রমে সম্প্রীতি কিছু লক্ষ্য করেছে 2 

চরঞ্জীব। কাঁরাছ। 

মাধুরী । ক? 

চিরজশীব। সাপ, ব্যাং, টিয়া, বুলবুলি, 
তেলাপোকা, 1টিকা্টীক-_ 

মাধুরী । না না নতুন কিছু? 

চরঞ্জীব। হরিণটার একটা ছানা হয়েছে! 

মাধুরী । না গো ও সব নয়! নতুন কোন 


1 

1চরজশব। ব্যান্ত ? 

মাধুরী । হাঁ। 

চিরঞ্জশব। ব্যস্ত 2 কৈ, না? 

মাধুরী । একজন এসেছে। 

চির্শীব। পুরুষ মানুষ, না মেয়ে মানুষ ? 

মাধুরী । পুরুষ মান্ষ। একজন সল্দর 
সুগৌর ষুবা প্রত্যহ অর্ম্ধরারে আসে, আর 
প্রত্যষে চোলে যায়। 


্‌ 


চিরঞ্জীব। বটে? বটে? এ ত রগড় মন্দ 
নয়।_কোথা থেকে আসে আর কোথায় চোলে 
যায়? 

মাধুরী । দূরে নদীবক্ষে একখানা সাঁ্জত 
তরণী দেশ নিঃ 

চিরজীব। দোঁখাছ যেন। 

মাধুরী । সেখান থেকে আসে আবার সেই 
খানেই চোলে যায়। 

চিরঞ্জীব। বোঝা গেছে। বাবা, চিরঞ্জীব 
শম্মা এত মূর্খ নয়।-যাবে কোথা 2 স্ত্ী- 
জাতির চাঁরত্র ত, তা রেশমী সাড়ীই পরুন, 
আর গাছের ছালই পরুন, স্ত্ীচরি্ন যাবে 
কোথা? যাবে কোথা 2 

মাধুরী । এখন তোমায় একটা কাজ কর্তে 
হবে। 

চিরঞ্জীব। ক কর্তে হবে বল 'দাখ নি! 
আমার যে রকম গায়ে শান্ত, সেই রকম যাঁদ 
মাথায় বুদ্ধি থাকৃত, তা হলে বোধ হয় আম 
একটা বুদ্ধিমান লোক হতে পার্তাম। 
মাধুরী । করতে হবে এই-এই লোকটার 
সন্ধান নিতে হবে। কে সে? কোথায় তার 
নিবাস? তার আঁভপ্রাযই বা কি? 
চিরঞ্জশশব। সে কে, আর কোথায় তার 
1নবাস, তা জাঁননে বটে; কিন্তু তার আঁভিপ্রায় 
যে কি তা বেশ টের পাওয়া গেছে। এ রকম 
অবস্থায় সব পুরূষজাতির একই রকম আভিপ্রায় 
হয়ে থাকে। 

মাধুরী । সে কাল প্রত্যষে যখন আশ্রম 
থেকে বেরিয়ে যাবে, তুমি তার পিছন ছু 
যাবে। গিয়ে 

চিরপ্রীীব। তা আমঙ্ক্ষ দিয়ে হবে না। 
আম পিছু পিছু গিয়ে তাকে ধর্তে পার্রবো 
না। ধর্তেহয় ত সম্মুখ সমরে ৷ [ উগ্রভাবাপন্ন] 
মাধূরী। না প্রভৃ। মহার্ধ গোৌতমের পাঁবত্র 
আশ্রমে একটা কুকশীর্ত কোরে কাজ নাই। 
চিরঞ্জশব। হু হু হু হহ [হুঙ্কার] 
মাধুরী! দোহাই তোমার । এখানে নয়। 
যুদ্ধ কর্তে হয় ত. তপোবনের বাহরে গিয়ে। 
আজ শেষরাত্রে একটু সজাগ থেকো। 
চিরঞ্জীব । আমার ত আজ সমস্ত রাত ঘুম 
হবে না।বেশ বেশ! সুখবর! এ রকমে 
জাঁবনের একট; বৈচিন্ত্য হয়। 


১৮ 'দিবজেন্দু রচনাবলশ 


মাধুরী । শতানন্দ কাঁদে কেন? এ যে 
আসছে। 
রোরুদ্যমান শতানন্দের প্রবেশ 
শতানন্দ। "দাদ! 
মাধুরী । কি দাদা? 
শতানন্দ। মা আমাকে মেরেছে। 
মাধুরী । কেন? 
ধাতানন্দ। তা জান না। আর বলেছে, 
আজ রাতে আমাকে তার কাছে শুতে দেবে না। 
[ ক্রন্দন |] 
চিরঞ্জশীব। তা যে মা তোকে মারে, তার 
কাছে তুই শুতে যাস কেন রে ছোঁড়া? 
মাধুরী । বোঝ না, সে যে প্রাণের টান।_ 
চল দাদা আমার সঙ্গে খেলা কর্ষরবে এস! 
[ মাধুরীর শতানন্দকে লইযা প্রস্থান। 
চিরঞ্জীব। হু হু সাধে কি. বাল, 
“স্বভাব এবার তথাতিরিচ্যতে ।” যাবে কোথা । 
স্তীচরিত্র ত-যাবে কোথা? 
জনৈক তাপসের প্রবেশ 
চিরঞ্জীব। হু হু হু হু | হজ্কার ]। 
তাপস। কি ঠাকুর! হঠাৎ এত উগ্র যে? 
[চরঞ্শব। আমার ক্লোধের উদয় হ'য়েছে! 
তাপস। কেন? 
চিরজজীব। সে খোঁজে তোর দরকার কিরে 
বেটাঃ [প্রহারোদ্যত ] বেরো আমার আশ্রম 
থেকে। 
তাপস। বেরোঁচ্ছ। একটা সুখবর 'দিতে 
এলাম, 
চিরঞ্জীব। সুখবর ? [সাগ্রহে] কি? কি? 
তাপস। মহার্ধ গৌতম ফিরে আসছেন। 
ণচরঞ্জশব। কবে? 
তাপস। এই সস্তাহখানকের মধ্যে! 
রজব । কেন? 
তাপস। তাঁদের তপস্যা হোল না। সেখানে 
রাক্ষসের 'বপর্যায় রকম অত্যাচার । 'বিশ্বাঁমন্তর 
শগয়েছেন মহারাজ দশরথের কাছে নাঁলশ 
কর্তে; আর গৌতম 'ফরে আসছেন। 
চিরঞজজশীব। নেহাইত অপদার্থ। এই 
গোৌতিমটা নেহাইৎ অপদার্থ স্ত্রী ছেড়ে থাকৃতে 
পাল্লে না আর কি? বোঝা গেছে। নেহাইৎ 
অপদার্থ । 
[ উভয়ে নিজ্কাষ্ত। 


চতুর্থ দৃশ্য 
স্থান_অহল্যার কুটাঁরাভ্যন্তর। 
ইন্দ্র ও অহল্যা 

অহল্যা। তুমি ইন্দ্রঃ তা জানলে আগে, 
কে কারত 

আপন হদয়ে*বর তোমারে মায়াবী ? 


কাল- শেষরান্র। 


কিশোর মন্দার পুষ্প বসন্ত সমীরে 
ঢালে না সুগন্ধ এত, যে গন্ধ তোমার 
অস্ফুটপ্রণয়বাণশীম শ্রতনিঃশবাসে। 
ত্রিদিব ভাণ্ডারে মোর এত সুধা নাই, 
ও রন্তু অধরে যত। | চুম্বন] । সজল বিদন্যং 
এত-স্নগ্ধতীব্র নহে, তব আলিঙ্গন 
যত 'স্নগ্ধ প্রিয়তমে ! [আলিঙ্গন ] 
অহল্যা। সত্য? 
ইন্দ্র। সত্য কথা। 

অহল্যা। হায় যাঁদ পারতাম কারতে বিশ্বাস 
এই বাক্য! 


ইন্দ্র। কেন নহে? 

অহল্যা। তব সভাস্থলে 
নৃত্য করে বারাঙ্গনা। , 

ইন্দ্র। তাহারা নর্তকী 
প্রণয়িণী নহে। 


অহল্যা। শচশ মাহষী তোমার। 
ইন্দ্র। ইন্দ্রাণী মহিষী মান, প্রণায়ণশ নহে।, 
অহল্যা। [সহসা]। না না ফিরে যাও! 
এখনো 'ফারতে পার, 
এখনো 'ফিরিতে পার! যাহা হইবার 
হইয়াছে । জানবে না কেহ। যাও ফিরে। 
ইন্দ্র। যাইব প্রেয়সি কিন্তু সঙ্গে যাবে তুমি। 
চল এইক্ষণ। তারে সাষ্জত তরণশ 
চল। 
অহল্যা। না, হদয়ে*বর! কেন কর মোরে 
মঙ্জিত গভীর পঞঙ্কে? গৌতম-রমণণ 


পাষাণশ ১৯ 


আম। 
ইন্দ্র। কেন মিথ্যা এ প্রবোধ! বহুদূর 
আঁসয়াছ! আর চাঁহও না ফিরে ফিরে। 
এখন অহল্যা ইন্দ্র অচ্ছেদ্য শৃঙ্খলে 
বদ্ধ আমরণ। চল, রাখব তোমারে 
মম্মররচিত হম্মে, পুষ্প সুবাঁসিত 
কনকপালছ্কে। দিব হীরক গ্াঠত 
অলঙ্কার; দাস দাসী। তদৃপার আস 
করিবে চরণসেবা দেবেন্দ্র আপানি 
প্রত্যহ । 
অহল্যা। [ কাঁম্পতস্বরে | শপথ কর, 
»সত্য ভালোবাসো ? 
তথাঁপ সন্দেহ ? ভালোবাস ? 
হায় প্রয়ে! 
অধশীর আগ্রহ এত, জহলন্ত বাসনা, 
বৃঝ নাই প্রাণেশবরণী 2 
অহল্যা । _সল ঝাঁপ "দিব 
কলঙ্কসমুদ্রে আজ । ফিরে যেতে চাহ 
কিন্তু হায় ফিরতে সামর্থ্য নাই! চল। 
_কিন্তু পুত্র শতানন্দ ? 
ইন্দু। তারে রেখে যাও 
লালন কারবে শিষ্যদম্পতী তাহারে। 
_-এখনো রজনী আছে। চল। 
অহল্যা। কোথা যাব ? 
ইন্দ্র। স্বর্গে। 
অহল্যা। না না স্বর্গে নহে। 
ইন্দ্র। কেন প্রাণেশবরশ ? 
অহল্যা। জিজ্ঞাঁসছ “কেন?” নিত্য লজ্জায় 


রক্তিম 
হইব না,_পথে ঘাটে '্রিদিবে যখন 
অঙ্গুল বাড়ায়ে মোরে কাঁহবে সকল 
দব্যাঞ্গনা-_“ওই ভ্রম্টা গৌতমরমণনী” ? 
ইন্্র। 'দব রাখি নিভৃত নিলয়ে, দূরে । কেহ 
না। 


ইল্দ | 


অহল্যা। না বল্লভ! তার চেয়ে চল-_ 
কোন দূর নরালয় ঘ্বীপে, উপকূলে, 
অথবা পর্বতশৃঙ্গেপশেনি যেখানে 
মনুষ্য নিঃশ্বাস; নাহ পাশবে শ্রবণে 
আপন অখ্যাতগাথা; যেখানে ভূঞ্জিব 
পরস্পরে 
অলক্ষ্যে নভূতে সুখে । সেখানে বাঁঝব 
বিশ্ব জনশন্য, শুদ্ধ তুমি আমি আছি। 


ভাসায়ে যাইব যূগে যুগে নিরবাঁধ 
ক্ষুদ্র মিলনের তরী, অকৃল গভশর 
প্রেমের সমুদ্র, তার গাঢ় স্বচ্ছ নীল 
ফোনল 'হল্লোলে। 

ইন্দ্র। অত্যুত্তম! চল যাই 
এ মূহূর্ত। শতানন্দ সুস্ত। অরণ্যানন 
নিস্পন্দ নীরব! 

অহল্যা। বাম্ট পাঁড়তেছে। 

ইন্দ্র। শুভ। 
রজনীর অন্ধকারে শীকরশনতল 
নিস্তব্ধ প্রহরে, মৃতবং অচেতন 
ঘুমায় নিখিল 'ব*ব। শঘ্ব এস। 

অহল্যা। ৮ল। 

শতানন্দ। মা! মা! 

অহল্যা। জাগয়াছে পনত্র। 

ইন্দ্র। পড়েছে ঘুমায়ে 
আবার বালক । চল এইক্ষণে। বিলম্ব কি! 

অহল্যা। চল তবে। 

শতানন্দ। মা! মা কোথা! 

ইন্দ্র। স্থর হ, বালক-_ 
অহল্যা থামাও পূত্রে। নাহলে নিষ্ফল 
কারবে এ আয়োজন 

অহল্যা। থাম শতানন্দ। 


শতানলদ। মা ও কে? মাযাও কোথা? 
ইন্দ্রু। বফল করিল 
এত আয়োজন, ওই হতভাগ্য শিশু । 
অহল্যা। "ক কাঁরব? 
শতানন্দ। মামা ক্ষুধা 
ইন্দ্র। কর কন্ঠরোধ। 
শতানন্দ। মা ক্ষধা। 
অহল্যা। আবার 2-তবে 'দিতো্ছি 'মটায়ে 
চিরজীবনের ক্ষুধা । 
গিয়া শিশুর কণ্ঠরোধ 
ইন্দ্র স্তব্ধ হইয়াছে 


পাপাত্মা জল্মের তরে শশঘ্র চোলে এস। 
অহল্যা। একি! কাঁরলাম হত্যা আপন সন্তানে ? 
ইন্দ্র। বাহিরে ডাকছে কাক। এস 

[ বহির্গমন। 

অহল্যা। চল যাই ৯ 

বাঁঝয়াছি। তবে আম নাঁময়া এসোছি 

নরকরাজত্বে! তবে 'বিদায়-_বিশবাস, 

নির্ভর. মমতা, পৃণ্য।_আয় নেমে আয় 


২০ দিবজেন্দ্র রচনাবলী 


পাপের করাল রাজ্য প্রগাঢ় তিমিরে! 
প্রস্থানোদ্যত 
মাধুরীর প্রবেশ 
মাধ্রী। শতানন্দ কাঁদে কেন? প্রভূপত্রী তুমি 
এ বেশে ? কোথায় যান্না করিছ প্রত্যষে 2 


অহল্যা। ধরা পাঁড়য়াছ। 
ইন্দ্র। [বাহরে ]-এস শীঘ্র চোলে এস। 
বাহরে শব্দ 


ইন্দ্রকে ধাঁরয়া চিরঞ্জশবের প্রবেশ 
চিরঞ্জীব। তবে পলাতক যাবে কোথা 2 
ইন্দ্র। ছাড় জীব! 
প্রাণে যাঁদ মায়া থাকে। 
রঞ্জীব। হাঁ চন্দ্রবদন ! 
উভয়ে যুদ্ধ। চিরঞ্জীবের প্রাত ইন্দ্রের বজ্রাঙ্ন 
নক্ষেপ ও চিরঞ্জীবের পতন 
অহল্যা। এক এক! 
ইন্দ্র। শশঘ্র চোলে এস প্রাণেশবার। 
[ অহল্যার হস্ত ধারয়া আকর্ষণ করিযা নিক্কমণ। 


তৃতীয় অঙ্ক 
প্রথম দশ্য 
স্থান__জনকের প্রাসাদ কক্ষ। কাল- প্রভাত। 
জনক, গৌতম, চিরঞ্জীব, শতানন্দ 

গৌতম। প্রবাস হইতে 'ফারি' বন্ধু দৌখলাম-_ 
আশ্রম কুটীর জনশূন্য । নিরুদ্দেশ 
অহল্যা প্রেয়সী। মৌন আনম্র বিষাদে 
আমার কুটীর চূড়া; কুটীর প্রাঙ্গণে 
শহ্প গুল্ম তাহাদের রাজ্য পুরাতন 
কারতেছে আঁধকার। 

চিরঞ্জীব! চারতেছে ঘুঘু! 

গৌতম। সান্মীহত নিম্ববক্ষাশখরে বাদুড় 
রাহয়াছে নীড়। বন 'নস্তব্ধ, মাঁলন। 
আশ্রমে প্রবেশমান্ত উঠিল চাঁৎকা'র' 
বরাট, পেচক এক! বাহিরিয়া গেল 
দোখিয়া আমারে । ডাঁকিলাম চীৎকারয়া 
বনপ্রাতধবান উপহাস । বাহা'রয়া 
আসিল তখন শশষ্যা মাধুরী । কহিল 
কেহ সে আশ্রমে নাই। শিষ্য চিরঞ্জীব 
আহত কুটীরে। শতানন্দ প্রিয়তম 
পারত্যন্ত মৃতবত, বাঁচিয়াছে বহু 
শুশ্রুষায়! নিরৃদ্দেশ অহল্যা। 


জনক । কারলে 
অন্বেষণ গোৌতমর ? 
চরজশব। বহু অন্বেষণ, 


বন হ'তে বনাল্তর। কোনই সন্ধান 
মালল না। 

জনক । তার পর 

চিরজনীব। কাঁহলাম আম 
সম্ত্রীক সংসার যাঁদ না কাঁরতে পারো 
কেন এই 'িড়ম্বনা_ উদ্বাহবন্ধন ? 

গোতিম। সত্য 'চরঞ্জশব। 

চিরঞ্জীব । প্রভু শুনিলেন ষবে, 
অহল্যা উদ্ভীয়মান্‌ লম্পটের সনে। 
কাঁহলেন “অসম্ভব”। কাঁহলাম আম 
“এ শাস্ত্সঙ্গত প্রভৃ--প্রোষতভর্তৃকা 
দোষ নাই"-_তবে কিন্তু রাজার্ধ! লম্পট 
কি ছাুঁড়য়া মারল আমারে নাহ জানি। 
অদ্ভূত সে প্রহরণ আশ্নসম তেজে। 

গৌতম। রাজার্ধ! জীবনে আর অনুরাগ 

নাই-_ 

সংসারে প্রবৃত্ত নাই। চাঁললাম আজ 
ছাঁড়' বনগ্রাম শিষ্যদম্পতীর সনে। 

জনক। কোথা যাবে প্রিয়বর 2 

গৌতম। সুদূর কৈলাসে 
শানয়াছি সে পর্বত আত মনোহর, 
অতাব নিজ্জন! 'দব সকল কামনা 
সকল সাধনা চন্তা একান্ত আগ্রহে 


বি*বনিয়ন্তার পদে। 

জনক। নিজ তপোবনে 
কর না তপস্যা? 

গোতিম। পারিব না 'প্রয়বর ! 


সুখস্মৃতিসম মম রম্য তপোৰন 
সতত জাগায়ে দবে অতাঁত কাহনণ। 
জনক। বড়ই করুণ বার্তা। 
গোৌতম। বাঁঝ এ বেদনা 
বিভুর মগ্গল 'বাধ। ভুলিয়াছলাম 
বিশ্বেশ্বরে এত দন, মায়ায় জাঁড়ত, 
আত্মসুখরত। বাঁঝ দয়াময় প্রভু 
ছিন্ন কাঁর' সে বন্ধন লইলেন টান, 
আমারে তাঁহার পানে! ধনা বিশ্বপাত! 
তোমার মণ্গল ইচ্ছা পূর্ণ হোক। 
[ উদ্দেশ্যে প্রণাম ] 
_সখে! 


পাষাণধ ২১ 


বালকে, জীবনাঁধক পত্রে, সমর্পণ 
কারলাম তব করে, রাজার্ধ! দোখও। 
জনক। পূনততরবং কাঁরব লালন। 
গৌতিম। প্রাণাধিক! 
শতানন্দ! চলিলাম। বুঝ আম তোর 
বড়ই নিষ্ঠুর পিতা! আশৈশব তুই 
িতৃমাতৃস্নেহসুখে বাণ্চিত। ছাঁড়য়া 
[গিয়াছে জননী তোর! আমিও নিম্মম 
চঁলিলাম ছাঁড়”। বৎস চাললাম! কভু 
আমারে কারস মনে। না, না, ভূলে যাস, 
ফেলে দিস্‌ বক্ষ হ'তে টানি উপাঁড়য়া 
নিষ্ঠুরজনকস্মৃতি। ভাঁবিস্‌ বালক, 
তুই পতৃমাতৃহীন। চুম্বন] 
গেলাম রাখিয়া 
আভন্নহদয়বন্ধ্‌ তোমার আশ্রয়ে । 
চাঁললাম বংস! [চুম্বন] বন্ধু দৌখও 
বালকে! 
অসহায় শিশু-আর কি বালব তুম 
জান সব। 'প্রয়বর দোখও। আমার 
প্রাণের আধক শতানন্দ সুদর্শন! 
চলিলাম বংস! | চুম্বন | রাজার্ধ কারও 
ক্ষমা 
দুর্ভাগ্য অক্ষম বৃদ্ধ গৌতমে ! 
জনক। জান না, 
তোমার এ ভাগ্য কেন? অথবা সুহং 
এই তীব্র যন্ত্রণায় কানিতেছ তুমি 
অনন্ত অক্ষয় পুণ্য। 
গৌতম। চিলাম তবে। 
চিরঞ্জীব । “চলিলাম”" “চললাম” 
এক শত বার 
করার সদর্থ বুঝি, প্রভু যাইবার 
ইচ্ছা নাই» কে মাথার 'দিব্য দিয়া তবে 
কাঁহয়াছে “যাও যাও” ।থাকো না এখানে ? 
গোৌঁতম। নানা চিরঞ্জীব চল! মাধুরী কোথায় ? 
চিরপ্রশব। কাঁরছে ক্রন্দন বাহর্্বারে ! চিরকাল 


স্লীজাতির প্রিয়কার্যয। 
গোৌতম। তবে বংস যাই! 
যাই বন্ধু! 
জনক। এস 'প্রয়বর ! 
গোৌঁতম। একবার 


আর একবার চুম্বি। বৎস প্রাণাধিক! 
একটি চুম্বন তুই দাবি না পতারে 2 


শতানন্দ চুম্বন কাঁরল 
গৌতম। একবার “বাবা” বোলে ডাক্‌, শুনে 
যাই! 
শতানন্দ। বাবা! বাবা! বাবা! 
গৌতম। না, যাইতে পারব না আম। 
রাহব সংসারী । 
চিরঞ্জীব । তাহা পূর্ব হ'তে জান। [বাঁসল] 
গোতম। হা অবোধ! হা নিষ্ঠুর! বালক! 
বালক! 
কেন ডাঁকাল ও তোর মধুমাখা স্বরে ? 
কোথায় যাইব ?বৎস প্রিয় প্রাণাধিক! 
ক কাঁরাল তুই 2 না না থাক যাই, যাই। 
বালক! মায়াবী শিশু! কে তুই? কেহ না। 
[ সবেগে প্রস্থান । 
চিরঞ্জীব। এরূপ ব্যাপার কিন্তু কভু দোঁখ 
নাই। 
[প্রস্থান। 
জনক। গৌতম তোমার নাহ তুলনা জগতে! 
বৎস শতানন্দ! চল যাই অন্তঃপুরে। 
[ নিক্কান্ত। 


ম্বিতীয় দৃশ্য 
স্থান_ রাজা দশরথের সভাকক্ষ। কাল- প্রভাত। 
দশরথ, বিশবামিঘ্, বঁশিষ্ঠ, রাম ও লক্ষণ 


বিশ্বামন্র। দাও মহারাজ পূত্রদ্বয়ে। পুনরায় 
যা্জ্া কার। 
দশরথ। বুঝিব ক আমতপ্রভাব 


শবশ্বামন্র মহার্ষ অক্ষম নিবারিতে 
রাক্ষসের অত্যাচার ? 
িশ্বামিন্র। ব্রাহ্মণ যদ্যাপ 


কারবে সমর, ছাড়” তপস্যা অচ্চনা, 
কোন্‌ কর্ম্ম ক্ষাতিয়ের ? 

দশরথ। সত্য কথা, প্রভু; 
দিতেছি সেনানী কিম্বা আপাঁন যাইব 
বাঁধব রাক্ষসে যুদ্ধে। উহারা বালক; 
করূপে যুঝিবে দুদ্দান্ত রাক্ষস সহ? 
ক্ষমা কর। 

বিশ্বামিত্ত। নরপাত! ক্ষত্রিয় ভূপাত 
কাতর সমরক্ষেত্রে পুত্রে পাঠাইতে 2 ৯ 
উত্তম! ক্ষত্রিয় তুমি? 

দশরথ। উহারা বালক। 


২২ দ্বজেন্দ্র রচনাবলণ 


বিশ্বামিন্র। বারম্বার এক কথা 


“উহারা বালক!” 


জানো না কি দশরথ, যে দিন ক্ষয় 
সক্ষম ধারতে অস্ত, সে দন হইতে 
যুদ্ধ চিন্তা জাগ্রতে 'নদ্রায়। 


দশরথ। শিশুদ্বয় 
অস্পরবিশারদ নহে মহার্ধি 
িশ্বামিন্র। _হা ধিক! 


আঁশক্ষিত যুদ্ধশাস্তেঁএ কথা বাঁলতে 
হইল না অপমানে কুণ্ঠিত রসনা, 
রাস্তম কপোল ? যাঁদ সমরে অক্ষম, 
হইবে নিহত যুদ্ধে। কি করিবঃ যাঁদ 
আশা কার ভীরু নহে । 

দশরথ। জানো খাঁষবর ' 
বহু তপস্যার ধন এই পন্রুদ্বয়। 

ব*বামত্ত। রাখো নরপাঁতি অনুনাসিকা 


কাকাতি, 
দবে কি না দিবে? 
বশিচ্ঠ। পূর্ণ কর নরপাঁত-_ 
খাষর প্রার্থনা । যবে মহার্ধ সহায় 
ভয় নাই। 
দশরথ । গুরুদেব! তবে তাই হোক্‌। 
নিয়ে যাও পূত্রদ্বয়ে মুানবর। আজ 
তোমার আশ্রয়ে প্রভু দিলাম সপপয়া 
প্রাণাঁধক শ্রীরাম লক্ষণে ।_ নিয়ে যাও। 
বশ্বামন্র। কৃতার্থ, ভূপাতি'-_সত্য কথা, 
ৃ মহারাজ 
জানি শিশুদ্বয় নহে শস্ত্রবিশারদ 
আঁতারন্ত িতৃস্নেহে। ভংপসয়াছি তাই 
তোমারে এক্ষণে । কাঁরতেছ অবহেলা 
অন্যায় বাৎসল্যে 'পতৃ কর্তব্যে ভূপাঁত! 


আম শিক্ষা দিব, আমি রাঁহব নিকটে। 
তাহারা পিতার বক্ষে ফিরিবে কুশলে। 
দশরথ। তাই হোক খধষিবর! [স্বগতঃ] 


তথাঁপ রহিল 
ভরত শন্লুঘ7ন। ভাগ্যবশে সভাস্থলে 
তাহারা অনুপাষ্থত। ধাঁষর অজ্ঞাত 
তাহাদের আস্তত্ব। | প্রকাশ্যে] মহর্ষ! 
তাই হোক। 
/ সকলে নিক্কান্ত। 


তৃতীয় দ্য 


স্থান-_বনাভ্যন্তরস্থ পথ । কাল- গোধাল। 
চিরজশীন ও মাধুরী 


চিরঞ্জীব। তুই আমার সঙ্গ ছাড়াঁবনে £ 
মাধূরী। না প্রতু। 


চিরঞ্শবের গীত 


হায় রে সংসার সবই অসার, 'বাঁধর মহাচুক্‌। 
আন্তর চাহতে নাস্ত বেশী, সৃষ্টির চাইতে শুন্য । 
বস্তা বস্তা পাপের মধ্যে কতটুকু পুণ্য ॥ 
আলোর চাইতে আঁধার বেশী, স্থলের চাইতে 'সন্ধ্‌। 
মহামৃত্যুর মধ্যে জন্ম কতটুকু বিন্দু ॥ 
সত্যের চাইতে মিথ্যা বেশী, ধম্মেরি চাইতে তল্ত। 
ভাঁন্তর চাইতে কীর্তন বেশী, পূজার চাইতে মন্ত্র 
ফুলের চাইতে পন্ত বেশী, 'মাণর চাইতে কর্দম। 
স্ব্প ক্ষান্তির পরেই ভার্যার তজ্জন গঞঙ্জন 
হদ্দরম॥ 


তুই রে যা, এখনো বলাৃছি। 

মাধুরী । কেন আম তোমার কি আঁনম্ট 
কাচ্ছে ? 

চিরঞজীব। আনিম্ট 2-সমৃহ আঁনম্ট। তুই 
ক্রমাগত আমার পায়ে জাঁড়য়ে যাচ্ছস্‌। ফিরে 
যা! যাবি নে? 

মাধুরী । না। 


চিরঞ্জীবেব হতাশভাবে দীর্ঘবাস ও পুনরায় 
. শীত 


ব্ক্ষার চাইতে বিফু বড়, ব্রহ্মার থাল ফর্সা। 
বফুর কাছে 'কল্তু আজো রাখ কিং ভরসা ॥। 
ভর্তার চাইতে ভার্য্যা বড়, ভর্তা বাড়ীর কর্তা । 
কল্তু রম্ধনাঁদ কার্যে ভার্ধ্যা ভর্তার ভর্তা ॥ 
শান্তর চাইতে ভান্ত বড়, শন্তের নিজের শান্ত। 
ভক্তের জন্য শান্ত যোগান মহত্তর ব্যান্ত ॥ 

পত্রীর চাইতে শ্যাল বড়, যে স্মখর নাইক ভগ্নশ। 
সে স্ত্রী পারত্যজ্য, ও তার কপালেতে আশ্ন॥ 


তবু গেলি নে? কথা শৃনিস্‌ নে কেন? এত 
তোর দোষ। 


পাষাশী ২৩ 


মাধুরী । এ আদেশাঁট কোরো না প্রভু! 


তুমি আমার স্বামী, আম তোমার স্ত্রী । যেখানে 
তোমার গাঁত, সেখানে আমার গাত। শাস্তে 
বলে স্ত্রী ছায়ার মত পাঁতির অনুগমন 
কোরে । 
চরঞ্জীব। তা হলে বলতে হবেষে শস্ম 
অনুসারে পাঁতির অবচ্ছাটা ভয়ঙ্কর শোচনীয় । 
যেখানে যাবে, সঙ্গে সঞ্জচে পাহারা একটু 
1নরাবীল নেই? পাতি এমনই কি পূর্বজল্মে 
পাপ কারাছল ? এখনো ফিরে যা! নৈলে ভালো 
হবে না বলাঁছ। যাঁর নে? 
মাধুরী । না! 

চিরঞ্জধীবের গণত 
বাহুর চাইতে পৃষ্ঠ ভালো, ক্রোধের চাইতে ক্রল্দন। 
দাস্যের চাইতে অনেক ভালো গলে রঙজ্জুবন্ধন ॥ 
মৃন্ত শু বরং ভালো, নয় তা ভণ্ড মিন্ন। 
আসল প্রেমের চেয়ে ভালো কাব্যে প্রেমের চিন্র। 
গুপ্ত প্রেমের পারণামে আছেই আছে শাস্তি। 
বাহ যে করে, মূর্খ সে যৎপরোনাস্তি ॥ 
পত্রশর চাইতে কুমীর ভালো, বলে সব্বশাস্ত্রী। 
কুমশর ধরল্লে ছাড়ে তবু, ধল্লে ছাড়ে না স্ত্রী 


দ্যাথ্‌ তুই যে ভূতের মত আমার ঘাড়ে চেপেই 
রোল? যাঁদ ফিরে না যাস্‌ ত তোকে এই 
জায়গায় গলাটিপে ধোরে মেরে ফেলে প*তে 
রেখে যাবো । গৌতম অনেক আঁগয়ে। সন্ধ্যা 
হয়ে এয়েছে। রাস্তা জনশন্য। 

মাধূরী। আমি এমনই কি অপরাধ 
কারছি 2 

চিরঞ্জীব। তুই পিশাচ ডাইনী। তোর 
আমাকে জড়াবার চেষ্টায় আছিস্‌। আমাকে 
যাদু কচ্ছস্‌, মল কাচ্ছস্‌। আমার সর্বনাশ 
হবার যোগাড় হচ্ছে। মধ্যে মধ্যে মনে হয় যে 
আঁম তোকে একটু একট ভালো বাঁস। কৈ 
আগে তো বাসতাম না? 

মাধুরী । তা ভালো বাসূলেই বা। স্তীকে 
স্বামী ভালো বাসবে, ইতে দোষ কি? 
চিরঞ্জশীব। আবার তর্ক কর্তে আরম্ভ 
কল্লে।-ফরে যাব নে? 

মাধুরী । না। 

চিরগশব। ওরে মস্ত বাঘ খেলেরে_ 
মাধুরশকে ধারা দিয়া ফেলিয়া দৌড়িয়া পলায়ন। 


চতুর্থ দৃশ্য 


স্থান-_ কৈলাস 1শখর। 
অহল্যা এ 
অহল্যা। ভ্রমিলাম বহু স্থানে! 
পরে, জনপদে, 
ক্ষেত্রে, কুঞ্জে, উপবনে, পব্বতশিখরে। 
কিন্তু সৃখ!কোথা সুখ? হৃদয় ভোঁদয়া 
নিত্য উঠে এক মম্মভেদী দর্ঘ*বাস। 
আকুল অধশর চত্ত অনন্ত বিষাদে 
ছেয়ে আসে। ীমলনের তাঁর সুরাপানে, 
ক্ষণেক ভুলিয়া থাকি এ তীক্ষ7 যল্ণা। 
পাপের বিরাট মার্ত।- চাহয়া সহসা 
দোখ এক ভীম গর্ত যার তল নাই, 
যার মধ্যে আলো নাই, শব্দ নাই; যার 
করাল ব্যাদান আছে নিত্য 'নরল্তর 


কাল- সন্ধ্যা। 


এই জন্য করিয়াছি ঘৃণ্য ব্যাভচার, 

পূত্র হত্যা, আম পাতাঁকনী। কর্ণে বাজে 
আজও সে আঁন্তম র্ুন্দন। “মা মা"-এ কি 
ডাঁকাঁল আমারে পুত্র! না, এ প্রীতিধবনি! 
এ কল্পনা । 

কজ্পনা? না এ কল্পনা নহে; 

এ কল্পনা নহে ।- পাঁথবীর গভ্গ হতে 
আকাশের প্রান্ত হতে, আসে এ কুন্দন। 
ণদবার প্রখর দশীস্ত সমাচ্ছন্ন কার'; 
গাঢতর কাঁর' গাড় নৈশ অন্ধকার ; 
ছাঁপয়া, ককশ কার, সঙ্গত -সস্বর; 
পর্বত বিদীর্ণ কার; শূন্য ভিন্ন কার; 
উঠে সে ক্রন্দন।-সেই করুণ কাতর 
রুদ্ধ শব্দ, হস্ত তুলি নীরব কাকুতি;_ 
জননীর কাছে সন্তানের হস্ত তুলি 
ণনম্ফল জশবন ভিক্ষা ।-_অহো জগদীশ ! 
এত অন্ধ হয় নারী; এতই নির্মম 

হয় মাতা, পাঁড়লে কামের প্রলোভনে ? 
_আবার ডাঁকাল-পূত্রঃ এই যাই। আজ 
কাঁরব সে পাপ ধৌত আপন শোঁণতে। 
এই যে ছাঁরকা।_ দীপ্ত, শাশিত, স্মন্দর, 
ক্ষৃদ্র অস্ম!_এত ক্ষুদ্র এত ভয়ঙ্কর! 
মধুর প্রণয়ীসম আজ এস নেমে 


২৪ দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


বক্ষের ভিতরে 'প্রয়তম!-পান কর 
অহল্যার তপ্ত রস্ত; বিশব পৃজ্ঠ হ'তে 
মুছে দাও অহল্যার নাম! শতানন্দ 
আবার ডাঁকালি ? যাই, দাঁড়া, এই যাই-- 
বক্ষে ছুরিকাঘাত কাঁরতে উদ্যত। পশ্চাং হইতে 
মদন আসিয়া তাঁহার হস্ত ধাঁরল 
অহলা। কে তুমি? 
মদন । ক্ষামও দোৌব' তব পদতলে 
রাখিলাম অস্ত্র এই । পাঁরবর্তে তার 
ধর এই সুধাপান্র পূর্ণ বিশ্বাধরে ! 


রাঁতর প্রবেশ 


রাতি। কি কারছ মুড নারী! এ বসন্ত কাল; 
এখন বাতাস; ওই স্বচ্ছ নীলাম্বরে 
পূর্ণ চন্দ্র; এ প্াষ্পত কুঞঙ্জ;-_একি সাঁখ, 
আত্মহত্যা করিবার উপযুস্ত স্থান, 
উপযান্ত কাল? "ছি ছি!! 
হাঁ যখন নামে 
ধূসর আকাশ হ'তে চূর্ণ বারিকণা”_ 
সূর্যযালোকহীন এক পাঁঙ্কল দিবস: 
গদ্যময় অপরাহ্; ডাকে না কোকিল) 
দর্ঘশবাস ফেলে উষ্ণ সজল বাতাস; 
শূন্য মাত, ক্ষেত্রে জল, রাস্তায় কর্ম; 
_হাঁ তখন আত্মহত্যা কর, ক্ষতি নাই: 
অন্ততঃ সে এত রুক্ষ এত 'বিসদৃশ 
ঠেকেখনা কাহার চক্ষে । 
মদন। এ বসন্ত কাল, 
এ সৌন্দর্যরাশি, আর এ ভরা যৌবন, 
এর সঙ্গে আত্মহত্যা ?2--একি শোভা পায় ? 
এ ক সহ্য হয়?-এ ষে খাঁটি হাস্যরস 
একান্ত অভদ্র কাজ' 
রাঁত। রি এ মরণ সাঁখ,_ 
আছেই ত এক 'দিন। আপাঁনই আসে, 
ডাকতে হয় না। কতটুকু এ জীবন? 
কেন, কিবা প্রয়োজন, সংক্ষিপ্ত কাঁরয়া 
স্বতঃই সংাক্ষস্ত বস্তু ঃ যত "দন প্রাণ, 
সম্ভোগ কার্রিযা লও, যের্প সম্ভব । 
অহ্ল্যা। সত্য কাঁহয়াছ বন্ধু সত্য কারয়াছ 
প্রিয় সখি! দাও্ড সূরা যাই, জলে" যাই-_ 
দা সূরা! নিভাই এ তশব্র তীক্ষ4 জবালা। 
[ সুধাপান ] 
আবার! [পান] আবার! [পান] সত্য 


কিয়া সাথ 
“সম্ভোগ করিয়া লও |” পরে ? তার পরে 2 
যা হবার হবে। সম্ভোগ কাঁরয়া লও। 
-আবার ডাঁকাঁল শতানন্দ 2 যা যা তুই 
মূঢ় শিশু । পুত্র? কোথা পুত্র ?--পনল্র নাই 
কখন ছিল না পূত্র: কে বালবে আম 
কারয়াছ প্তরহত্যা। কার নাই। ঢালো 
আবার মাঁদরা; পান কর [পান] নাচো, 
গাও-_ 
মদন ও রাঁতির গশত 
ফুল ফুটেছে, চাঁদ উঠেছে, আসছে ভেসে 
মলয় বায়। 
সাদা সাদা মেঘগৃলি এ যাচ্ছে ভেসে নশীলমায় ॥ 
বনের মধো কোকিল পাখী, থেকে থেকে 
উঠছে ডাকি, 
িরীষ আম্র মুকুল গন্ধ ভেসে আসছে তায়। 
এমন দিনে, এমন বাষে, এমন সময় এমন ঠীঁয়ে, 


আপন মনের মানুষ বিনা প্রাণ ধোরে কি 
থাকা যায় ॥ 


অহল্যা। অতযুত্তম! অত্যুন্তম! আহা মরি মরি! 
প্রাণেশবর ! কোথা প্রাণেশ্বর ! এনে দাও 
বল্পভে মদন; বক্ষে জাগয়ে লালসা । 
যাও ডেকে আনো তাঁরে, যাও রাঁতিপাঁতি- 


ইন্দ্রের প্রবেশ 


 সাগ্রহে] কোথা ছিলে এতক্ষণ 
ছাড়ি অহল্যারে 

নষ্ভুর প্রণয়; এস পার্বে প্রিয়বর ! 
কেন এত চিন্তাকুল আজ 7 

ইন্দ্র। নাহি জানি। 

অহল্যা। চিন্তা কর দূর! আম নিকটে তোমার, 
তথাঁপ মালন মুখ ? দেখ, কি স:ন্দর 
হাঁসছে পার্ণমা জ্যোতক্া! মনে পড়ে প্রিয় 
সেই দিন? | 

ইন্দ্র। কোন্‌ দিন? 

অহল্যা। যে দন প্রথমে 
তুমি আ'স' দাঁড়াইলে, হে সুন্দর পাপ! 
নেত্রপথে অহল্যার। ঠিক ওই খানে; 
ওই শান্ত শুভ্র চন্দ্র স্বচ্ছ নশলাম্বরে : 
একটি ভাস্বর তারা চন্দ্রমার পাশে; 
এইরূপ শ্যামলা ধরণশ; এইর্‌প 
বাহতোছিল সমন্দ মধুর উচ্ছ্বাসে 
স্নঙ্ধ বসন্তের বায়; এইরুপ দূরে 


অহল্যা। 


পাষাণশ ২৫ 


ইন্দ্র! থাক্‌ সে দিনের কথা। বাঁলতে এসোছ 
নিদার্ণ বার্তা 'এক। 

অহ্ল্যা। কি? ক সমাচার ? 

ইন্দ্র। অহল্যা যাইতে হবে আমারে এক্ষাণ। 

অহল্যা। কোথা যাবে 2 

ইন্দ্র। যাব স্বর্গে ফিরি।। 

অহল্যা। স্বর্গে? কেন? 
এই নহে আমাদের স্বর্গ 2--করে কর, 
বক্ষে বক্ষ, অধরে অধর। শিরোপার 
প্রসারিত অনন্ত 'নাখিল, পদতলে 
উচ্ছবাসত শ্যামাবশব_এই স্বর্গ নহে? 
না না নাথ, স্বর্গরাজ্য লুপ্ত হয়ে যাক 
সৃষ্টি হ'তে । স্বর্গে আম চাহ না যাইতে। 

ইন্দ্র। তুম যাইবে না। আম যাইব একাকী । 

অহল্যা। একাকন 2 একাকশ ? আর-_আঘম ? 

ইন্দ্র। আর তুমি 
ফিরে যাও 'মাথলায় আপন আশ্রমে । 

অহল্যা। এ অপূর্ব পাঁরহাস! 

ইন্দু। পরিহাস নহে, 
সত্য বাণ । অহল্যা দি বাঁলতে হইবে 2 
বুঝ নাই? 

অহল্যা। ক বাঁঝব? কিছ বাঁঝ নাই 

ইন্দ্র। _তবে শোন। এতাদন ভুঞ্জেছি তোমারে, 
মটেছে লালসা মম! আর নাহ চাঁহ। 
বুঝ নাই নিম্নগামী প্রেমের প্রবাহ, 
উদাস সম্ভোগ, শলথ আগ্রহ সম্প্রতি 
নিভেছে লালসাবাহন, মিটেছে 'পপাসা। 

অহল্যা। শৃনিতোছ ঠিক! শুনিতে হে 

পব্তি 2 
শুনিতেছ বৃক্ষ গুল্ম লতা? শুনিতেছ 
সমীর, ধনর্ঝর, নীল অসীম আকাশ ? 
“নিভেছে লালসাবাহি, মিটেছে পিপাসা 2" 
জানি না জাগ্রত আম অথবা 'নাদ্রত। 
স্বগন দোখতোছি নাকি ঃ “মিটেছে 
ধপপাসা" 

[মটে কি জগতে প্রভু প্রেমের পিপাসা ? 
আমার ত মিটে নাই। সত্য, দেবরাজ 
মিটেছে তোমার আজ প্রেমের পিপাসা? 

ইন্দ্র। অহল্যা বাঁলকা নহ তুমি। বুঝ নাকি 
যে বন্ধনে আবদ্ধ “ছিলাম এতাঁদন, 
তাহা প্রেম নহে, তাহা িপ্সা? 

অহল্যা। সত্য? সত্য? 


প্রেম নহে 2তাহা লিশ্সা? 


শুনিতোছি ঠিক ? 

দোঁখ, দেখি-কিছুই যে বুঝতে 
পারি না-_ 

তুমি ইন্দ্র? আর আম অহল্যা 2 
_এ কথা, 


এতদূর ঠিক্‌? পকম্বা স্ব স্বপন? -কছু 
বুঝিতে পারি না! অহো!-ঘুরিছে 
মস্তক। 


একাঁট বক্ষে পৃষ্ঠ দয়া দণ্ডায়মান 
ইন্দ্র। অহল্যা 'ফাঁরয়া যাও! 


অহল্যা। কোথায় 

ইন্দ্র। স্বদেশে । 

অহল্যা। স্বদেশে? কাহার কাছে? 

ইন্দ্র ভদ্রে, এত দিনে 
ফিরিয়াছে আশ্রমে গৌতম! 

অহল্যা। ণক বাঁলছ ? 


কারছ কাহার নাম? সেই পণ্য নাম 
আমাদের মধ্যে কারও না উচ্চারণ; 
সে পাব নাম ওই পাঁঙকলানঃশবাসে 
কারও না কলযীষত। সংজ্ঞা হারাইব। 
ক্ষপ্ত হয়ে যাব।-ধাঁর' চরণে তোমার, 
ভিক্ষা মাগ' শুদ্ধ কারও না উচ্চারণ 
সেই নাম।--“ফিরে যাব তাঁর আলঙগনে 2" 
সত্য?- ধন্য দেবরাজ !-ধন্য বিবেচনা ! 
কির্‌পে কাহলে এই হাস্যকর বাণী? 
লম্পটের পাপস্পর্শ হতে 'নিঃসক্ডেকোচে 
ফিরে যাব মহার্ষযর পুণ্য আলিঙ্গনে 2 
ধারব সে মহার্ধর পাব জিহবায় 
তোমার উীচ্ছন্ট বার? জানো নাঃ 
_যে দিন 

ছাঁড়য়াছি পূণ্যাশ্রম ঘৃণ্য আভিপ্রায়ে, 
সেই 'দিন ছাঁড়য়াছ সে আশ্রম পুনঃ 
স্পর্শ কারবার স্বত্ব ঃ যেই দিন পাপ 
লম্পটের সনে নাময়াছি সুগভশর 
নরকগহবরে, সেই দিন পরিত্যাগ 
কাঁরয়াছি, স্বর্গে প্রবেশের আধিকার! 

ইন্দ্র। অহল্যা, অহল্যা, শুন, 

অহল্যা। _সেই 'দিন ঞ'তে, 
সে নরকে, আমরণ তুমিই আমার 
সর্বস্ব, হদয়েশ্বর, জাবনবল্লভ। 


২৬ দ্বজেন্দ্র রচনাবলণ 


আপনাকে ঘণা কার, তব সহবাসে 
সহম্ত্র ধিক্কার দই,-তথাঁপ, তথাপি, 
তোমারেই বাঁসয়াঁছ ভালো); ভালবাস : 
জীবনে মরণে তুমি মোর প্রাণেশবর। 
ইন্দ্র। অহল্যা এ বৃথা য্যান্ত' আম স্বর্গপাঁতি 
দেবেন্দ্র; মানবী তুমি। প্রেম ক সম্ভবে 
তোমার আমার মধ্যে ? 
অহল্যা। যাঁদ না সম্ভবে, 
কেন ভুলাইলে কুলবধ্‌? কেন তবে 
শান্ত পণ্যাশ্রম হ'তে টানয়া আনলে ? 
ছিলাম আপন ক্ষুদ্র সুখ দুঃখ ল:়ে। 
কেন দেখা দলে তম পাঁর্ণমাকিরণে, 
, কোকিল ঝঙ্কারে, স্নম্ধ সান্ধ্য সমীরণে 
কেন ভুলাইলে মোরে ষড়যন্ত্র কার ? 
ফাঁদ পাঁতি' ধারলে এ বন্য হারণীরে ৮ 
আদর কারয়া গাত্রে হস্ত বূলাইয়া 
দাঁদন, তাহার পরে তার গলদেশে 
বসাইতে ছার ; 
ইন্দ্র। আতি নিম্ফল প্রলাপ '_ 
অহল্যা 'ফারয়া যাও। 
অহল্যা। [ক্ষণেক চিন্তা কারয়া,] শোন 
প্রয়তম 
কিছু বালবার আছে | হস্তধারণ | 
ইন্দ্র। ছাড়ো. হস্ত ছাড়ো! 
অহল্যা। এতদ্‌র ? যাও তবে নির্মম শানষ্তুর ! 
যাও স্বর্গে ফিরি'।-ভুলে যাও অহল্যারে। 
না দেবেন্দ্র পারিবে না ভুলিতে তাহারে । 
যাও স্বর্গে ফার। কিন্ত জানও সরেশ 
রাহবে আমার স্মাতি মাঁশয়া তোমার 
হদয়শোণিতে চিরদিন। যাও, যাও.- 
আহারে নিদ্রায় যেন শহরিয়া উঠ 
দোঁখয়া ভৈরবী ছায়া আমার প্রত্যহ; 
যাও স্বর্গে ফার'। আম রাহব তোমার 
অনন্ত দুঃস্বপ্ন সম অনন্ত জাবনে। 
ইন্দ্র। উত্তম অহল্যা ' তবে যাই | প্রহ্থানোদাত 1 
অহল্যা। [সহসা ধারয়া পদতলে পাঁড়য়া | 
কোথা যাও 2 
যাইও না 'প্রয়। এখনো যুবতী আমি; 
দশ বর্য ধরি'-পান করিয়াছ বটে 
এঞর্‌্পের তীররসূধা; পাত্রে চেয়ে দেখ 
আবে আছে । আরো শদতে পাঁব। দেখ চেয়ে 
এই ঘন দশর্ঘ কেশগচ্ছ: এই শৃদ্র 


কুন্দ দন্তপাতি; এই সুগোল সুঠাম 
তন্বী দেহলতা; এই লালসা বিহল 
আকর্ণ বিশ্রান্ত চক্ষু; রন্ত বিম্বাধর; 
পন বক্ষ,-যত চাহো দিব, যত চাহ 
পান কর।-যাইও না। 


ইন্দ্র। 1নম্ফল কাকাতি__ 
চাঁললাম! 
অহল্যা। --সত্যঃ যাবে? কোথা যাবে শঠ? 


ভুলাইতে অন্য কুলবধ্‌ » সুখী হবে 
লোপয়া ললাটে মোর কলঙককালমা ? 
ভাসাইয়া দয়া মূর্খ আমারে অকুলে 2 
নম্মম লম্পট! যাবে? যাবে? এই যাও, 
স্বর্গপাতি_ যাও, দিল্তু নহে স্বর্গে ফার'। 


কাঁটদেশ হইতে ছরিকা লইয়া ইন্দ্রের স্কন্ধে 
আমূল আরোপণ 


ইন্দ্র। ওঃ [পতন] ক কারাল রাক্ষসী 
ধপশাচী নারকণী' 
মদন। শাস্তেই আছে--যঃ 


জীবাঁতি।" 


পলায়াতি স 


[ মদন ও রাতির পলায়ন। 
অহল্যা। __এই হস্তে বাধয়াছি আপন সম্তানে, 
রুদ্ধ কাঁরয়াছ তার তপ্ত 
দূত রন্তশ্রোত;: আজ, লইয়াছি, আজি 
এই হস্তে, এই রক্তে তার প্রাতিশোধ। 
-দেঁখিয়াছ এতাঁদন রমণন প্রোমকা 
দেবরাজ 2 দেখ আজ রমণশ ভৈরবী ' 
হাঃ হাঃ! এইখানে মরো, এইখানে পচো। 
করুক জক্ষণ বন্য শগাল শকুানি। 


| উন্মাদবং অট্রহাস্য কবিযা নিক্কান্ত। 
ইন্দ্ু। 'পশাচী-ঘাতকী-অহো-- 


গৌতম ও গচবঞ্জশীবের প্রবেশ 


চিরঞ্জীব। এই যে এখানে । 
অসাড়_ সব্বাঙ্গে রন্তহাঁ এই ত চাই-- 
ঘাতকটা গেল কোথা? 

গৌতম । দেখ নাড়ী দোৌখ-_ 
এখনো জীবিত। চল আশ্রমে লইয়া 
চিরপ্রশব। দোঁখ যাঁদ বাঁচাইতে পারি। 


[উভয়ে ইন্দ্রকে বহন কাঁরয়া প্রস্থান 


পাষাণশ ২৭ 


চতুর্থ অঞ্ক 


প্রথম দশ্য 
স্থান--শচশর কক্ষ। কাল- সম্ধ্যা। 
দেবীগণসহ শচশী আসীনা 
শচী। তা আম কি করব? 
অঞ্জনা । তা সাত্যই ত তুমি কি ক্র? 
কালিল্দী। গকল্তু কথাটা ত ভালো নয়। 
পাঁচটি বছর স্বামী নিরুদ্দেশ । 
অঞ্জনা । পাঁচ পাঁচটি বছর। সোজা কথা 
কি দাদি! 
শচঁ। তা আমি কি কর্্ব? 
অঞ্জনা। তা সাত্যই ৮৩ 
স্বাহা। লোকে ীকল্তু ভাই কাণাকাঁণ 
কর্ছে। 
অঞ্জনা । রে ি। লোক কি আর 
রেয়াং কোরে চলবে 'দাঁদ ? 
শচী। করুক কাণাকাঁণ। 
অঞ্জনা । হাঁকাণাকাঁণ কল্পে ত বয়ে' 
গেল। 
বারুণী। কিন্তু স্বামীর একটা খোঁজ খবর 
কর্তে হয় ত বাছা? ও 
অঞ্জনা। তা আর হয় নাঃ খোঁজ থবর 
একটা কর্তে হয় বৈ কি। 
শচী। তা এ ত তাঁর এমন 'কছ নতুন 
নয়। 
অঞ্জনা। তা আর এমন নতুন কন 
কাঁলন্দী। তবু ত বাছা, স্বামী । 
অঞ্জনা। স্বামী বোলে স্বামী! দস্তর মত 
বাদ্য বাঁজয়ে ধান দুব্বো দিয়ে বিয়ে করা 
স্বামী। 
স্বাহা। হাঁ একটা খোঁজ নিতে হয় বৈ কি। 
অঞ্জনা । তা হয় না খোঁজ 'ীানতে হয়বৈ 
[ক। 
শচঁী। তা খোঁজ আবার নেবো কি? 
অগ্জনা। হঃঃ-কিসের খোঁজ 2 
বার্ণশ। কোথায় যে ডুব মাল্লে। 
অঞ্জনা তাহাতে এক 'নধ়াশব্যঞ্জক অঙ্গভঙ্গণ 
কাঁরল 


কাঁিল্দী। মদন আর রতি তার সঙ্গে যখন 
ঘুরছে তখন এ একটা কেলেন্কাঁর না হয়ে 
যা লা। 


অঞ্জনা। কেলেঙ্কাঁর বোলে কেলেকারি ! 


একেবারে টি টি! 


স্বাহা। এই যে বলতে বলতে! 
শচী। কে? 

স্বাহা। রাঁতি। 

অঞ্জনা । হাঁ রাতিই ত বটে। 
কাঁলিন্দী। নাঃ রাত না! 
অঞ্জনা । কোথায় রাত! 

বারুণী। হং রাঁতই বটে। 

অঞ্জনা। রাত না হয়ে যায় না। 
কালন্দী। উহঃ রাত না। 
অঞ্জনা । সেই খবরটা আগে 


রাঁতর প্রবেশ 


শচী। কি লো রাত! 

অঞ্জনা। কি লো! এত দিন পরে যে। 

কালন্দ। একলা না কি? 

স্বাহা। তীর্৫থষাল্রায় যাওয়া হয়োছল না 
শক লো? 

বারুণশী। বাঁল-দেবরাজের খবর কি? 

অঞ্জনা । সেই খবরটা আগে-_ 


রাঁতির গান 


আম শুধু প্রেমের বাপারী। 
আর কিছুর 'কি তকা রাখি, আর কিছুর 
ক ধার ধারি। 
বদ্বাধরে সুধারাশি, কুন্দ দাঁতে মূচ্িক হাসি, 
কালো তারায় চান মঠে._কাঁর ই'রর 


তার 'বষয়ে দুটো কথা শুনতে চাও ত 
বলতে পার। 
বেণণ বাঁধা কৃফ কেশে, লম্বা কোরে পূজ্ঠদেশে, 
যাঁদদও সে অনেক সময়ই পরের ধনে পোদ্দার; 
কালো রঙে ফর্সা সেজে, ষতদূর হয় ঘোষে মেজে, 

পোরে রাঁঙন শাড়ী সাঁওন, পুরুষ কেমন 
ভোলায় নারশ; 

তারির ঘিষয় শুক্তে চাও ত দুটো কথা 
বলতে পারি। 

চোখে কাজল ঈষৎ রেখায়, বাঁকা টেনে 
| কেমন দেখায়, 

কালো ঠোঁটে আলৃতা দেওয়া, আমার কর্ম্ম 

সারি; 
নয়ন নশছু কর্তে জানা, আঁচল খাঁন বুকে টানা, 
সময়মাফিক বাহির করা ছটাক খানিক অশ্রু-বারি; 
এ সব বটে কতক জান, এ সব কতক কৈতে পার । 


শচশী। এখন রঙ্গ রাখ দোঁখ! 


২৮ [দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


অঞ্জনা । হ্যাঁএখন কি ভাই রঙ্গ করবার 
সময় ? 

রাতি। নয় ত কখন সময়? 

অঞ্জনা । তাও রটে। এখন কর্রবে না ত 
আর কখন কব্বে? 

কালিন্দী। সে স্তীলোকটার নাম কিন 

রাতি। অহল্যা। অহল্যা। 

বারুণী। দেবরাজ কোথায় ? 

রাঁতি। তাঁর ফিরে আসবার অবস্থা "ঠক 
নয়। 

স্বাহা। কি রকম? 

শচী। হেয়াল রাখৃ। খবর শ্বান। 

রাত। সে অনেক কথা। বলছ, অগ্রে 
ভেতরে চল্‌্তৈ আজ্ঞা হয়। 

[সকলে নিক্কান্ত। 


দ্বিতীয় দৃশ্য 


স্থান_শতানন্দের গৃহের সম্মুখস্থ 'াঁথলাব 
রাজপথ । কাল- মেঘাচ্ছন্ন সন্ধ্যা। 
অহল্যা দণ্ডায়মানা 
অহল্যা। এই সে 'মাথলা। সেই উচ্চ 
সৌধচড়া, 
সেই রাজপথ, সেই জনম্মোত বহে 
পপনীলকা-শ্রেণ-সম অশ্রান্ত উদ্যমে । 
যাই গিয়া বসি ওই দারু বৃক্ষতলে। 
বিক্ষত চরণে রক্ত পড়ে। চক্ষে ছুটে 
স্ফালঙগ বাহুর । অহো বিধাতা । 
[উপবেশন। কে ওই 
আসছে সমূচ্চ কোলাহলে ?-- পরবাসী । 


কাতিপয় পুরবাসীর প্রবেশ 
১ম পুরবাসী। না সর্র্বৈব 'মথ্যাকথা! 


২য় পুরবাসী। শতানন্দ খাঁষ 
স্বয়ং এ শুভ বার্তা দিলেন আমারে। 

৩য় পুরবাসী। কোন্‌ শতানন্দ ? 

২য় পুরবাসী। গৌতম মহার্ষ-পূুত্র। 

১ম পুরবাসী। কবে? 

২য় পুরবাসী। কল্য প্রভাতে। 

৩য় পরবাসী । " মহার্ধ বিশ্বামন্র 2 

হয় প্চরবাসী। বিশ্বামিন্ত। 

৩য় পুরবাসী। সঙ্গে দশরথ-পুত্দ্বয় 2 

১ম পরবাসী । আসছেন সত্য 2 


২য় পুরবাসী। সত্য! 
৩য় পুরবাসী। শুভ !! 
১ম পুরবাসী। আত শুভ!!! 


চল যাই প্রচার এ বার্তা রাজপুরে। 
[ পুরবাঁসগণের প্রস্থান। 
অহল্যা। [উঠিয়া] একি সত্য আম স্বঞ্ন 
দেখতেছি নাঁক' 
শতানন্দ জীবত!জাঁবিত! পরমেশ! 
1ভক্ষা দাও যেন এই বার্তা সত্য হয়। 


আর একদল পুরবাসীর প্রবেশ 


১ম পুরবাসী। পুরুষের ধর্ম? ইন্দ্র প্রমাণ 
তাহার! 
অহল্যা 
প্রমাণ । 


২য় পুরবাসী। নারীর সতীত্ব; তার 


৩য় পুরবাসী। দুর্ভাগ্য গৌতম! 

৪র্থ পুরবাসী। ধিক্‌ অহল্যা দুমর্মৃতি! 

৩য় পুরবাসী। কারও না অহল্যার নাম 
উচ্চারণ প্রাতবেশী। 


২য় পুরবাসী। নারক- 
৪র্থ পুরবাসী। িশাচী। 
৩য় পুরবাসী। শদ্বচারণী | 


অহল্যা। [অগ্রসর হইয়া] কে তোমরা পুর- 
বাসী দ্রুত রসনায় কর অহল্যার কুৎসা? 
৩য় পুরবাসী। এ আবার কেরে? 
২য় পুরবাসী। তাই ত রে-পেত্রী নাকি? 
১ম পুরবাসী। না, ছিন্নবসনা 
পান্ডুরা পাঁলতকেশী বল মা, কে তুমি? 
৩য় পুরবাসী। কে তুই? 
অহল্যা। যাহার নাম মুক্ত অশ্রদ্ধায় 
কারতেছ ব্যস্ত রাজপথে । পুরবাসশঁ- 
আঁমই অহল্যা। 


২য় পরবাসী! এ ক বলে? 

৩য় পুরবাসী। সত্য নাকি * 

৪র্থ পরবাসী । এ অহল্যা বটে ।_মার্‌ মারৃ- 

য় পুরবাসী। মার মার । 

১ম পুরবাসী। ছেড়ে দাও অসহায়া 
স্বলোকে। 

৩য় প্রবাসী। অসতশ 

২য় পুরবাসা। দরুব্বৃস্তা অহল্যা এই. 

৪র্থ পুরবাসী। মার্‌ 


পাপীয়সী- 


পাষাণণ ২৯ 


অহল্যা। নাহ পাপীয়সী, নাহ দূর্বৃত্তা 
অসতাঁ। 
আগে শোন হাতব্ৃত্ত। 
২য় পৃরবাসী। মার, 
৩য় পুরবাসী। মার মার্‌। [প্রহার ]1 
শতানন্দের প্রবেশ 
শতানন্দ। ক কারছ পরবাসী! একি 
অত্যাচার 
দুক্বলা নারণর প্রাত। 
২য় পুরনারী। ব্্বৃত্তা অসতী-_ 
শতানন্দ। কেন ?-কি রুরেছে নারী- 
[ অহল্যাকে | 
মা তোমার নাম ? 
অহল্যা। অহল্যা আমার নাম। 
শতানন্দ। অহল্যা! তাপসী 2 
গৌতম-রমণণী 2 
অহল্যা। সত্য। গৌতম-রমণী। 


শতানন্দ। পরবাসী ঘরে যাও; শাস্তীয় বিধান 
কারব এ তাপসণীর। 
৩য় পরবাসী । শূলে দিতে হবে 
৪র্থ পুরবাসী। না না মহাশয়! বাহন্কত 
কোরে দাও 
মস্তক মুস্ডন করি নগর বাহরে। 
শতানন্দ। কারব কর্তব্য যাহা । ব্রাহ্গণীর প্রাতি 
দণ্ডদান ব্রাহ্মণের আঁধকার !- যাও। 


[ পুরবাঁসগণের প্রস্থান । 
শতানন্দ। অহল্যা তোমার নাম 2 ক চাহো 
তাপসী 
মাথলা নগরে? 
অহল্যা। পুত্র শতানন্দে! 
শতানন্দ। প্র 
শতানন্দে 2 প্রয়োজন ? 
অহল্যা। কে তুমি যুবক? 


পাঁরচিতসম মুখমন্ডল, সুন্দর 

সুগৌর, সুভঙ্গ, দীর্ঘদেহ ?--কণ্ঠস্বর 
যদ্যাপ বিশুজ্ক, রুদ্ধ, গদ্গদ,-তথাঁপ 
যেন পাঁরাঁচত। মনে হয়- মনে হয়__ 


কে তুমি য্বকঃ তুমি_তুমি কি- 


শতানন্দ। হাঁ আমি 
ধাতানন্দ। 
অহল্যা। তুমি? তুমি? [অগ্রসর হইলেন] 


শতানন্দ। [পশ্চাংৎপদ হইয়া] কি বাঁলতে 
চাহোঃ 
অহ্ল্যা। কি বাঁলতে চাহ 2 বতস-- 
আলিগ্গন করিতে উদ্যত 
শতানন্দ। ক্ষান্ত হও নারী! 


কারয়াছ বহুঁদন পত্রে বংস বাল, 
সম্বোধন কারবার আঁধকার ।- যাও__ 
পাইবে না শতানন্দে- যাও ফিরে যাও-_ 
যাও স্বর্গে বহ্ষলোকে, বৈকুন্ঠে, কৈলাসে- 
মর্তে কি নরকে-শতানন্দে পাইবে না। 
_অভুন্তা কি তুমি নারী? এই পথ দিয়া 
যাও ওই দেবালয়ে; পাইবে আশ্রয়, 
ভক্ষ্য ও পানীয়।--ওই উঠেছে ঝাটকা 
ঘনাইয়া আসে অন্ধকার।-__চলে' যাও। 
গুহাভ্যল্তরে প্রবেশ ও দ্বাররোধ 
অহল্যা। অসাম করুণাময় তুমি পুত্র ১ অহো 
কেন দীর্ণ হইলে না ধাঁরত্রী শতধা ? 
-এ ক বক্র নিয়ম তোমার মহেশ্বর 2 
আমি কল্কিন সত্য। কিন্তু কার দোষে ? 
কে রোঁপিয়াছিল এই স্বর্ণ-লাঁতকারে 
নীরস পাষাণস্তৃপে? কে বা প্রলোভনে 
ভুলাইয়া অসহায়া দূক্বলা রমণী? 
কে তাহারে 'নিক্ষেপিল কারয়া সম্ভোগ 
শন্য পান্ন সম, পান কার, তীত্র সুরা? 
নহে সে নিম্মম ক্রুর পুরুষ? তথাপ 
শুদ্ধ আম দোষী একা সমাজ 'বচারে 2 
_বহ প্রভঙ্জন। নেমে এস জলধারা 
গজ্জ মত্ত হুঙ্কার অশনি! ঢেকে এস 
দশ দিক কাল নিাশাথনী। কেহ নহ 
নম্্মম, যেমাত ক্রুর পুরুষ নিম্সম। 
_বহ বহ ঝঞ্জা কর চূর্ণ ধাঁলসাং 
এই অরাজক রাজ্য ।--উৈরব-উল্লাসে 
দাঁড়ায়ে দেখুক তাহা অহল্যা পাষাণশী। 
[ উল্মাঁদনী অবস্থায় নিষ্কান্ত। 


তৃতীয় দৃশ্য 
স্থান_ কৈলাস পব্বত। কাল- প্রভাত। 
গোঁতম ও চিরঞ্জীব * 
দূরে যোগীদগের গান 


প্রাতমা ধদয়ে দি পাঁজব তোমারে 
এ 'বশ্বানাখল তোমারি প্রাতমা; 


ডি 


৩০ 1দবজেন্দ্র রচনাবলন 


মান্দির তোমার কি গাঁড়ব, মা গো। 
মান্দর যাঁহাব দিগন্ত নীলিমা । 
. সাগর, ঝর, ভূধর, অটবশ, 
নিকুঞ্জভবন, বসন্তপবন 
তরু, লতা, ফল, ফুলমধুরিমা। 
গৌতম । কি মহান্‌ দৃশ্য !_দ্‌রে নিশ্চল নীরব 
শুভ্র তুষারের স্তূপ; উপ্রে অসাম 
নীলমা-প্রসার: নিম্নে নিশ্চল কঠিন 
ধূমন পর্বতের স্তর-দিগন্ত বিস্তৃত 
দঢ় প্রস্তরের ঢেউ। দৃশ্য.ক মহান্‌ 
ক নিস্তব্ধ, কি উদার, সূন্দর. গম্ভীর ' 


পুনবায় গীতি 
সতার পাব প্রণয মধু,-বমা! 
[শিশ্‌ব হাঁসাঁট, জননীর চুমা, 
সাধুব ভকাতি, প্রাতিভা, শকাঁতি, 
--তোমাবি মাধূবী তোমার মহিমা, 
যেই দিকে চাই এ 'নাখিলভামি- 
শতর্‌পে মা গো বিবাজিত তুমি, 
বসন্তে, কি শীতে, দিবসে, নিশীথে, 
বিকশিত তব বিভবগরিমা। 
গৌতম। হেন স্তব্ধ রম্যতম গভীর নজ্জনে._ 
মনুষ্যের সান্ধি হয় প্রকৃতির সনে: 
লঘু হয় চিত্ত; সব্ত্ব বিবাদ ভঞ্জন 
হয়। জাবন সার্থক হয়: দূরে যায় 
ক্ষোভ. পারতাপ: ঘুচে যায় মৃত্যু ভয়। 


পুনরায় গীত 
তথাপি মাঁটর এ প্রাতিমা গাঁড়", 
তোমারে পৃজিতে চাই, মা ঈশ্বরী! 
অমর কাঁবর হৃদয় গভশর 
ভাষায় যাহার 'দতে নারে সশমা। 
খংাজয়ে বেড়াই আবাধ আমবা, 
দোখ না আপনি 'দয়েছ মা ধরা, 
ডাঁকছ নিয়ত করুণাময়ী মা। 


গোতম। আর দুঃখ নাই: আর চিন্তা নাই; 


আর 
[লপ্সা নাই-ঈর্ধা নাই; দ্বেষ নাই: আম 
[পিতার নয়নতলে, জননীর ক্লোড়ে 
লভিয়াছি অনন্ত 'বরাম। বাঁস' আজ 

এ সমূচ্চ শঙ্গোপ্পার, দোৌঁখতোছ চাহ" 
পদতলে, পাঁথবীর দ্বন্দ7, কোলাহল, 
ক্ষুদ্র লোভ, ঘৃণ্য হিংসা অনন্ত বিস্ময়ে । 
_কি ভাবছ চিরঞ্জশব? 


চিরঞ্রশব। 
দুরূহসংস্কৃতভাষা বিজ্ঞানে প্রভুর 
প্রভূত ব্যংপাত্ত। যাহা সরল সহজ, 
জটল কাঁরতে তাহে প্রভুর এরপ 
আশ্চ্যা ক্ষমতা, যে সে অত্যন্ত অদ্ভূত 


ইন্দ্রের প্রবেশ 


গৌতম। এাঁক তুমি এখানে £ আশ্রম হতে 
এতদূর এসেছ ? 

ইন্দ্র। পরীক্ষা কোরে দেখলাম, শান্ত 
পেয়োছ। যোগবর-& আজ আম গহে ফিরে 
যাঁচ্ছ। | 

গৌতম । আরো দাঈদন অপেক্ষা কর। 
আরও একট বল পাও। 

ইন্দ। যথেষ্ট বল পেইছি। তোমার আগ্রহে 
তোমার জাগ্রত শশ্রুষায় আম এখন সম্পূর্ণ 
আরোগ্যলাভ করোছ। এখন জিজ্ঞাসা কারতে 
পার ক যে তুম কে? 

চরঞ্জীব। কেন সে খোঁজে তোমার দরকার 
কি? 

ইন্দ্র। আমার তাঁম অনেক শহশ্রুষা করেছো । 
তার যথাঁবাহত পুরস্কার দিতে চাই। 

গৌতম। প্রয়োজন নাই। আমি সন্ব্যাসী 
মানুষ, আমার কিছুই অভাব নাই। 

ইন্দ্র। তুমি চাহতে কুণ্ঠিত হচ্ছ 2 জেনো 
মনুষ্য, যে আম ধনী ব্যান্ত। তুমি যা চাহো 
তা 'দতে পাঁর। 

গৌতম। কছুই চাহ না। 

ইম্দ্র। ছুই চাহো না? সত্য 2 তোমার 


নাম 2 
গোৌতিম। আমার নাম গৌতম 2 
ইন্দ্র। কি নাম 
গৌতম । গৌতিম। 
ইন্দ্র। “গৌতিম"? তোমার আবাস 2 
গোৌতম। 'মাথলায়। 


ইন্দ্র। যে গৌতমের স্ত্রী অহল্যা আপানি 
কি সেই গৌতম? 

চিরঞজশীব। হাঁ ইনি সেই গৌতমই বটে; 
সে বিষয়ে কি মহাশয়ের ছু বন্তব্য আছে ? 

ইন্দ্র। আপাঁন মহার্ধ গৌতম ? 

চিরঞ্তীব। হাঁগো হাঁতুম যে বঝেও 
বুঝতে চাও না হে। 


পাষাণী ৩১ 


ইন্দ্র। জানো মহার্ধ আমি কে? 

গৌতম। জানি, তুমি দেবরাজ ইন্দ্র 
চিরঞ্জশব। এবং অহল্যা দেবীর উপপাতি। 
ইন্দ্র। এ্যাঁ এ্যা-অসম্ভব। কার কাছে 


শুনেছেন ? 
গোৌতম। তোমার কাছে। 
ইন্দ্র। কখন? 


গৌতম । জবহরের প্রলাপে। 

চরঞ্জীব। আর আম যে এত দন তোমাকে 
হত্যা করি ন', সে এ মহার্ষর নিষেধে। কিন্তু 
অনেকবার অনুতাপ করোছ, যে বনের মধ্যে 
তোমাকে অচেতন দেখে, শুশ্রুযার জন্য কাঁধে 
কোরে আশ্রমে 'নয়ে এইছলাম। 

ইন্দ্র। [ক্ষণেক চিন্তার পর জানু পাঁতয়া] 
মহার্ধ! আম আপনার কাছে যে অপরাধ 
কাঁরাছ তা" ,যাঁদও ক্ষমার অতাঁত, তথাঁপ 
আপনার মাজ্জনা-ভক্ষা কর্তে পার কি? 
[চরঞ্জীব। তা আর খায় না। এ যে প্রাণটা 
পেয়েছ তাই বাপের ভাগ্য বোলে জেনো। 
গৌতম। চিরঞ্জীব ক্ষান্ত হও। ইন্দ্র 
তোমার প্রাতি আমার বিদ্বেষ নাই। 
চরঞ্জশব। যাও অনেক পেয়েছো। এখন 
পালাও। 
গৌতম । যাও দেবরাজ, বিশবপাঁতর ক্ষমা 
ভিক্ষা কর। 'যাঁন তোমার আমার উভয়ের কর্তা, 
যাঁর কাছে ছোট বড় সব সমান । ক্ষমা» আম 
তোমাকে পূর্ণ অন্তঃকরণে মাজ্জনা করোছ। 
দেবরাজ! আম দারিদ্র ব্রাহ্মণ, ডোমাকে আর কি 
দিব» আশীব্বাদ করি-সস্থ হও. সুখী হও। 
[ ইন্দ্রের প্রম্থান। 

চিরঞ্জীব। প্রভু! আপাঁন একেবারে অবাক্‌ 
কোরেছেন। 

গোতম। কেন চিরঞ্জীব ? 

চিরঞ্জীব। এ রকম পাষণ্ড শন্রুকে 
আশীব্্বাদ ঃ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কল্লে, 
আম ওর টঠঁট গটপে ধৌরে, ওরে সাত ঘাটের 
জল খাইয়ে এনে, জুতো মেরে. বীবদায় কোরে 
দিতাম । 

 গৌতম। শিষ্য শব্ুকে বনর্ধযাতন করা 
ধম্ম নয়। 

চিরঞ্জীব । না,ধ্র্ম হচ্ছে শত্রুকে সন্দেশ 
খেতে দেওয়া । 


গৌতম। প্রাতাহংসা পিশাচ শরুকে দমন 
কর্তে পারে, বিনাশ কর্তে পারে, ভস্ম কর্তে 
পারে। কিন্তু একমান্র ক্ষমাই শত্রুরে মিত্র করে, 
ানরহ করে, দেবতা করে। 'নযযাতন নরকের 
ধর্ম, প্রাতীহংসা পাঁথবীর ধর্ম্ম, ক্ষমা স্বগের 
ধর্ম । 

জনৈক রাজদৃতের প্রবেশ 

দূত। [গৌতমকে] আপাঁন কি মহর্ষি 
গৌতিম ? , 

[চরঞ্জীব। হাঁ ইনি গৌতম বটে। তুমি 
কোন গগন থেকে নেমে এলে চাঁদ? 

দৃূত। [ভূমি হইয়া প্রণত হইয়া] 
রাজার্ধ জনক আপনাকে এরই পত্র পাঠাইয়াছেন। 

পত্র প্রদান 

গৌতম। রাজার্ধ জনক? দেখি? [পনর 
পাঠান্তর | চিরঞ্জীব, বড় শুভবার্তা বড় শূভ 
বার্তা। 

রজীব। ক রকম? 

গৌতম। রাজপুত্রী সীতার বিবাহ। 
রাজার্ নিমন্ত্রণ কোরে পাঠিয়েছেন। তোমরা 
কাল প্রত্যুষে যাবার জন্য প্রস্তুত হও। দূত! 
তুমি পারশ্রান্ত। আশ্রমে চল, সেবা করে ধন্য 
হই। 

[ নিক্কান্ত। 


চতুর্থ দ্য 
স্থান গৌতমের তপোবন। কাল-_সায়াহ। 
[ব*বামন্র, রাম ও লক্ষণ 

রাম। এই কি সে পনণ্যাশ্রম 2 

শবশবামন্ত্। এই পণ্ণ্যাশ্রম 
গৌতমের। পারত্যন্ত, ভগনচুড় আজ, 
আচ্ছন্ন উাদ্ভদে। খাঁষ িয়াছেন চাল, 
সুদূর কৈলাসে-ছাঁড়' সংসার আশ্রম, 
অসীম বৈরাগ্যে। তাঁর প্রল্‌ব্ধা পাঁততা 
প্রেয়সণ অহল্যা নিরাদ্দিষ্টা। 


লক্ষমণ । ক সুন্দর, 
কি 'নজ্জন, ঘনচ্ছায়, নীরব, গম্ভীর, 
এই তপোবন প্রভূ । এ 
গবশ*বামন্ত্র। ছল রম্যতর 


সেই দিন তপোবন, যেই দিন 
মহার্ধ গৌতম আর অহল্যা তাপসী-- 


৩২ দ্বজেন্দ্র রচনাবলী 


ছিল আবাচ্ছন্ন সুখে মগ্ন তপস্যায় 


এই বনগ্রামে। 

লক্ষ্রণ। _আত করুণ কাহিনন 
অহল্যার। 

[বশবামন্ত্র। আজো মনে পড়ে সে নীরব 


সুগভনর শান্ত স্বচ্ছ সমুদ্রের মত, 
[মস্ট নির্রের মত। আজো মনে পড়ে 
সে পাঁবন্র যুগ্মমূর্তু-নলাকাশ বক্ষে 
পূর্ণমা-জ্যোৎস্নার মত। আজো মনে পড়ে 
সেই সাম্মীলত কণ্ঠে সমু্থত গীত,_ 
মৃদ্গের সহ বাঁণাধবনি। 
নেপথ্যে যন্ত্রণার শব্দ 
রাম ও লক্ষমণ। ও ক শব্দ! 
শবশ্বামত্র। সত্যই ত। যেন রমণীর কণ্ঠস্বর; 
চল দোঁখ 'গয়া। 


লক্ষমণ। ও কে বৃক্ষ অন্তরালে 
পাস্ডুরা রমণী 2 
িশ্বামন্ত্র। কই? 
লক্ষমণ। ওই সান্নকটে। 
[বশ্বাঁমন্র। সত্য বটে; ওকে নারী? এ ক! 
হরি! হর! 
এ ক অহল্যা! 
অহল্যা। [ অগ্রসর হইয়া ] হাঁ, আমি অহল্যা। 
কে তুমি 
পাঁথক ? 
বিশ্বামন্র। অহল্যা! তুম এখানে ? 
অহল্যা। হাঁ আম 


এখানে । কে তুমি ডঢকো পাঁরচিতসম 
অহল্যার নাম ধোরে ? 


1ব*বামন্ত্। পারো না িনিতে 2 
আমি বিশ্বামিত্র। ' 

অহল্যা। তুমি বিশবামিতর 2 বটে 
চিনোছি। ক প্রয়োজন ? 

বিশ্বামিত। আতাঁথ। 

অহল্যা। আতাঁথ ? 


কাহার 2 গৌতিম হেথা নাই; একা আমি, 
ফিরে যাও ফিরে যাও।-সেও এসোঁছল 
আঁতাঁথ বাঁলয়া। খাঁষ! যাও, ফিরে যাও। 
বিশ্বমিন্র। এ কি! তোমাকে ত কভু হেন দোখ 
নাই, 
অহল্যা? কোথা সে সোম্য বদনমশ্ডল, 
রাশ্তম লক্জায় ? কোথা সে হাস্য মধুর 2 


অহল্যা। নাই, নাই;-গেছে সব। গিয়াছে 
সে সব 

গণ্ড্ষে রুরিয়া পান। যাও, খাষ! যাও; 
কেন এ নজ্জজনে, এই দূর বনগ্রামে, 
আ'সয়াছ হেথা ত্যন্ত কারতে আমারে 2 
বন্য-পশু সম আম হেথা বাস করি, 
একাকী 'নঃসঙ্গী দূরে । রাহ না কণ্টক 
কাহারো সুখের পথে। এক কপর্দকি 
কাহারো ধারি না! যাও।- মহার্ধ তোমায় 
একাঁদন কাঁরতাম ভান্ত শ্রদ্ধা বটে 
[কিন্তু আঁজ শ্রদ্ধা নাই। 

বিশ্বামন্তর। কি হেতু তাপাস!- 
ক দোষ আমার ? 

অহল্যা। দোষ? জানো না কি দোষ? 
ঘোরতর দোষ। তৃঁমি কপট পুরুষ! 
--এক মহা সত্য বিশ্বে জানয়াছ প্রভু! 
“লম্পট পুরুষ জাতি।” তুমি খাঁষ বটে, 
তথাঁপ 'বি*বাস নাই ।-পুরুষ ত তুমি 
আসিয়া বাঁঝ মম রৃপ-লালসায় 2 
আর নাহ ভূল ।---ওই মিথ্যা, প্রতারণা, 
এই মৃদু হাঁস, ওই একাগ্র চাহনি, 
এ বাঁঙ্কম গ্রীবা-সব বুঝ, সব জান! 
বৃথা চেস্টা মুনিবর '-গৃহে ফিরে যাও। 

শবশবামিত। অহল্যা! কাঁহনী তব জান: 

প্রতারিতা 

তুমি দোৌব, তাহা জাঁন। পাঁরত্যন্তা তুম, 
তাহা নাহ জানিতাম। কিন্তু অভাগানি! 
আম আস নাই আজ এ পণ্য আশ্রমে 
প্রতারণা কাঁরতে তোমারে। 

অহল্যা। ক বি*বাস ১ 
তম ত পুরুষ ।--সব পারে সে পুরুষ- 
কলাঁঙ্কতে পাঁতর্রত্য, পাশব বিক্ুমে : 
নম্র নবোঢার; ছংড়ে দিতে বালিকার 
প্রস্ফুটিত প্রেম-পুঙশ্প লোকাচার পদে: 
বাল দিতে স্নেহভান্ত, ক্ষুধার্তের মূখে 
দিতে ভস্ম: তৃষার্তের মূখে বিষ দিতে : 
বিনাশিতে অনুকম্পা; বাঁধতে বিশ্বাস। 

রাম। মৃগ্ধা, হতভাগনশ তাপসী 
হারায়েছ বিশবাস মনুষো এতদর ? 
এতদূর পাঁততা কি? কিম্বা যন্ত্রণায় 


পাষাশশ 


হারায়েছ জ্ঞান মুর্খ দোষে অন্যজনে, 
যবে সে বিবেকশন্য, কর্তব্া-স্খালত 
পড়ে গর্তে ।-মনৃষ্যের জল্ম এ জগ্গতে 
নহে ফুল খেলা দোব! সতীত্ব, জীবন, 
ব্রহ্মান্ডের আরুমণ হইতে নিয়ত 
কারতে হইবে রক্ষা ।_শত প্রলোভনে 
করিবেই আকর্ষণ তোমারে সবলে; 
তোমার রাখতে হবে, আপনারে বাঁধ। 
বাধা ও 'বপাত্ত আস" কারবে দুর্গম 
জীবনের বর্জ সদা; তোমায় তাহারে 
লঙ্ঘন কারতে হবে, আপনার বলে। 
জীবন সংগ্রাম। যাঁদ 1নম্ঠুর জগৎ, 
তুমিও কাঁঠিন হও। 

অহল্যা। হায়! শান্ত নাই। 

রাম। শান্ত নাই? মুঢ়! শান্ত আছে; ইচ্ছা 

নাই; 


ঠাববেক, উদ্যম নাই। প্রলোভনে নে 
চরণ বাড়ায়ে দাও; পরে রুষ্ট হও, 
বন্দী হও যবে সে শঙ্খলে; সান্ধি কর 
পাতকের সনে, পরে দেখ রুদ্ধ যবে 
স্ব্গদ্বার, ক্রুদ্ধ হও; স্বহস্তে রোপন 
কর নিজে বিষবৃক্ষ, পরে দ্বন্দ কর 
বধাতার সম্গে, যাঁদ না ফলে অমৃত। 
অহল্যা। সব সত্য কথা।-কন্তু বহে কি 
নিঝর 
শুজ্ক মরুভূমে ? জল্মে প্রস্তরে কুসূম 2 
পশে কি সর্যোর জ্যোতি সাগর কন্দরে ? 
আরম্ভ হইয়াছিল জীবন আমার 
প্রকান্ড প্রমাদে। হায় রাখল বিধাতা 
পূর্ণ জ্যোৎস্না কেন ভগ্ন গৃহে; পাঁপিয়ায় 
অন্ধকারে; ছড়াইল নিজ্জন 'বাঁপনে 
পৃষ্পের সুগন্ধ রাশ ? 
রাম। হায় মূঢ় নারী! 
এত দিন চিনিয়াছ বুঝি প্রেমিকের 
ঢল ঢল মুখ খানি. কুণ্চিত চিকর. 


_হা মুড! চিননি তার গভীর হৃদয়, 
প্রেমের নাহত ব্যথা, সংযত আগ্রহ ? 
তাহা ছিল গোৌতমের! তাহা ঠোঁলয়াছ 
চরণে; অমূল্য রত্বহার কণ্ঠ হতে, 

৩ 


| 


৩৩ 


উল্মোচন কার' ছদুড়ে 'দয়াছ তাপাঁস! 
গভখর সাগর গভে।-_ 
অহল্যা। [ক্ষণেকচিন্তার পর] শিশু 
দার্শানক !__ 
উদ্ভাঁসত যাঁর সোম্য পাবন্ন আননে 
নবীন বসন্ত; চক্ষু দুটি অবনত 
ধরণীর পানে গাঢ়; অনৃকম্পাভরে, 
বাঁনঃসৃত যাঁর কণ্ঠে বীণার ঝঙ্কার__ 
যেন বর্ষে বারষার শ্যামল জলদে। 
্নগ্ধ বার ধারা_বল, কে তাঁম সুন্দর ? 
রাম। আম রাম। দশরথ অযোধ্যার পাত, 
আ'ম তাঁর পূত্র।ইনি কানিষ্ড আমার। 
অহল্যা। রাজপনত্র তুমি। রত্র কাণ্চন তোমার 
অক্ষয় ভাণ্ডারে। কিন্তু হেন রত্ত নাই 
সে ভান্ডারে-তব এই উপদেশ-বাণী 
মহার্ঘ যেরুপ।-তুমি দেব-নারায়ণ, 
দাও শ্রীচরণ-ধাঁল।- ক্ষমা কর প্রভু! 
চরণধারণ 
রাম। আম ক কাঁরব ক্ষমা ?- ক্ষমা চাহো তাঁর, 
যাঁহার অনন্ত-প্রেম, অনন্ত 'নভর, 
শবাঁনময়ে আপনার নীচ হৃদয়ের, 
শদয়াছ কাঁচন্য; হানয়াছ বন্দ্র-শেল 
যাহার কোমল-বক্ষে-তব ব্যাভিচারে। 
যাও মা তাঁহার ক্ষমা চাহো। চাহো পরে, 
বধাতার ক্ষমা_ যাঁর মঞ্গাল 'নয়ম 
তাঁচ্ছিল্যে, অসাম-গব্রে ঠোলয়াছ পদে 


নবীন-যৌবন-মদভরে । 
অহল্যা। 'তনি কাঁরবেন ক্ষমা ? 
রাম। জান না তাপাঁস! 


তথাপি চাহয়া থাকো মৌন প্রার্থনায়। 
অহল্যা। তাহাই হইবে ।- প্রভূ! কারলে উদ্ধার 
অহল্যারে আজ । চল, আমার আশ্রমে, 
কারব আঁতিথ্য-পৃজা_সানুজে তোমার, 
কেশব! [ বিশ্বামিত্রকে] মহার্ধ চল 
আমার কুটীরে। 
[ সকলে নিক্কাম্ত। 


পঞ্চম অঙ্ক 
প্রথম দৃশ্য 
স্থান_শারপথ। কাল অধ্যরালি। * 


চিরঞ্জশব। [স্বগতঃ] খুব ফাঁকি 'দিহীছি! 
ছ'ড়টা আমাকে কি ঘুমোতে দেবে £ চার 


৩৪ 1দবজেন্দ্র রচনাবলী 


দিকে আটঘাট বন্ধ কোরো বুঝি ভদ্রলোকে 
ঘুমোতে পারে! মাথলায় যেতে যেতে পথে কি 
এমনও প্রবল জবর এলো । গৌতম আর মাধুরা 
শেষে গিয়ে কিনা এক আঁতাথশালায় আশ্রয় 
নিলে। বেশ জব্দ হয়েছে কিন্তু। [হাস্য] 
আঁতাঁথশালা! -- কোথায় আতাঁথশালা ? -- 
শুঁড়র দোকান! খুব পালিইছি! স্বটা বলে 
বাইরে যেও না, জবর বাড়বে । আঃ! এমন 
ঠান্ডা বাতাস, এতে পোড়ার অসুখ যাঁদ বাড়ে 
ত বাড়ুক!_বোধ হচ্ছে যেন আমি একাঁদন এই 
জায়গাটায়ই মাধুরীকে ধাক্কা মেরে পগারে 
ফেলে 'দয়ে পালিইছিলাম। মাধুরীর তা মনে 
নেই । সাধে ?ক বাল মেয়ে মানূষ বোকার জাত! 
নেই-দিবারান্তর আমার সেবাই কচ্ছে'-ঘৃম 
থেকে উঠে দোঁখ, আমার শিওরে হাঁ কোরে 
জেগে বোসে আছে! মেয়ে মানষে এতও পারে 
বাবা! এবার কিন্তু খুব পাঁলয়ে এইছি। চেয়ে 
দেখি কি না মাধুরী ঢুলছে, অমন আম 
উঠে, পা টিপে টিপে বেরিয়ে বাইরে এসে ভোঁ 
দৌড়! ভার ঠান্ডা বাতাস--শীত কচ্ছে যেন। 
এখানে একটু পেট ভরে' ঘুমিয়ে নেওয়া যাক্‌। 
-এঁ যে আবার আসে কে! মাধুরী দেখাছি! 
এই মাটি কোরেছে দেখুছি।-_“যেখান বাঘের 
ভয়, সেখানেই সন্ধ্যে হয়।” 


মাধুরীর প্রবেশ 


মাধুরী। প্রভু! এখেনে 2 

চিরঞ্শব। | বিরস্তভাবে] এখেনে নয় কি 
সেখেনে! 

মাধুরী । চল চল, ঘরে চল। 

চিরঞশব। না-_যাবো না। 

মাধূরীঁ। জবর বাড়বে । 

চিরঞজীব। তোর তা'তে কি, আমি এখেনে 
খাড়া হোয়ে বোসে মব্র্ব। তোর তা'তে কিঃ 

মাধুরী । ছিঃ প্রভু! চল। 

চিরঞ্জীব । দেখু িরন্ত কারস নে 
বলাছ। 
মাধুরী। তুমি ঘরে চল 

চিরজশব। আবার ফ্যাছ ফ্যাছু আরম্ভ 
কাল্পঃ ফের যাঁদ বিরত কার্্ব_! আঃ! 
[ শয়ন ] 


মাধুরী । ছিঃ! ওঠ। (ধারয়া উঠাইবার 
চেম্টা ] 

চিরঞ্জীব। উঃ! শীত কচ্ছে যেন 
[কম্পন] ওরে এ কি হোলো 2 

মাধুরী । কি হোলো? 

চিরঞ্জীব। আমার ভার হাঁস পাচ্ছে 
[হাস্য]-না রে না, হাঁস ত পাচ্ছে না। তবে 
ক পাচ্ছে? 

মাধুরী । কি পাচ্ছে? 

[চিরঞ্জীব। ঘুম পাচ্ছে। শোন্‌,. বোস 
দোঁখ, তোর কোলে মাথা দিয়ে ঘুমুই, আর তুই 
মাথার ওপরে কু-হ--কুহ শব্দ কর্‌ দোঁখ। 

মাধুরী । তা কর্ব-আগে বাড়শী চল! 
ওঠ-_ 

চিরঞ্জীব । দেখ মাধুরী আমি একটা 
ভার ধোকায় পড়োছ। 

মাধুরী । কি ধোকা? 

[চরঞ্জীব। ধোক্কাটা হচ্ছে এই, যে ঈশ্বর 
পুরুষকে পূুরূষ আর মেয়েমানুষকে মেয়ে- 
মানূষ কোরে স্াঁষ্ট কল্লেন কেন? যাঁদ 
মানুষকে পুরুষ কোরে সৃষ্ট কর্তেন তালে 
আঃ কি মজাটাই হোত। না? 

মাধুরী । হাঁ তা'লে বেশ হোত, এখন ঘরে 
চল । 

চিরঞ্জীব । নাঃতুই ঘুমোতে দার নে; 
একটু আরাম কর্তে এলেম ত কানের কাছে 
এসে ঘ্যানর ঘ্যানর-_চল্‌ বাঁড়ই চল্‌ । এত 
রাত্তর পর্যান্ত নিজের চোখেও ঘুম নেই 
আমাকেও কি ঘুমোতে দেবে! [ গমনোদ্যত ] 

মাধুরী । আমার ঘাড়ের ওপর ভর দিয়ে 


চল। 
চরঞ্জঁব। [যাইতে যাইতে] আচ্ছা 
পাহারা সৃস্টি করেছো দয়াময়! চল্‌ । 
[ উভয়ে, নিক্কাল্ত। 
"দ্বিতীয় দৃশ্য 


স্থান নন্দন-কাননে মন্দাঁকনী তীর । 
কাল- জ্যোৎস্না রাতি। 
দূরে উচ্চ আলোকিত কক্ষ । নদীবক্ষে তরণণ বাঁধা। 
ইন্দ্র একাকাঁ 


ইন্দ্র। গাইছে 'কল্নরী, নাচে অপ্সরা নর্তকী, 
উঠে অদ্রহাস্য, বাজে মৃদগ্গ মাল্দরা ;-_ 


পাষাণণ ৩৫ 


অদূর সমুচ্চ কক্ষে, দীপ্ত দীপালোকে। 
আর আম ভ্রাম শলথ চরণ বিক্ষেপে, 
কাম্পিত-হৃদয়ে, কেন একাকখ, 'িজ্জনে, 
চন্দ্রোলোকে? কেন আজি সাহতে না পার 
উৎসব, উল্লাস, দীপ, উচ্চ হর্ষধবনি, 
সঙ্গীত, রমণীসঞ্গ ক্ষীণ জ্যোৎস্নালোক 
তাও ঠেকে তীব্র, পাপিয়ার কণ্ঠস্বর 
হানে বক্ষে তীক্ষ7] শেল মলয়-সমণর 
যেন গল দাহ করে। 

_অন্তরে অন্তরে, 
জহলে তুষানল। দূর হৃদয় ?নভূতে, 
উঠে মম্মভেদশ দীর্ঘশ্বাস ।-ক কারব! 
কিসে 'নাভবে এ বাহু 2 কে বাঁলয়া দিবে, 


_অহল্যার পাঁত হেন মহাত্বা গৌতম ? 
সে মনুষ্য, আর আম দেবতা ? হা ধিক্‌! 
বিধির বিচার এই-া জানু পাতিয়া ] 

হে মহাপন্র,ষ! 
প্রকৃত তপস্বী তুমি; বিশুদ্ধ, উদার, 
নিজ্কাম, নিঃস্বার্থ, চির-স্মরণীয় তুমি ।_ 
এই যে আসছে শচী। | উত্থান] 


শচশর প্রবেশ 


[ আলোকিত কক্ষের প্রাতি চাহয়া ] 

_চলেছে সঙ্গীত, 
চলেছে উৎসব, এই মধ্যাহ-নিশীথে, . 
উজ্জবল বিলাস-কক্ষে_ছি ছি, লজ্জা নাই! 
_বাঁহছে শীতল মন্দ সুরভি সমীর । 
বাস এই মন্দাকনী-তটতলে। 


শচী। 


ইন্দ্র। [ অগ্রসর হইয়া ] শচি! 
শচী। [চমকিয়া] এ কি তুমি! 
ইন্দ্র আ'সয়াছি তব প্রতীক্ষায়। 


শচী। এত অননগ্রহ? নাথ! কৃতার্থ কিও্করী। 
ফিরিয়া যাইতে দাও প্রভু, পথ ছাড়। 
গামলোর্দ্যত 
ইন্দ্র। শচি! 
শচী। লজ্জা নাই? কোন্‌ স্বত্বে পুনরায় 
শাম ধোরে ডাকো মোর? 
| শুন সত্য বাণশ-_ 


শচী। চাহি না শুনিতে আর ।- হায় দেবরাজ ! 
দেবী ছাঁড়' মানবীতে লোভ ? পাঁরণামে 
জান না আরো কি আছে তোমার 'নিগ্রহ ৷ 
উব্বশনী, মেনকা, রম্ভা সঙ্গে নৃত্য কর, 
মত্ত সুধাপানে, তাহা সহ্য কারয়াছি-_ 
তাহারা দেবতা । শেষে মানবীর পদে 
নাময়াছ যেই 'দন-সেই দন তব 
ঘুচেছে দেবত্ব। 

ইন্দ্র। সত্য, অহল্যা মানবী; 
তথাপি ইন্দ্রাণী! সত্য, অপ্সরা-সম্ভব 
রূপ অহল্যার। মুশ্ধ সেই প্রলোভনে, 
কারয়াঁছ পাপ। 

শচী। রূপ অপ্সরা-সম্ভব 
হোক তার, তথাপি সে মানবী । তাহার 
স্পর্শে কলুষত তাঁমি- স্পর্শ কারও না 
পুলোম-কন্যারে আর। 

[ রোষভরে প্রস্থান। 
ইন্দ্র। গচরাঁদন এই পাঁরণাম 
অবৈধ 'লিপ্সার।-তীব্র ক্ষাণক সম্ভোগ, 
পারশেষে ঘন দীর্ঘ অবসাদব্যাধ_- 
.ল্তহশীন, সহীপ | তুচ্ছ প্রলোভনে 
পাঁতিত, জাঁড়ত, পত্বী-প্রণয়-বিচ্যুত, 
পারণামে। 


মদন ও রাতির প্রবেশ 
ইন্দ্র। হায়! এত গবলম্বে মদন ? 
চলিয়া শগয়াছে শচশ। 
মদন । কি কারব প্রভু, 
বিলম্ব রাতর জন্য। প্রহর অতশত 
কেশ-বেশ-বিন্যাসে তাহার। 


রাঁতি। ্‌ চিরকাল 
রমণীর এ অখ্যাতি। এ বেশ-বিন্যাস 
কার জন্য প্রাণেশ্বর ? 

ইন্দ্র চলিবে রূপাঁস! 
দামপত্য-কলহ কতক্ষণ ? 

রাঁতি। যতক্ষণে 
ইন্দ্র ইন্দ্রাণীর দ্বন্দব সমাপ্ত হইল 
এ দূর নিজ্জন বনে। 

মদন । কিরূপে ইন্দ্রাণী? 

ইন্দ্র। তপ্তলোহবৎ। 

মদন। পারসমাপ্ত নাটিকা 


৩৬ দ্বজেন্দ্ 


চল দেবরাজ! শুন, কোন চিন্তা নাই, 
পমণীর চিরাদন এবাম্বধ [বাধ 
ক্ষণেক গজ্জন, পরে ক্ষণেক বর্ষণ, 
পারশেষে শান্ত-চিল, বলাস-ভবনে। 

ইন্দ্ু। ভালো নাহি লাগে আর। শিরায় শিরায় 
বাহছে অনলম্লোত। মাস্তিজ্কে, হৃদয়ে, 
পাষাণের ভার। 

মদন । প্রভৃ' চিন্তা কর দূর: 
প্রেমের এ পরিণাম চিরাঁদন তাহা, 
পূবেরবে বাল নাই ? ক্রমে থিতাইবে বারি: 
এখন ীবলাস গৃহে চল--চিন্তা নাই, 
শয়ন-মান্পরে দিব ইহার ওষাধ। 
সকলে িযা তরীবক্ষে আবোহণ কাঁরলেন। 

তবীবক্ষে মদন ও রতিব গত 


ভাঁসয়ে দে রে সাধেব তাঁর, 
পাল তুলে দে ভেসে চল্‌। 
উঠেছে এ উজান বাতাস, কচ্ছে নদী টলমল ॥ 
যান্ত মিছে, ভাবনা মিছে, 
দুঃখ পোড়ে' থাক না পিছে, 
ভাসবো শব্ধ, হাসবো শন্ধন। 
শুধু কোলাহল । 
ফর্তে সে ত হবেই হবে আবাব নীরস কাঁঠিন তটে, 
08055555295 
| 
-উডোবে যাঁদ ডুবৃবে তাঁর, যাঁদ নেহাইৎ মার, 
মব্্ব না হয় খেয়ে খানিক ঘোলা নদাঁর ঘোলা জল । 


1 সকলের প্রস্থান । 


তৃতীয় দৃশ্য 
স্থান_ামাথলার রাজপথ। কাল- প্রভাত। 
একাকিনী অহল্যা 
অহল্যা। আবার কি তান তেমান ভালো- 
বাসবেন! আবার সে মধুর গন্তীর স্বরে আমার 
নাম ধোরে ড।কবেন 2 আবার 'তাঁন কাছে এসে 
তেমনি কোরে স্নেহনত চক্ষে আমার পানে 
চাইবেন 2 নাথ! প্রাণেশবর! ক্ষমা করো। 
তোমার এত প্রেম, এত বেদনা, এত জাগ্রত 
শুশ্রুষা, আমি বুঝি নাই। আম পাষাণী! 
আম পাপশয়সব! আম হতভাগনশ!_ মাথায় 
কোরে রাখবার ীজনিষ, আম পায়ে ঠেলোছ। 
[জানু পাতিয়া | ক্ষমা করো। প্রভো, সর্্বম্ব 
আমার, দেবতা আমার! আজ আম বুঝেছি যে 
এ ন্রিভুবনে তমিই আমার সব। তুমিই আমার 
ইহকাল, তুমিই আমার পরকাল! আম মূর্খ, 


রচনাবলী 


তাই এতাঁদন বুঝতে পার নি। ক্ষমা করো 
ক্ষমা করো। ক্ষমা করো। 

১ম পুরবাসিনী। [প্রবেশ কারয়া] কে গ 
তৃনি বাছা পথ ছাড়ো না। 


অহল্যা সাঁরয়া দাঁড়াইলেন 
২য় পুরবাসনী। [প্রবেশ কাঁরয়া] 
আক্কেল দেখেছ মাগীর । একেবারে ঠিক রাস্তার 
মাঝখানে ৮একটু সরো না। 


[ প্রস্থান। 


[ প্রস্থান । 
অহল্যা আবার সারয়া দাঁড়াইলেন 
৩য় পুরবাঁসনী। [প্রবেশ করিয়া] কে 
রে মাগী দাঁড়াবার কি আর জায়গা পোঁল'নে। 
[ প্রস্থান । 
অহল্যা আবার সারয়া দাঁড়াইলেন 
৪ পূরবাসনী। | প্রবেশ  কারতে 
অহল্যার ধাক্কা লাগয়া পাঁড়য়া] এঃ যা। ওরে 
আমার কপাল রে!_কুলের ঝাঁড়টা পড়ে গিয়ে 
কি কাণ্ডটা হোল দেখ না [কুল কুড়াইতে 
বাস্ত | 
অহল্যা। ক্ষমা কোরো বাছা, আম কুঁড়য়ে 
ধদাচ্চি [ কথামত কার্য] 
[৪র্থ পুরবাঁসনীর ঝূঁড় লইয়া প্রস্থান। 
অহল্যা। আর কি তাঁকে পাবো? তেমনি 
কোরে হৃদয়ের ভিতরে তাঁরে পাবো? যাঁরে 
জাগ্রং '্দবসে হাঁরয়েছি, তারে নিশীথের 
আঁধারে খুজে পাবো? 


একদল সজ্জিত রাজভূত্যের প্রবেশ 


১ম ভূত্য। গায়ের জোর বটে! 

২য় ভৃত্য । হাঁ ধনুক গাছটা একেবারে পট 
ক'রে ভেঙ্গে ফেল্লে ! 

৩য় ভূত্য। ছেলেটাকে দেখে গায়ে খুব 
জোর আছে বোলে বোধ হয় না। 

২য় ভূতা। রাজার মেয়ের শেষে কিনা এই 
নেড়ে পুত্রের সঙ্গে বিয়ে! 

১ম ভৃত্য। চল চল্‌__মুখ সামূলে কথা 


কোস। 
[ ভৃত্যাদগের প্রস্থান। 

অহল্যা। তান কি আর আমাকে তেমন 
ভালবাস্বেন ? আম ব্যাভিচাঁরণশ, আমি হত- 
ভাগনী, আম 'বিশবাসহল্ত্রী, আম 'ক সাহসে 


পাষাণশ ৩৭ 


তাঁর সম্মুখে দাঁড়াবো 2 কি সাহসে তাঁর ক্ষমা 
চাইব? 


একদল পুরোহিতের প্রবেশ 


১ম পুরোহত। তা ত হবেই। মাঁণকাণ্চন 
যোগের কথা শাস্লেই আছে। 
২য় পুরোহৃত। রেখে দাও শাস্ত! শাস্নের 
ক ধার ধারো বাপু? 
১ম পুরো । ধার ধার না। পুরাণ, উপ- 
পুরাণ, বেদ, ধেদাঙ্গ, দর্শন, মনু এসব কন্ঠস্থ | 
৩য় পুরো । আরে এত চেশ্চাও কেন? 
৪র্থ পুরো। রাজা দশরথকে আন্তে লোক 
[গিয়েছে 2 
৩য় পুরো । ওগো গিয়েছে গো গিয়েছে। 
যাবে না? 
১ম পুরো। গৌতমকে নিমন্লণ-পন্র দিই- 
ছিল যে, তিনি এসেছেন ? 
২য় পুরো । হাঁ, এয়েছেন। 
৪র্থ পুরো । রাজবাড়ীতে এতক্ষণ চর্র্ব- 
চোষ্য-লেহ্য-পেয় কচ্ছেন। 
৩য় পুরো । আরে অত চেশ্চাও কেন ছাই? 
১ম পুরো । লোকটা বড় মুষড়ে গিয়েছে। 
৪র্থ পুরো। তা আর যাবে না। এই 
কেলেঙকারিটা! 
৩য় পুরো। বাল, একটু আস্তে চেশ্চাও না। 
[ পুরোহিতাঁদগের প্রস্থান । 
অহল্যা। এ ক শুনছি 2 'তনি এসেছেন ? 
এসেছেন? আমি কি করব! যাই তাঁর পায়ের 
তলে পড়ে তাঁর ক্ষমা ক্ষ: কার। 'তীন প্রেম- 
ময়, তান দয়ার সাগর, তান ক্ষমার প্রাতমা-_ 
ক্ষমা কর্তেও পারেন। যাই, যাই। 
[ প্রস্থান। 


চতুর্থ দৃশ্য 
স্থান_জনকের রাজসভা-বক্ষ। 
কাল-প্রহরাতীত প্রভাত। 
জনক, গৌতম, শতানন্দ ও বশবামিত 
গোৌতম। ধন্য হইলাম»আমি। মরি কি মধুর 
সজল-জলদ-ম্যার্ত! রাজার্ধয জনক' 
যোগ্যতর পান্নে ন্যস্ত হইত না কভু 
সুন্দরী জানকশী সশতা। শোভে 'ি তাঁড়ং 


বনা নব-জলধরে। শোভে কি সুন্দর 
শ্যামলপল্লব 'বিনা- চম্পক-কাঁলকা 2 

জনক। সম্পূর্ণ হইল ক্রিয়া তব আগমনে 
বন্ধূবর। 

গৌতম। -বহাদিন ছিলাম প্রবাসে, 
আচ্ছ্ন গভাঁর স:খে, ভুলিয়া কর্তব্য 
দূর সংসারের প্রাত: ছিলাম নিজ্জনে, 
স্বার্থমশন আমি ।-পন্ন তোমার, সুহৎ, 
হৃদয়ে জাগায়ে দিল অতীতের স্মৃতি 
পুনব্বার। 


মাধূরশীকে টানিয়া িরঞ্জীবের প্রবেশ 


চিরঞ্রশব। এই নেও! এই মায়াঁবনী! 
শবশ্বামন্র। একি িরঞ্জশব কেন রাজসভাস্ছলে, 
করিতেছ আপনার পত্নীর নিগ্রহ ? 
চিরঞ্জীব । মায়াঁবনী মন্ত্র জানে! আম 
[চরাঁদন, 
করিয়াছি অনাস্থা তাহারে; 'বাঁনময়ে, 
সে করে আমার পুজা ।-কাহ কট;ভাষা, 
মায়াবনী হাসে।- আম 'নদ্দয় প্রহার 
করিয়াঁছ, কাঁদে নারী 'নঃশব্দ 'বলাপে। 
-আঘমি তারে জনহীন প্রান্তরে, নিশনথে 
করিলাম পাঁরত্যাগ কৈলাসের পথে; 
পরে রুগ্ন আম যবে মিথিলার পথে, 
ধনাদ্রুত, চাহিয়া দোখ িশাচশ জাগ্রৎ, 
শয়রে বাঁসয়া সেবা কারছে নীরবে। 
-মায়াবিনী মল্ম জানে, বাঁধয়াছে প্রভু, 
এ পেশল বাহ, এই পাষাণ হৃদয়, 
জানি না। অথচ আমি পিশাচীর দাস, 
আজ কায়মনোবাক্যে।_অহো! ক দুর্গত 
পুরুষের! [বাঁসয়া পাঁড়য়া ক্রন্দন] 
জনক। আচ্ছা, যাও চিরঞ্জীব! আম 
কারব বধান দণ্ড । [মাধুরীর প্রাতি] 
মায়াবান! তুমি 
আ'জ হ'তে এই পাশে, মাহষীর সখশী,__ 
যাও অল্তঃপূরে। যাও চিরঞ্জীব। 


[ উভয়ের বাহর্গমন। 


গৌতম । হরি! 
দয়াময়! তুমি ধন্য! 'সম্ধ এতাঁদনে 
মাধুরীর মহতা সাধনা! 


৩৮ দ্বজেন্দ্রু রচনাবলশী 


দশরথের প্রবেশ 
জনক। [গোৌতমকে ] বন্ধৃুবর ! 
ইনি বৈবাহক মম, অযোধ্যার পাঁতি, 
দশরথ। [ দশরথের প্রাতি] মহারাজ! 


ইনি বন্ধুবর, 
মহর্ষ গোতিম। 
দশরথ শৌতমকে প্রণাম কারলেন। গৌতম 
দশরথকে আশীব্বাদ করিলেন 
দশরথ। মহারাজ! এইক্ষণে, 
আসতে প্রাসাদে সখে, দোখলাম পথে, 
অত্যাশ্চর্যয দৃশ্য এক,উল্মাদনীশ নারশী। 
গৌতম। উল্মাঁদনশ! 
দশরথ। উল্মাঁদনী। রুগ্ন গৌর তনু, 
আপাদলাম্বিত শভ্রকেশী। চক্ষু দুটি 
জলভরে নত। স্বচ্ছ সুঠাম ললাটে, 
আঁঙ্কত গভীর দঃখ-কাহিনী-কালিমা। 
গাইছে 'কন্নরীকন্ঠে, দি সংগত সখে, 
?ক গুট বেদনাপ্লৃত, ক গাঢ়, মধুর, 
উৎকট, স্বগ্য় ধ্বনি ।-_অনন্ত বাসনা, 
সঙ্গে তার 'বিজাঁড়ত অনন্ত, অসম, 
স্বগাঁয়ি হতাশা ।_হেন মর্ত দোখ নাই 
হেন গীতি শুন নাই কভু। 
গৌতম । | অর্ধধস্বগত ]1 উল্মাঁদনী! 
বাহিরে গশতের শব্দ 
দশরথ। ওই আসে। বুঝি নারী আসছে 
এখানে । 


অহল্যার প্রবেশ ও গত 


আর একবার ভালোবাসো, 
বাসতে যেমন আগের 'দনে। 
ঘুমদ্ত প্রাণের ব্যথা আবার জাগিয়ে প্রাণে 
একবার নাথ তুলে ধর, হৃদয় হদয়'পর হে, 
শান্ত হোক প্রাণ যাহে, 
আজ শত তাঁক্ষ শেল হানে। 
তোমারি হারানো বাঁশশি লুঠায় ধরনী”্পর, 
মলিন-_তোমার তবু, আদরে তুলিয়া ধর; 
ভাগা চূড়া প্রাণের বাঁশী, তেমনি কোরে আজ রে; 
নাথের করে, মধূর স্বরে, বাজ রে-_ বাজ রে। 


গৌতম। অভাগনঈ-এ বেশ!_এ দশা! 

অহল্যা। অভাগিনী! 
সত্য, অভাগিনী আম! বড় অভাগিন”, 
বড় কলাঙ্কনণ, বড় পাপাীয়সী, বড় 
পাতাঁকনী আমি প্রভূ! 

গোতম। হায় 'প্রয়তমে ! 


অহল্যা। “প্রয়তমে?” আজ মোরে এই 
সম্ভাষণ ? 

এঁক উপহাস! কিম্বা এখনো মহার্ষ 
[চন না আমারে বাঁঝ? 

গৌতম। চান প্রাণেম্বার! 

অহল্যা। না চিন না_ডাঁকিতেছ তাই সে মধুর, 
সে স্নেহ গদ্গদস্বরে! তাই প্রেমভরে 
প্রসারছ বাহু 1-যাঁদ চিনিতে, ঘণায় 
ফিরাইতে মুখ, মোরে কহিতে কক, 
[কিম্বা দিতে খেদাইয়া দূরে পদাঘাতে। 

গৌতম। অহল্যা_ 

অহল্যা। অহল্যা নাহ;__-পাষাণশ পাষাণ”, 
ধদ্বচাঁরণশী, পূতত্রহল্তী, ঘাতকা, পশাচীী 
_শোন ইতিহাস এমাঁন সে ইতিহাস 
তার ছন্রে ছন্রে গাঢ় কলঙ্কের রাশ; 
_-পূব্রে শোন ইতিহাস-- 

গৌতম । শুনতে চাহ না, 
সব জান! প্রতারতা, প্রলুব্ধা, পাঁতিতা, 
প্রেয়সী আমার !-_তব এই শীর্ণ তনু, 
এ পাণ্ডুর মুখ, এই কোটর-নাহত 
চক্ষুর অপাঙ্গে ঘন গভশীর কালিমা, 
কাঁহছে সে ইতিহাস! 

অহল্যা। নরকের জবালা_ 
সাহয়াছি 'দবারানর: তীর যন্ত্রণায় 
পাষাণ হইয়া গেছি অন্তরে অন্তরে! 
একদা সহসা শেষে বিফুর কৃপায়, 
হইল চৈতন্য। শুচ্ক পাষাণ ভোঁদয়া, 
ঝাঁরল নির্ঝর, বজদশ্ধ দীর্ণ তরু 
মঞ্জারল পত্রপৃষ্পে।_কি আর বালব! 
যাঁদ জানো সব নাথ, কি আর বালব! 
_কজীীবন-সব্বস্ব মোর! বাঁঝয়াছ ভ্রম 
এতাঁদনে! ক্ষমা কর।-_ ধর্মের প্রাতিমা 
পুণ্যের কাহিনী তুমি, দয়ার সাগর, 
স্বর্গের দেবতা! আর আম পাপশয়সশ, 
মৃ, ক্ষুদ্র, ঘণ্য নরকের কট ।--আঁম 
ভাঁঞ্গয়াঁছ বিশ্বাস; চরণে ঠচোঁলয়াছ 
কর্তবা: প্রেমের পারে ঢালিয়াছি 'বিষ। 
_আজি বৃবিয়াছি ভ্রম। ক্ষমা কর। 

শতানল্দ। ক্ষমা! 
যে নারী বিনাশ করে বিশ্বাস, প্রণয়, 
সে ক্ষমার যোগ্য নহে ।- হায় পিতৃদেব! 


পাষাণশ ৩৯ 


ষে দাম্পত্য-প্রেম ভিত্তি সমাজের, মূল 
সব্্ব কর্তব্যের, যেই সে দাম্পত্য-প্রেম 
স্বহস্তে নিম্মৃল করে, সেই পাপীয়সী 
ক্ষমাযোগ্য নহে। পতা--ভূগুর বিধান__ 
যোগ্য শাস্তি, প্রাণদশ্ড, কুলটা নারীর ;__ 
হোক সে স্বকীয় পত্বী অথবা জননশ। 

গৌতম। ক্ষান্ত হও "প্রয়তম ! শাঁস্ত 'দব 2 

হায়! 
আকন্ঠ নিমগ্ন পাপে আমি মূডমাতি, 
দূর্তল মনৃষ্য নিজে, সাধ্য কি আমার, 
কর্তব্যস্থালিত, মূ, মনষ্য উপাঁর' 
বাঁসব 'বিচারাসনে। 
[ অহল্যার প্রাতি]_এস অভাগাঁন! 
বাধর সাবাঁধ এই, আজ পাইলাম 
যাহা পূর্বে কভু পাই নাই--প্রিয়তমে ! 
তোমারে প্রথম দিন হৃদয় ভিতরে । 
এস প্রপশীড়তা পারত্যন্তা প্রাণেশ্বার। 
এস বাণ-বিদ্ধ মম 'পঞ্জরের পাখী 
হদয়াপঞ্জরে ফিরে এস! 
অহল্যাকে বক্ষে ধারণ 

[বশ্বামন্্। ” এত উচ্চে! 
এত উচ্চে তুমি; এত পাঁবন্ত, মহৎ? 
এত ক্ষমাশীল? এত উদার ?- র্রাহ্গণ 
অবনত কার শর ।- ব্লাজার্ধ জনক! 
বলেছিলে আতি সত্য কথা, বুঝয়াছি, 
লভি নাই ব্রাক্মণত্ব! জেনোছি তাহার 
বহু নিদ্নে পড়ে আছি! িশ্বামবে ধিক, 
লব্ধ ব্রাহ্মণত্ে ধিক! তপস্যায় ধিক্‌। 

জনক। ধন্য এ চরিল্র, যার সংস্পর্শ কুহকে,_ 
বারাঞ্গখণা সতশ হয়; দস্য সাধু হয়; 


পাঁওকল পাঁবন্র হয়; কামুক লম্পট 
গজতৌন্দ্রয় হয়; গব্বশ নত করে শির। 
যে, স্পর্শমাণর মত, পথের কদ্দ্মে , 
স্বর্ণে পাঁরণত করে; পাবকের মত 
ভস্ম করে আবিল দুর্গন্ধ; পণ্যতোয়া 
জাহ্বীর মত, ধৌত করে আবর্জনা । 
অহল্যা। নাথ! তব পুণ্যতেজে আজ অল্ধ 
আমি, 
কোথা তুমি? কতদূর ? সঙ্গে কোরে লও । 
[ সকলে নিক্কান্ত। 


পন্চম দৃশ্য 
স্থান _অলোৌঁকক প্রমোদ-মন্ডপ। কাল-__নিশা। 
রামসীতার যুগলরূপ 
সম্মূখে অপ্সরাঁদগের নৃ 
যাচ্ছে বোয়ে প্রেমের সম্ধু 
উঠছে পড়ছে প্রেমের ঢেউ; 
কেউবা খাচ্ছে হাবুডুবু, ভেসে চলে যাচ্ছে কেউ। 
কারো বক্ষে এ প্রেম আনে, অবাচ্ছন্ন পরম সুখ) 
মম্মদাহে রহে এ প্রেম, কারো বক্ষে জাগরুক। 
প্রেমে িগ্সা, প্রেমে ঈর্ষা, প্রেমে পণ্য পারিণয়।_ 
কারো ভাগ্যে বিষের ভাণ্ড কারো ভাগ্যে সুধাময়; 
প্রেমের টানে টেনে আনে জনার্্দনে ধরায় জীব; 
পাগল, উদাস, শমশানবাসী, প্রেমে ভোলা 
। 


কেউবা প্রেমে সব্বত্যাগশ কেউবা চাহে উপভোগ) 
কারো পক্ষে প্রেম আসান্ত, কারো পক্ষে 


প্রেমে জন্ম, প্রেমে মৃত্যু, প্রেমে সাম্ট, প্রেমে 


নাশ: 
প্রেমের শব্দ উঠে মর্তো, প্রেমে স্তব্ধ নীলাকাশ। 
ঘবাঁনকা পতন 


তারাবাহ 


পুর্ষ-চারল্ 
রায়মল (মেবারের রাণা)। সূয্যমল (রায়মলের ভ্রাতা ও সেনাপাঁত)। সংগ, পৃথবীরাজ ও 


জয়মল (রায়মলের প্রগণ)। প্রভুরাও (ঁসরোহার 


রাজা)। শুূরতান (€ তোড়া 


আঁধপাতি)। সারঙ্গ দেব চিনি সৈন্যাধ্যক্ষ)। বাঁণক, মালব, চন্দুরাও, কৃষক, 


গ্রশ-চারতত 


শূরতানের রাণী। তারা (শূরতানের কন্যা)। তমসা (সূর্ধযমলের স্মী)। যমুনা (রায়মলের 
কন্যা ও প্রভুরাওর স্ম্)। চারণ, পাঁরচারিকা, কৃষকরমণশ ইত্যাঁদ। 


প্রথম অঙ্ক 


প্রথম দশ্য 
স্থান_সূর্যযমলের বাট]। কাল- প্রভাত। 
রাজভ্রাতা সূর্যামল ও তাঁহার স্ম্শ তমসা 

সূর্যামল। পলায়ত শূরতান তোড়া আঁধপাঁতি 
যদ্ধক্ষেত্র হ'তে! হায়! ক্ষান্নয়, চৌহান 
হেন কাপুরুষ ? 

তমসা। কোথা তিনি 2 

সূ্য্য। বনবাসী-- 
দূরে আরাবালাগারসানপদতলে 

তমসা। হ'য়েছিলে আঁতাঁথ কি তুমি তাঁর তবে? 

সূর্যা। হইয়াছলাম আম তাঁহার আশ্রমে 
আঁতাঁথ দ্বাদশ 'দিন। 


তমসা। তাঁহার দাঁম্ভকা 
রাজ্ঞী-__তাঁর সঞ্চো ? ূ 
সূর্য্য। রাজ্ঞী তাঁর সঙ্গো, আর 


অপূর্বলাবণাময়শী কন্যা নাম “তারা”। 
_আশ্চর্যয বালিকা! মহাভারত বৃহৎ 
রামায়ণ._কণ্ঠস্ঘ! পাঁড়ছে এইক্ষণে 


উত্তরচারত। 

তমসা। জানি তাঁহার রাজ্জীরে। 
গহ্ব তাঁর অমানুষশী; চূর্ণ অহঙ্কার 
আজি তাঁর। 

স্ধ্য। হইও না হেন উল্লাসিত 
পাঁততের দুর্ভাগ্যে, তমসা- একাঁদন 
সবারই ঘটতে পায়ে তাহা । 

তমসা। ক ঘটবে? 


মন্দভাগ্য?-__উল্লতের পতন সম্ভবে; 


আম রাজ্ঞী নাহ। 

সূর্য। সেনাপাত- পত্নী তুমি। 
ইহার অপেক্ষা মন্দভাগা আছে 'প্রয়ে। 

__বাঁলিতোঁছলাম_ সঙ্গ, পৃথবী, জয়মল, 

যে হইবে রাণা চিতোরের ভাবিষ্যতে, 
তার উপযুক্ত পান্রী শৃরতানবালা। 

তমসা। কেন? নাহ স্থির তবে কে হইবে পরে 
মেবারের রাণা? 

সর্য্য। কিছ; ব্যাঝতে না পারি; 
জাঁটলসমস্যা তাহা; অতাঁব জটিল । 
যে কনিষ্ঠ পুত জয়মল, অর্্বাচীন; 
সে রাজার সর্বাপেক্ষা 'প্রয়। যে দ্বিতীয় 
পুত্র, পৃথবী-নিভীঁক উদারচিত্ত বটে, 
কিন্তু অসংযত, পাঁরচালিত সর্বদা 
পরকীয় মল্মণায়। সব্্বজ্যেষ্য পত্র, 
সব্্বগৃণাঁষ্বিত সম্গা-প্রয়পার নহে 
ভূপাঁতর। কেহ নাহ জানে ভবিষ্যতে 
কে হইবে মেবারের রাণা। 


তমসা। চরপ্রথা 
নহে রাজ্য পায় জ্যেষ্ঠ পুত্র? 
সূর্যয। চিরপ্রথা 


কে মানিবে, রায়মল স্বহস্তে যদ্যাপ 
মুকট পরায়ে দেন জয়মলশিরে। 

সব্রবৈব রাজার ইচ্ছা। প্রজাবর্গ জানে 
জয়মল মেবারের ভাবি আধপাঁতি। 

ণকল্ত ছাড়বে 'কি সঙ্গা জল্মস্ত্ব তা'র 
সহজে? পৃথবীই-নাকি ছাড়বে £ 
তমসা। ৃ কি স্বত্ব 


৪২ দ্বজেন্দ্রু রচনাবলশ 


সূ্যয। শান্তর স্বত্ব। সৈন্যদের প্রিয় 
পৃথহী, ক্ষান্রগুণে। 

তমসা। তবে রাজ্য অরাজক ? 

সূর্যা। অরাজক একরপ। 

তমসা। তবে নাহ জান, 
তুমি বা একাকী কেন রাজ্যস্বত্ব হ'তে 
হইবে বাঁণ্ঠত, যবে রাজভ্রাতা তুমি? 

সূর্যা। আম রাণা মেবারের কি বালছ 

রাণী ? 

স্তব্ধ হও বলি, কাহও না পুনব্বার 
ওই কথা, আজ্ঞা করিতোঁছ। যাও-_যাও। 


[ তমসার প্রস্থান। 


সূয্য। আশ্চর্য্য! আশ্চর্য্য ইহা! জানল 
কির্‌পে 

তমসা আমার পাপ অন্তরের কথা ? 
সে দিন শিয়াছলাম চারণ মন্দিরে, 
কাঁহল চারণ, হস্ত দোঁথয়া আমার, 
“মেবারের রাজ্যভাগ তোমার" সহসা 
কে যেন অমাঁন বেগে কারল আঘাত 
উচ্চাশার রুদ্ধদ্বারে। হইল চণ্চল, 
উদ্বেল, হৃদয় এই নব সমস্যায়। 
আহারে বিহারে এই-কয়াদন ধার” 
কে কর্ণে নিয়ত যেন করিছে ঝঙ্কার__ 
“আমই বা কেন এই রাজ্যস্বত্ব হ'তে 
হইব বণ্চিত, যবে রাজভ্রাতা আমি 2” 
তারই প্রীতধনি শান তমসার মুখে 
উঠিয়াছি শিহারয়া; তস্কর যেমাতি 
আপনার ছায়া দৌখ, চমাকয়া উঠে। 
রূঢ় হইয়াঁছি অকারণ,_এই ভয়ে 
পাছে এ জিজ্ঞাসামান্র হয় পাঁরণত 
প্রকৃত প্রস্তাবে । না না, কারব না আম 
হেন হশন হেয় কার্য! বীভৎস প্রস্তাব! 
যার অন্ন খাই, তার বিপক্ষে তুলিব 
খড়া? তবে কে কাহারে কাঁরবে 'িশবাস 2 
_কি বীভৎস! আপনার মনে উঠে যাহা, 
ধ্বনিত যখন তাহা অপরের মুখে, 
কি ভীষণ শুনায় সে কথা ।- দোঁথয়াছি 
সমস্ত প্রস্তাব প্রতিবিশ্বিত দর্পপে 
সাক্ষাৎ সহসা যেন। বাঁভৎস! ভশষণ! 
কারব না হেন কার্ধ্য আমি-_ অসম্ভব! 
অসম্ভব! 


পৃথবীর প্রবেশ 
পৃথবী। পিতৃব্য! 
সূর্য্য। [চমকিয়া] কে? পৃথবী? 
পৃথবী। সত্য, আম ।- 
চমকিলে কেন? 
স্্য। না 
পৃথবী। হাঁ বাঁলতে হইবেই। 
সূর্ধয। ভাবিতেছিলাম_না না-বাঁলব কি 


আর, 

বিশেষ কিছুই নয়। 

পৃথবী। যাহাই হউক, 
বাঁলতে হইবে তাহা 'পিতৃব্য আমারে; 
নাহলে কারব আভমান। প্রাতাঁদন 
আস যাই। কই, কভু উঠ নাই তুমি 
হেন চমকিয়া:_বল। 

সূর্যয। বালব কি তবে 2 
ভাঁবিতোছলাম বংস' কে হইবে রাজা 
জাতার মৃতুার পরে। 

পৃথহাী। কেন জ্যেম্ঠ ভ্রাতা 
সঙ্গ! 

স্য্য। বংস' নহে অত সমস্যা সরল । 


পৃথবী। তীকিউ টিন পান টিকা জানি 
জ্যেন্তপুত্র পায় রাজ্য। 


সূ্য্য। চিরকাল নহে । 
ইতিহাসে দৌঁখয়াছি পাইয়াছে কভু 
রাজত্বকনিম্ত পত্র ১ 

পৃথদী। জয়মল 2 ধিক! 


সূর্য । লক্ষ্য কর নাই বংস. তোমার 'পতার 
স্নেহ সমধিক জয়মলে ? 

পৃথলী। [চিন্তিত ভাবে] করিয়াছি: 
যাঁদ তাই হয়, হোক। 

সূর্যা। সরল, উদার, 
একান্ত স্বভাব তোর। অসম্ভব নহে 
রাজোশবর হব তৃই। 

পৃথবী। [সাশ্য্যে] আম! 


সর্য্য। কেন নহে? 
আঁসবলে বলণ তুই সৈন্যদের প্রিয় 
রাজপুত্র তুই! 

পরথলী। [সাম্য] আম! 

সূর্য্য। শোন বৎস! তোরে 


তারাবাই ৪৩ 


কারয়াছি; ধারয়াছ বক্ষে। পূর্ণ হয় 
আমার সকল বাঞ্চা, পারি যাঁদ তোরে 


বসাইতে সিংহাসনে । 
সঙ্গোর প্রবেশ 
সঙ্গ। পিতৃব্য এখানে ঃ 


সূর্যয। হাঁ এখানে। কি সংবাদ সঙ্গ? 


সঙ্গ। জয়মল! 
সূ্য্য। কি করেছে জয়মল ? 
সঙ্গ। আনিয়াছে ধার, 


সুন্দরী বালকা এক। পিতা বালিকার 
আসিয়াছে আভযোগ করিতে এক্ষণে 
রাজার সমীপে । তাত! জান ত পিতার 
কঠোরকর্তব্যপরায়ণ ধম্মনশীতি। 
রক্ষা কর জয়মলে। 

সূর্ধয। কি করিব আমি? 
উপযাস্ত শাস্তি হোক্‌। আম কি করিব? 

সঙ্গ। বুঝাও তারে! সে মটু অবোধ বালক। 

পৃথবী। অবোধ বালক জয়মল 2 চল, আঁম 
বিধান করিব যথাযোগ্য ব্যবহার, 


দোষীর। 
সূর্য। এই যে জয়মল-_ 
জয়মলের প্রবেশ 
পৃথবী। জয়মল! 


আনিয়াছ ধরিয়া কি বালিকায় 2 কহ 
সত্য। 


জয়মল। আনিয়াছ সত্য। 

পৃথবী। উত্তম এক্ষণে 
তাহারে 'ফিরায়ে দাও। | 

জয়। কেন দিব? তুমি 
কে আদেশ কারবার ? 

পৃথণী। আমি পৃথবীরাও, 
অগ্রজ তোমার । 

জয়। হোক, মান না তোমার 
প্রভৃত্ব। 


পৃথবী। _ উত্তর দাও, দিবে কি দিবে না? 
জয়। [সঙ্গকে। দাদা 

পৃথবী। দিবে কি দিবে না? [গলদেশ ধারণ ] 
সঞ্গা। পৃথবী, ছেড়ে দাও 
. জয়মলে। 

পৃথবী। তৃমি যাও। [জয়মলকে ] দিবে কি 


দবে না? 
জয়। 'দব। 
পৃথবী। চল সঙ্গে। দিতে হইবে এক্ষণে, 
আমার সাক্ষাতে । সঙ্গে চল এইক্ষণে। 
[পৃথবী ও জয়মলের প্রস্থান। 
সঙ্গ। কেন রূঢ় হও পঙবী ? জয়মল-_গ়, 
অবোধ নিব্বোধ। 


প্রস্থানোদ্যত 

সূ্যয। সঙ্গ! 

সঙ্গ। শ্পিতৃব্য। 

সূর্ধ্য। জানো কি, 
[হংসা করে জয়মল তোমারে ? 

সঙ্গ । হাঁজান। 

সূর্য্য। ঘৃণা করে 

সঙ্গ। এত দূর? কেন? 

সূ্য্য। | হেতু-তুঁমি 
জ্যেন্ঠ ভ্রাতা! 

সঙ্গ। হায় মূঢ় অবোধ বালক! 

[ প্রস্থান। 
সূ্ধ্য। মহৎ চাঁরত্র সঙ্গ তোমার !__তথাঁপ- 
যমুনার প্রবেশ 
যমূনা। পিতৃব্য! কোথায় মেজদাদা? জানো? 
সর্য্য। কেন 

যমুনা 2 
যমুনা। দোখব শুদ্ধ। 
সূ্যয। কি হেতু? 
যমুনা । জানি না। 
সূর্য । অদ্ভূত বালিকা বটে! চল সঙ্গে চল। 
['নিজ্কান্ত। 
দ্বিতীয় দৃশ্য 
স্থান- পথ । কাল- প্রাহু। 
বালকাঁদগের গীত 


এখনও তপন উঠেনি গগনপূরবভাগে; 

এখনও ধরণণ চেয়ে আছে পথ তাহার লাগিঃ। 

এখনও নশরব তিমির জড়িত 'নাবড় কুঞ্জ 

৮৮3৮১ 
শুধু আছে মেঘকুল, 
সন্ত 


অরুরণাকরণরাগে। 
ধরে ধীরে ওই উঠিল গগনে 'দিবসরাজ; 
ছড়ায়ে পাঁড়ল মাহমার ছটা ভুবন মাঝ: 


কুঞ্জ, 


88 'দ্বজেল্প্ু রচনাবলী 


অমাঁন উঠিল কাননে কাননে বহগ ছন্দ, 
অমনি ছনটিল কুঞ্জে কুজে কুসুম গন্ধ, 
ঢুালল চামর, শীতল সমীর পরশে 
ভুবন উঠিল জ্যাগ। 
[ প্রস্থান। 
কলসকক্ষে পাঁরচারিকাদ্বয়ের প্রবেশ 


১ পাঁরচাঁরকা। রাণা কাল ভারা ক্ষাপা 
হয়েছিলেন, শুন্লাম। 

২ পারচাঁরকা। তা ত হবেনই, তা ত 
হবেনই;_ তবে কার উপর গা? 

১ পারচারকা। তাঁর মেজো ছেলে পৃথবীর 
উপর। আবার কার উপর। 

২ পাঁরচারকা। তা ত হতেই পারেন 
বটে। তবে কেন ক্ষাপা হলেন? 

১ পারচাঁরকা। শুন, পৃথবী ছোট রাণীর 
গিইছল। 

২ পরিচারিকা। ওমা সাঁত্য নাক? তা ত 
কাটতে যেতেই পারে। তা ত কাটতে যেতেই 
পারে। তবে কেন গা? 

১ পাঁরিচারকা। এই ভায়ে ভায়ে বিবাদ। 
তার উপর, রাণার ছোট ছেলের উপর টান বেশী 
কনা! 

২ পাঁরচারিকা। হাঁ তাত হবেই ত। তা 
হবেই ত। সুয়োরাণশর ছেলে 'কিনা। তা আর 
হবে না? সতাযুশ থেকে এই রকমই ত হয়ে 
আসছে। এই যে, রাজা যুধিষ্ঠির মলে" তার 
রাণশর ছেলে বলরামকে বনে পাঠিয়োছল না 
তা আর হবে না? তবে তাই বলে” 'কি বিবাদ 
কর্তে আছে গা? 

১ পরিচারকা। মেজো ছেলে তা সইবে 
কেন? 

২. পাঁরচারকা। তা ত সাঁত্যই ভাই। সে 
সইবে কেন ? সে-ও ত ছেলে বটে, সে তা সইবে 
কেন ভাই ?--তবে কিন্ত এখন কি হবে? 

১ পারচারকা। রাশার যেমন মাঁজ্জ সেই 
রকমই কাজ হবে! 

২ পাঁরচাঁরকা। তাবৈ'ণক! তাবৈ 'ক। 
নৈলে কি আর আমার মাঁজ্জ মোতাবেক কাজ 
হবে! তবে কি না. বলছিলাম যে__ 

১ পাঁরচারকা। হয়ত বা রাণা মলে" ছোট 


ছেলেই রাণা হয়। 

২ পারচারকা। এত দূর! তার আর 
আশ্চার্য্য কি গা। তা ত হতেই পারে। তাত 
হতেই পারে। এই যে রামচন্দ্র মলে' তার ছোট 
ছেলে দূর্য্যোধনই ত রাজা হয়োছল। বিধাতা 
মনে কলে কিনা হয়? 

১ পাঁরচাঁরকা। বিধাতা নয় রে! বরং বল্‌ 
ছোটরাণী মনে কল্লে কি না হয়? 

২ পারচারকা। এঁ একই কথা। পুরুষের 
এ সয়োরাণীও যে আর 'বিধাতাও সেই। 

১ পারচারকা। তা বৈ কি? দেখ রাজা বড় 
রাণীর মেয়েটাকে ভাঁসয়ে 'ঈদলে গা! এক 
অপগন্ড জানোয়ারের হাতে সঁপে দিয়েছে। 
তাকে দেখলে গায়ে জবর আসে! 

২ পাঁরচারকা। তা ত আঙস্‌বারই কথা, তা 
ত আস্বারই কথা--বাঁল মেয়ে না কি শবশুর 
বাড়ী যাচ্ছে? 

১ পাঁরচাঁরকা। যাচ্ছে বৈ কি-মেয়ে কি 
বয়ে করে- বাপের বাড়ন থাকবার জন্য! *বশুর 
বাড যাবে বৈ 'কি। 

২ পাঁরচারকা।-তা ত যাবেই। তা ত 
যাবেই আহা খাসা মেয়ে! 

১ পারচারকা। রাজ-জামাতা তা'কে নিতে 
এসেছে, এখন না গেলে চলে? 

২ পারচারকা। ও মা! তা কি চলে? 

১ পাঁরচারকা। চল। আর একট; হেঞ্টে 
চল না। চলাঁছস যেন সমস্ত মাটি মাঁড়য়ে 
যাচ্ছস্‌। যেন গতর খাটিয়ে খেতে আঁসস্‌ নি। 

২ পাঁরচারকা। ও মাসে কিগো। তবে কি 
গায়ে ফু দিয়ে বোঁড়য়ে বেড়াতে এসোঁছি? 
তালে কি আর মনিব মাইনে দিত 23 মা 
বল কি গো? 

১ পাঁরচারিকা। চল্‌ চল্‌, এখন চল্‌। 

২ পারচারকা। এই চল না গা। ধমক 
ধমক দাও কেন? | নিক্কাল্ত। 


তৃতীয় দ্য 
স্থান আরাবলী পদপ্রান্ত গ্রাম। কাল-_ অপরাহু। 
শূরতান ও তাহার রাজ্ঞী। দূরে পাঠাঁনরতা তারা 


শূরতান। সংসারের লশলা খেলা; সৌভাগ্য- 


চণ্চলতা; নিয়াতচক্রের আবর্তন! 


তারাবাই ৪৫ 


আজ মহারাজ, কল্য ভিক্ষুক। প্রেয়সী! 
ইহা মাত্র প্রকৃতির খেয়াল! 

রাণন। খেয়াল 2 
জান না। ক্ষান্রয় নারী আম এই নীতি 
বাঁঝ না; আম ত জান, স্বীয় বাহুবলে 
গড়ে আপনার ভাগ্য, মনুষ্য 

শূর। প্রেয়সী ? 
গড়ে আপনার ভাগ্য! সাধ্য কি তাহার 
রোধতে িপক্ষগাতি 'বশ*বাঁনয়মের 2 
চতুর্দিকে, ঘটনার বিপুল প্রবল 
ঘোর আবর্তের মধ্যে, ক কাঁরবে একা 
মনুষোর ক্ষীণ বাহুবল ? 

রাণী। ক কারবে ? 
কারবে সংগ্রাম; ভীরু সোৌঁনকের মত 
নাহ পলাইবে কর্মক্ষেত্র হ'তে। 


শূর। যাঁদ 
পরাজত হয়? 
রাণী। মারবে বীরের মত। 


প্রোরত হয় না নর, বিশ্বে, তণসম 
ভাঁসয়া যাইতে, যে দিকে লইয়া যায় 
রঙ্গ; ভীরের মত যাইতে হইবে 
বাহয়া পক্ষে তার প্রয়োজন যাঁদ। 
শৃর। ধীরে, কিছু ধীরে, রাণী-যাঁদ তাই হয়, 
কেন তবে নল, রাজা্রস্ট পত্নীন্রষ্ট, 
রাজা খতুপর্ণের সারথী-_ 
রাণী । 


শূর। স্বেচ্ছায় নহে সে পরিয়ে দৈবেচ্ছায়_ 


কাঁল__ 
রাণ। কলি? আঁসয়াছিল কি কাল 'ছদ্ু 
ধবনা 2 

কে দয়াছল সে 'ছদ্? 
শর । কেন অনুযোগ 


কর পপ্রয়ে! কি দঙ্খ এখানে? রমাস্থান 


সন্দর। প্রচ্ধর শস্য। অনন্ত আরাম। 
রাণী। 'পঞ্জর স্বার্ণর যাঁদ হয় প্রিয়তম ! 
, তথাপি পিঞ্চর তাহা। স্বেচ্ছায় মানুষ 

হয় বনবাসী। কল্তু পরের আজ্জায়, 


প্রাসাদে 'নবাস হয় ন্যকারজনক ? 
শুর। প্রেয়সী একটু তুমি আঁধক মাত্রায় 
অসংস্কৃত বাক্য আজ কারছ প্রয়োগ; 
তাহা যে স্বামণর প্রাতি সম্মানসূচক, 
বালয়া হয় না বোধ। শাস্তে আছে বটে, 
ষাঁধান্ঠর রাজ্যচ্যুত যবে বনবাসী,_ 
দ্রৌপদী এরৃপ ভাষা পাণ্ডবের প্রাতি 
কারয়াছলেন উচ্চারণ! ভগবতাী 
_-এরপ প্রবাদ আছে, একদা এহেন 
কারয়াছিলেন দ্বন্দ ভৈরবের সনে। 
তথাঁপ স্বীকার্যয ইহা 'প্রয়তমে! সতী 
হন্দূরমণর মুখে এরুপ ভাষা 
শোভা নাহ পায়। 
রাণশী। স্বামী! শোভা পায় বটে 
ক্ষা্তয়ের যুদ্ধক্ষেত্র হ'তে পলায়ন! 
-নিযু্ত পুরষজাত, বপান পারতে 
নিয়ত, স্বামীর প্রাত করবা নারীর ;-- 
আপনার কর্তব্যপালনে উদান। 
হায় স্বামী! যাঁদ তুমি যুদ্ধন্মেত্র হাতে 
নাহ পলাইতে, হেয় কাপুরুষ সম; 
যাঁদ ক্ষান্তুয়ের মত মরিতে সমরে; 
ক্ষত্রিয় নারীর মত, দৌখতে, উল্লাসে 
যাইতাম আম সহমরণে;_ 
শূর। প্রেয়াস! 
আম যাঁদ মারতাম সমরে, 'কির্‌পে 
দেখিতাম, তাহা ঠিক বাঁঝতে না পাঁর। 
এ য্বান্তর ভ্রমটকু ছাড়িয়া দলেও, 
আমার মৃত্যুর প"রে. মানলাম যাঁদ, 
যাইতে সহমরণে তুম, কিন্তু পপ্রিয়ে 
তাহাতে আমার লাভ? আম ত 'নাশ্চত 
যেই মরিলাম, সেই মারলাম-_ 
রাণশী। ধিক! 
ক্ষল্রের মারতে ভয় সমরে 2 হা ধিক! 
শূর। শোন অন্য যাল্ত, প্রিয়তমে! যুদ্ধে যাঁদ 
মার বীর, সে নিশ্চিত মরে; যৃম্ধ আর 
করে না সে। কিল্ত যাঁদ পলায়, কদাি 
পুনঃ যুদ্ধ করিলেও করিতে পারে সে। 
রাণশ। বৃথা যান্ত। ভশর্তার শত হাল্ত 
আছে। 
প্রকত বীরত্ব তর্ক করে না কদাশিম্” 
জয়লাভ করে কিম্বা ময়ে | হায় যদ 
এ গর্ভে জাল্মত পুন, কন্যা না জাম্ময়া-_ 


৪৬ দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


শূর। সে বিষয়ে একট.কু হয়োছল ভ্রম, 
কাহার জান না! তবে পুত্র হইলেও, 
সে যে নাহি পলাইত, তাহার প্রমাণ ? 
রাণী। জল্মে না সিংহীর গর্ভে শৃগাল- 
শাবক-_ 
শূর। সিংহীর বিবাহ যাঁদ হয় প্রিয়তমে, 
শৃগালের সঙ্গে-তাহা হইতেও পারে। 
রাণী। করিতে চাহ না চচ্চা এ বিষয়ে প্রভু। 
[প্রস্থান। 
শূর। প্রেয়সীর' মেজাজটা নবনীর মত 
অদ্য সুকোমল নহে, তাহা সৃনিশ্চত। 
_হা বাধ! যখন তৃমি গড়েশছিলে নারী, 
কি দিয়া যে গড়েছিলে বাঁলতে না পাঁর। 
[ প্রস্থান । 


তারা। ধক আম ডি কেন হই 
নাই 


পূত্র? ধিক নারী-জল্ম!- তাহাই বা কেন? 
1কসে হীন নারীজাতি 2 এই নারণীকুলে 
জন্মে নাই দময়ন্তী, স্‌ভদ্রা, সাবন্রী- 
জনা, খনা, লশলাবতী, প্রমীলা রুপসী 2 
সে হন নারীজাতি ? নাহ হস্তপদ ? 
হৃদয়, মস্তিদ্ক নাই ? শান্ত, বল, তেজ, 
শশক্ষায় অবশ্য সাধ্য সকলি। দোখব 
ক করিতে পাঁর আমি। এ মৃণাল বাহু 
কারব লৌহের মত কঠিন। ধারব 
শাণিত কৃপাণ তাহে। দেখ পারি কি না। 
ক্ষুব্ধ হইও না মাতা। উজ্জল কারিব 
শনব্্বাণ গারমা আমি! আমি উদ্ধারব 
অপহৃত রাজ্য। দোখ 'ক কারতে পাঁর। 
ক্ষাত্িয়ললনা আমি।_ পূত্র হই নাই; 

[ প্রস্থান। 


চতুর্থ দৃশ্য 


স্থান-বন, দূরে মান্দির। কাল- মধ্যাহ। 
সশস্ত সঙ্গ, পৃথবী, ও জয়মল মৃগয়া হইতে 
ফিরিতেছিলেন 


পৃথবী। পথ ভুলান তঃ 

সঞ্গ। না। এ পথ আম জান। 

জদণ তুমি আগে এ পথে এইছিলে 
নাক? 

সঙ্জা। অনেকবার। 


জয়। কবে? 

সঙ্গ। পরশুই এইছিলাম। 

পৃথবী। কেন; এখেনে কেন? কি 
খুজতে 2 

সঙ্গ। 'নিজনতা-_ 


পৃথবী। নিজনতা-সে ত বাঁড়তেই 
পাওয়া যায়। চোখ বদজলেই নিজনিতা। 

সঙ্গ। আর নিস্তব্ধতা । 

পৃথবী। কাণে আঙুল দিলেই হোল! 


গাহতে গাঁহতে চারণীর প্রবেশ 


সঙ্গ। একে? 
পৃথবী। তাই ত! জটাইবুড়ী নাকি! 
চারণীর গত 
_সম্মুখে সেই পশ্চাতে সেই অসীম তিমির রাশি। 


স্ফুঁলঙগসম এ আঁধারে মোরা 
কোথা হ'তে ছুটে আসি। 


মহাসমূদ্রু আঘাতে ক্ষুদ্র তরণণী ভায়া যায়, 

নভে যায় ক্ষীণ নক্ষত্রও 'দগন্ত নীলমায়। 

জয়। আবার গান গায়। 

পৃথবীঁ। তাই ত! গানটার 'কল্তু কোন 
অর্থই বোঝা গেল না। 

সঙ্গ। অদ্ভূত! এই নিন বনভূমিতে 
একাকিনণ। 

জয়। কে তুই? 

পৃথবী। হাঁ, ঠিক কে তুই? 

সঙ্গ। কে তুম মাঃ 

চারণী। আম বনচারণশ তাপসশ। 

পৃথদী। তাপসী? তা কখন হ'তে পারে ? 

চারণী। কেন হতে পারে না বাছা? 

পৃথবী। তা-ও ত বটে।- কেন হ'তে পারে 
না তা ত বোঝা যাচ্ছে না। 

জয়। না না এরা সব চোর.--দিনে তাপসণ 
সেজে বেডায়, রান্রে চুরি করে। 

পথবী। ঠিক! বেটী নিশ্চয় চোর। ধদনে 
তাপসশ সেজে বেড়ায়। 


তারাবাই 5৭ 


চারণী। এ রকম তাপসী চোর কটা 
দেখেছ বাছা ? 

পৃথবী। তা-ও ত বটে-এ রকম তাপসী 
চোর ত কখন দোখাঁছ ব'লে মনে হচ্ছে না। 
জয়। তবে এ ভাঁখাঁর। 
পৃথহী। "ভাখার বটে! আমই তাই 
ভাবৃছিলাম। ভিখার। নিশ্চয় 'ভাখার। 

চারণণী। ভাখাঁর [ক কর্তে বনে থাকবে 
বল না বাছা? 

পথবী। তা-ও ত বটে, বনে ভিক্ষাই বা 
দেবে কে? তবে তুমি কে সেইটে খুলে বল না 
ছাই! | 


চারণী। আমি চারণী। 
সঙ্গ। আপাঁন চারণী2 এখানে গক 
আপনার আশ্রম ? 


চাবণী। এখানে নয়। তবে বেশী দূরও 
নয়। নিকটেই আমার মায়ের মন্দির । 

সঙ্গ। হাঁ! 'িপতৃব্যের কাছে 
আপনার কথা শুনেছিলাম বটে। 

জয়। ও তাই ত বটে! আপাঁন হাত 
দেখতে জানেন না? 

চারণী। [সহাস্যো কিছু কিছ. জানি। 

পৃথলী। ভবিষ্যৎ গুনতে পারেন না কি? 
আচ্ছা, বলুন দোঁখ, আমাদের 'তিন জনের মধ্যে 
কে মেবারের রাজা হবে? 

চারণ । [ক্ষাঁণক নিস্তব্ধ থাকিয়া] সঞ্গ 
মেবারের রাজা হবে। 


[ উত্ত গণতের প্রথম চরণ গাইতে গাইতে চারণনর 
প্রস্থান। 


একাঁদন 


পৃথবী। মিথ্যা কথা! ভন্ড! 

জয়। কল্তু নাম জানলে কেমন করে? 

পৃথবী। তা-ও ত বটে! তবে ত ব'লেছে 
ঠিক বোধ হচ্ছে! 

সঙ্গ। [চাঁল্ততভাবে | তাই ত! চল বাড়ী 
চল। বেলা হ'ল। 

পৃথবী। [স্বগত] আমি বিশ্বাস করি না 
যে মানুষ ভবিষ্যৎ বলতে পারে। যাঁদ পার্ত 
তা হ'লে ভাঁবষ্যৎ খণ্ডনীয় হ'ত; আর 
ভাবষ্যংবাদ খশ্ডনয় হয়, যাঁদ তা হ'তেও পারে 
নাও হ'তে পারে, তবে তা আগে থেকে বলবে 
কেরন করে'*-_ প্রহেলিকা -_ প্রহেলিকা __ সব 
প্রহোলকা। 


পন্থম দৃশ্য 
স্থান সূযতমলের গৃহের অন্তঃপুর। কাল-প্রাহু। 
সূর্যমল একাকা। 

সূর্ধয। তথাপি বাজছে কর্ণে সেই এক কথ্য 
_প্রহোলকাপূর্ণ সেই ভাঁবষ্যদ্বাণী-_ 
আম পাব রাজাভাগ। 'নভাইতে চাঁহ 
এই দহঃসাহসা ইচ্ছা; কৌশলে 
ইন্ধন যোগায় পত্রী তমসা সতত, 
মল্থরার মত।-না না, ইহা অসম্ভব! 
কাঁরব না হেন পাপ। বৃদ্ধ রায়মল,_ 
স্নেহশীল. বিশ্রব্ধ উদার; সেনাপাঁত 
আমি তাঁর;হইব না বিশ্বাসঘাতক । 

নেপথ্যে অলগ্কারধ্বান 

আসছে যমুনা । আজ যাইবে এক্ষণে 
পাতগৃহে; আসতেছে 'বদায় লইতে। 


যমননার প্রবেশ 
যমুনা। িতৃব্য! এখানে 2 আম আসয়াছি, 
তাত! 'ীবদায় লইতে। 
সূ্যয। যাইতেছ এক্ষণেই ? 


যমুনা । এইক্ষণে যাইতেছি। কর আশাব্বাদ। 


সূয্য যাও মা স্বামীর ঘরে; পাঁতব্রতা হও 


গুরূজনসেবাপরায়ণা হও সদা; 
পাঁরজনাঁপ্রয় হও,_কাঁদও না বংসে! 

যমূনা। কাদব না। 'পতৃব্য! জান না কেন 

4 কাঁদি। 

চিরকাল আমি দুস্ট। 'পতৃব্য তোমারে 
কারয়াছি কত ত্যন্ত কারও মার্জনা । 

সূর্য্য। যমুনা আমার কন্যা নাই! আশৈশব 
করেছি পালন তোরে স্বীয় কন্যা সম। 
আজ হ'তে কন্যাস্নেহসম্পদে, যমনা, 
বণ্চিত 'িতৃব্য তোর ।-বংসে! প্রাণাধিকে 
যাও পাঁতগৃহে তবে, আজ শুভাঁদনে 
সুলগ্নে। জানিশ বংসে, স্বামীর ভবন 
নারীর আপন বাটা, পর পিতৃগৃহ! 
যাও মা আপন গৃহে যেমন পাব্বতাী 
গবজয়া দশমশ দিনে যান মা কৈলাসে +_ 
আশীব্্বাদ কার, পাঁতসোহাগে গৌরবে 
গরাঁবণী হও। পাত যাঁদ রূঢ় কহে 
হইও 'প্রিয়ভাষিণশ; হয় যাঁদ রূঢ় »» 
সাহও নশরবে।--পাঁত জাঁনও সতখর 
সর্বস্ব, পরমাগাঁতি জীবনে মরণে। 


৪৮ দবজেন্দ্ু রচনারলী 


যমুনা । পিতৃব্য প্রণাম হই। 


সর্য্য। আয়ুদ্মতী হও। 
| যমননার প্রস্থান । 
সূর্ধয। | পদচারণ সহ] সোনার প্রাতমা এই 
_-দিয়াছেন ভাই- 


সশপয়া চণ্ডাল করে; এই মুস্তাহার 
পরায়ে বানরগলে '-হায় প্রভুরাও-_ 
বাঁঝাঁতিস যাঁদ মূল্য এ রত্বের; তারে 
রাখাঁতস্‌ শিরে. নাহ দালাতস পদে। 
[দূরে শিবিকাবাহকদিগের ধহনি ] 

ওই যায় শাঁবকায় জনন আমার; 
কোথায় চালিয়া যাস নিষ্ঠুর বালিকা 


ছাড়িয়া [পতৃব্যে তোর। 
তমসার প্রবেশ 
তমসা। গিয়াছে যমূনা! 


সূর্য্য। গিয়াছে চালয়া 'দবা, গৃহ অন্ধকার। 
সূ্য্য। কা'র জন্য নিত্য বাগ্র হও ১ অশ্রুজল 
নিয়ত বর্ষণ কর? পরের কারণ 
সতত ব্যাকুল! বুঝ না তোমার রশীতি। 
সূর্য্য । বাঁঝবে কি তুমি? হায়! তাহার 


রক্তের সম্বন্ধ নাই: কর নাই তা'রে 
পালন, ধরিয়া ক্রোড়ে। 


দূরে সঙ্গের দ্ুতবেগে প্রবেশ 


তমসা। সঙ্গ কোথা যাও 2 
সঙ্গ। বৈদ্য অন্বেষণে 

তমস্য। কেন 2 

সঙ্গ। পীঁড়ত মাচ্ছত পিতা 


সূর্যা। মৃচ্ছিত? কিরূপ ? 
সঙ্গ। কাঁহতোঁছ: আগে ডাকি বৈদ্যে। 


[প্রস্থান। 
সর্য্য। যাই দোখ। 
[প্রস্থান। 
তমসা। এই যাঁদ সেই মূচ্ছগা, নাহ ভাঙে 
যাহা 
সারঙ্গদেবের প্রবেশ 
সায়.গ। মা ডাকাইয়াছিলে ? 
তমসা। কে? সারা ? হাঁ আম 


ডাকাইয়াছিলেন তোমারে । 


সারঙ্গ। প্রয়োজন 2 

তমসা। আছে প্রয়োজন, গুরুতর প্রয়োজন । 
সারঙ্গ, বালব; "স্থির হও। কিন্তু তার 
পূর্রে হও প্রীতশ্রুত, কারবে পালন 
আদেশ আমার। 

সারঙ্গ। প্রাতিজ্ঞার প্রয়োজন ? 
জানো না কি আজ্জাবহ সারঙ্গ নিয়ত 
তোমার চরণে । 

তমসা। জান। তথাঁপ সারঙ্গ! 
প্রাতশ্রাত হও।-অতি কঠিন আদেশ। 1 

সারঙ্গ। প্রাতিশ্রুত হইবার পূর্রে শুন তবে 
[ক আদেশ! 

তমসা। নহিলে শপথ কারবে না? 
মনে আছে- সেহীদন, প্রভাতে একাকী 
গম্ভীরসৈকতে তুমি, ক্ষুধায় কাতর, 
[ছন্নবস্ত্র, শীতার্ত, চাহয়াছিলে ভিক্ষা 
আমার নিকটে 2 


সারঙ্গ। মনে আছে। 

তমসা। মনে আছে-_ 
তোমারে আদরে আম চিতোরে আনিয়া 
কার সৈনাভুস্ত ? 

সারঙগ। মনে আছে। 

তমসা। তাই আজি 


পণ্চশত পদাতির সেনাপাত তৃমি। 
সারঙ্গ। সত্য, রক্ষাকত্র্ণ তুমি. মানি মাতা! 
তমসা। তবে 
প্রাতশ্রাত হও, যাহা আদেশ কারব, 
কারবে পালন, কোন প্রশ্ন না করিয়া। 
সারঙ্গ। হইলাম প্রতিশ্রুত 
তমসা। অনুবত্তাঁ হও। [নিক্কান্ত। 


হধ্ঠ দৃশ্য 
স্থান_িরোহী-রাজ্য। প্রভুরাওর বলাস-গৃহ। 
কাল-রান্তি। 
পাঁরষদবর্গ সাহত প্রভুরাও 


পারষদবর্গের গীত 


আমরা__ভাঙ খেয়ে হ'য়ে আছি চূর। 

যাচ্ছি চলে'_সশরণরে যাচ্ছি চলে' মধৃপৃর। 
শুনছি বসে নিশাঁদন, কাণের কাছে বাজছে বীখ; 
খাচ্ছে যত অব্্বাচীন--এ গাঁজা গাল চরস'; 
সস্তা হোক না, তার চেয়ে ভাঙ _লক্ষগৃণে সরস; 
নেশার রাজা 'সাম্ধ, যেমন মণির মধ্যে কোহনৃ্র; 


তারাবাই 





[লখে গেছেন পুরাণকর্তা 

“্বয়ং; ভোলা খেতেন ভাঙ;” 
খেতেন তা, হয় ভোলা, 

কিম্বা পুরাণকর্তাই. সৃতরাং; 
জানে শুদ্ধ সিদ্ধিঘোর, জেগে জেগে ঘুমের ঘোর ; 
বেশী খেলেই নেশায় ভোর;__ 

আর অল্প খেলেই তাহা-_ 
আর কি-বসে' হাস্য কর 

_হাঃ হা হাহা হাহাঁ 
হোক না কেন, ফাঁকির, 

ভাবে 'আম রাজা বাহাদুর ।" 


প্রভু । দেখ 

পারষদবর্গ। দেখ দেখ 

প্রভু। আমি প্রভুরাও_ 

পারষদবর্গ। [ নিজীবিভাবে] ইনি প্রভু- 
রাও 

প্রভু। 'সরোহণীর রাজা_ 

পাঁরষদবর্গ। [তদ্রুপ] 

প্রভু। এই যথেস্ট। 

পারষদবর্গ। [তদ্রুপ] আবার চাও কি? 

প্রভৃ। তবে লোকে বলে কেন? 

পাঁরষদবর্গ। [তদ্রুপ] ঠিক্‌। 

প্রভৃ। বলে কেন যে “আমি কে? না রায়- 
_ মলের জামাই” ।-বলে কেন? 

পারিষদবর্গ। [তদ্রুপ] বলে কেন? 

প্রভূ। বব্রং বলা উঁচত যে, “রায়মল কে? 
না প্রভুরাওর *বশুর 1” 

পারিষদবর্গ। [তদ্রুপ] প্রভুরাওর *বশুর। 

প্রভু।_দেখ সব পারিষদবর্গ! তোমরা সব 
বেজায় কুড়ে হয়ে? যাচ্ছ! খোসামোদ করবে 
তা'ও উৎসাহের সঙ্গে কর্তে পারো নাঃ না, 
আম যা বলছি, কুড়ের মত শুধু তাই "ইতি, 
করে' যাচ্ছ ।- ইতে আরাম হয় না। 

পারিষদবর্গ। ঠিক্‌! ইতে আরাম হয় না! 

প্রভু। দেখ, আমি এবার যে বিবাহ করোছি 
সে একেবারে চূড়োন্ত বাবা। 

পাঁরিষদবর্গ। [কতকটা উৎসাহের সাহত] 
ট.ড়োন্ত বাবা, একেবারে চূড়োল্ত! 

প্রভু । স্মন্দরী- একেবারে সাক্ষাৎ উব্বশশী, 
কেবল নাচে না, এই যা! 
। পারিষদবর্গ। [তদ্রুপ] 
শাচে না এই যা-_ 

প্রভূ। আবার আমি বলছি যে ফের যাঁদ 

৪ 


হাঁ 


হাঁ এই যা। 


৪৯ 

তা" হলে" পোষাবে না!-মনে রেখো! 

পারিষদবর্গ। [উৎসাহে] মনে রেখো ।- 
পোষাবে না। মনে রেখো। 

প্রভু ।_ মেয়েটা একেবারে সাক্ষাৎ 'িদ্যাধরী 
-সাক্ষাং!__ 
পারষদবর্গ_কেহ বালল “সাক্ষাং” কেহ চুমকুঁড় 

দল, কেহ বা অঞ্গভগ্গী কারল 

প্রভু। ঢের ঢের মেয়েমানুষ দেখলাম-_ 
কিন্তু আমার যমুনা একেবারে 

পারিষন্ববর্গ অঞ্গভঙ্গী ইত্যাঁদ দ্বারা উৎকর্ষ 

প্রকাশ করিল 

প্রভু। দেখতে-ক রকম জানো 2-যেন- 
যেন না দেখলে ঠিক বোঝা যায় না। 

পারষদবর্গ। তা ঠিক! না দেখলে বোঝা 
যায় না। 

প্রভু । দেখবে । আচ্ছা তোমাদের দেখাচ্ছি। 
--এই প্রহরী! 

পারিষদবর্গ। প্রহরী! প্রহরশী! 

প্রহরীদ্বয়। [প্রবেশ করিয়া) মহারাজ! 

প্রভৃ। এক্ষণেই আমার রাণীকে এখানে 
ধনয়ে আয়।- হাঁ করে" দাঁড়িয়ে রইলি যে! 
যা! 

১ পারষদ। [মহা উৎসহে] যানাবেটা! 

প্রহরী । এখেনে মহারাজ ? 

প্রভু। এখেনে বৈ কি! নইলে 'ক সেখেনে ! 

২ পারিষদ। [তদুপ]- নইলে কি 
সেখেনে 2 হও 

প্রভু । বল্‌ রাজার হুকুম! 

৩ পাঁরষদ। [তদ্রুপ] হাঁ হুকুম! 

[ প্রহরীদ্বয়ের সবিস্ময়ে প্রস্থান! 
প্রভূ। মেয়েটা কিন্তু আমার ভারি বাধ্য। 
পারিষদবর্গ। বেজায়! 
প্রভু। যেন-[-অনেক ভাবিয়া] একেবারে 

যেন কুকুর! 
পাঁরষদবর্গ। হাঁ ঠিক যেন কুকুর! 
প্রভু। আবার! দেখ, এ রকম কাল্লে 
পোষাবে না বলছি। পোষাবে না। 
পাঁরষদবর্গ। না না না। পোষাবে না 
বলাছ_ 
বৃ্ধা দাসীর সহত যমুনার প্রবেশ 
প্রভু । বমদনা এসেছো? 


&০ [দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


যমুনা। আমায় এখানে নিয়ে এলে কেন ? 

বৃন্ধা। ওমা! সাঁত্যই ত! আমাদের এখেনে 
নিয়ে এল কেন? বাল, ও দারোগা বাঁল-_ 
3 

প্রভু। তুই বুড়ী যা! 

১ পাঁরষদ। হাঁ তুমি যাও বৃদ্ধে_ 

বৃদ্ধা। কেন? আম যাবো কেন? 

২ পারষদ। এ সভায় তাম কোন কাজে 
লাগবে না বৃদ্ধে। 

৩ পারষদ। হাঁ বৃদ্ধে। বৃদ্ধস্য বচনং 
গ্রাহামাপংকাল হপাঁস্থত বটে। কিন্তু সর্ব 
ন্ৈব এ রকম বিচারে তু চলবে না ত বাবা! 

প্রভু। মুখের ঘোমটা খোল ত সোনার 
চাঁদ!-_[স্বহস্তে যমুনার অবগণ্ঠন উল্মোচন ] 
বাল, দেখছো চেহারা খানা 2 যমুনা! 
প্রাণেশবরি! একবার আমার পাশে দাঁড়াও ত 
সোনার চাঁদ! একবার এরা সব দেখুক যে কি 
রকম মানায়। 

বনদ্ধা। এরা কারা ? 

প্রভূ। এরা যারাই হোক, তোর কি 2 বেরো 
এখেন থেকে। 

পারিষদবর্গ। [ সঙ্গে সঞ্চে ] বেরো বেট । 

যমূনা। আমাকে এখেন থেকে নিয়ে চল! 

বদ্ধা। সাঁত্যই ত! এখেনে নিয়ে এল 
কেন? বাল ও- পোড়ারমুখো-[ প্রহরাঁকে 
ধাক্কা দিল] 

প্রহরশ। আঃ ধাক্কা দাও কেন? 

প্রভু। যমুনা! একবার আমার পাশে এক- 
বার দাঁড়াও না।-_তা নৈলে যেতে দেবো না। 

বদ্ধা। আচ্ছা একবার বাঁয়ে দাঁড়া বাছা! 
নৈলে ত ছাড়বে না! 

যমুনা বৃদ্ধার বাক্যবৎ প্রভূরাওর বাম পার্ট 


প্রড়ু। [পাঁরিষদবর্গকে] কেমন মাঁনয়েছে 
বল না! 
পারিষদবর্গ। বাহবা কি মানিয়েছে 
গাশিত 
(আহা কিবা মানিয়েছে রে-_ওহো কিবা মানিয়েছে ।) 
১ 


যেন মেঘের কোলে ইন্দ্রধনু, 
যেন কৃফের পাশে বলরাম; 
(জের কুঞ্জবনে) 


যেন নাচের সঙ্গে তবলার চাঁট; 
আর টপ্পার সুরে হরিনাম। 
(বাহবা রে বাহবা) 
২ 
যেন কপির সঞ্গে মটর সটী 
যেন ক্ষণরের সঙ্গে পাকা আম; 
(বৈশাখ চৈত্র মাসে) 
যেন মুড়র সঙ্গে পাঁপর ভাজা, 
আর মদের সঙ্গে 
(বাহবা রে বাহবা) 
৩ 
যেন জবরের সঙ্গে িসৃচিকা, 
যেন গোপীর সঙ্গো ব্রজধাম) 
টি (ও সেই দ্বাপরযুগে) 
যেন 'বয়ের সঙ্গে রসন চোঁক, 
আর মরণকালে হারনাম। 
(বাহবা রে বাহবা) 
। গাইতে গাইতে 'নিজ্কাল্ত। 
| সর্বাগ্রে প্রভুরাও, যমুনা ও বৃদ্ধা; তৎপশ্চাতে 
পারিষদবর্গ গাইতে গাইতে 'নিক্কান্ত। 


সপ্তম দৃশ্য 

স্থান অন্তঃপুরগৃহ। কাল-দ্বিপ্রহর রান্ন। 

শয্যায় শয়ান-_রাণা। পারবে বাঁসয়া--সঞঙ্গ, পৃথবী 

ও জয়মল 

রায়। কত রান সঙ্গ? 

সঙ্গ। রান্রি !দ্বতীয় প্রহর। 

রায়। তবু তিনজনে বসে আছ! এত রান! 
ঘুমাওগে; যাও পথবী, যাও জয়মল, 
ঘুমাও গে, কত আর র'বে রান জাগি।' 
তোমরা সবাই সম 'পতৃভন্ত, জান। 
সঙ্গ বসে থাক; যবে আঁতি ক্রাল্ত তুমি, 
পাঠায়ো, পৃথবীরে, কিম্বা জয়মলে | 


ও কি! 
তব বসে' 2. 
পৃথবী। 'পতৃদেব। শ্রান্ত নাহ আঁম। 
জয়। জীর্ণ রূশ্ন শষ্যাগত িতৃদেবে ছাঁড়' 
আসে কি নয়নে নিদ্রা? 
রায়। ধন্য পিতৃভান্ত! 
শূরতান বলত যে “বিশ্বে দয়া মায়া 
ণকছ্‌ নাই। সবধূর্তনিজ কার্ষ্ে ফিরে।” 
বাঁঝয়াছ শূরতান 'মধ্যা বলোছিল। 
জয়মল-_জল, [ জলপান ] বাড়ে শীত! 
বাড়ে শশত! 


তারাবাই ৫১ 





এক জবর! ডাক বৈদ্যে সঞ্গ!- না না থাক। 
কাজ নাই ওষধে। গুষধে-কাজ নাই।-_ 
ওঁষধে সারায় ব্যাধি 2 খাব না ওষধ! 
খাব না ওষধ! এ কি দাহ! এঁক জবালা! 
পৃথবী_জল;--সত্গ! না না থাক-_না না 
থাক 
_ চক্ষে নিদ্রা আসে । অবসন্ন হয় দেহ! 
এ কি মৃত্যু'-এত স্নিগ্ধ! এত সুমধুর! 
এ যে বিষাদের মত আলঙ্গন করে। 
এই তপ্ত দেহ।-ঘুম আসে। [নিদ্া] 
পৃথবী। [বহুক্ষণ নিস্তব্ধ থাঁকয়া ] জয়মল! 
মহানিদ্রাগত বুঝ পিতা । দেখ দৌখ! 
সঙ্গ। ডাঁকিব ক বৈদ্যে 2 


জয়। না না কাজ নাই। আমি 
জানি কিছু নাড়ী বিদ্যা। 

৪৬ দেখ দোঁখ নাড়ী। 

জয়। [নাড়শ দৌঁখয়া] সত্য, পৃথবী, নাড়ী 

নাই। 

পৃথবা। বালয়াছ ঠিক! 

জয়। এযে অঙ্গ শলাসম-_হিম;-মত্যু বটে। 

সঙ্গ। 'নঃ*বাস বাঁহছে ? 

জয়। কোথা নিঃ*বাস বাহছে 2 
সব স্তথ্ধ। 

পৃথবী। কি করিবে? 

জয়। বাঁঝব কি তবে। 
রাণা সঙ্গ ? 

পথবী। সেই রাণা যার তরবারি 


সমধিক শান্ত ধরে। হোক সপ্রমাণ_ 
তাহা এইক্ষণে ।-_সঙ্গ! লও তরবার। 
সঙ্গ। পৃথবী! ক্ষিপ্ত হইয়াছ? 
প্থবা _লও তরবারি 
-হোক স্থির এক্ষণে, কে মেবারের রাণা। 
সঙ্গ। আম রাজ্য চাহিনাক। 
পথবা। রাজ্য চাহোনাক! 
শুনিতে চাহ না স্তোকবাক্য।-মথ্যা কথা! 
রাজ্য চাহোনাক বটে? লও তরবারি । 
সঙ্গ। পৃথবাঁ। সত্য বলতেছি, রাজ্য চাহিনাক। 
তাঁম ভোগ কর রাজ্য, কিম্বা জয়মল | 
পখবী। নে নাই চারশ ভাবিষ্যৎ বাণশ?-_ 
“সঙ্গ মেবারের রাপা!”- আম বাঁলয়াছ 
“রাজা হবে পৃথনীরাও”।-_পরণক্ষা করিব 
দৈববাণী বড় দকিম্বা বাহুবল বড়। 


পপ আপ পপ পা ৭ সাপ পা পপি পলাশী 


-লও তরবারি! আজ হবে এই ভূঁম 
তব রন্তে কিম্বা মম রন্তে বিরাঞজজত। 
সগ্গ। ক? পিতার মৃতদেহ উপরে কারব 
যুদ্ধ ভূমিখণ্ড জন্য 2 ক্ষান্ত হও ভাই! 
চাঁহনাক রাজ্য। পৃথবী! এ রাজ্য তোমার! 
কার এ শপথ, আম রাজ্য চাঁহনাক। 

পৃথবী। শুনিতে চাহ না কথা; খোল 
তরবারি। 
পৃথবী তরবাঁর লইয়া সঙ্গকে আক্মণ 
কাঁরলেন, সঙ্গ তরবাঁর খাঁলয়া আত্মরক্ষা 
কাঁরতে লাগলেন 


৷ সঙ্গ। ক্ষান্ত হও পৃথনী।_আমি কার 


অনুরোধ । 
পৃথবী। হা ভীরু! মারতে এত ভয়! এত ভয়! 
সবারই ত একাঁদন আছে ।- এত ভয়! 
যুদ্ধ কর- রক্ষা নাই। [ পুনরাক্রমণ ] 
সঙ্গ। [চক্ষে আহত । ক্ষান্ত হও, আম 
বিষম আহত 


পথবী যুদ্ধ কর, যুদ্ধ কর; 
ছাঁড়ব না জশীবত তোমারে। 
উভয়ের যুদ্ধ 
সূর্যামলের প্রবেশ 
সূর্ধ্য। এক! এক! 


ভ্রাতৃদ্বন্দব রুগ্নাঁপতৃশয়নমান্দিরে !!! 
ক্ষান্ত হও পৃথবী! [উভয়ে ক্ষান্ত হইলেন ] 


পৃথবী। ওকি_ উঠিয়া বসেছে 
শব। 
রায়। শব নাহ। এখনও মার নাই। 


এর মধ্যে শৃগাল ক শকুনির মত 
শব নিয়ে, কাড়াকাড়ি 2-পতৃভান্ত বটে! 
এ কি দূঃস্ব্ন না সত্য! পৃথ্বণ! জয়মল ! 
সঙ্গ! এক! এত শীঘ্র 2 মূহূর্ত বিলম্ব 
সাঁহল না জনকের কাঁরতে সৎকার? 
সামান্য দারিদ্র হান মূর্খ কৃষকের 
এর চেয়ে শীলতার জ্ঞান আছে।-ধিক! 
[ দীর্ঘশ্বাস সহ]_পিতা সব মূর্খ । 
সমস্ত জশবন ধার' 
অনশনে আনিদ্রায়, সদা লালায়ত 
সন্তানের সুখ হেতু, চেয়েও দেখে না 
সল্তান পিতার প্রাত, দুঃখে কি বিপদে; 
করে ব্যয় সুখে, যাহা দীর্ঘ অনশনে 


২ দিবজেন্দ্র রচনাবলী 





আনিদ্রায়, করে পতা সপ্চয়!_হা ধিক ' 
জয়মল! পৃথবী' সঙ্গ' একি 
জয়। কার নাই 
দ্বন্দ আম, পিতা 
রায়। সত্য কথা! সত্য কথা! 
তুম দ্বন্দ কর নাই । কিন্তু প্‌থবী!- তুমি ' 
পৃথবী। অপরাধ কারয়াছ, পিতা ক্ষমা কর! 
রায়। অপরাধ কাঁবঝয়াছ শুদ্ধ 2 গুরুতর 
অপরাধ; বুঝ নাই, কত গুরুতর । 
পৃথদী। বুঁঝয়াঁছ। 1পতা, ধার চরণে তোমার । 
চাহ এ মার্জনাভিক্ষা অনুতপ্ত আঁম। 
রায়। এইরূপ চিরাদন ব্যবহার তব। 
সোঁদন উচায়োছলে আস, শাানয়াছ, 
জয়মল বিপক্ষে । প্রাসাদে কারয়াছ 
দসহার গহব্র; তব রন্চ আচরণে । 
নব্্বাঁসত কাঁরলাম তোমারে এক্ষণে 
মেবারের রাজ্য হ'তে ।--ষথা ইচ্ছা যাও। 
কর রাজ্য সংস্থাঁপত নিজ আসবলে। 
চলে যাও রাজা ছাড়। 
সূ্য্য। শুন মহারাজ 1 
রায়। স্তব্ধ হও সূর্যমল ' অনম্য কাঠন-- 
চরাদন। পৃথবী এ মুহ্র্তে দূর হও। 
[পৃথবীব অবনতাঁশাবে প্রস্থান । 
সর্য্য। সঙ্গ! জানিতাম তম 
ধর, 'স্থর. শান্ত। শেষে উল্মত্ত তামিও 
রায়। জ্তব্ধ হও সর্যয। সঙ্গ বুঝাউক্‌ আজ 
তা'র গনজ ব্যবহার ।-লিস্তব্ধ তথাপি ? 
1কছু কাহুবার নাই 2 


সঙ্গ। পতা কিছ নাই 
বন্তব্য আমার। 

সূর্যয। [সাশ্চর্যেযে। সঙগ। 

রায়। সঙ্গ' বাঁঝয়াছ' 


এতাঁদন যে আদরে করোছ পোষণ, 
ভস্মে ঘত ঢালয়াছ; অগ্রবা অধম 
তার চেয়ে-পুষিয়াছ সর্পে দুগ্ধ দিয়া, 
আপনার বক্ষে ইহা উত্তম। উত্তম? 
দুই পুত্র রুশ্নপিতৃশয্যাপা্রে বাঁস' 
অপেক্ষা কারতেছিল তাহার মৃত্যুর। 
কার” তারে মৃত অনম্মন, এ কিরণ 
লইয়া করিতোঁছলে বিগ্রহ বিবাদ, 
রূশ্নাপতৃকক্ষে ।-_এই প্রাতিদান বটে! 


ভাঁবয়াছ যাঁদ এ আমার ভালবাসা 

দবে প্রক্ষালয়া সর্ব কালিমা তোমার; 
[দিবে ঢাঁক' সব্বর্ষত; কাঁরতে মাজ্জনা 
সব অপরাধ ;-তবে বুঝিয়াছ ভ্রম। 
ভালবাসা বর্ষে 'স্নগ্ধ জলধারা বটে! 
ভাহাই আবার 1কন্তু উদ্গারে বিদ্যুং' 
শোন সঙ্গ তুমি এই রাজ্য নাহ পাবে। 
রাজা হবে জয়মল । সূর্য্য এ সংবাদ 
প্রচার কাঁবয়া দাও রাজ্যের ভিতর । 


প্‌নরাম শষন 
দ্ধত য় অঙ্ক 
প্রথম দৃশ্য 
শথান রাণার অহতঃপনর। কাল-আগতপ্রায় মধ্যাহা । 
অদ্ধশযান রাণা। সম্মুখে সর্যাযমল 
রায়মল। পাও নাই সন্ধান সঙ্গের 2 
সূযযয। পাই নাই 


এক্ষণে আমার হস্তে দিল ভৃত্য আন' 
প্র এক। 'লাথয়াছে সঙ্গ মহারাজে। 

রায়। দোখ পত্র [পাঠ] গড় মন্ত্রী !-পাঁড়তে 

* না পাকি, 

ক্ষীণদৃ]্ট আমি। 

সূর্যা। যথা আজ্ঞা, মহারাজ। | পতু পা] 
শ্াখিয়াছে সঙ্গ-াপিতা প্রণাম চন্ছুণে 
কোটি কোট । জান মহারাজের বিশ্বাস-__ 
“মাম রাজ্যাকাজ্ষী-"্মাম রজ্যের কারণে 
কারয়াছলাম যুদ্ধ জেই রাত্িক্বলে 
রূগ্নজশবন্মৃত 'পিতৃশয়নমান্দরে $" 
“কাঁরতোছ বিদ্রোহমন্তরণা, সৈন্নদলে 
উৎকোচ দিতেছি :” কাহয়াছে জয়মল। 
চাঁললাম রাজ্য ছাঁড়।--“রাজ্য চাঁহনাক” 
কহিয়াঁছ বহুবার_পিতার 'বশ্বাস 
হয় নাই সেই বাক্যে; অদা, আশা কাঁর-_ 
হইবে বিশবাস।--পূজ্য 'পিতৃব্য! যদ্যপি 
করিয়াছি অপরাধ তোমার চরণে 
কভু--অদ্য ভিক্ষা চাহ--করিও মাজ্জনা। 
_ভাই জয়মল ! আজ হ'ল দূরীভূত 
তোমার আপদ, পথে কণ্টক তোমার । 

রায়। এ উত্তম! স্য্য! এ উত্তম প্রাতিদান! 
ঈশ্বর শতুর যেন পন নাহ হয়! 


তারাবাই $৩ 


_যাক। যাহা হইবার হইয়াছে ।_যাক্‌ 
বদ্ধ কর দ্বার! অত্যুন্তম!_যাও ভাই। 
শ্রাত আম।-কিছুক্ষণ ঘুমাইতে চাই। 


| প্রস্থান। 
দ্বতীয় দৃশ্য 
স্থানাবদোর। কাল-প্রাহু। 
শূরতান ও রাণী 
শূর। রাণী! তারা কোথম্ম 2 
বাণশ। [গয়াছে মগয়ায় 
শিকারীদলের সঙ্গে। 
শুর। আশ্চর্য বাঁলকা-_- 
বাণী। বাঁলকা নহে সে আর। সে পূর্ণ 
তি | | 
অন্বেষণ কর পান্রু। 
শুর। কোথা পান্র রাণী ১ 


রাণী। চিরাঁদন উদাসীন সব্্ব কর্মে তৃমি। 
শ্‌র। “উদাসীন” ?- পাঁথবীতে, বাধা 'বপাত্তর 
মাঝখানে ওদাসীন্য প্রকৃত সন্ধান । 
রাণী। কিরূপ? 
শ্‌র। "করূপ" ১-যাঁদ কার্যয নাহ কর, 
ভ্রম হইবার কোন নাহি সম্ভাবনা । 
কার্যা যাঁদ কর, ভ্রম হইতেও পারে। 
বাণী। এ যাান্ত বুঝিতে নাহ পার। 
শ-র। নাহ পারো? 
-তবে শোন ।-পাাথবাীতে চারাদক হ'তে 
প্রাতিকুল অনুকূল কম্বা সমকৃল-- 
শান্তপুঞ্জ, ক্রমাগত ঘেরিয়া তোমারে, 
কারতেছে সম্পেষণ সংঘর্ষণ, সদা. . 
পরস্পরে। তুম তা'র মধ্াস্থলে বাঁস' 
কেন্দ্রের বাহর যথা হইযাছ, তথা 
গয়াছ,-ঘুরিয়া মর আবর্তের সানে। 
বাণশ। কিরুপ2 
এ কিরুপ জানো ? দুই পত্রী যা'র 
নিয়ত সপত্নীদ্বয় কারবে কলহ : 
দাঁড়াইয়া দেখ যাঁদ, নাহ্‌ কোন ভয় 
যোগ দাও যাঁদ. মহা বিপদ নিশ্চয় । 
বাণী। হায় ধিক! নিরুদাম বাঁসয়া রাহবে 
সচল বশ্বের মাঝে জডজশীবসম ১ 
শর ।তদুপরশ আমি কার বিশ্বাস অন্তরে -- 
যাহা হইবার তাহা হইবেই : কেহ 


অন্যথা কারতে নাহ পারে, 'প্রয়তমে। 
রাণী। এ উত্তম যুক্তি'তবে বাঁস' 'নিরদ্ধেগে 
রহ কার্যশুন্য- 
শূর। --কি না যতদূর পারো। 
বৃথা শান্ত ব্যয় কেন? বরং সয়, 
কর শান্ত বসে' বসে'। 


রাণী । ক হেতু সয় 
যাঁদ ব্যয় কভু নাহ কাঁরবে ? 
শৃর। প্রেয়সন! 





দর্শন-শাস্তের তত্ব তত সোজা নয় 

যত সোজা ভাবো। ইহা নারীর মাস্তজ্কে 

প্রবেশ করে না শশঘ্র। কিছ শিক্ষা চাই। 
রাণী। জান না দর্শনশাস্ত্। জানিতে 

চাহ না। 


সশস্তে প,রূষবেশিনশ তারার প্রবেশ 
তারা। পিতা দোঁখয়াছ ? 


শুর। [ক দেখব ? 
তারা। ব্যাত্রাশশু। 
শূর। কে আনল ব্যাঘ্রাশশু ? 

তারা। সবলে 'ছানয়া-_ 


নাবড় গহন মধ্যে, ব্যাঘ্রের বিবর 
হইতে, এনোছ তারে, আমরা শিকারী । 

শূর। আঁনয়াছ যাঁদ, মহা ভ্রম করিয়াছ। 
এক্ষাঁণ আসবে ব্যাঘ্ী তাহার সন্ধানে । 
শাস্ষে কহে হতশাবা ব্যাঘ্রী ভয়ঙ্কর; 
নিজ প্রাণ তৃচ্ছ করে; ভ্রমে সান্নাহত 
প্রান্তরে, উন্মন্তবং। এক্ষাঁণ আসবে: 
হয়ত বা আসয়াছে দ্বারে এতক্ষণে । 

তারা। আসে যাঁদ কিবা ভয়: কারব সংহার 
ভুজবলে। 

শ্‌র। বলা যায় অবলীলাক্রমে 
সংসারে অনেক কথা: করা শন্ত তাহা । 
ব্যাঘ্রীর সাহত যুদ্ধ? 

তারা। ব্যাঘ্রী কি কারবে? 

শূর। ব্যাঘরী যাঁদও তার ধাতুর হিসাবে 
ঘ্রাণ করিবার কথা: কিন্তু সে কার্যতঃ 
তাহার আধক করে। জন-পরম্পরা 
শৃনেছিও ব্যাঘ্রজাতির সব্বমাংস চেয়ে 
নরমাংস-প্রয় ! 

তারা । [হাঁসয়া] 'পতা! থাকতে গনকটে 
আমরা, তোমার ভয় নাই । দেখ এসো। 


৫৪ [দবজেন্দ্র রচনাবলশ 


শূর। ক দোঁখব ? ব্যাঘ্রাশশু আকারে সম্ভব 
ব্যাঘ্রের মতই; শুদ্ধ ক্ষুদ্র আয়তনে । 
অনুমান কাঁরতোছ।-আর এক কথা 
তারা, তুমি নারী । এই পুরুষের বেশ, 
এই পুরুষের কার্য শোভা নাহ্‌ পায়। 

রাণী। শতবার শোভা পায়, পুরুষ যখন 
ছাড়িয়াছে পুরুষের কার্য্য! নারীসম 
পুরুষ যখন সব্বকর্টে ব্যবহারে 
শুদ্ধ লঙ্জাহীন। আর পুরুষ যখন 
নতাঁশরে সহে পৃচ্ডে শন্র-পদাঘাত। 

শৃূর। রাণি! এই ক্রোধ এই অদ্ভূত বন্তৃতা 
হইত বিস্ময়কর: তবে কি না তুমি 
পড় নাই ন্যায়শাস্ত্র। 


তারা। দেখবে না তবে 
ব্যাঘ্রাশশু পিতা ? 
রাণনী। এস, মা, আমি দোখব। 


[ রাণী ও তারার প্রস্থান । 
শূর। অতাঁব বিস্ময়কর চারত নারীর। 
['নক্কান্ত। 


তৃতীয় দৃশ্য 
স্থানবিদোর। কাল-__অপরাহু । 
ছদ্মবেশী সঞঙ্জা ও তারা 

তারা। আচ্ছা, ব্যহ ভেদ করার চেয়ে তা 
থেকে বোৌরয়ে আসা শন্ত। 

সঙ্গা। পাঁথবীতে সব জিনিষেই তাই। 
তর্কে যৃস্তজাল খণ্ডন করা শস্ত নয়, কিন্তু 
জয়ী হ'য়ে বোরয়ে আসা শস্ত। প্রেমে ও₹ 

তারা। না আম প্রেমের কথা শুন্তে 
চাইনে। ও বাতুলের স্ব্ন। আচ্ছা মোহিত সিং, 
মেঘনাদ কি সত্যসত্যই মেঘের অন্তরাল থেকে 
যুদ্ধ কার্ত 2 

সঙ্জা। ওটা রূপক। 

তারা। রাবণের দশমুন্ডও রূপক 5 

সঙ্গ। রূপক বৈ কি। 

তারা। তবে রাবণও রূপক ? 

সঙ্গ। রাবণ রূপক হ'তে যাবে কেন? 

তারা। বাঁ হ'তেও ত পারে। রামায়ণের 
রা তখন 
বাঁকটুকু রূপক হতে” পারে না কেন? 

সঙ্গা। না তারা! ও যান্ত ঠিক নয়। 
রামায়ণ সত্য। তবে তার ফেটুকু মনৃষ্যের 


শব*বাসের অতনত, তা হয় রূপক, না হয় 
কাব্যালগকার বলে' ধর্তে হবে। 

তারা। কেন ধর্তে হবে? হয় সমস্তই 
রাখবো, নয় সমস্তটাই ছাড়বো । 

সঙ্গ। বুদ্ধ, শ্রীষ্ট, মহম্মদ, সম্বন্ধে অনেক 
অলক প্রবাদ আছে: তাই বলে' কি তাঁরাই 
[ছিলেন না বলে মানতে হবে 2 

তারা। | ভাবিয়া] মোহিত সিং! তুমি কত 
জানো। তোমার সঙ্গে খানক কথা কৈলে কতই 
1শখতে পারা যায়। 

সঙ্গ [নীরব | 

তারা। তার উপরে এমন নম্র। তাই বাবা 
তোমায় এত ভালবাসেন। 


সঙ্গ। কেবল তোমার বাবাই ভালবাসেন ? 
রাণীর প্রবেশ 
রাণী । তারা' তোমার বাবা তোমাকে 


ডাকছেন। 
[ তারার প্রস্থান। 
রাণী। মোহত সং. তুম মেবারের রাজ- 
পূত্র জয়মলকে চেনো 2 
সঙ্গ। চিনৃতাম। 
রাণী। তান কি মেবাররাজযের ভাবী 
উত্তরাঁধকারী ? 
সঙ্গ। সেইর্প শুনোছ। 
রাণ। তান তারার উপয্্ত পান্র ব'লে 
বোধ হয় কি 
সঙ্গ। | চমাকয়া] কি ১ না. জাঁন না! 
হবে। 
রাণী। মোহিত সং! তারার উপযুক্ত পাত্র 
পাই না। শৃগালের সঙ্গে সিংহিনীকে বেধে 
দতে পারিনে। তার যোগ্যপান্ন এক মেবারের 
যুবরাজ। তারা সমস্ত রাজপুতনার মধ্যে 
এক শিতোরেরই রাণী হ'বার যোগ্য কি 
বল? 
সঙ্গ। নিঃসন্দেহ। 
রাণী। চিতোরের রাণার জোন্ঠপুত্ত সংগ্রাম 
সং ত নির্দ্দেশ। মধ্যমপূত্র পৃথবীরাও 
নিব্বাঁসত; সুতরাং জয়মলই তারার উপয্ন্ত 
পাল্ন। 
সঙ্গ। 
? 


[স্বগত। এখানেও জয়মল আমার 


তারাবাই &৫ 


রাণশ। তুমি উত্তর 'দচ্ছ না কেন? মোহত 
সং কি ভাবছো? 

সঞ্গ। আপনি যা বলছেন তাই বোধ হয় 
[ঠিক। 

রাণী। তুমি যাঁদ তারাকে রাজী কর্তে 
পারো; সে বিবাহ কর্তে রাজ হয় না। তোমাকে 
শ্রদ্ধা করে, তোমার কথা শুনবে বোধ হয়। 

সঙ্গ । [স্বগত] এত শ্রদ্ধা করে [প্রকাশ্যে] 
জয়মল 'ববাহ কর্তে রাজণ 2 

রাণী । তিনি সম্পূর্ণ রাজী। তিনি তারার 
পাঁণগ্রহণেচ্ছায় এখানে এক সপ্তাহের মধ্যে 
আসছেন-চমকালে যে? | 

সঙ্গ। না। 

রাণী। আমি তাকে নিমন্নণ করেশছ। 
তারাকে বোঝালে সে-ও রাজী হ'তে পারে। 

[ প্রস্থান। 

সঞ্জা। শেষে জয়মল-শরে এ রত্ন ? ইহার 

মূল্য কি বাঁঝবে জয়মল1--কিম্বা এই 

দেবীর চাঁরত্র যাঁদ পাঠকের মত 

পাত্র করিতে পারে সংস্পর্শে তাহারে । 

_তাই হোকআ'ম ত্যাগ কারব দুরাশা। 

নিঃসম্পদ,আর তারা রাজার দুহতা 

যোগ্য হইবার রাজমাহষী !_ আমায় 

যাঁদ শ্রদ্ধা করে তারা_ তার স্বীয় গুণে) 

আমি রাহব না বিঘ তাহার সম্পদে । 

হোক্‌ তারা মেবারের রাণী-আর আম 


তারার প্রবেশ 
তারা। 


মোহিত! মোহত! 
সঙ্গ। আঁসয়াছ তারা 2 


তারা। আঁসয়াছ। এতক্ষণ 
কহিতোছিলেন মাতা কি গ্‌ঢ় সংবাদ 
তোমারে মোহত ? 

সঞ্গ। [তারার হস্ত ধারয়া] তারা! 

তারা। * দি মোহিত! এক! 
সহসা গদগদস্বর 1 


সঞ্গ। [হস্ত ছাড়িয়া] ক্ষমা কর। তারা 
কল্য যাইতোন্ছি আম দূর দেশে। 

তারা। সে কি? বহুদূর দেশে 2 কোথায় ? 

সঙ্গ। জাঁন না 


অসম্ভব । 

তারা। তবে? 

সঙ্গ । বাঁলয়াছ কারও না জিজ্ঞাসা “কি হেতু" 
যাইবার পূর্বে এক নিবেদন আছে। 
রাখবে নাত ? 

তারা। অত্যুত্তম পাঁরহাস! 

সঙ্গ। পরিহাস নহে তারা । তোমার মাতার 
ইচ্ছা যে বিবাহ কর তুমি। 

তারা। যাদুকর! 
ও ঝুলর মধ্যে আরো ছু আছে নাঁক ? 
দেখতে প্রস্তুত আঁছ।-ববাহ ?- 

কাহাকে ? 

সঙ্গ। শুঁনয়াছ “জয়মল”" না? মেবারের 
ভাবী আঁধপাঁতি? 

তারা। শুনি, তাহারে কি হেতু? 

সঙ্গ। যোগ্য হইবারে তুমি মেবারের রাণী: 
শোভে না এ সম.ুজ্জবল হাীরকাকরট 


তারা। মান, শ্রদ্ধা কার 
জ্যেন্ঠটভ্রাতা সম. আমি তোমারে মোহিত; 
মানিতে পারি না £কন্তু, বাল 'দতে হবে 
মেবাররাজ্ৰত্বপদে জীবন আমার । 
মেবাররাজত্ব ছার!_করি পদাঘাত 
ইন্দ্রপুরী-কিম্বা অলকায়।-আম তারা 
বিবাহ করিব তুচ্ছ কাণ্চনের লোভে ? 
সঙ্গ। দৌঁখিয়াছ জয়মলে 2 

তারা। দোঁখতে চাহ না,_ 
মোহত! মোহত সংহ!-ইহা সত্য বটে 
শিক্ষা কার শস্তবিদ্যা তোমার নিকটে: 
এ বিষয়ে উপদেশ 'দবার তোমার 
দই নাই আধিকার। তারার বিবাহ 
তারার আনচ্ছা ইচ্ছা। [সগব্রে প্রল্থান। 


&৬ দবজেন্দ্র রচনাবলখ 


সঙ্গ। [ পদচারণসহ ] তারা,যাঁদ তুম 
জানিতে কি যুদ্ধ করিয়াছি এতক্ষণ; 
আপনার সঙ্গে আম, কারতে এক্ষণে 
আপ্রয় প্রস্তাব এই ?-অথবা আমার 
ক স্বত্ব তাহারে দিতে এই উপদেশ, 
অযাচিত ?-[ ভাবিয়া] কেন পাই ব্যথা এ 
অন্তরে 
করিয়াছ »এ প্রস্তাব-অযাচিত যদি-_ 
তারার সুখের হেতু। 


তারার পুনঃপ্রবেশ 


তযনা। মোহত! মোহত! 
আমারে মাজ্জনা কর। 

সঞ্জা। কেন রাজকন্যা ? 

তারা। হইয়াছ রূঢ় আম! 

সঙগ। কিবা যায় আসে £ 
ভর্সনা কাঁরতে ভূত্যে আছে চরাঁদন 
আঁধকার প্রভুর । 

তরা। মাজ্জনা কর। আমি 
নারী মান্র।-- 

[ সলজ্জভাবে প্রস্থান। 
সঙ্গ। বুঝিয়াছি। বাঁঝয়াছ তারা, 


ওই আরান্তম গণ্ড লঙ্জায়।-না তারা। 
তাহা হইবার নহে । কাঁরব না আম 
তোমারে অসুখী কভু । রাহব না আম 
আর তব চরণে জড়ায়ে! সুখী হও! 
কারয়াছি “ত্যাগ” ব্রত, ভাঁঙ্গব না তাহা। 
যেইর্প অনায়াসে রাজ্য ছাঁড়য়াছ, 
ছাঁড়ব এ নারীরত্ব! যায় যাক প্রাণ ।- 
আর রাহব না হেখথা-বড়ই আধিক 
প্রলোভন; এ হৃদয় 'অতীব দ.ুবর্বল। 
চাঁললাম এইক্ষণে।-নাহক সাহস 
ণবদায় লইতে । তারা! চলিলাম তবে। 
উদ্দেশে তোমারে এই আশীব্বাদ করি 
“সুখী হও। প্রাণাধক! বংসে! সুখী 


হও।” 
[ প্রস্থান। 
* চতুর্থ দৃশ্য 
স্থান_-সরাই। কাল-রান্ি। 
বাঁণক ও আঁতাঁথদ্বয় 


১ আতাঁথ। তবে এ রাজ্য কার ? 
বাঁণক। আপাততঃ কারুরই নয়। মীনেরা 


আরাকল্লর পার্বত্য প্রদেশ হ'তে নেমে দেশে 
যা পায় লুঠ করে নিয়ে যায়। রাজপূতেরা 
এদেশ জয় করেছে বটে, 'কন্তু লাভের গুড় 
পি'পড়েয় খায়। 

১ আঁতাঁথ। রাজপুতদের কেউ মানে না 
কেন? 

বাঁণক। তা'দের একজন নেতার অভাব। 
সকলেই স্বস্ব প্রধান তাদের শান্ত গুছয়ে 
একান্ত করে, এই রকম একটা লোক চাই। 

১ আঁতাঁথ। রাজপুতদের সৈন্য নাই ? 

বাঁণক। থাকবে না কেন? তাঁরা নাড়োলের 
দুর্গে বসে' নিরদ্বেগে নাঁসকাধ্বান সহ নিদ্রা 
যাচ্ছেন। তাঁদের নাকের সামনে মীনের দলপাতি 
রাজচ্ছন্র মাথায় দিয়ে রাজত্ব কচ্ছে, অথচ তাঁরা 
যেন দেখতেই পাচ্ছেন না। 

২ আঁতাথ। [সভয়ে] ও বাৰা' তবে ত 
কালই এখান থেকে পাততাড়ি গুটতে হচ্ছে। 

১ আঁতাঁথ। তা আর বলে'' 


পৃথবীর প্রবেশ 


বাণক। এ আবার কে ? রাজপুত দেখাছ। 

পৃথবী। তোমরা কারা? 

৯ আতাঁথ। আমরা আবার কারা ; আমরা 
হচ্ছি আমরা! 

পৃথবী। [আঁতাঁথকে | মহাশয় এটা ক 
সরাই? 

২ আতাঁথ। | অনুকৃতস্বরে | হাঁগো দাদা 
সরাই। 

পৃথবী। গৃহকর্তা কোথায় 2 

১ আঁতাঁথ। কেন? 

২ আঁতাঁথ। এই ধর না আমিই গৃহকর্তী। 

পৃথবী। এ পাঁরহাস করবার সময় নয়। 
শীঘ্র বল: নাহলে -[তরবার 'নিহ্কাসন ] 

১ আতাথ। এ_-এ আবার ক প্রকার 2 

২ আতাঁথ। এ এর ত কোন কথা ছিল 
না। 

বাণক। মহাশয় স্থির হ'ন। গৃহকর্তী 
এখান আসূছেন। রাজ্য অরাজক বটে, কিন্তু 
এত অরাজক নয় যে, আপানি যখন ইচ্ছা যা'র 
তা'র মন্স্ডুটা কেটে ফেলতে পারেন। 

পৃথবী। না মশায় মাফ কবেরবেন। 

তরবারি 'পিধানবজ্ধ কারলেন 


তারাবাই ৫৭ 


বণিক। এই যে গৃহকর্তা এসেছেন। 


গৃহকর্তার প্রবেশ 
বাণক। হাঁনই গৃহকর্তা। 
১ আতাঁথ। [গৃহকর্তাকে | মশায়! ইনি 


এখনই আপনার খোঁজ কচ্ছিলেন। 

গৃহকর্তা। [পথবীকে। আপাঁন কি 
চান 2 

২ আঁতাঁথ। আপাততঃ চাচ্ছলেন ত 
আমার এই মমুন্ডুটা। “যেন বেওয়ারশী মাল 
আর কি! ঈঃ' 

পৃথবী। আমরা আজ এখানে থাকবো। 

গৃহকর্তী। তা বেশ' থাকুন না।-কয় 
ভান ? 

পৃথবী। আম আর পাঁচ জন। 

গৃহকর্তা। তা বেশ! থাকুন না। আহারের 
ক আয়োজন কব্ব ? 

পৃথবী। আমার কাছে, কিন্তু এক কপর্্দকও 
নাই । 

গৃহকর্তা। তাই ত! সে ত শৃভবার্তা নয়। 
আপনার চেহারাখানি নেহাংই মন্দ নয়। তবে 
শুদ্ধ এ চেহারাখাঁন দেখে এ সহরে যে কেউ 
বসদ জোগাবে, তা ত বোধ হয় না। 

পৃথবী। এখানে কেউ বাঁণক আছেন 2 

বাণক। কেন? 

পৃথবী। এই" হীরার আধাটাট বেচুবো। 

বাঁণক। দৌখ [ দৌখয়া চমাকয়া ] বুঝেছি, 
আপাঁন 'কি-- 

পৃথবী। [সগক্র্বে] আমি পৃথবী। আমি 
নাড়োলে বাস কার্তে এসোছ। | 

বণিক। উত্তম! নাড়োাল আজ সরাজক 
হ'ল। [গৃহকর্তাকে] ইহাদের জন্য যথাদেশ 
সর্র্বোংকৃষ্ট প্রকোম্ত বাসস্থানের জন্য দাও। 
সব্বোত্তম খাদ্যের আয়োজন কর। মূল্য আম 
দিব। 

গৃহকর্তা। [সাঁবস্ময়ে]? তাই ত! 
[ পৃথবীকে ] আসুন মশায়; আপনার সঞ্গীরা 
কি বাইরে! 

পৃথবী। আজ্ঞা । 

গৃহকর্তা। চলুন। [ উভয়ের প্রস্থান। 

বাণক। ইনি মেবারের রাজপুত্র পৃথবী- 
রাও। 


২ আতাথ। 
ইনি!!! 

১ আঁতাঁথ। তাই অত রুক্ষ মেজাজ, না : 

বাঁণক। এর মত বার অদ্যাবাধ রাজপুতা- 
নায় জল্মগ্রহণ করে নাই। ইন একবার একা 
শতাধিক যবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে” জয় 
হয়োছলেন। 

১ আঁতাঁথ। [চক্ষু বস্ফারত করিয়া] 
বটে!!! 

২ আঁতাঁথ। আগে বল্‌তে হয়। চল্স চল 
দোখ। লোকটাকে ভালো করে দেখে নেওয়া 
যাক্‌। ভালো করে দেখা হয়ান! 

১ আতাঁথ। চল চল। 

[ উভয়ের প্রস্থান। 
বাঁণক। এর দ্বারা কার্য্য উদ্ধার হবে। 
না,ডাল আবার রাজপুতের হবে। 


[ সচাকতে |] বলেন কঃ 


[প্রস্থান। 
পণ্তম দৃশ্য 
স্থান-াবদোর। কাল- অপরাহু। 
বৃক্ষতলে অশ্বাবরূড় জয়মল ও বৃক্ষকান্ডে 
ন্যস্তদেহা তারা 
তারা। শুনিয়াছ যুবরাজ! সেই এক কথা- 
--ভালোবাঁস' 'ভালোবাস'_একশতবার 
শৃনিয়াছ। পিয়া গিয়াছে সেই বাণী: 
ঘৃণা জল্ময়াছে। আর শুনিতে চাহ না। 
জয। শুনিতে হইবে! তারা! আম ভালোবাস। 
তারা। ভালোবাসো নাঁহ বাসো. কার যায় 
আসে 2 
জয়। কার যায় আসে! তারা! সত্য 'ক এ কথা ১ 
সত্য কি, কিছুই যায় আসে না তোমার, 
আম ভালোবাস কি না বাস? 
তারা। ] সত্যকথা। 
আঁবশ্বাস কারবার কারণ কি আছে? 
একশত-একবার_ তুমি ভালোবাসো 
1কম্বা নাহ বাসো, কিছু নাহ যায় আসে 
তারার । শুনেছ 2 যাও। 
জয়। হা কঠিন নারী 2 
তোমারে রমণশ করে' কে গাঁড়য়াছিল 2 
তারা । বিধাতার ভ্রম! 
জয়। ভালোবাসো না আপানি, 
গব*বাস কারতে পাঁর। কিন্তু ভালোবাসা 


৫৮ 1দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


বাঁঝতেও পার নাক? জান না 'কি, তারা 
ভালোবাসা কারে কহে 2 

তারা। . ভালোবাসা !_কই 
কেহ শিখায় ন মোরে! শাখয়াঁছ বটে 
শাস্ত-কথা, অস্ত্রচ্চা গাঁণত, বিজ্ঞান । 
ভালোবাসা শাখ নাই। ভালোবাসা বাঁঝ 
ধনীর সম্ভোর্ন। তাহা গৃহপ্রতাঁড়ত 
পরমুখপ্রেক্ষী দীন হশন দরিদ্রের 
দুহতা তারারে নাঁহ সাজে ।__বাঁধিয়াছি, 
প্রাণের সমস্ত বাঞ্চা দড় প্রাতিজ্ঞায়-_ 
অপর িন্তারে স্থান গদব না অন্তরে ।” 

জয়। কির্‌পে উদ্ধার হবে তব মাতৃভূমি ? 

তারা। নাহি জানি যুবরাজ । তথাপি সতত 
সেই এক চিন্তা জাগে মনে । আম নারণ, 
শশাখয়াঁছ শস্তাবদ্যা: িন্তু ক কাঁরব 
একাকিনী আমি? হায়! কি করিবে নারী, 
যখন পুরুষজাতি নিশ্চিন্ত: যাপিছে 
জীবন জঘন্য ঘৃণ্য স্বচ্ছন্দ বিলাসে। 
জান না 'কর্‌পে, কি উপায়ে কতাঁদনে 
হইবে কমলমীর উদ্ধার; তথাপ 
করিয়াছি পণ; ধারয়াছি এই ব্রত 
এ কৌমার-ব্রত যতাঁদন এ সাধনা 
সম্ধ নাহ হয়। 

জয়। তাহে ক বাধা বিবাহে 2 

তারা। সব্বৈব বাধা-এ বিবাহই রজ্জুসম 
বাঁধে হস্তপদ সব্্ব উচ্চ সাধনার। 
প্রেম বিলাসীর স্বশ্ন, সাধকের নহে । 
জাগে না বেণশুর স্বরে 'নাদ্রত যে জন: 
তুরীধ্নি চাই ।-_-ফিরে যাও যুবরাজ! 
যতাঁদন মাতৃভূমি পরপদানত। 

জয়। আম যাঁদ উদ্ধার তোমার মাতৃভাঁম 2 

তারা। 'ববাহ করিব।_ভালোবাসি নাঁহ 

বাস, 
ণববাহ করিব। [ভাবিয়া] সত্য; বিবাহ 
কারব। 

দিব এ যোবন, রূপ সতীত্ব নারীর 
যাহা কিছ প্রিয়, সব বাল তবপদে 


মাতা প্রাণাধিকাঁপ্রয় কন্যা গঞ্গাজলে। 


| জয়। উত্তম! 'শাখবে ভালোবাসতে আমারে 


ণববাহ কাঁরলে মোরে 2 

তারা। _জানি না; তথাপি। 
দিব এ যৌবন-রৃপ কাঁরয়া বিক্রয়। 
তোমার চরণে, তাহা সম্পাত্ত তোমার 

জয়। তাহাই হইবে। 

তারা। তবে যাও ।--যতাঁদন 
এ প্রাতিজ্ঞা পূর্ণ নাহ কর যুবরাজ ' 
আসিও না ততাঁদন সমক্ষে আমার । 
আস যদ অনিষ্ট ঘাঁটবে। বাঝয়াছ 


জয়। বাাঁঝয়াছ 
তারা। যাও তবে। 

[ প্রপ্থান। 
জয়। হায় তারা, যত 


প্রত্যাখ্যান কর তুমি, তত 'লি”্সা বাড়ে 
শনরুদ্ধ শ্রোতের মত। দোৌখয়াছ আম 
শতাধক নারী: বশীভূত কারয়াছি 
বাক্যে, অর্থবলে। কিন্তু এ হেন রমণন 
দোঁখ নাই কভু !-সমাঁধক অগ্রসর 
হইলে জহলিয়া উঠে বিদ্যুতের মত, 
চঁকিত নয়ন: ওম্ঠ 'বকাম্পত হয় 
ক্রোধে: ভয়ে পিছাইয়া যাই। কিন্তু তা'র 
প্রত্যেক বচন, ভঙ্গ, কটাক্ষ_লিপ্সার 
ইন্ধন যোগায় ।_এ কি আশ্চর্য্য রমণীী। 
আকর্ষণ করে সমধিক সেইক্ষণে., 

যবে সমাধক দেয় দূরে খেদাইয়া । 


[নক্ক্রান্ত। 
ঘণ্ত দৃশ্য 
স্থান তমসার অন্তঃপুর। কাল-রান্র। 
সারগগ ও তমসা 
তমসা। বুঝেছ 2 
সারঙ্গ। বুঝোঁছ। 


তমসা। মালবের নবাব যোগ দেবেন 
স্বকার হয়েছেন। তুমি মালবকে বলবে যে, 
তান এসে যাঁদ আমার স্বামীকে একবার 
বোঝান, তাহলে আরো ভাল হয়। 

সারঙ্গ। কিন্তু সূর্যমলকে বোঝান এক 
প্রভৃভান্ত, ভ্রাতৃস্নেহ-_ 

তমসা। তাঁর চারতর তোমার চেয়ে আমি 
ভালো জানি। তিনি কর্তব্যপরায়ণ, প্রভূভন্ত 
স্নেহাশশল বটে; কিন্তু তানি জলের মত তরল। 


তারাবাই ৫৯ 


কখন এাঁদকে, কখন ওঁদকে গড়ান। 
সারঙগ। তবে তিনি সম্মত হ'লেও 'বশ*বাস 
ক? 

তমসা। তা'র জন্য ভাবনা নাই। তান যাঁদ 
একবার প্রাতিজ্ঞা করেন, তবে 'তীন প্রাণ দিয়েও 
সে প্রাতিজ্ঞা রক্ষা ক্রেন তা জাঁন। তবু 
প্রাতিজ্জাপন্র দেহের রন্তু দিয়ে স্বাক্ষর কাঁরিয়ে 
নিতে বলো। কি জান যেখানে সত্যাপ্রয়তার 
বিপক্ষে কর্তব্যপরায়ণতা, সেখানে সত্যভঙ্গ 
[নিতান্ত অসম্ভব নহে। 

সারঙ্গ। উত্তম'কিন্তু জয়াশা নিতান্তই 
অজ্প। তবে রাজা বন্ধ, আর সৈন্য সূরযামলের 
হস্তে এই ভরসা । নাহলে 

তমসা। কোন ভয় নাই। কিন্তু এ সুযোগ 
অতাঁত হ'লে আর আসবে না বুঝেছো 2 

সারঙ্গ। বুঝোছি। 

তমসা। সব কথা মনে থাকবে ? 

সারঙ্গ। তা থাকবে। 

তমসা। আচ্ছা তবে যেতে পারো। জেনো 
সারঙ্গ, মনে রেখো, [সারঙ্গের স্কম্ধে হাত 
দিয়া সস্নেহে |] তোমার জন্যই এত কা্ছ্। 

সারঙ্গ। [অধোবদনে ] আপাঁন আমার জন্য 
এত কচ্ছেনে কেন | 

তমসা। কাচ্ছ্ছ কেন? তোমার জন্য কর্্ব 
না, সারঙ্গ'-ত আর কার জন্য কর্্ব 2 
সারঙ্গ! সারঙ্গ! জানস্‌নে, তুই আমার কে 2 
না এখনো না। কাজ সিদ্ধ হ'লে বল্‌্ব। তোকে 
মেবারের সিংহাসনে বাঁসয়ে তবে বলব।-সে 
কথা বড প্রাণের বড় গভশর বড় গোপনীয় ।-- 
এখন যাও। [বেশে প্রস্থান। 

সারঙ্গ। অদ্ভূত' ইনি আমার 1হতা- 
কাজ্ষণী_তা জাঁন। কিন্ত কেন? আর 
এতদূর ' মাঝে মাঝে ঘোর সন্দেহ হয়।- 
এতদূর ' 

[চাম্ততভাবে প্রস্থান । 


সপ্তম দৃশ্য 
সথান-তারার শয়নকক্ষ। কাল-__রান্র। 
একাকণ জয়মল 
জয়মল। আঁসয়াছ 'নিশশথে প্রচ্ছন্ন ছদ্মবেশে 
' তারার শয়নাগারে । জান না তথাঁপ 
তারার সম্মাত। একি অন্ধ দুঃসাহস! 


তবে কি আশায় আঁসয়াছি সঙ্গোপনে 
তাহার 'নিভৃতকক্ষে, নাহ পূর্ণ করি” 
প্রতিজ্ঞা আমার ? তোড়া কারব উদ্ধার 
কির্পে 2 কোথায় সৈন্য 2 অনুর্দ্ধ পিতা 
[লাখলেন স্পম্টাক্ষরে “অন্যে কি করিবে 
যা'র কার্য সে যাঁদ ঘুমায় 'নরুদ্বেগে 2” 
তারারে দেখাইলাম সেই রূঢ় লাপ)-- 
"অতুযুন্তম! যাও তবে; আসও না আর!" 
কহিল সগব্রে তারা!-কি কহিবে তারা 
আমারে দোঁখবে যবে 22ফিরাইবে মুখ 
কারবে ভর্সনা? দূরে খেদাইয়া দিবে 2 
তাহাই সম্ভব'-আঁতি দড় স্পম্টভাষে 
কাহয়াছে সে, ভালোবাসে না আমায় 1 
না না. ভালোবাসে তারা! কে জানে? কে 
বুঝে 
নারীর হৃদয়; নিত্য বিরোধ তাহার 
কার্যে ও বচনে: ভালোবাসে না বাঁললে 
বুঝতে হইবে ভালোবাসে । হায় নারী! 
তোমার জীবন এক কি প্রকাণ্ড ছল! 
কি মধুর মথ্যাবাদ । বাহু প্রসারিয়া, 
আহবান করিয়া, পরে দরে সরে" যাও 
মায়া মরীচিকাসম।_যা হবার হবে। 
যখন হয়োছ অগ্রসর এতদূর, 
যাইব না-না দোঁখয়া শেষ! ভালোবাসে 
নাহ বাসে, ছাঁড়ব না তার আশা। ছলে, 
বলে, কি কৌশলে, বশ করিব তাহারে । 
থাকি লুক্কাঁয়ত এই দ্বার-অন্তরালে : 
ওই আসে তারা, কথা কাহতে কাঁহতে 
তাহার দাসীর সঙ্গে ।_এখন ল্‌কাই। 


লৃক্কায়িত 
তারা ও পারচাঁরকার প্রবেশ 


তারা। মাতার আদেশ! রামা। কহিও মাতারে, 
বিবাহ কারবে তারা জয়মলে ; যাঁদ 
তাঁহার আদেশ ইহা। কাঁহও তথাপি, 
ভালো নাহ বাস জয়মলে। কাহয়া'ছ 
স্পম্টাক্ষরে তারে। 

পারচারকা। ভালোবাসতে 'শাখবে। 

তারা। কখন না। তার ক্ষুদ্র ভয়সগকুচিত, 
খল, নশচ চিত্ত ভালোবাসতে শাখক 
তার চেয়ে শশঘ্ব ভালোবাসতে 'শাখিব 
পথের কুন্ধরে কিংবা বনের শগালে। 


৬০ গদ্বজেন্দ্র রচনাবলী 


পাঁরচারিকা। রাজপুত্র 'তাঁন-_ 

তারা । তবু ঘৃণা কার তারে। 

পরিচারকা। তিনি ভাবী রাজা মেবারের_- 

তারা। মন্দগ্রহ 
আত মেবারের।-তবু ঘ্‌ণা কার তারে__ 

পারচারকা। এই স্থির? 

তারা। এই 'স্থির। যাও জননণরে 
কাহও এ কথা ।-কর 'স্তামিত প্রদীপ । 
_উত্তম এখন যাও। 

[ কথাবং কার্য কাঁরয়া পাঁরচারকার প্রস্থান । 
তারা। [দ্বার রুদ্ধ কারয়া গবাক্ষের 'নকট 
[গয়া আকাশের 'দকে চাঁহয়া ] গভাঁর 

রজনী ' 
ক্লান্তদেহ পাঁরশ্রান্ত। বাঁহছে বাতাস 
প্রবল বৈশাখী । স্তব্ধ ধরণণী। অদূরে 
বনগ্রাম মগন অন্ধকারে । নীলাকাশে 
মেঘখণ্ড নাই; শুদ্ধ জহলিছে প্রদস্ত 
অগণ্য নক্ষত্রপুপ্তা যৌবন-উদ্যমে 
-দ্ঘবুমাই। [শয়ন] না। ঘুম নাহ আসে ।-- 
চিত্তে ভাব 
[পতার নিগ্রহ. নিত্য মাতার আক্ষেপ। 
কেন মাতা তিরস্কার করেন 'পিতারে 
বারংবার ১ বুঝেন না তান এ লাঞ্ছনা 
বাজে কত 'পিতৃবক্ষে। চক্ষে ঘুম আসে। 
[নাদ্রুত 1 
জ্রয়। ঘুমায়েছে তারা । এতক্ষণ সঙ্গোপনে 
শুনিয়াছ আত্মীনল্দা। সত্য যাঁদ তাহা, 
[তন্ত তবু । প্রাতিশোধ লইব ইহার: 
দবার-রুদ্ধ ক না দেখি। 

[দ্বার পরীক্ষা কারয়া ] 
দ্বার রুদ্ধ বটে। [নিকটে যাইয়া পর্যবেক্ষণ] 
[দন্তঘর্ষণ সহ] এখন সুন্দরী বটে। 

নিখুত সুন্দরী! 
কিবা চক্ষু! কি ভ্রু! আহা! কেশগনচ্ছ 
কিবা 
ন্যস্ত উপাধানে! কিবা বর্ণ! কিবা দেহ. 
আয়ত বাঁলম্ঠ দঢ় অথচ কোমল । 
এক হস্ত ন্যস্ত গস্ডতলে এক হস্ত 
বিলম্বিত শৃন্যে। কিবা স্ফৃরিত অধর-__ 
রস রক্তিম যেন মাশিছে চুম্বন, 
নিজ্ফল লঙ্জায় পরে উঠেছে রাঙিয়া: 
উঠে নামে বক্ষঃস্থল-_আঁলগ্গন মাঁগ, 


যেন অগ্রসর, পরে যাইছে ফিরিয়া 
দীর্ঘম্বাসশ' হতা*বাসে। 
তারা। [চমকিয়া উঠিয়া] কে তৃমি2 


জয়। [ সচাঁকতে ] প্রেরসা 
আম জয়মল দাস শ্রীচরণে। 

তারা । | দাঁড়াইয়া | তাঁমি' 
এখানে নিশীথে 

জয়। প্রয়ে | 


তারা। | দড়স্বকে] বুঝিয়াছ। যাও 

জয়। যাইব না হইয়া নিষ্ফল মনোরথ 
অরা! | অগ্রসর হইয়া] 

তারা। নীচ! ভর! কাপুরুষ! লজ্জা নাই : 
পঁশিয়াছ কুমারীর শয়ন-মান্দিরে, 
ীানশীথে চোরের মত 2 শলীলতাও নাই 2 

জয়। হারায়েছি জ্ঞান তারা (পদতলে পাতিত। 

তারা। | উাঁঠয়া দাঁড়াইয়া] হারাইবে প্রাণ, যাঁদ 
দশর্ঘ কর তব ঘৃণ্য উপাঁস্থাঁত। 

জয়। | ডাঠয়া] কি কারবে তারা? রুদ্ধ 
কারয়াছ দ্বার । 

তারা । রুদ্ধ কারয়াছ দ্বার ? ভাবয়াছ তাই 
নরাপদ তুম 2 বটে! আত স্পদ্ধর্ণ তাম। 
একা তারা--যুবরাজ !-_-শত জয়মলে 
চরণে দাঁলতে পারে 'পপশীলকা সম। 
মম! যাও চলি” যাঁদ প্রাণে মায়া থাকে। 

জয়। পূর্ণকাম হ'য়ে যাব। 
[কোমল স্বরে] এবার রুপসী 
ফাঁক দিতে পারিবে না আমারে 

| হস্তধারণ | 

তারা। [হাত ছাড়াইয়া শয্যার নিম্ত হইতে 
তরবার লইয়া] অধম! 
এতদৃর স্পর্ধা! স্পর্শ কর'- এতদূর 
সাহস? ক্ষান্রয় তৃমি2 বাপ্পার সন্তাত। 
বালতেছি দূর হও. নতৃবা মারবে। 

জয়। [ন্র্যস্তভাবে পলায়নোল্মুখ হইয়া। 
শান্ত হও নারী! তব কপাণের চেষে 
ভয়ঙ্কর তব ওই স্ফালঙ্গ নয়নে। 
শান্ত হও। এ মুহূর্তে যাইতেছি আম। 

জবারমৃন্ত কাঁরলেন 


আলোক ও পিস্তলহস্তে শূরতানের প্রবেশ 


শূর। এ ঘোর নিশীথে, কে ও আমার কন্যার 
শয়ন-মান্দরে ? 


ৰে 
মু 
সস 
// 


তারা। মেবারের রাজপন্র 
জায়মল। 

রা পথ ছাড় যাইতোছ চাঁল'। 

শূর। যাইবে? কন্যার কক্ষ কলীষত কাঁর' 
কোথায় যাইবে ১ আম দাঁরদ্রু পাঁতিত 
সৌভাগ্য-লক্ষরনর পদাহত; তবু আম 
রাজা, তারা রাজকন্যা; তারে সাধ্য কার 
করে অপমান হোক মেবারের রাজপব্ত 
তারে কলাঙ্কত কাঁর' যাইবে না ফিরে 
সজীব স্বগৃহে। 

জয়। [কাম্পত স্বরে] ক্ষমা কর। 

শূর। [শাথ নাই 
ক্ষমা । 

তারা। ছেড়ে দাও 'পতা পলায়নোল্মুখ 
ভয়ার্ত 'নরস্ত জনে। ক্ষাল্-প্রথা নহে 
ইহা। 

শূর। ঘৃণ্য চোর সম যে প্রবেশ করে 
পরগহে রান্নিকালে, সে ক্ষান্রয় নহে। 
তার সঙ্গে পালনীয় নহে ক্ষাত্রপ্রথা। 
সে তস্কর মান্র। তস্করের দণ্ড 'দব। 
_জয়মল দাঁড়াও সম্মুখে । 

জয়। [জানু পাঁতয়া] ক্ষমা কর। 
আর আসব না। 

শৃর। চোর। দাঁড়াও সম্মৃখে। 

গুল কারলেন 


তৃতীয় অঙ্ক 


প্রথম দংশ্য 


স্থান--রাণার কক্ষ । কাল- প্রভাত। 
রাণা ও সূর্ধামল 

রায়মল। মাঁরয়াছে জয়মল। ভ্রাতা পূর্বে আঁম 
শুনিয়াছ সেই বার্তন। 

সূর্য্য। 
সে কথা আমারে ? 

রায়। কাঁহ নাই গক কাহব? 
কাহবার নহে সে কলঙ্ক কাঁহন। 
শুনলাম যবে তাহা অমান, লজ্জায় 
রীস্তম, আকাশ যেন ভাঙয়া পাঁড়ল: 
মেবারের রাজবংশে অমনি কে যেন 
কাঁলমা ঢাঁলয়া দিল।_এত কাপুরুষ 
বাস্পার সম্তাঁত! রায়মলের কুমার!!! 


কহ নাই কভু 


৬৯ 


_'এত নীচ!!! অহো ধিক-_|মুখ ঢাকলেন] 

সর্য্য। হায় জয়মল! 

রায়। কাঁহও না “হায় জয়মল”। লাভয়াছে 
যোগ্য শাস্ত সে অধম। 

সূর্যয। কেন মহারাজ: 

রায়। সৈ দুরঃআ্সা কলাঙ্কত কাঁরবারে চাহে 
কুমারীর শুদ্রশয্যা; হেট করে নিজ 
বংশের গৌরব; করে লাঞ্চনা নিভ'য়ে 
দুর্ভাগ্য গাঁতিতজনে : যোগ্য দণ্ড তা'র 
মৃত্যু। তা' দিয়াছে শুরতান।_দুঃখ এই 
[দিতে নাহ পারলাম স্মত্যুদন্ড তা'র 
স্বহস্তে আমার। 

স্য্য। নাহ লবে প্রাতশোধ 2 

রায়। প্রাতিশোধ ১ সূর্য ভালো মনে কারয়াছ। 
ল'ব প্রাতশোধ! ল'ব এই প্রাতিশোধ,_ 
আমার রাজত্বখণ্ড 'দব প্রতাঁড়ত 
লাঞ্ছত সে শুরতানে ;-এই প্রাতিকার 
সন্তানের দুঙ্কাতির, সাধ্য যতদ্‌র 
পতার-কারব আঁম।- যাও সূর্যযমল! 
মন্ত্রে পাঠাও রাজমল্প্রণা ভবনে, 
এক্ষণে । [প্রস্থান। 

সূ্ধ্য। মহৎ আত চারন্র তোমার। 
ণকন্তু--কিল্তু-এতদ্‌র--ভাঁব নাই কভু 1 


[ প্রস্থান। 
দ্বিতীয় দৃশ্য 
স্থান-আরাবলীর সান্দেশ। কাল- প্রাহু। 
একাকী সঙ্গ 


সঙ্গ। কোথায় মেবার রাজ্য-_কোথায় সুদূরে 
এই ক্ষুদ্র গ্রাম আরাবলী পদতলে । 
দূরে নদী বহে; উদ্ধের্ব চাহে ঘননশীল 
উদার আকাশ; নিম্নে শ্যামল ধরণী; 
চরে তাহে মেষপাল, দোঁখতোঁছ তাহা 
আলেখ্য 'চাব্রত, যেন গারশঙ্গ হ'তে। 
আমি মেষপালক এক্ষণে । মন্দ নহে; 
রাজপুত্র সঙ্গ আম গোমেষ-রক্ষক 
এ দাঁরদ্র ককের । কে বালবে আম 
রাজপুত্র ১ যেই সাজে সাঁজয়াছি আজি. 
আপনারে আপানই চিনতে না পারি। 
_নিয়তির চক্র !-মন্দ নহে এ জীবন” 
তবে বড় শত লাগে শশতে; গ্রীব্মকালে 
প্রথর ৌদ্রের তাপ সহ্য নাহ হয়। 


৬২ দ্বজেন্দ্রু' রচনাবলশ 


কালে সহ্য হইবে ।- আশ্চর্য্য! মনৃষ্যের 
জশবন ধারণ জন্য এতই সামান্য 
প্রয়োজন! খানি দুই দগ্ধ রুটি খাই ।__ 
_-তাহাতেই দিন চলে" যায়।_-কি ভাঁষণ 
ওই গিরিগৃহা। কি সুন্দর নির্ঝারণী- 
এই ভয়াবহস্থানে;_দৈত্যের সহিত 
বিবাহিত যেন কোন কৃশাঞ্গণী অপ্সরা। 


বনদেবাঁগণের গীত 


এক শ্যামল সুষমা, মধুময় বিশব 
1শাশর খত অন্তে; 
নবঘনপলপ কো কিলমখরনিক্জসমত্রবসন্তে। 
ন্দর ধরণ সন্দর নীল 

সানম্মল অম্বর ভাত, 
অরুণকিরণঅণুরাঞজজত তরুণ 

জবাবনমালাতজাতি। 
এক স্নিগ্ধ সৃলালিত বহে তনু 

1শহার' পবন মৃদুমন্দ ; 
একি স্বগ্নাবজড়ত পদে পাঁড়' 

মূচ্ছিতি কুসুমসুগন্ধ: 
কার মুখছবি অরুণ কিরণ সহ 

হৃদয়ে উঠছে ধীরে; 
কার নয়নদুট আঁঞ্কত কারছে 

চম্পক সরসী নীরে। 
আনে কার স্পর্শ সুখস্মীতি মলয়জ 

কাঁর' অনন্কম্পা; 
কার হাস্টুকু কার' পারিলুণ্ঠন 

গাক্বত বিকাঁশত চম্পা: 
কার প্রেমমধুর মদ অস্ফুট বাণশ জাগে প্রাণে 
চপলপবনাবকাম্পতাকশলয়পল্লবমম্মরতানে। 


সঙ্গ। সেই মুখখানি মনে আসে; আবিরত 
তার মধ্মাখা বাণী-কর্ণে বাজে! চাহ 
ভূঁলিতে তাহারে কই ভুলতে পারি না। 
তারা! না, ভুলব তারে নিশ্চয় ভুঁলিব! 
এতটুকু বল নাই? ইচ্ছা শান্ত নাই 
তবে কেন পশু হয়ে জল্মি নাই? তবে, 
কোন্‌ স্বত্বে ধারয়াছি মনুষ্য শরীর ? 
ভুলিব তাহারে: আঁম ভূঁলব 'নশ্চয়। 
কৃষকের প্রবেশ 
কৃষক। তোর দিয়ে মোর কাম চলবে না। 
সঙ্গা। কেন? 
রুরু । তু ভেড়া চরাব কি? দুপুরে 
রুদ্দুরে গাছের গড়তে হেলান দিয়ে ভাবিস। 
না? 


পিপিপি 


সঞ্গ। | ছল ছল নেত্রে] হাঁ ভাব। 

কৃষক। আবার তু শুনৃতে পাই যে রাতে 
লুকিয়ে বাহ পাঁড়স্‌। 

সঙ্গ। হাঁ, পাঁড়। 

কৃষক। তা হ'লে কাম চলবে কি করে'2 
তার উপরে তু বসে বসে' কেবল তুই রুটি 
খাস-। নাও 

সঙ্গ। | অন্যমনস্কভাবে | 
খাই। 

কৃষক। আবার এমন লম্বা লম্বা কথা 
কাঁহস্‌ যে. মুই সমজাতে পার না। তোরে 
বকৃূলে এমনি হাঁ ক'রে চেয়ে থাঁকস্‌ যে তোরে 
বকতে দুকু হয়। না তোরে আমি আর 
রাখবো না। তু মাহনা নিয়ে বিদেয় হ। 

সঙ্গ। যে আজ্ঞা। 

| কুর্নিশ কারয়া প্রস্থান। 

কৃষক। বাঃ! এ ত বেশ মজার নোক 
দেখুছি। নকার ছাঁড়য়ে দিলাম._-ত সটাং বল্লে 
“যে আজ্ঞে"! বেটা যেন রাজপুত্তুর- দোখ 
লোকটাকে বাঁঝয়ে দৌখ. যাঁদ থাকে । লোকটা 
ভালো। 


হাঁ র্দাট 


কৃষকরমণশর প্রবেশ 


কৃষকরমণী। তুমি অমাঁন ধাঁ করে' লোক- 
টাকে ছাঁড়য়া দেলে! 

কৃষক। হাঁ দেলাম! তাই হয়েছে কি' 

কৃষকরমণী। এখন আবার লোক দেখ! 

কৃষক। তা দ্যাখবো! তাই কি! 

কৃষকরমণী। কি আবার! এমন লোক 
কোথা থেকে পাও দোঁখ। 

কৃষক। কেমন লোক। 

কৃষকরমণী। এই এমন খাসা লোক! 

কৃষক। তা খাসা লোক পাঁথবীতে বুঝি 
এ একটাই জল্মেছেল 2 

কৃষকরমণন। আহা এমন শিম্ট শান্ত__ 
মুখে রা টি নেই আর মুখখানিই বা কি! যন 
ছাঁচে ঢালা! মর মার কি পটল চেরা চোখ। 
যেন সব্বদাই ছল ছল কচ্ছে গা! 

কৃষক। ওরে আবাগণর বেটশ! তোর ওর 
সঙ্গে আসনাই ছেল বোধ হচ্ছে। আম ভাব- 
ছেলাম বটে যে নোকটাকে ব্যাঝয়ে সুঁঝিয়ে 
রাখি। কিন্তু এখন-_ ওকে শুধু ছাঁড়য়ে দেবো ? 


তারাবাই ৬৩ 


ওকে কুরুল মেরে বিদেয় করে' দেবো। দাঁড়া, 
আম এক্ষাঁণ ওর ভূত ঝাঁড়য়ে 'দিচ্ছি। 

[ সবেগে প্রস্থান। 

কৃষকরমণণী। ওমা মোর কি হবে গো! 

ওগো এমন রাগ ত কখন দ্যাখাঁন গো! ওগো, 

বাছা বড় ভালো মানুষ, ওকে মেরো না গো 

ওকে মেরো না। ভালোয় ভালোয় 'বদেয় করে' 


দাও । [ পশ্চাদ্ধাবন। 
তৃতীয় দৃশ্য 
স্থান_ মীনরাজ্য। কাল--প্রভাত। 
পৃথবী ও বাঁণক 


পৃথবী। স্থাঁপয়াছি নবরাজ্য স্বীয় বাহুবলে । 
দেখায়োছ পিতারে এ দেহে, এ শোঁণিতে, 
বংশের মর্যাদা ভিন্ন আরো কিছু আছে। 
বব্ধর মীনের রাজ্য এই বাহুবলে 
কারয়াছি করায়ত্ত। ভ্রমে রাজপুত 
নাড়োলে নিভয়ে আজ। 
বাঁণক। সত্য প্রিয়বর । 
পৃথবী। পণ্ট অ*বারোহশী সহ আঁসয়াছলাম 
এ রাজ্যে, এখন পণ সহম্ত্র সেনানী 
আমার প্রভুত্ব মানে। 
বাণক। [স্বগত] হায় এ বীরত্ব 
যদ্যাপ হইত নম্!_এ জগতে হায় 
নাহ হয় কেহ বাস্তাঁবক একাধারে 
সব্্ব গুণান্বিত। 
দৌবারকদ্বয়ের প্রবেশ 
পৃথবী। কি সংবাদ দৌবারক ? 
দৌবারিক। | মহারাজ ! 
আঁসয়াছে এক বার্তাবহ এইক্ষণে 
মেবার রাজ্য হতে প্রভুর সমীপে। 
পৃথবী। মেবারের রাজ্য হ'তে? নিয়ে এস 
তারে। 
[ দৌবারকের প্রস্থান । 
পৃথবী। মেবারের রাজ্য হ'তে? ক কহ বাঁণক 
কি বার্তা লইরা আসিয়াছে বার্তাবহ ? 
বাঁণক। বুঝিতে না পারি। 


প্রবাহের প্রবেশ ও আঁভবাদন 


পথবা। তুমি আসিয়াছ দূত! 


মেবারের রাজ্য হ'তে। 


দৃত। আমি আসয়াছি 
মহারাজ! মেবারের রাজ্য হ'তে। 
পৃথবী। শুনি 


এনেছ কি বার্তা 2-পিতা আছেন কুশলে ? 
দূত। কাঁহবে এ পন্ন তাহা! 
পৃথবী। দাও পন্রখাঁন। 
[ পত্র গ্রহণ ও পাঠ] আশ্চর্য্য! আশ্চর্য্য! 
বাণক। [সকোতূহলে] কি সংবাদ 2 প্রয়বর ! 
[জিজ্ঞাসা করিতে পাঁর ? 
পৃথবী। বন্ধুবর! পিতা 
[লাখয়াছেন এ পন্র, আহ্বান করিয়া 
আমারে মেবার রাজ্যে । 
বাঁণক। সহসা! কারণ ? 
পৃথবী। কারণ? কারণ মৃত ভ্রাতা জয়মল। 
বাঁণক। জয়মল মৃত ? হেন সহসা? কির্পে 2 
পৃথবী। [বাঁণককে] পড় এই পন্রখাঁন ? 
| পনর প্রদান] 
[দত] যাও দূত! কর 
বিশ্রাম বিরামগহে ; অপরাহেে এই 
পন্রের উত্তর দিব। 
দূত। যথা আজ্ঞা প্রভু! 
[ সাভবাদন প্রস্থান। 
বাঁণক। অত্যাশ্চর্য্য বার্তা !--তবে তুমি এইক্ষণে 
মেবারের যুবরাজ ? 
পৃথবী। আঁম যুবরাজ। 
তথাঁপ না চাহ, বন্ধু, সে সম্পদ আম! 
গাঁড়য়াছি নিজ রাজ্য স্বীয় বাহুবলে । 
বাঁণক। যাইবে না চিতোরে ফিরিয়া 2 
পৃথবী। কদাঁপ না। 
বাঁণক। অতঁব বিস্ময়কর এ প্রেম কাহনী! 
শুরতান কন্যার এ প্রাতজ্ঞা অন্ভূত-_ 
“ববাহ কারবে তারে সে বীররমণণ 
যেই উদ্ধারবে তা'র 'প্রয় মাতৃভূমি ।” 
_হেন পণ, বন্ধুবর!-_ শুনি নাই কভু, 
কালকালে কাঁরয়াছে কোন স্বয়ম্বরা। 
পৃথবী। কিরূপ সে নারী জানো বন্ধু? 


বাঁণক। অনুপমা ! 
পৃথবী। তাহার কি নাম? 
বাঁণক। “তারা” তারার মতই 
অন্য নারী হ'তে উদ্দের্ব স্থিতা, ৮ 
জ্যোতিম্ময়শ। 


পৃথবশ। উত্তম! আমিই তবে করিব ভ্রাতার 


৬৪ দ্বজেন্দ্র রচনাবলস 


নিম্ষল প্রাতিজ্ঞা পূর্ণ! আম উদ্ধারিব 
তোড়া। 

বাঁণক। বুঝিয়াছ। তাহা যাঁদ কর সখে, 
লাঁভবে অতুল কীর্ত বিশ্বে; তদৃপাঁর 
লভবে রমণন এক_ অতুল জগতে। 


ভূত্যের প্রবেশ 


ভৃত্য। আগত মধ্যাহ্ন প্রভু । 
পৃথবী। সত্য নাকি' চল 
[ফিরিয়া] আসিও পরব বন্ধু। 
বাঁণক। উত্তম, আঁসিব। 
[উভয়ের বিপরশত দিকে 


চতুর্থ দৃশ্য 
সথান_-সিরোহী রাজার বিলাস-গৃহ। কাল-রান্তি। 
পাঁরিষদবর্গ ও নর্তকীগণ : 

১ পারিষদ। রাজা কোথায় হে? এখনো যে 
সে বেটার দেখা নেই! 

২ পাঁরষদ। [মাঁদরাজাড়ত স্বরে] সে বেটা 
কোন্‌ খানায় পড়ে আছে আর ?কি। 

৩ পাঁরিষদ। বেটা কখন্‌ যে কোথায় থাকে 
তার কি ঠিক আছে! 

৪ পারিষদ। কোথায় যে থাকে না তা কিন্ত 
খুব ঠিক আছে। 

১ পারষদ। কোথায় হে? 

৪ পারিষদ। নিজের অন্তঃপুরে। মাসের 
মধ্যে তিনি গড়ে এক 'দিন সে দিকে যান। 

৩ পারষদ। আহা রাণশ বেচারশর কি কষ্ট! 
-চিতোরের রাণার মেয়ে। 

৪ পারষদ। আহা বড় ভাল মেয়ে । দেখলে 
ত সে 'দন। 

১ পারষদ। আহা! 

২ পাঁরষদ। তোমাদের যে তার জন্যে 
শোক-সাগর উলে উঠলো । [ নর্তকণীদগকে ] 
গাও গাও তোমরা গাও আমোদের সময় 
আমোদ কর। 


নর্তকীগণের গত 


তত । 


_-বাহিবে পাঁড়য়া অসীম আঁধার-_ 
বনপ্রান্তবে ঘন আবারয়া। 
উছলে কক্ষে সংগীতরব নৃত্যলহবী, 
রাঁহয়া রাঁহযা: 
_সুদর মলয়ে নিঠুর শীতের কঠোর 
বাতাস বাইছে বাঁহয়া ; 
তোরণস্তম্ভাঁশরে দোলে যবে 
গোলাপমালকা ক্লটাগরবে, 
বিজন 'বাঁপনে নিভৃত নখববে 
[তামিরে শেফালি পাঁড়ছে ঝাঁরষা। 


১ পারষদ। বাঃ বাঃ এ গানটি আমাদের 
রাজারাণীর অবস্থার আত সুন্দর টকা। 

২ পাঁরষদ। একেবারে মল্লনাথ । 

৩ পাঁরষদ। কি! ক বল্লে হে? 'তামরে 
শেফাল পাঁড়ছে ঝারয়া-_না ? 
৪ পারষদ। বাঃ আত 

হাজারি 

২ পারদ! আরে রেখে দাওএ রকম 
জায়গায় তোমাব ও বেদব্যাস ভালো লাগে 
না!-একটা ভালো গান গাও। 

১ পারষদ। এ গানটা বুঝাঁলনে * 
কুলাঙ্গার ; 

২ পারিষদ। আর তুই বাপের ভার 
সুপূত্র' একেবারে কূল আহুলা করে' বসে' 
আঁছস্‌ বেটা। 

৩ পারষদ। আরে চটো কেন? 

২ পারিষদ। দেখ দোৌখ! মশছেন ত এই 
দলে, মোসাহেবী কচ্ছেন ত এক অপণগণ্ড 
অধ্যায় । আমরা উচ্ছন্ন িইছি স্বীকার করি। 
এ"রা সব উচ্ছন্নও যাবেন আবার দেখাবেন যেন 
এপ্রা এই সে দন হোল খব্যশৃঙ্গমুননর টোল 
থেকে বোরয়েছেন।-বেস্টা মারো। 

১ পাঁরষদ। ঘাট হয়েছে বাবা। বেনাবনে 


সুন্দর' আত 


স্ব 


বেটা 


আর মুক্তা ছড়াচ্ছনে! 
২ পারিষদ। ওহে রাজা আসছে. রাজা 
আসছে! 


প্রভুরাওর প্রবেশ ও সকলের আঁভবাদন 
প্রভৃ। [ নর্তকাদের প্রত অঞ্গাঁল নিক্ষেপ 
কারয়া] এরা এখানে কেন 2 বেরো বেটীরা। 
বেরো! 
পারিষদবর্গ। বেরো বেরো। 
[ নর্তকীদের প্রস্থান । 


তারাবাই ৬৫ 


প্রভু। [ক্ষণেক পাদচারণ পরে] 
তামরা সব শোন। 

পাঁরষদবর্গ। শোন শোন। 

প্রভু। পৃথবীরাও করেছে কি? তার গুণ 
গান করে' আমার রাজো সকলে যে একটা হাট 
বসাবার যোগাড় করেছে, সে পৃথবীরাও করেছে 


শোন 


ক ০ 

পাঁরষদবর্গ।-তা নৈ 'কি' করেছে কি 
মহারাজ ১ 

প্রভৃ। তবে বল (পো [বালবো 2 
বোল্‌বো 

পাঁবষদবর্গ। হাঁ বপুন বলুন বলুন । 

প্রভু। নাঃ বলবো না। 


পারিষদবর্গ। না আর বলে' কাজ নেই, 
আমরা বুঝতে পেরোছ! 


প্রভী। বুঝতে পেবেছু কি বকম: কি 
বুঝেছ বল দোখ। 

পাঁরষদবর্গ। [| পরস্পরকে] হাঁ বলত কি 
বূঝেছ বল ত। 


প্রভু। কিছুই বুঝৃতে পারো 'ন। 
পারিষদবর্গ। আজ্ঞে মহারাজ, ভেবে চিন্তে 
দেখলাম যে কেউ কিছুই বুঝতে পারেনি । 


প্রভু। তা পারোন তা আম আগেই 
জেনোছু। তবে শোন বাঁল। 

পারষদবর্গ। শোন শোন, মহারাজ বল্‌ 
ছেন। 


প্রভু। শোন সে পৃথবীরাও-যে আমার 
শাশক--তার বড় ভাগা যে সে আমার 
শ্যালক-_ 

২ পারিষদ। বেজায ভাগ্য। মহারাজের 
শ্যালক হওয়া অনেকের ভাগনীপাত হওয়ার 
ধাকা। 

প্রভা। সে গোটাকতক নেড়েকে যুদ্ধে 


হারিয়ে দিয়েছে [প্রথম পারষদকে ]-কি 
বল হে। 
১ পারষদ। তা বৈ 'কি। তবে তবে 
প্রভূ । চোপরহো। 


পারিষদবর্গ। এই চোপরহো। . 

প্রভ। সে আর শস্ত কি! গোটাকতক 
নেড়েকে হারিয়েছে । শল্ত কি? 

; পারষদবর্গ। তা বৈ কি! শল্তটা কি! 


শন্তটা কি: হাঁ, যাঁদ প্রভূরাওকে হারাত তবে 
বুঝতাম । 

পাঁরষদবর্গ। হাঁ তা'লে বুঝতাম বটে। 

প্রভৃ। হাঁ আসৃূক দোখ আমার সঙ্গে ।_ 
আমি একবার একটা যুদ্ধ করেছিলাম জানো? 

৩ পাঁরষদ। আজ্ঞে না। মহারাজ যে কখন 
যুদ্ধ করেছিলেন তা ত শান 'ন'-কবে? 

প্রভৃ। এই চোপরহো-- 

পারিষদবর্গ। এই চোপরহো-- এই চোপ- 
বহো না। 

প্রভী। কবে”-সে খোঁজে দরকার কিঃ 
যুদ্ধ করোছলাম, সে কথা সকলেই জানে। 
| ৪ পাঁরষদকে | কি বল- তুমি শোনান ? 

৪ পাঁরষদ। তা মহারাজ যখন আজ্ঞে 
করেছেন. তবে অবশ্যই শুনাছি। তবে কি না 
ঠিক মনে হচ্ছে না। 

প্রভু। চোপ্রহো। 

পাঁরষদবর্গ। [সতেজে] চোপ্রও। 

প্রভূ। যুদ্ধ কারান বটে। 'কল্তু ইচ্ছে কল্লে 
কি আর পার্তেম না? 

পারষদধর্গ। ইঃ তা কি পারতেন নাঃ 

প্রভু। মনে কল্পে-বাঁর হওয়া কিঃ লেখক, 
বস্তা, গাইয়ে, যা খুসী তাই হ'তে পার্তাম। 
তবে, ক না-তবে, কি না গোড়ার বাঁধানটা 
একটু আলগা হয়ে গিয়েছিল, এই যা। 

পাঁরষদবর্গ। হাঁ, এই যা। 


পাত 

রাজা। দেখ হতে পার্ভাম নিশ্চয় আম 
মস্ত একটা বশর__ 

কন্তু গোলাগুঁলর গোলে কেমন 
মার্থা রয় না স্থির; 

আর এ বারুদটার গন্ধ কেমন 
করি না পছন্দ; 

আর সঙ্গঁন খাড়া দেখলেই মনে 
লাগে একটা ধন্দ; 

* খোলা তরোয়াল দেখলেই ঠেকে 
যেন শিরোহীন এ স্কন্ধ 

তাই বাক্যে বীরই হোয়ে রৈলাম 


তা নইলে খুব এক বড় 


প্রভু। সে নেড়েগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ করা পারিষদবর্গ। “হাঁ তা বটেই ততা বটেই ত।” 


€& 


৬৬ চ্বজেন্দ্রু রচনাবলশ 


পপির পপ 


রাজা। দেখ হোতে পার্ভাম্‌ আম একটা 
্রক্রতত্তীবিং 
কিন্তু “গবেষণা” শুনূলেই হয় 
আতঙগক উপাস্থত ; 
আর দেশটাও বেজায় গরম, আর 
শবছানাও বেশ নরম, 
আর তাও বাল প্রেয়সীর সে 
হাঁসিটুকু চরম। 
তাই তাঁকে চঙ্চা কল্লেও একট: 
কাজও দেখে বরং। 
তাই স্ত্ীতত্বীবং হোয়ে রৈলাম 
আম চটে, মটেই ত-_ 
তা নইলে বেশ এক ভাল-_ 
পারিষদবর্গ। " “হাঁ তা বটেই ত তা বটেই ত।” 
রাজা, দেখ হোতে পারতাম নিশ্চয় একজন 
উ“চুদরের কাঁব-_ 
কিন্তু লিখতে বসলেই অক্ষরগুলো 
গরমিল হয় যে সবই) 
আর ভাষাটাও তা ছাড়া মোটেই 
বে'কে না রয় খাড়া; 
আর ভাবের মাথায় লাঠি মাল্লেও 
দেয়নাক সে সাড়া; 
ছাই হাজারই পা দুলোই, গোঁফে 
হাজারই দেই চাড়া 
তাই নীরব কাব হোয়ে রৈলাম 
আমি চটে মটেই ত, 
তা নইলে খুব এক উচু 
পাঁরষদবর্গ। “হাঁ তা বটেই ত তা বটেই ত।” 
রাজা। দেখ হোতে পার্তাম রাজনোৌতক 
বন্তাও অল্ততঃ-_ 
কিন্তু কিন্তু দাঁড়াইলেই হয় স্মরণ- 
শন্তি অবাধ্য স্তর মত; 


আর মুখস্থ সব বুলি এ এমন 
বেজায় যায় সব ঘহীলয়ে 
আর সুযোগ পেয়ে রুখে দাঁড়ায় 


বিদ্রোহী ভাবগুলি হে; 
তা হাজার কাশি, আদর করি 

দাঁড়তে হাত বলয়ে 
তাই রইলাম বৈঠকখানাবস্তা 

আম চটে মটেই ত; 


তা নইলে খুব এক ভারি-_ 
পারিষদবর্গ। “হাঁ তা বটেই ত তা বটেই ত।” 


সা ীীশীশী  শিাশিপািপীপ্পা শি 


রাজা। দেখ ক্ষমতাটা ছিল নাক' 
সামান্য বিশেষ; 
কেবল প্রথম একটা ধাক্কা পেলেই 
চোলে যেতাম বেশ; 


হতাম পেলে সুযোগ ও বুঝি 
ওই কেম্ট বন্টূর মধ্যে একটা 


কিন্তু 
তাই 


দলে নাক কেহ? 
যা'ছলাম তাই রয়ে গেলাম 
আমি চটে মটেই ত;-- 
নইলে- বুঝলে ক না, 
“হাঁ তা বটেই ত তা বটেই ত।” 


চন্দ্ররাওর প্রবেশ 


-”১ পারিষদ। এ কি চন্দররাও যে ভোরের 
সময় উদয় ? 

চন্দ্। মহারাজ! এক ভার জবর খবর 
এনোছ। 

২ পারিষদ। কেলেওকার তঃ 

চন্দ্র। ভারি কেলেন্কারি! শূরতানের 
একটা মেয়ে আছে তারে জানেন ত ?- মহারাজ 
খবরটা শুনছেন ? 

প্রভু। হাঁ শুন্ছি। হাঁ হাঁ তার পর! 

তানোর রে নারা েতী 
জয়মলের মৃতদেহ পাওয়া যায়__ 

৩ পারিষদ। পুরোনো খবর। 

চন্দ্র। আরো আছে। শোন না। 

পাঁরষদবর্গ। শোন শোন। 

চন্দ্র। এই রাম্ট্, যে শৃরতানই তাকে 
মেয়ের ঘরে দেখতে পেয়ে গুলি করে-_ 

৪ পারিষদ। বেজায় পুরোনো! 

চন্দ্র। আরে শোন না। রাণা না সেই কথা 
শৃনে- মহারাজের *বশুর- তাই শুনে 

প্রভু। -_শৃরতানকে ধরে' আন্তে সৈন্য 
পাঠিয়েছে ত। এই ত!-তার আর আশ্চর্যটা 
কি? 

চন্দ্র। আজ্ঞে তা নয়।__রাণা না তাই শুনে, 
_রাণা না তাই শুনে, রাণা না তাই শুনে 
প্রভু। ফেটে মারা গিয়েছে । এই ত! 
তা ত যেতেই পারে। 


তা 
পারষদবর্গ। 


তারাবাই ৬৭ 





চন্দ্র। আজ্ঞে মহারাজ তাও নয়। রাণা না | পারচারকা। হবে রাজপুত '_অতদর 
তাই শুনে, রাণা না তাই শুনে. রাণা না তাই পারচয় হয় নাই তাঁহার সাহত 


শৃনে_শৃূরতানকে পণচশটা পর্গণা দিয়েছে। 

পাঁরষদবর্গ। গাঁলখ্াার' 

প্রভৃ। হাঁ তা কথন হ'তে পারে? 

চন্দ্র। আসুন! মহারাজ ' মুকোবালা করে' 
দেবো। মেবার থেকে মহারাজের কাছে এক 
দূত এসেছে, সে-ই” বল্লে। 

প্রভু। মেবার থেকে দূত 2 কিসের জন্য ? 

চন্দ্র। মহারাণীকে না ক 'নতে। 

প্রভু। মহারাণীঁকে নিতে' 

চন্দ্র। দূত বল্লে চিতোরে জনরব যে. মহা- 
রাণী এখানে না কি বড় অসুখে আছেন। 
মহারাজ তাঁর ওপর না কি ভার অত্যাচার 
কচ্ছেন। 

প্রভু। বটে! তা'তে রাণীর বাপের কি! 
আমার রাণীর উপর আম অত্যাচার কর, না 
করি. আমার খুসী! তার কি; আমি ত আর 
মাইনে করা চাকর নই যে, হুকুম তাঁমল কর্তে 
হবে! চল ত সে দৃতটাকে মেরে বিদায় করে' 
[দই।_এস ত সব এস ত।__ 

পারিষদবর্গ। সর সর' মহারাজ যাচ্ছেন । 


[নিক্কাল্ত। 
পণ্টম দৃশ্য 
স্থান-বিদোর ; নদীর তরে বৃক্ষতল। 
কাল--অপরাহু । 
একাণকনী তারা 


তারা। হোল না এখনো 'সদ্ধ সাধনা আমার । 
কত বর্ষ এল গেল। পরপদানত 
অদ্যাঁপ সে মাতৃভূমি! সে পূর্ণ চন্দ্রমা 
হইল না রাহনমুস্ত! 


পাঁরচারকার প্রবেশ 
পাঁরচাঁরকা। রাজপুত্রি! ত্বরা 
আসিছেন মহারাজ, সঙ্গে রাজপুত্র 
মেবারের। 
তারা। রাজপনত্র মেবারের সে কিঃ 
কোন্‌ রাজপন্ত্র তান! 
| মধ্যম! 


তারা। কি নাম? 


পৃথবীরাও 2 


এখনো আমার । 
তারা। তুমি হাসিতে কেন? 
পারচারিকা। “কেন” তা শাঁনবে যুবরাজের 
নিকট। 
[ প্রস্থান। 


তারা । ক রূপ' অপূর্ব আচরণে 
. কঙুকরীর!!! 
_শুনেছি পথবীর নাম: কেবা শুনে নাই 2 
মহিমামেখলা তাঁর পৃথবীর ভূষণ : 
কিন্তু তিনি এ আলয়ে আজি যে সহসা 2-- 
_স্পান্দিত সহসা কেন বামবাহু আজ 2 
পারচয় হয় নাই তাঁহার সাঁহত। 
জান না করুপ তাঁন- দীর্ঘ 'িম্বা খর্ব, 
গৌরাঙ্গ অথবা শ্যাম: কৃশ কিম্বা স্থূল; 


শূরতান ও পৃথবীর প্রবেশ 


শৃূর। তারা! ইনি পৃথবীরাও। শুনিয়া নাম 2 

তারা । শুনিয়াছ নাম-মেবারের বুবরাজ! 

শূর। ইনিই আমার কন্যা তারা !--পৃথবীরাও ! 
এই দান দাঁরদ্রের মাথার মূকুট 
আমার এ কন্যা তারা ।_ কন্যা! শুনিয়া 
পৃথবীরাও উদ্ধারয়া তোড়া বাহুবলে 
প্মঠানের হস্ত হ'তে, আগত আপান 
লইয়া সে বার্তা? 

তারা । তাহা শুনি নাই পিতা । 

শুূর। মনে আছে তারা, সেই প্রাতজ্ঞা তোমাল্প ? 

তারা। [সলঙজ্জ] মনে আছে 'পিতা। 

শূর। _মেবারের যুবরাজ! 
স্বীকৃত যদ্যাপ তুমি, 'আশশব্বাদ করি ' 
বরিয়া জামাতৃরৃপে । 

পৃথবী। সম্পূর্ণ স্বীকৃত; 
স্বীকৃত যদ্যাপ তারা। 

শূর। সে ভার আমার ! 

হস্তে হস্তে যোগ করিয়া 

দিলাম তারারে পৃথবী ।-_সাক্ষীণী নারায়ণ !-_ 

সুখী হও তুমি বস! বংসে সৃখশী হও। 

ব্জরধবাঁন 


পৃথ্বী। একি বন্ধন কেন নিম্ম'ল আকাশে! 
শৃূর। বিবাহ উৎসব দিন পুরোহিত ডাকি" 
কারব এখান স্থির।_চল বৎস, তবে, 


৬৮ দ্বজেন্দ্র রচনাবলী 


এক্ষণে, বাহির কক্ষে । [উদ্ধর্বাদকে চাহয়া] 
-উঠিল ঝটিকা! 
[ পৃথবী ও শৃরতানের প্রস্থান। 
তারা । ইনি পৃথবী!!! ভগবান মনে শান্ত দাও, 
করিতে প্রাতিজ্ঞা রক্ষা! আম স্বয়ম্বরা, 
ক্ষত্রিয় রমণী, নাহি ভঙ্গ হবে কভু, 
ক্ষন্িয়ের পণ! 


পারচারিকার প্রবেশ 


পারচারকা। " 
বুঝিয়াছ রাজকন্যা এতক্ষণে ?2-বর 
ধারয়াছে মনে 2 এক কেন অধোমৃখ ? 
এক কাঁদতেছ কেন ? 

তারা। না পরিচারিকা। 
কাঁদ নাই। কাহও না মাতারে এ কথা; 
করিতোছ নিষেধ । 

পাঁরচাঁরকা। কি কথা রাজপহান্তর 2 

তারা। কোন কথা নহে । চল জননীর কাছে। 

[ নিক্কাল্ত। 


ঘন্ত দৃশ্য 


স্থান_সূর্যযমলের কক্ষ । কাল- রান্র। 
মালব ও সূর্যযমল 


মালব। বৃদ্ধ রাজা রায়মল। এক পুত্র তাঁর 
জয়মল মৃত; পুত্র সঙ্গ ানরুদ্দেশ ; 
স্থাঁপয়াছে নবরাজ্য পৃথবী যুবরাজ 
সুদুর কমলমীরে। শুনয়াছি বীর 
করিয়াছে অবহেলা তা আহবান 
ণফাঁরতে মেবাররাজ্যে। অতীব সহজ 
স্‌সাধ্য মেবার আক্রমণ । তৃমি যঁদ 
এক্ষণে সহায় হও, বীরবর, আম 
পরাস্ত কারব রায়মলে অনায়াসে । 

সূর্য্য। তাহাতে আমার লাভ? 

মালব। তোমারে কারব 
মেবারের রাজোশ্বর। 

সূর্যয। রাজ্য নাহ চাহ । 
লালত শৈশবে যাঁর ভ্রাতৃস্নেহে, তাঁর 
শবপক্ষে ধরিব অস্ন? 

মালব। লালত শৈশবে ? 
** হা মৃ! লালন কে না করে অসহায় 
গনরীহ শৈশবে ? ইহা ধর্ম প্রকৃতির, 
নহে পালকের। বিশ্বে বাঁচিত কি কেহ, 


কেন হাঁসিতেছিলাম 


না রাহত যাঁদ এই মগ্গল 'ম্মম 
গাভী বংসে দুশ্ধ দেয় বিপদে তাহারে 
রক্ষা করে প্রাণপণে; সেই বংস যবে 
গাভী হয়, হয় না সে উৎসৃক সতত 
স্বকীয় বংসের হেতু ঃ জননীর পানে 
দেখেনাও চাহি”, বিশ্বে কে কাহার তরে 
ছাড়ে আপনার স্বত্ব ? 


সূর্যয। মেবার আমার 
স্বত্ব নহে, ম্লেচ্ছপাতি। 
মালব। কে বালল নহে 2 


কে বাঁলবে জ্যেষ্চন্রাতা কনিষ্ঠের চেয়ে 
শ্রেম্ভতর? এক গর্ভে জন্ম উভয়ের । 
অপেক্ষা নিকম্ট নহে। তারও দুই পদ, 
তোমারও তাহাই, বীর! দুই হস্ত তার, 
তোমারও কি নাই তাহা? সমান, তোমার 
মস্তকে, শোভে না রাজমুকুট 2 কি হেতু 
সে ভূপতি, আর তুমি শুদ্ধ পুষ্ট হও 
কপাদত্ত অন্নে তার? ধিক্‌ বীরবর! 
এ বিশ্বে তাহারই স্বত্ব যার বাহুবল। 
সূ্য্য। বাহুবল 2 আমার কি বাহুবল ? আম 
সেনাপাঁতি মানত, নহে এ সৈন্য আমার। 


রাণার এ সৈন্য । 
মালব। তান আনয়াছলেন 
সঙ্গে কারয়া ক সৈন্য তাঁর জল্মাদনে ? 


এ সৈন্যে তোমার আছে সম আঁধকার। 
কিম্বা সমাধক আঁধকার-যে কারণ 
সেনাপাঁতি তুমি, রাজামারর রায়মল। 
সূর্য। [চিন্তা সহকারে] না না, হইব না 
আমি বিশবাসঘাতক। 
মালব। না, রাহবে চিরাদন ভ্রাতৃঅন্নদাস 11! 
ভীরু সে, ষে রহে পরভৃত্য যবে তা'র 
আছে স্বীয়ভুজে শান্ত জাগো বীরবর; 
দূর কর এ কলঙ্ক, লও তরবার; 
দোঁখবে সৌভাগ্যলক্ষনী চাটুকার সম 
তার পক্ষে রহে নিত্য, যে তাহারে আনে 
ছনিয়া স্ববলে ।- তুমি পাইতেছ বটে 
অদ্য মুম্টিমেয় অন্ন দ্রাতার প্রাসাদে : 
কিন্তু যবে হবে রাজা অন্যে-কে বাঁলবে 
তাহার প্রসাদ ভিক্ষা সে দবে তোমারে? 
সূর্য্য । ি কারব ; বাঁঝ অবশ্য সম্ভাব্য, ইহা 
ফাঁলবেই বুঝি সেই চারণশর বাণশ। 


তারাবাই ৬৯ 


আম কি করিব? আমি হস্তে নিয়াতর 
ক্ষুদ্র যল্তরমান্্।_ইহা ঘাঁটবেই পরে। 
[প্রকাশ্যে তাহাই হউক তবে। 

মালব। [সোল্লাসে] স্বীকার? 

সূর্যা। [উদ্দ্রান্তভাবে] স্বীকার । 

মালব। না, কর শপথ । 

সূর্যয। [তদ্রুপ] কাঁরলাম অঞ্গীকার। 

মালব। [কাগজ বাহর কারয়া] এই অঙ্গীকার 
পন্র। দেহরন্ত দিয়া ইহাতে স্বাক্ষর কর। 


সূয্য। এত আঁবম্বাস ? 
এই নেও কাঁরলাম স্বাক্ষর । 

মালব। উত্তম ' 
কাঁরলাম পরণক্ষা যে প্রয়োজনস্থলে 
রন্ত দিতে পারো কি না। 

সূর্যয। চ্লেচ্ছরাজ ! আঁম 
ক্ষতিয়। 


মালব। ক্ষত্রিয় তম: প্রকৃত ক্ষা্রয় । 
যাও, একান্ত কর সৈন্য, সেনাপাতি' 


আম একব্লিত কার নিজসৈন্যবল। 
সূর্ধ্য। উত্তম! 
মালব। উত্তম!-তবে আস এইক্ষণে। 


[ মালবের প্রস্থান। 
সূর্যয। মেবারের অধীশ্বর আম! ভয় করে 
ভাবতে সে কথা। মেবারের অধীশ্বর ।__ 
উচ্চপদ! কিন্তু বাল 'দতোছি, দয়াঁছ 
সে উদ্দেশ্যে সব্ত্বধর্ম সর্্বপুণ্ফল' 
_াঁক উৎসর্গ! হইতোছ বিশ্বাসঘাতক 
ভ্রাতার নিকটে! করিয়াছ সমূচিত ? 
না না, করি নাই বুঝিতেছি। কর নাই 
উচিত। অন্যায় করিয়াছ, বৃঝিতোঁছ 
ক্রমে স্পম্টতর। আম" গভীর অন্যায় 
কর্ম করিতেছি। "ক কাঁরব?ঃ_ করিয়াছি 
অন্যায় প্রাতিজ্ঞা আজ ।-কেন করিলাম। 


তমসার প্রবেশ 


পূর্ণবাঞ্থা তব 'প্রয়ে। ূ 

তমসা। শুনয়াছি সব 
অন্তরাল হ'তে । তুম শুন নাই, যবে 
কাহয়াঁছলাম আম সে সহজ কথা, 
বুঝাইল ম্লেচ্ছপাতি আসিয়া--বুঝিলে 
অমান শশুর মত। 


:সযয। সত্য! বুঝিলাম 


অমাঁন শিশুর মত; তমসা তমসা। 
এক কাঁরয়াছ ? এক কাঁরয়াছ আমি? 
তমসা। সাঁধয়াছ কর্তব্য আপন। 
সূয্য। না না, আমি 
কারব না ঘৃণ্যকর্্ম হেন '_-কখন না। 
তমসা। করিয়াছ, মনে নাই, আপন শোঁণতে 
.দ্বাক্ষর প্রাতিজ্ঞাপন্র ঃ সেই জন্য আঁম 
পরামর্শ পাঠাইয়াছলাম মালবে 
করাইয়া লইতে প্রাতজ্ঞা পন্্খানি 
স্বাক্ষর তোমার রক্কে। 
সূর্যা। [বিস্ময় বিস্ফারিত নেত্র | 
ক বাঁলছ নারী! 
পাঠাইয়াছলে এই পরামর্শ তৃমি 2 
চক্রান্ত? চক্রান্ত! নারী! কুট রাজনীতি 
স্বতঃ ভয়ঙ্কর আত; স্ত্রীব্াম্ধ যদ্যাপ 
রাজ্যে ।__ এক কাঁরয়াছ! এক কারয়াছ" 
কারয়াঁছ সবর্বনাশ, সব্বনাশ, আঁজ। 
তমসা। যাহা করিয়াছ, কারয়াছ: সত্যভঙ্গ 
করিবে না তদুপার, আশা করি নাথ! 


হস্তধারণ 
সূর্যা। যাও, কাহও না মথ্যা সোহাগমাশ্রত, 
চাটুবাণী। নারীজাতি অত্যুন্তম পারে, 
কারতে সোহাগভাণ স্বার্থাসদ্ধি যবে 
উদ্দেশ্য তাহার !_-যাও, শুনিতে চাহ না! 
সত্যভঙ্গ কাঁরব না আঁম।-াঁকল্তু নারী! 
আপনারে শীবসঙ্জ্ন দব এই রণে! 
[ তমসাব প্রস্থান। 
সূর্যয। অবশ্য করিব এই যুদ্ধ । কিন্তু দিব 
অবসর রায়মলে, করিতে সংগ্রহ 
যথাসাধ্য সৈন্য আপনার । বৃদ্ধ আত, 
নিঃসহায় আভমান্ী ভ্রাতা রায়মল : 
নাহ চাহিবেন তাঁর সব্বগুণাধার 
পুত্রের সহায়। আম বার্তা পাঠাইব 
পৃথবীরাজে! পরে যাহা করেন ভবানী। 


[প্রস্ধান। 
সপ্তম দৃশ্য 
স্থান মশনরাজ্য। কাল- জ্যোৎস্না রান্রি। 
পৃথবী ও তারা 


তারা। 'শাঁখ নাই ভালবাসা, নাহ জানিতাম 
প্রেমের বিজ্ঞান, তুমি 'শখায়েছ নাথ, 
হাতে ধাঁর!। 


৭০ দ্িিজেন্দ্র রচনাবলশ 


পৃথবা। আম গুরু, আম শিষ্য তব। 

তারা। ভাবি নাই-_ক্ষমা কর পাতি, ভাবি নাই 
পারিব বাঁসতে ভালো তোমারে কদাঁপ। 
পৃৰ্বে যবে শুনিতাম বীরগাথা তব 
পথে চারণের মুখে, ভাবিতাম যাঁদ 
তুমি হও পাঁত মের, সব সাধ 'মটে। 
পরে যবে দোঁথলাম, লাগল আঘাত 
হৃদয়ে ও মার্ত হেন বিরুপ কর্কশ; 
ভাবিলাম আপনারে ক'রোছ বিক্রয়। 
পরে যত পাঁরচয় হইল আমার 
তোমার সাঁহত, মুগ্ধ হইলাম তত 
উদার চারতে তব। আজ কায়মনে 
তোমার চরণে দাস তারা। 

রর প্রাণেশ্বরণ! 
নাহ জানতাম 'ছিল কঠিন ভূতলে 
এ স্থির চপলা স্নিগ্ধ, এ জ্যোৎস্না জঙ্গমা, 
সজশীব সৌরভ এই, শরশরশ সঙ্গীত। 

তারা। জানি, নহে উপচারপদ এই। তুমি 
ভালোবাসো মোরে, তাই এ মূঢ় 'বিশবাস। 
আম নাহ বিদ্যুৎ কি জ্যোতল্লা কি সঙ্গীত। 
আমি মান্ত তারা।_দোষ আছে গুণ আছে। 

পৃথবী। আম ত দেখি না দোষ। 

তারা। ভালোবাসা নাহি 
দেখে, শুদ্ধ ভালোবাসে! ভালোবাসা ঢাকে 
সমদ্রবারির মত গার ও গহহরে 


কেবল সৌরভ আর কেবল সঞ্গীত। 


ভৃত্যের প্রবেশ 
ভৃত্য। উপাস্থত পরবাহ মেবার হইতে। 
পৃথবী। মেবার হইতে 2 দাও 'ফরায়ে তাহারে । 
তারা। 'ছছি নাথ! 'ফরাইয়া দবে বৃদ্ধ তব 
'পতার প্রোরত দৃতে, অবমান কার' 
তাহারে ?- প্রাণেশ! জান ইহা অভিমান। 
জান ইহা ভালোবাসো তুমি তারে; 


হইত না আভমান।--কিল্তু আভমান 
রাহৃসম গ্রাস করে পর্ণচন্দ্রে যাঁদ 
আবার সে রাহুমূক্ত পৃ্ণচন্দ্র হাসে। 
পৃথবী। উত্তম! ডাক সে দৃতে। 
ভূত্য। যথাদেশ প্রভু । 
[প্রস্থান। 
তারা । ভালো নাহ বাসো নাথ চিতোরে 2 
পৃথবী। তোর 
আমারে বাসে না ভালো । 
তারা। তোমারে বাসে না 
ভালো, কেহ হেন আছে জগতে বল্লভ ? 


দূতের প্রবেশ 


দৃত। মহারাজ! দিয়াছেন এই পন্রখানি 
সূর্যামল, মহারাজে। 

পৃথবী। দ্রাও পত্র দূত। [পর লইয়া পাঁ়য়া 
বিস্ময় প্রকাশ ] 

তারা। কি সংবাদ পন্লে2 

পৃথবী। আঁত অদ্ভুত সংবাদ! 
_যাহা, কভু কোথা ঘটে নাই, ঘটে তাহা, 
দেখতেছি, মেবারের রাজপরিবারে । 
পিতৃব্য বিদ্রোহী! সঙ্গে দিয়াছেন যোগ 
মজফর ও সারঞ্গদেব। তিন জন 
সমুদ্যত আর্মণ কাঁরতে চিতোর। 
দিয়াছেন সে সংবাদ স্বয়ং বিদ্রোহশী, 
আমারে করিয়া অনুরোধ, দিতে যোগ 
বন্ধাপতৃসহ এই যুদ্ধে 

তারা। অত্যচ্ভূত! 
যাইবে ? 

পৃথবী। না তারা! কারব না পদার্পণ 
হলি 

ৃ 1ক হেতু বল্লভ? 

প্থনী। দিয়াছেন 'পতা মোরে বাঁহচ্কৃত কার 

আপাঁন চিতোর হ'তে । তদহপাঁর পিতা 


তারাবাই ২১ 


করেন নি আহবান আমারে। পিতৃব্যের 
নাহি স্বত্ব আহবান করিতে! 

তারা। পুনরায় 

আভমান ?- রাহবে বাঁসয়া কোন্‌ প্রাণে 
যখন বপন্ন বৃদ্ধ পতা-_নিঃসহায় ? 
তান তব পিতা, তান বৃদ্ধ নিঃসহায়; 
তাঁর আভমান সাজে; কিন্তু তুমি নাথ !_ 
পত্র তাঁর, বীর, পূর্ণ সম্পদগোরবে : 
এই: ক্ষুদ্র আভমান তোমারে না সাজে। 
তোমারে না সাজে হেথা রাঁহতে এ হেন 
মগন সুখে. নিরুদ্বেগে, নিশ্চিন্ত হৃদয়ে । 
যখন তোমার 'পতা আচ্ছন্ন বিপদে 
_উঠ বীরবর! উঠ প্রাণাঁধক! উঠ, 
এ কলঙ্ক কর দূর ।__এ ঘন কালমা 
স্পর্শ কাঁরবে না তব শুভ্র যশোরাশ। 

পন্থবী। তাই হোকৃআর তুমি 2 

তারা।, যাইব সমরে 
পাতিসঙ্গে। নাথ! আম ক্ষান্ত রমণী । 

পৃথবী। তাহাই হউক! তারা '--তুঁমি ধন্য 

নার ।-_ 

তুঁলিছ গাঁড়য়া তুম নিজ হস্তে 'প্রয়ে 
চারত্র পৃথবীর । 

তারা। আম শুদ্ধ বাঁহুসম 
করিতেছি অনাবিল খাঁনজ কাণ্চনে। 

[নিচ্কান্ত। 


চতুর্থ জঙ্ক 
প্রথম দংশ্য 
স্থান_রাণার কক্ষ । কাল-প্রাহু। 
একাকী সশস্ত্র রাণা 
রায়মল। বাঁধয়াছে সমর। বিদ্রোহী সেনাপাতি, 
দয়াছে সমরে যোগ মালবের সনে 
সসৈন্যে হা সূর্যামল! সাহয়াছি আম 
নীরবে উপর্য্যপার তন পূুন্রশোক, 
একমান্র প্রাণাঁধক কন্যার বিচ্ছেদ; 
কিন্তু এই তব আচরণ._সূর্ধমল- 
শেলসম বাজিয়াছে বক্ষে । এত ব্যথা 
কভু পাই নাই। "ক কাঁরলে সূর্যামল! 
কি কাঁরলে ?__এ যে কভু স্বগ্নে ভাব নাই। 


দৃতের প্রবেশ 
রায়। ক সংবাদ দূত? 


দৃত। রাণা! সমূহ বিপদ 
করিয়াছে আধকার শত্রুদল আস", 
-দাঁক্ষণে বাতুরো সাদ্রি। 
রায়। ইহা সত্য কথা ? 
দৃত। সত্য কথা মহারাজ! আসছে এক্ষণে 
আক্রমণ করিতে চিতোর। পাঁতিয়াছে 
[শাবির গম্ভশরাতণরে। 
রায়। স্পর্ধা এতদূর! 
কি কারছে আমার সেনানশ ? 
দৃত। পলাঁয়ত, 
নব সেনাপাঁত সহ। 
রায়। ণনয়াছে উৎকোচ ।-- 
চিতোর প্রহরিগণ ? 
দৃত। 
চিতোরের পূর্ববং।. 
রায়। 


রক্ষা করে দ্বার 


অত্যুত্তম! যাও! 

[দৃতের প্রস্থান। 
স্বয়ং যাইব আম সমরে প্রত্যষে। 
ক কারব' ঃ একাকণ মারব যুদ্ধে, আম 
ক্ষান্তয়। জানি না ভয়। মৃত্যু আর আম 
এক ক্রোড়ে মানূষ হয়েছি । নাহ ডাঁর 
মৃত্যুরে। মারব আজ ক্ষানয়ের মত 
'চিতোরের রাণার মতই. আস করে, 
যুদ্ধক্ষেত্রে মহানন্দে।_কল্তু সূর্ধযমল 2 
ক কারলে তুম ?- রক্ষা কর মা ভবানণী। 
চক্রীর চক্রান্তগত লব্ধ সূর্যমলে । 

[ প্রস্থান। 
দ্বিতীয় দৃশ্য 
স্থান_শাবির। কাল- অপরাহু। 
একাকিনী তারা 
তারা। বাধিয়াছে ঘোর যুদ্ধ। মরণ কল্লোল 
উঠিয়াছে চাঁরাদফে। দৌখয়াছ আজ, 
যাহা দোখ নাই পূর্বে জীবনে কখন, 

গজবাজাীমননষ্য রন্তান্ত কলেবরে 
গড়াগাঁড় যায়, ভূমিতলে স্তৃপীভূত 
একাকার ।_শুনিয়াছ-_যাহা শুনি নাই 
পৃহ্রে কভু _শস্ত্ধঙ্নি, সমরচশৎকার, 
মরণের আর্তনাদ--বিমাশ্রত ঘোর 


৭৭ 


প্রহরীছ্বয়ের সাহত শৃঙ্খলিত মজফরের প্রবেশ 


প্রহরণ। যুবরাণশ! 
তারা। আমার শাবিরে! 
রাখিব বান্দরে কোথা? 


বীর তুমি মজফর! দিব মস্ত কাঁর' 
এই যুদ্ধ অবসানে তোমারে! 'নিভ'য় 
রাহও! আমরা ক্ষত্র! বধ নাহ কার 
নিরস্ত্র বল্দীরে! 
মজফর। তুমি বীর নার বটে! 
তারা। তুম দেখ নাই পৃব্বে ক্ষব্রিয় রমণণী! 
ক্ষা্নয় রমণী আম! যাও, নিয়ে যাও 
বন্দীরে প্রহরী! 
[সৈন্যসহ মজফরের প্রস্থান্‌। 
তারা। এই জয়বার্তা যবে 
শুনবেন যুদ্ধ হ'তে 'ফাঁর' প্রাণেশ্বর, 
কত ভালোরাসবেন আমারে । আমার 
আজি গৌরবের 'দন-কিন্তু এইক্ষণে, 
কোথা য্‌বরাজ ;-_ অবসানপ্রায় 'দবা। 
এখনো সমরক্ষেত্র হতে, কই, তান 
নহে প্রত্যাগত 2 যুদ্ধে নাথের উল্মাদ 
জানি__ 


সৈন্যদলসহ সেনাপাঁতর প্রবেশ 


_এাঁক সেনাপাতি' তুমি আঁসয়াছ 
যুদ্ধক্ষেত্র হ'তে ? 

সেনা। সত্য, আসতোছ আম 
যুদ্ধক্ষেত্র হতে, রাণী। 

তারা। কোথা যুবরাজ '-_ 
হইয়াছে জয় ১ 

সেনা। হায় রাজপুত্রি '-জয়! 
প্রবেন্টিত যুবরাজ শন্রু সৈন্যদলে, 
যুঝছেন, বীরবর, "দৃপ্ত সংহবৎ : 
কিন্তু এতদূর অগ্রসর যুবরাজ, 
ফিরিবার নাহি পথ। তাঁর সৈন্যদল 


'দ্বজেন্দ্ রচনাবলী 


এইক্ষণে যাই যুদ্ধে পুনব্বার আম, 
উদ্ধারব যুবরাজে।_কে আসিবে এস। 


যার ইচ্ছা এস সঙ্গে । যার ইচ্ছা রহ। 
সেনাপাতি। ফুববাণী! কে রাঁহবে ল.কায়ে 
গাহবরে 
যখন গভীরস্বরে ডাকেন জননী? 
কার প্রাণে এত মায়া ?_চল মা এক্ষণে, 
বিপক্ষ 'শাঁবরে পাড়” কারয়া হুঙ্কার, 
জানব সমর কিম্বা মারব সংগ্রামে । 
তারা । চল তবে, ডাক সৈন্যে, কহ “ভয় নাই: 
ঘন উচ্চৈঃস্বরে। 'ভয় নাই, আম আছ? 
[জানু পাঁতয়া] রক্ষা কর ভগবাঁত চণ্ডি। 
প্রাণেশবরে, 
যতক্ষণ আম নাহ আস পারবে তাঁর। 
_দাও শান্ত মহাশান্ত' যাইছে সমরে 
সতাঁ-_তার প্রাণে*বরে করিতে উদ্ধার । 
[ নিক্কান্ত। 


ভৃতীয় দৃশ্য 


1 


স্থান_একটি ৮ গৃহাঞ্গন। এ 


শান্তিরক্ষক প্রহরশ ও জনৈক 

রক হা 

শাঁন্তরক্ষক। হাঁ হাঁ কি রকম বল দোৌখ! 
কে জিতলে 2 

সৌনক। আঃ. যুদ্ধ দেখে চক্ষু জুড়িয়ে 
গেল। 

শান্তিরক্ষক। এ্াঁ! 
জুড়িয়ে গেল কি রকম! 

শান্তিক্ষক। কে জিতলে? 

সৈনিক। যুদ্ধ যারে বলে! 

শান্তরক্ষক। কি রকম! কে জিতলে? 

সৌনিক। তবে শৃনবেট শোন। কিন্তু 
আমি যে রকম নিয়মে বলবো, সেই রকম নিয়মে 
শুনে যেতে হবে। নৈলে_ এই চুপ। 

উভয়ে। আচ্ছা তাই। 

সৌনক। এই শোন। এই প্রথমতঃ মনে 
করো খুব যুদ্ধ হচ্ছে। মনে করো। 

উভয়ে । আচ্ছা। 


যুদ্খ দেখে চক্ষু 


তারাবাই ৭৩ 





সৈনিক। মনে কচ্ছো? 

উভয়ে । কচ্ছি। 

সৌনক। মনে কচ্ছো?ঃ 

উভয়ে । কচ্ছি, তারপর 2 

সৌনক। ও রকম “তারপর” বল্লে চলবে 
না। শুদ্ধ শুনে যাও। 

উভয়ে । আচ্ছা। 

সোনিক। উত্তর দিক থেকে মজফর, দক্ষিণ 
দিক থেকে সারঙ্গদেও, পূর্ব দিক থেকে 
সূর্যমল আর পাঁশ্চম দিক থেকে রায়মল, 
চিতোর আক্রমণ কল্লে। 

শান্তক্ষক। সে কি? আমাদের রাণা 
রায়মল চিতোর আক্রমণ কলে কি রকম? 

টাঁনক। কি রকম আবার ।-এ রকম। 

প্রহরী । রায়মল চিতোরের রাণা, 'চিতোর 
আকব্ুমণ কর্তে যাবে কেন ? 

সোনিক। তাও ত বটে। তবে পাশ্চম দিক 
থেকে কে এল ঃ 'তিলাদক ত. মিলে যাচ্ছে, 
পশ্চিম দিকটা কি একেবারে ফকি ছল? ও 
দক থেকে কে এল? 

উভয়ে । তা আমরা কি জান 2 

সৈনিক। এই ধর- রোস- মনে করে নেও 
আম যেন_ আম যেন মজফর : তুমি সূর্যমল : 
আর তৃমি যেন সারঙ্গদেও;-আর রায়মল কে 
হবেও 

উভয়ে । তা কি জান। 

সৌনক। আচ্ছা রোস [সহসা বাহরে 
[গয়া পথবত্তর্ত একজন কৃষককে ' ধারয়া 
আনিয়া 1--এই- দাঁড়া । 

কৃষক এজ্জে, মুই ত কিছু কাঁরনি। 

সোৌনক। আরে, কে বলছে যে কারাছস্‌। 

কৃষক। এজ্েন্ব তবে_- 

সৌনক। তোকে একটু'দরকার আছে। তুই 
রাণা রায়মল হ'তে পাক ? 

কৃষক। এজ্জে না। 

সৈনিক। আজ্ঞে না কিরে! দাঁড়া, তোকে 
রাণা রায়মল হ'তে হবে। 

কষক। এতে 

সৌনক। আরে দাঁড়া না। একটু খাঁনকের 
জন্যে একবার তোকে রাণা রায়মল হ'তে হচ্ছে। 
ছাড়ছিনে। 

 কৃষক। এজ্জে, কি কর্তে হবে? 


সৈনিক। কিছু কর্তে হবে না। শুম্ধ 
দাঁড়য়ে থাক্‌। মাঝে মাঝে একবার কাস্তে 


ঘোরাতে হবে। বুঝেছিস্‌। 


কৃষক। এজ্ঞে। 
সোৌনক। আচ্ছা, স.মযযমল কে? 
ক্তর । আঁম। 


সৈনিক। বেশ! [প্রহরীকে] আর তুমি 
মজফর--না না, আম ত মজফর। তুমি হচ্ছ 
সারগ্গদেও [কৃষককে] ঠিক হয়ে দাঁড়া। 
সূর্যামল পূব্বাদকে থাক। সারঙ্গদেও- উত্তর- 
দিকে । না না, দক্ষিণাদকে- আর আম মজফর 
উত্তরাঁদকে । রায়মল মধ্যে । ধর, খুব যুদ্ধ হচ্ছে 
--1 কৃষককে ] কাস্তে ঘোরা- যুদ্ধ হচ্ছে। 

উভয়ে । যুদ্ধ হচ্ছে। 

সৈনিক। সারঙ্গদেও, দক্ষিণ দক থেকে 
এস. সূর্যামল, পৃব্বাঁদক থেকে এস। আর 
আম এই- রায়মলকে আরুমণ কর। [ সবলে 
আসিয়া কৃষককে প্রহার আরম্ভ কারল। 

কৃষক। এজ্জে_ 

সৈনিক। তোর কোন ভয় নেই । পথবীরাজ 
এলো বলে" মাথার উপর কেবল কাস্তে ঘোরা । 
দেখিস যেন আমাদের গায়ে না লাগে। ঘোরা 
-পৃথদীরাজ আর তারা এল বলে'। [কৃষক 
চীৎকার কাঁরতে লাগল ও কাস্তে ঘোরাইতে 
লাগল 


লাগাল হস্তে এক কৃষক ও কৃষক পত্নীর প্রবেশ 


২ কৃষক। সাধুসাকে মাঁচ্ছস কেন সব? 
মাতাল হয়োছস্‌ নাঁক ? বেরো বেটারা। 

সোনিক। [ফারয়া দোখয়া] এই যে 
পখখবীরাজও এয়েছে--তারাবাইও এয়েছে। এই 
তারা আমাকে বন্দ কল্লে। [কৃষক পত্ষীর 
গলধারণ ] আর পৃথবী! এ বেটা সূর্যযমল-- 
ও*র ঘাড়ে মার কোপ। আমাকে মারিস কেন ? 
আমি যে মজফর। এই যুদ্ধ খতম। পালা 
সূর্যামল, পালা সারঙ্গ দেও, পালা পালা 
পৃথবী এয়েছে। দৌড় দৌড়। 

[তিন জনে পলায়ন । 

২ কৃষকপত্নী। কি, সাধৃুসা তোমাকে 
মাঁচছিল কেন ? | 

১ কৃষক। ক জাঁন-- আমারে _ আমারে 
রাণা রাইমল সাজাইছিল। 


৭৪ ণজ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


২ কৃষক। বেটারা তাঁড় খেয়েছে নিশ্চয়। 
চল.। 
১ কৃষক। [যাইতে যাইতে] ভাঁগ্যস 
এইছালি ভাই। নইলে মোর জান যেত। 
[ নিক্কাল্ত। 


চতুর্থ দ্য 
স্থান__সূর্ধামলের শাবর। কাল-_রানরি। 
সূর্যামল ও তাহার পত্রী তমসা 

তমসা। নিদ্রা হয় নাই? 

সর্ষয্য। নিদ্রাঃ সমস্ত দিবস 
করিয়াঁছ শয্যা পাঁরক্রমণ। বেদনা 
1বষম বেদনা স্কম্ধে। তমসা! তমসা ! 
-কেন হইল না মৃত্যু ₹ পৃথবী প্রিয়তম ! 
মানুষ করোছ- ক্রোড়ে করে'; সমৃচিত 
পুরস্কার দাল আজ । তোর খকা শেষে 
পাঁড়ল এ স্কম্ধে? কিম্বা তুই ?ক কাঁরাব ? 
এঁ দৈবের প্রাতশোধ। রায়মল ভাই-_ 


হয়ো না আস্থর। 
সূর্ধয। আস্থর ? হইব স্ধির অচিরে প্রেয়সীী। 


জনৈক সৈনিকের প্রবেশ 


সৈনিক। উপস্থিত দ্বারে মেবারের যূবরাজ। 
সূর্ধয। পৃথবী! পৃথবী! নিয়ে এস ত্বরা 
সসম্মানে। 
[সৌনকের প্রস্থান। 
তমসা। [স্বগত] উপনীত পৃথবারাও ক 
হেতু শিবিরে ? 
পৃথবীর প্রবেশ 
পৃথরী। পতৃব্য, পিতৃব্য-পত্ধী, প্রণাম চরণে। 
সূ্ধ্য। এস প্রিয়তম বস! দীর্ঘজীবী হও! 
তিগাযাকি। কর আশশব্বাদ!।-_কেন 
ফিরাইছ মূখ! 
ইহা হামথক্ষেত্ নহে; এ আমার গৃহ । 
-পবী প্রাণঘাতী শর নহে এইক্ষণে; 
সে আমার শ্রাতুষ্পত্। স্নেহের সামগ্রী । 


কর আশশব্্বাদ 'প্রয়ে,-কর অভ্যর্থনা; 
_এস বৎস! প্রাপাধিক। দশর্ঘজীবী হও। 
তমসা। দশর্ঘজীবী হও। 
পৃথবী। ক্ষত কির্প? 'পিতৃব্য! 
সূর্ধ্য। বেদনা বিষম; তবু বহু উপশম 
হইয়াছে, তোমারে দৌখয়া প্রাণাধিক, 


এতাঁদন পরে। 
তমসা। পৃথবী--সাধিয়াছছ ভালো 


বাঁজয়াছে এই দুঃখ আমারে অধিক। 
ম্খ 

সূ্ধ্য। সাধন করেছ তুম কর্তব্য তোমার । 
শিতার রক্ষার হেতু উঠায়েছে আস 
িদ্রোহশীর স্কম্থে। তুমি কারয়াছ স্বীয় 
কর্তব্য! কারান আম কর্তব্য আমার। 
আম যার অন্বে পুষ্ট তাহার মস্তকে 
কারয়াছ লক্ষ্য আস! আম কার নাই 
কর্তব্য আপন। 

পৃথবী। 
এ প্রমাদ ? 

সূ্য্য। শুধায়ো না বংস, সেই কথা। 
_ভূলিয়াছ জিজ্ঞাসা করিতে এতক্ষণ, 
ভ্রাতার কুশল বার্তা । 

পৃথবী। দেখা হয় নাই 
এখনো পিতার সঙ্গে ।-পিতৃব্য এক্ষণে 
বিষম ক্ষুধার্ত আম। খাদ্যাকছু আছে ? 

সূর্ধ্য। আছে খদ্য কিছ? দাও তমসা। 


হায়! পিতৃব্য, কি হেতু 


তমসা। দিতোছ। 
[স্বগত] থাঁকত যদ্যাঁপ ভস্ম দিতাম 

ও মুখে। 

[ প্রস্থান। 


সূ্য্য। ধন্য তুমি পৃথবীরাজ! আর ধন্য তব 
নবোঢ়া বনিতা তারা;__প্রচণ্ড বিকুমে 
করিয়াছে বন্দী মজফরে বীর নারণী। 
কোথা তারা? 


পৃথবী। শাবরে। 
তমসার খাদ্য লইয়া প্রবেশ 

সূ্ধয। এনেছ ? 

তমসা। যাহা ছল এনোছ। 


পৃথ্বীর সম্মৃখে খাদ্য রাখলেন 


তারাবাই ৭৫ 


সূ্য্য। তমসা, খাইতে বল।__খাও বংস তবে। 


পশ্চদ দৃশ্য 
তমসা জানোই স্ব্পভাঁষপী স্বতঃই। স্থান_িরোহশী, যমুনার কক্ষের ছাদ। কাল-রান্রি। 
পৃথবী। [আহার করিতে করিতে] একাকিনী যমুনা 
যুদ্ধ কাঁরয়াছি আজ সিংহের 'বিক্লমে, যমূনা। ঘোর অমাবস্যা রান্ন।-_গগনমণ্ডলে 
িতৃব্য। জবলিছে নক্ষত্রপুজ, ভূত কাঁহনীর 
সর্যয। যদ্যাপ স্কম্ধে নাহি পাইতাম , ঘন নৈরাশ্য-সাগরে ।-_ 


সাম্ঘাতিক এ আঘাত সহসা, হইত 
অদ্যকার সমরের ফল অন্যর্‌্প। 
তথাপি দুঃখিত নহি।_পরাজিত আম 
স্বহস্তে লাঁলত হ্রাতুষ্পুত্রের বিক্লমে। 


_ নিস্তব্ধ ধরণশ। শুদ্ধ দূরে বংশীধবাঁন 
উঠছে বিলাপসম রজনীর মুখে 

_এস নিশাথনী! এস 'প্রয় সখী মম। 
দুঃখনী আমরা বাঁস' কাঁদ এ নিজ্জনে। 


পৃথবী। দাও বার। গশত 

তমসা। [জল 'দলেন ] ৃ রা 

পৃথহী। পান আছে? এস এস ধরা মাঝারে। 

তমসা। এই লও? [প্রদান] রাগিত দাত পানে ৯০ 

ৰ তবে হুহ কার হাদতলে দেখ কি আগুন জবলে, 

পৃথবা তব শাল্তিজলে দোব নিভাও গো তাহারে। 
যাই আম, 'পিতৃব্য, সমরক্লাম্ত আম হয় যে সময় হৃদে হৃদয়ে যে শেল [িধে-_ 
- আবার হইবে দেখা সমরপ্রাঙ্গণে, তোমা 'বিনা জানাইব কাহারে। 


প্রভাতে, ভরসা কার। 
সূর্ধ্য। নিশ্চয়, যদ্যাপ 
ক্ষণমাত্ এই ক্ষত উপশম হয়। 
পৃথবী। পিতৃব্য, 'পতৃব্য-পত্বশ, প্রণাম 
চরণে 
সূর্যা। যাও, যুদ্ধে জয়ী হও যশস্বী, সর্বদা, 
বংশদীপ- মেবারের যূবরাজ! 
[ পৃথবার প্রস্থান। 
তমসা। ব্াঝ না তোমার রীতি। 


জবালাইবে পুরপল্লী! 'িল্তু যাঁদ হয় 
জয়লাভ ? ক কার? বাঁসব আপাঁন 
মেবারের সিংহাসনে ?-না। ছাঁড়য়া দিব 
সংহাসন পৃথ্বীরাজে! সম্পান্ত যাহার, 
তাহার হউক! আম কারব যাপন 
জীবনের শেষ, দূর অরণ্যে নিভৃতে । 
ধর্ম্মকম্্স প্রায়শ্চিত্ত কারব ইহার। 


ঢেকে যায় সেই জ্যোত নাঁবড় জলদে; 
আবার দোঁখতে পাই তারে। কিল্তু হায়, 
বাঁঝয়াছি এ সমুদ্রে কূল পাইব না। 
বাঝয়াছ নাহি এই দুঃখের অবাঁধ। 
তবু ধৈর্ধ্য ধরে' থাঁক। কার এই ব্রত 


প্‌্জা- পার না। দয়াময়! শান্ত দাও, 
শান্ত 'দাও যমুনার দূর্বল হদয়ে। 
_এই ষে আসেন পাঁত! আজ যে সহসা? 


প্রভুরাওর প্রবেশ 
প্রভূ। যমৃনা!_ 
যমুনা । [স্বগত) 


স্বর মাঁদরাজড়িত 


৭৬ দ্বজেন্দ্র রচনাবলী 


প্রভু। তোমার নাম ষমুনা 2 তোমার বাপকে 
আম চান না ত। তোমার বাপের নাম কি? 

যমুনা । আমার পিতা মেবারের রাণা 
রায়মল। 

প্রভু। বটে বটে! সেই বেটাই তোমার বাপ 
বটে । এ যে ক নাম বল্লে তার। তোমার এঁ বাপ, 
প্রেয়পী তোমার বাপ চোর- বেজায় চোর ।-_ 
রাগ করো না; প্রমাণ দিচ্ছি 

যমুনা। প্রভু! আমার [পতা সাধু কি 
চোর, তা তোমার মূখে শুন্তে চাই নে। 

প্রভূ। প্রমাণ দিচ্ছি-এই সেই পাজি 
বদমায়েস বুড়ো তার বেহাই শুর্তনকে রাজ্যের 
খানিক ছেড়ে দিলে। আর আম 'কি বাবা ভেসে 
এসেছিলাম । দেখ যমুনা, তোমার ভাই ওই যে 
শালা_ পৃথবী- শালা একেবারে নীচ খোসা- 
মুদে জোচ্চোর হাড়হাবাতে বেশ্যাসন্তব_ 

যমুনা । পায়ে ধার প্রভু! আর থাকুক। 
আমার মনে ব্যথা দিও না। বড় ব্যথা পাই। 

প্রভূ। ওঃ! উনি বাথা পান ত আমার ঘুম 
হচ্ছে না। সাঁত্য কথা বলব, তার আর ভয় কি; 
নিশ্চয় বলবো। আম প্রমাণ করে দিচ্ছি, ষে 
তার স্ত্রী দস্তুর মত বারাগ্গনা ছিল। তোমার 
ভাই জয়মল তাকে রেখেছিল। তার শোবার 
ঘরে তার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। তোর 
ভাই পৃথবী-_সাধের ভাই পৃথবী-তোর প্রাণের 
ভাই পৃথবী-তাকে বিয়ে করেছে কি নাঃ 
যাব কোথায় 2 শুনে যা 

যমুনা। তা আমার কাছে বলে কি হবে? 

প্রভু। কি হবে? হবে এই যে, আমি 
তোকে মাথা মুড়িয়ে ঘোল ঢেলে গাধার পিঠে 
চাঁড়য়ে_দেশ থেকে তাঁড়য়ে দেব। এমন বাপের 
মেয়ে, এমন ভায়ের বোনকে আমার ঘরে রাখলে 
কলঙ্ক হয়। 

যমুনা। তাই হোক। 

প্রভু। কিন্তু তার আগে তোর সামনে এই 
তোর বাপকে এক পয়জার; তোর ভাইকে দুই 
পয়জার।_ | 

উদ্দেশ্যে পাদুকা প্রহার 

যমুনা পায়ে ধরতে উদ্যত প্রভু তাহাতক সবলে 
ঝর _ আঘাত ও যমনার পতন 
প্রভু। কেমন! হাঃ হাঃ হাঃ। 

ও [ প্র্থান। 


যমুনা । এই স্বামী আমার দেবতা । মা 
জগদম্বে' এ অন্ধকারে পথ দেখাও, আর 


পার না ষে।  প্রস্থান। 
ঘণ্ত দৃশ্য 
স্থান__বনস্থশাবর; স্থানে স্থানে আগ্ঘ জবালতেছে। 
কাল রান্তি। 
সূ্ধ্যমল ও সারঞ্গ 


সূষ্য। আমার যথাসাধ্য তা করোছ। নগরু 
হতে নগরে, বন হতে বনে বিতাঁড়ত হ'য়ে 
শেষে এই বাতুরো জঙ্গলে আশ্রয় নহীছ। 
আমার কাজ আমি করোছ। 

সারঙ্গ। তোমার কাজ তুমি করোন। 
সূর্ধ্য। আমার কাজ আমি কারান 2 হায় 
ভগবান্‌! ভাইয়ের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করেছি; 
ভাইপোর গায়ে অস্ত্রাঘাত করোছি। আর তুমি ? 
লুঠ নিয়ে ব্যস্ত। 

সারঙ্গ। নইলে সৈন্যদের বেতন কোথা 
থেকে আসত সূরয ? তোমার কোষাগার নেই; 
গচ্ছিত ধন নেই। 

সূ্যয। এরূপ অযথা উপায়ে. এ সমর 
নব্্বাহ কর্তে হবে জানলে, আম এতে প্রবৃত্ত 
হতাম না। 

সারঙ্গ। প্রবৃত্ত হয়েছিলে কেন ? কার দোষ ? 
সূয্য। তোমার দোষ। তোমার মল্পণায় 
এই সব্বনাশ। 

সারঙ্গ। যা হবার তা হয়েছে। এখন 
ভবিষ্যতের উপায় চিন্তা কর।-_-ও কি, ঘোড়ার 
পায়ের শব্দ না? শত্রু নাক? 

সূর্যয। এ নিশ্চয়ই ভ্রাতুষ্পুত্র পৃথবী। 
তরবার কই? 


তরবারি গ্রহণ, বেগে পৃথবী ও তারার প্রবেশ 


পৃথবী। এই যে [সূর্ধামলকে আক্রমণ ও 
সূর্যযমলের পতন ]। 

সারঙ্গ। ধক পৃথবী! তোমার 'পিতৃব্যের 
গায়ে আর সে শান্ত নাই। 

পৃথবীঁ। স্তব্ধ হ' বিদ্রোহী। [সূর্যকে] 
পরাভব স্বাকার কর? - 

সর্ধয। পরাভব স্বীকার কার, পথবী! 

পৃথবী। [সূর্ধ্কে ছাঁড়লেন] 


সূর্ধ্য। পৃথবী! তোর কাছে পরাভব 


তারাবাই ৭৭ 


স্বীকার কার, তাতে আমার লজ্জা নাই! আম 
তোকে ক্লোড়ে করে' মানুষ করেছি। এ সুন্দর 
সৃপেশী বাঁলম্ঠ দেহ ক্রমে ক্রমে চন্দ্রকলার মত 
বাড়তে দেখোঁছ। প্রত্যেক অবয়ব, প্রত্যেক অঙ্গ- 
প্রত্য্গ, প্রত্যেক ভঙ্গ আমার কাছে পাঁরচিত। 
তাতে অস্তাঘাত কর্তে আমার বুক ফেটে ঘায় 
পবা । 

পৃথবী। কি কর্রবে পিতৃব্য! যখন এই 
কালানল জঞালিয়েছ__ 

সূর্ধয। ভাঁবসূনে পৃথবী, যে আম মৃত্যুর 
ভয়ে এ কথা বলাঁছ। চিতোরের বীরমণ্ডলণীকে 
ধনয়ে আয়; এখনও যুদ্ধ কর্তে পারি কি না 
দেখ। 'কন্তু তোর সঙ্গে আর না। 

পৃথবী। কেন 'িতৃব্য, যুদ্ধে জ্ঞাতিত্ব 
নেই। 

সূর্যয। নেই বটে! কিন্তু ভেবে দেখোছ 
যে, তোর সঙ্গে যুদ্ধে আমার জয়েই বেশ 
লোকসান। যুদ্ধে আম যাঁদ মার, আমার কি? 
আম অপূত্রক, আমার জন্য কেউ কাঁদবার নেই। 
কন্তু তুই যাঁদ মারস, তা হ'লে চিতোরের কি 
হবে?-আমার মুখে চিরকালের জন্য চৃণ- 
কালি পড়ুবে। তোর সঙ্গে আর না। চিতোরের 
বেছে বেছে একশত বীর নিয়ে আয়। একা 
তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর্ব। কিন্তু তোর সঙ্গে 
আর না। 

পৃথবী। [অবনত মস্তকে] বুঝেছি 
পতৃব্য, এত দিনে বুঝোছ। যুদ্ধে কেন তোমার 
দেহ ক্ষতাঁবক্ষত হয়েছে, যখন আমার দেহে 
অস্বের দাগাঁট লাগেনি তা-এখন বুঝোছি।_ 
পতৃব্য ক্ষমা কর। 

সূর্য্য। ক্ষমা কর্্ব কি রে? তোর উচিত 
কাজ তুই কচ্চিস। আম 'বদ্রোহী; আমিই 
ক্ষমার পানর । 

পৃথবী। সে ক্ষমার উপায় আম কর্্ব।__ 
না পিতৃব্য, আর না, আমাকে আশীর্বাদ কর। 
সূর্য। [আশীব্বাদ কারলেন] এ বালকাঁট 
কে? 


পৃথবী। ইনি আমার পত্রী, তারাবাই! 
সূর্য। মা তুমি তারা! তুমিই সেই বীর 
নারী, যে স্বহস্তে মজফরকে বন্দী করোছিল! 
হাম মা, যে দেশে হেন বার নারী জল্মে, সে 
দেশে কি হেন কাপুরুষ জল্মে-যে আপনার 


ভাইয়ের বপক্ষে অস্নধারণ কর্তে হেয় যবনের 
সহায়তা গ্রহণ করে? মা তুমি আয়ুজ্মতী 
হও। 

সারঙ্গ। তবে কি বুঝবো যে এ যুদ্ধ এই- 
খানেই সমাপ্ত। 

পৃথবী। পিতৃব্যের সঙ্গে যুদ্ধ এইখানেই 
শেব। 

তারা। 'পতৃব্পত্রী কোথায় িভৃব্য ? 

সূর্যয। কালীর মন্দিরে 'িয়োছল। 
[ সারঙ্গকে 1 এখনো ফিরে নাই কি? 
সারঙ্গ। জান না [স্বগত] মাঝে মাঝে 
তাঁকে উল্মাদনী বোধ হয়। আমার প্রাত তাঁর 
আচরণ অদন্ভূত। অনেক সময় উদ-ভ্রান্তভাবে 
আমাকে পত্র সম্বোধন করেন। 

পৃথবী। এখানে কালীর মান্দর আছে না 
কি? 

সারঙ্গ। আছে। 

পৃথবী। উত্তম! কাল তুমি আম সেখানে 
[গয়ে, মাতাকে উৎসর্গ দিয়ে এ যুদ্ধ শেষ 
কব্্ব। বালর আয়োজন আমি কর্্ব। 

সূর্য্য। তাই হোক। 

পৃথবী। তবে আজ এখানে থাকৃব। 

সূর্য্য। 'নশ্চয়। 

পৃথবী। আমরা আসবার আগে তোমরা কি 
কাঁচ্ছলে খুড়ো ? 

সূর্য। এই আবোল তাবোল বকৃঁছলাম। 

পৃথবী। তোমার মাথার উপর আম হেন 
তোমার শত্রু যখন খাড়া রহীছ, তখন তৃমি এত 
উদাসীন ভাবে আবোল তাবোল বকছিলে ? 
সূর্য্য। কি কর্ব পৃথবী? তীচ্ভল্ন আর 
উপায় কি? | 

পৃথবী। চল ভিতরে যাই। 


[ নিষ্কান্ত। 
সপ্তম দৃশ্য 

স্থান__কালশর মান্দর। কাল- মেঘাচ্ছল প্রভাত। 
পঙ্থবী একাকী 


পৃথবী। কালী! জগদম্বা! "সাম করিব তোমার 
পৃজা নরবাঁল 'দিয়া। আমান্স, অথবা 
সারগ্গদেবের মৃন্ড লোটাবে চরণে 
তোমার জনান, আজ! দব মহাপজা। 
-_আসিছে সারঞ্গদেব! 


৭৮ 'ম্বজেল্দ্ু রচনাবলণ 


পারঙাদেবের প্রবেশ 
পৃথবী। পিতৃব্য কোথায় ? 
সারঙ্গ। শোশিতক্ষরণে আত দুৰ্বল, প্রভাতে 
শফ্যাগত তান! একা আঁসয়াছি আম। 
পৃথবশী। সে ভালোই হইয়াছে। 


সারঙ্গ। কই? বলি কই? 

পৃথবী। আছে বাল। 

সারঙ্গ। কই, কিছুই দেখ না। 

পৃথবী। হাঁ আছে! সারঙগদেব! বাল মাতৃপদে 
তুমি কিম্বা আম। 

সারঞ্গ। সেকি? 

পৃথবী। তুম জবালিয়াছ 


তুমি জবাঁলিয়াছ এই বিদ্রোহ। তোমার 
শোণিতে করব এই বিদ্রোহ নিৰ্বাণ। 
আম মার দিব নরবাঁল। ব্াঝয়াছ ? 
সেই বাল-__তুমি কিম্বা আম! নিজ্কাঁসত 
কর খড়া। 

সারঙ্গ। উত্তম তাহাই হোক! আস 
কর মুস্ত। [আঁস নিজ্কাসন] পৃথবীরাজ ! 

রাখিও স্মরণে, 

আম তব স্নেহাতুর কোমল স্বভাব 
অথর্ব পিতৃব্য নহি।_দয়া কারব না। 
কঠিন কপাণ এই শোণিতলোলুপ। 

পৃথবা। রক্ষা কর আপনারে বিশ্বাসঘাতক! 

যুদ্ধ ও সারঞ্গের পতন এবং দরে গিয়া তাঁহার 

মূন্ডু নাক্ষিপ্ত হইল 

পৃথবী। হোক্‌ এই রন্তে এই সমর নির্বাণ । 
লাঁভব পিতৃব্যক্ষমা, পিতার চরণে 
করজোড়ে জানু পাতি" 'দয়া উপহার 
মূল বিদ্রোহীর 'ছন্ন মুণ্ড পিতৃপদে। 


তমসার প্রবেশ 


তমসা। একি! একি! কে কারল ইহা! পৃথবশ 
তুই? কি করাল পৃথবী ? 

পৃথবী। ". পৃজা দিলাম কালীর । 
তমস্মু। 'দিয়াছ কালীর প্‌জা! দাওনি 


পৃজা, পৃথ্বী! কারয়াছ মোর সব্বনাশ। 
নিষ্ঠুর! জানিস পৃথবী কে সারঙ্গদেব ? 


পৃথবীঁ। চিতোরের রাজবংশে জল্ম তার জানি 
পূর্ব চিতোরাধপাঁত লক্ষের সক্তাঁত। 
তমসা। হায় পৃথবী!-কাহ তবে কলঞ্কের 
কথা 
আমার! সারগ্গদেব সন্তান আমার । 
পৃ্থী। তোমার সন্তান ? 
তমসা। সত্য, আমার সন্তান। কিন্তু-_কিল্তু 
নহে তার 'পতা সূর্ধযমল। 
পৃথবী। কি কাঁহছ উল্মাদনী? 
তমসা। নাহ উল্মাদিনী। 
_কর রাষ্ট্র, পৃথবী, এই কলগককাহিনী 
নগরে নগরে । আর কার নাক ভয়। 
[গিয়াছে সর্র্বৈব। ভয় কারব কি হেতু? 
যার কিছু রাখবার আছে ব*বতলে, . 
সেই ভয় করে। অদ্য আমার নিকটে 
এই বিশ্ব মরূভূমি। এই চিত্ত হতে 
সুখ দুঃখ আশা প্রীত গিয়াছে ধূইয়া, 
এ মহা্লাবনে। আর কারে নাহ ডাঁর-_ 
এস এস প্রলয়ের মহাদশী*্ত-_তবে 
জবল, জবল, দশ্ধ কর ভস্ম করে' দাও। 
[ উল্মাদবং নিক্কাল্ত। 
পৃথবী। [হস্তে মুখাবরণ কারয়া ] 
নার! ইহা কি সম্ভব! জায়া তুম 
আঁবশবাসণী ? 
নার! নারী! কি কারলে, কি করিলে তুমি । 
তুমি যাঁদ সতীধর্রমে দাও জলাঞ্জলি, 
সংসারের সকল বন্ধন ছিল্ল হবে, 
ধর্্মলু”্ত হবে;_তুমি যাঁদ আব্বাস", 
কে কাহারে কারবে বিশ্বাস 'ঘি*বতলে ? 
আহারে রাহবে বিষ; উপাধান তলে 


প্রেয়সীর স্নিপ্ধ প্রেম সর্ব অবমান, 
সব্্ব দুঃখ, সব্্ব পাপ। দেখে যাঁদ আসি, 
শুদ্ক সে নির্ঝর, নর কোথায় যাইবে? 
উদ্ভ্রান্ত পুরুষ ঘুরে কর্ম আবর্তনে! 
দাশ্বাদগ্‌; তুমি তারে রাখয়াছ বাঁধ, 
মাধ্য আকর্ষণে জায়া। ছিন্ন হয় যাঁদ 
সেই আকর্ষণ- নর কোথায় যাইবে! 
_পাঁবন্্র সম্বন্ধ সব মুছিয়া যাইবে 
সংসার হইতে ১-পিতা হবে পত্তহশন; 


তারাবাই ৭৯ 





হইবে গৃহীর গৃহ ভগ্ন ধ্বংসস্তূপ, 
মহা মরৃভূমি, মহাশনা, একাকার। 


পণ্চম অঙ্ক 
প্রথম দৃশ্য 


স্থান- রাণার কক্ষ । কাল--প্রভাত । 
রা়মল একাকশ 


রায়মল। 'ফাঁরয়াছে পুত্র আজি, বিজয়ী সমরে, 


সঙ্গে লয়ে পূত্রবধূ। শুভঁদিন আজি । 
কিন্তু এ সমরে হারায়োছি রত্ব এক-_- 
অতুল্য অমূল্য রত্র--ভাই সূর্যমলে। 
পারব না ভুলিতে সে আক্ষোভ জীবনে । 

পৃথবী ও তৎপশ্চাতে তারার প্রবেশ ও রায়মলকে 

প্রণাম 

রায়মল। আয়ুজ্মান হও বংস!-_এ ঘোর সমরে 
জয়ী আজ রায়মল তোমার 'বিক্রমে। 
-আয়ুজ্মতী হও* তারা । এস মা কল্যাণী! 
তুমি আনয়াছ 'শান্তি মেবারের গৃহে; 
কারয়াছ দূর আভমান-ব্যবপ্নান 
পিতা ও পুত্রের মধ্যে। বড় দয়াবতী 
তুমি, বংসে; তাই আঁসয়াছ অনাহৃত, 
অযাচিতভাবে এই রাজপারবারে। 

তারা । শিতা! আপনার স্বত্বে আসিয়াছ আম 
আপন আলয়ে। 

রায়মল। আস নাই স্নেহময়ী, 
আশ্রয় লাভের তরে; আঁসিয়াছ তুম . 
হাস্যমুখেস্নেহময়ী জননীর মত-_ 
অপরাধশ পত্রে টানিয়া লইতে ক্রোড়ে। 
পৃথবী, আমি বৃদ্ধ হইয়াছি। আভিলাষ, 
গ্রহণ কাঁরব অবসর, সমার্পয়া 
রাজ্যভার তব করে; কারব যাপন 
জীবনের শেষ অন্ত নিভৃতে নিজ্জজনে। 

তারা। কোথায় যাইবে তাত! ষ্ইতে দিব না। 
আমরা কাঁরব সেবা; বাহব তোমার 
বার্ধক্য, যেমাত জীর্ণ বটভারে বছে 
তার শাখামূল। 

ল্লাম়মল। বংসে, শাস্তের বিধান 

- ক্ষতের আল্তমে যোগকার্ধয যোগ । আম 

৷ কাঁরয়াছ অবহেলা সে শাস্ত্রীয় বাঁধ 





এতাঁদন;-_-তাই বাঁঝ এই পাঁরবারে 
এত দ্বন্দ কোলাহল, অশান্তি, 'বগ্রহ ৷ 
এইক্ষণে যাই সভাগহে। 

[প্রস্থান। 


পৃথবী। আম রাপা 
মেবারের! নাহি তবে হইল সফল 
চারণশর বাণশ।-সঞ্গজা হবে চিতোরের 
রাণা। হা উদার সঙ্গ! কোথা তুমি আজ! 
স্বেচ্ছায় রাজত্ব ছাঁড়' ছুমি বনবাসশী। 
অবিচার করিয়াছ, হইয়াছ র্‌ঢ় 
অত্যাচারী আম, বাহ-শান্তমদভরে । 
করিও মার্জনা । 

তারা। কি ভাবছ 'প্রয়তম ? 

পৃথবী। ভাবতোছ 2 প্রয়তমে, কার নাই হোন 
প্রাতজ্ঞা যখন, যাহা ভাঁবব, তাহাই 
কারতে হইবে নিত্য তোমার গোচর । 


প্রাতহারীর প্রবেশ 


প্রীতি। যুবরাজ! আঁসয়াছে যুবরাজ কাছে 
িরোহশী হইতে দূত এ পন্র লইয়া। 
পৃথ্বী। কি পত্র? কাহার প্র? দেখি! 


যমননার ! 
[ পন্ন গ্রহণ ও পাঠ । প্রাতহারশর প্রস্থান ] 
যাহা ভাবিয়াছ। 

তারা। পন্ন কার প্রিয়তম ? 
পৃথবী। সে সম্বাদে তোমার কি প্রয়োজন-_ 
- শৃপ্রয়ে ! 

[ বেগে প্রস্থান। 

তারা। হয়েছে নাথের পারবর্তন এরুপ, 


যুদ্ধ অবসানাবাধ।- কথায় কথায় 
উঠেন জহলিয়া ক্ষুদ্রবাড়বাস্নিসম। 
কখন চাহেন হেন তীব্র, মুখপানে, 

ভয় পাই; অবনত করি চক্ষু! দুটি। 
এর্প হইল কেন? মা ভবানী, কেন 
এরূপ হইল--কিছ্‌ বুঝতে না পারি।, 


[ প্রস্থান। 
1খ্যতীয় দৃশ্য 
স্থান গাম্ভীরা নদশর তার। কাল-_সম্ধ্যা। 
তমসা একাকিনী বেশে 


তসসা। গেছে গেছে- সব গেছে। যা ছিল 
না তা হোল না। যা'ছল তা গেল। নারণর 


৮০ 'দ্বজেল্দ্র রচনাবলী 


ধর্ম গেল। পাঁতর প্রেম গেল। শেষে যার জন্য 
এত ষড়যন্ত্র, এত চেস্টা, সেও গেল।- বুঝাছ 
এত দিনে, যে অধন্মপথে সুখ হয় না। 
অধম্মের শাঁস্ত' এক দিন আসেই আসে। সে 
ইহজলন্মেই হোক আর পরজল্মেই হোক্‌। গেছে 
গেছে সব গেছে । তবে আম আর পড়ে থাকি 
কেন। আজ এই গন্তীরার জলে ঝাঁপ দিব । তার 
পর ?- পরকালে নরকে পড়বো ? হোক! তাতে 
আমার ক্ষাতবাদ্ধ *নাই। আমার জাবচ্তেই 
নরকমন্রণা আরস্ত হয়েছে । সারঙ্গ! সারষ্গ!- 
কেন তোরে সোঁদন দেখোছলাম?- মায়া কাটিয়ে 
দইছিলাম; কে আমার সর্বনাশ কর্তে তোকে 
বাঁচালো? কেন তুই সৌঁদন আমার সামনে 
এসৌছলি ?_ আহা! সেই সজল কাতরচক্ষে 
না যে আমই তোর মাঃ সে কথা তোর 
জীবনেও কখন জান্তে পাল্লনে। ভেবোঁছলাম 
চিতোরের সিংহাসনে তোক বাঁসয়ে সে কথা 
বলবো। সে সুযোগ আর হোল না। সারগ্গ! 
সারঙ্গ' আমার সারঞ্গ! আমার প্রাণাধিক 
পত্র! ওঃ 
গাইতে গাইতে এক ফকিরের প্রবেশ ও প্রস্থান 
গীত 
আমার আমার বলে' ডাকি, আমার এও আমার তা 
তোমার নিয়ে তুমি থাক, 'নওনাক আমার যা। 
আমার বাড়ী আমার টে, আমার যা তা বড়ই 'মঠে, 
আমার 'নয়ে কাড়াকাঁড়, আমার 'নয়ে ভাবনা । 
আমার ছেলে, আমার মেয়ে, আমার বাবা, আমার মা, 
আমার পাত, আমার পত্রশী;--সঙ্গে ত কেউ যাবে না। 
আমার যহ্কের দেহ, ভবে, তাও রেখে যেতে হবে; 
আমার বলে' কারে ডাঁক--চোখ বুজে 
কেউ কারো না। 
তমসা। তাও ত বটে। আম কার? কে 
আমার-এ সংসারে কে কার? যাকে আমার 
বলে" ডাকি; বড় আগ্রহে বড় আবেগে যাকে 
বুকে চেপে ধার, বুকে চেপে তবু তৃপ্তি হয় 
না; যাকে প্রাণের সঙ্গে মিশিয়ে রাখতে চাই; 
সে এ যে যাদুকর মৃতু তার দণ্ডাঁট ছ'ইয়েছে, 
অমনি সে আমার একেবারে কেউ নয়-একে- 


ঝর পর! একেবারে পর!-কেউ নয়। সে 


মায়া কাটিয়ে যায়, ভালবাসা ভুলে যায়, নির্দয় 
ভাবে কোথায় চলে" যায় $আর দেখতে পাই না। 


শী ৮৮ পাশশিশশীশীশীিাশীশ পাশ শি শিিশোশীশাশীশািশপিশশীী শীত শশিশীশীপীপপীত পিপি শা শী শিশশশিশীশীীিশিশীছ তিকত লাশ শশা 


আর দেখতে পাই না! স্বর্গ মর্ত্য পাতাল 
খুজে আর তকে একবার চোখের দেখাও 
দেখতে পাই না। ক মানব জল্মই তোর 
করেছিলে দয়াময় 2 [ দীর্ঘানঞ্বাস ] 


দুইজন সৌনিকের প্রবেশ 


১ সৈনিক। ধরা' পড়েছে। 

২ সোনক। ধরা পড়োন। সূ্য্যমল আপান 
ধরা 'দিয়েছে। | 

১ সৈনিক। ধরা দিলে কেন? 

২ সৌনক। কে জানে, যখন ধরা দলে 
জানে নিশ্চয় মৃত্যু, তখন ধরা দিলে কেন, এটা 
একটা সমস্যা বটে। 

১ সৌনক। না, সূর্যমল হাজার হোক 
রাণার ত ভাই, রাণা তাকে ছেড়ে দেবে। 

২ সৌনক। উত্হ*! রাণা সে রকম লোকই 
নয়। বিচারে তাঁর কাছে ভ্রাতৃত্ব জ্ঞাতিত্ব জ্ঞান 
নাই। 

১ সৈনিক। তার বিচার হবে কবে? 

২ সৌনক। কাল। 

[ উভয়ের প্রস্থান। 
তমসা। ধরা 'দয়েছেন! শেষে ধরা 'দিয়ে- 
ছেন!_তার আর আশ্চর্য্য কি? এরা জানে না 
[তিনি কেন ধরা দয়েছেন। আম জাঁনি। তান 
ধরা দিয়েছেন, মনের ক্ষোভে, যন্ত্রণায়, লঙ্জায়। 
তাই 'তাঁন স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন কর্তে 
যাচ্ছেন।-আচ্ছা, মক্বার আগে একটা ভাল 
কাজ করে' দোঁখ না কেন, কি হয়। 
[ প্রস্থান। 


তৃতায় দৃশ্য 
স্থান রাণার সভা। কাল--প্রভাত। 
রায়মল সিংহাসনার্ড়। সভাসদ ও অনৃচরবর্গ। 
পারবে পৃথবী। সম্মুখে শৃঙ্খালত সূর্যামল 
রায়মল। সূর্যামল! তুমি আর ভ্রাতা নহ আজি, 
শরু তুমি! বিশ্বাসঘাতক সেনাপাতি, 
সামান্য "বিদ্রোহ প্রজামান্র। বিদ্রোহশীর 
শাস্ত 'দব আঁজ বন্দী! 
সূর্যামল। তাহাই হউক। 
মহারাজ! আম সেই শাস্তি চাহ! 
রায়মল। কিছু 
বালবার আছে ? | 


সূযযমল। কিছ? বাঁলবার নাই। 

রায়মল। সূর্যামল! প্রাণদণ্ড শাস্ত বিদ্রোহীর 
আছ অবগত তুমি! 

সূর্যামল। আছি অবগত। 


রায়মল। সেই প্রাণদণ্ড শাঁস্ত দলাম তোমার । । 


পৃথবী। পিতা! পিতৃব্যের হেতু. নপাঁতির 


চাহি করপুটে। কর 'পতৃব্যে মাজ্জনা! 
বাষমল। পৃথবী! স্নেহশীল আম' কিন্তু 


কর্তব্য স্নেহের উচ্চে' বাস" সংহাসনে 
আবচার করিব না. বিচার কারব। 

পুথবী! এই রাজদন্ড ক্ষমা নাহ জানে, 
সম্বন্ধ না মানে, কেহ যেন নাহি কহে_ 
পড়ে তাহা বজ্রসম অপরাধী 1শরে, 


শুদ্ধ বর্ষে আশীব্বাদ জ্ভাতির মস্তকে।” 


যাও তবে সূর্যামল। এ শুভ্র প্রভাতে 
তব রক্তে 'বরাঞ্জত হবে বধ্যভীম। 


সূর্ধযামল। রাণার অসীম কৃপা! আমারে লইয়া 


চল বধ্যস্থলে! আম প্রস্তৃত প্রহরী! 
প্রহরীসহ প্রস্থানোদ্যত 


রায়মল। [সংহাসন হইতে অবতরণ কারয়া] | 


কোথা যাও সূর্যমল! ভ্রাতার নিকটে 
বিদায় না মাগি" । ভাই, প্রিয়তম ভাই ! 
-উঠাও আনত মুখ; চেয়ে দেখ আমি 
নাহ নরপাঁতি আর ।- আম এইক্ষণে 
ভ্রাতা তব! কর আলিঙ্গন একবার 
শেষবার, সূর্ধযমল। কারয়াছি আম . 
এই ক্রোড়ে লালন তোমারে "প্রয়তম, 
ভাইটি আমার!_কত আগ্রহে আদরে! 
এই হস্তে আজ দিতে হইল তোমারে 
প্রাণদণ্ড প্রাণাধক-বাঁধর 'বপাকে! 
দরািন। বাঁধাবড়ম্বনা ভাই! কি করিবে 


তুম ? 
নিজে 


সেই সূর্ধামল তুমি__সরল, উদার, 
স্নেহশীল! কেন মুখ ফুটে বল নাই 


তুমি রাজ্য চাহো ভাই? আম অনায়াসে 


তারাবাই ৮১ 


ভুলে যেও অপরাধ অবোধ ভ্রাতার । 
আমি মৃঢ়। বুঝি নাই। 

রায়মল। না না এত তুম 
নহ সুর্যমল'-কহ কে মন্ত্রণা দিল £- 
তোমারে শখণ্ডীরূপে রাখ পুরোভাগে, 
কে হাঁনল এ হৃদয়ে এ বষান্ত শর ; 
কে সেও কহ 


সমল । কাহব না; বালও না ভাই 
কাহতে সে কথা আজ । 
রায়মল। ণক কাঁরলে ভাই? 


ক কাহব ৮ তব এই কার্যে, সূর্যযমল, 
জণালায়ে দষানছ বক্ষে সব্রৈব াব*বাস। 
চেয়ে দোখ ঘন নবীলাম্বরে; শঙ্কা হয় 
তাহা আবরণ তরে কূর বজুশেল, 
দোখ স্বচ্ছ খনর্ঝর, সন্দেহ হয় বুঝ 
তাহাতে 'মাশ্রত বিষ; শুনি গীতধবানি, 
ভাবি আছে তাহে কোন নাহত বিদ্রুপ !_ 
সূর্যামল'--ক করিলে এ বদ্ধ বয়সে 
আমার 7 

সূর্যামল। ভূঁলয়া যাও এ দুঃস্বপ্ন বাল, 
ভাঁবও এ ধূমকেতু নিশীথ আকাশে 
আ'সয়া চাঁলয়া যায়; 'িন্তু চিরাঁদন 
রহে স্থির অটল নক্ষতরাজ তাহে। 
ভাঁবও এ ভূমিকম্প বিপ্লব ক্ষাণক-_ 


রায়মল। যাও সূর্যামল! 

আম কাঁরয়াছি ক্ষমা। পাও যেন তুমি 

বিধাতার মাঙ্জনা মৃত্যুর পরে ভাই। 
[জনতা হইতে তমসা নিক্কান্ত। 


তমসা। কোথা যাও! যাইও না। দাঁড়াও দেবতা, 
[সূর্যামল স্তাম্ভতভাবে দণ্ডায়মান ] 
দাঁড়াও মুহূর্তকাল [রায়মলের পদতলে 
পাঁড়য়া|। শঃন মহারাজ! 


কিছু বাঁলবার আছে-__ 
সূ্য্যমল। নারী উন্মাদনশ; 
শুনিও না এর কথা 
তমসা। শুনিতে হইবে। 
সূর্ধযমল। তার পৃৰব্রে বধ কর আমারে। 
তমসা। শুনবে 


তুমিও সে কথা ।--তবে শুন মহারাজ! 


৮২ দ্বজেন্দ্র রচনাবলী 


দোষী নহে স্বামী । দোষী আম 
জবালায়েছি 
আমি এ বিদ্রোহ বাহু। দিয়াছি মন্দ্রণা 
আম। আম ডাঁকয়াছি মালবে চিতোরে। 
আমার এ ফষড়যন্দ-_আমার। 
রায়মল। তোমার 2 
তমসা। আমার। তবে এ কার্য কেন করিলাম ? 
'জিজ্জাসা কারবে 2 শুন, কেন কারলাম। 
সূর্যামল। শুনিও না মহারাজ ' রাখ এ 
মনাতি। 
তমসা। শুনিতে হইবে । আম কলঙ্ককাহিনী 
রটাইব আপনার, উদ্গারব বষ; 
কারব স্বীকার পাপ-শুন মহারাজ । 
জানিতে সারত্গদেবে 2-সে পত্র আমার ! 
তথাঁপ তাহার পিতা নহে সূর্যামল। 
রায়মল। সত্য! উল্মাঁদনী নারী! 
তমসা। উন্মাদনী আম, 
িন্তু যাহা কাঁহতোছ, নহে সে প্রলাপ। 
_তাহাকে করিতে এই মেবারের রাণা 
কাঁরয়াছিলাম আমি এ গুঢ় মন্ত্রণা। 
_ব্যর্থ হইয়াছে তাহা। না আসত যাঁদ 
পৃথবী এ সমরে, তাহা সফল হইত। 
কে দিল পৃথবীকে জানো বিদ্রোহ সংবাদ, 
অনুরোধ কার যোগ দিতে এ সংগ্রামে, 
আঁসয়া রাণার পক্ষে 2 এই সূর্যযমল। 


রায়মল। সূর্যামল!!! আপাঁন 'বিদোহশী!!! 
সতাকথা 

সূ্যমল ? 
তমসা। সত্যকথাই পাঁতত যদ্যাঁপ 


এই ষড়যন্জালে স্বামী, তব্‌ তান 
বুঝলেন সেইক্ষণে“স্বকীয় প্রমাদ-_ 
লাখলেন এক পত্র ভ্রাতুষ্পূত্রে, আস, 
শদতে এ সমরে যোগ িতোরের সনে। 

পৃথবী। ইহা সত্য কথা। পতা। জান নাকি 

হেতু 

করি নাই এই সত্য পিতার গোচর 
এতাঁদন! 

তমসা। কারলাম সত্য অনাবৃত। 
এই মূল বিদ্রোহাঁর প্রাণদণ্ড দাও। 

রীয়মল। অবধ্য রমণণী। 

স্র্যামল। কেন কাহলে তমসা, 
আমার মূত্যুর পূর্বে কলগুককাহন" 2 


তমসা। কেন কাহলাম! পূর্বে কদাঁপ জীবনে 
কার নাই পুণ্য কম্ম,আজ করিলাম। 
ভাবও না স্বামী, চাহি মাজ্জনা তোমার । 
সেই আঁধকার রাঁখ না। আজীবন, 
কারয়াছি ছল, ভাণ, কাঁরয়াছি প্রেম, 
শুদ্ধ স্বার্থাসদ্ধি হেতু । চাঁহ না মাজ্জর্না: 
তবে পণ্য কভু করি নাই; নাহি জানি 
কি সুখ তাহার. তাই দেখলাম আজ। 
দোঁখলাম তাহে সুখ আছে. বড় সুখ, 
পাপ কর্ম লব্ধ সুখ চেয়েও আঁধক 
সে সৃখ।-আরম্ভ করিলাম জীবনের 
নূতন অধ্যায় আজ । নারীর জীবন 
যাহা এত তুচ্ছ, ঘণ্য রাজদণ্ড. সেও. 
তাহারে কারতে স্পর্শ ঘৃণ্য বোধ করে: 
সে জীবন যথাসাধ্য, উৎসর্গ কারব 
আজ হ'তে পুণ্য কর্মে পরাহত ব্লতে। 
| প্রস্থান । 
রায়মল। প্রহরী এক্ষণে মূন্ত কর সূর্যামলে। 
[নজ্কান্ত । 


চতুর্থ দৃশ্য 
স্থান-রাণার অন্তঃপুর কক্ষ। কাল--প্রভাত । 
শৃূরতান ও তাহার রাণী 
শৃরতান। তোমাকে বরাকর বলে' এসোঁছ 
রাণশ যে চুপ করে' বসে' থাক; ঘটনাগুল 
আপনিই ঠিক খাপে খাপে বসে' আসবে । দেখ, 
তাই হোল কি না। ঘটনাপরম্পরা এমন 
মোলায়েম ভাবে ঘটে' আসছে, যে এর পরে যে 
ক হবে বোঝা যাচ্ছে না। 
রাণী। আবার কি হবে ? 
শূরতান। এক চিতোরের রাণাও হ'তে 
পাঁর, চাই কি তুকাঁর বাদশাহও হ'তে পাঁর। 
এই দেখ তোড়া উদ্ধার হ'ল; আম এখন যে 
রাজা সেই রাজা । তার উপর মেয়ের এমন এক 
পান্র জুটলো যে, আমি এক নিঃ*বাসে একেবারে 
রাজা রায়মলের বেহাই হয়ে -পড়লাম। তার 
উপরে আবার শুনছো যে রাণা ঘোষণা করেছেন 
যে. তান মাসাঁধক পরে পৃথবীকে যৌবরাজ্যে 
আভিধিন্ত কব্বেন। তা'লেই দাঁড়াল এই যে 
পৃথবী হোল মহারাণা, তারা হোল মহা 
রাণী_আঁম আর একদৌড়ে একেবারে মহা- 
রাণার *বশুর। 


তারাবাই ৮৩ 


রাণী। এই গৌরব নিয়ে অহত্কার কর্তে 
লঙ্জা করে না? এ পরদত্ত সাম্রাজ্য ভোগ করার 
চেয়ে বনবাসীঁ থাকা ভালো । 

শূরতান। এই স্ত্লোক জাতটাকে কোন 
রকমেই সন্তুষ্ট করা যায় না। যখন বনবাসন 
ছিলাম, তাতেও ঘ্যানর ঘ্যানর । আর আজ রাণার 
বেহাই স্বরূপ নিমাল্তত হ'য়ে, চিতোর এসে যে 
রাজভোগ খাচ্ছ, তাতেও সেই ঘ্যানর ঘ্যানর। 
ফলকথা দাঁড়াচ্ছে এই যে-- ঘ্যানর ঘ্যানর করাই 
স্তর জাতির স্বভাব,_-“যথা প্রকৃত্যা মধুরং গবাং 
পয়ঃ।”" আচ্ছা, এ পরদত্ত রাজ্য না হয় চুলোয় 
যাক এই রাজভোগ চুলোয় যাক্‌। কিন্তু 
তারার এর চেয়ে কি সৎপান্র 'মিল্‌তো 2 
রাণী। সে সংপান্ধ বিধাতা জুটিয়ে 
দয়েছেন। 

শূরতান। যোগ্য ব্যান্তকেই বিধাতা এ 
রকমই জুটিয়ে দেন। 

রাণী। তুমি ত সে বিষয়ে একেবারে উদা- 
সীঁন ছিলে । 

শূরতান। আর তুম তৎপর হ'য়ে ত সবই 
করেছিলে । ব্যস্তবাগশশ হ'য়ে ত এক জয়মল 
বিভ্রাট ঘাঁটইছিলে। 

রাণী । কেন, সে কি মল্দ হস্ত? 
শূরতান। মন্দ! তারার তার চেয়ে, ওই ষে 
দেখছ একটা ষাঁড়, এ যাঁড়টাকে বয়ে করা 
সম্ভব ছল। বিয়ে কল্লে আর কি! 

রাণী। বিয়ে কর্ত কি না দেখতে, যাঁদ 
মোহিত িসংহ অন্তরায় না হোত। 
শ্‌রতান। এঃ. স্তশীজাতিটা নিরেট । যাঁদ তার 
মাথার উপর গৌতম মাঁনর তকশাস্ত্র ছংড়ে 
ফেলে মারা যায়, তা'লে সে ন্যায়শাস্তটাই চর্ণ 
হয়, তার মাথার কিছ হয় না।_মোহত সিং 
কি কল্লে! সেত জয়মল আসার আগেই চ'লে 
শিইছিল। 

রাণী। চলে" গিইছিল বটে। কিন্তু আম 
পরে জেনেছি, যে তারার হৃদয়ে তার মূর্ত 
মঁদ্রুত করে' রেখে চলে' গিইছিল। 
শূরতান। বটে! তোমার হৃদয়ে মাঁদ্রুত 
ক'রে চলে যাইনি ত?-_[গম্ভখরভাবে ] রাণণ, 
তা হোত না। 

, রাণী। ক হোত না? 

শুরতান। মোহতকে ও "বয়ে কর্ত না, 


জয়মলকেও বয়ে কর্ত না। তার নজর আম 
চিরকাল দেখোঁছ রয়েছে এ চিতোর সংহা- 
সনের দিকে। আর সে জানে যে, পৃথবী একাদিন 
না একাদন সে সংহাসনে বসবেই। এ 
ছেলের হাতে মোয়া! তারা আমার মেয়ে ত 
বটে।- আমি বরাবর ওত পেতে আছ, তাই 
এতাঁদন চুপ ক'রে ছলাম। 
রাণী। তুমি আবার কি কল্পে। ঘটনা- 
পরম্পরায় এ রকম ঘটে' গেল। 
শুরতান। রাণী! যারা চুনোপহটি ধরে, 
তারা জল ঘ্াঁলয়ে পাঁকের দুর্গন্ধ উঠিয়ে 
পুকুরময় জাল ফেলে বেড়ায়। কিন্তু যারা রুই 
কাতলা ধরে, তারা জালাটি পেতে চুপ করে? বসে 
থাকে। এখন চল, রাজভোগের যথাযোগ্য ব্যব- 
হার করা যাক্‌ গে সৃক্ষরব্াঘ্ধর পারচালনা 
করে" স্ছুল শরীরটা একট কাতর হয়ে পড়েছে। 
রাণী। [সহাস্যে] বিধাতা তোমাকে 
ভোজন প্রয় ব্রাহ্মণ না করে" ক্ষান্নিয় কল্লেন কেন ? 
শৃূরতান। বিধাতার ও রকম ভুল আরও 
দুই একটা তোমাকে দৌখয়ে দেব। একটা মান্ত 
এখন দেখিয়ে দিচ্ছি-_এই তিনি যাঁদ তোমাকে 
নারী না করে' পুর্রাজের হাভিলদার রূপে 
সৃম্টি কর্তেন, তা*লে সম্ভবত সেকেন্দার সার 
সঙ্জো যদদ্ধে পুররাজ হারতেন না।-চল। 
[ উভয়ের প্রস্থান। 


বিপরীত দিক হইতে পৃথবীর প্রবেশ 


পৃথবী। আমি শুন্তে চাইনি। হঠাং কাণে 
এল। বুঝিছি সব বাঁঝাছ। জলের মত সাফ 
হ*য়ে গিয়েছে। আমি এদের পার্থব উন্নাতির 
পথে সোপান মান? ষড়যন্ত্র! যড়্যল্ল! না। 
তাই বা বাল কেন? আমি নিজেই ত ধরা 
দইছি, মোহত সিং কে?এ মোহত সং 
তবে তারার প্রণয়শ 'ছিল।-_আরও কত প্রণয়শ 
ছিল কে জানে!_তা নৈলে জয়মল তারার 
শয়নাগারে প্রবেশ কর্তে সাহস করে ?--তা 
নৈলে তারা একটা রাজ্যের জন্য আপনাকে 
গবক্য় করে? গপিতৃব্য পত্নীর মূখে সেই ভীষণ 
স্বীকারকাঁহনশ শোনার 'পরে আর কছুই 
আঁবিশবাস হয় না। সবই সম্ভব! তারার ইীতহ।সঈ 
দেখছি আবকল সেই একই হাতহাস!--সব 
স্মরই কি তাই? এত আদর, আগ্রহ, সেবা, 


৮৪ ছ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


শুদ্ধ স্বামীর অর্থের মানের ক্ষমতার জন্য ? 
ঘৃণা জন্মে গিয়েছে । এই সমস্ত নারী জাতিটার 
উপরেই ঘৃণা জন্মে গিয়েছে-এই যে তারা 
আসছে। 


তারার প্রবেশ ও সঙ্কীচতভাবে দবারদেশে 
অবাস্থাত 


পৃথবী। কি চাও ? 

তারা। [নীরব ]। 

পৃথবী। নীরব রৈলে ষে? 

তারা। তুমি ক কোথাও যাচ্ছ ? 

পৃথবী। হাঁ যাচ্ছি-সিরোহী রাজ্যে_ 

তারা। কেন? সহসা? 

পৃথবী। কেন! [স্বগত] আচ্ছা না হয় 
বল্লামই না। [প্রকাশ্যে সেদিন যমুনা চিঠি 
[লিখোছল জানো ১ যমুনা আমাকে একবার 
দেখতে চেয়েছে। 

তারা। [অধোমুখে] আম সঙ্গে যাবো? 

পৃথবী। না। 


তারা। কেন নাথ? 
পৃথবী। সব কথা শুনে কোন ফল নাই, 
তারা। 


তারা । [ক্ষাণক নিস্তব্ধ থাকয়া] নাথ! 
একদিন ছিল, ষে আমাকে সব কথা খুলে 
বল্‌তে। 

পৃথবী। সে দিন আর নাই তারা। 
তারা। কেন স্বামী * কি দোষ করোছ ? 
পৃথবী। [স্বগত] ঠিক এক রকম। 
পিতৃব্পত্বীও ঠিক এক রকম বল্‌তেন। 
তারা। আম লক্ষ্য করোছ নাথ, যে এই 
মাসাধক কাল আমার প্রাতি তোমার সে প্রেম, 
সে নিভর, সে বিশবাস নাই। 

পৃথবী। কিছুই চিরাদন থাকে না 
তারা। 

তারা। থাকে। স্বামী-স্মীর সম্বন্ধ চর- 
দিন থাকে। এ ভঙ্গুর সংসারে এই এক সম্বন্ধ 
চিরস্থায়--পর্বতের মত অটল, সমুদ্রের মত 
গভশর, নক্ষত্রের মত উজ্জবল। এ সম্বন্ধ ঘোচে 
না প্রভু। 

স্পথবী। উঃ কি ভয়ঙ্কর! 

তারা। আম যাঁদ কোন অপরাধ করে' 
থাক ক্ষমা কর। তুমি আমার প্রভূ, আম 


তোমার দাসী। তোমার কাছে আমার অপরাধ 
পদে পদে।_ ক্ষমা কর। 

পৃথবী। [স্বগত] িতৃব্যপত্ণীও ঠিক এই 
রকম বলতেন।-ভারি মিলছে। [প্রকাশ্যে ] 
তারা-_[ দীর্ঘানঃশবাস ]। 

তারা । | পদতলে পাঁড়য়া] বল, আম কি 
দোষ করেছি। 

পৃথবী। ওঠ তারা, বলাছা ক দোষ 
করেছে। [ সস্নেহে তারার হাত দুইটি ধারিয়া ] 
--তারা! তুমি আমাকে বিবাহ করেছিলে কেন ? 

তারা। তুমি জানো ত সব। 

পৃথবী। [হস্ত ছাঁড়য়া কঠোর স্বরে] 
জাঁন সব জানি। আর তুমি ভাবচ আমি যা 
জানি না, তাও জাঁন। 

তারা। কি জানো? 

পৃথবী। তোমার ভূত জীবনের ইতিহাস। 
সে কথা যাক্‌!_ তারা! তুম চেইছলে তোমার 
'পতার হতরাজ্য, তা পেয়েছো। তোমার যে 
দাম চেইছিলে, তা পেয়েছো। আর 'কি চাও ? 
তোমার পিতা-মাতা তোমার রূপের ফাঁদ পেতে 
ছিলেন, রাণার বেহাই হবার জন্য। সে ফাঁদে 
পড়ে অবোধ বেচারী ভাই জয়মল মারা যায়; 
সে ফাঁদে আম ধরা পাঁড়ছি।-_তোমরা সবাই 
যা চেয়োছলে, তা পেয়েছো। আর কি চাও? 
বল দিচ্ছি।হা ঈশ্বর!নারীর্পের কি 
ফাঁদই তৈরি করোছিলে! [প্রস্থান । 

তারা। নাথ! এ কথা না বলে বুকে ছরী 
বিশধয়ে গেলে না কেন ?-অহো ভগবান 1+- 
এতদূর! 

[ নিষ্কান্ত। 


পণ্চম দৃশ্য 
স্থান- প্রভুরাওর বিলাস কক্ষ। কাল-_রান্ি। 
প্রভুরাও ও পাঁরষদবর্গ 
সম্মুখে নর্তকর্শীদগের নৃত্য 
প্রভু। বাহবা বাহবা! নাচো আবার নাচো! 
রূপের ফোয়ারা তুলে দাও। 
পারিষদবর্গ। [সঙ্গে সঙ্গে] ফোয়ারা তুলে 
দাও। 
প্রভৃ। মর্তেয নামিয়ে নিয়ে এস স্বর্গরাজ্য। 
জশবনের সার হচ্ছে সৌন্দর্য্য । আর সৌন্দর্যের 
সারই হচ্ছে নারী ।-এই ঢালো। 


তারাবাই ৮৫ 





পারিদবর্গ। এই ঢালো। 
প্রভৃ। নারী শব্দে ৯৫ থেকে ২০ বৎসরের 
বয়স পর্যন্ত চলনসৈ অসম্পকাঁয়া সব নারণ 
বোঝায়।_ঁকন্তু স্ত্রী বাদ। 
পারিষদ। হাঁ হাঁ অমরকোষে এই রকম 
লেখে বটে। 
প্রভৃ। লেখে বটে 2 হিঃ হিঃ হিঃ! 
পাঁরষদবর্গ। খহঃ গহহ হঃ 
প্রভৃ। স্ত্রী জনিষটা কি রকম জানো 
এই বেজায় একঘেয়ে! 
পাঁরষদবর্গ। বেজায় মহারাজ। 
প্রভু। কিন্তু নারী 'জাঁনষটা কি রকম 
জানো? এই পাঁঞ্জকা রকম আর ক; -অল্ততঃ 
বছর বছর একখানা করে' নৃতন চাই । হঃ হিঃ 
হঃ। 
পারষদবর্গ। শৃহঃ হত হিঃ! 
১ পাঁরষদ। মহারাজেব মুখে আজাক 
বাঁসকতার খৈ ফুটছে দেখাঁছ। 
২ পাঁরষদ। আর মদ নৈলে যা প্রকৃত 
বাঁসকতা, তা কি হয় দাদা। 
প্রভু বটে-তবে আরো 
র্‌পসীরা-- 
পাঁরষদবর্গ ও নর্তকদেব গীতি 
ঢালো, আরো ঢালো, আরো ঢালো আরো ঢালো। 
পপেব সঙ্গে তীর মদিরা লাগে ভালো, 
ভার লাগে ভালা। 
স্বর্ণপাত্রে ঝর তুমি সুরা, 
সরসরন্তঅধব মধ,বা, 


টম্ণন দাও শিরায় শরায় লালসাবাহ জবালো 
জবালো। 


9ালো এই 


আমা ঢাঁলব রূপের আহহতি 
জবাঁলবে 1দবগুণ কামানল, 
কামেল সাগরে উঠোঁছ আমরা উব্্বশী, 
তুমি হলাহল; 
আমরা ঝড়ের মত বয়ে' যাই, 
বন্যার মত এস তুমি ভাই, 
সব্বন।শাঁট না কাঁরয়া আজ যাব না লো সাঁখ 
, যাব না লো। 


চন্দ্ররাওর প্রবেশ 
প্রভৃ। চন্দ্ররাও যে' খবর ?ক 2 


চন্দ্র। ভার সুখবর, মহারাজ, 
স্খবর | 


' প্রভূ । ক রকম!--কি রকম' 


ভার 





চন্দ্র। পৃথবী-- 

প্রভু। আবার “পৃথবী” জবালাতন কল্পে 
যে।-পুথবী" ছাড়া কি আর কথা নেই? 

চন্দ্র। তাই ত বোধ হচ্ছে! রাস্তায়, ঘাটে, 
মাে, যেখানে যাই, কেবল "পৃথবী” রবই 
শুনছি। কুলবধৃূদের মুখে এ নাম, চারণ 
কাঁবরা এ নাম গাচ্ছে; সভায় মাল্দরে-_ 

প্রভৃী। থাক্‌ থাক্‌। তার ?ক হয়েছে বলে, 
ফেল। সে মরেছে বলতে পারো? 

»ন্দ্র। আজ্ঞে সে ছেলেই নয়! বরং এই 
সপ্তাহ দুই পরে তার অভিষেক । রাণা অবসর 
নিচ্ছেন। এখন পৃথবীই রাণা হচ্ছে। 

প্রভ। পৃ্থবী রাণা : 

চন্দ্র। কেন রাণার ছেলে রাণা হবে, এর 
মধ্যে আশ্চর্যযঠা কি দেখলেন 2 আপনার দুঃখ 
কিসের ' 

প্রভু। পুথবী আমার মুখের গ্রাস কেড়ে 
নিয়েছে । আবার তুমি বল আমার দুঃখ 'কসের 2 
প্রতারণা! প্রতারণা! সঙ্গ সন্ধ্যাসী, জয়মল 
মৃত, পৃথবী নির্বাসিত, এতে আমার রাণা 
হবার কথা ছল না? প্রতারণা! চুর! ধাপ্পা- 
বাজ! আম তাই রাণার মেয়েকে এতাঁদন 
পূুষোঁছ। আজ, আম তাকে মেরে বাড়ীর বার 
কবে' দেবো ।-এই কে আছিস 

দৌবারিকেব প্রবেশ 
প্রভু। যা, রাণীকে এখানে এক্ষণেই নিয়ে 


আয়। শহধ; নিয়ে আসাবনে, কুকুরের মত 
শকল 'দয়ে বেধে নিয়ে আয়। 


দৌবাঁরকদ্বয়। যো হুকুম মহারাজ ! 
[ প্রপ্থান। 
চন্দ্র। মহারাজ! 
প্রভৃ। চোপ রহো! 
পাঁরষদবর্গ নিস্তব্ধ 
চন্দ্র। আম তবে আস মহারাজ! 
[ প্রস্থান। 


প্রভু। _ড়যন্ত্!_রাণা ছেলেকে নিব্্বা- 
সত করোঁছিল। তাকে আবার ডেকে পাঠিয়েছে 
শুদ্ধ আমাকে ফাঁকি দেবার জন্য ।- এতদূর 
জোচ্চোরি! ঢালো- এই ঢালো। 
নর্তকশদের গত 
“ঢালো, আরো ঢালো” ইত্যাঁদ। 


৬৬ রেটিনা 


শি পিপিপি এপ শা ৯৯৯ 


প্রভু। এই চোপরও । 

পারিষদবর্গ। চোপরও। 

প্রভু। আম আজ প্রাতশোধ নেবো! 
প্রীতশোধ নেবো । [পারক্রমণ] জোচ্চোরি! 


শংঞ্ধলাবম্ধ বম্নার প্রবেশ 


দৌবারিক। মহারাজ! এনোছ। 

প্রভু। এনোছস্‌ বেশ করেছিস্‌।-এই 
যমূনা। 

যমৃনা। [নশরব ] 

প্রভু। ১১৬৮2 
যমুনা। অপমান রোজ ত কচ্ছই। বাঁক 
রেখেছ কি? 

প্রভু। যেটুকু বাঁক রেখোছ, সেটুকু আজ 
ফব্ব। আজ তোকে জুতো মেরে আমার বাড়ী 
থেকে বের করে' 'দিব। 

যমূনা। তাই দাও। এ আপদ দূর হোক। 
তাই দাও। আর সহ্য হয় না। 

প্রভু। না; তোকে রাজ্য থেকে তাঁড়য়ে 
দিলে শুধু হচ্ছে না। তোকে ডালকুত্তা 'দয়ে 
খাওয়াবো । 

যমুনা । আমার অপরাধ কি মহারাজ? 
প্রভু। তোর অপরাধ যে রায়মল তোর বাপ, 
আর পৃথবী তোর ভাই। 

যমূনা। এই অপরাধ! এ অপরাধ আঁম 
স্বীকার কাঁর, মহারাজ! তার জন্য যা শাঁস্ত 
দিবে দাও, মাথা পেতে নেবো । তাই এ জীবনের 
সান্বনা, অপমানে অহত্কার। আমি যে তোমার 
এত অত্যাচার সহ্য কাঁচ, তা এই মনে করে” 
যে আম রাণার মেয়ে, পৃথবীর বোন; আমার 
অপমান নাই; তা এই, মনে করে" যে ইচ্ছা 
কল্লেই এ অপমানের প্রাতিকার কর্তে পারি। 
তবে প্রাতকার কাঁর না_কারণ তুমি যাই হও, 
আমার স্বামী;-প্রাতকার কার না-_ কারণ 
আমি 'হন্দুনারী-যে হিন্দুধর্ম শিক্ষা দেয় 
যে, স্বামী পাষণ্ড হ'লেও সে নারীর দেবতা। 
তাই এতাঁদন এত সহ্য করেছি;_অপমান গা 
পেতে নিইছি। বুক ফেটে গিয়েছে তবু সহ্য 
চৌখের জলে বুক ভেসে গিয়েছে তবু সহ্য 
করেছি। নৈলে আম কি মৃন্টিমেয় অন্বের জন্য 
তোমার দুয়ারে পড়ে আছ মনে কর? আম 





টির নাহি যার ভাই তুবনাবিখ্যাত 

প্রভু। ররর 
আম যাঁদ তোকে এখানে পদাঘাত কার, তোর 
বাপই বা কি কর্তে পারে । আর তোর ভাইই বা 
কি কর্তে পারে? [কেশাকর্ষণ ও পদাঘাত; 
ষমঃনার পতন] 


পণ্চ সৌনিকসহ বেগে পৃথবীর প্রবেশ 


পৃথবী। প্রভুরাও-_এঁক ? 
[ গলদেশ ধারণ ও পারিষদবগেরি 
পদ 
প্রভু। কেঃ এ্যাঁ পৃথবীরাজ ? 
নী | ছাঁড়য়া আস নিম্াশিত 
কাঁরয়া] খোল তরবারি। 
প্রভ। এ্যাঁ তরবার খুলবো কেন ?-এই 
কে আছস্‌? 
পৃথবী। ষাঁড়ের মত চেশ্চাচ্ছ কেন? মর 
বীরের মত মর। আজ তোমার আন্তম 'দন। 
কি! তরবারি খুলবে না? [ গলদেশে ধাক্কা ও 
প্রভুর পতন, তাঁহার উপরে বাঁসয়া] প্রভুরাও, 
এই তোমার শেষ মুহূর্ত । নেবে 
নাম জপো। .(তরবাঁর উত্তোলন ] 
প্রভু । [সকাতরে] ক্ষমা কর পৃথবীরাজ! 
পৃথবী। ক্ষমা চাও যমূনার-তার পায়ে 
ধরে ক্ষমা চা” কাপহ্রদ্ষ। 
প্রভূ। যমুনা! পায়ে ধার, ক্ষমা কর। 
যমুনা । মেজদাদা! ইনি যাহাই হোন্‌ 
আমার স্বামী । এই মূহূর্তে একে ছেড়ে দাও। 
পৃথবী।' [ছাঁড়য়া স্বগত] এ্যাঁ! রমণী 
এরূপও দেখছ হয়!তাই ত।__[ প্রকাশ্যে] 
আচ্ছা। ছেড়ে দিলাম এবার, প্রভুরাও। মনে 
থাকে যেন যে এবার যমুনার কৃপায় তুমি প্রাণ 
পেলে। [ধাক্কা দিয়া] কেমন মনে থাকবে ? 
প্রভু। থাকবে। 
পৃথবী। ভবিষ্যতে শাঁনচি যে এর গায়ে 
আঁচড়াঁট লেগেছে ক তুমি গিয়েছে জেনো। 
যমুনা পৃথবাঁর বোন্‌) মনে থাকবে 2 
প্রভু। খুব থাকবে। 
পৃথবী। চল যমুনা গৃহাভ্যন্তরে। এ 
মাতালের আড্ডা থেকে চল। 
[পৃথবী ও বমনার প্রস্থান! 


তারাবাই ৮৭ 


প্রভু। [দল্ত ঘর্ষণসহ] পৃথবী! এর 
প্রাতশোধ নেবো! উপয্স্ত প্রাতশোধ নেবো। 

না নেই, আমার নাম প্রভুরাও নয়।. 
[ প্রস্থান। 


ঘত্ড দৃশ্য 
স্থান_ উদ্যান। কাল-_সায়াহু। 
একাকিন তারা 
গশত রী 
কে পারে 'নবারিতে হদয়ের বেদনা, 
সে বিনে নিজ করে দিয়াছে যে তাহারে। 
হৃদয়ে যে ঘোর আঁধারে ঘেরে, . 
কে নিবারে, যে তারে গেছে প্রাণে ঘরে সে বিনে। 
তারা। কেন আজ হৃদয় আকুল, বারংবার 
নাচিছে দক্ষিণ চক্ষু। কাঁপে বক্ষঃস্থল। 
পদাবক্ষেপসহ পুনরায় গীত 
নাহ আর মধু রে মধুর অধরে; 
শরত চাঁদমা চরণে অনাদরে; 
হাসে কি গগন, ঘন ঘন আবারলে তারে ? 
[বিফলে চন্দ্রমা তারা রাঁজ ভায় তায় রে। 
কে পারে 
সত্য! ভাবলেন তান, এত নীচ 
আমি! মনেও আসল তাঁর ? হায়! 
পারচারিকার প্রবেশ 
পরিচারকা। যুবরাণী- 
তারা। আম যুবরাণী নাহ-আঁম শুদ্ধ 
“তারা"। 
পারচারকা। কেন রাজপ্ান ? 
তারা। “কেন” বালতে চাহ না। নাহ; 
যুবরাণন, নহি রাজপনীন্ত। আমি 
শুদ্ধ “তারা” ।-ততোধক সম্মান চাহ না। 
পারচারকা। আমরা সামান্য নারী! বাঁঝনাক 
অত 


নামের মাহমা। যাহা বাঁলয়া এসোছ 

এত দন, তাহাই বাঁলব। রাজপত্রী! 

চাহে একজন নারী সাক্ষাৎ তোমার! 
তারা। রূপ সে নার? 
পারচারকা। আত দহাঁখনী। 
তারা। দুঃাখনশ? নিয়ে এস। 

[পারচাঁরিকার প্রস্থান। 

তারা। করিয়াছ বড়ই অন্যায় দোষারোপ । 


প্রাণেশবর !_ আম রাজ্য চাহ! বুঝলে না 
এতাঁদনে আমারে প্রাণেশ! 


পুনরায় গীত 
কে পারে__ 
তমসা ও পারচারিকার প্রবেশ 
তারা। কে তুমিঃ 
তমসা। 'চাঁনতে নাহ পারবে ।- নাহও 
গচানবার প্রয়োজন 
তারা। কি চাহো রমণশী। 
তমসা। তোমার মগ্গল চাহ! 


তারা । আমার মণ্গল 

তমসা। তোমার মগ্গল।-_-তারা! কোথা 
পৃথবীরাজ ? 

তারা। সরোহশ নগরে। 


তমসা। তুমি সঙ্গে যাও নাই ? 

তারা। আম সঙ্গে যাই নাই। 

তমসা। এক্ষণেই ষাও। 

তারা। কি হেতু রমণী! 

তমসা। সব বুঝতে নারবে। 
তবে এই মাত্র কাহ- যমুনার স্বামী 
প্রভুরাও, ভাল নাহ বাসে পথবীরাজে। 
তাহার স্বভাব হেন, বিষ দিতে পারে 
আহারে. ছাারকা পৃন্ঠে বসাইতে পারে। 

তারা। জানো “তারে, ? 

তমসা। খুব জানি! ভাল কর নাই 

সঙ্গে যাও নাই তুমি। এক্ষণেই যাও। 

[প্রস্থান। 

তারা। বাঁঝয়াছ বুঝিয়াছি।_তাই মৃহরমনহ্‌ 
কাঁপে বক্ষঃস্থল, চক্ষে ভরে” আসে ৃ 
কেন ছেড়ে দিলাম প্রাণেশে। যেইখানে 
যাইতেন, যাইতাম সঙ্গে; এইবার 
কেন নাহ যাইলাম ?- এক বারংবার 
কাঁহছে কে কর্ণে যেন থাকিয়া থাঁকয়া 
“আর দেখা হইবে না।”-কজগদীশ হেন 
হোয়ো না নিষ্তুর। দও ফিরায়ে তারারে 
তাহার নয়নতারা ।_ যাই, আম যাই, 
তোমার সকাশে নাথ । রাখিও, ভবানী! 
প্রাণেশবরে যতক্ষণ আমি নাহ আঁস। 
-_আর নাই আঁভমান; আর ক্রোধ নাই; 
লাঞ্ছনার ক্ষত নাই; অপমান নাই। 


৮৮ 'দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


পাপী পিপি | পাশা িতিস্পিশিপশিত পাশ পিপিপি ০০০ 


নাথের বিপদ, আর মটু আভমানে, প্রভু। আঁমও এনেছি-_ 
নাশ্চন্ত হৃদয়ে আম বাঁসয়া এখানে 2 সরোহঈর সব্বোত্তম মোদকের হস্তে 
ক্ষমা কর জীবনসব্বস্ব!- প্রাণেশবর প্রস্তুত করয়ে, শ্রেষ্ঠ মোদক এক্ষণে, 


ক্ষমা কর! আসতোছ আঁসতোছি আম। তোমারে-_ তারার জন্য,_দেখ দোখ ভাই, 
[নিক্কান্ত। কিরূপ করিল। 


পৃথবী। দাও. সঙ্গে লয়ে' যাই। 
সপ্তম দংশ্য প্রভৃু। না এখানে খেয়ে দেখ, আমার সম্মুখে; 
স্থান- প্রভুরাওয়ের সাঁজ্জত অন্তঃপুর কক্ষ। ; নাহলে কি তীপ্তি হয়? 
7 | পৃথবী। থাকুক না প্রভু। 
একাকী পৃথবা। প্রভু । না, খাও, নাহলে ছাঁড়ব না। 
পৃথবী। [ পাদচারণ সহ পৃথবী। দাও তবে, 
হৃদয় ব্যাকুল ফিরে যাইতে চিতোরে। আবলম্বে। 
টানিছে আমারে গৃহে নিত্য আভিমানে, প্রভৃ। এই লও [মিষ্টান্ন প্রদান ]। 


সজল নির্মল স্বচ্ছ নীল চক্ষুদাট। পৃথবী। [মিস্টার ভক্ষণ | 


বুঝিয়াছি ভ্রম--কাঁরয়াছ আঁবচার! প্রভু। কির্প কারল? 
ক্ষমা কর প্রাণেশবার! চিরাদন আম | পৃথলী। উত্তম! সামান্য কট; । 
হেন উগ্র অসংযত।  প্রভু। |স্বগত] পূর্ণ মনস্কাম, 
ৃ ৷ এতাঁদনে পৃথবীরাজ' 
প্রভুরাওর প্রবেশ ৷ পৃথবী। যাইবে ত তবে 
প্রভু! পৃথবী, তবে তুমি | তুমি আভ ূ 
অদ্যই যাইবে ? প্রভু নিশ্চয় যাইব। 
পৃথবী। আমি অদ্যই যাইব। ; পৃথবী। এঁক বড় ঘুরতেছে মস্তক। 
প্রভু। ভাবিও না আঁসয়াছ কুটন্ম্বের বাড়ী: প্রভু। [স্বগত] ওষধ 
এ তোমার বাড়ী, পৃথবী। আরো দুইদিন ধারয়াছে। 
থেকে যাও। 
পৃথবী। না অদ্যই যাইতে হইবে। মষ্টান্নপান্র হস্তে যম.নার প্রবেশ 
পৃথবী। | স্বগত ] ৷ পনী। ঘুরিতেছে মস্তক- যমুনা 
যাইতে হইবে বটে! আরা ফরিবে না। ৰ জল আন। 
[প্রকাশ্যে] বুঝিয়াছ! চিতোরের বাতায়ন যমুনা । ঘুরতেছে মস্তক! কি হেতু? 
পথে, | [ প্রস্থান। 
পথ চেয়ে আছে কৃষবর্ণ চক্ষুদুটি। । পৃথবী। | অস্থিরভাবে] প্রভুরাও! সত্য কহ_ 
পৃথবী। সত্য কথা, প্রভুরাও! | এক প্রবপ্ঠনা? মিষ্টাম্বে দিয়াছ বিষ ? 
| [স্বগত] না চেয়ে; ৰ 
৮51 র জল লইয়া ষম_নার প্রবেশ 
৷ ষমবনা। এই জল নাও। 
9 । পৃথথবী। [জল পান কারয়া] সত্য বল 
যমুনা । দাদা, যাইতেছ 2 প্রভুরাও এঁক প্রবণ্না? 
পৃথবা। , বোন! যাইতেছি আমি। প্রভী। আর বণ্সনায় নাহ কোন প্রয়োজন! 
_-তবে যাই! | সত্য পৃথবী! খাইয়াছ যে মদক আজ 
যষ্জনা। বল “আঁস”।-কর মিষ্টমুখ; বিষাস্ত মদক তাহা। 
স্বহস্তে 'মিন্টান্নপাক করিয়াছি আম, পৃথবী। [বষান্ত ; কে দিল 
আনিয়া দিতেছি ভাই। [প্রস্থান। বিষ? 





তারাবাই ৮৯ 





প্রভু। আম দেওয়ায়েছি 

পৃথবী। একবার তবে 
কহিয়াছ সত্যকথা, প্রভুরাও, তুমি 
এ জশবনে! জানতাম তুমি নীচ ক্লূর, 
কল্তু এত নশচ, এত ক্রুর ভাব নাই 
_কেন দলে বিষ প্রভুরাও ? 

প্রভু। পৃথবীরাজ ! 
িইয়াছি প্রাতশোধ তোমার দাম্ভিক 
অপমানরাঁশর ।_ হইয়াছিল প্রায় 
কর্ণরোধ, শুনতে শুনতে পথে গৃহে 
অন্তঃপুরে পর্যান্ত, পৃথবীর যশোগশীতি; 
হইয়াছি নিয়ত 'হিংসায় জজ্জারত : 
পৃথবীরাজ! আজ লহইয়াছ প্রাতিশোধ। 

পূৃথবী। অত্যুন্তম প্রীতিশোধ । প্রভুরাও !- হায়! 
যমুনার স্বামী তুমি। । কি আর বাব! 

যমৃনা। ডাক বৈদ্যে। 

প্রভু। নাহ বৈদ্য এ তিন ভুবনে, 
এ বিষের প্রাতিকার করিতে যে পারে। 

পৃথবী। কাজ নাই বৈদ্যে আর ।-_ যমুনা! 

যমুনা! 

ছাড়িয়া যেও না শেষ সময়ে আমারে। 
মাধক বিলম্ব নাই আমার মৃত্যুর : 
বিশ্ব অন্ধকার হয়ে' আসে। 

প্রভু । সত্যকথা- 
চা [বিলম্ব নাই যমুনা প্রেয়সী! 
বড় যে কারতে গর্ব পৃথবীর -এখন! 

যমনা। [জানু পাতয়া ] 
জগদীশ রক্ষা কর; বুঝিতে পার না 
স্বামী মোর নর, কিম্বা নরকের কণট। 
মানুষ কি এও হয়; এত নীচ হয় 2 
এত খল হয়? এত কাপুরুষ হয় 2 
বিষান্ত মদক তুলি আঁতাঁথর মুখে; 
বিশ্রধ আঁতাঁথ_-যে আঁতাঁথ এক দন 
তার প্রাণদাতা; যে আতাঁথ এত উচ্চ 
উদার মহত যে এ 'াঁখল িশবকে 
সরল উদার ভাবে ।-দেব!-গাঁক নর ? 
বোধ হয় অন্যর্প। বোধ হয় যেন 
দেখতেছি রাহয়াছে অদৃরে পাঁড়য়া 
ঘণ্য সরীসৃপ কোন 'মাঁশয়া কর্মে । 

পথবী। যমুনা যমুনা! 

প্। ধমূনা ডাকছে ভাই। 


“প্রাণের ভাইরে” বলে' ডাক একবার । 

[ প্রস্থান । 
পৃথবী। যমুনা! যমুনা! ছোট বোনাট আমার__ 
যমৃনা। [পৃথবীর মস্তক ক্রোড়ে লইয়া ] 

ক্ষমা কর ভাই। আজ আমার আহ্বানে, 
আমার পাঁতির হস্তে- তোমার এ দশা ? 
তুমি রক্ষা কারলে আমারে; কিন্তু আম 
নাহি পারলাম রক্ষা কারতে তোমারে । 

| ক্রন্দন 
পৃথবী। কাঁদও না বোনএক নাত 

আমার-_ 

কাঁহও তারারে.-আঁম মরণ সময়ে__ 
চাঁহয়াছলাম তার মার্জনা ।_ যমুনা 
চক্ষু হ'তৈ_নিভে যায়_নাখিল জগৎ-_ 
কহিও সে কথা-_ভূঁলিও না_তবে যাই। 
| মৃত্যু ] 

[উচ্চ স্বরে] দাদা! দাদা! দাদা! 
: দীপ নাভয়া গিয়াছে। 
সোণার পিঞ্জর হ'তে সন্ধ্যার আকাশে 
ডীঁড়য়া শিয়াছে পাখী । ক কারব রাঁখ' 
িঞ্জর ধাঁরয়া ক্রোড়ে-_[ মস্তক ভূমিতলে 
রাখিয়া দাঁড়াইয়া ] তবে যাও ভাই-_ 
যাও সে অমরধামে । আঁসতোঁছি 'পছে 
আমরা ।- ওঁদার্য্য বীর্ধ্য স্নেহের আধার 
ছিলে তুমি। তব যশোগশীত রাজস্থানে 
পথে ঘাটে মাঠে 'র্গারসঙ্কটে, গহনে 
গাইবে চারণ কাঁব-যাও স্বর্গধামে। 
-এ কে আসছে ' এ যে উল্মাঁদনশ তারা। 

তারার প্রবেশ 

তারা। কই! প্রাণেশবর' কই! যমুনা! আমার 
কোথায় জাবীতেশ্বর ! 

যমুনা । [নীরব] 

তারা। এই যে এখানে। 
ভূতলে পাঁড়য়া হেন কেন প্রাণাধিক 2 
জীবনসব্্ব্ব 2 কেন ? বিবর্ণ 2 যমুনা 

যমুনা । তারা! তারা! দি দোখতে আ'সয়াছ 


আর! 
পৃথবী এ জগতে নাই। 
তারা। পৃথবী কোথা নাই ? 
যমুনা, কি বাঁলতেছ ? 


যমুনা। 


৯০ দ্বজেন্দ্র রচনাবলশ 


পাশপাশি 


যমুনা । কি আর বালব! আমিও যাইব ।-বনে, সমুদ্রে, পর্বতে, 
কিছ7 বলবার নাই।-হত্যা হত্যা-তারা! : থাক তুমি; আম শিয়া মিলব তোমার 
হত্যা করিয়াছে। সঙ্গে আজি!_ স্বর্গ মর্ত্য পাতাল খ:জিয়া 
সারা । হতা?-কে হত্যা কারল? বাহর করিব, যেথা থাক প্রতারক! 
যমুনা । হায় তারা! এই হতভাগিনীর পাঁত। _ভাবছ কাঁদব আঁম 'নম্ফষল 'বলাপে 
তারা। কিরূপে? | ধরায় তোমার লাগ? 2 ভাবছ চাঁলয়া 
যমুনা । দিয়াছে বিষ। ণগয়াছ যেখানে, আম নারিব যাইতে। 


তারা। 'বষ! বিষ! [স্তাম্ভতভাবে ] তবে না না শঠ! পারবে না।- আমিও যাইব 2 
নাই পৃথবী? সত্য কথা? ইহা সত্য কথা? সলিল দাবাগ্নি দয়া, মৃত্যু পথ "দয়া. 


-উঠিয়াছে শরীরের সমস্ত শোশিত প্রলয়ের মধ্য 'দিয়া-আঁমও যাইব। 
মস্তকে । বুঝিতে নাই পারি । পৃথবী নাই 2 সুখে দুঃখে, বিপদে সম্পদে, জ্ঞানে ও 
যমুনা । নাই, অভাঁগনশ। আয় গলা ধরাধার ; অজ্ঞানে 

আমরা দুজনে বোন কাঁদ উচ্চৈঃস্বরে। জশবনে মরণে তারা রাঁহবে তোমার 


আমি হারায়োছ ভাই, তুই পাঁত, আয় | সা্গিনী।-_দৌখ কে রোধে। 
সমবেদনায় মোরা কাঁদ দুইজনে । 


ও বক্ষে তরবারি দিয়া পৃথবীর পদতলে পতন 
তারা। চলে গেছে এত ক্রোধ এত 


আভমান! | যমুনা। -_একি সব্বনাশ! 
একবার কাঁহলে না কথা? একবার তারা তারা! কি কারলে 2 কি করিলে তুম ? 
চাহিলে না মুখ" পরে!_এত অপরাধী | তারা । নারণর--সতার- স্ত্রীর কার্য কাঁরয়াছি 
আমি? _এস মৃত্যু-এত স্নিগ্ধ, এত সুমধুর 
যমুনা। কাঁহয়াছিলেন মারবার পৃৰ্রবে ভাই তৃমি বন্ধু 1 নিয়ে চল নাথের সমীপে 
“কাঁহও তারারে, আম মরণ সময়ে সতীরে সৃহং_[ যমুনাকে 
চাহিয়াছিলাম তার মাঙ্জনা।” , তবে বিদায় ভাঁগনি! 
তারা। মাজজনা ! 
মিথ্যা কথা! যমুনা! এ মিথ্যা কথা! তান | যমুনা। কি কাঁরলে তারা_-এঁক ? 


বড় আভমানী! বড় নিষ্ঠুর! চলিয়া ...| তারা। নূতন বাসর! 
গিয়াছেন না বাঁলয়া-না বাঁলয়া তাই। প্রয় ভশ্নি'এ আমার নৃতন বাসর। 


নাথ! প্রাণেম্বর!-ফাঁকি দিয়াছ এবার! [সহাস্যে মৃত্যু] 
-কাঁর নাই নয়নের অল্তরাল কভু যমুনা। অন্ধকার! অন্ধকার! ঘোর অন্ধকার ! 
-একবার কারয়াছ, অমনি, কপট ও [ পতন] 
সময় বুঝিয়া ফাঁক দিয়াছ! উত্তম! 

দেখব তথাপি, ফাঁফি দাও কি প্রকারে! ঘবাঁনকা পতন 


রাণা প্রতাপাঁসংহ 

্‌ প্রষ-চাঁর্ 
মেবারের রাপা প্রেতাপাঁসংহ)। প্রতাপের পত্র অেমরাঁসংহ)। প্রতাপের ভ্রাতা শেল্তাসংহ)। 
ভারত-সম্ভাট আকবর সাহ)। আকবরের পুত্র সোৌলম)। আকবরের সেনাপাঁতি মোনাঁসংহ)। 


আকবরের অন্যতম সৈন্যাধ্ক্ষ মেহাবং)। আকবরের সভাকাব পেথবীরাজ)। প্রতাপের 
সদ্দ্শারগণ ও মন্ত্রী, ভীলসন্দ্দার মাহ, তে ভ্রাতা সৈন্যাধ্ক্ষ সাহাবাজ, দৌবারক 


জ্তী-চারল্ত 
প্রতাপের স্তর লেক্ষনী)। প্রতাপের কন্যা ই্রা)। পৃথবীরাজের স্ত্ী যোশশ)। আকবরের 
কন্যা মেহের উন্নিসা)। আকবরের ভাগনেয়ী (দৌলৎ উীন্নসা)। মানাঁসংহের ভাঁগনশ রেবা) 
পারচা'রিকা, নর্তকীগণ ইত্যাঁদ। 


প্রথম দ্য 
স্থান_কমলমশরের কাননাভ্যল্তর; সম্মুখে কালীর 
মন্দির। কাল- প্রভাত। 
কালীমূত্তঁর নিকটে কুলপুরোহিত দশ্ডায়মান। 
কালশমৃত্তর্শর সম্মুখে প্রতাপাসংহ ও রাজপুত 
সন্দ্শরগণ দাঁক্ষণ জানু পাতিয়া ভূমিতলস্থ তরবাঁর 
স্পর্শ কাঁরয়া অদ্ধ্বেপাবষ্ট 


প্রতাপ। কালী মায়ের সম্মুখে তবে শপথ 
কর। 

সকলে। শপথ কার্_ 

প্রতাপ। যে আমরা চিতোরের জন্য প্রয়ো- 
জন হয় ত প্রাণ দব__ ূ 
সকলে । আমরা চিতোরের জন্য প্রয়োজন 
হয় ত প্রাণ দিব 

শ্রতাপ। যতাঁদন না চিতোর উদ্ধার হয় 
সকলে । যতাঁদন না চিতোর উদ্ধার হয়__ 
প্রতাপ। ততাঁদন ভুঙ্জঁপন্রে ভক্ষণ কর্্ব_ 
সকলে। ততাঁদন ভুজ্জপত্রে ভক্ষণ কর্্ব_ 
প্রতাপ। ততাঁদন তৃণ-শয্যায় শয়ন কর্র্ব_ 
সকলে। ততাঁদন তৃণ-শয্যায় শয়ন কর্র্ব_ 
প্রতাপ। ততাঁদন বেশভৃষা পাঁরত্যাগ 
র্ল ৰ 

সকলে। ততাঁদন বেশভূষা পরিত্যাগ 
কব্ব__ 

প্রতাপ। আর শপথ কর, যে, আমাদের 
জশীবতবংশে ও বংশপরম্পরায় মোগলের সঙ্গে 
কোনরূপ সম্বম্ধ-সূন্নে ব্থ হব না। 


সকলে । আমাদের জণশাবতবংশে ও বংশ- 
পরম্পরায় মোগলের সঙ্গে কোনরূপ সম্বন্ধ-সত্রে 
বদ্ধ হব না। 
প্রতাপ । প্রাণান্তেও তার দাসত্ব কর্্ব না_ 
সকলে। প্রাণান্তেও তার দাসত্ব করব না__ 
প্রতাপ। তা'র আর আমাদের মধ্যে চিরকাল 
তরবারি মান্ন ব্যবধান থাকবে। 
সকলে । তা'র আর আমাদের মধ্যে চিরকাল 
তরবারি মাব্ন ব্যবধান থাকবে। 
[ পুরোহত “স্বস্তি স্বাস্ত স্বস্তি” বলিয়া 
পুত বার 'ছিটাইলেন]। 
প্রতাপ উীঠয়া দাঁড়াইলেন। সঙ্গে সঙ্গে সর্দ্দারগণও 
উাঠলেন। পরে তান সর্দ্দারগণকে সম্বোধন 
করিয়া কাহলেন 


“মনে থাকে যেন রাজপুত সন্দারগণ, ষে, 
আজ মায়ের সম্মুথে নিজের তরবার স্পর্শ 
ক'রে এই শপথ করেছো । এ শপথ ভঙ্গ না 
হয়।” 

সকলে । প্রাণান্তেও না, রাণা। 

প্রতাপ। কেন আজ এই কাঠন পণ,_ 
জানো? 
সন্দ্দারগণ চলিয়া গেল। প্রতাপাঁসংহ উত্তোজিতভাবে 
মাঁন্দরের কাঁরতে লাগলেন। 


৯৭ 


পুরোহিত। প্রতাপ! যে ব্রত আজ নিলে, 
তা পালন কর্তভে পাব্বে ? 
প্রতাপ। নইলে এ ব্রত ধারণ কর্তাম না! 
পুরোহত। আশীব্বাদ কার যেন ব্রত 
সম্পূর্ণ কর্তে পারো প্রতাপ- 
[ এই বাঁলয়া চাঁলয়া গেলেন। 


প্রতাপ উত্তেজিত হইয়াছলেন। 'তাঁন মান্দির- 
সম্মুখে পূক্ববৎ পাদচারণ কারতে করিতে 
কাঁহলেন 


“আকবর! অন্যায় সমরে, গুস্তভাবে জয়- 
মলকে বধ ক'রে চিতোর আঁধকার করেছো । 
আমরা ক্ষত্রিয়; ন্যায়-যুদ্ধে পার ত তোর 
পুনরধিকার করব । অন্যায় যুদ্ধ কর্বব না। 
তুমি মোগল, দূরদেশ থেকে এসেছো । ভারত- 
বর্ষে এসে কিছু শিখে যাও।-শিখে যাও-- 
ধর্মযুদ্ধ কাকে বলে; শিখে যাও- একাগ্রতা, 
সাহঞ্ণুতা, প্রকৃত বীরত্ব কাকে বলে; শিখে 
যাও-দেশের জন্য কি রকম ক'রে প্রাণ দিতে 
হয়।” [পরে কালীর সম্মুখে জানু পাঁতয়া 
করযোড়ে কাঁহলেন 1-মা কালী! যেন এই 
পণ সার্থক হয়, যেন ধম্ম জয় হয়, যেন 
মহত্ব মহংই থাকে ।-কে 2" 


প্রতাপ উঠিয়া পশ্চাৎ 'ফারয়া দোখলেন-_ তাঁহার 
ভ্রাতা শস্তাসংহ দণ্ডায়মান 


প্রতাপ। কে? শস্তাসংহ ? 

শন্ত। হাঁ দাদা, আমি। 

প্রতাপ। তুম এতক্ষণ কোথা ছলে ? 
শন্ত। কতকক্ষণ ? 

প্রতাপ। যতক্ষণ কালনর পৃজা দিচ্ছিলাম । 
শন্ত। এই কতকক্ষণ ? 


প্রতাপ। হাঁ! 

শন্ত। অঙ্ক কষাঁছলাম ? 

প্রতাপ। অঙ্ক কষাঁছিলে ? 

শন্ত। হাঁ দাদা, অঙ্ক কষাঁছলাম। 
ভবিষ্যতের অন্ধকারে উপক মাচ্ছলাম। 
জীবনের প্রহেলিকা সমূহের খণ্ডন কাঁচ্ছলাম। 


প্রতাপ। কালীর পুজা দিলে না? 

শন্ত। পূজা! না দাদা, পূজায় আমার 
[ব*বাস নাই। আর পুজা দিয়ে কিছ হয় না 
দাদা। কালশী-মা এ জিভ বার ক'রেই আছেন-_ 
মক, স্থির, চিন্রত মুল্মার্ত। কোন ক্ষমতা 


'দবজেন্দ্র রচনাবলশ 


নাই, প্রাণ নাই। কালশর পৃজা দিয়ে কিছু হয় 
না দাদা। তার চেয়ে অগ্ক কষা ভাল। তাই 
অন্ক কষৃছিলাম। সমস্যা-ভঞ্জন কচ্ছ্িলাম। 
প্রতাপ। ক সমস্যা? 

শন্ত। সমস্যা এই যে, জল্মান্তরবাদ সত্য কি 
না। আম মাঁন না। কিন্তু হ'তেও পারে সত্য। 
মানুষ এ পাঁথবীতে এসে চলে যায়, যেমন 
ধূমকেতু আকাশে এসে চলে" যায়। তা'কে এ 
আকাশে আর দেখা যায় না বটে, কিন্তু সে হয়ত 
আবার অন্য কোন আকাশে ওঠে । আবার এও 
হতে পারে যে কতকগুলো শান্তর সমান্টতে 
মানুষের জল্ম, আবার তাদের 'বাচ্ছিন্নতায়ই 
তা'র মৃত্যু। এই “আম” 'বাচ্ছন্ন হ'য়ে যায়, 
আর, একটা বড় “আম” দশটা ক্ষুদ্র “আম”তে 
পারণত হয়। 

প্রতাপ। শ্ত! জীবনে কি মনে মনে শুধু 
প্রশ্নই তৈরি কর্রবেে আর তা'র মীমাংসাই 
কর্রেঃ প্রশ্নের শেষ নাই, 'নম্পাত্তর চূড়ান্ত 
নাই। নিম্ফল বচন্তা ছেড়ে, এস কার্ধ্য কার। 
সহজ বুদ্ধিতে যেমন বুঝ, যেমন স্বাভাঁবক 
সরল প্রবাত্ত, সেই রকমই অনুষ্ঠান করি। 


এই সময়ে প্রতাপের মল্তী ভীম সাহ প্রবেশ 
কাঁরয়া ডাকলেন 


"রাণা!" 

প্রতাপ। ক মন্ত্রী! সংবাদ কি; 

ভীম। অশব প্রস্তুত। 

প্রতাপ। চল শন্ত, রাজধানীতে চল। 


অনেক কাজ করবার আছে। চল, কমলমীরে 
চল। 

শন্ত। চল যাঁচ্ছি। 
প্রতাপ চলিয়া গেলেন; ভীম সাহ তাহার পশ্চান্ধত্তঁ 
হইলেন। শন্ত কিছুক্ষণ পাদচারণ কাঁরতে লাগলেন 

পরে কহিলেন 

“জল্মভূমি;? আম তা'র কে? সে আমার 
কে? আমি এখানে জন্মোছ বলেই তার প্রাতি 
আমার কোন কর্তব্য নাই। আমি এখানে না 
জল্মে' সমূদ্র-বক্ষে বা ব্যোমপথে জল্মাতে 
পারতাম! জন্মভূমি? সে'ত এতাঁদন আমাকে 
শনব্্বাঁসত করোছল! চারাঁট খেতে দিতেও 
পারে নি। তা'র জন্য আমি জীবন উৎসর্গ কর্তে 
যা'ব কেন প্রতাপ? তুমি মেবারের রাণা, তুমি 


রাণা প্রতাপাসংহ ৯৩ 


তা'র জন্য জশঈবন উৎসর্গ কর্তভে পারো, আম 
করব কেন? সে আমার কেহ কেউ না।" 


[ এই বাঁলয়া শস্তাসংহ ধীরে ধীরে সেই কানন 
হইতে নিক্কাল্ত হইলেন। 


দ্বিতীয় দ'শ্য 
স্থান-কমলমীরের প্রাসাদানকটস্থ হৃদতাঁর । 
কাল- সায়া । 

প্রতাপাঁসংহের কন্যা ইরা একাকনী সূর্যাস্ত 
দোঁখতেছিলেন। অন্তগামী সূর্যের দিতে চাঁহতে 
চাঁহতে উল্লাসে করতাঁল "দয়া কাঁহলেন-__ 
কি গারমাময় দৃশ্য সূর্য অস্ত যাচ্ছে।--সমস্ত 
আকাশে আর কেউ না।, একা সর্যয! চার প্রহর 
কাল আকাশের জল্মভূমি বচরণ করে, এখন 
আগ্নময় বর্ণে বিশব-জগৎ প্লাবত করে" অস্ত 
যাচ্ছে।-এঁ অন্ত গেল। আকাশের পণতাভ ক্রমে 
ধূসরে পাঁরণত হচ্ছে। আর যেন দেবারাতির 
জন্য সন্ধ্যা সেই অস্তগামী সূ্যের দিকে শুন্য 
প্রেক্ষণে চাহিতে চাঁহতে, ধশরপদাঁবক্ষেপে 
[বশ্বমান্দরে প্রবেশ কচ্ছে'_কম্র সন্ধ্যা! "প্রয় 
সাঁখ! কি চিন্তা তোমার ও হৃদয়ে !_কি গভীর 
নৈরাশ্য তোমার অন্তরে ? কেন এত মাঁলন 7 
এত নীরব_এত কাতর 2 বল, বল, প্রিয় 
সখি!” 

ইরার মাতা লক্ষমীবাঈ আঁসয়া পশ্চাৎ হইতে 

ডাকলেন 


“ইরা!” 
ইরা সহসা চমাকয়া উাঠলেন। পরে মাতাকে 


দেখয়া উত্তর দিলেন 
শক মা?” 
লক্ষ্ী। এখনো তুই এখানে কি 
কচ্ছিস্‌? 


ইরা। সূর্য্যাস্ত দেখাছ মা। দেখ দেখ মা, 
ক রমণীয় দৃশ্য! আকাশের ক উজ্জবল বর্ণ! 
পাথবশীর দি শান্ত মুখচ্ছাঁব! | আম সন্য্যাস্ত 
দেখতে বড় ভালবাঁস। 

লক্ষমী। সে ত রোজই দোখসূ। 

ইরা। রোজই দেখৃতে ভাল লাগে। সে 
পরানো হয় না। সূষ্োদয়ও বেশ সহন্দর। 
কিন্তু সূর্যাস্তের মধ্যে এমন একটা কি আছে, 
যা'ঃতা'তে নাই।--কি যেন গভশর রহস্য, কি 
যেন 'নাহত বেদনা- যেন অসশম অগাধ বিষাদ- 


মাখানো--কি যেন মধুর নীরব 'বিদায়। বড় 
সুন্দর মা, বড় সুন্দর! 

লক্ষমী। তোর যে ঠাণ্ডা লাগ্‌বে। 

ইরা। না মা, আমার ঠান্ডা লাগে না_ 
আমার অভ্যাস হ'য়ে গিয়েছে। এ তারাট 
দেখছো মাঃ 

লক্ষমী। কোন তারা ? 

ইরা। এ যে, দেখুছো না পাশম আকাশে, 
অস্তগামী সূর্যোর পূব্বাদকে 2 

লক্ষযী। হাঁ দেখুছি। 

ইরা। ওকে ক তারা বলে জানে 2 

লক্ষী । না। 

ইরা। ওকে শুকতারা বলে। এ তারা 
ছয় মাস উদীয়মান সূর্যের পুৃরশ্চর, আর ছয় 
মাস অস্তগামী সূয্যের অনুচর । কখন বা প্রেম- 
রাজ্যের সন্গ্যাসা কখন বা সত্যরাজ্যের 
পুরোহিত । মা, দেখ দোখ তারাটি 'কি 'স্থর, 
ক ভাস্বর, কি সুন্দর! 

বাঁলয়া ইরা একদ্যাস্টতে তারাটির প্রাতি চাঁহয়া 
রাহলেন। লক্ষী ক্ষণেক কন্যার প্রাত একদ্‌স্টে 
চাঁহয়া রাহলেন। পরে ইরার কাছে আসিয়া হাত 
ধরিয়া কাঁহলেন। 

“এখন ঘরে চল্‌ ইরা- সন্ধ্যা হ'য়ে এল।” 

ইরা। আর একট: দাঁড়াও মা--ও কে গান 
গাচ্ছে? 

লক্ষমী। 
কে ও? 
| দূরে জনৈক উদাসশ গাইতে গাইতে চলিয়া গেল। 


[ শঙ্করা-_একতালা । 


তাই ত! এ 'নক্জ্ন উপত্যকায় 


সখের কথা বোলোনা আর, 
সৃখ কেবল ফাঁক। 

দুঃখে আছ, আছি ভালো, 
দুঃখেই আম ভাল থাঁক। 


সুখ 'দয়ে যান চোখের দেখা, 
দুদণ্ডের হাঁস হেসে, মৌখিক ভদ্রুতা রাখি+। 
দয়া করে" মোর ঘরে সুখ পায়ের ধূলা ঝাড়েন যবে, 
চোখের বার চেপে রেখে, মুখের হাসতে হবে; 
চোখে বার দেখলে পরে, 

সূখ চলে" যা'ন িরাগভরে; 
দৃঃখ তখন কোলে ধরে' আদর করে' মুছায় আথ।* 

দুই জনে নিম্পন্দভাবে দাঁড়াইয়া গানটি 

শুনিলেন। লক্ষনীবাঈ কন্যার প্রা চাহয়া 


৯৪ ম্বিজেন্দ্র রচনাবলী 





পপ পশ পপ পিপিপি পাশপাপীসপাপাপপীশাপাপ্পীশাটা শী শশী পিপিপি পিপিপি শীিিপিপীপপিসিপিপপাপ্পাপ্পাা শীত তি পেশী শিপ 


দেখিলেন বে, তাঁহার চক্ষু দুইটি বাম্পভারাবনত। | লক্ষনী ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন 


ইরা সহসা মাতার পানে চাঁহয়া কহিলেন “ক অমর?” 
“সত্য কথা মা। অনেক সময় আমার বোধ অমর। মা, বাবা ডাকৃছেন। 

হয় যে, সুখের চেয়ে দুঃখের ছাবি মধুর ।” লক্ষযী। কাঁহলেন-_“এই যাই"-_ইরাকে 
লক্ষতরী। দুঃখের ছবি মধুর! কাহলেন--“চল মা।” 


ইরা। হাঁ মা। পথে হেসে খেলে অনেক [লক্ষমী ও ইরা চলিয়া গেলেন। 
লোক যায়। তাদের পানে ক কেউ চেয়েও ;! অমরাসংহ হৃদতটে একথানি শুচ্ক কাম্ঠখণ্ডের 
দেখে! কিন্তু তাদের মধ্যে যাঁদ একটি অশ্রু- উপর গগয়া বাঁসল। পরে বাঁলল 

সন্ত, আনতচক্ষু, বিষগ্নরবদন ব্যন্তি দোখ, অমান ' “আঃ! সমস্ত দিন পরে একট; বিশ্রাম করে”। 
কৌতৃহল হয় না যে, তাকে ডেকে দুটো কথা : বাঁচা গেল। 'দিবারান্র বৃদ্ধের উদ্যোগ । পিতার 
জিজ্ঞাসা করি? আগ্রহ হয় না কি তার দৃঃখের ' আহার নাই, নিদ্রা নাই, কেবল শিক্ষা, ব্যায়াম, 
কাহনী শূক্তে 2 ইচ্ছা হয় নাক তার প্রাণে প্রাণ ' মন্ত্রণা। আম রাজপূত্র তবু যুদ্ধ ব্যবসা 
মাঁশিয়ে, চুম্বনে তার অশ্রুটি মুছে নিতে? | শিখাছ সামান্য সৌনকের মত! তবে রাজপুত্র 
যুদ্ধে যে জয়ী হয় ভাল লাগে তার ইতহাস | হয়ে লাভ কি? তা'র উপরে স্বেচ্ছায় বৃত এই 
শে, না যার হয্ধ পরাজয় হয় তার হাতহাস । অসাম দারিদ্র্য, চিরস্থায়ী দৈন্য, দুরপনেয় 
শুন্তে ;_কা'র সঙ্গে সহানূভূঁতি হয় 2 গান_- | অভাব,কেন ষে, কিছুই বুঝি না-এ কাকা 
উদাসের গান মধুর, না বিষাদের গান মধুর, ' যাচ্ছেন ?-কাকা--!” 
উষা সুন্দর, না সন্ধ্যা সুন্দর 2 গিয়ে দেখে : শস্তাসংহ বেড়াইতে বেড়াইতে অমরের [নিকটবত্তর্শ 
আস্তে ইচ্ছা হয়--সালঙ্কারা সৌভাগ্য-গর্বিতা, | হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন 
সঙ্গীতমুখরা দিল্লী নগরী? না বিগতবৈভবা, | “কে? অমর 2” 

দ্লানা, নীরবা মথুরাপুরী-সুখে যেন মা অমর। হাঁ কাকা। এ সময়ে আপাঁন 
একটা অহঙ্কার আছে! সে বড় স্ফীত, বড় : এখানে ? 

উচ্চকণ্ঠ। কিন্তু বিষাদ বড় বিনয়, বড় নীরব । শন্ত। একটু বেড়াচ্ছ। এখানে একটু 


লক্ষমী। সে কথা সত্য, ইরা। বাতাস আছে। ঘরে অসহ্য গরম। উদয়সাগরের 
ইরা। আমার বোধ হয় যে দুঃখ মহৎ, সুখ ; তারটি বেশ মনোরম! 
নীচ। দুঃখ যা জমায়, সুখ তা খরচ করে। দুঃখ অমর। কাকা, আপাঁন যেখানে ছিলেন 


সাঁন্টকর্তা, সুখ ভোগী। দুঃখ [শিকড়ের মত । সেখানে এমন হৃদ নাই? 
মাঁট থেকে রস আহরণ করে, সুখ পন্র-পুম্পে শন্ত। না অমর। 
বিকাঁশত হয়ে' সেই রস ব্যয় করে? দুঃখ বর্ষার অমর। এই কমলমীর আপনার কেমন 
মত নিদাঘতপ্ত ধরণীকে শীতিল করে, সুখ | লাগছে ? 
শরতের পূর্ণচন্দ্রের মত তার উপরে এসে হাসে। শন্ত। মন্দ নয়। 
দুঃখ কৃষকের মত মাঁট কর্ষণ করে, সুখ রাজার অমর। আচ্ছা কাকা! আপনাকে বাবা 
মত তা'র জাত-শস্য ভোগ করে। সুখ উৎকট, | এখানে ডেকে এনেছেন কি মোগলের সঙ্গে 
দুঃখ মধুর । যুদ্ধ কব্ত্বার জন্য? 

লক্ষমী। অত বুঝ না ইরা। তবে বোধ শন্ত। না! তোমার পিতা আমাকে আশ্রয় 
হয় যে এ পাঁথবীতে যারা মহৎ, তা'রাই | 'দয়েছেন। 
দুঃখশ, তারাই হতভাগ্য, তা'রাই প্রপশীড়ত। অমর। আশ্রয় 'দয়েছেন! আপান কি তবে 
মঞ্জলময় ঈশ্বরের বিধানে এই নিয়ম কেন, তাই | নিরাশ্রয় ছিলেন ? 
মাঝে মাঝে ভাবি। শস্ত। এক রকম নিরাশ্রয় বৈকি। 

এমন সময় প্রতাপাঁসংহের পুত্র অমরাঁসংহ অমর। আপাঁন ত তার আপন 

আসিয়া ডাকিল ভাই? 


“মা!” শন্ত। হাঁ অমর। 


রাণা প্রতাপাসংহ ১৫ 


এপাশ শিপ পিসি পপ পাপী শী পপ পপ পাপা পাপী ৮৮ পলা পিপল 





স্পেপাপাপপা্পপসপপপপ শে পাপিপপীপপিশপাপাসপািপশপ তাপস পিপপা? পপি শশী পিপপপাশাপীিাপিসপি পিপিপপশশপিপী পাপী পিশপাশ 


অমর। তবে এ রাজ্য ত বাবারও যেমন | যতক্ষণ তর্ক কচ্ছ ততক্ষণ সে কবিতাটা আবৃত 


আপনারও তেমন। 


শন্ত। না অমর। তোমার বাবা আমার : 


জ্যেন্ত ভ্রাতা, আমি কনিম্ঠ। 

অমর। হলেই বা।- ভাই ত! 

শন্ত। শান্ত অনুসারে জ্যেন্ত ভাই রাজ্য 
পায়। কানিম্ঠ ভাই পায় না। 

অমর। এই 'িনয়ম কেন কাকা? জ্যেম্ত 
হলেই শ্রেষ্ঠ হয় না! তবে এ নিয়ম কেন? 
শন্ত উত্তর 'দিলেন-“তা জান না।” 
ভাবিলেন-“সমস্যা বটে! জ্যেন্ঠ হলেই শ্রেষ্ঠ 
হয় না। তবে এরূপ সামাঁজক 'নয়ম কেন 
হয়েছেঃ নিয়ম হওয়া উচিত ছিল যে শ্রেচ্, 
সেই রাজ্য পাবে! কেন সে নিয়ম হয় নাই, কে 
জানে সমস্যা বটে!” 

অমর । ক ভাবছেন কাকা? 

শন্ত। কছু নয়, চল বাড়ী চল। রান্র 
হয়েছে। 

[ উভয়ে নিকজ্কাল্ত হইলেন। 


ভূতীয় দৃশ্য 
স্থান রাজকাঁব পৃথবীরাজের বাহ্র্বাটী। 
কাল-_প্রভাত। 
পৃথবীরাজ ও সম্রাটের সভাসদ-- মাড়বার, অম্বর, 
গাোযালশয়র ও তি আরাম আসনে 


মাড়বার। পণ্ড ত পৃথবী তোমার কাবতাটা। 
| অম্বরের দিকে চাহিয়া] আত সুন্দর কাঁবতা। 
অম্বর। আরে কেন জহালাতন কর? ও 
কাঁবতা ফাঁবতা রাখো । দুটো রাজসভার খোস 
গল্প করো। 

মাড়বার। না না, শোন না। কাঁবতাটার 
যেমন সুন্দর নাম, তেমান সুন্দর ভাব, তেমনি 
সুন্দর ছন্দ। 

চান্দের । কাঁবতাটার নাম ক? 
পৃথবীরাজ। “প্রথম চুম্বন ।” 

চান্দেরী। নামটা একটু রসাল ঠেকছে 
বটে- আচ্ছা পড়। 

অম্বর। প্রথম চুম্বন! সে বিষয়ে কখন 
কাঁবতা হতে পারে? 

; পৃথবীরাজ। কেন হবে না? 

মাড়বার। আচ্ছা, শোনই না কাবিতাটা। 


হয়ে যেত।_ শোনই না। 
অম্বর। আরে রেখে দাও কাঁবতা। পৃথবী! 


। সভার কোন নৃতন খবর আছে ? 


পৃথবী। ঘ্যাঁ-খবর আর কি-এঁ এক 
রাণা প্রতাপ 'সংহের যুদ্ধ! 

অম্বর। হহং! প্রতাপ সিংহের যুদ্ধ আকবর 
সাহার সঙ্গে! তা কখন হয়, না হতে পারে? 
সম্ভব হ'লে কি আমরা কর্তাম না? 

গোয়ালয়র। হ$1তালে কি আর 
আমরা কর্তাম না? 

চান্দেরী। হঃঃ! 

মাড়বার। “নহ বিকাঁশত কুসীমত ঘন 
পল্লপবে”। সুন্দর! সুন্দর! বেচে থাক পৃথবী। 

অম্বর। মোটে ত মেবারের রাণা! 

গোয়ালীয়র। একটা সামান্য জনপদ, তারি 
ত রাজা! 

চান্দের । আর রাজাও ত ভার! তার প্রধান 
দুর্গ চিতোর, তাও ত মোগল জয় করে নিয়েছে। 

অম্বর। কথায় বলে ভূমিশ্‌ন্য রাজা, তাই। 

মাড়বার। একটা বাহাদুরী দেখানো আর 
ক! 

পৃথবী। হাঁ, প্রতাপ সিংহ বেশশ বাড়াবাড়ি 
সুরু করেছে! সম্প্রাত তিনটে মোগল কটক 
হঠাৎ আক্রমণ ক'রে নিম্ম্ল করেছে। 

অম্বর। অহঙ্কার শশঘ্রই চূর্ণ হবে। 

চান্দেরী। চল ওঠা যাক, আবার এক্ষাঁণ 
ত রাজ-সভায় হাঁজরি দিতে হবে 

এই বলিয়া উঠিলেন 

মাড়বার। “চল,” বাঁলয়া উঠিলেন। 

গোয়ালীয়র ও অম্বর নীরবে উঠলেন 

অম্বর। আম বাল এটা প্রতাপের দস্তুর- 
মত গোঁয়ার্তমি। 

মাড়বার। আম বাল এটা প্রতাপের দস্তুর- 
মত ক্ষ্যাপাঁমি। 

চান্দেরী। আর আম বাল এটা প্রতাপের 
দস্তুরমত বোকামি। 

[ তাঁহারা এইরূপ মত প্রকাশ 
করিতে করিতে চলিয়া গেলেন। 

পৃথবী। এদের মধ্যে মাড়বারপাঁতিই সমজ- 
দার।__এবার তৈয়ার কর্তে হবে একটা কাবতা-- 
বিদায় চুম্বনের 'বিষয়। বড় সন্দর বিষয়! 'কি 


৯৬ 1দ্বজেন্দ্ 
ছল্দে লেখা যায়ঃ আমি দোৌখাছ যে কবিতা 
লিখতে বসলে, ছন্দ বেছে নেওয়া ভার শস্ত। 
তার উপরেই কবিতার অদ্ধ্রেকে সোন্দর্যয 
ননভর করে। 

এই সময়ে পৃথবীর স্তী যোশী প্রবেশ করলেন 

পৃথবী। কি যোশী! তুমি যে বাহরে এসে 
হাঁজর! 

যোশী। আজ ক তুমি মোগল-রাজসভায় 
যবে? 

পৃথবী। যাবো বৌক' তা আর যাব নাঃ 
আজ সম্রাটের দরবার দিন" আর আমও 
লোকটা ত বড় কেওকেটা নই । মহারাজাধরাজ 
ধুমধড়ান্কা ভারতসশ্রাট পাতসাহ আকবরের 
সভাকবি। আবুল ফজল হচ্ছে নম্বর এক. আমি 
হচ্ছি নম্বর দুই। 

যোশনী কৃপাপ্রকাশস্বরে কাঁহলেন 

"হায় তাতেও অহতঙ্কার' যেটা 
লজ্জার হেতু, সেইটে দিয়ে অহঙ্কার!" 

পৃথবী। তোমার যে ভার করুণ রসের 
উদ্রেক হোল! সম্রাট আকবর লোকটা বড় যা 
তা বুঝি। আসমূদ্রাক্ষতীশানাং- জানো ১- 
সমস্ত আর্্যাবর্ত যাঁর পদতলে 

যোশশী। ধিক্‌। একথা বলতে বাধলো না 2 
-একথা বলতে লজ্জায়, ঘৃণায়. রসনা কাণ্চত 
হোল নাঃ এতদূর অধঃপাতিত। ওঃ1-া প্রভু, 
সমস্ত আর্্যাবর্ত এখনো আকবরের পদতলে নয়। 
এখনো আয্নাবর্তে প্রতাপাসংহ আছে । এখনো 
একজন আছে. যে দাস্যজনিত বিলাসকে তুচ্ছ 
জ্ঞান করে, সম্রাটদত্ত সম্মানকে পদাঘাত করে। 

পথবী। হাঁ কাবত্ব-হিসাবে এটা একটা 
আঁত সুন্দর ভাব বটে। এর বেশ এই বকম 
একটা উপমা দেওয়া যায়-যে বিরাট সমুদ্রের 
প্রবল জলোচ্ছ্বাস, গ্রাম নগব জনপদ সব ভেসে 
[গয়েছে; কেবল দাঁড়য়ে আছে, দূরে অটল, 
অচল, দূঢ় পর্্বতাঁশখর। যাঁদও সত্য কথা 
বলতে কি, আমি সমূদুও দোখানি জলো- 
চ্ছাসও দেখিনি । 

যোশী। প্রাসাদ ছেড়ে স্বেচ্ছায পর্ণকটীরে 
বাস, ভূজ্জপন্ে আহার, তৃণশয্যায় শয়ন-যত- 
দন না চিতোর উ*পার হয়, ততাঁদন স্বেচ্ছায় 
গৃহশীত এই কঠোর সন্ষ্যাস ত। কি মহৎ কি 
উচ্চ । কি মাহমাময় । 


অসম 


রচনাবলী 


পৃথবী। কাঁবত্ব হিসাবে দেখতে গেলে এ 
একটা বেশ ভাল ভাব। আর আম উপরে যে 
উপমাঁট দলাম, তার সঙ্গে খুব মেলে। 

যোশী। স্াবধা নয় কি রকম? 

পৃথবী। এই দেখ, দারদ্র্য হতে স্বচ্ছলতা 
অনেকটা আরামের- দারিদ্যে বিলাস ত নেইই, 
তার উপর এমন "ক অত্যাবশ্যক 'জানসেরও 
অনটন। শীতের সময় বেজায় শীত লাগে, 
খাবার সময় খেতে না পেলে, ক্ষিধেয় পেট চাঁ 
চাঁ করে: যাদ একটা জিনিস কনতে ইচ্ছে 
হোল যা সব সাংসারক ব্যান্তর কখন না কখন 
হয়ই, হাতে পয়সা নেই , মেলা ছেলোপলে হলে, 
তারা 'দবারাত। ট্াঁ ট্যা কচ্ছেই।-- এটা 
অসবধা বলতে হবে। 

যোশশী। যে স্বেচ্ছায় দারদ্রয ব্রত নেয়, তার 
পক্ষে দারদ্রয এত কোর নয় প্রভূ । সে দারিদ্র্য 
এমন একটা গাঁরমা দেখে, এমন একটা সৌন্দর্য্য 
দেখে, যা রাজার রাজমুকুটে নাই, যা সম্রাটের 
সাম্রাজ্যে নাই । মহৎ হৃদয় দারদ্রাকে ভয় করে না 
ভালবাসে: দারদ্যে মাথা হেস্ট করে না, মাথা 
উষ্ঠু করে: দাঁরদ্ধ্ে নিভে যায না, জলে ওঠে। 

পৃথবী। দেখ যোশী। কবিতার বাহিরে 
দারিদ্যের সোন্দর্যা দেখা, অন্ততঃ শাদা চোখে 
দেখা, কারও ভাগ্যে ঘটেনি । 

যোশী। তবে বুদ্ধদেব রাজ্য ছেড়ে সন্ন্যাসী 
হযোছলেন কি হসাবে ? 

পৃথবী। ভয়ঙ্কর বোকামর হসেবে। 
যার ঘর বাড়ী নেই, তার রাস্তায় দাঁড়য়ে 
বৃষ্টির জলে ভেজা-বুঝৃতে পাঁর। কিন্তু 
ঘর বাড়ী থাকা সত্ত্বেও যে এ রকম ভেজে, 
তার মাথার ব্যারাম- কাবরাঁজ চিাকংসা করা 
উচিত। 

যোশী। এ বোকামিই সংসারে ধনা হয়। 
প্রভূ । মহত হ'তে হ'লে আগ চাই। 

পৃথনী। বাঁল মহৎ হ'তে হলে ত ত্যাগ 
চাই। 'কন্ত নাই বা হ'লাম। 

যোশী। প্রভু" মহৎ হওয়া তোমার মত 
বিলাসশর কাজ নয়, তা আম জানি। 

পৃথবী। দেখ যোশশী!- প্রথমতঃ স্তীজাতি 
অত সংস্কত ভাষায় কথা কৈলে একটু বাড়া- 
বাঁড ঠেকে; তার উপর দস্তুরমত নৈয়ায়কের 
মত তর্ক কল্লে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। 


স্ব 


রাণা প্রতাপাঁসংহ ৯৭ 


যোশী। চারাঁট চারটি করে খাওয়া আর 
ঘমানো-সে ত ইতরজল্তুও করে! যাঁদ কারো 
জন্য কিছু উৎসর্গ কর্তে না পারো, যাঁদ মায়ের 
সম্মানরক্ষার জন্য একাঁট আঙুলও না ওঠাতে 
পারো, তবে ইতর-প্রাণীতে আর মানুষে তফাং 
ক? 
পুথবী। দেখ যোশী।তুঁম অল্তঃপুরে 
যাও! তোমার বক্তৃতার মান্লরা বেশী হচ্ছে। 
আমার মাথায় আর ধচ্ছে না-ছাঁপয়ে পড়ছে। 
যা বলেছ আগে তা হজম কার. পরে আবার 
বোলো । যাও 
[যোশশ আর উত্তর না কাঁরয়া চাঁলয়া গেলেন। 
পৃথবী। মা করেছে!হার স্বীকার 
কর্তে হয়েছে। পাব্বো কেন? বোধ হচ্ছে সব 
ঘুালয়ে 'দলে। একে স্ত্রীলোকের বদ্ধ, তার 
উপর যোশন উচ্চাশাক্ষতা নারী । পাব্রবোকেন ? 
সেই জন্যই ত আম স্ত্রীলোকের বেশী লেখা 
পড়া শেখার বরোধী ।-এঃ. একেবারে মাটি! 
[ এই বাঁলয়া পৃথবী 'চাল্ততভাবে 
গৃহ হইতে নিক্কান্ত হইলেন। 


চতুর্থ দৃশ্য 
স্থান--চিতোরের সাশ্রহিত ভয়াবহ পারত্যন্ত বন। 
কাল-- প্রভাত । 
সশস্ম প্রতাপ একাকী দাঁড়াইয়া সেই দুরাঁবসর্পীঁ- 
অরণ্যের প্রাতি চাহিয়া ছলেন অনেকক্ষণ পরে শুক 
স্বরে 
"আকবর! মেবার জয় করেছ বটে! 'কন্তু 
মেবার রাজ্য শাসন কাচ্্ছ আমি! এই বিস্তীর্ণ 
জনপদকে গৃহশৃন্য করোছ। গ্রামবাসীদের 
পব্বতদুর্গে টেনে এনোছ। আকবর! যত 
দন আম আছ, মেবার থেকে এক কপর্্দকও 
তোমার ধনভান্ডারে যাবে না। সমস্ত দেশে 
একাঁট বাতি জবালতেও কাউকে রাঁখানি। সমস্ত 
রাজ্য ধূ ধু কচ্ছে। প্রান্তরে পারত্যন্ত *মশানের 
নিস্তব্ধতা [বরাজ কচ্ছে। শস্যক্ষেত্রে উলুখড় 
তরঙ্গায়িত। পথ বাবলা গাছের জঙ্গলে অগম্য। 
যেখানে মনৃষ্য থাকৃত, সেখানে আজ বন্য- 
পশুদের বাসস্থান হয়েছে! জল্মভূমি! সুন্দর 
মেবার! বীরপ্রস্‌ মা! এখন এই বেশই তোমাকে 
স,স্র মা। তোমাকে আমার বলে' আবার ডাকতে 
পাঁর ত তোদ'র পায়ে স্বহস্তে আবার ভূষণ 
৭ 


পরিয়ে দেব। নৈলে তোমাকে এই *শমশানচাঁরণঈ 
তপাস্বনীর বেশই পাঁরয়ে রেখে দেবো মা।_- 
মা আমার! তোমাকে আজ মোগলের দাসী 
দেখে আমার প্রাণ ফেটে যায় মা।” 

বালিতে বাঁলতে প্রতাপের স্বর বাষ্পরুদ্ধ হইল 
এই সময়ে একজন মেষরক্ষক-সমাভব্যাহারে জনৈক 


সোনিক প্রবেশ কাঁরয়া প্রতাপাঁসংহকে আঁভবাদন 
কারয়া কাঁহল 


“রাণা।” 
প্রতাপ ফিরিয়া কাহলেন 
“ক সৌনক'” 
সৈনিক। এই ব্যাস্ত চিতোর-দরগপাশবস্থ" 
উপত্যকায় মেষ চরাচ্ছিল। 
প্রতাপ মেষরক্ষকের প্রাতি কঠোর দৃষ্টিপাত কারয়া 
কাঁহলেন 


“মেষরক্ষক, এ সত্য কথা ?” 

মেষরক্ষক। হাঁ, সত্য কথা! 

প্রতাপ। তুম আমার আজ্ঞা জানো ষে, 
মেবার রাজ্যের কোন স্থানে কর্ষণ কল্লে কিংবা 
গো মেষাদি চরালে, তার শাস্ত প্রাণদস্ড 2 

মেষরক্ষক। তা জাঁন। 

প্রতাপ। তথাঁপ তৃঁমি মেষ চরাঁচ্ছলে ক 
জন্যঃ 

মেষরক্ষক। মোগল-দুগ্গাঁধপাঁতির আজ্জায় । 

প্রতাপ। তবে দুর্গাধিপাঁত তোমাকে রক্ষা 
করুন। আম তোমার প্রাণদশ্ডের আজ্ঞা 
ণদলাম। 

মেষরক্ষক। দগগাধিপাতি এ সংবাদ পেলে 
অবশ্যই রক্ষা কব্রেন। 

প্রতাপ। সে সংবাদ আমই পাঠাচ্ছ। যাও 
সৌনক, একে 'নিয়ে' যাও. শৃঙ্খলাবদ্ধ ক'রে 
রাখ। সপ্তাহকাল পরে এর প্রাণ-বধ হবে। 
মোগল-দৃর্গাধপাতিকে আমি অদ্যই সংবাদ 
দিচ্ছ।- দেখবে, এর প্রাণবধের পরে যেন এর 
মুড চিতোরের দুর্গপথে বংশখস্ডাশখরে 
রক্ষিত হয়। যাতে সকলে দেখে, যে, আমার 
আজ্ঞা ছেলেখেলা নয়; যাতে লোকে বোকে, 
যে, মোগল চিতোর-দুর্গ জয় কলেও, এখনো 
মেবারের রাজা আম, আকবর নহে 1 যাও নিয়ে 
যাও। 

[ সৌনিক মেষরক্ষককে লইয়া প্রস্থান কারিল। 
প্রতাপ। নিরীহ মেষপালক! তুমি বেচারশ 


৯৮ দিবজেন্দ্রু রচনাবলী 


নিগ্রহের মধ্যে পড়ে মারা গেলে । রাবণের পাপে 
লণ্কা ধবংস হয়ে গেল, দুযোধনের পাপে 
মহাত্বা দ্রোণ, ভীচ্ম, কর্ণ মারা গেল। তুম ত 
সামান্য জীব ।_-এ সব বড় নিষ্ঠুর কাজ। 'কল্তৃ 
নিষ্তুর হয়েছি--মা জন্মভামি' তোমার জনা। 
তাই তোমাকে ভূষণহীনা করোছি, প্রিয়তমা 
মহিষীকে চীরধারণশ কুটীরবাসনী করেছি, 
প্রাণাধক প্‌নত্রকন্যাদের দারদ্রারত অভ্যাস 


করাচ্ছ--ীনজে সন্ন্যাসী হয়োছি। 


এই সময়ে শস্তধারশ শল্তাসংত বামপাশবস্থ 
শ্াপদকঙ্কালের দিকে চাঁহাতে চাহতে পশর- 
পদক্ষেপে সেস্থানে প্রবেশ করিলেন 


প্রতাপ। দেখে এলে: 

শল্ত। হাঁ দাদা। 

প্রতাপ। কি দেখলে: 

শন্ত। স্থান পারত্যন্ত। 

প্রতাপ। জনমানব নাই £ 

শন্ত। জনমানব নাই £ 

প্রতাপ। কারণ £ 

শন্ত। কারণ 'জজ্ঞাসা কক্বার লোক নাই। 

প্রতাপ। মন্দিরের পুরোহিত কোথায় ? 
তিনিই মোগল-সৈন্যের আগমন-সংবাদ আমাকে 
[দয়োছলেন। তান কোথায় 2 

শন্ত। আবাসে নাই। 

প্রতাপ। তবে আমাদের আগমন নম্ফল। 

শন্ত। নিম্ষল কেন১ এখানে অনেক বন্য- 
পশু আছে। এস ব্যাঘ্র-াশকার কার। 

প্রতাপ। শেষে ব্যাঘ্র-শকার ! 


শন্ত। নৈলে আর ক করা যায়! এমন 
সন্দর প্রভাত। এমন নিস্তব্ধ অরণ্য. এমন 


ভয়াবহ নিজ্জন পথ । এ" সৌন্দর্য্য পূর্ণ কর্তে 
রন্তু চাই। যখন মন্ষ্য-রন্ত পাচ্ছ না, তখন 
পশুর রক্তপাত করা যাক্‌। 

প্রতাপ। 'বনা উদ্দেশ্যে রন্তপাত ! 

শন্ত। ভল্ল নিক্ষেপ অভ্যাস করাই উদ্দেশ্য 
হোক। আজ দেখবো দাদা, কে ভল্ল নিক্ষেপ 
কর্তে ভালো পারে- তুম কিংবা আম। 

প্রতাপ। প্রমাণ কর্তে চাও? 

শক্ত। হাঁ। [স্বগত] দৌখি, তামি কি স্বত্ব 
মেবারের রাণা, আমি যার কৃপাদত্ত অন্নে 
পাঁরপন্জ্ট। 


প্রতাপ । আচ্ছা চল। তাই প্রমাণ করা 
যাক্‌। শিকার, ক্লাঁড়া দুই হবে! 
[ উভযে সে বন হইতে নিক্কান্ত হইলেন। 


দশ্য পাঁরবর্তন-বনান্তর। প্রতাপ ও শন্ত একাঁট 
মত ব্যাঘ্ধদেহ পবাঁক্ষা তি 


প্রতাপ। ও বাঘ আম মেরোছ। 
শন্ত। আম মেরোছ। 
প্রতাপ। এই দেখ আমার ভল্ল। 
শন্ত। এই আমার ভল্প। 
প্রতাপ। আমার ভল্লে ও মরেছে। 
শন্ত। আমার ভল্লে। 
প্রতাপ। আচ্ছা, চল এ বন্য-ববাহ লক্ষ্য 
কার। 
শন্ত। সমান দূর থেকে মার্তে হবে। 
প্রতাপ। আচ্ছা। 
[উভয়ে সে বন হইতে নিক্কান্ত হইলেন। 


দৃশ্য পারবর্তন--বনান্তর। প্রতাপ ও শক্ত 


শন্ত। বরাহ পালিয়েছে। 

প্রতাপ। তবে কারও ভল্ল লাগোন। 

শন্ত। না। 

প্রতাপ । তবে কিছুই প্রমাণ হোল না 
আজ থাক্‌, বেলা হয়েছে । আর একাদন দেখা 
যাবে। 

শন্ত। আর একদিন কেন দাদা! আজই 
প্রমাণ হয়ে যাক্‌ না। 

প্রতাপ। ক রকমে ? 


শন্ত। এস পরস্পরের 'দকে ভল্ল নিক্ষেপ 
কার। 

প্রতাপ। সে কি শল্তাসংহ? 

শন্ত। ক্ষাত কি? 


প্রতাপ। না শন্ত-কাজ নাই, এতে লাভ 
ণক হবে? 

শন্ত। লোকসানই বা ক? হদ্দ দেহের 
একটু রন্তপাত বৈত নয়। দেহে বর্ম আছে! 
মক্র্বো না কেউই--ভয় গক! 

প্রতাপ। মব্বার ভয় কার না শন্তু। 

শন্ত। না না, নেও ভল্ল! আমরা দুজনে 
আজ নররন্ত নিতে বেরিইছি-_অল্ততঃ ফোঁটা 
দুই নররন্ত চাই। নেও ভল্ল, নিক্ষেপ কর ।-- 
[চঈংকার করিয়া] নিক্ষেপ কর। 


রাণা প্রতাপাঁসংহ 


প্রতাপ । উত্তম- নিক্ষেপ কর। 

শন্ত। একসঙ্গে নিক্ষেপ কর। 

উভয়ে ভূমিতলে তরবাঁব রাখলেন। পরে উতয়ে 
পরস্পরের দিকে ভল্ল গনক্ষেপ কাঁরতে উদ্যত 


হইলেন। এমন সময়ে প্রতাপের কুলপুরোহত 
প্রবেশ কাঁরয়া উভয়ের অন্তব্রন্তরঁ হইয়া কাহলেন 


"এ কি! ভ্রাতৃদ্বন্দব! ক্ষান্ত হও ।” 

শন্ত। না না ব্রাহ্মণ! দুরে থাক! নইলে 
তোমার মৃত্যু সুনিশ্চিত! 

পুরোহত। মৃত্যুকে ভয় কার না ক্ষান্ত 
হও। 

শন্ত। কখন না। নররন্ত নিতে বোরইছি। 
নররন্ত চাই। 

পুরোহত। নররক্ত চাও; এই নাও, আম 
দিচ্ছ। 
এই বাঁলয়া পুরোহিত ভাম হইতে শন্তের পাঁরিত্য্ত 
৩পবারি লইযা স্বীয় বক্ষে তরবারি আঘাত করিষা 


ভূমিতলে পাঁড়দলন 

প্রতাপ। এ ক গুরুদেব! কি ক্লে 

পুরোহিত। কিছু না'-প্রতাপ! শল্ত! 
[তোমাদের ক্ষান্ত কর্বার জন্য এ কাজ 
বরোছ। 

প্রতাপ। কি কর্লে শল্ত; 

শন্ত। [ উদভ্রান্তভাবে |] সতাই ত' কি 
বলাম 


প্রতাপ। শন্ত! তোমার জন্যই সম্মুখে এই 
পশ্গহত্যা হোলো । শুনোৌছলাম যে, তোমার 
কোন্ঠীতে আছে যে, তুমিই একাঁদন মেবারের 
সব্বনাশের কারণ হবে। এতাঁদন তা 'বশবাস 
তযাঁন। আজ 'ীবশবাস হোলো। 

শন্ত। আমার জন্য এই রক্গহত্যা হোলো! 

প্রতাপ। তোমাকে নিরাশ্রয় দেখে, আম 
আদর করে' মেবারে এনোছিলাম। কিন্তু মেবারের 
সব্পনাশের হেতুকে আর মেবারে রাখতে পার 
না। তুমি এই মূহূর্তে রজ্য পাঁরত্যাগ কর। 

শন্ত। উত্তম! 

প্রতাপ। যাও। আম এখন এ ব্রাহ্মণের 
সংকারের ব্যবস্থা করি: পরে প্রায়শ্চিত্ত কর্্ব। 
যাও । 

[ উভয়ে বপরণতাঁদকে প্রস্থান কাঁরলেন। 


ূ 


৯৯ 
পণ্চম দৃশ্য 
স্থান-অম্বর-প্রাসাদের স্তম্ভযুন্ত স্ফটিকাঁনার্ম্মত 
একট বারান্দা । কাল-_অপরাহু। 


মানাসংহের ভাগনী রেবা একাঁকনী সেই স্থানে 
1বচরণ কাঁরতোছলেন ও মৃদুস্বরে গান 
গাঁহতোছলেন 


গত 
[হাম্বির অধ্যমান ] 


ওগো জানস্‌ ত, তোরা বল্‌ কোথা সে, কোথা সে। 
এ জগৎ মাঝে আমারে যে প্রাণের মত ভালবাসে । 
নদাঘ নিশীথে, ভোরে আধজাগা ঘৃমঘোরে, 
আশোয়ারর তানের মত, প্রাণের কাছে ভেসে আসে। 
আসে যায় সে হদে মম, সৈকতে লহরী সম, 
নভের মত বসন্ত বাতাসে ; 
মাঝে মাঝে কাছে এসে, কি বলে" যায় ভালবেসে, 
চাইলে পরে যায় সে মিশে 
ফুলের কোণে, চাঁদের পাশে। 


রেবার বৃদ্ধ পাঁরচারিকা প্রবেশ কারল 
পাঁরচারকা। হাঁগা বাছা! তুমি আচ্ছা 


যাহোক্‌। 
রেবা। কেন? 
পারচারকা। তামি এখানে বোঁড়য়ে 


বোঁড়য়ে খাসা হাওয়া খাচ্ছ, আর আম এঁদকে 
তোমার জন্যে আঁতপাঁতি খুজে খুজে 
হয়রান। 
রেবা। কেন? আমাকে তোর দরকার 'ক? 
পারচারকা। দরকার শক! ওমা কি হবে 
গা! বলে "দরকার কি" ।- কথায় বলে 'যার "বিয়ে 
তার মনে নেই, পাড়াপড়াশির ঘুম নেই? 
'দররার কি? তোমার বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে, 
আর তোমাকে য়ে দরকার কি? তবে কি 
আমাকে নিয়ে দরকার 2 ওমা বলে কি গো! 
আমার বয়ে যা হবার তা একবার হয়ে গিয়েছে! 
মেয়ে মানুষের বয়ে ক আর দু'বার করে' হয় 
বাছা! তাহ'লে কি আর ভাবনা ছিল? আর 
এই বয়সে আমাকে বয়ে কব্বেই বা কে? 
যখন আমার য়ে হয় বাছা তখন তোরা 
জল্মাসান। তখন আঁমই বা কতটুকু । এগার 
বছরও হয়ান- হাঁ, এগার বছরে পাঁড়াছ বটে। 
রেবা। তুই যা। তোর এখানে এসে 'বাঁড়র 
বাঁড়র করে বকৃতে হবে নাসা বাঁড়। 
শারচারকা। কথায় বলে যার জন্যে চুর 


৯০০ 
কার সেই বলে চোর। আম এলাম 'বয়ের 
সম্বন্ধ নিয়ে, কোথায় তুমি লাঁফয়ে উঠে আমার 
গলা ধরে, চুমো খাবে; নাবলে কিনা “যা বাঁড়।' 
না হয় আজ আম বাঁড়ই হইছি। তাই বলে' 
কি কথায় কথায় বাঁড় বলে গাল দিতে হয়! 
হাঁগা বাছা !-না হয় আজ বুঁড়ই হহীছ। 
চিরকাল ত বাঁড় ছিলাম না। এককালে আমারও 
ধৈবন ছিল, তখন আমার চোখ দুটো ছিল 
গড়নটাও নেহাইৎ ছু অমন্দ ছিল না।_ 
[মন্সে তখন আমার কত খোসামোদ কর্ত। এক- 
দন কাছে ডেকে কত আদর করে" 

রেবা। কে তোর প্রেমের ইতিহাস শুল্তে 
চাচ্ছে 2-যা, বিরন্ত করিসূনে বলৃছি। ভাল 
হবে না। 

পারচারকা। ওমা সে কি গো! যাবো কি 
গো! তোমাকে ডাকৃতে এসোছি। তোমার মা 
ডাকৃছিল, তা শেষে বলে কিনা, “না, ডেকে 
কা